Journalism and Mass communication Tutor

Journalism and Mass communication Tutor

Share

This is to help the students of Journalism and Mass communication

20/04/2026

কলুষিত কৌশলে জনমত বেচাকেনা
প্রসূন ভট্টাচার্য

পারমানবিক শক্তি ভালো না মন্দ? ‘হ্যাঁ বা না’ দিয়ে এর কোনও উত্তর হয় না। ভালো মন্দের এই বিচারটা আসলে সমস্ত প্রযুক্তির ক্ষেত্রেই খাটে, কমিউনিকেশন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও। যে কমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাজের উন্নয়নকে দ্রুততর করে তোলা যায়, সেই কমিউনিকেশন প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সমাজকে ধংসের দিকে ঠেলে দেওয়াও যায়। আধুনিক কমিউনিকেশন প্রযুক্তি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে এর অপব্যবহার কোনও সশব্দ বিস্ফোরণ ছাড়াই, নিঃশব্দে, চুপচাপ সমাজের গণতন্ত্রকে ধংস করে দিতে পারে।

কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে সংসদীয় গণতন্ত্রের নির্বাচন ব্যবস্থা আর আগের মতো নেই। নির্বাচনে জয় পরাজয় নির্ধারণের ক্ষমতা জনগণের হাত থেকে দূরে চলে যেতে যেতে তা এখন এমনকি রাজনৈতিক দলগুলির কর্মকাণ্ডের ওপরেও পুরোপুরি নির্ভর করছে না। কোনও ভোট কুশলী সংস্থাকে কতো টাকার বিনিময়ে নিযুক্ত করে জনমতে কতখানি অদলবদল ঘটানো যাবে তার ওপরে নির্ভর করছে নির্বাচনের ফলাফল। মোটা টাকা দিলেই আধুনিক কমিউনিকেশন প্রযুক্তির ব্যবহার করে সংস্থাগুলি এনে দেবে কাঙ্ক্ষিত জয়! এরকম সংস্থাগুলিরই গালভরা নাম হলো ‘পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ বা প্যাক।

আই-প্যাক’এর কথা মনে পড়ে গেলো তো? ঠিকই, প্রশান্ত কিশোরের তৈরি এই সংস্থাটি ইন্ডিয়ান প্যাক। নানা নামে আরও অনেক সংস্থা কাজ করছে। আমেরিকা বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় বিশ্বকে পাবলিক রিলেশন শিখিয়েছে, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে রাজনীতিতে ‘প্যাক’ শিখিয়েছে, লবিং শিখিয়েছে। সেগুলি আইনসম্মত ও নিয়ন্ত্রিত বলে গর্ব করে দাবিও করতো। একবিংশ শতাব্দীতে এসে দেখা যাচ্ছে সেগুলি থেকে এপস্টিন ফাইলের দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। এলন মাস্ক ‘আমেরিকা-প্যাক’ গঠন করে যেভাবে ট্রাম্পকে জিতিয়েছেন, তার পরিণতি তো বিশ্ববাসী টের পাচ্ছেন।

একই কৌশল ব্যবহার করে আই-প্যাক এবং বিজেপি’র পোল স্ট্র্যাটেজিস্টরা ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ভারতে বিপদ আরও জোরালো, কারণ এখানে নাগরিকদের অধিকারবোধ ও সচেতনতা কম, আমেরিকার মতো ভোট কুশলীদের নিয়ন্ত্রণের আইনি কোনও ব্যবস্থাও এখানে নেই। ভারতে কোনও স্বচ্ছতা নেই। এখানে তো সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে ইলেক্টোরাল বন্ডের হিসাবই প্রকাশ্যে আসছিল না। এখনও কেউ জানে না আই-প্যাক’এর সঙ্গে চুক্তির পরে তৃণমূল তাদের কত টাকা দিয়ে কী কী কাজ করিয়েছে। ভোটে জিততে বিজেপি, তৃণমূলের মতো দলগুলি ভোট কুশলী সংস্থাগুলির পিছনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের হিসাব দেওয়ার কোনও দায়ই নেই। এগুলি নাকি নির্বাচনী প্রচার খাতে খরচের মধ্যেই পড়ছে না! খরচের কোনও উর্ধ্বসীমার আওতায় আসছে না! ভোট পর্বে নগদ টাকা, মদ, উপঢৌকন বিলোনো ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের লোক দেখানো ব্যস্ততা । মশা ঠেকাতে গিয়ে ওদিকে হাতি গলে যাচ্ছে। টাকার জোরে নির্বাচনে জেতা এখন আক্ষরিক অর্থেই বাস্তবতা।

