23/01/2018
"একাদশ শ্রেণীর রসায়নের ছাত্র মাত্র-ই জানে যে তাদের কাছে একদম নতুন প্যাকেট ছিঁড়ে বের করে সার্ভ করা ফ্রেশ গন্ধযুক্ত, হঠাৎ করে প্রায় একরকম আকাশ থেকে ছুঁড়ে মারা জৈবরসায়ন ওরফে অরগ্যানিক কেমিস্ট্রির ২০০ পাতা ব্যাপী সিলেবাস কী ভয়াবহ রকমের বাঁশ!! যারা রসায়ন নিয়ে পড়েছেন বা পড়ছেন তারা এ সমন্ধে ভালোমতই অবগত। এমন ছাত্রকে প্রায় ইলেক্ট্রন অনুবীক্ষন যন্ত্রে খুঁজতে হবে যাদের জৈবরসায়ন নিয়ে কোনসময় কোনরকম হোঁচট খেতে হয়নি। আগে বিজ্ঞানের ছাত্র তবে বর্তমানে স্কুল-কলেজের চৌকাঠ পেরিয়ে এসেছেন, এমন অনেকেই এখন চশমা নেড়ে বলবেন 'দেখো বাপু, ওসব কোন ব্যাপার নয়। মন দিয়ে পড়লেই হয়'। এমনকি আপনার অনেক সহপাঠীও আপনাকে বলবে একই কথা (এক্ষেত্রে সে বুঝে বলছে কিনা সেটাও প্রশ্ন!!)
বড়ো কথা হল সবসময় মন দিয়ে শুধু পড়লেই হয়না। অনেক সময় শিক্ষককেও বিষয়কে মনোগ্রাহী ও সহজ পাচ্য করে তুলতে হয়, যাতে ছাত্র সেটি নিদেনপক্ষে বদহজম না করে মাথায় রাখতে পারে। কারন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, কপালে সুদৃশ্য দইয়ের ফোঁটা, ঠাকুরের ফুল প্রভৃতি পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে যাওয়ার পর-ও জৈবরসায়নের প্রশ্নগুলো দেখে গা গুলোতে আরম্ভ করে। কী যেন ছিল কী যেন ছিল মনে হয়! ঘেঁটে ক খ গ ঘ হয়ে যায় SN1 আর SN2 এর পার্থক্য, রেজোনেন্স ঘুরতে ঘুরতে হয়ে যায় সুদর্শন চক্র, কিন্তু মেলে না!!!!
আসল কথা ও সুসংবাদ হল, হ্যাঁ এই সহজপাচ্য করার উদ্যোগ নিয়েছেন কেউ একজন, আমাদের পরমশ্রদ্ধেয় তরুনস্যার। তিনি প্রথম থেকেই আমাদের বোঝাচ্ছেন যে, "বাবুরে অর্গ্যানিক পড়তে হবে ক্ল্যাসিকাল পদ্ধতিতে। অর্গ্যানিক-কে নিরবিচ্ছিন্ন প্র্যাক্টিসের মাধ্যমে আয়ত্ত্ব করতে হয়"
স্যার প্রত্যেক দিন একই কথা বলে যাচ্ছেন বারবার, নিরন্তর। কিন্তু ছাত্রজীবনের সার্থকতা কোথায় তা বোঝানোর জন্য কিছু যুগাবতার যন্তর বাচ্চাকাচ্চা(তথাদা ধার নিলাম) পাওয়াই যায় বিভিন্ন ব্যাচে, যাদের যেন কেউ একজন প্রতি রাতে সুনিপুনভাবে গ্রুম করে যায়, কাল পড়তে গিয়ে কী কী অত্যাধুনিক উপায়ে শিক্ষকমহাশয়ের মস্তিষ্ককে নির্মমভাবে পেষন করতে হবে। নিত্যনতুন তাদের পদ্ধতির অভাব নেই।
