Praktani Ariadaha Kalachand High School

Praktani Ariadaha Kalachand High School

Share

Welcome to PRAKTANI-Ariadaha Kalachand High School official page. Website : www.ariadahakalachandpraktani.org The permission was granted.

Journey Through Time

Although the school was established in 1884 and has already made a sojourn of 128 years, PRAKTANI is comparatively young in age. Ex-students of the school had always desired to sip in the cup of sweet memories of their school days and nurture an emotional feeling of their companionship with the class mates as well as fond interactions with their esteemed teachers all through

22/12/2025
15/09/2025

⭕জাপানে কোনো শিক্ষক দিবস নেই।
একদিন, আমি আমার জাপানি সহকর্মী, শিক্ষক ইয়ামামোতাকে জিজ্ঞাসা করলাম:
- আপনারা কিভাবে জাপানে শিক্ষক দিবস উদযাপন করেন?
আমার প্রশ্নে অবাক হয়ে তিনি উত্তর দিলেন:
- আমাদের শিক্ষক দিবস নেই।
আমি যখন তার উত্তর শুনেছিলাম, তখন আমি বুঝতে পারছিলাম না যে আমি তাকে বিশ্বাস করব কি না। আমার মাথায় একটা চিন্তা আসলো: "যে দেশ অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এত উন্নত, শিক্ষক এবং শিক্ষকতার প্রতি এত অসম্মান কেন?"
***
⭕একবার, কাজ শেষে, ইয়ামামোতা আমাকে তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। আমরা মেট্রো নিলাম যেহেতু তাঁর বাড়ি অনেক দূরে। সন্ধ্যার পিক আওয়ার ছিল, এবং মেট্রো ট্রেনের ওয়াগনগুলিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আমি ওভারহেড রেলকে শক্ত করে ধরে দাঁড়ানোর জায়গা খুঁজে বের করতে পেরেছিলাম। হঠাৎ, আমার পাশে বসা বয়স্ক লোকটি আমাকে তাঁর আসন গ্রহণ করার প্রস্তাব দিলেন। একজন বয়স্ক লোকের এই সম্মানজনক আচরণ বুঝতে না পেরে আমি প্রত্যাখ্যান করলাম, কিন্তু তিনি অনড় ছিলেন এবং আমি বসতে বাধ্য হলাম। আমরা যখন মেট্রো থেকে বের হয়েছিলাম, তখন আমি ইয়ামামোতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে সাদা দাড়ি বৃদ্ধ লোকটি ঠিক কী করেছে। ইয়ামামোতা হেসে আমার পরা শিক্ষকের ট্যাগের দিকে ইশারা করে বললেন:
- এই বৃদ্ধ লোকটি আপনার গায়ে একজন শিক্ষকের ট্যাগ দেখেছে এবং আপনার মর্যাদার প্রতি সম্মানের প্রতীক হিসাবে আপনাকে তার আসন অফার করেছে।
যেহেতু আমি প্রথমবার ইয়ামামোতার বাড়িতে গিয়েছিলাম, তাই সেখানে খালি হাতে যেতে অস্বস্তি বোধ করছিলাম তাই আমি একটি উপহার কেনার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি ইয়ামামোতাকে একথা বলেছিলাম, তিনি বললেন যে একটু এগিয়ে শিক্ষকদের জন্য একটি দোকান রয়েছে, যেখানে কেউ কম দামে জিনিসপত্র কিনতে পারে। আবারও, আমি আমার আবেগ ধরে রাখতে পারিনি:
- সুযোগ-সুবিধা শুধুমাত্র শিক্ষকদের দেওয়া হয়? আমি জিজ্ঞাসা করলাম .
ইয়ামামোতা বললেন:
- জাপানে শিক্ষকতা সবচেয়ে সম্মানিত পেশা এবং শিক্ষক সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি। জাপানি উদ্যোক্তারা খুব খুশি হয় যখন শিক্ষকরা তাদের দোকানে আসেন, তারা এটাকে সম্মানজনক বলে মনে করেন।
***
⭕জাপানে থাকার সময়, আমি একাধিকবার শিক্ষকদের প্রতি জাপানিদের পরম শ্রদ্ধা লক্ষ্য করেছি। মেট্রোতে তাঁদের জন্য বিশেষ আসন বরাদ্দ রয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ দোকান রয়েছে, সেখানে শিক্ষকরা যে কোনও ধরণের পরিবহনের জন্য টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ান না। এই কারণেই জাপানি শিক্ষকদের শিক্ষক দিবস বলে একটি বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না, যখন তাঁদের জীবনের প্রতিটি দিন সম্মান প্রদর্শন করে উদযাপন করা হয়।

