Narayanpur High School - Old Site H.S.

Narayanpur High School - Old Site H.S. It is the official page of Narayanpur High School (Old Site). A school in Bhangar, near to Basanti Highway.

২২শে আগস্ট, ১৯০৭। জার্মানির স্টুটগার্ট শহর। বিশাল হলঘরে চলছে আন্তর্জাতিক সমাজবাদী সম্মেলন। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের প্রতি...
24/09/2026

২২শে আগস্ট, ১৯০৭। জার্মানির স্টুটগার্ট শহর। বিশাল হলঘরে চলছে আন্তর্জাতিক সমাজবাদী সম্মেলন। পৃথিবীর প্রায় সব দেশের প্রতিনিধিরা এসেছেন। হঠাৎ সব কোলাহল থেমে গেল।

মঞ্চের দিকে এগিয়ে এলেন এক ছোটখাটো চেহারার মহিলা। পরনে সাদা পার্সি শাড়ি, কপালে কুমকুম নেই, চোখে অদম্য আগুন। কারও অনুমতি না নিয়েই তিনি হাতে তুলে ধরলেন এক অদ্ভুত পতাকা - সবুজ, গেরুয়া আর লাল রঙের তিনটি ডোরা, মাঝখানে লেখা 'বন্দে মাতরম'।

তিনি গলা তুলে বললেন, "এই পতাকা স্বাধীন ভারতের। ব্রিটিশ শাসন ভারতকে শ্মশান বানিয়েছে। ভারতের কোটি কোটি মানুষের রক্তে এই পতাকা একদিন লাল হবে, কিন্তু আজ এটা আশার প্রতীক।"

হলঘর স্তব্ধ। এটাই ইতিহাসে প্রথমবার - বিদেশের মাটিতে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন। যিনি করলেন, তিনি ভিকাজি রুস্তম কামা। সেদিন থেকে বিশ্ব তাঁকে চিনল মাদাম কামা নামে।

ভিকাজির জন্ম ১৮৬১ সালের আজকের দিনে, ২৪শে সেপ্টেম্বর, বোম্বাইয়ের এক সম্ভ্রান্ত পার্সি পরিবারে। বাবা সোরাবজি ফ্রামজি প্যাটেল ছিলেন শহরের নামকরা মানুষ। ভালো ইংরেজি শিক্ষা, সচ্ছল জীবন - সবই ছিল। বিয়ে হল ধনী আইনজীবী রুস্তম কামার সঙ্গে। কিন্তু সেই সংসার তাঁকে বাঁধতে পারল না।

১৮৯৬ সালে বোম্বাইয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আর প্লেগ। শহর মরছে। ভিকাজি ঝাঁপিয়ে পড়লেন সেবায়। তিনি কাজ করলেন গ্র্যান্ট মেডিক্যাল কলেজের ত্রাণ শিবিরে, রোগীদের সেবা করতে করতে নিজেই প্লেগে আক্রান্ত হলেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন, কিন্তু শরীর ভেঙে গেল। ডাক্তাররা বললেন ইউরোপে যেতে।

১৯০২ সালে তিনি লন্ডন গেলেন। আর ফিরলেন না।

লন্ডনেই তাঁর দ্বিতীয় জন্ম হল। দেখা হল শ্যামজী কৃষ্ণ বর্মা আর দাদাভাই নৌরোজির সঙ্গে। তাঁদের মুখে শুনলেন পরাধীন ভারতের আসল ছবি। ভদ্র, নরম মনের সমাজসেবিকা ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন আগুনের মতো বিপ্লবী।

ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের চোখ এড়াতে তিনি পাড়ি দিলেন প্যারিসে। সেখানে তৈরি করলেন 'প্যারিস ইন্ডিয়া সোসাইটি'। তাঁর ছোট্ট ফ্ল্যাট হয়ে উঠল ভারতীয় বিপ্লবীদের গোপন আস্তানা। সেখানে বসে ছাপা হতো নিষিদ্ধ পত্রিকা 'বন্দে মাতরম', তৈরি হতো বোমা বানানোর ফর্মুলা, লেখা হতো স্বাধীনতার ইশতেহার।

ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ভয় পেল। তাঁর ভারতের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হল। তাঁকে ঘোষণা করা হল রাষ্ট্রদ্রোহী। দেশে ফেরার পথ বন্ধ।

