13/12/2025
পন্ডিত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গীত এর গবেষণা যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আমি সকলের স্যাথে share করলাম।
১. আমরা আসলে “সা রে গা মা…” চর্চা করি না—
চর্চা করি স্বরের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব (Interval) চেনা।
একটা স্বরের থেকে অন্য স্বরের দূরত্ব , এই আন্দাজের অভ্যাস। অর্থাৎ মূল স্বর ( অর্থাৎ সা ) যেখানেই থাকুক তার পরিপ্রেক্ষিতে অন্য স্বরগুলির অবস্থান-আন্দাজ শেখাটাই আসল কাজ।
প্রকৃত সত্য
মানুষ স্বর মুখস্থ করে না, বরং
স্বরগুলোর মধ্যে যেটুকু দূরত্ব—সেই interval-কে ব্রেন শেখে, সংরক্ষণ করে এবং memory retrieve করে।
কেন? (Neuroscience ভিত্তিতে)
Auditory cortex কেবল একটি স্বর শোনে না—
দুই স্বরের মধ্যে frequency difference (Δf) হিসেব করে।
Pitch perception মূলত ratio-based (২:১ অক্টেভ, ৯:৮ রে, ৫:৪ গা ইত্যাদি)।
এই অনুপাতগুলো cochlea ও auditory cortex-এ harmonic alignment তৈরি করে।
ফলে নির্দিষ্ট Hz নয়, পারস্পরিক সম্পর্ক (relative pitch)-ই সুরবোধের আসল ভিত্তি।
অর্থাৎ, ব্রেন absolute note শোনে না—
সে শোনে movement:
কতটা উপর উঠলাম
কতটা নিচে নামলাম
কোন দিকে যাওয়া হলো
এক্ষেত্রে ,
Δf (ডেল্টা f) মানে হলো frequency deviation —
অর্থাৎ একটি রেফারেন্স ফ্রিকোয়েন্সি (f₀) থেকে বাস্তব ফ্রিকোয়েন্সির পার্থক্য।
সংক্ষেপে:
Delta f = f_{{actual}} - f_{{reference}}
সংগীতের প্রেক্ষিতে:
Δf যত কম → স্বর তত accurate
Δf বেশি → স্বর off-pitch
সাধারণত ±10–15 cents-এর মধ্যে থাকলে ব্রেন সেটাকে সঠিক সুর হিসেবে গ্রহণ করে (resonance window)
এই Δf-ই আসলে বলে দেয়—স্বর “ঠিক” না “ভ্রান্ত”।
সেই অনুযায়ী স্বর থেকে সুরের জন্ম।
“আমরা সা-রে-গা চর্চা করি না; আমরা distance between notes এর আন্দাজ অভ্যাস করি।”
২. ১২ টি স্বরই সর্বত্র আছে—তফাৎ হলো ‘পরিমাণ’-এর
ভারতীয় সঙ্গীতে—
ভারতীয় সংগীতে যে কোনো রাগেই,
৭, ৬, ৫টি প্রধান স্বর
বাকিগুলি “উপস্থিত কিন্তু গোপনে”
অর্থাৎ, ১২ স্বরই সর্বদা ব্রেনে activate থাকে, কারণ auditory cortex পুরো scale-space টা ধরে।
রাগের কাজ
রাগ আসলে এই ১২ স্বরের একটি বিশেষ “pattern of weightage”।
যেখানে—
কিছু স্বর গুরুত্ব পায় (বাদী সম্বাদী )
কিছু স্বর স্বাভাবিক
এবং বাকিগুলোকে touch note (kan, sparsha) হিসেবে ব্রেন ব্যবহার করে।
কেন touch note জরুরি?
Touch note হল “neuronal glue”—
এরা শ্রুতি-সীমার microscopic movement দিয়ে রাগের continuity, fluidity এবং emotion তৈরি করে।
Touch note হলো এক ধরনের “neuronal glue”—
এটি প্রধান স্বরগুলোর মাঝে auditory continuity তৈরি করে।
মস্তিষ্কে এটি prediction–correction loop মসৃণ রাখে, ফলে স্বরান্তর স্বাভাবিক শোনায়।
Touch note না থাকলে সুর ভাঙা লাগে, কারণ neural binding দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩. শ্রুতি আসলে ‘সংযোগ’ তৈরি করে—রাগের রঙ সৃষ্টি করে
Shruti হলো স্বর দুইটির মধ্যে microscopic deviation—
ঠিক +/- 15 cent–এর মধ্যে, যেটা resonance window বলে চিহ্নিত করা হয়েছে ।
Shruti কী করে?
1. Touch note ও মূল স্বরকে যুক্ত করে
2. রাগের movement smooth করে
3. Emotion তৈরি করে (limbic tuning)
4. Arytenoid-কে micro-adjustment signal পাঠায়
অর্থাৎ, শ্রুতি তৈরি করে…
“Continuum of sound”—যে ধারার উপর রাগ দাঁড়ায়।
৪. স্বরধারণা যতটা অনুভূতির, ঠিক ততটাই Arytenoid-এর biomechanics
অনুভূতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই arytenoid এর proper use গুরুত্বপূর্ণ।
কেন?
৪.১ অনুভূতি (Emotion / Limbic System)
স্বরের ভাব—
উদয়
দোলন
আকর্ষন
…এসব limbic activation এর ফলে “felt pitch” তৈরি করে।
৪.২ Arytenoid-এর ভূমিকা
Arytenoid মাইক্রো–controller:
tension adjust করে
airflow gate করে
pitch movement smooth করে
shruti-level glide তৈরি করে
যদি arytenoid ১% ভুল করে → pitch 10–15 cent miss করবে।
গবেষণায় দেখা গেছে—
তান তৈরি হয় ভোকাল কর্ডের ঠিক বাইরের মাসলের উল্লেখযোগ্য micro-blocking দ্বারা, vocal fold নয়।
৫. সারসংক্ষেপ
আমরা ‘সা রে গা মা’ শিখি না—
আমরা শিখি স্বরগুলির মধ্যে পরিমাণগত দূরত্ব (Interval Perception)।
মোট ১২টি স্বর সব সময় ব্রেনের ভিতর থাকে।
রাগ তাদের মধ্যে বিশেষ কিছু স্বরকে ওজন দেয়,
কিছু স্বর থাকে স্বাভাবিক প্রকাশে ,
আর বাকি স্বররা touch note হিসেবে যুক্ত হয়
শ্রুতির মাধ্যমে।
শ্রুতি হলো স্বরের সংযোগ।
এটি রাগের রঙ তৈরি করে
এবং Arytenoid-কে micro-control নির্দেশ দেয়।
সুতরাং, স্বরধারণা হলো অনুভূতি + বায়োমেকানিক্স—
অর্থাৎ limbic emotion + arytenoid precision
লেখক : শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়