Alumni Association of Dum Dum Baidyanath Institution

Alumni Association of Dum Dum Baidyanath Institution This page will share, publish the cultural events, educational drives, social activities organised by Alumni Association of Dumdum Baidyanath Institution.

04/07/2026

দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন উচ্চ মাধ্যমিক ২০২৬-এর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফল :

মোট পরীক্ষার্থী : ৩০০
বিজ্ঞান বিভাগ মোট পরীক্ষার্থী : ৪৯
বাণিজ্য বিভাগ মোট পরীক্ষার্থী : ১২৯
কলা বিভাগ মোট পরীক্ষার্থী : ১২২

বিজ্ঞান বিভাগ সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপক : শ্রী সুজয় পাল ৪৩৩
বাণিজ্য বিভাগ সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপক : শ্রী সৌনক দাস ৪৭৪
কলা বিভাগ সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপক : শ্রী পিয়ারুল বিশ্বাস ৪০৮

দমদম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন প্রাক্তনী সংসদের পক্ষ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল ছাত্র-ছাত্রীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আজকের এই সাফল্য শুধুমাত্র তোমাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি আমাদের প্রিয় বিদ্যালয়েরও গর্ব। তোমাদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা এই সাফল্যের ভিত্তি। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা হিসেবে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত যে আমাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে চলেছে।

একই সঙ্গে আমরা সেই সকল ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশেও বলতে চাই, যাদের ফলাফল হয়তো প্রত্যাশামতো হয়নি। জীবনের পথ অনেক দীর্ঘ, আর একটি পরীক্ষার ফলাফল কখনোই কারও সামগ্রিক সম্ভাবনাকে নির্ধারণ করতে পারে না। আজকের সাময়িক হতাশা আগামী দিনের সাফল্যের সোপান হয়ে উঠতে পারে, যদি তোমরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে না ফেলো। নতুন উদ্যমে, নতুন পরিকল্পনায় আবার এগিয়ে চলো। আমরা বিশ্বাস করি, তোমাদের মধ্যেও ভবিষ্যতের অসংখ্য সাফল্যের গল্প লুকিয়ে রয়েছে।

আমাদের সকল প্রাক্তনীদের কাছেও আবেদন, আপনারা আপনাদের স্নেহ, পরামর্শ ও শুভকামনার মাধ্যমে নবীন প্রজন্মের পাশে থাকুন। বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মূল্যবোধ এবং সাফল্যের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

সকল সফল ছাত্র-ছাত্রীকে আবারও অভিনন্দন এবং সকলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

তথ্য সৌজন্যে : বিদ্যালয়ের বর্তমান Teacher in Charge শ্রী সুদীপ্ত দে ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা বৃন্দ

**দমদম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন প্রাক্তনী সংসদ**

শোকবার্তা :সময় যেন কখনও কখনও বড় নির্মম। প্রিয়জনদের স্মৃতি, সান্নিধ্য ও ভালোবাসাকে পেছনে ফেলে একদিন সকলকেই চলে যেতে হয...
01/07/2026

শোকবার্তা :

সময় যেন কখনও কখনও বড় নির্মম। প্রিয়জনদের স্মৃতি, সান্নিধ্য ও ভালোবাসাকে পেছনে ফেলে একদিন সকলকেই চলে যেতে হয় অনন্তের পথে। তেমনই এক গভীর বেদনাময় সংবাদ আমাদের হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করেছে।

দমদম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন-এর ১৯৬৯ সালের বাণিজ্য বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র, শ্রী স্বপন ধর গত ১৮ জুন দুরারোগ্য ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর পরলোকগমন করেছেন।

তাঁর প্রয়াণে দমদম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন প্রাক্তন সংসদ গভীরভাবে শোকাহত। বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী পরিবারের একজন সম্মানিত সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক, ভদ্র, সদালাপী ও মানবিক একজন মানুষ। ছাত্রজীবনের স্মৃতি থেকে শুরু করে জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি বহু মানুষের হৃদয়ে স্নেহ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অমূল্য স্থান অর্জন করেছিলেন।

