Sarada Charan Aryan Institution

Sarada Charan Aryan Institution

Share

Tribute from students - school @ 421/B, Rabindra Sarani, Kolkata 700005
Coordinates: 22°35'45"N 8

28/09/2024
28/09/2024

পরীক্ষার নম্বর যে একজনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না, তা আবার প্রমাণিত।

ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল বিজ্ঞানী হওয়ার। কিন্তু মাধ্যমিকে মাত্র ৫৪ শতাংশ নম্বর পাওয়ায় বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তিই নিতে চাইছিল না কোনও স্কুল কর্তৃপক্ষ। পুরুলিয়ার সেই যুবক জিকা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে এমন মাইক্রো আরএনএ (এমআইআরএনএ) আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গোটা বিশ্বকে। মাত্র ২৬ বছর বয়সী পুরুলিয়ার পুঞ্চার যুবক সোমনাথ দত্তর এই আবিষ্কারে গর্বিত গোটা দেশ। সম্প্রতি জার্মানির বিশ্ববিখ্যাত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউটে বিজ্ঞান সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, এমআইটি সহ নানা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতি বছর তাঁদের সামনে মাত্র ৩ জন গবেষক পড়ুয়া নিজেদের আবিষ্কারকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার সুযোগ পান। একমাত্র ভারতীয় হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সোমনাথ।
সোমনাথের বাবা কর্ণলাল দত্ত একজন এলআইসি এজেন্ট। মা পূর্ণিমাদেবী গৃহবধূ। তাঁরা জানিয়েছেন, ও যে ছেলেবেলা থেকেই প্রচণ্ড মেধাবী ছিল, এমনটা নয়। শুধুমাত্র নিজের কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের দৌলতে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। সোমনাথের স্কুলের শিক্ষকরাও একই কথা বলছেন। ২০১৫ সালে পুঞ্চার লৌলাড়া রাধাচরণ অ্যাকাডেমি থেকে মাত্র ৫৪.৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাস করেন সোমনাথ। এত কম নম্বরে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে স্কুল। পরে তাঁর বাবার অনুরোধে ভর্তি নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। ভালো নম্বর পেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে পাঁশকুড়া বনামালি অ্যাকাডেমিতে বায়োটেকনলজি নিয়ে ভর্তি হন সোমনাথ। সেখান থেকে পুদুচেরি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে বায়ো ইনফরমেটিক্সে মাস্টার্স, তারপর পিএইচডির জন্য ডাক আসে দক্ষিণ কোরিয়ার পুসান ন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে। পুসানে পড়াকালীনই মার্কিন মুলুকের ন্যাশনাল ইনস্টিটিটিউট অফ হেলথেও যৌথভাবে গবেষণার কাজ চালিয়ে গিয়েছেন সোমনাথ। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফোনে সোমনাথ বলেন, ‘৮৯টি দেশে এই জিকা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত। ভারতের কর্ণাটক, মহারাষ্ট্রেও জিকার ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছে। মূলত মশার মাধ্যমেই তা একজন থেকে অন্যজনের শরীরে বাহিত হয়। একবার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে পক্ষাঘাত পর্যন্ত হতে পারে। প্রসূতি মহিলার শরীরে যদি একবার এই ভাইরাস প্রবেশ করে, তাহলে ‘গুলেন বারি সিনড্রোম’-এর মতো বিরল স্নায়বিক সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে শিশু। অপরিণত মস্তিস্ক, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা হারিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এর কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। সোমনাথের গবেষণার উপর ভিত্তি করে প্রতিষেধক আবিষ্কার হলে উপকৃত হবে লক্ষ লক্ষ মানুষ।

Collected from PURULIA-Purulia

27/07/2023

আমরা যারা তথাকথিত ধর্মগ্রন্থ, শাস্ত্রগ্রন্থ ইত্যাদি নিয়ে অল্পবিস্তর পড়াশোনা এবং গবেষণা করে থাকি তারা জানি বেদের চারটি ভাগ- ঋক, সাম, যজু ও অথর্ব। এই চারটি বেদের প্রতিটি আবার চারভাগে বিভক্ত। যেমন- সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক এবং উপনিষদ। অন্যদিকে বেদান্তের অর্থ যেহেতু বেদের অন্ত, এবং সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যকের পর উপনিষদ প্রতিটি বেদের শেষাংশে স্থান পেয়েছে সেই হিসেবে উপনিষদই হচ্ছে ‘বেদান্ত'। তা এই উপনিষদ বা উপনিষৎ কতটা বিজ্ঞান সেটি নিয়ে যৎসামান্য আলোচনা করা যাক।

ছান্দোগ্য উপনিষদ ৬/২/১-৪ এ জগতের সৃষ্টি বর্ণনায় লেখা রয়েছে - "সৃষ্টি প্রথমে এক অদ্বিতীয় ভাবরূপেই ছিল, তিনি নিজেকে প্রকাশ করতে চাইলেন, তাই অগ্নি তথা তেজ উৎপন্ন করলেন। তেজ ইচ্ছা করলেন এবং জল সৃষ্টি হল...জল থেকে সৃষ্টি করলেন...অন্ন"। বৃহদারণ্যক উপনিষদ, ১/৪/১-৪ এ আমরা পাচ্ছি, "আত্মাই প্রথম পুরুষ। চতুর্দিকে দৃষ্টিপাত করে তিনি নিজেকে ব্যতীত দ্বিতীয় কাউকে দেখতে পেলেন না। তিনি উচ্চারণ করলেন 'সোহং' (আমিই একমাত্র)। অত:পর তাঁর নাম হল 'অহং' (যা আমরা নিজেদের নামের আগে ব্যবহার করি)। তিনি আতঙ্কিত হলেন, আজও তাই নিঃসঙ্গ ব্যক্তিকে আতঙ্ক গ্রাস করে।...তিনি দ্বিতীয় সত্তাকে কামনা করলেন।...নিজ আত্মা ও শরীরকে দ্বিধাবিভক্ত করলেন, সৃষ্টি হল পতি ও পত্নী..."। আবার বৃহদারণ্যক উপনিষদ, ২/১/১০ এ লেখা রয়েছে, "আমি থেকে যেমন স্ফুলিঙ্গের উদ্ভব, তেমনই এই আত্মা থেকে উদ্ভব হয় প্রাণ, লোক দেব এবং বস্তুসমূহের"।

ঐতেরেয় উপনিষদ, ১/১-৩ এ লেখা রয়েছে, প্রথমে একমাত্র এই আত্মাই জীবিত ছিল। আত্মা মনে মনে ইচ্ছা করলেন লোকপাল সৃষ্টি করব। জল থেকে এক পুরুষকে তুলে তিনি তার দেহে কম্পন সৃষ্টি করে তাকে তপ্ত করলেন। তপ্ত করার পর তার মুখ বিকশিত হল। মুখ থেকে নির্গত হল বাণী, তা থেকে অগ্নি সৃষ্টি হল। নাসারন্ধ্র থেকে নির্গত হল নিঃশ্বাস, নিঃশ্বাস থেকে প্রাণ, প্রাণ থেকে বায়ু। চক্ষু থেকে সৃষ্টি হল দৃষ্টিশক্তি, তা থেকে সূর্য। কর্ণযুগল থেকে হল শ্রবণক্ষমতা, শ্রুতি থেকে দিশা। ত্বক থেকে রোম, রোম থেকে ওষধি বনস্পতি। হৃদপিন্ড স্ফুরিত হল, তা থেকে সৃষ্টি হল মন। মন থেকে চন্দ্র"....।

