16/02/2017
প্রাথমিক টেট প্রশ্নপত্র চুরির মামলায় বিপাকে পড়তে পারেন নব নিযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষিকারাও।
★★টেট নিয়ে ওঠা অভিযোগ মারাত্মক, বলল হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের ব্যাখ্যা তলব।★★
★★ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলিকে বুধবার ‘মারাত্মক’ বলে মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং জেলা প্রাথমিক স্কুল কাউন্সিলগুলিকেও অভিযোগের বিস্তৃত জবাব দিতে বলেছে আদালত। মামলাকারীদের তার পালটা অভিমত দিতে হবে পরবর্তী দু’সপ্তাহের মধ্যে। অর্থাৎ, ছ’সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানি।
মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য আদালতকে জানান, ১,২,৩,৪ ফেব্রুয়ারি ভোররাত পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি ছিল সরস্বতী পুজো। অর্থাৎ, ছুটির দিন থেকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, টেট প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর তার সুবিধা যাঁরা পেয়েছিলেন, তাঁদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য এমনই বেশকিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। এও জানানো হয়, প্রশ্ন ফাঁস হওয়া সংক্রান্ত মামলা এই এজলাসেই বিচারাধীন রয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাহলে প্রশ্ন ফাঁস মামলাটির শুনানি প্রথমে হবে। মামলাকারীদের দাবি, প্রশ্ন ফাঁস মামলা সফল হলে সব নিয়োগ বাতিল হবে।
১০টি জেলার টেট উত্তীর্ণ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ১৫০ জন মামলাকারীর তরফে আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে দেশের বিভিন্ন হাইকোর্ট বারংবার বলেছে, কোনও নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফল এসএমএস করে প্রকাশ করা যাবে না। তা স্বচ্ছতার পরিপন্থী। সফল প্রার্থীদের প্যানেল প্রকাশ করতেই হবে। কিন্তু, আশ্চর্যজনকভাবে তা এক্ষেত্রে মানা হয়নি। বরং অদ্ভুত গোপনীয়তা, লুকোছাপার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। যার কোনও যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা নেই।
মামলার বয়ান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী শূন্যপদগুলি প্রথমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের দিয়ে পূরণ করতে হবে। তারপরেও শূন্যপদ থাকলে সেখানে প্রশিক্ষণহীনদের নেওয়া যাবে। এবার ঘোষিত শূন্যপদের সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার। সেখানে প্রশিক্ষণহীনদেরই নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে এদিন কিছু নথি পেশ করা হয়। যা পর্যবেক্ষণ করে আদালত অভিযোগের সারবত্তা আছে বলে মনে করছে। মামলাকারীরা এদিন এমনও অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে নিজেদের লোকজনকে শিক্ষক করার জন্যই এমন অস্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
৪ জানুয়ারি বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত এক মামলায় বলেছিল, ছ’ সপ্তাহের আগে সফল প্রার্থীদের প্যানেল প্রকাশ করা যাবে না। সেই সময়সীমা ১৫ ফেব্রুয়ারি অতিক্রম করার আগেই ফল প্রকাশ করা হয়। এই অবস্থায় রাজ্য জানিয়েছে, ৪২ হাজার নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু, সেই প্রক্রিয়া বেআইনি দাবি করে বলা হয়, টেট সফলদের প্রাপ্য আলাদা নম্বর দেওয়া হয়নি। প্রশিক্ষণহীনদের একাংশও এদিনের শুনানিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ আনেন।
এদিকে, অন্য এক মামলায় বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য গৃহীত সর্বশেষ এসএলএসটি পরীক্ষার ফলাফল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশ করা যাবে না। ২১ ফেব্রুয়ারি হবে মামলার পরবর্তী শুনানি।
অন্যদিকে, আইনজীবী এক্রামুল বারি এদিন জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্যারাটিচারদের জন্য ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকার কথা। কিন্তু, এমন প্রার্থীদের ব্যাপকভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবন্ধীরাও একইরকম বঞ্চনার শিকার। এমন প্রায় ১৫০ প্রার্থী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।