-R বলতে অ্যালকিল গ্রুপকে বোঝায়। এই অতিসহজ বিষয়টি কমবেশী প্রায় সবাই জানে। এই -R নিয়েও স্যার ক্লাসে যথেষ্ট সময় ব্যয় করেছিলেন। তারপর অনেককিছু পড়ানো হয়েছে কিন্তু -R নামক বন্ধু আমাদের পিছু ছাড়েনি। বুঝে গিয়েছি জৈবরসায়ন মানে ৪ এর খেলা, হাইড্রোকার্বন-ও শুরু হয়েছে। আমরা স্যারের দৌলতে জেনেছি ও সহজে বুঝেছি HALOGENATION, HYDROGENATION, HYDRATION, WURTZ REACTION মতো আরো অনেককিছু।
এসবের পর স্যার একদিন ক্লাসে কোলবে ইলেক্ট্রোলিসিস বোঝাচ্ছেন। তার বিবৃতিটি হল অনেকটা এইরকম - 'Platinum তড়িদ্দ্বারের উপস্থিতিতে Sodium(Na) গঠিত ২ অনু কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের এর লবনের উপস্থিতিতে তড়িৎবিশ্লেষন করলে অ্যানোডে এ অ্যাল্কেন উৎপন্ন হয়।' উদাহরন দেওয়া হল এইরকম ভাবে যে,
RCOOH + NaOH=RCOONa + H2O
2COONa = RCOO- + 2Na+
2H2O = 2H+ + 2OH-
এর থেকে ক্যাথোডে H2 গ্যাস এবং অ্যানোডে বিভিন্ন অর্ন্তবর্তী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে R-R পাওয়া যায়।
সহজেই অনুমেয় যে -R মানে অ্যাল্কেন।
কিন্তু এসবের মধ্যেই একজন ভাবুক যুগাবতার, যে স্যারের কথামতো মাঝেমাঝে এয়ারসেলের কানেকশনের ন্যায় মাথায় টাওয়ার পায়না, সে বলে ওঠে যে বোর্ডে ওটা কী R লেখা হয়েছে? স্যার জানান ওটা R-ই লেখা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে এবার সে জানায় যে R নামক কোন অক্ষর তার আগে জানা নেই এবং সে আরো জানায় যে R ফর Rabbit অথবা Raddish কিন্তু -R এর কেমিস্ট্রিতে কী দরকার সেটি সে জানেনা।[বিঃ দ্রঃ ঐ ছাত্র সব অর্গ্যানিক ক্লাসে উপস্থিত ছিল]
স্যার প্রথমে তাকে প্র্যাক্টিস খাতায় কেমিস্ট্রি এর বদলে খিস্তিখামারী প্র্যাক্টিস করতে বলেন। এরপর স্যার সস্নেহে তাকে জানান যে -R বলতে Alkyl Group এর কথা বলা হচ্ছে, তবে সে চাইলে ওখানে অ্যালকিল গ্রুপের স্থানে কোন খিস্তী লিখলেও কোন অসুবিধা নেই। সেক্ষেত্রে তার নাম দেওয়া যেতে পারে খিস্তাইল গ্রুপ এবং খিস্তাইল গ্রুপ বলতে সব বাংলা সব কাঁচা পাকা খিস্তীর গোষ্ঠীসম্ভারকে একত্রে বোঝানো যেতে পারে। স্যার বলেন তাহলে বিক্রিয়া টা প্রায় পূর্বের মতোই হবে তবে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের সোডিয়াম লবনের স্থানে সোডিয়াম খিস্তানোয়েট লেখা যাবে এবং অ্যানোডে খিস্তেন উৎপন্ন হবে।।।!!
[বিঃ দ্রঃ- ঘটনাটির সাথে যদি কোন বাস্তব যুগাবতার এর মিল থাকে, তাহলে তা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত ও কাকতলীয়। এর জন্য লেখক ও তরুন স্যার কোনরূপ দায়ী নয়]"
- তুহিন