যারা কেবল চিরাচরিত ধারার রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত তাঁরা হয়তো ভাবছেন, রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নিজস্ব মতাদর্শের ভিত্তিতে নিজস্ব নেতাদের সামনে রেখে নিজস্ব কৌশলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, জনগণ যাকে সমর্থন করে তার ভিত্তিতে কেউ জেতে কেউ হারে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এটা সেকেলে হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলকে এখন পরিচালনা করছে কর্পোরেট স্ট্র্যাটেজিস্ট কোম্পানি। এটা নিছক কিছু টাকার বিনিময়ে কনসালটেন্সি বা পরামর্শদান নয়, এটা বিপুল টাকার বিনিময়ে ভোটে জেতানোর শর্তে রাজনৈতিক দল ও তাদের কাজকর্মকে সম্পূর্ণ পরিচালনার অধিকার। যাতে আধুনিক কমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনমতকে আগাম নিখুঁত পরিমাপ করে খুবই কম সময়ের মধ্যে তাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটানো যায়।

সদ্ব্যবহার হলে এভাবে কমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমাজের উন্নয়নও ঘটানো যায়। বহু সামাজিক বা অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানুষকে শামিল করতে কমিউনিকেশন প্রযুক্তির ব্যবহার করা যায়। যাকে ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন বা উন্নয়ন জ্ঞাপন বলা হয়। অনেক এনজিও এসব কাজ করছে। কিন্তু তাদের সফলতম কারোর মধ্যেও প্রশান্ত কিশোর কিংবা সুনীল কানুগোলুর মতো অর্থ যশ প্রতিপত্তি দেখেছেন?

বড় বড় কোম্পানিও তাদের পণ্য ও পরিষেবা বিক্রয়ের জন্য পেশাদারি দক্ষতা নিয়োগে একাজ করে বাণিজ্যিক মুনাফার লক্ষ্যে। বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা, সেই তথ্যের বিশ্লেষণ করে বাজার ও ভোক্তাদের যথাসম্ভব বোঝা, সেই পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির পণ্য ও পরিষেবা বিক্রি বৃদ্ধির নির্দিষ্ট স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণ করা এবং সেই স্ট্র্যাটেজির রূপায়ণের জন্য প্রচার ও অন্যান্য কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ভোক্তাদের মনোভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো। লক্ষ্য মুনাফা। কোম্পানিগুলির এই কাজের ওপরে কম বেশি নজরদারিও আছে, আইনি নিয়ন্ত্রণ বিধি আছে, ক্রেতা বা ভোক্তাদের সুরক্ষা ও সচেতনতার বন্দোবস্ত আছে।

কিন্তু এখন রাজনৈতিক দল বিপুল বিনিয়োগে সেই পদ্ধতি ব্যবহার করার মানে নিশ্চিতভাবেই তারাও ভোটের বাজারে মুনাফা করতে নেমেছে, জনসেবা করতে নয়। রাজনীতি তো ব্যবসা নয়, তাহলে ‘মুনাফা’ আসে কোথা থেকে? সোজা কথায়, ভোটে জিতে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর লুট দুর্নীতির মাধ্যমে।

প্রশান্ত কিশোরের উত্থানের শুরুর দিকে তাকিয়ে দেখুন। তাঁর সংস্থার নাম তখন আই-প্যাক ছিল না। ২০১৩ সালে সংস্থার নাম ছিল সিএজি, সিটিজেনস্‌ ফর অ্যাকাউন্টেবল গভার্নেন্স। দুষ্কর্ম আড়াল করতে একটা সুন্দর নাম দেওয়া এবং উদ্দেশ্য হিসাবে ঘোষণা করা যে নাগরিকদের তথ্য জানিয়ে সক্ষম ও সরব করে তোলা হবে যাতে তারা প্রশাসনকে সুশাসনে দায়বদ্ধ করে তুলতে পারে। কার্যক্ষেত্রে তারা কী করল? গুজরাট দাঙ্গায় কালিমালিপ্ত নরেন্দ্র মোদীর গায়ের কালি মুছে ২০১৪ সালে তাঁকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করে তুললো। এটাই তাহলে দেশবাসীকে সচেতন ও সক্ষম করে তোলা? সুশাসন কায়েম করার নমুনা? নাকি কুৎসিত কদর্য ইমেজকে সাজিয়ে গুছিয়ে মিথ্যা প্রচারে সুন্দর করে দেখানোর সাফল্য?