কিন্তু সম্মান এল অন্য দিক থেকে। রুশ বিপ্লবের পর সোভিয়েত রাশিয়া থেকে স্বয়ং লেনিন তাঁকে আমন্ত্রণ জানালেন, "আপনি আমাদের দেশে এসে আশ্রয় নিন।" ভিকাজি বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁর জায়গা ইউরোপের বিপ্লবীদের মাঝেই, যেখান থেকে তিনি ভারতের কথা বিশ্বকে বলতে পারবেন।

দীর্ঘ ৩৪ বছর নির্বাসনে কাটিয়ে, অসুস্থ, নিঃস্ব অবস্থায় ১৯৩৫ সালে তিনি বোম্বাই ফিরতে পেরেছিলেন। পরের বছর, ১৯৩৬ সালের ১৩ই আগস্ট, পার্সি জেনারেল হাসপাতালে নিঃশব্দে চলে গেলেন।

তাঁকে ভারতীয় বিপ্লববাদের জননী বলা হয়। কারণ তিনি শুধু পতাকা তোলেননি, তিনি শিখিয়েছিলেন কীভাবে দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসতে হয় - সব সুখ, সব আরাম ত্যাগ করে।

আজ যখন আমরা লালকেল্লায় তেরঙ্গা উড়তে দেখি, মনে রাখা দরকার, তার প্রথম সেলাইটা করেছিলেন এক পার্সি নারী, বিদেশের মাটিতে, একা দাঁড়িয়ে, সমস্ত সাম্রাজ্যের চোখে চোখ রেখে।

22/09/2026

করম পূজা ভারতের আদিবাসী সমাজের এক অতি প্রাচীন ও প্রাণবন্ত উৎসব। ওঁরাও, মুণ্ডা, সাঁওতাল, খেড়িয়া প্রভৃতি জনজাতির মানুষ প্রতি বছর ভাদ্র মাসের একাদশী তিথিতে এই পূজার আয়োজন করেন। ঝাড়খণ্ড, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই উৎসব সমান উৎসাহে পালিত হয়।

করম শব্দটি এসেছে "কর্ম" থেকে, যার অর্থ পরিশ্রম ও নিষ্ঠা। কথিত আছে, করম দেবতা হলেন সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি ও সুফলের অধিষ্ঠাতা। এই পূজার কেন্দ্রবিন্দু হলো করম গাছের একটি ডাল, যা ভক্তিভরে কেটে এনে গ্রামের মাঝখানে পুঁতে রাখা হয়। গ্রামবাসীরা সমবেত হয়ে এই ডালের চারপাশে নাচ-গান করেন, আর পুরোহিত বা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি করমের কাহিনি শোনান।

করম পূজার একটি বিশেষ দিক হলো এর সামাজিক তাৎপর্য। এই উৎসব শুধু দেবতার আরাধনা নয়, এটি ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য নিদর্শন। ভাই-বোনের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেও এই পূজা পালিত হয়—বোনেরা ভাইদের মঙ্গল কামনায় উপবাস রাখেন এবং করম দেবতার কাছে প্রার্থনা জানান। কৃষিনির্ভর সমাজে এই পূজা ফসলের সমৃদ্ধি ও ভালো বর্ষার প্রতীক হিসেবেও গণ্য হয়।

সন্ধ্যা নামলে করম গাছের চারপাশে জ্বলে ওঠে মশাল, বেজে ওঠে মাদল আর ধামসার তাল। নারী-পুরুষ সকলে মিলে ঝুমুর নাচে মেতে ওঠেন। এই নৃত্য-গীতের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি, মাটি ও জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। রাতভর চলে উৎসব, আর পরদিন সকালে করমের ডালটি নদী বা জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়—যেন প্রকৃতির কাছেই আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয় তার দান।

আধুনিকতার স্রোতে অনেক ঐতিহ্য যখন ম্লান হয়ে যাচ্ছে, তখনও করম পূজা আদিবাসী সমাজের প্রাণের উৎসব হিসেবে টিকে আছে সগৌরবে। এই পূজা আমাদের শেখায় প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের মূল্য, পরিশ্রমের মর্যাদা এবং সমাজবদ্ধ জীবনের সৌন্দর্য। করম পূজা তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়—এটি মাটির গন্ধ মাখা এক জীবন্ত সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহমান।

সবাইকে করম পুজোর শুভেচ্ছা 💐💐

অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক ছোট্ট গ্রামে থাকত রাজু নামে এক দুষ্টু-মিষ্টি ছেলে। তার বাবার ছিল একটা কামারশালা। প্রতিদিন বাব...
18/09/2026

অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক ছোট্ট গ্রামে থাকত রাজু নামে এক দুষ্টু-মিষ্টি ছেলে। তার বাবার ছিল একটা কামারশালা। প্রতিদিন বাবা লোহা পিটিয়ে দা, কুড়াল, লাঙল বানাতেন। রাজু ভাবত, "বাবা তো কত কষ্ট করে এসব বানায়, কিন্তু কে শেখাল বাবাকে এই কাজ?"

