18/05/2022
Khurshid Alam
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Khurshid Alam, Tutor/Teacher, KOLKATA.
18/05/2022
16/05/2022
#বাংলা_টেক্সট_আলোচনা (নবম শ্রেণী)
(সাহিত্য সঞ্চয়ন)
#কলিঙ্গ_দেশে_ঝড়বৃষ্টি
★কবি পরিচিতি:
মুকুন্দ চক্রবর্তী
কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্যতম একজন কবি। কবি নিজের সম্পর্কে যে পরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় কবির উপাধি ছিল কবিকঙ্কন এবং কবির নাম হল মুকুন্দ এবং চক্রবর্তী ছিল কবির বংশগত পদবি।
চন্ডীমঙ্গলের পুঁথি হতে জানা যায় কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বর্ধমানের দামিন্যা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ধমানের রত্না নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত এই গ্রাম যেখানে কবির পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল। কবির মায়ের নাম ছিল দৈবকি এবং পিতার নাম হৃদয় মিশ্র।
কবির আত্মপরিচয় অংশ থেকে জানা যায় মানসিংহ যখন উড়িষ্যা ও বাংলার সুবেদার, সেই সময় মামুদ শরীফ ছিলেন বাংলার ডিহিদার। মামুদ শরীফ এর অত্যাচারে দামুন্যাবাসীরা যেমন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান, কবিও তেমন তার পুত্র এবং ভাইকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। যাওয়ার পথে দেবী চণ্ডী কবিকে স্বপ্নে তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। শিলাবতী নদী পেরিয়ে কবি পৌঁছে যান আরড়ায়। আরড়া রাজ বাঁকুড়া রায় কবি মুকুন্দরাম এর পাণ্ডিত্যে খুশি হন। রাজা বাঁকুড়া রায় তার নিজ পুত্র রঘুনাথ এর পঠন-পাঠনের কাজে কবিকে নিযুক্ত করে দেন। পরবর্তীতে যখন কবির ছাত্র রঘুনাথ রাজা হন তখন তার অনুরোধেই কবি "চন্ডীমঙ্গল" কাব্য রচনা শুরু করেন। কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত চন্ডিকা মঙ্গলকাব্যটির একাধিক অন্য নামও পাওয়া যায়। যেমন 'অম্বিকামঙ্গল', 'অভয়ামঙ্গল', 'কবিকঙ্কণ চণ্ডী ইত্যাদি।
★কবিতার উৎস
কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খন্ড' থেকে আলোচ্য কাব্যাংশটি গৃহীত হয়েছে।
★বিষয় সংক্ষেপ
কলিঙ্গদেশের আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন। এতটাই গাঢ় অন্ধকার যে কলিঙ্গ অধিবাসীরা নিজেদের চেহারা দেখতে পাচ্ছে না। উত্তর-পূর্ব কোণে ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তরাংশের প্রবল বাতাসে সুদূর দিগন্ত থেকে মেঘের গুরুগম্ভীর আওয়াজ শুনা যায়। কালো মেঘে মুহূর্তের মধ্যেই আকাশ ছেয়ে যায় এবং প্রবল মুষলধারায় বৃষ্টি নেমে আসে। সমগ্র কলিঙ্গদেশ প্রবল মেঘের গর্জনে কেঁপে ওঠে। ভয়, আশঙ্কায় প্রজারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে থাকে। নির্মল প্রকৃতি ধুলোতে ঢেকে যায়। চাষীদের ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়। মনে হয় যেন আটটি বিশাল হাতি ভাসিয়ে দিতে চায় সমগ্র কলিঙ্গ দেশকে। বর্ষার এতটাই বেগ , যা দেখে মনে হয় কোন এক বিশাল হাতির দল তাদের শুঁড় দিয়ে জল বর্ষণ করে চলেছে। যেহেতু পৃথিবী জলমগ্ন হয়ে পড়েছে তাই স্থল-জলের সীমারেখা মিলে মিশে এক হয়ে গেছে। মেঘের এতটাই গর্জন যে একে অপরের কথা কেউ শুনতে পাচ্ছে না। রাত আর দিনের পার্থক্য বোঝা যাচ্ছে না। প্রজারা ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করে তাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য। সাপেরা তাদের আশ্রয় হারিয়ে জলে ভাসতে থাকে প্রবল বৃষ্টির কারণে। সাত দিন যে প্রবল বৃষ্টি হয় তাদের ঘর বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায় এবং চাষ করা শস্যের প্রবল ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভাদ্র মাসের পাকা তাল যেমন বৃহদাকারের সেরকম এক একটা শিল ঘরের চাল ভেদ করে মানুষের ঘরের মেঝেতে পড়তে থাকে। নদ নদীর জল প্রচন্ড বেগে নগরে প্রবেশ করে এবং ঘরবাড়ি সব ভেঙেচুরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। শ্রীকবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী তাঁর 'অম্বিকামঙ্গল'কাব্যে এই ধ্বংসের কাহিনী সঙ্গীত আকারে শুনিয়েছেন ।
★সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর( ):-
(১) বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড় ।- রড় শব্দের অর্থ কি ? কোথাকার প্রোজার কথা বলা হয়েছে ? বিপাকের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্ধিতা অংশটি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি নামক কবিতার অংশবিশেষ। উদ্ধিতা অংশে রড় শব্দটির অর্থ ছুট বা দৌড়। ঈশান কোনের বিদ্যুৎ চমকিত মেঘ উত্তুরে বাতাসে সংস্পর্শে তীব্র তা পেয়ে সমগ্র কলিঙ্গের প্রাকৃতিক কে উচ্চ নাদি মেঘের গর্জনের সাথে মুষলধারে বৃষ্টিপাত ঘটায় সঙ্গে প্রচন্ড ঝড় বইতে থাকে । জলে কলিঙ্গ প্লাবিত হয়ে পথঘাট কিছুই বোঝা যায় না। দিন রাতের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই ভীতসন্ত্রস্ত কলিঙ্গ বাসি জৈমিনি মনিকে স্মরণ করে। বৃষ্টির প্রভাব সাপ পর্যন্ত তার গর্ত ছেড়ে জলে ঘুরে বেড়ায়। চাষের খেতের ফসল সব পচনধরে। ঢেউগুলি তো সব ঘরবাড়িগুলো দুমড়ে মুচড়ে ফেলে দেয়।
(২) অম্বিকা মঙ্গল গান শ্রী কবিকঙ্কন ।- অম্বিকা মঙ্গল এবং তার কবি শ্রী কবিকঙ্কন এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও । কলিঙ্গদেশের ঝড়-বৃষ্টি প্রাকৃতিক দৃশ্যের পরিচয় দাও ।
উত্তরঃ
মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত এই মঙ্গলা কাব্য প্রকৃতপক্ষে চণ্ডীমঙ্গল নামে পরিচিত । চন্ডীমঙ্গল কাব্যের নাম হিসাবে অম্বিকামঙ্গল শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি । কিন্তু চন্ডীমঙ্গল গ্রন্থ মধ্যে বহুবার পদের শেষে অম্বিকামঙ্গল শব্দটি মুকুন্দ চক্রবর্তী ব্যবহার করেছেন । মুকুন্দের মায়ের নাম দেবকী । ছোটবেলা থেকে কবি মুকুন্দরাম লেখাপড়া সঙ্গে দেবতাদের নিত্য সেবা করতেন । তিনি সুখ কন্ঠের অধিকারী ছিলেন । ছোটবেলা থেকে নিজের রচনায় তিনি গাইতেন সংগীত হিসাবে ।
✅ ঈশান কোণে মেঘ সঞ্চারিত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে কালিঙ্গ দেশের আকাশে ছেয়ে যেত । তারপর শুরু হলো বজ্রবিদ্যুৎ-সহ এক টানা সাত দিন বৃষ্টি । প্রকৃতির এই প্রলয় প্রজারা সব ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে লাগল । দিন রাতের মধ্যে কোন পার্থক্য এখানে বোঝা যাচ্ছিল না । এই প্রলয়ের শঙ্কিত হয়ে কলিঙ্গ বাসি জৈমিনি মনি কে স্মরণ করেন।
(৩) নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর । - নিরবধি ও নিরস্তর শব্দ দুটির অর্থ লেখো । সাতদিন নিরন্তর বৃষ্টির ফলে প্রজাদের দুর্দশা যে ছবি কবি তুলে ধরেছেন তার বর্ণনা দাও ।
উত্তরঃ
মধ্যকার নিরবধি ও নিরন্তর শব্দটির অর্থ যথাক্রমে সীমাহীন ও অবিরাম।
✅ দেবী চণ্ডীর এক টানা সাতদিন সীমাহীন বর্ষণের ঝড়ের তাণ্ডবে কলিঙ্গের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে । বৃষ্টি আর মেঘের গর্জন এর ভিত হয়ে প্রজারা সব ঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করলো । খেতের ফসল সব উল্টে পাল্টে পড়ে থাকল তাতে পচন ও ধরে গেল । জল ও স্থল ও পথ ঘাট আলাদা করে কিছু বোঝা যায় না । জলের সব রাস্তায় চড়ে বেড়ায় । আকাশে ঘন ঘন বাঝ পরে । বাজে এর শব্দ কেউ কারো কথা শুনতে পায় না । ভীতু হয়ে জয়মনি মুনিকে স্মরণ করেন । এক কথায় সাতদিন অবিরাম বৃষ্টিতে প্রজাদের দুর্দশা চরম অবস্থায় পৌছাই ।
বিষয় ধর্মী(MCQ) প্রশ্নোত্তর:-
(১) ঈশান বলতে বোঝায় ?