# সংগৃহীত #

18/02/2025

*শিলচরের দৈনিক গতি পত্রিকার জন্য আরণ্যক বসুর কলাম*

*মনে থাকবে থাকবে মনে*

*স্কুলের গন্ধ এখনও ছেড়ে যায়নি*

আর ভালো নেই ছোট্টবেলার স্কুলে,
সোঁদা গন্ধে নরম কবিতা শোনা ;
ভালো নেই তাই দরজার তালা খুলে,
মনে রাখবো না, কিছু মনে রাখবো না।

স্বনামধন্য নাট্য ব্যক্তিত্ব প্রয়াত অমল রায়, আমরা যাকে তপুদা বলে ডাকতাম (আসল নাম তপন দাস), যিনি আমাদের স্কুলের একজন বিশিষ্ট প্রাক্তন ছাত্র,সেই তিনি আমাদের স্কুলের "প্রাক্তনী"র একটি সম্মিলনীতে প্রিয় আড়িয়াদহ কালাচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয় সম্পর্কে স্মরণীয় মন্তব্য করেছিলেন; যা আমার কানে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শিউলির গন্ধের মত লেগে থাকবে। তিনি বলেছিলেন-- "আমরা স্কুলে পড়িনি ,স্কুলিং এ পড়েছি"। এটাই হয়তো আমাদের শতাব্দী প্রাচীন প্রিয় বিদ্যায়তন সম্পর্কে ঠিক মূল্যায়ন। গোটা জেলার অত্যন্ত গর্বের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সঠিক উক্তি। আমাদের এলাকায় অন্যান্য প্রতিটি স্কুলই নিজস্বতায় উজ্জ্বল, কিন্তু আমার এই প্রতিবেদনে রেখে যাচ্ছি নিজের সময়ে আমাদের স্কুল কেমন ছিল, সেই অনন্য নস্টালজিয়া।
বাংলা মিডিয়াম স্কুলের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে লেখাপড়া শেখানো, পরীক্ষা গ্রহণ, গ্রন্থাগার ও ল্যাবরেটরির সঠিক ব্যবহার, বেশ কিছু উচ্চ ও মধ্যমানের ছাত্র ছাত্রী তৈরি করা, এগুলো তো আছেই, আর পাঁচটা স্কুলে যেমন থাকে ; কিন্তু আমাদের স্কুলে যেটা ছিল বা আছে সেটা হলো,বিজ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতিচর্চার সুস্থ মেলবন্ধন। একদিকে যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা,অন্যদিকে সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতির শিকড়ের সন্ধানে গভীরে যাওয়া। একটি বিদ্যায়তনের শিক্ষণ বিভাগ, ফিজিক্স ,কেমিস্ট্রি, বায়োলজি ইত্যাদির ল্যাবরেটরি এবং একটি বর্ণময় গ্রন্থাগার; একটি মুক্ত মঞ্চ ও অডিটরিয়াম এবং মনীষীদের জন্মদিন পালন, আর জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের উল্লেখযোগ্য দিনগুলোকে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা। এই ঐতিহ্য আমাদের দুটি প্রিয় পল্লী আড়িয়াদহ- দক্ষিণেশ্বরকেই শুধু নয়, গোটা কামারহাটি মিউনিসিপালিটি এবং তার বাইরে থেকেও ছাত্রদের এই স্কুলের দিকে টেনে আনে। প্রিয় নাট্যকার অমল রায় চলে গেছেন,চলে গেছেন আমাদের সময়কার কিংবদন্তি শিক্ষকরা। কিন্তু একটা গ্রন্থাগারে যেমন মহাসাগরের শত শতাব্দীর কল্লোল লুকিয়ে থাকে, তেমনি আমাদের স্কুলের প্রতিটি ধূলিকণায় এই অনুভব ও আবেগ ছড়িয়ে আছে।
বর্তমানে কঠিন অসুখে অসুস্থ আমি। গত ১২ জানুয়ারি, ২০২৫, প্রিয় প্রাক্তনীর বার্ষিক সম্মিলনে ইচ্ছে থাকলেও যোগদান করতে পারিনি। ডাক্তারের বারণ ছিল। কিন্তু সারাদিন আমার চোখের জল আমি আটকাতে পারিনি। বারবার প্রাক্তনীর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে আপডেট দেখছিলাম। কেউ ছবি পোস্ট করলে দেখছিলাম,আমাদের ব্যাচের কারা কারা এসেছে। ফোন করে বন্ধুদের জানতে চাইছিলাম এবং প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেই, বাড়ি বসে কফি ও পকোড়ার সুগন্ধ, মধ্যাহ্ন ভোজনে
গরম ভাতের সুবাস প্রাণভরে উপভোগ করছিলাম। এবার সরস্বতী পুজোর দিন, মানে ২ রা ফেব্রুয়ারি দুপুরেই আমার হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল; পরের দিন কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি নিতে হবে বলে। তবুও, ক্লাস টু থেকে ইলেভেন পর্যন্ত একসঙ্গে পড়া দুই প্রিয় বন্ধু সুমিত ঘোষাল ও তরুণ ভট্টাচার্য সকাল নটার সময় টোটো নিয়ে হাজির আমাকে নিয়ে একটু ফাঁকা জায়গায় ঘুরে আসবে বলে। অনেকদিন বাদে বনহুগলি লেকের পাশে চায়ের দোকানের চিনি ছাড়া লিকার চা ও বিস্কুট খেলাম। তারপর ঠিক সময় ফিরে এসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। আসলে এই লেখাটা ২০২৪ এর মধ্যেই লেখা উচিত ছিল, কেননা গত বছরই ছিল আমাদের স্কুল ছেড়ে যাওয়ার পঞ্চাশতম বার্ষিকী। হ্যাঁ, আমরা ১৯৭৪ সালের হায়ার সেকেন্ডারি ব্যাচ। আমি মূলত বিজ্ঞান বিভাগের কথাই বলছি ,কিন্তু কলা বিভাগ ও বাণিজ্য বিভাগের প্রতিটি বন্ধুই তাদের শার্টের কালার ( তখনো আমাদের নিজস্ব স্কুল ড্রেস ছিল না),তাদের ভুরুর ভঙ্গি, তাদের হাসিমুখ, তাদের অভিমান , রাগ, ভালোবাসা-- সব কিছু নিয়ে আমার চোখের সামনে আজও সমানভাবে হাজির হয়। আশ্চর্য, তাই না ? ক্লাস ফোর পর্যন্ত এক সঙ্গে পড়বার পরে, যারা মুঠো মুঠো স্মৃতি রেখে বালিকা বিদ্যালয়ের দিকে চলে গেল, তাদের মেয়েবেলার মুখগুলোও মনে আছে ও থাকবে।