একজন মানুষের জীবনকে শুধুমাত্র তাঁর সাফল্য দিয়ে বিচার করা যায় না; তাঁর ব্যবহার, মূল্যবোধ এবং মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ববোধই তাঁকে প্রকৃত অর্থে স্মরণীয় করে তোলে। শ্রী স্বপন ধর ছিলেন তেমনই একজন মানুষ, যাঁর সরলতা, সৌজন্য ও আন্তরিকতা তাঁকে সকলের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। আজ তাঁর প্রয়াণে আমরা শুধু একজন প্রাক্তন ছাত্রকেই হারাইনি, হারিয়েছি আমাদের প্রাক্তনী পরিবারের একজন আপনজনকে।

দমদম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রতিটি প্রাক্তনীর মতো তিনিও আমাদের গর্বের অংশ ছিলেন। তাঁর স্মৃতি আমাদের বিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সমাজে চিরদিন সযত্নে সংরক্ষিত থাকবে। সময়ের প্রবাহ অনেক কিছু মুছে দিতে পারে, কিন্তু একজন সৎ ও ভালো মানুষের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না।

এই শোকের মুহূর্তে আমরা বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। পরম করুণাময়ের নিকট আমাদের প্রার্থনা, তিনি যেন শ্রী স্বপন ধরের বিদেহী আত্মাকে চিরশান্তি দান করেন এবং তাঁর প্রিয়জনদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও সাহস প্রদান করেন।

মানুষ চলে যায়, থেকে যায় তার কর্ম, তার ভালোবাসা, তার স্মৃতি। সেই স্মৃতিই তাকে অমর করে রাখে আগামী প্রজন্মের হৃদয়ে।

দমদম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন প্রাক্তনী সংসদ
সশ্রদ্ধ প্রণাম ও গভীর সমবেদনা।

শোকবার্তাগভীর শোক ও হৃদয়ের গভীরতম বেদনার সঙ্গে জানাচ্ছি যে  বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শুভদীপ গুহ ( উচ্চ মাধ্যমিক ২০০৮)...
26/06/2026

শোকবার্তা

গভীর শোক ও হৃদয়ের গভীরতম বেদনার সঙ্গে জানাচ্ছি যে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র শুভদীপ গুহ ( উচ্চ মাধ্যমিক ২০০৮) গতকাল ২৫ শে জুন এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় অকালপ্রয়াত হয়েছেন ।

শুভদীপের এই আকস্মিক ও অসময় প্রয়াণ আমাদের সমগ্র প্রাক্তনী পরিবারকে স্তব্ধ ও শোকাহত করেছে। জীবনের এত অল্প সময়ে তাঁর চলে যাওয়া এক অপূরণীয় ক্ষতি। বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে তাঁর পদচারণা, সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি এবং তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি আজও আমাদের মনে অম্লান হয়ে রয়েছে। তাঁর এই বিদায় শুধু তাঁর পরিবারের নয়, আমাদের সমগ্র বিদ্যালয় ও প্রাক্তনী সমাজের জন্য এক গভীর বেদনার মুহূর্ত।

জীবনের যাত্রাপথে মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার স্মৃতি, তার ব্যবহারের উষ্ণতা এবং তার রেখে যাওয়া ভালোবাসা কখনও মুছে যায় না। শুভদীপও আমাদের হৃদয়ে ঠিক সেইভাবেই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন

এই দুঃসহ সময়ে বিদ্যালয় অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমরা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আমরা প্রার্থনা করি, পরম করুণাময় ঈশ্বর যেন তাঁদের এই অসহনীয় শোক বহন করার শক্তি প্রদান করেন এবং শুভদীপের বিদেহী আত্মাকে চিরশান্তিতে অধিষ্ঠিত করেন।

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অশ্রুসিক্ত স্মরণে

দম দম বৈদ্যনাথ অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশন

08/05/2026

দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬ ফলাফল
মোট পরীক্ষার্থী : ১০৫
ষ্টার - ৪
প্রথম বিভাগ - ১৮
দ্বিতীয় বিভাগ - ৪৫
তৃতীয় বিভাগ - ৩৭
অনুপস্থিত - ১
সর্বোচ্চ : দেবাংশু পাল -৬৫৮

দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন আলুমনি এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সকল মাধ্যমিক উতীর্ণ ছাত্রদের জন্য রইলো একরাশ শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা। তোমাদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস এই সাফল্যের পথ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতের প্রতিটি পদক্ষেপে তোমরা আরও বড় সাফল্য অর্জন করো—এই কামনা করি।

আর যারা এইবার প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারোনি , তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—হতাশ হয়ো না। জীবনে সাফল্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ব্যর্থতাও মানুষকে নতুনভাবে শেখায় ও শক্ত করে তোলে। একটি পরীক্ষার ফল কখনোই জীবনের শেষ কথা নয়। নিজের উপর বিশ্বাস রেখে নতুন উদ্যমে আবার এগিয়ে চলাই আসল সাহস।

সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ তোমাদের আগামী দিনের পথকে আলোকিত করুক।

সকল ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবনের জন্য রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ

তথ্য সৌজন্যে : বিদ্যালয়ের বর্তমান Teacher in Charge শ্রী সুদীপ্ত দে ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা বৃন্দ

ধন্যবাদান্তে দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন অ্যালুমনি এসোসিয়েশন

30/04/2026

শোক সংবাদ : অত্যন্ত বেদনাহত হৃদয়ে ও গভীর শোকের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বিশ্বজিৎ সমাদ্দার (মাধ্যমিক -২০০৫) গতকাল গভীর রাতে পরলোকগমন করেছেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, নম্র, সহৃদয় এবং সকলের কাছে প্রিয় এক মানুষ। তাঁর আন্তরিকতা, মধুর আচরণ এবং মানবিক মূল্যবোধ আজও আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

তাঁর এই অকাল প্রস্থান এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করল, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর স্মৃতি, তাঁর ব্যবহার, তাঁর সরলতা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।

এই শোকাবহ মুহূর্তে আমরা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। পরম করুণাময়ের নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন প্রয়াত আত্মাকে চিরশান্তি দান করেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে এই অসহনীয় শোক বহন করার শক্তি প্রদান করেন।

গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন প্রাক্তনী সংসদ

18/02/2026

“চলে যাওয়া মানেই হারিয়ে যাওয়া নয়; মানুষ আসলে বেঁচে থাকে তার ফেলে আসা দিনগুলোর ভেতরেই।”

গত ১৮ই জানুয়ারি, শীতের নরম রোদ আর হালকা কুয়াশা মাখা এক সকালে বিদ্যালয়ের চেনা প্রাঙ্গণে আবারও জেগে উঠেছিল ফিরে পাওয়ার এক অদ্ভুত আনন্দ। দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন-এর প্রাক্তনী সংসদ আয়োজিত দ্বাদশ পুনর্মিলন উৎসব যেন শুধু একটি দিন নয়—বরং বহু বছরের অটুট ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। বছরের পর বছর ধরে এই অনুষ্ঠান একই সুতোয় বেঁধে রেখেছে প্রজন্মকে প্রজন্মের সঙ্গে; পুরনো বেঞ্চ, করিডর আর মাঠ যেন প্রতিবার নতুন করে শুনেছে ফেলে আসা দিনের গল্প।

কেউ হয়তো বহু বছর পর বন্ধুর কাঁধে হাত রেখেছেন, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকেছেন সেই ক্লাসরুমের সামনে, যেখানে প্রথম স্বপ্ন দেখা শিখেছিলেন। মনে হচ্ছিল, সময় এগিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু হৃদয়ের ভেতর লুকিয়ে থাকা ছাত্রজীবন কোথাও যায়নি—সে শুধু অপেক্ষা করছিল আবার একদিন ডাক পাওয়ার।

এত বছর ধরে এই পুনর্মিলন শুধু একটি অনুষ্ঠান হয়ে থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে এক আবেগের ঠিকানা, এক টান, যা দূরে থাকা মানুষকেও ফিরিয়ে আনে নিজের শেকড়ে। কারণ স্কুল কখনও শুধুই একটি ভবন নয়—এটি আমাদের প্রথম পরিচয়, প্রথম বন্ধুত্ব, প্রথম সাহসের জন্মভূমি।