আই-প্যাক সহ যে কোনও কোম্পানির ওয়েবসাইটে যান, তাদের কর্ণধারদের বক্তব্যগুলো পড়ুন ও শুনুন। তাদের মোদ্দা কথা, ‘আমাদের কাছে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো রয়েছে যা ব্যবহার করে আমরা যে কোনও রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠনের অনুকূলে জনমত সংগঠিত করে তুলতে পারি। কিন্তু এটা ভুল ধারণা যে আমরা ক্লায়েন্টদের নিছক পরামর্শদান করে থাকি। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করার জন্য আমরাই স্ট্র্যাটেজি তৈরি করি ও তা অনুসরণ করে ক্লায়েন্টদের পদক্ষেপ নিতে বলি। সাফল্য শুধু আমাদের স্ট্র্যাটেজির ওপরেই নির্ভর করে না, তা রূপায়ণে আমাদের নির্দেশ ক্লায়েন্ট সঠিকভাবে পালন করছে কিনা তার ওপরেও নির্ভর করে।’

সিএজি থেকে নাম পরিবর্তন করে আই-প্যাক হওয়ার পরে এই সংস্থা বিজেপি থেকে কংগ্রেস, তৃণমূল, আপ, জেডি(ইউ), নানা দলকে ভোটে জেতানোর বরাত নিয়ে কাজ করেছে। এটা তো ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের মধ্যে কোচ বদলের খেলা নয়। যদি গতকাল ‘ক’ দলকে হারাতে ‘খ’ দলের হয়ে প্রচার করে থাকি এবং তারপরে আজকে ‘খ’ দলকে হারাতে ‘ক’ দলের প্রচারের দায়িত্ব নিই, তাহলে গতকাল আর আজকের দুটো প্রচারই ‘সত্য’ হতে পারে না। কমিউনিকেশনের জ্ঞান এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে পেশাদারি দক্ষতা সহ নিছক মিথ্যা প্রচার। ভোট কুশলী সংস্থার পদ্ধতিতে এখানে দূষণ অনিবার্য। জনস্বার্থবাহী, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সম্প্রসারণের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গেলে তার থেকে ‘মুনাফা’ লোটা সম্ভব নয়। ‘মুনাফা’ লোটা রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করে ভোট কুশলী সংস্থার লুটের ভাগীদারী নিশ্চিত করতে গেলে জনসাধারণ, বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব নয়।