গত বছরের নভেম্বরের শুরুতে, গলব্লাডার অপারেশনের পর, আমি এই কঠিন অসুখের মধ্যে ঢুকে পড়ায় লেখাটা লিখতে দেরি হয়ে গেল। আসলে, এবার সরস্বতী পুজোর দিন আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে এসে , ইস্কুল জীবনের প্রায় ছোট্টবেলার বন্ধু সুমিত আর তরুণের ছলছলে চোখ দেখে আমার মনে হলো,এবার লেখাটা শেষ করা উচিত। কত ঘন্টা, কত মিনিট কত সেকেন্ড আর হাতে আছে তা তো জানি না, কাজেই•••
স্কুলের প্রাথমিক বিভাগে ১৯৬৪ সালে আমি ক্লাস টু'তে ভর্তি হয়েছিলাম। ঠিক দশ বছর বাদে, ১৯৭৪ সালে হায়ার সেকেন্ডারি পাস করে সমস্ত বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে গেলাম। মানে, ক্লাসের বন্ধুদের থেকে। মানে, ক্লাস টু থেকে ইলেভেন পর্যন্ত যাদের সাথে সংসার করেছি, গায়ে গায়ে লাগিয়ে বসে ক্লাস করেছি, পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করেছি ,খেলার মাঠে দাপিয়ে খেলেছি, স্কুলে ওয়াল ম্যাগাজিন বার করেছি, সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষক রথীনবাবুর নির্দেশে ক্লাস নাইন থেকে ইলেভেন পর্যন্ত হাতে লেখা পত্রিকা"অনির্বাণ"এর সম্পাদনা করেছি, তাদের থেকে হারিয়ে গেলাম ছড়ানো দুনিয়ায়।
ক্লাস নাইনে উঠে যাদের কলা বিভাগে, বাণিজ্য বিভাগে চলে যেত দেখলাম, আর আমরা থেকে গেলাম বিজ্ঞান বিভাগে এবং যাদের সঙ্গে শুধু ক্লাস নয়,তিন বছর ধরে ল্যাবেও মনোযোগ ও খুনসুটি একই সঙ্গে চলত ,বাইরের দুনিয়ায় এসে দেখলাম তাদের সঙ্গে আর প্রতিদিন দেখা হওয়ার কোনো উপায় নেই। এ এক আশ্চর্য হতাশা, তাই প্রাক্তনীর যে কোন অনুষ্ঠানকেই বুকের মধ্যে আঁকড়ে ধরি। অবাক হয়ে শুনি, সেদিনের বালক আজকের সফল ও পরিণত প্রৌঢ় হয়ে কী অনবদ্য ভাবে গানে, কবিতায়, স্মৃতিচারণে নিজেকে ফুলের মতো ফুটিয়ে তুলছে। আমি গীতবিতানের প্রতিটি গানের মত উন্মুখ হয়ে বসে থাকি। মন দিয়ে শুনি।হাতের মুঠোর মধ্যে থেকে সময় চলে যায়। বাড়ি ফিরে আবার পরের অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করি। যখন স্কুলে ঢুকেছিলাম আমার পরিচয় নামটার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল দাদা বিপ্লব বসুর নাম। অত্যন্ত কৃতি প্রাক্তন ছাত্র আমার দাদা ৬৪ সালে হায়ার সেকেন্ডারি পাস করে স্কুল ছাড়েন। তাই টু থেকে ইলেভেন পর্যন্ত শিক্ষকদের কাছে আমি কখনো পরিচয়, কখনো বিপ্লবের ভাই। এই স্কুলে আমার আরেকটি গর্বের বিষয় আমার দাদার সুনাম। আমার অকাল প্রয়াত দাদা বিপ্লব বসু আকাশের যে কোন তারা হয়ে ফুটে থাকুক না কেন, আমি আজও তাঁর দিকেই তাকিয়ে থাকি।
যখন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম তখন উত্তম-সুচিত্রা, সাউন্ড অফ মিউজিক ,সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক ,তপন সিনহা, ব্রাজিলের পেলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সোবার্স, বাংলার চুনী, পিকে, হেমন্ত, মান্না, সন্ধ্যা, পি সি সরকার, আলি আকবর, রবিশঙ্কর, প্রফুল্ল সেন, জ্যোতি বসু, মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান, ফারাক্কা ব্যারেজ, দার্জিলিং, দীঘা, পুরী পারিবারিকভাবে ও ভাষা দিগন্তে উদ্ভাসিত হয়েছিল। স্কুলে ক্লাস সেভেনে উঠেই জানতে পেরেছিলাম ওপার বাংলার একুশে ফেব্রুয়ারির অমর কাহিনি। ভাষা জননীর হাসি কান্নাকে স্কুলের দেয়াল পত্রিকায় নিজেদের কাঁচা হস্তক্ষরে
