17/05/2026
"Indifference is the dead weight of history. Living means taking sides. Indifference and apathy are parasitism, perversion, not life."
--Antonio Gramsci
The Court (2014) is a gripping court room drama that shows how dissent is suppressed by the state machinery using bureaucratic law and order. Chaitanya Tamhane's directorial debut shows how artists, workers and marginalized people are targeted simply for speaking about oppression, while much of society remains comfortably “apolitical”, going about their everyday life without questioning the cruel and rigged system.
At a time when students, activists, journalists and ordinary people are increasingly attacked for questioning those in power, The Court becomes deeply relevant. The film compels us to ask whether being “apolitical” really means standing outside politics or quietly standing with the ruling order.
Join us for the screening and discussion of The Court (2014).
📍Near Ahaar Canteen, Jadavpur Campus.
🗓️ 22nd May
🕔 5:45 PM
01/05/2026
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে পুঁজিবাদ যখন বিকাশ লাভ করছে, শ্রমিকদের কারখানায় দিনে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি দিতে হতো । তারা দাবি তোলে "আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম, এবং আট ঘণ্টা নিজেদের জন্য।" এই দাবির ভিত্তিতে
১লা মে আমেরিকার শিকাগো শহরে শুরু হয় এক সাধারণ ধর্মঘট, যেখানে লাখো শ্রমিক কাজ বন্ধ করে পথে নামেন। ৩রা মে ধর্মঘটী শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর প্রতিবাদে ৪থা মে হে মার্কেট স্কোয়ারে এক বিশাল প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়। সেই শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের প্ররোচনায় কে বা কারা হঠাৎ একটি বোমা ছোঁড়ে, আর সেই সুযোগ নিয়ে পুলিশ বাহিনী নিরীহ শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হে মার্কেটকে রক্তে ভাসিয়ে দেয়।
তারপরেও এই শ্রমিক আন্দোলনকে নেতৃত্বহীন করে ধ্বংস করতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে অগাস্ট স্পাইজ, অ্যালবার্ট পার্সনস, অ্যাডলফ ফিশার এবং জর্জ এঙ্গেলকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হয়।
ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে কমরেড অগাস্ট স্পাইজ দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, "The time will come when our silence will be more powerful than the voices you strangle today"
এই শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরন করেই ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক (Second International) ১লা মে - কে 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে।
আজ প্রায় দেড় শতাব্দী সময় পর দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, ইতিহাস যেন আবার পেছনের দিকে হাঁটছে। শাসকশ্রেণি আজ সেই আট ঘণ্টা কাজের অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়ে শ্রমিকদের দাসত্বের শৃঙ্খলকে আরও শক্ত করতে কোমর বেঁধে লেগে পড়েছে। আজ মে দিবসে যখন আমরা শ্রমিক শ্রেণির লড়াইয়ের ইতিহাস স্মরণ করছি, তখন আমাদের চোখের সামনে দেশের আপামর মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, আর অন্যদিকে উচ্চবিত্তদের সম্পদ রকেটের গতিতে বাড়ছে।
তারা কারখানায় পুড়ে মরুক বা খনিতে চাপা পড়ুক। তাতে এদেশের দালাল বুর্জোয়াশ্রেণির বা তাদের পাহারাদার সরকারের কিছু যায় আসে না! কিছুদিন আগেই কলকাতার আনন্দপুর নজিরাবাদে তৃণমূল সরকারের নাকের ডগায় ওয়াও মোমো কোম্পানির গুদামে আগুনে পুড়ে অন্তত ২৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৈধ ফায়ার লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র ছাড়াই শুধুমাত্র লেবার দপ্তর ও পুলিশ-প্রশাসনকে ঘুষ দিয়ে এই মৃত্যুফাঁদ চলছিল। একইভাবে, তামিলনাড়ুর বিরুধুনগরে বাজি কারখানার ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই দলিত, নারী ও প্রান্তিক জনগণ।
এছাড়াও কেন্দ্রের ফ্যাসিবাদী শক্তি আরএসএস-বিজেপির পরিচালিত সরকার ১লা এপ্রিল, ২০২৫ থেকে যে চারটি ‘লেবার কোড’ লাগু করেছ। ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজের আইনি মান্যতা, যথেচ্ছ ছাঁটাইয়ের অধিকার, ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং ইউনিয়ন গড়ার পথ কঠিন করে দিয়ে মালিকদের হাতে শ্রমিকদের আধুনিক দাস হিসেবে তুলে দিতে তারা এই আইন এনেছে।