কি?কিছু বোঝা গেলো বন্ধুগণ?বেদান্তের এই প্রাণ ও বিশ্বজগৎ সৃষ্টি তত্ত্ব বা থিওরি সত্যিই চমৎকার যা ডারউইনের বিবর্তবাদ তত্ত্বের সম্পূর্ণ বিপরীতে। উপনিষদে এইধরনের অসংখ্য বিজ্ঞানবিরোধী, হাস্যকর তথ্য রয়েছে। কিন্তু সেসব ভালোকরে পড়বার মতন যুক্তিমনষ্ক পাঠকের চেয়ে ভাববাদে ডুবে থাকা পাঠকেরাই বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ। অনেক উচ্চশিক্ষিত বা জ্ঞানী ব্যক্তিরা, যাদের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দ থেকে হাইজেনবার্গের মতন বিজ্ঞানীরাও আছেন তারা যখন বেদান্তের গুণগান করেন তখন আশ্চর্য হই!

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, বিদ্যাসাগর বলেছিলেন- বেদান্ত ও সাংখ্য ভ্রান্ত দর্শন। উনি কেন এমনটা বলেছিলেন তা সহজেই অনুমান করতে পারি।
দর্শনের সংজ্ঞাটা হচ্ছে, সমগ্র বিশ্বজগৎ কে দেখা এবং বোঝার বিশেষ জ্ঞান বা দৃষ্টিভঙ্গি বা সিঁড়ি। এবারে আমাকে দয়াকরে কেউ বুঝিয়ে দিন বেদান্ত অর্থাৎ উপনিষদ এর বিজ্ঞানবিরোধী, হিজিবিজি তথ্য ও তত্ত্ব কিভাবে 'দর্শন' হয়?বেদান্তের তত্ত্বকে অবলম্বন করে কোনো বিজ্ঞানী কি কোনোকিছু আবিষ্কার করতে পারবেন?না, পারবেন না। অসম্ভব ব্যপার। কোনোকিছু আবিষ্কার করতে সেই বিজ্ঞানীকে যুক্তির পথেই এগোতে হবে। তবেই আসবে সাফল্য।

বিদ্রঃ- উপনিষদ যে কতটা অমানবিক সেটা বোঝাতে বহুর মধ্যে একটি মাত্র উদাহরণ তুলে ধরছি।'বৃহদারণ্যক উপনিষদ'-এ লেখা রয়েছে (১ঃ৯ঃ২ঃ১৪) - "লাঠি দিয়ে মেরে নারীকে দুর্বল করা উচিৎ, যাতে নিজের দেহ বা সম্পত্তির উপরে আর কোনও অধিকার না থাকে।" স্বামী বিবেকানন্দের মতন জ্ঞানী গুণী মানুষ এসব জেনেও কিভাবে বেদান্তবাদী ছিলেন এটা আমার আজও বোধগম্য হয় না।

বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি

04/07/2023

দর্শনা স্টেশনে বাক্সের মধ্যে গোষ্ঠ পালের ছবি দেখে পাক সীমান্ত রক্ষী বললেন আগে বলবেন তো আপনি গোষ্ঠ পালের মা...! ঘটনা ভারত ভুখণ্ড খণ্ডিত হবার কিছু পরের...এরপর কি হল! সেদিন দর্শনা স্টেশনে পাকিস্থানের দুঁদে সীমান্তরক্ষী বড় লজ্জায় পড়ে গিয়ে বললেন তা আগে বলতে হয় সেকথা! দেখুন তো,শুধু শুধু আমি আপনাকে কত কষ্ট দিলাম! আমায় মাপ করবেন৷ না,না আপনি একা গোষ্ঠ পালের মা নন,আপনি আমাদেরও জননী৷ এই ঘটনার আগের কিছু মুহূর্তে একটু ফিরতে হয় চলুন দেখি কি হয়েছিল সেদিন দর্শনা স্টেশনে৷
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে

খোলো দেখি বাক্স,হেঁকেই হুকুম প্রহরীর,তোরঙ্গের ডালা তুলে ধরলেন বৃদ্ধা,প্রহরীরও শ্যেনদৃষ্টি ওই বাক্সের দিকে৷
দর্শনা স্টেশনে এসেছেন বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক বৃদ্ধা,সম্বল বলতে হাতের একটা লাঠি,আর ছোট টিনের তোরঙ্গ৷ পাকিস্থানের প্রহরীরা জবরদস্ত খানা-তল্লাশি করছেন,বর্ষীয়সী রমণীকে বেশি ঘাটতে হল না,প্রহরীর শ্যেনদৃষ্টি মেলে ধরল তাঁর বাক্সবন্দী সম্পদের দিকে,সযত্নে সেখানে সাজানো এক ফটো,এবার অবাক হওয়ার পালা৷ প্রহরী জিজ্ঞেস করলেন এই ফটো কার?
উনি আপনার কে? বৃদ্ধার কণ্ঠেও বিস্ময়৷ কেন?
ও তো আমার পোলা! নিমেষে দুঁদে পাক সীমান্ত রক্ষীর আচরণে কেমন যেন ভদ্রদুরস্ত আবহ,আবেগে তিনিও ভেসে যাচ্ছেন৷ বললেন আগে বলতে হয় এসব,শুধু কত কষ্ট দিলাম,তা আগে বলবেন আপনি গোষ্ঠ পালের মা জননী,সঙ্গে আরও বললেন তাকে যেন তিনি মাপ করে দেন৷

পাকিস্থানের সীমান্ত রক্ষী আরও বলেছিলেন আপনি একা গোষ্ঠ পালের মা নন,তিনি তাদেরও জননী৷ সব কথা বলে ওই রক্ষী জননীর পায়ের ধুলো ভক্তিভরে নিজের মাথায় ঠেকালেন,তারপর সব কাজ ছেড়ে মাকে নিয়ে পড়ে থাকলেন যতক্ষণ না পশ্চিমমুখী ট্রেন ছাড়ে৷ ট্রেনের কামরায় মায়ের জায়গা করে দিয়ে বাঙ্কের ওপর তোরঙ্গ তুললেন নিজের হাতে৷ বৃদ্ধা কিন্তু বুঝতে পারেন না তাঁর ছেলের কেন এত কদর,তাঁর পুত্র না বড় রাজনৈতিক নেতা,না বড় সরকারি অফিসার,না বিত্তবান ব্যবসায়ী৷ তাহলে কেন পাকিস্থানের প্রহরী এত সম্মান করল তাকে! এসব ভাবতে-ভাবতে চলে এলেন এপার বাংলায়,স্টেশনে ছেলে গোষ্ঠ পাল অপেক্ষা করছেন৷