যখন ফুটিয়ে তুলেছিলাম, সেদিন হেডমাস্টার মশাই দুলালবাবু রথীনবাবু, অজয়বাবু, কৃষ্ণবাবু ,বঙ্কুবাবু ,প্রসাদবাবু , অনিলবাবু,নীহারবাবু ,কল্যাণবাবু, ভোলানাথবাবু , নরেনবাবু, বসাকবাবু,স্বপনবাবুদের সমবেত প্রশংসায় বুঝতে পেরেছিলাম-- বাংলা ভাষা আমাদের রক্তের গভীরে ঢুকে গেছে।এই ভাষাকে আঁকড়ে বাকি জীবন কাটাতে হবে। সেই টান আজও বয়ে বেড়াচ্ছি। তাঁরা কেউ আমাদের মধ্যে হয়তো আর নেই, কিন্তু আমার কাব্যগ্রন্থের নাম হয়েছে "ভাষা জননীর কান্না"। ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় স্কুলের ম্যাগাজিনে যখন আমার প্রথম ছোট গল্প ছাপা হয়, তখন সম্পাদক গৌতম মুখার্জি (বর্তমানে বাংলার শ্রদ্ধেয় নাট্যব্যক্তিত্ব) ,রথীনবাবু, হেড মাস্টারমশাই দুলালবাবু, সহ-প্রধান শিক্ষক হরপ্রসন্নবাবুদের সমবেত আশীর্বাদ পেয়েছিলাম।সেই হাতগুলোর স্পর্শ আজও আমি মাথায় অনুভব করি। ক্লাস টেনের অ্যানুয়াল পরীক্ষার শেষ দিনে টিচার্স রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে তরুণ ভট্টাচার্য আর আমাকে সামনে রেখে সলিলবাবু সরস্বতী পুজোর আয়োজন যখন ঠিক করে দিলেন, সেদিন সেই পড়ন্ত বিকেলে,ওই টিচার্স রুমে উপস্থিত সকলে প্রবলভাবে সম্মতি জানিয়ে আমাদের নার্ভাসনেস মুহূর্তের মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছিলেন। হেসে আমাদের দুজনকে জড়িয়ে ধরেছিলেন চার জন অশিক্ষক কর্মী লক্ষ্মীদা, উমাশঙ্করদা, শিবধরদা আর গোবিন্দদা। সামনে ক্লাস ইলেভেনে উঠে পড়াশোনার প্রবল চাপ (তখন নাইন টু ইলেভেন তিন বছরের কোর্স নিয়ে হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা দিতে হতো)। পারবো তো? সবকিছু কাটিয়ে ক্লাসের পাগল বন্ধুদের সহযোগিতায় সরস্বতী পুজোর দিন অনভ্যস্ত ধুতি পাঞ্জাবি পরে,কাঁপা কাঁপা হাতে গাঁদা ফুলের পাপড়ি নিয়ে যখন উচ্চারণ করছি--জয় জয় দেবী চরাচর সারে অথবা সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে... তখন নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি, আর আজ পঞ্চাশ বছর পেরিয়েও এই কথাগুলো উচ্চারণ করার সময়, চোখের জল ধরে রাখতে পারছি না ।
প্রায় প্রতি মাসেই আমাদের স্কুলে বিতর্ক, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ঘরোয়া আয়োজন করা হতো। বার্ষিক অনুষ্ঠানে নাটক তো ছিলোই।সেখানে আমরা যারা প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতাম, তাদের মধ্যে কোথাও হেরে যাওয়ার গ্লানি ছিল না। ছিল নিজেকে প্রকাশ করবার সারা আকাশ উচ্ছ্বাস। উঁচু ক্লাসের সুমিত নাগের কণ্ঠে শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট, বোধিসত্ত্বদার গলায় রবীন্দ্রনাথ আজও কানে লেগে আছে। আবৃত্তি, বিতর্ক, অপ্রস্তুত ভাষণে বন্ধু রথীন বণিক,বিভাস, উদয়,মদন, পার্থ, সিদ্ধার্থ, আমি; সিনিয়ার রাজকুমার ও অভিজিৎদা, জুনিয়ার বন্ধু গীষ্পতি, মুরারী, অনিন্দ্য, অনীত... আহা, লড়াই জমে ক্ষীর হয়ে যেত।