ভোট কুশলী সংস্থার সাফল্য এবং সুনামও এখানেই। সংস্থাগুলির উঁচু পদে দায়িত্ব পালন করে বেরিয়ে আসার পরে অনেকেই ফাঁস করে দিচ্ছেন ক্লায়েন্ট রাজনৈতিক দলকে জেতাতে দেদার নীতিহীন ও অপরাধজনক কাজের নমুনা। শাসকদলের হয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে অবাধে সরকারি ফাইল থেকে ডেটা চুরি, সরকারি প্রশাসনকে দিয়ে বৈষম্যমূলক কাজ করানো, ঘুষ দেওয়া, পুলিশকে দিয়ে বেআইনি কাজ করানো, ফোনে আড়িপাতা এসব তো আছেই। এমনকি সাম্প্রদায়িক বা জাতিগত বিরোধ লাগানোর প্রচার করতেও এরা কসুর করে না। মার্কসের সেই কথা স্মরণ করুন, একশো শতাংশ মুনাফার জন্য পুঁজি মানুষ খুন করতেও পিছপা হয় না। ভোট কুশলী সংস্থা আর তার ক্লায়েন্ট রাজনৈতিক দলের কাছে ভোটে জেতা আর মুনাফা তো সমার্থক। তাদের হাতে কমিউনিকেশন প্রযুক্তির ব্যবহার কলুষিত হবে না?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা ব্যানার্জি নিজেই তৃণমূল দলকে আই-প্যাকের হাতে তুলে দিয়েছেন। তৃণমূল এখন একটি কর্পোরেট রাজনৈতিক কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে যার প্রতিটি পদক্ষেপ নির্ধারিত হয় দলীয় বৃত্তের বাইরে, আই-প্যাকের অফিসে। এমনকি সংবিধান বহির্ভূতভাবে প্রশাসনিক অফিসের ভিতরেও কাজ করছে আই-প্যাকের হাত। মমতা ব্যানার্জি ও তাঁর ভাইপো আই-প্যাক’কে যে এক্তিয়ার দিয়েছেন তাতে তৃণমূলের বাকি সমস্ত নেতা থেকে জনপ্রতিনিধি এমনকি মন্ত্রীরাও আসলে ঐ কোম্পানির হুকুম পালনের ভৃত্যে পরিণত হয়েছেন। আই-প্যাকের ভৃত্য হলে যদি ভোটে জেতা যায়, যদি কোটি কোটি টাকা কামানো যায় তাহলে তাতে আপত্তির কি আছে? একই কৌশলে যদি বিজেপি’র জনপ্রতিনিধি হয়ে টাকা কামানো যায়, তাহলে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সংবিধান বাঁচলো কি মরলো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় লাভ কী?
প্রযুক্তির অপব্যবহারে রাজনীতিকে এভাবে কলুষিত করতে পারলে আটকানো যাবে বামপন্থীদের। কারণ তাদের রাজনীতিতে আগে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থরক্ষার মতাদর্শ, তারপরে সেটার অনুসারী কৌশল। প্রশান্ত কিশোর, অমিত মালব্য, কিংবা সুনীল কানুগোলুদের ভৃত্য হয়ে জনমতে সুইং ঘটানোর আশায় তারা মন্দির নির্মাণ কিংবা মসজিদ নির্মাণের কৌশলে শামিল হতে পারে না। কিন্তু সমস্যাটা তো আসলে রাজনৈতিক দল বা নেতাদের নয়, সমস্যাটা আমাদের মতো সাধারণ জনগণের। ভোটকুশলীদের রাজনীতি শেষপর্যন্ত আমাদেরকে প্রতারণা করারই ব্যবসা। ভোটের আঙ্গুল নিয়ন্ত্রণ করুক আমাদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার প্রয়োজনগুলো। সেটাকে কোনও ‘প্যাক’ প্রলোভনে নিয়ন্ত্রণ করছে না তো?

17/04/2026

১) https://www.facebook.com/share/v/1bmjAVMiZx/

২) https://www.facebook.com/share/v/1CKhV1saci/

যারা Journalism and Mass Communication সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনা করবে কিনা ভাবনা চিন্তা করছো তাদের জন্য দুটো পুরনো পোস্টের লিঙ্ক আবার দিলাম। যারা আগ্রহী তারা পার্ট ১ দেখে তারপরে পার্ট ২ দেখো।
(For Tuition Contact 079808 38572)

15/04/2026

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। সবাই ভালো থেকো। সবার মঙ্গলের মনোভাব রেখো।
একটা পুরনো লেখা আবার দিলাম। পড়ে নিও।

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। সবাই ভালো থেকো, আনন্দে থেকো। সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করার মতো শক্তি অর্জন করো।
এই ফেসবুক পেজ যেহেতু কেবলমাত্র জ্ঞান চর্চায় নিবেদিত, তাই এই সুযোগে বাংলা নববর্ষ সম্পর্কে তোমাদের বিস্তারিত জানানোর জন্য আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি লেখা এখানে তুলে দিলাম। পড়ে দেখতে পারো।