একদিন রাজু তার ঠাকুমাকে জিজ্ঞেস করল, "ঠাকুমা, আমাদের হাতুড়ি, কাটারি, এই সাইকেল, এই যন্ত্রপাতি — এসব প্রথম কে বানাতে শিখিয়েছিল?"

ঠাকুমা হেসে বললেন, "সে অনেক বড় গল্প, দাদুভাই। দেবতাদের মধ্যে একজন আছেন, তাঁর নাম বিশ্বকর্মা। তিনিই হলেন জগতের প্রথম কারিগর, প্রথম ইঞ্জিনিয়ার, প্রথম স্থপতি। তিনিই স্বর্গের অট্টালিকা বানিয়েছেন, দেবতাদের অস্ত্র বানিয়েছেন, এমনকি ভগবান কৃষ্ণের দ্বারকা নগরীও তিনিই তৈরি করেছিলেন নিজের হাতে।"

রাজুর চোখ বড় বড় হয়ে গেল। "সত্যি? তাহলে বাবাও কি বিশ্বকর্মার মতো?"

ঠাকুমা বললেন, "ঠিক তাই। যে কেউ নিজের হাতে কিছু তৈরি করে, যন্ত্র চালায়, বাড়ি বানায়, মেশিন সারায় — তারা সবাই বিশ্বকর্মারই সন্তান। তাই প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শেষে আমরা বিশ্বকর্মা পুজো করি। কারখানায়, গ্যারাজে, মিস্ত্রিশালায়, এমনকি স্কুলের ওয়ার্কশপেও এই দিন যন্ত্রপাতির পুজো হয়।"

সেদিন বিকেলে রাজু বাবার কামারশালায় গেল। দেখল, বাবা হাতুড়ি-বাটালি সব সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন, ফুল দিয়ে সাজিয়েছেন লোহা পেটানোর যন্ত্রটাও। রাজু জিজ্ঞেস করল, "বাবা, আজ কী পুজো?"

বাবা হেসে বললেন, "আজ বিশ্বকর্মা পুজো, বাবু। এই যন্ত্রগুলোই তো আমার রুটি-রুজির উপায়, এরাই আমার সহযাত্রী। তাই বছরে একদিন এদের প্রণাম জানাই, আর প্রার্থনা করি — যেন সব সময় ভালো কাজ করতে পারি, নতুন কিছু শিখতে পারি।"

সেই থেকে রাজুও প্রতি বছর বিশ্বকর্মা পুজোয় তার সাইকেল, স্কুল ব্যাগের চেন, এমনকি খাতা-পেন্সিলগুলোকেও যত্ন করে গুছিয়ে রাখে। কারণ সে বুঝেছে — যেকোনো কাজ, যত ছোটই হোক না কেন, তাকে ভালোবেসে করলেই তা সৃষ্টির আনন্দ হয়ে ওঠে। আর সেই সৃষ্টির আনন্দই হল বিশ্বকর্মার আসল আশীর্বাদ।

আজ বিশ্বকর্মা পুজোর শুভ দিনে, চলো আমরাও প্রতিজ্ঞা করি — নিজের কাজকে ভালোবাসব, নতুন কিছু শিখব, আর যা কিছু তৈরি করব, তা মন দিয়ে করব।

সবাইকে বিশ্বকর্মা পুজোর অনেক শুভেচ্ছা!

নারায়ণপুর হাই স্কুল পুরাতন এ ভাঙড় ট্রাফিক গার্ড, কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে একটি বিশেষ সড়ক সুরক্ষা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান অ...
18/09/2026

নারায়ণপুর হাই স্কুল পুরাতন এ ভাঙড় ট্রাফিক গার্ড, কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে একটি বিশেষ সড়ক সুরক্ষা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ট্রাফিক আইন ও সড়ক সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকরা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং রাস্তা পারাপারের সঠিক নিয়ম, হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব, সিগন্যাল মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা এবং যানবাহন চালানোর সময় সতর্কতা অবলম্বনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তারা সড়ক সুরক্ষা সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করে এবং তার উত্তর পায়।

বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ জীবনে সড়ক সুরক্ষা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভাঙড় ট্রাফিক গার্ড, কলকাতা পুলিশকে এই মূল্যবান উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।

শুভ জন্মদিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজী!নারায়ণপুর হাই স্কুল (পুরাতন)-এর সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ...
17/09/2026

শুভ জন্মদিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজী!