আমাদের হারাবার মতো কিছুই ছিল না; কেননা ,মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত বাড়ি থেকে উঠে আসা আমাদের দুহাতে ও হৃদয় দিয়ে লুটে নেওয়ার মতো ছিল একটা গোটা পাঠাগার। যেখানে ছোটদের বই শেষ হওয়ার পরে, ক্লাস নাইনে ওঠা আমাকে বা আমাদের মত বেশ কয়েকজনকে রথীনবাবু সমস্ত বই পড়বার অধিকার দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে প্রিয় বন্ধু বিভাস, শ্যামল, প্রবীর, কার্তিক, সুমিত, তরুণ, দীপঙ্কর, কলা বিভাগের মদন ,বাণিজ্য বিভাগের শৈবাল,তরুণ রায়ের মধ্যে কোন ভেদাভেদ ছিল না। আর যেহেতু আমাদের ব্যাচটা খেলাধুলোতেও ভালো ছিল, তাই স্কুলের ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনালে ওঠা হাতের মুঠোর মধ্যেই প্রায় ছিল। ক্লাস ইলেভেনে পড়ার সময় ইন্টার ক্লাস টুর্নামেন্টে ফাইনালে আড়িয়াদহ স্পোর্টিং ক্লাব মাঠে ইলেভেন সায়েন্স ভার্সেস ইলেভেন কমার্সের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই মনে আছে। ইলেভেন কমার্স দল অনেক শক্তিশালী। গোলে অচিন্ত্য, স্টপারে এ দেবকী তখনই নাম করা খেলোয়াড়। কিন্তু তাতে কী এসে যায় ? আমাদের ইলেভেন সায়েন্সের শ্যামল ,কার্তিক, দেবাশিস,সৌমিত্র,সলিল, দীপঙ্কর ,তরুণ, সুমিত, শৈলেন এবং এই অধম, যার অযোগ্য নেতৃত্বে সেদিন সাফল্যের সঙ্গে হেরে গিয়েছিলাম, তবু শেষ লড়াই ছাড়িনি। সাদা কেডস, মালকোঁচা মারা ধুতি আর হাফ শার্ট পরে ,সারা মাঠ দৌড়ে রেফারিং করেছিলেন আমাদের সবার প্রিয় রামবাবু। প্রত্যেকটি খেলাতেই রেফারিং করতেন তিনি। অ্যানুয়াল স্পোর্টসের দিন,পঞ্চাশ পেরোনো তিনি একাই একশো হয়ে উঠতেন।এমনকি, স্কুল ছেড়ে দেওয়ার পরের বছর একটি প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচে স্থানীয় বিখ্যাত ক্রিকেট ক্লাব বনাম আমাদের স্কুলের শিক্ষক ও প্রাক্তন ছাত্রদের সম্মিলিত একাদশ মুখোমুখি হলো , সেখানেও তিনি অন্যতম আম্পায়ার ছিলেন। সেই ম্যাচে শিক্ষক নিমুদার নেতৃত্বে, সাদা জামা, প্যান্ট, সোয়েটারের সারা দিনের ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নিতে আমন্ত্রিত ছিলাম আমিও।সলিল বাবুর হাতে তৈরি লাঞ্চে চিকেন স্টুর আস্বাদ আমি আজও আশ্চর্যজনকভাবে পাই !
পড়াশোনায় কে কতটা এগিয়ে পিছিয়ে তার একটা দড়ি টানাটানি টু থেকে ইলেভেন পর্যন্ত ছিল, অস্বীকার করবো না। ভালোবাসাও ছিল, হিংসাও ছিল। না পারলে নিজেকে ধিক্কার দেওয়াও ছিল। কিন্তু হাতে হাত রাখলেই বন্ধুত্বের সবটুকু উজাড় হয়ে যেত। ক্লাস টু'তে যখন ভর্তি হই ,তখন স্কুল থেকে ফেরার সময় প্রায় এক কিলোমিটার পথ পাড়ার বন্ধুরা মিলে জুতোর ডগা দিয়ে পথের যে কোন ইটের টুকরোকে ফেলতে ঠেলতে, স্কুলের গেট থেকে বাড়ির দরজা পর্যন্ত নিয়ে আসতাম। তার সঙ্গে চলতো এর ওর পিছনে লাগা। সেখানে পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে পেয়েছিলাম দুজন সুন্দর বন্ধুকে-- অভীক আর অরুণ বসু। ক্লাস থ্রিতে পড়ার সময় অঘ্রাণ মাসের শীতে, নীল ফুল সোয়েটার আর প্যান্ট পরে অভীকের জ্যাঠতুতো দাদার বিয়েতে নিমন্ত্রিত ছিলাম, এবং অরুণ আর আমি একসঙ্গেই বৌভাতে গেছিলাম। মা-বাবা পৌঁছে দিয়ে যায়নি। আর মনে আছে বিখ্যাত ক্রিকেটার বিলেদার ভাই অশোকের (তাকে সবাই লালটু বা লেল্টো বলে ডাকতো) কথা। সে তখনই দারুণ ক্রিকেট খেলে। তাকে আউট করাই যেত না। পরবর্তীকালে সে প্রায় চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত সিএবি লীগে ক্রিকেট খেলেছে। ক্লাস থ্রি'তে পড়ার সময় সে একদিন দুম করে তাদের বাড়িতে নেমন্তন্ন করে বসলো। ভাবুন একবার, একটা পুচকে ছেলে আর একটা পুচকে বন্ধুকে বাড়িতে নেমন্তন্ন করছে। এবং ক্লাসের সবার মধ্যে একজনকেই। অশোকের দিদিরা তো হেসেই অস্থির। এবং সে যে কি সুন্দর আপ্যায়ন করেছিল কী বলবো ? আর, আমি তো হাঁ করেছিলাম বিখ্যাত ক্রিকেটার বিলেদাকে দেখবো বলে। কিন্তু তিনি তো তখন অফিসে , তাই দেখা হয়নি। পরে যখন দেখা হয়েছিল, আমাকে যথেষ্ট আদর করেছিলেন। এই সবকিছু মিলিয়ে স্কুল জীবনের রক্ত-মাংস, স্বদেশ চেতনা, বন্ধুত্ব, আড়ি-ভাব একেবারে শতদল পদ্মের মতো ফুটেছিল। তাই স্কুল ছাড়ার পরে বিচ্ছেদ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছিল,যতদিন না প্রিয় শিক্ষক ক্ষেত্রবাবুর নেতৃত্বে "প্রাক্তনী" সংগঠন গড়ে ওঠে এবং সেই সংগঠনে আমরা সবাই মিলিত হই।
যখন স্কুল ছাড়লাম তখন আকাশে বাতাসে রাজ কাপুরের ববি, অমিতাভ জয়ার অভিমান ,আর গব্বর সিং এর শোলে মাতিয়ে দিচ্ছে। আর আমরা স্কুলের বন্ধুরা-- আমি, তরুণ, সুমিত ,শ্যামল, বিভাস, রথীন ,কার্তিক, দীপঙ্কর, মিলে গুছিয়ে গ্লোব সিনেমা হলে ফাটাফাটি হলিউডি অ্যাকশান ছবি "তোরা তোরা তোরা" দেখে, ততোধিক মনের সুখে আমিনিয়ার বিরিয়ানিতে বুঁদ‌ হয়ে গিয়ে ছিলাম। স্কুলের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রথম সিগারেটের মতোই স্বাধীনতার উল্লাস একই সঙ্গে পেয়েছিলাম অনন্যাতে সবাই মিলে"বসন্ত বিলাপ" দেখে। তারপরেই অনন্ত বিচ্ছেদ।পরবর্তীকালে শ্রদ্ধেয় অভিনেতা চিন্ময় রায়কে কোন মঞ্চে একসঙ্গে পেয়ে চুপিচুপি বলেছিলাম--দাদা, বসন্ত বিলাপে আপনি একাই কামাল করে দিয়েছেন। আপনার ধারে কাছে কেউ নেই। আমাদের সিগনেচার টিউন হয়ে গিয়েছিল "তুমি আমাকে একবার বল উত্তম কুমার।"
এই স্কুলে পড়বার আগে আমি দক্ষিণেশ্বরটুকুই চিনতাম। কিন্তু দশ বছরে ছাত্র জীবনে আমি প্রিয় আড়িয়াদহকে অনু-পরমানুতে চিনলাম। আমার হৃদয় বাঁধা পড়ে গেল আড়িয়াদহের কাছে। যেখানে বাস ঢোকে না সরু রাস্তার জন্য। যেখানে সাইকেল এবং রিক্সাই ছিল একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।