পাশাপাশি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে এবং শ্রমিকদের সস্তা পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত করতে আনা হয়েছে ‘VB-G-RAM-G’ বিল। এর মাধ্যমে ১০০ দিনের কাজ বা মনরেগা (MGNREGA)-কে কার্যত শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। বছরের যে সময় কাজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেই সময় ৬০ দিনের জন্য কাজ বন্ধ রাখার আইনি ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মনরেগার মতো একটি অধিকারভিত্তিক আইনকে কেন্দ্রীয় দয়ার দানে পরিণত করা হয়েছে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী গ্রামের প্রান্তিক নারী শ্রমিকরা।
গ্রামীণ কর্মসংস্থান ধ্বংস, লেবার কোডের আক্রমণে সবচেয়ে বিপন্ন পরিযায়ী শ্রমিকরা। গ্রামের পর গ্রাম শুন্য করে, পেটের দায়ে, কাজের খোঁজে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার যুবক। এদের কোনো সামাজিক সুরক্ষা নেই, প্রভিডেন্ট ফান্ড নেই, চিকিৎসা নেই।
ভিনরাজ্যে ঠিকা শ্রমিকের কাজে গিয়ে লকডাউনে মাইলের পর মাইল হাঁটা থেকে শুরু করে, ট্রেন দুর্ঘটনায় কাটা পড়া, কিংবা ওয়াও মোমোর মতো গুদামে পুড়ে ছাই হয়ে বাড়ি ফেরাই আজ দেশের আপামর মেহনতি মানুষের ভবিতব্য। তৃণমূল বা বিজেপি শাসক দলের রং যাই হোক না কেন, শ্রমিকদের রক্ত চুষেই এদের নির্বাচনী ফান্ডের পাহাড় তৈরি হয়।
আজ মে দিবসে দাঁড়িয়ে আমরা ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ফ্রন্ট (DSF) এর পক্ষ থেকে জানাচ্ছি যে, ছাত্র ও যুব সমাজ শ্রমিক শ্রেণির এই লড়াই থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আম্বানী আদানীর চাকর সংসদীয় দলগুলির খপ্পর থেকে বেরিয়ে এসে, নিজেদের শ্রেণি-স্বার্থে মেহনতী মানুষকে আজ বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
যাদের রক্ত-ঘামের বিনিময়ে সমাজ চলে, সেই মজুর-কৃষকরা যতদিন না নিজেদের সংগঠিত শক্তি চিনতে পারছেন, ততদিন এই শোষণ চলবে। মে দিবসে তাই আমরা শপথ নিই, দিকে দিকে ছাত্র - শ্রমিক- কৃষক ঐক্য গড়ে তুলে শোষনমুক্ত সমাজের লড়াইকে জোরদার করি!
কর্পোরেট-বান্ধব ৪টি লেবার কোড অবিলম্বে বাতিল করো!
দুনিয়ার মজদুর এক হও!
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!
30/04/2026
আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে জানাচ্ছি যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের-এর Electronics and Telecommunication Engineering বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবু ফারহাদ সরদারের উপর যে আচরণ করা হয়েছে তা গণতান্ত্রিক সমাজে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গতকাল ২৮ এ এপ্রিল রাতে ফ্যাসিবাদী, খুনি, ধর্ষক বিজেপির কথামত পুলিশ তার বাড়িতে হানা দেয় এবং তার পিতা আব্দুল কাদের সর্দার উপস্থিত না থাকায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে নিজের অপরাধ জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়, তাকে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। ফ্যাসিবাদী শক্তির পাঠানো পুলিশের এইরূপ জোর জবরদস্তি আর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে যখন সে জানায় যে সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং তার ফাইনাল সেমিস্টার সামনে, তখন পুলিশের আচরণে পরিবর্তন আসে । পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সেরা পাঁচতারা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যার কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও যদি তার উপর এমন আক্রমণ নেমে আসে, তবে এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, দেশের আপামর প্রান্তিক ছাত্রছাত্রী ও মানুষের প্রতি এই দালাল প্রশাসন কিরকম দৈনন্দিন আচরণ করে।
আমরা বহুবছর ধরেই দেখে আসছি, রাষ্ট্রের লেঠেল বাহিনী হিসেবে পুলিশ কাজ করে এসেছে। ভোটবাজ রাজনৈতিক দলগুলোর যাবতীয় অন্যায় অত্যাচারের অস্ত্র হিসেবে বিরুদ্ধ যেকোনো স্বর দমন করতে এরা ক্রমাগত লাঠি, বোমা, বুলেটের আঘাত হেনেছে।
আমরা গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্টের পক্ষ থেকে এই অমানবিক ও অন্যায় আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই এবং আক্রান্ত ছাত্রের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি। আমরা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি জানাচ্ছি।
- রাষ্ট্রীয় লেঠেল বাহিনীর দ্বারা শিক্ষার্থী, প্রান্তিক মানুষের উপর আঘাত বন্ধ করো।
- ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে প্রতিরোধকারী গনতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠন গড়ে তোলো।
- ইনকিলাব জিন্দাবাদ
28/04/2026
Laal Selam comrades!