উত্তর - উত্তর পূর্ব কোণকে।
(২) কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি কবিতাটি নেওয়া হয়েছে কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে ?
উত্তর - চন্ডীমঙ্গল থেকে ।
(৩) চারিদিকে অন্ধকার হয়ে গেল কারণ ?
উত্তর - মেঘে ঢেকে গেছে আকাশ ।
(৪) হরিৎ শব্দের অর্থ কি ?
উত্তর - সবুজ ।
(৫) ধ্বনি পরিবর্তনের রীতি অনুসারে বরিষে কি ?
উত্তর - সৌর ভক্তির দৃষ্টান্ত ।
(৬) কারোর কথা সুনিতে না পায় কেন ?
উত্তর - মেঘের গর্জন ।
(৭) মহির শব্দটির প্রতিশব্দ কি ?
উত্তর - ধরা ।
(৮) কলিঙ্গের সমস্ত লোক জৈমিনি কে স্মরণ করে কারণ কি ?
উত্তর - তিনি বজ্রপাত নিবারণ করতে পারেন ।
(৯) বিপাকে ভবন ছাড়িয়া পৌঁছে দিল বড় । এখানে বড় শব্দটির অর্থ কি ?
উত্তর - দৌড়ানো ।
(১০) কবিতায় শিল্প পড়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কিসের ?
উত্তর - ভাদ্র মাসে তাল পড়ার ।
(১১) কোন মাসে তাল পড়ে ?
উত্তর - ভাদ্র মাসে ।
(১২) কলিঙ্গ বাসি স্মরণ করেছিলেন কাকে ?
উত্তর - জৈমিনি মনিকে ।
(১৩) চণ্ডীর আদেশ কে পেয়েছিল ?
উত্তর - হনুমান ।
(১৪) নিরবধি শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ করো ?
উত্তর - নি: + অবধি ।
(১৫) চণ্ডীর হনুমানের প্রতি আদেশ ছিল কি ?
উত্তর - মঠ - অট্টালিকা ভান্ডার ।
(১৬) এখানে ঢেউ এর আয়তন কে তুলনা করা হয়েছে কিসের সঙ্গে ?
উত্তর - বিশাল পর্বতের সঙ্গে ।
(১৭) এখানে আছুক শব্দের অর্থ কি ?
উত্তর - থাকুক ।
(১৮) কার্য বাংলা শব্দ ভান্ডার অনুসারে কোন শব্দ ?
উত্তর - তৎসম শব্দ ।
(১৯) অম্বিকা মন্ডল গান গেয়েছেন কে ?
উত্তর - শ্রী কবিকঙ্কন ।
(২০) চাল বিদরিয়া কি পড়ছে ?
উত্তর - শিল ।
(২১) নিরবধি শব্দটির অর্থ কি ?
উত্তর - সীমাহীন ।
(২২) কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন সময়ের মানুষ ?
উত্তর - ষোড়শ শতাব্দী ।
(২৩) কারা ধুলোয় আচ্ছাদিত হয়েছিল ?
উত্তর - সবুজ মাঠ প্রান্তর গাছপালা ।
সংগৃহিত
ধন্যবাদ- কল্কি কলম.কম ও নিউসকথা.কম
চিত্র ঋণ :- জাম্প ম্যাগাজিন
17/04/2022
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Kolkata