নারায়ণপুর হাই স্কুল (পুরাতন)-এর সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মী বৃন্দের পক্ষ থেকে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজীকে জানাই আন্তরিক জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

আপনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে শিক্ষা, উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে, তা প্রতিটি ভারতীয়ের কাছে গর্বের বিষয়। আপনার দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও কর্মশক্তি কামনা করি, যাতে আপনি আগামী দিনেও দেশ ও দেশবাসীর সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারেন।

শুভ জন্মদিন! জয় হিন্দ!

নারায়ণপুর হাই স্কুল (পুরাতন)

লাহোর সেন্ট্রাল জেলের সেই অন্ধকার সেল। চারদিকে পাথরের দেয়াল, লোহার দরজা আর নিস্তব্ধতা। বাইরে তখন সেপ্টেম্বরের রোদ। অথচ ...
12/09/2026

লাহোর সেন্ট্রাল জেলের সেই অন্ধকার সেল। চারদিকে পাথরের দেয়াল, লোহার দরজা আর নিস্তব্ধতা। বাইরে তখন সেপ্টেম্বরের রোদ। অথচ জেলের ভেতরে যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছে। মেঝেতে শুয়ে আছেন মাত্র পঁচিশ বছরের এক তরুণ—যতীন দাস।

শরীর ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে। মুখে ক্লান্তির ছাপ। কিন্তু চোখে? সেখানে এখনও আগুন।

এই যুদ্ধ তাঁর নিজের মুক্তির জন্য নয়। এই যুদ্ধ তাঁর সহবন্দিদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।

লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে আসা বিপ্লবীরা দেখেছিলেন, রাজনৈতিক বন্দিদের সঙ্গে সাধারণ অপরাধীদের মতো আচরণ করা হচ্ছে। নোংরা পরিবেশ, নিম্নমানের খাবার, অপমান আর অমানবিক ব্যবহার তাঁদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। এই অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

আর সেই প্রতিবাদের সবচেয়ে কঠিন অস্ত্রটি বেছে নিলেন যতীন দাস—অনশন।

প্রথম দিন।
দ্বিতীয় দিন।
তারপর এক সপ্তাহ।

শরীর ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাঁপছে, কিন্তু সংকল্প অটুট।

কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করল। নাক দিয়ে নল ঢুকিয়ে তরল খাবার দেওয়ার চেষ্টা চলল। যন্ত্রণা, শারীরিক দুর্বলতা আর নির্যাতনের মধ্যেও তিনি অনশন ভাঙলেন না।

দিন গড়াতে লাগল।

দশ দিন।
বিশ দিন।
ত্রিশ দিন।

জেলের চার দেয়াল পেরিয়ে তাঁর লড়াইয়ের খবর পৌঁছে গেল সারা দেশে। সংবাদপত্রে ছাপা হতে লাগল এক তরুণ বিপ্লবীর অসাধারণ আত্মসংযমের কাহিনি। মানুষের মনে জন্ম নিল ক্ষোভ, শ্রদ্ধা আর প্রতিবাদের এক প্রবল স্রোত।

কিন্তু যত দিন যাচ্ছিল, ততই ক্ষয় হচ্ছিল তাঁর শরীর।

চল্লিশ দিন।
পঞ্চাশ দিন।
ষাট দিন।

চিকিৎসকেরা বুঝতে পারছিলেন, শরীর আর বেশিদিন এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারবে না। কিন্তু যতীন দাসের সংকল্প তখন মৃত্যুর থেকেও শক্তিশালী।

তিনি জানতেন, অনশন মানে শুধু না-খেয়ে থাকা নয়। এটি ছিল অন্যায়ের সামনে নিজের শরীরকেই শেষ প্রতিবাদের ভাষা করে তোলা।

অবশেষে এল সেই ভয়াবহ দিন।

১৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৯।

টানা ৬৩ দিনের অনশনের পর লাহোর সেন্ট্রাল জেলের সেই তরুণ বিপ্লবীর হৃদস্পন্দন থেমে গেল।

মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে যতীন দাস হয়ে উঠলেন শহিদ।

কিন্তু তাঁর মৃত্যু ছিল না পরাজয়।

বরং তাঁর নিথর শরীরই যেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে এক জীবন্ত প্রশ্ন হয়ে উঠল।