মাকে দেখে পুত্র প্রশ্ন করলেন রাস্তায় অসুবিধা হয়নি তো,এরপর মায়ের মুখে শুনলেন সব গল্প৷এবার পুত্র অনুযোগের সুরে বললেন দেখলে মা তখন কেবল ধমকাতে,লেখাপড়া নেই,কাজকর্ম নেই, শুধু খেলা৷ আজ বুঝতে পারছো খেলার কত দাম৷ পুত্রের কথায় মা জননী না হেসে পারেন না,তাঁর ছেলে বড় খেলোয়াড়,কেমন খেলেন তিনি কোনওদিন দেখেন নি,শুধু বুঝতেন সে মস্ত বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন,তাকে নিয়ে একসময় খুব হইচই উঠেছিল৷
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে

গোষ্ঠ পালের মায়ের কাছে ছিল সবটা শুধুমাত্র খেলা,সে খেলার মূল্য তিনি জানতেন না,তবে বুঝতেন যেদিন ছেলে মাঠের ব্যাথা ঘরে এনে তাকে বলতেন গরম জল করো,চুন-হলুদ লাগিয়ে দাও৷ তিনি অবশ্য সব কাজকর্ম ফেলে বলে উঠতেন কিরে ব্যাথা কমল৷ কোনওদিন জননী রাগের সুরে বলেছেন হাত-পা ভাঙবি শেষে! তবু ছেলে সেসব কথা কানেই তোলেন নি,লুকিয়ে খেলার মাঠে এসেছেন৷ ছেলেকে আটকাতে না পেরে মা হতেন রেগে খুন,তবু আমরা ভাবি ভাগ্যিস গোষ্ঠ পাল জননী নিজে হেরেও জিতিয়ে দিয়েছেন আমাদের,আমরা পেয়েছি ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নায়ক,ফুটবল কিংবদন্তি গোষ্ঠ পাল কে যিনি নিজেই পরিচিত চীনের প্রাচীর নামে৷

গোষ্ঠ পালের নামে প্রথম জয়ধ্বনি উঠেছিল গত শতাব্দীর গোড়ার পর্বে,তারপর অনেক কাণ্ড ঘটেছে,গোরারা এ'দেশ ছেড়েছে,বিংশ শতক ফুরিয়েছে,কিন্তু গোষ্ঠ পালের নাম ডাক এতটুকু থিতিয়ে যায় নি,আত্মবিস্মৃত জাতি হিসেবে বাঙালির নাম থাকলেও বাঙালি কিন্তু কোনওদিন দিন ভুলতে চায়নি চাইনিজ ওয়াল গোষ্ঠ পালের কথা৷


সংকলনে - Arunava Sen

গ্রন্থঋণ,কৃতজ্ঞতা স্বীকার,ফিরে ফিরে চাই,অজয় বসু

07/06/2023

“ঈশ্বর যদি থাকেন তবে আমার বুদ্ধি তাঁরই দেওয়া;
সেই বুদ্ধি বলিতেছে যে, ঈশ্বর নাই;
অতএব ঈশ্বর বলিতেছেন যে, ঈশ্বর নাই;
অথচ, তোমরা তাঁর মুখের উপর জবাব দিয়া বলিতেছ যে,
ঈশ্বর আছেন। এই পাপের শাস্তিস্বরূপে তেত্রিশ কোটি দেবতা তোমাদের দুই কান ধরিয়া জরিমানা আদায় করিতেছে।”

চতুরঙ্গ/জ্যাঠামশায় - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

#ঈশ্বর_সর্বকালের_সর্বসেরা_গুজব

01/05/2023

#আইনস্টাইনের_ধর্ম_ও_ঈশ্বর_প্রসঙ্গ

পৃথিবীতে এমন অনেক শিক্ষিত গাধা আজও আছেন যারা প্রচার করেন, 'আইনস্টাইন ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর মতন একজন বিজ্ঞানীও যখন মেনেছেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব তখন বাকিরা কেন মানবেনা?'
কিন্তু সত্যি টা ঠিক কি?আইনস্টাইন কি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলেন?আসুন এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়া যাক।

ইহুদী ধর্মাবলম্বী দার্শনিক এরিখ গুটকিন্ড আইনস্টাইনকে নিজের লেখা একটি বই পাঠিয়েছিলেন পড়বার জন্য। বইটির নাম ছিল "চুজ লাইফ: দ্য বাইবেল কল টু রিভোল্ট"। এই বইটি পড়ার পর আইনস্টাইন ১৯৫৪ সালে ৩ জানুয়ারি জার্মান ভাষায় এরিখ গুটকিন্ডের কাছে লেখা একটি চিঠিতে ঈশ্বর এবং ধর্ম সম্পর্কে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন। এ চিঠি সম্পর্কে যারা আগে থেকেই অবগত আছেন তাদের কাছে চিঠিটি 'ঈশ্বর চিঠি' (God Letter) নামে পরিচিত। ঈশ্বর সম্পর্কে তার ধারণার পাশাপাশি এটি আরেকটি কারণে বেশ গুরুত্ব, তা হল ইহুদী জাতিগোষ্ঠীকে তিনি অন্য সব জাতিগোষ্ঠীর থেকে আলাদা কিছু মনে করেন না। এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে তাঁর বিরুদ্ধে আধ্যাত্মবাদের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থনের যে অভিযোগ আছে তা ভ্রান্ত।

মে, ২০০৮ সালে একটি নিলামে চিঠিটির প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছে ৩ মিলিয়ন ডলার। চিঠিটির বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ ইংরেজিতে অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয়েছে। রিচার্ড ডকিন্স তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিলাম এবং চিঠির সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন এবং সাথে চিঠি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে নিজস্ব মতামতও রেখেছিলেন।

Childish superstition: Einstein’s letter makes view of religion relatively clear-
https://www.theguardian.com/science/2008/may/12/peopleinscience.religion

আইনস্টাইন কাল্পনিক ঈশ্বর অর্থাৎ গডেশ্বরাল্লহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলেন না। আইনস্টাইন, পাস্কাল ইত্যাদিরা যদি ঈশ্বরে বিশ্বাসও করেন তাতেও ঈশ্বরের অস্তিত্ব মোটেই প্রমাণিত হয় না। কারণ বিজ্ঞানের কাছে কারোর ব্যাক্তিগত বিশ্বাসের কানাকড়িরও দাম নেই। যদিও এসব অতিবোদ্ধাদের বোঝানো আর হাতিকে জাঙিয়া পড়ানো একই ব্যপার।

📌 ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে আইনস্টাইনের আরো কিছু প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি (আইনস্টাইনের বিবিধ রচনা থেকে সংকলিত) :

🎗 ‘আমার ধর্ম-প্রীতি নিয়ে যা শোনা যায় তার সবটাই মিথ্যে ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচারিত। আমি কোনো ব্যক্তি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না এবং এটা আমি স্পষ্টভাবে বারবার জানিয়ে এসেছি। আমার মধ্যে ধর্মীয় ভাব বলতে শুধু আছে এই অসীম রহস্যময় মহাবিশ্বের বিশালতার প্রতি এক বিস্ময়’।
– Albert Einstein, in a letter March 24, 1954; from Albert Einstein, the Human Side, Helen Dukas and Banesh Hoffman, eds., Princeton, New Jersey, Princeton University Press, 1981, p 43