তবু আমার ছোটবেলাটাকে আচ্ছন্ন করে দিয়েছিল মুকুটহীন সম্রাটের মতো এই গ্রাম। তার সবুজ মাঠ, শখের বাজার, দিল্লিপাড়ার মোড় ,মিলনী মাঠের চারমন্দির, নিতাই বাবুর বাড়ির প্রাচীনত্ব, শ্মশানের রাস্তায় দূর থেকে শোনা "বল হরি, হরি বোল"ধ্বনি ,আর যে সব ছোট্ট ছোট্ট মাঠে, বিশেষ করে নওদাপাড়া অঞ্চলে ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলতে যেতাম ছুটির পরে স্কুলের গেট থেকেই ছিনতাই হয়ে গিয়ে-- সেই সব মাঠ,সেই ঘাসের গন্ধ আমাকে স্কুলের গন্ধের সঙ্গে একাকার করে দিয়েছে। ছুটির পরে বেরোতে দেরি হলে দেখতাম, প্রিয় শিক্ষকরা ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের স্কুল থেকে বেরিয়ে রথতলার মোড়ের দিকে যাচ্ছেন। যেতে যেতে শিক্ষক রথীন বাবু হঠাৎ দলছুট হয়ে প্রাক্তন কৃতি ছাত্র রাজকুমারদের বাড়ির কাছে কোন ঝোপ থেকে আলতো হাতে আকন্দ ফুল তুলে নিলেন। আঠা ঝরিয়ে এক মনে তাকিয়ে রইলেন সেই ফুলের দিকে। অনেকটা "রক্তকরবীর" অধ্যাপক এর মতো। অন্যান্য শিক্ষকেরা দারুণভাবে উপভোগ করলেন সেই দৃশ্য। এই দৃশ্য আমাদের নিজের চোখে দেখা। হয়তো স্যারেদের সঙ্গে গল্প করতে করতে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলাম তাই দেখেছিলাম। আর মনে আছে কল্যাণবাবুর কথা, যিনি কলেজের শিক্ষকতা নিয়ে আমাদের ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়ানোর পর চলে গিয়েছিলেন। তাঁর মুখে শুনেছিলাম ঋত্বিক ঘটকের "সুবর্ণরেখা" ছায়াছবিতে "জাম্প কাটে"র ব্যবহার সম্পর্কে। তার অনেকদিন পরে "সুবর্ণরেখা" দেখে অনুভব করেছিলাম সেই অবিস্মরণীয় দৃশ্যকে। ঠিক এই কারণেই হয়তো নাট্যকার অমল রায় বলেছিলেন-"স্কুল নয়, স্কুলিং" এর কথা।
পুরনো বিল্ডিং এর আনাচে কানাচে এই মুহূর্তে আমি ঘুরে বেড়াচ্ছি। বাস্তবে নয়, স্বপ্নে। যে বিল্ডিংয়ের কোন অস্তিত্ব আজ আর নেই, সেই পুরনো অডিটোরিয়ামে, মানে বিশাল হলের শূন্য মঞ্চে গৌতমদার অভিনয় দেখছি একমনে। সেই সাবুদানা গাছের কাছে ,সেই উঠোনের ঝাউ গাছের কাছে আর পুরনো বিল্ডিংয়ের ক্লাসরুম থেকে ক্লাস রুমে একতলা, দোতলা, তিনতলায় আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছি। তিন তলার ঘরে নিমাই বাবুর কাছে ড্রইং আর মাটির মূর্তি তৈরি করার কাজ শিখেছি হাফ প্যান্ট পরা শৈশবে।
বিশ্বাস করুন বন্ধুরা, আমি সত্যিই কিচ্ছু মনে রাখতে চাই না কিন্তু অকাল প্রয়াত কাশীনাথ আর আমার পাশে বসা অবিচ্ছেদ্য বন্ধু, দুর্বল শরীরের মানিক, যে আজ বেশ কয়েক বছর আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে অমৃতলোকে ; আমার পাশে নিঃশব্দে হাঁটছে। আরণ্যক নয়, পরিচয় নয়, আমাকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে ফিসফিস করছে আমার ডাক নামে ডেকে -- ঝন্টু, তুই কেমন আছিস ? শুনলাম তোর...
সঙ্গে সঙ্গে চোখের সামনে ভেসে উঠছে আমাকে লেখা রথীন বাবুর চিঠির অক্ষরগুলো--"প্রিয় ঝন্টু মহারাজ"( আমাকে ওই নামেই তিনি ডাকতেন, অন্তত চিঠিতে),তার নিচে লেখা কয়েক লাইন তাঁরই কবিতা--
"সেই ছোট থেকে দেখছি যে তোকে
আজকে কত না বড়ো ,
সারা বিশ্বের দুষ্টুমি যত
হৃদয় করিস জড়ো।
অথচ তোদের সামনে রয়েছে
হাজার পথের ভিড় ,
সঠিক ঠিকানা খুঁজে নিতে হয়
চিত্ত করিয়া স্থির।
জীবনের পথ বড় আঁকাবাঁকা
কভুবা আঁধার কালো,
ওরে পরিচয়, তোর পরিচয়ে জ্বেলে দিই সেথা আলো।"