যখন তাঁর মরদেহ কলকাতায় আনা হল, তখন শহর যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। অগণিত মানুষ রাস্তায় নেমে এলেন। দীর্ঘ শোকমিছিল এগিয়ে চলল কলকাতার রাজপথ ধরে। মানুষের চোখে জল, অথচ সেই জলের আড়ালে ছিল তীব্র ক্ষোভ।

সেদিন কলকাতার রাস্তায় শুধু একটি মরদেহ এগিয়ে যাচ্ছিল না।

এগিয়ে যাচ্ছিল স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।

সেই শোকমিছিল পরিণত হয়েছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক বিশাল জনমতপ্রকাশে। একজন তরুণের নীরব অনশন লক্ষ মানুষের কণ্ঠে পরিণত হয়েছিল।

লাহোর থেকে ট্রেন এ করে যতীন দাস এর দেহ যখন কলকাতা পৌঁছাল তখন হাওড়া স্টেশন থেকে সুভাষ চন্দ্র বোসের নেতৃত্বে বেঙ্গল ভলেন্টিয়ের্সের সদস্যেরা কাঁধে করে কফিন নিয়ে কেওড়াতলা মহাশসানে নিয়ে যান এবং সেখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়! !!!!!🇮🇳🇮🇳

যতীন দাস দেখিয়ে গিয়েছিলেন, স্বাধীনতার সংগ্রাম শুধু বন্দুক ও বারুদের যুদ্ধ নয়। কখনও কখনও সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হয় নিজের কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা, নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে সত্য ও মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস।

৬৩ দিন তিনি কথা বলেননি প্রায় অস্ত্রের ভাষায়।
কিন্তু তাঁর নীরবতাই একদিন সারা দেশকে কথা বলতে বাধ্য করেছিল।

আজ এত বছর পরও যতীন দাসের নাম উচ্চারিত হলে মনে পড়ে সেই ক্ষীণ শরীর, সেই অদম্য চোখ এবং সেই ৬৩ দিনের নীরব যুদ্ধ।

কিছু মানুষ ইতিহাস লেখেন কালি দিয়ে।

আর কিছু মানুষ ইতিহাস লেখেন নিজের জীবন দিয়ে।

যতীন দাস ছিলেন সেই দ্বিতীয় দলের একজন।

তাঁর আত্মত্যাগ তাই শুধু অতীতের একটি ঘটনা নয়। এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অবিচল মর্যাদাবোধের এক অমর স্মারক।

৬৩ দিনের সেই নীরব যুদ্ধ থেমে গিয়েছিল ১৯২৯-এর ১৩ সেপ্টেম্বর।
কিন্তু তার প্রতিধ্বনি থামেনি। আজও থামেনি।

ধরুন, আপনার হাতে একটা চিঠি এল, কিন্তু আপনি তা পড়তে পারছেন না। ওষুধের গায়ে লেখা নির্দেশ বুঝতে পারছেন না। ব্যাংকের কাগজে...
08/09/2026

ধরুন, আপনার হাতে একটা চিঠি এল, কিন্তু আপনি তা পড়তে পারছেন না। ওষুধের গায়ে লেখা নির্দেশ বুঝতে পারছেন না। ব্যাংকের কাগজে সই করার আগে কী লেখা আছে, তা জানার উপায় নেই। এই অসহায়তাটা একবার কল্পনা করলেই বোঝা যায়, অক্ষর চেনাটা আসলে কতটা বড় একটা স্বাধীনতা।

আজ, ৮ই সেপ্টেম্বর, সারা পৃথিবী জুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিনটার শুরু কিন্তু আজকের নয়, অনেক পুরনো। ১৯৬৫ সালে ইরানের তেহরানে বিশ্বের শিক্ষামন্ত্রীদের একটি সম্মেলন বসেছিল, যেখানে আলোচনা হয়েছিল, নিরক্ষরতা কীভাবে একটা জাতির উন্নতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই আলোচনারই ফসল হিসেবে পরের বছর, ১৯৬৬ সালে, ইউনেস্কো ৮ই সেপ্টেম্বরকে বেছে নেয় বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস হিসেবে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই— পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের কাছে অক্ষরের আলো পৌঁছে দেওয়া।