আর সেই কারণেই দিনটিকে ধরে রাখতে, স্মৃতিকে সময়ের ক্ষয় থেকে বাঁচাতে পুরো অনুষ্ঠানটি ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল। স্মৃতি অনেকটা কুয়াশার মতো—ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়; কিন্তু ভিডিও সেই কুয়াশা সরিয়ে দেয়, মুহূর্তগুলোকে করে তোলে স্পর্শযোগ্য। যারা আসতে পারেননি, তারা যেন দেখেই অনুভব করতে পারেন সেই উচ্ছ্বাস; আর যারা ছিলেন, তারা যেন বছর পেরোলেও ফিরে যেতে পারেন ওই একদিনে।

আজ সেই সম্পূর্ণ ভিডিও প্রকাশ করা হলো(লিংক কমেন্ট বক্স এ )—শুধু একটি অনুষ্ঠান দেখার জন্য নয়, বরং বোঝার জন্য যে সম্পর্কের কোনও অবসর নেই, বন্ধুত্বের কোনও বয়স নেই, আর নিজের স্কুলের প্রতি ভালোবাসা কখনও পুরনো হয় না।

হয়তো এই পুনর্মিলনের আসল অর্থটাই এটাই—
আমরা যত দূরেই যাই, শেষ পর্যন্ত ফিরে আসার জন্য একটা জায়গা থাকেই।
আর সেই জায়গার নাম—আমাদের স্কুল

কিছু স্মৃতি থাকে, যারা সময়কে মানে না—তারা ফিরে আসে ঋতুর সঙ্গে, বাতাসের সঙ্গে, কোনো এক দুপুরের আলোয়।”জীবনানন্দ দাশের সেই ...
24/01/2026

কিছু স্মৃতি থাকে, যারা সময়কে মানে না—তারা ফিরে আসে ঋতুর সঙ্গে, বাতাসের সঙ্গে, কোনো এক দুপুরের আলোয়।”

জীবনানন্দ দাশের সেই নদী-বোধের মতোই সময় এগিয়ে চলে, অথচ কিছু অনুভূতি হৃদয়ের গহীনে চিরস্থায়ী আবেশ হয়ে রয়ে যায়।

প্রতি বছর বসন্ত যখন হালকা পায়ে এসে দরজায় কড়া নাড়ে, তখন অজান্তেই মনে পড়ে স্কুলজীবনের সরস্বতী পুজোর সেই মধুর দিনগুলি। খাতা-কলমের বাইরেও যে শিক্ষা ছিল—ভালোবাসার, দায়িত্বের, একসাথে বড় হয়ে ওঠার—তারই এক পবিত্র উপলক্ষ ছিল এই পুজো।

এবছরও দমদম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশনের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো বিদ্যার দেবীর আরাধনা—শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মীবৃন্দ ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের একাগ্রতায়। এ যেন শুধু এক দিনের পুজো নয়, বরং আমাদের যৌবন-পূর্ব জীবনের স্মৃতিবইয়ের সেই চিরসবুজ পাতাগুলো আবার নীরবে উল্টে দেখার সুযোগ।

সনাতন ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মৃদু সংলাপে এ বছরের পূজামণ্ডপ সেজে উঠেছিল এক গভীর ভাবনার আদলে—বৈদিক যুগের শিক্ষা ব্যবস্থার গুরু-শিষ্য পরম্পরা, তপোবনের শান্ত পরিবেশ, পুঁথি ও ধ্যানের প্রতীকের সঙ্গে সমান্তরালে উঠে এসেছিল আধুনিক সময়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ ও জ্ঞানের নতুন দিগন্ত; যেন হাজার বছরের জ্ঞানধারা আর আগামী দিনের মেধা একে অপরের দিকে তাকিয়ে নীরবে কথা বলছিল

“সবচেয়ে সুন্দর জিনিসগুলো খুব চুপচাপ কথা বলে।”
— শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মতো করেই যেন সেই শিল্পকর্ম আমাদের মনে কথা বলছিল।

শুধু বিদ্যালয়ের আঙিনা নয়, আমাদের মনও রঙিন হয়ে উঠেছিল সেই সরল সৌন্দর্যের স্পর্শে।

পুজোর ক’দিন আগেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ত এক মিষ্টি উচ্ছ্বাস। নিমন্ত্রণপত্র বিলি, মণ্ডপের নকশা আঁকা, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া—সব কিছুর মধ্যেই ছিল এক অদ্ভুত উত্তেজনা।