কখনও শরৎ, কখনও অগ্রহায়ণ
বার বার বদলেছে বাঙালির নববর্ষ
চঞ্চলকুমার ঘোষ
পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ। বছরের প্রথম দিন। পৃথিবীর সব দেশেই পালন করা হয় নববর্ষ। চলে আনন্দ-অনুষ্ঠান, নাচগান। প্রকৃতপক্ষে এ বর্ষবরণের উৎসব। দূর অতীতে বাংলায় তেমন কোনও অনুষ্ঠান হত না। পয়লা বৈশাখ মানে ছিল হালখাতার দিন।
‘হাল’ শব্দটি সংস্কৃত ও ফারসি, দু’টি ভাষাতেই পাওয়া যায়। সংস্কৃত ‘হল’ শব্দের অর্থ লাঙল। তার থেকে বাংলায় এসেছে হাল। আর ফারসি ‘হাল’ মানে নতুন। আজকের পয়লা বৈশাখে সে কালে নববর্ষ পালনের উৎসব হত না, এটি ছিল ব্যবসায়ীদের নতুন খাতা খোলার দিন। আর এই সময় রাজা, মহারাজ, সম্রাটরা প্রজাদের কাছ থেকে কৃষিজমির খাজনা আদায় করতেন। ভারতে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরি পঞ্জিকা অনুসারে কৃষিপণ্যের খাজনা আদায় করতেন। হিজরি সন গণনা করা হত চাঁদের হিসেবে। আর চাষবাস নির্ভর করত সৌরবছরের উপর। এতে অসময়ে কৃষকদের খাজনা দিতে হত। সেই জন্যে সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ‘ফসলি সন’, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। আবার অনেকের মতে বাংলার রাজা শশাঙ্ক এই বঙ্গাব্দের সূচনা করেন।
আকবরের আমল থেকেই পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন শুরু হয়। জানা যায়, এই দিনেই হজরত মহম্মদ কুরাইশদের অত্যাচারে জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় গিয়ে আশ্রয় নেন। এই ঘটনা আরবি ভাষায় ‘হিজরত’ নামে পরিচিত। এর ৯৬৩ বছর পর যখন আকবর সিংহাসনে বসেন (৯৬৩ হিজরি, ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ), তখন এই হজরত মহম্মদের স্মৃতিবিজড়িত এই পুণ্য দিনটি পালনের রীতি শুরু হয়। প্রত্যেকে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সব খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকত। বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খান জমিদারদের উপর নবাবি কর্তৃত্ব রাখার জন্যে বৈশাখে ‘পুণ্যাহ’ প্রথা চালু করেন। সেই সময়ে জমিদাররা নৌকো, পালকিতে করে মুর্শিদাবাদে আসতেন। নবাবের দরবারে খাজনা জমা দিতেন। তার পর সোনার মোহর নজরানা দিলে নবাব তাঁদের পদমর্যাদা অনুসারে পাগড়ি, পোশাক, কোমরবন্ধ দান করতেন। জানা যায়, এই রকম একটি অনুষ্ঠানে বাংলার নানা অঞ্চল থেকে প্রায় চারশো জমিদার আর রাজকর্মচারী এসে খাজনা জমা দিয়েছিলেন। মুর্শিদকুলি খান পুণ্যাহ নাম দিলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল হালখাতারই আর এক রূপ। সম্রাট প্রচলিত পয়লা বৈশাখ নবাব মারফত বাংলাদেশের বাঙালিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের থেকে ক্রমশ পশ্চিমবাংলায়ও নববর্ষ পালন শুরু হয়।
আজ আমরা পয়লা বৈশাখের যে দিনটিকে নববর্ষ বলি, দুশো বছর আগে বাংলায় তার প্রচলন ছিল না। সে সময়ে নববর্ষের উৎসব বলতে ইংরেজি নববর্ষকে বোঝানো হত। সে কালের কবি ঈশ্বর গুপ্ত এই উপলক্ষে একটি কবিতা লিখেছিলেন,
খৃষ্ট মতে নববর্ষ অতি মনোহর।
প্রেমানন্দে পরিপূর্ণ যত শ্বেত নর॥
চারু পরিচ্ছদযুক্ত রম্য কলেবর।
নানা দ্রব্যে সুশোভিত অট্টালিকা ঘর॥
এর আগে বাংলা নববর্ষে এই অট্টালিকা সুশোভিত করার কথা কোথাও পাওয়া যায় না।
তখন বর্ষবিদায়ে গাজনের উৎসব, চড়ক পালন হত। উনিশ শতকে ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’-য় সে কালের বর্ষশেষের ভারী সুন্দর বর্ণনা রয়েছে— “এদিকে আমাদের বাবুদের গাজনতলা লোকারণ্য হয়ে উঠল, ঢাক বাজতে লাগল, শিবের কাছে মাথা চালা আরম্ভ হল, সন্নাসীরা উবু হয়ে বসে মাথা ঘোরাচ্ছে, কেহ ভক্তিযোগে হাঁটু গেড়ে উপুড় হয়ে পড়েছে— শিবের বামুন কেবল গঙ্গাজল ছিটুচ্ছে, আধ ঘণ্টা মাথা চালা হল, তবু ফুল আর পড়ে না।”