🎗 ‘আমি তো এমন ঈশ্বরের কথা ভাবতেই পারি না যে তার নিজের সৃষ্টিকে শাস্তি দেয়। যার উদ্দেশ্য বিধেয় আমাদের নিজেদের মত করে বানানো। সোজা কথায়, এরকম ঈশ্বর মানবচরিত্রের প্রতিফলন। আর মানুষ কি ভাবে মৃত্যুর পরেও বেঁচে ওঠে তাও কোনোভাবেই আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়, যদিও ভয় পেয়ে বা ধর্মীয় অহংবোধের বশবর্তী হয়ে দুর্বলচিত্ত মানুষ তা বিশ্বাস করে। আমি এই সর্বব্যাপী জীবনের আর সুবিশাল মহাবিশ্বের নিয়ে গবেষণা করতেই ভালবাসি। এই বিশাল প্রকৃতিরাজ্যে কার্যকারণের যে সামান্য বহিঃপ্রকাশ সামনে আসে, তা খুঁজে বের করাতেই আমার আনন্দ’।
– Albert Einstein, The World as I See It, Citadel Press, 1930

🎗 “কল্যাণময়, সর্বশক্তিমান ও নীতিবাগীশ এক ব্যক্তি-ঈশ্বরের ধারণা যে অসহায় মানুষকে সান্ত্বনা ও সহায়তার জন্যই দরকার ছিল, কারোর পক্ষেই তা অস্বীকার করা সম্ভব নয়। ধারণাটি সহজ সরল হওয়ায় মানুষের মনে সহজেই স্থানও করে নিয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে এই ধারণার দুর্বলতাও ছিল। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে তা বারেবারে দেখা যায়। সহজ হিসাবে, যদি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান হন, তাহলে মানুষের সব কাজ, ইচ্ছা বা চিন্তা আদপে তারই কর্তৃত্বে। তাহলে, মানুষকে কি ভাবে তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী করা সম্ভব? ঈশ্বর মানুষের বিচার করে শাস্তি বা পুরষ্কার দিয়ে তাহলে তো নিজের কৃতকার্যেরই বিচার করছে। এর সাথে কিভাবে কল্যাণময় ও নীতিবাদী ঈশ্বরের ধারণাকে মেলানো যায়?

এক ব্যক্তি-ঈশ্বর সব প্রাকৃতিক ঘটনাবলীকে নিয়ন্ত্রণ করে – এই ধারণাকে বৈজ্ঞানিকভাবে অসত্য প্রমাণ করার কোনো উপায় নেই। কারণ এই ধারণাগুলো তখন এমন সব যুক্তির আশ্রয় নেবে যেসব বিষয় বিজ্ঞান তখনও আয়ত্তে আনতে পারে নি।

নৈতিকতার ভালর জন্যই ধর্মপ্রচারকদের উচিত এই ব্যক্তি-ঈশ্বরের ধারণা থেকে সরে আসা। এর অর্থ হল, যে শাস্তির ভয় আর পুরস্কারের লোভ এই ধর্মপ্রচারক সাধু-সন্তের এত ক্ষমতার উৎস, তা থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে।”
– Science, Philosophy and Religion, A 1934 Symposium, published by the Conference on Science, Philosophy and Religion in Their Relation to the Democratic Way of Life, Inc., New York, 1941.

🎗 “ধর্মে যে সৌভ্রাতৃত্বের কথা বলা আছে, তা আদপে যুদ্ধক্ষেত্রের সৈনিকদের কাঁধে কাঁধ মেলানোর বন্ধুত্ব, অর্কেস্ট্রায় সুরে সুর মেলানোর বন্ধুত্ব নয়।”
– Published in Ideas and Opinions, Crown Publishers, Inc., New York, 1954.

🎗 “আমি তো এমন ঈশ্বরের কথা ভাবতেই পারি না যে তার নিজের সৃষ্টিকে শাস্তি দেয়। যার উদ্দেশ্য বিধেয় আমাদের নিজেদের মত করে বানানো। সোজা কথায়, এরকম ঈশ্বর মানবচরিত্রের প্রতিফলন। আর মানুষ কি ভাবে মৃত্যুর পরেও বেঁচে ওঠে তাও কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়, যদিও ভয় পেয়ে বা ধর্মের ইগোর বশবর্তী হয়ে দুর্বলচিত্ত মানুষ তাও বিশ্বাস করে ।”
– Albert Einstein, obituary in New York Times, 19 April 1955

🎗 “ব্যক্তি ঈশ্বরের ধারণা আমার কাছে একেবারেই ভিন দেশি, এবং ক্ষেত্রবিশেষে খুবই সরল।”
– Albert Einstein in a letter to Beatrice Frohlich, December 17, 1952; from The Expanded Quotable Einstein, p. 217.

🎗 “আমি একজন গভীরভাবে ধর্মনিষ্ঠ অবিশ্বাসী। এটিকে বলা যেতে পারে এক শ্রেণীর নতুন ধর্ম”।
– Albert Einstein in a letter to Hans Muehsam, March 30, 1954; from The Expanded Quotable Einstein, p. 217.

🎗 “ব্যক্তি ঈশ্বরের ধারনা আমার কাছে কল্পনার নরাত্বরোপ ছাড়া আর কিছু নয়, আর এটাকে আমি এত গরুত্ব সহকারে নিতে পারি না। আমি মানবীয় বৃত্তের বাইরে কোন উদ্দেশ্য এবং গন্তব্য কল্পণা করতে পারি না। আমার চিন্তাধারা অনেকটা স্পিনোজার দর্শনের কাছাকাছি- সৌন্দর্যের প্রতি যার ছিল প্রগাঢ় প্রশস্তিবোধ, আর শৃঙ্খলার সরল যুক্তির উপর ছিল বিশ্বাস – একে আমরা আস্বাদন করতে পারি বিনম্র চিত্তে কিন্তু অসম্পূর্ণভাবে।”
– Albert Einstein, 1947, from Banesh Hoffmann, Albert Einstein: Creator and Rebel, New York: New American Library, 1972, p. 95.

🎗 “আমি বিশ্বাস করি না যে ঈশ্বর মহাবিশ্ব নিয়ে পাশা খেলেন।”
– Albert Einstein on Quantum Mechanics, published in London Observer, April 5, 1964

🎗 “কেন আপনি ভাবছেন যে ‘ঈশ্বর ইংরেজদের শাস্তি দেবেন’ –এই ধারণা আমি সমর্থন করব? আমার ঈশ্বর কিংবা ইংরেজ – এ দু’জনের কারও সাথেই কোন সম্পর্ক নেই। আমার শুধু খারাপ লাগে এ কথা ভেবে যে, ঈশ্বর তার অগনিত সন্তানদের ইচ্ছেমত শাস্তি দিতে পারেন তাদের নির্বুদ্ধিতার জন্য, অথচ যে সব নির্বুদ্ধিতার মূল কারণ আসলে ঈশ্বর নিজে – একটা অযুহাতেই তিনি তা থেকে মুক্তি পেতে পারেন, আর তা হল তার অনস্তিত্ব।
– Albert Einstein, letter to Edgar Meyer, a Swiss colleague, January 2, 1915, from The Expanded Quotable Einstein, p. 201.