কিন্তু কেন এত জোর দেওয়া হয় সাক্ষরতার ওপর? কারণ পড়তে-লিখতে জানা মানে শুধু বই পড়ার ক্ষমতা নয়। এটা একজন মানুষকে নিজের অধিকার বুঝতে শেখায়, নিজের মতামত প্রকাশ করার সাহস দেয়, আর নিজের ভবিষ্যৎ নিজে গড়ার সুযোগ করে দেয়। একজন সাক্ষর মা তার সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকতে পারেন, একজন সাক্ষর কৃষক নতুন প্রযুক্তির খবর রাখতে পারেন, একজন সাক্ষর তরুণ নিজের স্বপ্নের পথ খুঁজে নিতে পারে। অক্ষর তাই শুধু হরফ নয়— এটা ক্ষমতায়নের চাবিকাঠি।

আজও পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ আছেন, যাঁরা এই সুযোগটা থেকে বঞ্চিত। তাই এই দিনটা শুধু উদযাপনের নয়, একটা প্রতিশ্রুতিরও— প্রতিটি শিশু, প্রতিটি মানুষ যেন অক্ষরের আলোয় নিজের পথ দেখতে পায়, সেই লক্ষ্যে আরও একটু এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি।

আমাদের বিদ্যালয়ও এই লক্ষ্যেরই একজন ছোট্ট সহযাত্রী। প্রতিটি ক্লাসরুমে যে অক্ষরজ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তা আসলে একটা বড় স্বপ্নেরই অংশ— একটা সাক্ষর, সচেতন, আলোকিত সমাজ গড়ার স্বপ্ন।

ছোটবেলায় আমরা ভাবতাম, শিক্ষক মানে যিনি ক্লাসে দাঁড়িয়ে বোর্ডে অঙ্ক কষেন, বা ইতিহাসের তারিখ মুখস্থ করান। বড় হতে হতে বু...
05/09/2026

ছোটবেলায় আমরা ভাবতাম, শিক্ষক মানে যিনি ক্লাসে দাঁড়িয়ে বোর্ডে অঙ্ক কষেন, বা ইতিহাসের তারিখ মুখস্থ করান। বড় হতে হতে বুঝেছি, এই সংজ্ঞাটা কত ছোট ছিল। জীবনের প্রকৃত শিক্ষকদের বেশিরভাগই কোনওদিন ক্লাসরুমে পা রাখেননি।

রাস্তার ধারে বসে যে রিকশাওয়ালা প্রতিদিন হাসিমুখে যাত্রী তোলেন, তিনি শিখিয়ে যান ধৈর্যের পাঠ। যে সবজিওয়ালা সকাল থেকে বিকেল অবধি রোদে দাঁড়িয়ে থেকেও গলার স্বর নরম রাখেন, তিনি শেখান পরিশ্রমের মর্যাদা। মা যখন রান্নাঘরে হাজারো কাজের মধ্যেও সন্তানের প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেন, তখন তিনিই সবচেয়ে বড় শিক্ষক হয়ে ওঠেন। প্রতিটি পেশা, প্রতিটি মানুষ, নিজের অজান্তেই আমাদের কিছু না কিছু শিখিয়ে যায়। শেখার জন্য ডিগ্রি লাগে না, লাগে শুধু চোখ খোলা রাখার সাহস।

আর সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা, আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক লুকিয়ে থাকে আমাদেরই সন্তানদের মধ্যে, আমাদেরই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। একটা শিশু যখন প্রশ্ন করে, "আকাশ নীল কেন?" তখন আমরা বুঝি, কত সহজ প্রশ্নের উত্তরও আমরা ভুলে গেছি খুঁজতে। একজন ছাত্র যখন ভুল করেও লজ্জা না পেয়ে আবার চেষ্টা করে, তখন সে আমাদের শিখিয়ে দেয় সাহসের আসল মানে। যে ছাত্রছাত্রীরা আমাদের সামনে বসে থাকে প্রতিদিন, তারাও তো শিক্ষকতা করে যায় আমাদের—কৌতূহলের পাঠ, সততার পাঠ, নতুন করে বিশ্বকে দেখার পাঠ।

শিক্ষক দিবস তাই শুধু একজন শিক্ষকের সম্মানের দিন নয়, এই দিনটা আসলে সেই সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন, যাঁরা জীবনের কোনও না কোনও মুহূর্তে আমাদের কিছু শিখিয়েছেন—জেনে হোক বা না জেনে। ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনে আমরা যে শিক্ষকতার আদর্শকে স্মরণ করি, সেই আদর্শ আসলে ছড়িয়ে আছে আমাদের চারপাশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে।