এর পরের দিন, পয়লা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের প্রজাদের মিষ্টান্ন বিতরণ করতেন, আপ্যায়ন করতেন। এই উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন হত। এই উৎসব ছিল একান্ত ভাবেই নতুন ফসলের অনুষ্ঠান। বাংলার সমাজ-সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতে এর ছোঁয়া পড়েনি।
আসলে সে যুগে নববর্ষের ধারণা ছিল অন্য রকম। দূর অতীতে হিম (শীত) ঋতু থেকে বর্ষ গণনা আরম্ভ হত। তাঁরা বলতেন, আমরা যেন শত শরৎ জীবিত থাকি। এই ‘শরৎ’ শব্দের অর্থ বৎসর। আর তিথি-নক্ষত্র দেখে বর্ষা আর শরৎকালের সন্ধিক্ষণকেই বলা হত নববর্ষ প্রবেশের উৎসব। অষ্টমী পুজো শেষে নবমী শুরুর সন্ধিক্ষণ ছিল পুরনো বছর শেষ, নতুন বছরের শুরু। তখন ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে বরণ করা হত নতুন বছরকে। ধীরে ধীরে নববর্ষের এই ভাবনা থেকে সরে গিয়ে উত্তরকালে এই অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে শারদোৎসবের অনুষ্ঠান।
আবার প্রাচীনকালের মানুষ যারা চন্দ্র-সূর্যের গতি লক্ষ করে বছর গণনা করতে জানত না, তারা অগ্রহায়ণ (অগ্র অর্থাৎ প্রথম, হায়ন অর্থ বৎসর) মাসকেই প্রথম মাস হিসেবে বিবেচনা করত। এবং এই মাস থেকে নতুন বৎসর গণনা করত। এর পিছনে কারণ ছিল কৃষিপ্রধান এই দেশে সেই সময়ে কৃষকের ঘর নতুন ফসলে ভরে উঠত। তাই তাদের কাছে হেমন্ত ঋতুর অগ্রহায়ণই ছিল শ্রেষ্ঠ মাস, মার্গশীর্ষ বা প্রথম মাস। নববর্ষের এই ভাবনা একান্তই সীমাবদ্ধ ছিল গ্রামীণ কৃষিজীবীদের মধ্যে।
তখন চৈত্র শেষে বাংলার প্রান্তে প্রান্তে হত গাজন, চড়ক। এটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যা প্রধানত নিম্নবর্গের মানুষরা পালন করতেন। অন্য দিকে ফসল তোলা শেষ হওয়ার পর যে পুণ্যাহ উৎসব পালন করা হত, তার সঙ্গে জড়িত ছিল মানুষের অর্থনৈতিক জীবন। এক দিকে রাজস্ব জমা দেওয়া হত, তার সঙ্গে বাকি রাজস্ব ছাড় করা হত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনও কারণে রাজস্ব দিতে না পারলে তাও মকুব করা হত। জমিদাররা এই সময় প্রজাদের ঋণ দিতেন। রায়তরা জমিদারের কাছারিতে একত্রিত হয়ে জমিদার বা নায়েবের কাছ থেকে পান বা পানপাতা উপহার পেতেন। এই দিনটি ছিল সামাজিক আদানপ্রদানের দিন। স্বাভাবিক ভাবেই ধীরে ধীরে সেই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম হয়ে ওঠে। ক্রমে তা গোটা সমাজ জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িয়ে পড়ে। প্রথমে যা ছিল শুধু কৃষি উৎসব বা রাজস্ব আদায়ের বিষয়, এক সময় তা হয়ে উঠল নতুন সংস্কার, নতুন সংস্কৃতি, নতুন চিন্তাধারা, তার সঙ্গে নব জীবনের আহ্বান। যা কিছু অসুন্দর, জীর্ণ, পুরাতন, তা শেষ হয়ে যাক। পয়লা বৈশাখ সেই শুভ সূচনার দিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম থেকেই নববর্ষের উৎসব কোনও ধর্মের বাঁধনে বাঁধা পড়েনি। সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ এই উৎসবে বাংলার মানুষ— সে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ কি খ্রিস্টান— মহানন্দে যোগ দিতেন। একে অন্যের বাড়িতে যাওয়া-আসা, শুভেচ্ছা, বিনিময়, খাওয়াদাওয়া, আনন্দ উৎসব মিলে সারা বছরের অন্য দিনগুলির থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হয়ে উঠত এই দিনটি।
অজিতকুমার গুহ তাঁর স্মৃতিচারণায় লিখছেন— ‘...চৈত্রের সংক্রান্তি আসার কয়েক দিন আগে থেকেই আমাদের ঢেঁকিঘরটা মুখর হয়ে উঠতো। নববর্ষের প্রথম দিন ছেলেমেয়েদের হাতে নাড়ু-মোয়া, ছানার মুড়কি ও সরভাজা দিতে হবে; তারই আয়োজন চলতে থাকতো। বাড়ি থেকে অনেক দূরে শহরের এক প্রান্তে আমাদের ছিল মস্ত একটা খামারবাড়ি। সেখান থেকে বাড়ির বাইরে গোলাবাড়িতে চৈতালী ফসল উঠতো। আর আঙিনার প্রান্তে তৈরি হতো বড় বড় খড়ের গাদা। উঠানের একধারে বড় দুটো কনকচাঁপার গাছ। এই শেষ বসন্তেই তাতে ফুল ধরতো। আর এলোমেলো বাতাসে তারই গন্ধ বাড়িময় ঘুরে বেড়াতো। কোনো কোনো দিন কালবোশেখি আসত প্রলয় রূপ নিয়ে। সারাদিন রৌদ্র দাবদাহে প্রতপ্ত মাটিকে ভিজিয়ে দিত। কচি কচি আমগুলো গাছ থেকে উঠানের চারদিকে ছড়িয়ে পড়তো আর ভেজা মাটি থেকে একটা সোঁদা গন্ধ নাকে এসে লাগতো। তারপর পুরনো বছরের জীর্ণ-ক্লান্ত রাত্রি কেটে গিয়ে নতুন বছরের সূর্যের অভ্যুদয় ঘটতো...। ’