🎗 “যতই মানব সভ্যতা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ততই আমি খুব নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারছি যে, সত্যিকারের (মানবিক) ধর্মপরায়নতা কখনোই জীবন কিংবা মৃত্যুভয়ে ভীত থাকতে পারে না, অন্ধ বিশ্বাসে নিমজ্জিত থাকতে পারে না, বরং এটি যৌক্তিক জ্ঞানের পেছনে ধাবিত হবে।”
– Science, Philosophy and Religion, A 1934 Symposium, published by the Conference on Science, Philosophy and Religion in their Relation to the Democratic Way of Life, Inc., New York, 1941.

🎗 “আমি সে রকম ঈশ্বরের ধারনাকে মন থেকে মেনে নিতে পারি না যার ভিত্তি গড়ে উঠেছে মৃত্যু ভীতি থেকে কিংবা অন্ধবিশ্বাসের কাঁধে ভর করে”।
-Albert Einstein, from Einstein: The life and Times, p. 622.

🎗 “আমি স্পিনোজার ঈশ্বরে বিশ্বাসী যে ঈশ্বর মহাজাগতিক ছন্দে নিজেকে ধরা দেন, আর সেই ঈশ্বরে আমি বিশ্বাস রাখতে পারি না যে মানুষের কৃতকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।”
– Albert Einstein, following his wife’s advice in responding to Rabbi Herbert Goldstein of the International Synagogue in New York, who had sent Einstein a cablegram bluntly demanding “Do you believe in God?”

🎗 “কিছু কিছু ক্যাথলিক সংস্থার আচার-আচরণ ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। সারা পৃথিবীতে যখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যা পৃথিবীর শান্তি বিঘ্নিত করতে চলেছে, সেই অবস্থায়ও তারা জন্মনিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে চলেছে।”
– Albert Einstein, letter, 1954

🎗 “আমি মানুষের অমরত্বে বিশ্বাসী নই। আমি মনে করি নৈতিকতা মানুষের জন্য ভাল কিন্তু এটা ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো অতিপ্রাকৃতিক শক্তির কল্পনা করার প্রয়োজন নেই।”
– Albert Einstein, letter to a Baptist Pastor, from Albert Einstein: The Human Side, edited by Helen Dukas and Banesh Hoffman, Princeton University Press

🎗 “বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তি হচ্ছে প্রাকৃতিক নিয়মকানুনের সাহায্যে সবকিছুর ব্যাখ্যা দেয়া। কাজেই এটি কার্যকারণের সাথে যুক্ত। সে কারণে, একজন বৈজ্ঞানিক গবেষক বিশ্বাস করেন না যে প্রার্থনার মাধ্যমে কোন কিছু প্রভাবিত হয়, কিংবা কোন অলৌকিক সত্ত্বার ইচ্ছা-অনিচ্ছায় কিছু ঘটে।”
– Albert Einstein in response to a child who had written him in 1936 and asked if scientists pray; from Albert Einstein: The Human Side, edited by Helen Dukas and Banesh Hoffman, Princeton University Press, p 32.

🎗 “মানুষের নৈতিকতার জন্য তো ধর্মের কোনো দরকারই নেই, দরকার মানবিকতা, সহমর্মিতা, শিক্ষা আর সামাজিকতার। মানুষ যদি পরকালের শাস্তির কথা ভেবে নৈতিক হয়, সেই নৈতিকতার মধ্যে মহত্ত্ব কোথায় থাকে?”
– Albert Einstein, Religion and Science, New York Times Magazine, 9 November 1930

✍️ অভিষেক দে

01/05/2023

মানুষের একজোড়া ক্রোমোজোম কোথায় হারিয়ে গেল?

আমরা জানি, শিম্পাঞ্জি, গরিলা, বেবুন, ওরাংওটাং, মানুষ এদের সবার একজন সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিল, যার থেকে বিভিন্ন সময়ে বিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন বানর প্রজাতির সৃষ্টি হয়েছে কোটি কোটি বছর ধরে। শিম্পাঞ্জি আর মানুষ আলাদা হয়ে যায় ষাট লক্ষ বছর আগে। এই বিবর্তনের পাথুরে প্রমাণ হল, শিম্পাঞ্জি আর মানুষের ডিএনএ ক্রম ৯৯% হবহু এক।
কিন্তু ৯৯% জিনোমক্রম হবহু মিলে গেলেও, মানুষের সাথে কিন্তু শিম্পাঞ্জি, গরিলা, বেবুন, ওরাংওটাং এদের ক্রোমোজোম সংখ্যার কিন্তু পার্থক্য আছে। মানুষের আছে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম, আর এসব বানর প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৪ জোড়া।
এবার যাঁরা বিবর্তনে বিশ্বাস করেননা, তাঁরা হইহই করে উঠবেন, বানরের বিবর্তনেই যদি মানুষের সৃষ্টি, তবে একজোড়া ক্রোমোজোম গেল কোথায়? এজন্য বলি বিবর্তন ভুয়ো।
সত্যিই তো! “পক্ষীরাজ যদি হবে, তাহলে ন্যাজ নেই কেন”? কিন্তু এখানেই মজা বিবর্তনের আর আণবিক জীববিদ্যার। বিবর্তনের কোন এক বাঁকে মানুষের ক্ষেত্রে দুটো ক্রোমোজোম জুড়ে গিয়েছিল। আমাদের ২ নম্বর ক্রোমোজোমটি হল সেই জোড়া ক্রোমোজোম। এবার ইহা যে সত্য, তার প্রমাণ কি? প্রমাণ ছাড়া কি বিজ্ঞান হয়? হয়না! তাহলে দেখা যাক কি ভাবে এই জুড়ে যাবার প্রমাণ পাওয়া গেল।
ক্রোমোজোমের থাকে সেন্ট্রমিয়ার (Centromere) বলে একটি অংশ, যা কোষ বিভাজনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। আর ক্রোমোজোমের দুপ্রান্তে থাকে টুপির মত টেলোমিয়ার (Telomere) অংশ।
এবার দুটি ক্রোমোজোম জুড়লে দুপ্রান্তের টোলোমিয়ার নিশ্চয় মাঝে দেখা যাবে, আর একটার জায়গায় দুটো সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চল। তাইতো?
আমাদের ক্রমোজোম ২ এ কিন্তু ঠিক তাই থাকে। ক্রোমোজোমের দুপ্রান্তের সাথে মাঝেও থাকে টেলোমিয়ার অঞ্চল, আর থাকে দুটি সেন্ট্রমিয়ার অঞ্চল। এই দুটির মধ্যে একটি অবশ্য নিষ্ক্রিয়। প্রদত্ত ছবিতে দেখুন, আরও স্পষ্ট হবে ব্যাপারটা।
তাহলে প্রমাণিত হল, মানুষের ক্ষেত্রে আদি বানরের দুটো ক্রোমোজোম জুড়ে গিয়েছিল বলে মানুষের ক্রোমোজোম এক জোড়া কম।
আর এভাবেই আরেকবার প্রমাণ হল, শিম্পাঞ্জি বা অন্যান্য বানরেরা ও মানুষ একই আদিম বানর পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে।

