22/09/2025
বলবন (১২৬৬-১২৮৭)
মধ্য যুগের প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ খ্রিস্টাব্দে দিল্লি সালতানাতের প্রথম রাজবংশ, দাস রাজবংশের (১২০৬-১২৯০) নবম সুলতান হন বলবন (১২৬৬-১২৮৭)। এই রাজ বংশকে দাস বংশ বলা হলেও ইলবরী বংশ বলা যুক্তি সংগত। কারণ এই বংশের কিছু সুলতান যেমন কুতুবুদ্দিন আইবক (১২০৬-১০), সামসুদ্দিন ইলুতুতমিস (১২১০-১২৩৬) ও বলবন (১২৬৬-৮৭) দাস ছিলেন কিন্তু বাকিরা দাস ছিলেন না। অপরদিকে ইলুতুতমিস (১২১০-১২৩৬) থেকে কাইকোবাদ(১২৮৭-১২৯০) পর্যন্ত সমস্ত সুলতানরা ইলবরী বংশোদ্ভূত তুর্কি ছিলেন।
দিল্লি সালতানাতের সব থেকে বেশি আলোচিত সুলতান দের মধ্যে একজন হলেন বলবন। দিল্লি সালতানাতের বাস্তবিক প্রতিষ্ঠাতা ইলুতুতমিস তাকে ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নায়েব পদে উন্নীত হন এবং সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদের (১২৪৬-১২৬৬) কন্যাকে বিয়ে করেন। সুলতানের মৃত্যুর পর তিনি সিংহাসন আহরণ করে অভ্যন্তরীণ ও বহির্দেশীয় বিপদের মোকাবেলার জন্য কেন্দ্রীভূত রাজতন্ত্রের সূচনা করেন। এর জন্য তিনি ইরানীয় রাজতন্ত্র গ্রহণ করেন। যেখানে রাজা স্বর্গীয় চরিত্রের 'ঈশ্বরের ছায়া' (জিল - ই - আল্লাহ), এই ধারণা অনুযায়ী তিনি শুধু ঈশ্বরের কাছে জবাবদিহির পাত্র অন্য কারো কাছে না। তার দরবার ছিল জাঁকজমকপূর্ণ, এখানে কেউ হাজির হলে সিজদা ও পাবোস (ষষ্টাঙ্গে প্রনিপাত) করতে হতো। যদিও এই প্রথা ইসলাম ধর্মে স্বীকৃত ছিল না। তিনি প্রথম দরবারে মহিমা বৃদ্ধির জন্য পারস্যের নওরোজ উৎসব উৎযাপন প্রচলন করেছিলেন।
ইলুতুতমিসের আমলে দাস অফিসাররা একটি এলিট গোষ্ঠী গড়ে তোলে বারনি যাকে 'চল্লিশ চক্র' (চিহিলগানি) বলে উল্লেখ করেছেন। বলবন এই গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।এই গোষ্ঠীর ক্ষমতা চূড়ান্ত পরিমাণে বেড়ে গিয়েছিল বলবন এই গোষ্ঠীকে ভাঙতে সফল হয়েছিলেন। বলবনের সব থেকে বড় বহির্দেশিয় হুমকি ছিল মঙ্গল আক্রমণে আশঙ্কা। আক্রমণের মোকাবেলার জন্য তিনি একটি বৃহৎ ও দক্ষ সেনাবাহিনীর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সৈন্য বিভাগ (দিওয়ান-ই -আর্জ) প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি নিজেকে সমগ্র তুর্কি অভিজাতদের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেন এবং নীচ ও হীন বংশজাত লোককে প্রশাসনের পদ গুলি থেকে বরখাস্ত করেন। বারনি সুলতানের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ব্যাখ্যা করে বলেন, "যখনই তিনি কোনো নীচ ও হীন বংশজাতকে দেখতেন রাগে তার সারা শরীর কাঁপত।" সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় বলবনের কঠোর পদক্ষেপকে ঐতিহাসিকরা 'রক্ত ও লৌহের' নীতি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
১২৮৭ সালে বলবনের মৃত্যুর পর তার অষ্টাদশ বর্ষীয় তরুণ পুত্র কায়কোবাদ (১২৮৭-১২৯০) সিংহাসনে বসে। তিনি ছিলেন অযোগ্য। সীমান্ত এলাকার ওয়ার্ডেন জালালুউদ্দিন খলজি কায়কোবাদকে সরিয়ে খলজি রাজবংশের (১২৯০-১৩২০) প্রতিষ্ঠা করেন।