স্কুলের করিডোরে বন্ধুদের জটলা, আলপনায় রঙ মাখা হাত, আর সেই বহুপ্রতীক্ষিত মুহূর্ত—“প্রতিমা আনতে যাওয়া”। মনে হতো,
“শৈশব কোনোদিন শেষ হয় না, সে শুধু লুকিয়ে থাকে।”
— সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতোই শৈশব যেন পলাশ-রাঙা বিকেলে আবার ডানা মেলত।

পরদিন ভোরের আবেশ—চোখে আধঘুম, অথচ হৃদয়ে এক অনির্বচনীয় শিহরণ। ধূপ-ধুনোর গন্ধ, মন্ত্রোচ্চারণ, নরম আলোয় স্নাত প্রতিমার মুখশ্রী—সব মিলিয়ে এক স্বর্গীয় মুহূর্ত।

শিক্ষক-শিক্ষিকারা যখন আমাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতেন, তখন বুঝতাম—এই বিশ্বাস, এই কর্তব্যবোধই জীবনের প্রকৃত পাঠ।

উপবাস রেখে, হাতে ফুল-বেলপাতা নিয়ে মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা—সেই শান্তির জল, হোমের উষ্ণতা, আর প্রসাদের অমৃতস্বরূপ স্বাদ।
ছোট্ট ফল, অথচ তাতে লুকিয়ে থাকত অসীম আনন্দ।

কেউ নিয়ম ভাঙত, কেউ নিয়ম মানত—কিন্তু সবাই মিলেই ছিলাম এক অপার ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা।

আলপনা, কাগজের ঝালর, হাতে আঁকা ছবি—এসবের মাঝে ফুটে উঠত আমাদের শিল্পীসত্তা। প্রতিমার প্রশান্ত নয়ন, বীনার সুর, রাজহাঁসের স্থিরতা—সব মিলিয়ে এক দেবলোকের দৃশ্যপট।

“এই পৃথিবীতে কিছু মুহূর্ত থাকে, যাদের কোনো বিকল্প নেই।”
— শক্তির মতো করেই সেই সৌন্দর্য আমাদের মন ভরিয়ে দিত।

শালপাতার থালায় ভোগ পরিবেশন, ছোটদের উচ্ছ্বাস, বড়দের দায়িত্ব—এই দৃশ্য আজও চোখে ভাসে। ক্লান্ত হাতে দায়িত্ব শেষ করে যখন নিজের ভাগের প্রসাদ নিজেরাই নিতাম, তখন সেই তৃপ্তির সঙ্গে তুলনা চলে না কোনো কিছুর।

স্কুলের বারান্দা, বন্ধুদের হাসি, গানের কলি—সব মিলিয়ে এক মোহময় দুপুর।

বিকেলের নরম আলোয় শিক্ষকদের পা ছুঁয়ে প্রণাম—তাঁদের আশীর্বাদে ভরে উঠত মন। বাইরে বেরোতে বেরোতে শিমুল গাছের ডালে কোকিলের ডাক যেন নস্টালজিয়ার চাদরে ঢেকে দিত হৃদয়।

পরদিন দধিকর্মা, তারপর বিসর্জন। ঢাকের ধ্বনি, স্নিগ্ধ বিকেলের আলোয় বিদায়ের মুহূর্ত—মনে হতো,
“শেষ মানেই শেষ নয়, কোনো কোনো শেষই স্মৃতির শুরু।”

আজ আমরা কর্মজীবনের ব্যস্ততায় ডুবে, সময় বদলে গেছে—তবু হৃদয়ের এক কোণে রয়ে গেছে সেই পবিত্র আবেশ। যদি আর একবার ফিরে যাওয়া যেত, যদি আবার সেই স্কুলের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে মায়ের কাছে প্রার্থনা করা যেত—

জীবনের প্রতিটি বাঁকে যেন আমরা মনে রাখি সেই নিষ্ঠা, আদর্শ আর ভালোবাসা।

সরস্বতী পুজোর সেই স্নিগ্ধ আলো আমাদের জীবন আলোকিত করুক চিরকাল।

দমদম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন প্রাক্তনী সংসদের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
রইল এই বছরের বিদ্যালয়ের সরস্বতী পুজোর কিছু স্মৃতিময় খণ্ডচিত্র—
যা সময়ের সঙ্গে নয়, স্মৃতির সঙ্গে বাঁচে।