**- নির্মাল্য দাশগুপ্ত**

বিঃদ্রঃ- এসব বহুল প্রচারিত সাধারণ তথ্য। তাই আর নির্দিষ্ট কোন সূত্র দিলামনা। বিস্তারিত জানতে গুগলে “chimpamzee 24 chromosomes” বা “chromosome 2 mystry” search দিলেই অনেক নির্ভরযোগ্য সূত্র পাবেন।

18/04/2023

কালাপানি

ব্রিটিশ সভ্যতা ও ভারতীয় নারী
_----------------------------++-+++++++

সময়ের হলদেটে ছোপ পড়েছে ছবিটির উপর। আরো ধূসর লাগে ঘামে ভেজা -ধূলো ময়লা বসে যাওয়া গাত্রত্বকের মালিন্য।
কিন্তু ছবি যে সবসময় সত্যি কথা বলেনা ! যিনি ছবি তোলেন তিনি বড়জোর মানুষটির ছবিই তোলেন --- ছবির মানুষটি কে কতটুকু পাওয়া যায় তার মাঝে !
****
ছবিটির একেবারে বাঁদিকে যিনি -- কত বয়েস হবে বলুন তো ? মনে তো হয় আশির কাছাকাছি। অনেকটা যেন সুকুমার রায়ের আঁকা "বুড়ির বাড়ি "-র প্রধান চরিত্রটি। নাম... ধরুন ' অম্রুতা মাঈ '।
গম্ভীর মুখে মেয়ে-নাতনিদের সাথে বসে আছেন --তবে মাথার ওই ব্যান্ডেজের পট্টিটা কেমন যেন বেমানান !

জানেন কি কান্ড বাঁধিয়েছিল ওই বুড়ি ?
কত্তোদিন আগের ঘটনা -- সেই ১৮৫৩ সালের শেষদিকের। বুড়িমার দেশগাঁও ছিল বিহারের আরা মহকুমায়।সেবার ফসল ভাল হয়নি --ফসল মানে নীল চাষ। কুঠির গোরা সেপাইরা এসে ঘরে ঘরে চালাচ্ছিল লাঠি আর চাবুক। বুট পড়া পা দিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল ঠাকুরের পট আর লক্ষ্মীর ঘট। পুরুষরা পালাল না-মর্দের মতো....মেয়েগুলো রইল আকুতি আর কান্না নিয়ে। আর ছিলেন মাঈ -- কাঠ চেরানোর দা-খানা নিয়ে ! দুই গোরার দুখানা পা -- ধানের গোলায় লাথিমারার জন্য আর সংসারের পোষা পল্টন-কুকুরটার মাথাঁ ছেঁচে দেবার জন্য -- আরেক আধবুড়ো গোরা- পল্টনের বারো-আনা গর্দান -- আলাদা হয়েছিল। তারপর বহুদিন সেই অঞ্চলে নীলকুঠীর সেপাই পা রাখেনি.... যদিও অম্রুতা মাঈ তার পরের দিনই কলকাতার আলিপুর জেলে চালান হয়ে যান -- Dangerous Female Criminal এর মণিহার পরে ।
****

বুড়ির মাথার পিছনে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন --তাকে দেখুন। মাথায় ঘোমটা... তাকানোয় জড়তা নেই... সপ্রতিভ, সুশ্রী ।
" দেবী "।

কাশীর কাছেই পরতাপগড় - সেখানেই ছিল দেবীর সশুরাল। স্বামী ইংরেজদের সেপাই -- সম্পন্ন ঘর-গেরস্থালি। দেবী খানিক লেখাপড়াও করেছে -- সংস্কৃত...গণিত... একটু ইংরেজিও।
দুই মেয়ে, এক ছেলের মা। বয়স হয়ত ছাব্বিশ সাতাশ।
ঘরে ডাকাত পড়ল -- ১৮৫৫ সালের এক শীতের রাতে।
সোনা-রূপো-কোম্পানির কাগজ তো গেলই.... কিশোরী কন্যার সামনে লুণ্ঠিত হলো নিজে -- ধারাবাহিক ভাবে।
বেরিয়ে যাবার সময়, দেবীর পুঁথি-সেলেটের পুঁটুলিখানা যখন সর্দার ডাকাত লাথি মেরে উনোনের পেটের ভিতর সেঁধিয়ে দিতে উদ্যত -- বিস্রস্ত বিবস্ত্র মা-টি
দু হাতের, মনের আর মননের সব শক্তি জড় করে, সেই তোলা উনুনটি উপুড় করে দিল লুটেরার ওপর -- আর বে-আব্রু বেরিয়ে এসে ঘরটি বন্ধ করে দিল বাইরে থেকে। সবক'টা অমানুষ পুড়ে মরেছিল সে রাতে।
দগ্ধে নয়, মাথা উঁচু করে দেবী এসেছিল আলিপুরের "জেনানা ফটকে "।
****

বুড়ি মাঈ-য়ের বাঁ-পাশের মেয়েটি। কালোকুলো, মাথাভরা চুলের মাঝে মোটা সিঁথি কাটা। চেহারায় অঞ্চলপ্রাধান্য স্পষ্ট।
সাঁওতাল পরগণার গণ্যমান্য ' ক্রিমিনাল ' --- "মানুয়া "! জেলের খাতায় সাহেবরা পরিচয় করিয়েছেন এভাবেই।
কি করেছিলেন উনি ?
আরো দুটি বান্ধবীর সাথে জঙ্গল থেকে মধু-কাঠ ইত্যাদি নিয়ে ঘরমুখো হয়েছিল এক বিকেলে। সামনে পড়ে গেছিল তহশিলদারের ব্যাটা আর তার বন্ধু দু-তিনটে ফিরিঙ্গি ইয়ারবকশি। বিদেশী কুকুর ছিল একটা। মজা দেখার জন্য ছেড়ে দিয়েছিল সেটা। তাদের জানার কথা নয় --- মানুয়াদের নিজস্ব সারমেয়কূল ছিল নেকড়ের মতো ভয়ংকর আর পায়ে পায়েই ফিরতো তারা।
একটি মাত্র ইশারায় চামড়ার সাদা-কালো ঘুচিয়ে দিয়ে সাম্যের লাল রঙ প্রকটিত হল। দুজন সেখানেই প্রাণহীন প'রে রইল.... তৃতীয়টি ব্যারাক পর্যন্ত টিকেছিল।
মানুয়া নিজেই ধরা দিয়েছিল --তিনটি সাহেব খুনের সাংঘাতিক আসামী হয়ে।
নাহ, মানুষী আর সারমেয় বন্ধুদের কথা সে সাজা লাঘবের জন্যও কাউকে বলেনি।

