17/09/2025
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১১ই সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। আমরা মনে করি, এটি শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও উদাসীনতার নির্মম ফল। এই ঘটনার পর ১৫ই সেপ্টেম্বর অল ফ্যাকাল্টি জিবি অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চূড়ান্ত রেজোলিউশনে উপেক্ষিত হয়েছে। এ ঘটনা আমাদের বিস্মিত ও হতাশ করেছে।
জিবিতে আলোচনার সময় একাধিক প্রস্তাব উঠে এসেছিল—
ক্যাম্পাসে যথেষ্ট স্ট্রিট লাইট বসানো,
জলাশয় সংস্কার ও তার চারপাশে রেলিং তৈরি,
রাত ৮টার পর পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশ বন্ধ করা,
ও অন্যান্য নিরাপত্তা জনিত বিষয় ও ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিস্থিতি।
উপরে উক্ত নিরাপত্তা জনিত বিষয়গুলিতে জিবিতে উপস্থিত অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী একমত হলেও আশ্চর্যজনকভাবে এসব জরুরি প্রস্তাবই রেজোলিউশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে স্পষ্ট যে, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করছে। আমরা স্পষ্ট জানাচ্ছি যে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে এই ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আমাদের স্পষ্ট দাবি
আমরা, ফোরাম ফর স্টুডেন্টস উইথ ডিস্যাবিলিটিস (FSD), বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি—
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষণিক সচল সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো।
পর্যাপ্ত সংখ্যক স্থায়ী নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ এবং মহিলা নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি।
রাত ৮টার পর পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা।
বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ নেশামুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা।
জলাশয় অবিলম্বে সংস্কার করে তার চারপাশে শক্তপোক্ত রেলিং বসানো।
ক্যাম্পাসে যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
আমরা আরও লক্ষ্য করেছি, কিছু ছাত্র সংগঠন অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান ও স্টল বসাচ্ছে। এতে শুধু নিয়ম লঙ্ঘন হচ্ছে না, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ফুটপাত প্রায়ই আটকে দেওয়া হয়, অথচ বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। একইভাবে, রাত ১০টার পর লাউডস্পিকারে গান বাজানো আবাসিক ছাত্রছাত্রী এবং বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাহীনতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ছাত্রসমাজের একাংশও দায়ী।
এই পরিস্থিতিতে আমরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ছাত্রছাত্রী, গবেষক, শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি—আমরা যেন একত্রিত হয়ে প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধান করি এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নিরাপদ, সবার জন্য উন্মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলি। আমাদের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধই পারে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করতে।
ফোরাম ফর স্টুডেন্টস উইথ ডিসাবিলিটিস।