বিশ্বাস করো প্রিয় স্কুল, বিশ্বাস করো পুরনো বিল্ডিংয়ের সোঁদা গন্ধ, বিশ্বাস করো শতাব্দী পেরনো প্রাচীনতা-- আমি এসব কিছুই মনে রাখতে চাই না। কিচ্ছু না। আমি ভুলে যেতে চাই, সব ভুলে যেতে চাই। কিন্তু স্কুল জীবন আমাকে কিছুই ভুলতে দিচ্ছে না। কিছুতেই দিচ্ছে না।
পুরোনো বিল্ডিং এর টিচার্স রুম থেকে শনিবার হাফ ডে ছুটির পর ভেসে আসছে সিনিয়ার ছাত্র, সুগায়ক প্রদীপদার গলায় মান্না দের গান -- লাল নীল সবুজের মেলা বসেছে। বাইরে দাঁড়িয়ে ক্লাস ফাইভ-সিক্স এর আমরা হাঁ করে গিলছি সেই গান। তারই ফাঁকে বই পাগল লক্ষ্মীদা রথীনবাবুকে বলছেন --স্যার, আমাকে অবধূতের লেখা উদ্ধারণপুরের ঘাট বইটা পড়তে দেবেন? কাল তো রোববার, সারাদিন পড়ে, সোমবার লাইব্রেরীতে জমা দিয়ে দেব।

লক্ষ্মীদার কথাগুলো আজও স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। কী যে করি আমি...

বিনীত
আরণ্যক বসু
৯/২/২৫

(শিলচরে দৈনিক গতি পত্রিকার জন্য আমাদের প্রাক্তনী আরন‍্যক বসুর এই লেখাটি আমাদের স্কুলের স্মৃতি সম্পর্কিত যা আমাদের সকলকে গর্বিত ও আনন্দিত করে।অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই আরন‍্যক বসুকে। তাই এই পোষ্ট সকল প্রাক্তনীর উদ্দেশ্য নিবেদিত হলো। )

Want your school to be the top-listed School/college in KOLKATA?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


18 MM Feeder Road Ariadaha
Kolkata
700057