*****
তখনকার দিনের ধারার বিপরীতে ভারি আধুনিক নাম ছিল দুই বোনের -- সুপ্রিয়া আর সোমিয়া। বাবা নাকি পাটনার কাছে কোন সংস্কৃত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। মেয়েরা স্বাক্ষর তো বটেই, কালিদাস -ভতৃহরি-পানিনিতেও অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতো না। দুই বোনের বিয়েও হয়েছিল একই পরিবারে। গোমতীর ধার ঘেঁসে গ্রাম। বর্ষার রুদ্ররোষ ছাড়া সখীর মতো তার বয়ে যাওয়া।
তখন দানিপুরে ( এখনকার দানাপুর) ছিল বিরাট সেনা ছাউনি। গোরা পল্টন মাঝে মাঝেই নৌকো নিয়ে গোমতী বেয়ে চলে আসে সেই গ্রামে। মাছ, ভুট্টা, তরমুজ আর অল্পবয়সী
বৌ-ঝিদের নৌকো বোঝাই করে নিয়ে চলে যেত। প্রতিবাদ করলে ধানের গোলায় আগুন লাগতো, পুরুষগুলোর ঠিকানা হতো গুমঘর।
মানুষ গুলো অপেক্ষা করতো কোন না দেখা "দেওতা - ফরিস্তার" --- যে এসে গোরাদের মেরে ফেলবে...গ্রামে শান্তি ফেরাবে। সে আসে নি... আসবেও না হয়ত।
আরো একদিন পল্টনরা এলো। পাড়ে নেমে শুরু করলো শস্য আর নারী লুন্ঠন। দুই বোন --সুপ্রিয়া আর সমিয়া -- সেদিন ঠিক করেই রেখেছিল কি করতে হবে।
ডুব সাঁতারে নৌকোর তলায় পৌঁছে ভুট্টা-মকাই পেষা হাতে বড়সড় ফুটো করল দ্রুত... যতটা নি:শব্দে সম্ভব।
একসাথে বারোজন গোরা ডুবে মরেছিল সেই শেষ বিকেলে -- তার মধ্যে ছিল অতি অভিজ্ঞ তিন গোলন্দাজ।
লুঠ হওয়া চারটি মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে ধরা পড়ল দুই বোন।
পঞ্চাশ টাকা ইনাম পেয়েছিল গ্রামের দুই প্রৌঢ় ।
সে বোধহয় ১৮৮৪ সালের গ্রীষ্মকাল।
ওই যে তাঁরা -- একজনের হাত ধরে রেখেছে অপরজন।

****
জেল-দস্তাবেজের ধূলো ঘেঁটে যা জানা যায়, সেই ১৮৫০ -৫৫ সালেও আলিপুর জেলে কিছু মহিলা-বন্দী ছিলেন --- সাকুল্যে পঞ্চাশ-ষাট জন তো বটেই। তবে তারা প্রায় সবাই ছিলেন যাকে বলে "পেটি কেসের (Petty & Paltry Cases) চালান "। চুরি- দেহজীবিকা- চোলাই পাচার - শিশুচালান... এই সব আর কি!
কিন্তু আমাদের এই পঞ্চকন্যা ছিলেন অনন্যা। তাদের নামের পাশে বড় বড় করে লেখা থাকতো একটি কথাই -- সাহেব খুনের আসামী ( Killed Europeans ) ।
তার থেকে বড় অপরাধ তখন আর কিচ্ছু হতে পারতো না।
তাদের রাখা হতো আলাদা করে...কড়া পাহারায়। অত্যাচারের মাত্রা পুরুষ কয়েদীদের থেকে বিশেষ কম হতো না। মেয়ে ওয়ার্ডেন থাকলেও, মারধর করার জন্য পুরুষ সেপাই-সান্ত্রীই মজুত থাকতো --আদিমতম কারণেই।
তবে এদের সম্মান-খাতিরও ছিল। এমনকি পুরুষ বন্দীরা নাকি প্রণামও করতো!
****

এবার আসি ছবিটার কথায়।
কাগজ ঘেঁটে জানা গেল, ROBERT SCHLAGINTWEIT নামের একজন ইউরোপিয়ান ফোটোগ্রাফার সেই সময় ভারতের বিভিন্ন জেলের (এবং আবাসিকদের) ছবি তুলেছিলেন।
আলিপুর জেলের ভিতরের কিছু ছবি উনি তোলেন ১৮৫৬ সালে।
ছবিটির পিছনে উনি নোট দিয়েছেন : Bengali Hindoo Women Prisoners in Alipore Jail, 1856. :

সাহেব হলেই যে সর্বজ্ঞ হবে, তার কোন মানে নেই। যেমন কারণ নেই এদের Bengali ধরে নেওয়ার। হিন্দু হলেও বাঙ্গালি নয় --একথা বুঝতে Indian Penal Code মুখস্থ করতে হয়না।
****

আচ্ছা পাঠক, আপনার মনে প্রশ্ন ওঠেনি -- ছবিতে আশি বছরের অম্রুতা মাঈ য়ের মাথায় ব্যান্ডেজ কেন?
বলি সেকথা।
লাল লংকা পিষে মশলা বানাচ্ছিল বালা আর তেলপিয়া নামের দুটি মেয়ে কয়েদী। মাঈ লংকাগুঁড়ো সরিয়ে রাখছিলেন সাথে সাথে।
হঠাৎ, দুটি ছোকরা ফিরিঙ্গী সেপাই এসে মেয়ে দুটির শারীরিক নিগ্রহ শুরু করলো। আপত্তি করায় কপালে জুটলো বেদম চাবুকের মার।
অম্রুতা মাঈ ধীরপায়ে এগিয়ে এসে বেশ খানিকটা লংকার গুঁড়ো ছিটিয়ে দিল একটার চোখে। আরেকটার ব্যাটনের এক ঘায়ে মাথা দুফাঁক হয়েছিল। কিন্তু দুই বেটিকে বুঝিয়ে দিতে ভুল হয়নি... এবার মারণ কামড় টা দিতে হবে।
জাঁতার দুটো পাথর ছ'খানা হাতের জোরের কাছে পেরে ওঠেনি.... লংকার বদলে গোরা সেপাইয়ের মাথা চূর্ণীত হয়েছিল। এই ছবি তোলার কয়েকদিন মাত্র আগের ঘটনা তো ... হয়তো ব্যান্ডেজের রক্ত শুকোয়নি তখনো বুড়ির !

আসলে, তখন মেয়ে কয়েদীদের ফাঁসি দিতে হলে রাজা - রাণীর অনুমতি লাগতো.... সে ছিল বিরাট হ্যাপা ! তাছাড়া আলীপুর জেলে তখনো মেয়েদের ফাঁসী দেবার বন্দোবস্তও ছিলনা।
নাহলে.... এদের যে এতোদিন বাঁচিয়ে রাখা হত না --- তাইতে সাহেব গবেষকরাও নিশ্চিত ছিলেন।
*****
এভাবেই যাপিত হচ্ছিল ছবির মানুষগুলির জীবন।
তার মধ্যেই হঠাৎ ১৮৫৭ সালের ১০ ই মে, মেরাঠে শুরু হয়ে গেল সিপাহি বিদ্রোহ।
পরের দিনগুলোর কথা অনেক বলা হয়েছে... অনেক শোনাও।
আমরা চলে যাই ১৮৫৮ সালে।
উত্তর প্রদেশ, বিহার, ওড়িশা আর বঙ্গদেশের আবাধ্য সেপাইদের রাখার মতো কারাগার কম পড়ে যাওয়ায়, ঠিক হয়েছিল দুর্গম সাগরের মাঝের আন্দামান দ্বীপে চালান করা হবে। বন্দীদের মাঝে যারা অতি দুর্দমনীয়, এই কালাপানি পারের প্রথম কিস্তিতে যাবে তারাই।