তাই আজকের দিনে চোখ রাখি চারপাশে। যিনি ক্লাসে পড়ান, তাঁকে তো প্রণাম জানাইই। কিন্তু সেই সঙ্গে মনে রাখি রিকশাওয়ালা, সবজিওয়ালা, মা-বাবা, আর সেই ছোট্ট ছাত্রছাত্রীদেরও, যারা নিজের অজান্তেই আমাদের শিক্ষক হয়ে উঠেছে। শেখা কখনও থামে না, আর তাই শিক্ষকও কখনও একজন নয়—শিক্ষক আছেন সর্বত্র, প্রতিটি মানুষের মধ্যে।

শুভ শিক্ষক দিবস।

04/09/2026

তখন মথুরার আকাশে ঘন কালো মেঘ। বাইরে ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। রাজপ্রাসাদের এক অন্ধকার কারাগারে বসে আছেন দেবকী আর বসুদেব। শিকল তাঁদের হাতে-পায়ে, চোখে ভয়, তবু বুকের ভেতর এক অদ্ভুত প্রতীক্ষা।

কংস, দেবকীর নিজের ভাই, রাজা হয়েও এক ভবিষ্যদ্বাণীর ভয়ে পাগলপ্রায়। শুনেছিলেন, দেবকীর অষ্টম সন্তানের হাতেই তাঁর মৃত্যু লেখা আছে। তাই একে একে সাতটি সন্তানকে তিনি বধ করেছেন নিজের হাতে। ভাবুন তো, একজন মা প্রতিবার সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, আর সেই সন্তানকে চোখের সামনে হারিয়ে ফেলছেন। কী ভয়ংকর যন্ত্রণা!

তারপর এল সেই রাত। ভাদ্র মাসের অষ্টমী তিথি, ঠিক মাঝরাত। বাইরে তখনও বৃষ্টি। যমুনা নদী ফুলেফেঁপে উঠেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে, কারাগারের অন্ধকার ঘরে জন্ম নিলেন এক শিশু। বলা হয়, জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই কারাগারের দরজার তালা আপনা-আপনি খুলে গেল, প্রহরীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল।

বসুদেব বুঝলেন, এই মুহূর্তেই কিছু একটা করতে হবে। তিনি সেই সদ্যোজাত শিশুকে একটা ঝুড়িতে শুইয়ে মাথায় তুলে নিলেন, আর বেরিয়ে পড়লেন অন্ধকার রাতে। বাইরে তখন প্রবল বৃষ্টি, যমুনা নদী রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। কিংবদন্তি বলে, বসুদেব যখন নদী পার হচ্ছিলেন, জল তাঁর পায়ের কাছে এসে থেমে যাচ্ছিল, যেন নদীও সেই শিশুকে পথ করে দিচ্ছে।

নদী পেরিয়ে বসুদেব পৌঁছলেন গোকুলে, নন্দ ও যশোদার ঘরে। সেখানে তিনি নিজের সন্তানকে রেখে, যশোদার সদ্যোজাত কন্যাকে নিয়ে ফিরে এলেন কারাগারে। ভোর হওয়ার আগেই আবার তালা বন্ধ, প্রহরীরা জেগে উঠল, আর কংস জানলও না যে তাঁর ভবিষ্যতের প্রতিপক্ষ ততক্ষণে নিরাপদে পৌঁছে গেছেন এক নতুন ঘরে।

সেই শিশুই কৃষ্ণ। যিনি বড় হয়ে গোকুলে বাঁশি বাজিয়ে গরু চরাবেন, মাখন চুরি করে ধরা পড়বেন, পরবর্তীতে কুরুক্ষেত্রের ময়দানে অর্জুনকে গীতার বাণী শোনাবেন। কিন্তু সব গল্পের শুরু ছিল ওই একটা ঝড়-বৃষ্টির রাতে, এক বাবার কাঁধে চড়ে নদী পার হওয়া দিয়ে।

আজ, এতগুলো বছর পরেও, প্রতি বছর ভাদ্র মাসের এই তিথিতে ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বলে, মন্দিরে মন্দিরে সাজে দোলনা, শিশু কৃষ্ণের মূর্তি দোলানো হয় ভালোবাসায়। এই দিনটাই জন্মাষ্টমী।

নারায়ণপুর হাই স্কুলের (পুরাতন) সকল ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের জানাই শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা। 🪈🦚

কলকাতার আহিরীটোলা স্ট্রিটের একটি ঘর। ১৯২৬ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর। জানালার ফাঁক দিয়ে ভোরের প্রথম আলো এসে পড়েছে একটি সদ্যো...
03/09/2026