দীনেন্দ্রকুমার রায়-এর ‘পল্লীচিত্র’ গ্রন্থে ধরা পড়েছে বৈশাখী মেলার বিচিত্র এক রূপ— ‘দোকান পশারীও কম আসে নাই…। দোকানদারেরা সারি সারি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অস্থায়ী চালা তুলিয়া তাহার মধ্যে দোকান খুলিয়া বসিয়াছে। ...এক এক রকম জিনিসের দোকান এক এক দিকে। কোথাও কাপড়ের দোকান, কোথাও বাসনের, কোথাও নানাবিধ মনিহারি দ্রব্যের দোকান। এত রকম সুন্দর পিতল-কাঁসার বাসন আমদানি হইয়াছে যে, দেখিলে চক্ষু জুড়ায়। কৃষ্ণনগর হইতে মাটির পুতুলের দোকান আসিয়াছে; নানা রকম সুন্দর সুন্দর পুতুল...। জুতার দোকানে চাষীর ভয়ঙ্কর ভিড়। কাপড়ের দোকানে অনেক দেখিলাম। ...লোহালক্কড় হইতে ক্যাচকেচের পাটী পর্যন্ত কত জিনিসের দোকান দেখিলাম…। এসব মেলায় সম্প্রদায় নির্বিশেষে মানুষের আনাগোনা। পুতুল, কাঠের ঘোড়া, টিনের জাহাজ, মুড়ি-মুড়কি, খই-বাতাসা, কদমা-খাগরাই, জিলিপি-রসগোল্লা। সবই চাই।...’
আবার নববর্ষের ভিন্ন রূপ দেখি আহমদ ছফা-র লেখায়, ‘...আমরা ছোটবেলায় দেখেছি বেলা আট-নয়টা বাজার সাথে সাথে বাড়িতে আচার্য বামুন আসতেন। তিনি পাঁজি খুলে অনেকটা আবৃত্তির ঢঙে বলে যেতেন, এই বছরের রাজা কোন গ্রহ, মন্ত্রী কোন গ্রহ, এ বছরে কত বৃষ্টি হবে, কত ভাগ সাগরে আর কত ভাগ স্থলে পড়বে, পোকামাকড়, মশা-মাছির বাড় বৃদ্ধি কত। তারপর আমাদের কোষ্ঠী দেখে দেখে গণকঠাকুর বলে যেতেন। এ বছরটি কার কেমন যাবে। সমস্ত মুসলিম বাড়িতে কোষ্ঠী রাখা হতো না— সব বাড়িতে গণকঠাকুরও আসতেন না।
..আমাদের পরিবারের সঙ্গে যেসব হিন্দু পরিবারের সুসম্পর্ক ছিল সেসব বাড়ি থেকে মুড়ি-মুড়কি, মোয়া, নাড়ু এগুলোর হাঁড়ি আসতো। এ হাঁড়িগুলো ছিল চিত্রিত। আমাদের গ্রামে এগুলোকে বলা হতো ‘সিগ্যাইছা পাতিল’। আমার মা এ হাঁড়িগুলো যত্ন করে ছাদের ওপর রেখে দিতেন। আমরা সুযোগ পেলেই চুরি করে খেতাম।... কৃপণ সাধু ময়রা পর্যন্ত সেদিন দাম না নিয়ে দু-একটা কদমা অথবা দু-চারখানা গজা অম্লান বদনে খাইয়ে দিত। তখন এইটুকু সৌভাগ্যের জন্যেই পয়লা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে দ্বিধা হয়নি।’
পয়লা বৈশাখকে যিনি বাঙালির প্রাণের সঙ্গে জুড়ে দিলেন, তিনি রবীন্দ্রনাথ। যা ছিল বাণিজ্যিক, তা চিরকালের জন্যে ধরা পড়ল আমাদের চিন্তা-চেতনার মধ্যে। তাঁর কবিতা, গান, প্রবন্ধ, নাটকে বার বার এসেছে নতুন বছরের স্বাগতবাণী। এ তাঁর কাছে নবজন্ম। পুরনো জীর্ণ জীবনের অস্তিত্বকে বিদায় দিয়ে নতুন জীবনে প্রবেশের আনন্দ অনুভূতি। ১৯৩৯ সালের ১৪ এপ্রিল (পয়লা বৈশাখ) শ্যামলী-প্রাঙ্গণে সকালবেলায় রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘নববর্ষ-ধরতে গেলে রোজই তো লোকের নববর্ষ। কেননা, এই হচ্ছে মানুষের পর্বের একটা সীমারেখা। রোজই তো লোকের পর্ব নতুন করে শুরু।’
কিন্তু আজ আর নববর্ষ নতুন চেতনার আলোকবর্তিকা নিয়ে আসে না। উৎসব আছে, প্রাণ নেই। এক সময় সব ধর্মের মানুষ বিভেদ ভুলে উৎসবের দিনে একই সঙ্গে মাতোয়ারা হয়ে উঠতেন। সেখানে এখন ধর্ম আর রাজনীতির প্রচ্ছন্ন শাসন মানুষের থেকে মানুষকে আলাদা করে দিচ্ছে। অথচ পয়লা বৈশাখ তো দ্বিধাহীন মহামিলনের উৎসব। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ, শামসুর রহমানরা এই দিনটিকে কেন্দ্র করে মিলনের গান গেয়েছেন, অশুভকে দূর করে শুভর বার্তা।