Jadavpur University Internal Complaints Committee (ICC) student representative election result has been declared. F.E.T. students elected DSF, Comrade Mehulee from UG and Comrade Khurshida from PG. Com. Mehulee and Com. Khurshida will represent F.E.T.S.U. in the upcoming proceedings of ICC.
In the era of double engine terror Jadavpur university students elected zero candidates from the right wing dictatorship in all over campus elections till now. Laal selam to every students.
And DSF continues the legacy on its 49th year. The legacy of struggling, the legacy of striving for the students by the students.
Long Live DSF!
Inquilab Zindabad!
Laal Selam!
25/04/2026
নাগপুর - কালীঘাট - আলিমুদ্দিনকে আশু তিমিরের যাদবপুর ভয় পায় না!
সাথী,
আমরা দেখেছি দেশজুড়ে জেএনইউ (JNU), জামিয়া এবং যাদবপুরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ক্রমাগত রাষ্ট্রীয় আক্রমণ নেমে এসেছে। সাম্রাজ্যবাদ- কর্পোরেটের হাত ধরে শিক্ষাক্ষেত্রকে বেসরকারিকরণ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের আখড়া পরিণত করার যে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে , এই ধরণের প্রগতিশীল ক্যাম্পাসগুলি হলো তার 'অ্যাকিলিস গোড়ালি' র মতো। বাবুল থেকে ব্রাত্য, CAA-NRC-SIR সবকিছুতেই রুখে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে যাদবপুর।
তাই স্বয়ং এই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের প্রধান নরেন্দ্র মোদীকে বাধ্য হতে হলো সরাসরি যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের 'দেশবিরোধী 'বলতে।
এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য যে কুমিরের কান্না তা ছাত্রছাত্রীদের কাছে খুবই পরিষ্কার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা প্রদান করে না এই সরকার, ফলে অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন ও ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ হয় না। যে তৃণমূল সরকার আজ নিজেদের ছাত্রদরদী সাজানোর চেষ্টা করছে, তাদের শিক্ষামন্ত্রীই ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে সরব হওয়া প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিয়ে চলে গেছিলেন এই ক্যাম্পাসেই একবছর আগে। তাই তৃণমূল আর বিজেপি যে একই কয়েনের দুটো দিক, তা সারা দেশের কাছে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
আমরা, গনতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্টের তরফে স্পষ্ট বলতে চাই যে, শাসকশ্রেণী যেন ভুলে না যায়, এটা আশু-তিমিরের যাদবপুর, এটা কলরবের যাদবপুর। আলিমুদ্দিন থেকে শুরু করে কালীঘাট, যাদবপুর কাউকেই রেয়াত করেনি, আর নাগপুরের ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদকেও রেয়াত করবে না।
আমরা এও বলতে চাই যে এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি দেওয়াল রোহিত ভেমুলার খুন , নাজীবের গুম হওয়া আফরাজুল-আসিফা-অভয়াদের খুনের বদ্লার , ফিলিস্তিনের মুক্তির দাবিতে, কৃষক - শ্রমিক - আদিবাসী - সংখ্যালঘুর পক্ষে সর্বদা সোচ্চার থাকবে।
ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক! রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৈরিকীকরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও!
ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক ঐক্য জিন্দাবাদ!
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!
22/04/2026
আজকের এই চরম ফ্যাসিবাদী আক্রমণের সময়ে যখন SIR-এর মতো কালা কানুনের মাধ্যমে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে রাতারাতি বেনাগরিক করে দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, যখন সাধারণ মানুষের হাতে বেঁচে থাকার ন্যূনতম সম্বলটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, , যখন শোষিত মানুষের পিঠ একেবারে দেওয়ালে ঠেকে গেছে ঠিক এরকম সময়েই পশ্চিমবঙ্গে চলছে ' বিধানসভা নির্বাচন' নামের এক আশ্চর্য সার্কাস। লক্ষ লক্ষ আধাসামরিক বাহিনী নামিয়ে, বন্দুকের নলের ডগায় সাধারণ জনজীবনকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিয়ে এই সার্কাস চালানো হচ্ছে। আর অত্যন্ত লজ্জার বিষয় হলো, ভারতের তথাকথিত সংসদীয় "বাম" এরাও শাসক শ্রেণির তৈরি করা এই সার্কাসে নির্লজ্জের নাচ নেচে চলেছে।
কমরেড লেনিন 'রাষ্ট্র ও বিপ্লব'-এর প্রথম দিকে লিখেছিলেন -
"শোষিত শ্রেণির মুক্তি সংগ্রামের যাঁরা অবিসংবাদিত নেতা, তাঁদের জীবদ্দশায় শোষক রাষ্ট্রযন্ত্র তাঁদের ওপর লাগাতার নিষ্ঠুর নিপীড়ন চালায়, তাঁদের কুৎসা ও অপবাদে ভরিয়ে দেয়;কিন্তু মৃত্যুর পর সেই রাষ্ট্রই তাঁদের নিরীহ, শ্রেণিনিরপেক্ষ ‘মহাপুরুষে পরিণত করার চেষ্টা করে।"
আজকের এই পার্লামেন্টের মোহজালে আটকে পড়া "বাম" রা লেনিনের বিপ্লবী তত্ত্বের ঠিক এইভাবেই বিকৃতি ঘটাচ্ছে। বলশেভিকদের বিশেষ ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে "ডুমা" "নির্বাচনে লড়ার কৌশলকে’ তার বাস্তবিক ভিত্তি থেকে সরিয়ে এনে এরা একেই একমাত্র ‘নীতি’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে এসেছে।
কমরেড লেনিনের বলশেভিক পার্টি মূলত একটি আপোষহীন ও বৈপ্লবিক দল ছিল যারা নির্বাচনকে শুধুমাত্র একটা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিল খেটে খাওয়া মানুষের হাতে হাতে বিপ্লবের দর্শন ও হাতিয়ার তুলে দেওয়ার জন্য। তারা এই সংসদীয় সার্কাসে বিক্রি হয়ে যায়নি, বরং গোটা রুশ সাম্রাজ্য জুড়ে শ্বেত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে, নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই গড়ে তুলেছিল।
আজ যখন ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র আমাদের গলা টিপে ধরছে, তখন এই ব্যাবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ খুঁজতে আমাদের কমরেড লেনিনের দিকেই তার জন্মের একশত বছর পরও বারবার ফিরে যেতে হয়।
দুর্ভেদ্য জঙ্গল থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্র, সবখানেই মানুষকে পিষে মারার নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নেমে আসছে, চলছে গৈরিকীকরণের চেষ্টাও। বিগত কয়েক মাসেই SIR ও Transgender Persons Act-এর মাধ্যমে প্রান্তিক, খেটে খাওয়া মানুষের উপর চূড়ান্ত আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। নয়া শিক্ষানীতির (NEP) মাধ্যমে শিক্ষাকে কর্পোরেটের হাতে তুলে দিয়ে প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীদের বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, জল-জঙ্গল-জমির অধিকার কেড়ে নিয়ে আদিবাসীদের উপর বুলেট বর্ষণ করছে এই রাষ্ট্র।
তাই আজ এই পরিস্থিতি তে কমরেড লেনিনের নাম আর বিশ্বজুড়ে সমস্ত লড়াকু, শোষিত ও মেহনতি মানুষের সমস্ত প্রতিরোধের সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছে।
আজকের ভারতের এই নানা রঙের শ্বেত সন্ত্রাসের সময়ে বসে লেনিন পড়ুন, কিন্তু ময়দানে নেমে লেনিনকে উপলব্ধি করুন। আমাদের প্রতিটি ক্যাম্পাসে, প্রতিটি বস্তিতে, প্রতিটি কারখানায় অসংখ্য বলশেভিক দরকার। দরকার লেনিনবাদী ইস্পাতকঠিন শৃঙ্খলার, দরকার এক আপসহীন বিপ্লবী চেতনার।
তাই কমরেড লেনিনের জন্ম বার্ষিকী তে, গনতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্টের আহবান, আসুন শপথ করি, কমরেড লেনিনের দেখানো পথে শ্রেণিহীন, শোষণমুক্ত এক নতুন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে!
সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক!
ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদ ধ্বংস হোক!
শ্রমিক-কৃষক - ছাত্র ঐক্য জিন্দাবাদ!
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!
02/04/2026
For a more inclusive, democratic and sensitised campus
VOTE DSF!
01/04/2026
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে RSS-ABVP এবং তাদের দালাল NSF -এর ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ফ্রন্ট (DSF)-এর বিবৃতি।
সাথী,
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিসর গুলোতে বহুবছর ধরেই আঘাত হানতে চাইছে RSS-ABVP র মতো ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদের কারিগররা।
গোটা দেশজুড়ে এই হিন্দুত্ববাদী শক্তি সংখ্যালঘু, মুসলিম, দলিত এবং প্রান্তিক মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নামিয়ে আনছে। দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গনতান্ত্রিক পরিসরগুলোকে ধ্বংস করে তাদের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বীজ বপন করায় প্রচেষ্টায়, যাদবপুরের ক্ষেত্রে তাদের নতুন সংযোজন মুখোশধারী NSF।
আমাদের মনে রাখা দরকার যে এই শক্তি এবং এদের পৃষ্ঠপোষকরাই রোহিত ভেমুলা, নাজীবদের প্রতিষ্ঠানিক খুন করে, প্রকাশ্য রাজপথে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে মারে শ্রমজীবী মানুষদের, ধর্ষকদের গলায় মালা পরিয়ে বরণ করে নেয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগায়, সাধারণ মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয় SIR এর মাধ্যমে ।
গত 26 এ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ABVP ও NSF বিশ্ববিদ্যালয়ের 3নং গেটের ভিতরে দুটি রাম নবমীর পূজো আয়োজন করে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই, এবং বাইরে থেকে RSS - BJP র নানা রাজনীতিক নেতা নেত্রী দের নিয়ে এসে । যার থেকে এরা ক্যাম্পাসের প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে, এবং টেকনোলজি ভবনের দেওয়ালে থাকা পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর অলচিকি হরফে লেখা আদিবাসী ঐক্যের বার্তাকে নষ্ট করে।
ক্যাম্পাসের সম্প্রতি, বৈচিত্র, ঐক্য ধ্বংস করা এবং প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীদের উপর হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদী লুম্পেন বাহিনীর এই আক্রমণের প্রচেষ্টা কে গনতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্ট তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
একটি ধর্মনিরপেক্ষ ক্যাম্পাসে ধর্মীয় উৎসবের স্থান নেই। তবুও বাকি জায়গার মতো যাদবপুরেও বহু বছর ধরে সরস্বতী পুজো, ইফতার বা দুর্গা পুজোর মতো সম্প্রীতির উৎসব ছাত্রছাত্রীরা একসাথে পালন করে। দ্বন্দ্বটা তাই ইফতার বনাম রামনবমীর নয়। বরং বাকি উৎসব গুলোর সাথে RSS-ABVP-BJP র রামনবমীর।
গত এক দশকে RSS রামনবমীকে ধর্মীয় উৎসবের বদলে হিন্দু রাষ্ট্র কায়েমের সাম্প্রদায়িক অস্ত্রে পরিণত করেছে। দিকে দিকে এদের মিছিল থেকেই মসজিদ-গির্জায় হামলা হয়, সংখ্যালঘু, দলিত ও আদিবাসীদের হত্যার ডাক দেওয়া হয়। ঠিক এই কারণেই শিক্ষাক্ষেত্রে রামনবমীর নামে এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসকে আমরা আগামীদিনে সর্বাত্মক বয়কট ও প্রতিরোধ করার ডাক দিচ্ছি।
এই দাঙ্গাবাজ এবং খুনিদের যাদবপুর ক্যাম্পাসে কোনো জায়গা নেই। ক্যাম্পাসের সমস্ত সংগ্রামী ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং আপামর প্রগতিশীল শক্তিকে তাই গনতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্টের আহবান, এদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে এই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ক্যাম্পাস থেকে ছুঁড়ে ফেলার।
ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক!
