09/05/2015
শুধু ফযীলতপূর্ণ হ্যাঁ-বোধক কথা প্রচার করাঃ
===============================
সালাতের পর সম্মিলিত মুনাজত, মুসলীম সমাজে প্রচলিত সবচাইতে জনপ্রিয় বিদ’আত। আমাদের মসজিদেও সালাতের পর সম্মিলিত মুনাজত করা হয়।
এবার আমাদের মসজিদ হতে টংগী ইস্তেমায় গিয়েছেন প্রায় ৪০ জনের অধিক মানুষ। এই ৪০ জনের ৪/৫ জন ছাড়া বাকী সকলকেই দেখি সম্মিলিত মুনাজাত করতে!
গত সপ্তাহে সালাত শেষে সম্মিলিত মুনাজাত চলাকালীন সময়, মসজিদের তাবলীগি মুরুব্বীকে (তিনি অবশ্য সম্মিলিত মুনাজাত করেন না) বললাম,
-আমি আপনাদের এবারের বিশ্ব ইজতেমায় গিয়েছিলাম। সালাতের পর সম্মিলিত মুনাজাত একটা বিদ’আত। আপনাদের একটা বিষয় দেখে ভালো লাগলো যে, ঐখানে এই বিদ’আতটা করা হয় না।
--হ্যাঁ, আমাদের অফিসের মসজিদেও আমরা সম্মিলিত মুনাজাত করি না।
-কিন্তু এইখানে তো করেন।
--না না, আমি করি না।
-আপনি করেন না, কিন্তু আপনাদের প্রায় সকল সাথী করে থাকেন, ঐ দেখেন।
তাবলীগি আরেক ভাই বললেন,
--আমরা আমাদের সাথীদের নিষেধ করি।
-দেখুন, আপনারা কিভাবে নিষেধ করেন তা আমি জানি না। কিন্তু ইজতেমায় কোন এক বয়ানে আপনাদের মাওলানা সাদ বা অন্যকোন আলেম যদি বলতেন, “মোহতারাম ভাই ও বুজুর্গ, সালাতের পর সম্মিলিত মুনাজাত বিদ’আত। বিদ’আত কারীর ইবাদত কবুল হয় না। তাই আপনারা আজ হতে সালাতের পর সম্মিলিত মুনাজাত করবেন না;” তাহলে আমার বিশ্বাস আপনাদের এই ৪০ জনের সকলেই আজ এই বিদ’আত ত্যাগ করতো।
--আসলে জনসমাবেশে বা বক্তৃতায় না-বোধক শব্দ বলা আমাদের মুরুব্বীদের নিষেধ, কারন প্রথমেই না-বোধক কিছু শুনলে তারা দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের প্রতি আগ্রহ ও আকর্শন হারিয়ে ফেলবে। তবে আমরা personally ভাইদেরকে বিভিন্ন বিদ’আত সম্পর্কে বলে থাকি।
!
ফেইসবুক তাবলীগ বন্ধুদের নিকট জিজ্ঞাসা যেখানে আল্লাহ খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে আপনাদের মুরুব্বীরা কেন না-বোধক শব্দ বলা নিষেধ করলেন? মহান আল্লাহ বলেন,
وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
-তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিৎ, যারা নেকী ও সৎকর্মশীলতার দিকে আহবান জানাবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে ও খারাপ কাজ থেকে নিষধ করবে। আর তারাই সফলকাম৷ [সূরা আলে ইমরান ১০৪]
►►এরপরও বললেন, তাবলীগ জামায়াতের মাঝে কোরআন হাদীস বিরোধী কোন আমল নেই?
প্রশ্ন রেখে গেলাম বুদ্ধিমানলোকদের নিকট!