কলকাতার আহিরীটোলা স্ট্রিটের একটি ঘর। ১৯২৬ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর। জানালার ফাঁক দিয়ে ভোরের প্রথম আলো এসে পড়েছে একটি সদ্যোজাত শিশুর মুখে। কেউ তখন জানত না, নাম রাখা হবে অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় — কিন্তু বাংলার আকাশে সত্যিই একটি নতুন 'অরুণ' উদিত হয়েছে, যে আলো আর কখনও নিভবে না।

সময় এগিয়ে যাক কয়েক দশক। স্টুডিওপাড়ার এক অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহ। পর্দায় একের পর এক ছবি মুক্তি পাচ্ছে, আর ব্যর্থ হচ্ছে। প্রযোজকরা বলছেন, "এই ছেলেটাকে দিয়ে হবে না।" নায়ক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা যুবকটি তখন প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন ভরসা। ব্যর্থতা তাঁকে ঘিরে ধরেছে একের পর এক ছবিতে। কিন্তু ঠিক তখনই, এক নিঃশব্দ জেদ তাঁর চোখে জ্বলে ওঠে — হার মানব না। আর তারপর এল "বসু পরিবার", এল "সাড়ে চুয়াত্তর" — আর ইতিহাস মোড় নিল চিরকালের মতো।

যে ছেলেটিকে কাল অবধি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সে হয়ে উঠল বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক — এমন একটি আখ্যা, যা তাঁর আগে বা পরে আর কাউকে দেওয়া হয়নি।

উত্তমকুমার শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালির আবেগের ভাষা। তাঁর চোখের চাহনিতে ছিল কবিতা, তাঁর হাসিতে ছিল ঘরোয়া উষ্ণতা, আর তাঁর সংলাপ বলার ভঙ্গিতে ছিল এমন এক আত্মবিশ্বাস, যা আজও নবীন অভিনেতাদের কাছে পাঠ্যবইয়ের মতো। "হারানো সুর", "সপ্তপদী", "নায়ক", "চিড়িয়াখানা", "অগ্নীশ্বর" — একের পর এক ছবিতে তিনি প্রমাণ করেছেন, অভিনয় নিছক পেশা নয়, তা এক সাধনা।

সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও অতুলনীয় — সেই জুটি শুধু রূপালি পর্দায় নয়, বাঙালির সম্মিলিত স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে আছে। উত্তমকুমার শুধু রোমান্টিক নায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অভিনয়শিল্পী যিনি প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতেন — কখনও প্রেমিক, কখনও সংগ্রামী মানুষ, কখনও বা এক অন্তর্মুখী শিল্পী নিজের অস্তিত্বের সংকটে জর্জরিত। তাঁর অভিনয়ে কৃত্রিমতার লেশমাত্র ছিল না — যা দেখা যেত তা যেন জীবন থেকেই উঠে আসা।

আজও, তাঁর প্রয়াণের চার দশকেরও বেশি সময় পরে, বাংলা চলচ্চিত্রে "মহানায়ক" শব্দটি উচ্চারণ করলে একটি মাত্র মুখই ভেসে ওঠে সবার চোখে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে সিনেমা দেখার মাধ্যম, বদলেছে রুচি — কিন্তু তাঁর হাসি, তাঁর চোখের ভাষা আজও একই রকম উজ্জ্বল, একই রকম প্রাণবন্ত।

আজ, ৩রা সেপ্টেম্বর, বাংলা যখন উদযাপন করছে তার প্রিয়তম মহানায়কের জন্মশতবর্ষ, তখন কৃতজ্ঞতায় নত হয়ে বলতে ইচ্ছে করে — আপনি ছিলেন, আছেন, এবং থাকবেন বাঙালির হৃদয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে। শত বছর পেরিয়েও আপনার জাদু এতটুকু ম্লান হয়নি।

শুভ জন্মদিন, উত্তমকুমার। আপনি সত্যিই এক ও অদ্বিতীয় — একমেবাদ্বিতীয়ম।

Address

Narayanpur, Bhangar, 24 Pgs. (S. )
Kolkata
743502

Opening Hours

Monday 10am - 4:30pm
Tuesday 10am - 4:30pm
Wednesday 10am - 4:30pm
Thursday 10am - 4:30pm
Friday 10am - 4:30pm
Saturday 10am - 2pm

Telephone

+919831155580

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Narayanpur High School - Old Site H.S. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Narayanpur High School - Old Site H.S.:

Shortcuts

Share