**“সময় আসলে একটি নীরব নদী—আমরা সবাই তার তীরে দাঁড়িয়েএকদিন নিজের ছায়াকেই হাতছাড়া করি।”**পৃথিবীতে কিছুই স্থির নয়।মান...
19/01/2026

**“সময় আসলে একটি নীরব নদী—
আমরা সবাই তার তীরে দাঁড়িয়ে
একদিন নিজের ছায়াকেই হাতছাড়া করি।”**

পৃথিবীতে কিছুই স্থির নয়।
মানুষ বদলায়, বয়েস বদলায়, সম্পর্ক বদলায়—কেবল স্মৃতিরা একটু জেদি। তারা যায় না, তারা লুকিয়ে থাকে। হঠাৎ কোনো বিকেলে, কোনো নাম ডাকার শব্দে, কোনো পরিচিত হাসিতে তারা ফিরে আসে। তখন মনে হয়—এই তো সেদিনই ছিল, স্কুলের বারান্দা, টিফিনের ঘণ্টা, শেষ বেঞ্চের ফিসফাস, আর ভবিষ্যৎকে নিয়ে অকারণ সাহস।

প্রাক-স্বাধীনতা যুগে জন্ম নেওয়া আমাদের বিদ্যালয় আজ শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। সেই দীর্ঘ ইতিহাসের শরীরে হাত রেখে দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন প্রাক্তনী সংসদ গত **বারো বছর ধরে** একটিই কাজ করে চলেছে—ফিরে আসার রাস্তা খোলা রাখা।
বারো বছর মানে কেবল অনুষ্ঠান নয়, বারো বছর মানে ফিরে তাকানোর সাহস, আর আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার।

এবারও গত ১৮ ই জানুয়ারি ২০২৬ (রবিবার) বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মিলিত হয়েছিলেন নানা সময়ের মানুষ। কেউ এসেছেন স্মৃতির ভার নিয়ে, কেউ এসেছেন কৌতূহল নিয়ে, কেউ শুধু এসেছেন—কারণ কোথাও একটা টান ছিল। পঞ্চাশের দশকের ছাত্র থেকে সদ্য প্রাক্তন হওয়া ছেলেমেয়েরা—সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে বুঝে নিয়েছিল, সময় আলাদা হতে পারে, কিন্তু শিকড় এক।
হঠাৎ কারও মুখ দেখে মনে হয়েছে—এই মুখটা আমি চিনি, বহু বছর আগে, অন্য এক আয়নায়।
কুড়ি-ত্রিশ-চল্লিশ বছর গলে গিয়েও বলা গেছে—
“তুই ঠিক বদলাসনি রে!”

দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন একটি বটগাছ।
তার ছায়া কারও পরিচয় জিজ্ঞেস করে না। এখানে পদবি ধুলোয় মিশে যায়, পদমর্যাদা চুপ করে বসে থাকে। প্রবীণ নবীনের কাঁধে হাত রাখেন, নবীন নির্ভয়ে প্রশ্ন করে। এই অবাধ মেলামেশাই আমাদের সংস্কৃতি—এটাই আমাদের উত্তরাধিকার।

সারাদিন জুড়ে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দিনটা যেন একটু ভারী হয়ে উঠেছিল—ভারী মানে গভীর। গান ছিল, আবৃত্তি ছিল, স্মৃতিচারণা ছিল—কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল না-বলা কথার উপস্থিতি। যাঁরা নিজেদের শিল্প, কণ্ঠ ও স্মৃতি দিয়ে এই অনুষ্ঠানকে পূর্ণতা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।

শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।
যাঁরা একদিন আমাদের কাঁচা হাতে অক্ষর তুলে দিয়েছিলেন, চোখে তুলে দিয়েছিলেন স্বপ্ন। ছাত্র-ছাত্রীরা একদিন বিদ্যালয় ছেড়ে যায়, কিন্তু শিক্ষকের দেওয়া দৃষ্টি থেকে যায়—আজীবন। এই দান কখনও ফুরোয় না। প্রণাম তাঁদের।

