03/08/2024
সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা (মেইনস) সম্পর্কে জানুন! 🎓
ভারতবর্ষে যতজন ছেলেমেয়ে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে, তাঁদের মধ্যে এক বড় অংশের ছাত্রছাত্রী পাখির চোখ করে এই পরীক্ষাকে। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে ফলাফলের নিরিখে সারা ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা কিন্তু বেশ পেছনের দিকে। তেলেঙ্গানা, রাজস্থান, গুজরাট, দিল্লী, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের মতো রাজ্য গুলো বেশ কয়েক যোজন এগিয়ে বাংলার চেয়ে? কেন? যতটুকু আমাদের বোঝাপড়া তাতে আমরা দেখেছি, পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় অংশের ছাত্রছাত্রী অভিভাবকদের কাছে কোনো সম্যক ধারণাই নেই এই পরীক্ষার ব্যাপারে।
চলুন আজ তবে জানা যাক এই পরীক্ষার ব্যাপারে।
🔹 পরীক্ষার উদ্দেশ্য:
উচ্চমাধ্যমিক পরবর্তীতে যেসকল ছাত্রছাত্রীরা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়, মূলত তাদের জন্যেই এই পরীক্ষা। এছাড়াও, এই পরীক্ষা দিয়ে আর্কিটেকচার, প্ল্যানিং এর মতো বিষয়গুলো নিয়েও পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। এই পরীক্ষায় পাশ করলে দেশের নামী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে পাওয়া যায় পড়ার সুযোগ। এছাড়া থাকে ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি বা এন আই টি তে পড়ার সুযোগ।
🔹 পরীক্ষার পদ্ধতি:
উচ্চমাধ্যমিক বা +২ স্তরের সিলেবাসে মোট ৩৬০ নম্বরের পরীক্ষা। ১২০ নম্বরের ফিজিক্স, ১২০ নম্বরের কেমিস্ট্রি এবং ১২০ নম্বরের অঙ্ক। সঠিক প্রশ্ন নির্বাচন বা মাল্টিপল চয়েশের প্রশ্ন। সঠিক উত্তরের জন্যে ৪ নম্বর এবং ভুল উত্তরে কেটে নেওয়া হয় ১ নম্বর।
🔹 মেধাতালিকা:
৩৬০ নম্বরের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় মেধাতালিকা। এবং প্রথম ২.৫ লক্ষ জন প্রতিবছর পাশ করে এই পরীক্ষায়। যারা পাশ করে তাদের জন্যে খুলে যায় আরেকটা পরীক্ষার দরজা। জয়েন্ট এন্ট্রান্স এডভান্সড। যেখানে পাশ করলেই মিলবে আই আই টি’র ছাড়পত্র। ইন্ডিয়ান ইন্সটিউট অফ টেকনোলজি! যেকোনো বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীর কাছে যা স্বর্গরাজ্য!
🔹 পশ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে থাকার কারণ:
সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলি যে সিলেবাস অনুযায়ী চলে তার চেয়ে বেশ খানিক আলাদা সিলেবাসে হয় এই পরীক্ষা। এই পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি হয়, সিবিএসসি বা দিল্লী বোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী যা পশ্চিমবঙ্গের সিলেবাসের তুলনায় বেশ খানিক আলাদা। ফলত ছাত্রছাত্রীরা উচ্চমাধ্যমিক এবং জয়েন্ট দুটো বিষয়কে একসাথে সামাল দিতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলে।
🔹 প্রস্তুতির সময়:
এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। তবে আমরা মনে করি, সময়ের কাজ সময়ে করলেই হবে। অর্থাৎ মাধ্যমিক শেষে প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেই হবে। শুধু তার আগে অব্ধি যা পড়া হয়েছে তা সম্পর্কে যেন সম্যক ধারণা থাকে।
🔹 প্রস্তুতির পদ্ধতি:
পাঠ্যবই পড়াটা সবার আগে শিখতে হবে। বিষয়ের গভীরে ঢুকতে হবে। পাঠ্যবই ছাড়াও পড়তে হবে আরও বিভিন্ন বই। যে বুকলিস্টটা আমরা করে দিয়েছি আমাদের কমিউনিটি গ্রুপে। এছাড়া, আমরা অর্থাৎ ‘টাও’ নিয়ে এসেছি বাংলার ছেলেমেয়েদের জন্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্সের প্রস্তুতির অ্যাপ। যেখানে মাত্র মাসে ১০০ টাকার বিনিময়ে যে কেউ নিতে পারে জয়েন্টের প্রস্তুতি।
তাহলে আর দেরি কেন! তোমার স্বপ্ন যদি হয় ইঞ্জিনিয়ারিং, তবে আজ থেকেই শুরু করে দাও প্রস্তুতি।
আমরা আছিই তোমার সাথে। 💪