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!
15/03/2026
"ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়!"
বিজেপি, তৃণমূল ও সংসদীয় সুবিধাবাদী সি.পি.এম , তার লেজুড় SFI ও ছদ্মবেশী স্বাধীনদের সমস্ত চক্রান্তকে ভেস্তে দিয়ে বাংলার প্রথম ICC নির্বাচন ছিনিয়ে আনলো সংগ্রামী গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্ট! তবে এই লড়াই শেষ লড়াই নয়, বিগত ছয় বছর ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ইউনিয়নে নির্বাচন হয়নি , এবং এর জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষ তথা সরকার ও রাষ্ট্র। আশু-তিমিরের রক্তে রাঙা যাদবপুরের যে লাল মাটি থেকে এককালে ধ্বনিত হয়েছিল ভিয়েতনামের মুক্তির গান, আজও যেখানে ছাত্ররা ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য লড়ে, সেই মাটিকে কলুষিত করেছে এই সরকার, এই রাষ্ট্র। সেই সংগ্রামী ইতিহাসের সাথে সঙ্গতি বজায় রেখেই, যাদবপুরের গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ইউনিয়নে গণতান্ত্রিক ভাবে ছাত্র নির্বাচনের দাবী ছিনিয়ে আনার লড়াই জারি রাখবে।
এই সংগ্রামে পাশে থাকা সকল শিক্ষার্থী ও বাম সংগঠনদের লাখো লাখো লাল সেলাম!
25/02/2026
গত ২০ এবং ২৩ শে ফেব্রুয়ারি আমরা সল্টলেক ক্যাম্পাস ও যাদবপুর ক্যাম্পাসে ডি.এস.এফ. -এর পক্ষ থেকে ভাষা দিবস ও নৌ বিদ্রোহ নিয়ে প্রোগ্রাম করি। ভাষা দিবস ও নৌ বিদ্রোহ ঘটনা প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনা হলেও, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেই দুই ইতিহাস স্মরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বকে বজায় রেখেই এই প্রোগ্রাম। প্রাক্তন অনেক ডি.এস.এফ. সিনিয়র এবং অধ্যাপক যারা আজও এই ভাবধারাকে বজায় রেখে চলেছে বিভিন্ন ভাবে, তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে এই প্রোগ্রামে যোগদানকে আমরা কুর্নিশ জানাই। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের অন্যান্য শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের যোগদানেও আমরা উজ্জীবিত। ভিন্ন ভাষায় ও উপভাষায় গান, কবিতার মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের প্রোগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। ডি.এস.এফ. এর ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্যও ছিল তার মধ্যে। পরবর্তীতে এইধরনের প্রোগ্রাম যাতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আরো ভালোভাবে সংগ্রামী চেতনা ও ভাবধারা পৌঁছে দিতে পারে, সেই চেষ্টা ডি.এস.এফ. এর তরফে থাকবে।
এর সাথেই আমরা আবারো বলতে চাই গত ২-৩ দিন ধরে ক্যাম্পাসে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ফেটসুর এক ছাত্রের ল্যাপটপ ভেঙে দেওয়া, সংস্কৃতির ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে গতকাল আমাদের প্রোগ্রাম চলাকালীন যে অমানবিক ঘটনা আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে , সেই ঘটনায় পূর্ববর্তী প্রেস বিবৃতির সারমর্মকে আরো বেশি করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় । রাজনৈতিক মতভেদ চিরকালই বিদ্যমান কিন্তু তার ফলে ক্যাম্পাসে যে সহিংসতা ও প্রতিহিংসামূলক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে তা কখনোই কাম্য নয়।
এস. এ. - ডি. এস. এ. - ডি. এস. এফ. দীর্ঘজীবী হোক।
গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী ফ্রন্ট জিন্দাবাদ।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।