অশেষ ধন্যবাদ সেই সকল প্রাক্তনীকে, যাঁদের আর্থিক সহযোগিতায় এই পুনর্মিলন শুধু একটি দিনের ছবি হয়ে থাকে না—বরং সারা বছরের কর্মকাণ্ড, পরিকল্পনা ও দায়িত্ব নির্বিঘ্নে এগিয়ে চলে।
ধন্যবাদ সমস্ত বিজ্ঞাপনদাতাদের, যাঁরা আমাদের ঐতিহ্যের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
আর বিশেষ ধন্যবাদ সেই নীরব প্রাক্তনীদের—যাঁরা আলো চাননি, নাম চাননি, শুধু ভালোবেসে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দায়।

বারো বছরের এই যাত্রা আমাদের গর্ব।
তবু একটি কথা রয়ে যায়—এই পথচলা আরও দীর্ঘ হবে, যদি নতুন প্রজন্ম আরও বেশি করে এগিয়ে আসে। কথাটা অভিযোগ নয়, উপদেশও নয়—এ এক অন্তরের ডাক। এই সংসদ অতীতের স্মৃতিসৌধ নয়, এটি ভবিষ্যতের প্রস্তুতি।

সবশেষে বলি—এত বড় আয়োজনে কিছু ত্রুটি থাকতেই পারে। আমাদেরও হয়েছে। প্রতিটি অসাবধানতার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
কারণ জীবন নিখুঁত হলে স্মৃতির দরকার পড়ত না।

সবাই ভালো থাকুন।
সময়ের নদীর তীরে আবার দেখা হবে—এই আশায়।

**ধন্যবাদান্তে
দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন
প্রাক্তনী সংসদ**

চকের গন্ধ, বেঞ্চের খোদাই, বন্ধুর নাম ডাকার সেই বিকেলগুলোপুরনো খাতার পাতার মতো আবার খুলে যাবে।হাসি, গল্প, স্মৃতি আর বর্তম...
17/01/2026

চকের গন্ধ, বেঞ্চের খোদাই, বন্ধুর নাম ডাকার সেই বিকেলগুলো
পুরনো খাতার পাতার মতো আবার খুলে যাবে।
হাসি, গল্প, স্মৃতি আর বর্তমানের ভিড়ে

আগামী ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ (রবিবার) দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন প্রাক্তনী সংসদের উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সকাল ১১টা থেক...
12/01/2026

আগামী ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ (রবিবার) দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন প্রাক্তনী সংসদের উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সকাল ১১টা থেকে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দ্বাদশ পুনর্মিলন উৎসব উপলক্ষে এক সারাদিনব্যাপী মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চা মানুষের সৃজনশীলতার সর্বোত্তম প্রকাশ—যা একটি জাতির পরিচয়, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে বহন করে। এটি কেবলমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়; বরং মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও সমাজচেতনার এক জীবন্ত প্রতিফলন। সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের অতীতকে লালন করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সৃজনশীলতার পথ প্রশস্ত করে দিই।

গর্বের সঙ্গে আমরা বলতে পারি—পাঠ্য শিক্ষার পাশাপাশি দম দম বৈদ্যনাথ ইনস্টিটিউশন চিরকালই ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক ও শিল্পচর্চায় উৎসাহ দিয়ে এসেছে। এরই সুফলস্বরূপ আমাদের বিদ্যালয়ের বহু কৃতি প্রাক্তনী আজ রাজ্য ও দেশের সীমানা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক স্তরেও সংস্কৃতির জগতে নিজ নিজ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।

এই সুদীর্ঘ ও গৌরবময় ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই প্রাক্তনী সংসদের এই প্রয়াস। তাই উক্ত দিনে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আপনাদের সকলের সশ্রদ্ধ উপস্থিতি ও আন্তরিক অংশগ্রহণ আমরা একান্তভাবে কামনা করি।

আসুন, স্মৃতি–সংগীত–সৃজনশীলতার এই মিলনমেলায় একসঙ্গে অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত ও স্মরণীয় করে তুলি।

Address

17 Harimohan Dutta Road . Dum Dum Cantton, Ment
Kolkata
700028

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Alumni Association of Dum Dum Baidyanath Institution posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Alumni Association of Dum Dum Baidyanath Institution:

Shortcuts

Share

Category