মার্চ মাসের একটি ঝকঝকে সকালে প্লুটো নামের এক বিশাল জাহাজে ( এটি আগে একবার আন্দামান থেকে ঘুরেও এসেছে) সেপাই-সান্ত্রী-ডাক্তার - পাদ্রী - অত্যাচারের বিবিধ উপচার -- ফাঁসি কাঠ, দড়ি সহ ফাঁসুড়ে আর ১৭০ জন কয়েদী রওয়ানা হলো।

তার মধ্যে পাওয়া গেছে এই সাতজন মহিলা কয়েদীর নামও।

*****
এইখানে একটা ধন্দ আছে। এই ছবিটিকে আবার এক-দুজন বৃটিশ জেল বিশারদ বলেছেন -- আন্দামানে পাঠানো প্রথম পাঁচজন মহিলা কয়েদীর ছবি -- তোলাও হয়েছে রস আইল্যান্ডে।
প্রথম মহিলা কয়েদীর শিরোপা জুটেছে তো বটেই, তবে ছবিটি যে ওখানকার পান্ডব বর্জিত পটভূমিকায় তোলা নয়, তা তো সুস্পষ্ট।
****
রস আয়ল্যান্ডের দীপান্তর কারাগারে মেয়েদের প্রথমেই ন্যাড়া করে শিকলে বেঁধে রাখা হতো। অত্যাচারের কুড়ি বছর ভালভাবে --ভদ্রভাবে কাটালে মিলতো সংসার করার অনুমতি। সেখানেই.... দেশে ফিরে নয়।
কে ফিরেছে, কে নয় --- জেলের খাতায় তার হিসেব ইচ্ছাকৃত ভাবেই রাখা হত না ।

*****
নাহ, তাদের আর কোন খবর পাওয়া যায় না।
শুধু এটুকু জানা যায়, প্রথম দু বছরের মধ্যে সাতাশ জনের ফাঁসি হয় --- তার মধ্যে তিন জন মহিলা।

কোন তিন জন ? মহাকাল জানলেও, তাদের নামটি সিন্দুকের বাইরে আনেন নি।

*****
রস আইল্যান্ডের সেই ভাঙ্গা জেলখানাটি এখন হাঁটুগেঁড়ে ক্ষমাপ্রার্থীর মতো বসে পড়েছে যেন। পাহাড় চূড়োর সেই ফাঁসিঘরের ইঁটপাথরে নাকি পাখিরা বাসা বেঁধেছে --- ওখানকার লেকেরা বলে ' তারা পাখি '! কুচকুচে কালো, উজ্জ্বল চোখের চঞ্চল চাউনি.... পাঁচটা, সাতটা পাখি সন্ধ্যে হওয়ার মুখে আলো আঁধারিয়ায় উড়ে এসে বসে বিষাদ মঞ্চের ওপর --- সাতটি তারার তিমির যেন অনন্ত স্পর্ধার ছবি আঁকে।

****
ছবিটির কোথাও ROBERT SCHLAGINTWEIT সাহেব লিখে রাখেননি কে কোন জন।
আমার মন তাদের নামের ছাঁচে বসিয়ে নিয়েছে।
যেভাবে, " বালা " আর "তালপিয়া" কে বসাতেই পারেনি কোথাও.... ছবির মহিলারা যে সংখ্যায় মাত্র পাঁচ জন !

তা বলে কি তারা ছিলেন না ?
আমাদের এই নিরুত্তাপ মেরুদণ্ড হীন বেঁচে থাকা নিয়ে ওই জ্বলন্ত চোখগুলোর দিকে তাকিয়ে বলুন তো একবার -- তোমরা মিথ্যে !

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের টাইমলাইন থেকে।
সংগৃহীত পোস্ট

10/09/2022

আমাদের রানী

18/08/2022

তসলিমা নাসরিন

ছেলেদের জ্বালায় জিমে ঢোকা যায় না, মেশিনই খালি পাওয়া যায় না। ইয়াং ইয়াং ছেলে,২২ /২৩ বা বড়জোর ২৪/২৫ বছর বয়স, পাগলের মতো ব্যায়াম করছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে পড়ে থাকছে। সিক্স প্যাকের নেশায় পেয়েছে এদের। শরীরে এক ফোঁটা চর্বি নেই, কোনও অসুখ বিসুখ নেই, কিন্তু মাসল বানাবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শক্ত শক্ত ফোলা ফোলা মাসল দ্যাখে আর আনন্দ পায়। পারলে ২৪ ঘণ্টা এরা পড়ে থাকে জিমে। যে বয়সটায় বই পড়বে, ভ্রমণ করবে,সমাজের নানা বিষয়ে আলোচনা করবে, শিল্প, সাহিত্য, নাটক সিনেমা, বিজ্ঞান, রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, নারীবাদ, সাম্যবাদ, পুঁজিবাদ, ইতিহাস ভুগোল, অধিকার আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে মেতে থাকবে, সেই বয়সটা জিমে শেষ করছে। ফিল্মের নায়কদের ছবি দ্যাখে, আর স্বপ্ন দ্যাখে ওদের মতো শরীর বানানোর। নায়কগুলো অভিনয়ের অ-ও জানে না, তাই মাসলই তাদের ভরসা।

আর এই প্রজন্মেরও মনে হচ্ছে যুক্তিবুদ্ধির য-ও মাথায় নেই, মাসলই ভরসা। কুসংস্কারে আচ্ছন্ন, কিন্তু চমৎকার শরীর চাই। জিম ভালো জিনিস। ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকে। কিন্তু তার জন্য একট বয়স আছে। তার জন্য একটা সময়ও আছে। শরীর শরীর শরীর। আগে ভাবতাম,সমাজের ডিমান্ডটা মেয়েদের কাছেই, শরীরের মাপ ঠিক এই হওয়া চাই, আনাচে কানাচেও মেদ থাকলে চলবে না, গায়ের রঙ এমন চাই, চুল চোখ তেমন চাই, তা না হলে প্রেমের বাজার, বিয়ের বাজার,চাকরির বাজার, ফ্যাশনের বাজার,পার্টিফার্টির বাজার একেবারেই মন্দা। ভাবতাম মেয়েরাই বুঝি শরীর নিয়ে অবসেসড। এখন দেখছি ছেলেরাই বেশি। আজকাল তো পারলারেও ছেলেরা ম্যানিকিওর পেডিকিওর, ফেসিয়াল ইত্যাদি করতে ঢুকছে। পারলারেও বোধহয় একসময় জিমের মতো ছেলেদের ভিড়ই বেশি হবে। পারলারেও হয়তো ছেলেদের জ্বালায় ঢোকা যাবে না। সব চেয়ারগুলো ওরাই দখল করে বসে থাকবে।

মেয়েদের ব্যায়াম, মেয়েদের সাজগোজ সবই ছেলেরা দখল করে নিচ্ছে। সংসারে মেয়েদের কিচেনটা কবে দখল করবে? ঘর দোর সাফ করার, বাচ্চা কাচ্চা লালন করার কাজটা কবে দখল করবে? ওগুলো দখল করলে তো একটা কাজের কাজ হয়।

Want your school to be the top-listed School/college in KOLKATA?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


421A, Rabindra Sarani
Kolkata
700005