23/08/2026
এখানে বাবা মা হিসেবে ভুল কোথায় ‼️
ভাবুন তো…
যে বাবা হয়তো সারাজীবন নিজের শখের জিনিস না কিনে সন্তানের চাহিদা পূরণ করেছেন,
যে মা সন্তানের মুখে হাসি দেখার জন্য নিজের কত ইচ্ছা বিসর্জন দিয়েছেন—
একদিন সেই সন্তানই যখন একটা দামি ফোনের জন্য এমন একটা সিদ্ধান্তের কিনারায় দাঁড়িয়ে গেল,
তখন তাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা-মায়ের জীবনও শেষ হয়ে গেল!
এই ঘটনাকে শুধু “একটা ছেলে ফোনের জন্য এমন করল” বলে এড়িয়ে গেলে ভুল হবে।
কারণ সমস্যাটা আইফোন নয়।
সমস্যাটা আরও গভীরে।
আজকের প্রজন্মের অনেক শিশুকে আমরা ছোটবেলা থেকেই এমনভাবে বড় করছি—
“চাইলে পাবে”,
“কাঁদলে পাবে”,
“বন্ধুর কাছে আছে, তোমারও থাকবে”,
“বাচ্চার মন রাখতে হবে…”
কিন্তু আমরা কি তাকে শেখাচ্ছি—
সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না?
অপেক্ষা করতে হয়?
টাকা উপার্জন করতে হয়?
নিজের পরিবারের সামর্থ্য বুঝতে হয়?
কখনো কখনো খুব প্রিয় জিনিসটাকেও ‘না’ বলতে হয়?
কৈশোরে আবেগের তীব্রতা এবং তাৎক্ষণিক পুরস্কারের আকর্ষণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে, যখন impulse control ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বিচার করার মস্তিষ্কীয় ক্ষমতা এখনও বিকশিত হচ্ছে।
তার ওপর সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিদিন শেখাচ্ছে—
“ওর আছে, আমারও চাই।”
“ওর জীবন এমন, আমার জীবনও এমন হওয়া উচিত।”
এভাবেই একটা চাওয়া ধীরে ধীরে প্রয়োজন হয়ে যায়,
প্রয়োজনটা হয়ে যায় অধিকার,
আর সেই অধিকার না পেলে তৈরি হয় অসহনীয় হতাশা।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
সন্তানকে বোঝান, কোনো দামি জিনিস তার মূল্য নির্ধারণ করে না।
তাকে এমনভাবে ভালোবাসুন যেন সে নিজের রাগ, লজ্জা, হতাশা, ব্যর্থতা—সবকিছু আপনাকে বলতে পারে।
কিন্তু ভালোবাসার নামে তার প্রতিটি দাবি পূরণ করবেন না।
কারণ আজ আপনি তার কান্না থামাতে একটা দামি ফোন কিনে দিলেন,
কাল হয়তো সে আরও বড় কিছু চাইবে।
সন্তানকে শুধু ভালো স্কুল, ভালো খাবার আর দামি জিনিস দেওয়াই parenting নয়।
তাকে হতাশা সামলানো শেখানোও parenting।
ছোটবেলা থেকেই কখনো বলুন—
“এখন আমাদের সামর্থ্য নেই।”
কখনো বলুন—
“তোমার বন্ধুর কাছে আছে, কিন্তু তোমার এখন দরকার নেই।”
কখনো বলুন—
“তুমি চাইছ বলেই আমরা কিনে দেব—এমন নয়।”
কিন্তু আপনি যদি আজ তাকে ‘না’ শুনে বাঁচতে শেখান,
কাল জীবনের বড় বড় ‘না’-এর সামনে সে নিজেকে সামলাতে শিখবে।
সন্তানকে শুধু কীভাবে জিততে হয় শেখাবেন না।
কীভাবে অপেক্ষা করতে হয়,
কীভাবে না শুনতে হয়,
কীভাবে না-পাওয়ার কষ্ট সহ্য করতে হয়—
সেটাও শেখান।
কারণ পৃথিবী আপনার সন্তানের প্রতিটি চাওয়া পূরণ করবে না।
তাই বাবা-মা হিসেবে আমাদের কাজ শুধু সন্তানের চাহিদা পূরণ করা নয়—
তাকে এমন একজন মানুষ করে তোলা,
যে চাহিদা পূরণ না হলেও নিজের জীবনকে মূল্য দিতে জানে।
একটা আইফোন কখনোই একটা জীবনের চেয়ে দামি না।
আর কোনো চাওয়াকেই সন্তানের জীবনের চেয়ে বড় হতে দেবেন না।
একটা ছোট ঘটনা, আর পুরো পরিবার শেষ
হৃদয়বিদারক ঘটনা। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার টিসগাঁও এলাকার ১৮ বছর বয়সী তরুণ কুণাল চন্দগুড়ে একটি নতুন দামী মোবাইল ফোন কেনার জেদ ধরেছিলেন, যা নিয়ে মা-বাবার সাথে তার তীব্র ঝগড়া ও পারিবারিক বিবাদ তৈরি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সকাল ১০টার দিকে তিনি বাড়ি ছেড়ে পাহাড়ের কিনারায় গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিতে থাকেন।খবর পেয়ে কুণালের বাবা মুরলীধর (৪৮) ও মা সঙ্গীতা এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা, পুলিশ এবং দমকল কর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছান।
স্থানীয় প্রাক্তন সরপঞ্চ সঞ্জয় যাদব সহ সেখানে উপস্থিত সকলে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে কুণালকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এমনকি পরিস্থিতি শান্ত করতে তাকে একটি আইফোন কিনে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। দমকল কর্মীরা নিচে সুরক্ষাজাল (Safety Net) বিছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু কুণাল ক্রমাগত পাহাড়ের কিনারায় অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকায় উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটছিল। দুপুর ১টার দিকে কুণাল পাহাড় থেকে নিচে গভীর গিরিখাত বা খাদের দিকে ঝাঁ*প দিতে যান। সেসময় তার বাবা মুরলীধর তাকে টেনে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে সামনে এগিয়ে যান এবং ছেলেকে জাপটে ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে দুজনেই একসাথে পাহাড় থেকে গভীর খাদে পড়ে যান। চোখের সামনে স্বামী ও সন্তানকে এভাবে তলিয়ে যেতে দেখে তীব্র শোকে ও আতঙ্কে মা সঙ্গীতাও সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের উপর থেকে নিচে ঝাঁ*প দেন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃ*ত্যু হয়।
শেষ পর্যন্ত কী রইল?
না রইল আইফোন,
না রইল সেই সন্তান,
না রইল বাবা-মা।
রয়ে গেল শুধু একটা পরিবারের অসহনীয় শূন্যতা।