06/03/2023
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=663941695737985&id=100063664816670&mibextid=Nif5oz
৷৷ তরু দত্ত : এক বিস্মৃতপ্রায় প্রতিভা ৷৷
উত্তর কলকাতার রামবাগানের দত্ত পরিবারে ১৮৫৬ সালের ৪ মার্চ তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত ছিল। ১৮৬৯ সালে দিদি অরু দত্তের সঙ্গে ফ্রান্স, ইতালি ও ইংল্যান্ড ভ্রমণে যান তিনি। তরু দত্তের পিতা মেয়েদের সুশিক্ষা, উন্নত রুচি ও মানস গঠনের জন্য দুই মেয়েকে ইউরোপে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁদের ভর্তি করে দেওয়া হয়েছিল দক্ষিণ ফ্রান্সের একটি আবাসিক স্কুলে। এখানেই তরুর ফরাসি ভাষা শিক্ষার সূচনা। তিনি যে শুধু ফরাসি ভাষা শিক্ষা করেছিলেন তা নয়, তাঁর স্বল্প জীবনে তিনি ফরাসি সৌজন্য, শিষ্টাচার এবং আভিজাত্য অনুসরণ করেছিলেন। তাই তাঁর সম্পর্কে বলা হয়, তরু দত্তের রক্ত ছিল বাংলা, মন ইংরেজি আর অন্তর ফ্রেঞ্চ।
১৮৭১ সাল থেকে ১৮৭৩ সাল পর্যন্ত তিনি কেমব্রিজে কাটান এবং সেই সময়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হায়ার লেকচারস ফর উইমেন-এ যোগদান করেন। সিডনি সাসেক্স কলেজের রেভারেন্ড জন মারটিনের কন্যা মেরি মারটিনের সঙ্গে এই সময়ে তরু দত্তের পরিচয় হয়। এবং ওঁদের ভিতর প্রগাঢ় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। দেশে ফিরে আসার পরেও ওঁরা চিঠির আদানপ্রদান চালিয়ে যান। ইংল্যান্ড থেকে আত্মীয়দের লেখা তরু দত্তের চিঠিগুলি ওঁর চিঠির সংকলনে স্থান পেয়েছে। ১৮৭৩ সালে তিনি যখন কলকাতায় ফিরে এলেন তখন তাঁর পিতার অনুপ্রেরণায় ফ্রান্স থেকে বই আনিয়ে পড়াশোনা করতেন। এই সময় তিনি ফরাসি ভাষার দেড়শো কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। সেই কবিতা সংকলনের নাম হয় A sheat gleaned in French field. ১৮৭৬ সালে তা প্রকাশিত হয়। এর পরের বছরেই ১৮৭৭ সালের ৩০ আগস্ট মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
তরু দত্তের মৌলিক কবিতাও আছে। তাঁর মৌলিক কবিতাগুলো ছোট ছোট কিন্তু মানুষের জীবনের নানা সমস্যার কথা আছে এই সব কবিতায়। মেয়েদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিতে বিশ্বাসী তরু পৌরাণিক ভারতের সাবিত্রীকে খুব পছন্দ করেছিলেন। মৃত্যুর পর আবিষ্কৃত হয় ‘লা জার্নাল’ নামক ফরাসি উপন্যাস এবং ‘বিয়াঙ্কা’ নামক ইংরাজি উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি। সম্ভবত, এই দু’টিই কোনও ভারতীয়র লেখা প্রথম ইংরাজি ও ফরাসি ভাষার উপন্যাস। পাশাপাশি খুঁজে পাওয়া যায় দু’টি স্বরচিত কবিতার বইয়ের পাণ্ডুলিপি ‘এনসিয়েন্ট ব্যালাডস’ ও ‘লিজেন্ডস অব হিন্দুস্তান।’ পিতা গোবিন্দচন্দ্র প্রত্যেকটিই প্রকাশ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ‘লা জার্নাল’ অনুবাদ করে বসুমতি পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করেন পৃথ্বীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ১৯৫৬ সালে তা বই হিসাবে প্রকাশিত হয়। ভূমিকা লিখেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।
ইংরেজি ভাষার প্রথম ভারতীয় মহিলা কবি
---------------------------------
তরু দত্ত
অসম্ভব প্রতিভাময়ী অথচ নিতান্ত স্বল্পায়ু বাঙালি কবি তরু দত্ত আজও আমাদের কাছে এক বিরাট বিস্ময়। তিনি বেঁচেছিলেন মাত্র একুশ বছর ৷ কিন্তু তারই মধ্যে দুটো বিদেশি ভাষা ইংরেজি ও ফরাসিতে যে কাব্য-সাহিত্য রচনা করে গেছেন, তা এই বাঙালি তরুণীটিকে বিশ্বের সাহিত্য রস পিপাসুদের কাছে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
তাঁর উল্লেখ্য দুটো উপন্যাস—ইংরেজিতে লেখা বিয়াংকা অর দা ইয়াং স্প্যানিশ মেইডেন এবং ফরাসিতে লেখা ল্যো জুর্নাল দ্য মাদমোয়াজেল দার্ভের। এ শেফ গ্লিন্ড ইন ফ্রেঞ্চ ফিল্ড তাঁর ফরাসিতে লেখা কবিতাবলীর ইংরেজি ভাষান্তরের সংকলন। সংস্কৃত সাহিত্য থেকে তাঁর অনুবাদ ও অভিযোজনের সংগ্রহ অ্যানসিয়েন্ট ব্যালাডস অ্যান্ড লিজেন্ডস অব হিন্দুস্তান ।
তরু দত্তের একটি সনেট :
* চতুর্দশপদী *
আমাদের বাগানকে ঘনিষ্ঠ বাঁধনে জড়িয়েছে পত্রপল্লবের অবাধ পাথার,
তবে সে সাগর নয় বৈচিত্র্যবিহীন সবুজের রাজ, একঘেয়ে নীরস বিস্তার,
সকল রঙের তীব্র বৈপরীত্য দেখতে তুমি পাবে এ-বাগানে;
গভীর সবুজ আম্রকুঞ্জগুলোর এখানে ওখানে
হালকা সবুজ লাবণ্যময় তিন্তিড়ী তরুদের ভিড়,
আর তার মধ্যে মধ্যে ধূসর থামের মতো তাল গাছ উচ্চশির;
পুকুরের শান্ত জলে নুয়ে আছে শিমুল গাছেরা ফুলে ভরা
লালে লাল, যেন চমক জাগানো তুর্যধ্বনি উঠেছে নিঃস্বরা।
সবচেয়ে মনোরম কিন্তু সারিবদ্ধ বাঁশবন পূর্বদিক জুড়ে
যার ফাঁকে ফাঁকে বিহ্বলের মতো মরে ঘুরে ঘুরে
আর থেকে থেকে উঁকি মারে চাঁদ, আর শ্বেতকমলেরা
রঙ পাল্টে হয়ে যায় রুপোর পেয়ালা। যে-কেউ লাগাম ছেঁড়া
বেহেড মাতাল হবে এ-সৌন্দর্য পানে, কিম্বা শুধু বাক্যহীন হয়ে
দেখবে আর দেখবে এক আদিম স্বর্গোদ্যান বিপুল বিস্ময়ে।
SONNET
A sea of foliage girds our garden round,
But not a sea of dull unvaried green,
Sharp contrasts of all colors here are seen;
The light-green graceful tamarinds abound
Amid the mango clumps of green profound,
And palms arise, like pillars gray, between;
And o'er the quiet pools the seemuls lean,
Red--red, and startling like a trumpet's sound.
But nothing can be lovelier than the ranges
Of bamboos to the eastward, when the moon
Looks through their gaps, and the white lotus changes
Into a cup of silver. One might swoon
Drunken with beauty then, or gaze and gaze
On a primeval Eden, in amaze.
আজ তরু দত্ত'র ১৬৮- তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।
( গুগল সহায়তায় সম্পাদিত)