14/04/2026

আনন্দবাজার দাম বাড়ালো। বাকি newspaper গুলোও হয়তো বাড়াবে। কেন প্রিন্ট মিডিয়ার এই সঙ্কট? সংবাদপত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার? তোমাদের মতামত কী?
(For Tuition Contact 079808 38572)

13/04/2026

Attention Sem 4 Students (CU_UG)
এবার তোমাদের সিলেবাস কিন্তু বেশ বড়। মেজর’এ চারটে পেপারের জন্য তৈরি হতে হবে। কাজেই বিলম্ব কোরো না।

12/04/2026

Newspaper ছাপা হয় কিভাবে...
(For Tuition Contact 079808 38572)

09/04/2026

Editorial, Feature লেখা practice করেছো?
(For Tuition Contact 079808 38572)

Photos from Journalism and Mass communication Tutor's post 03/04/2026

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীরা কেমন? জনগণের সামনে তুলে ধরার সাংবাদিকতা...
(For Tuition Contact 079808 38572)

30/03/2026

Election guideline...
(For Tuition Contact 079808 38572)

23/03/2026

Advertisement and Political campaign...
(For Tuition Contact 079808 38572)

22/03/2026

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতার photo র প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি l যারা photo journalism করতে চাও তারা দেখো, উৎসবের একটা ছবিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ news point না থাকলেও তা কিভাবে মানবিক তৃপ্তিদায়ক হয়ে উঠতে পারে এবং সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় ছাপা হতে পারেl

22/03/2026

War Journalism_Part 2
(For Tuition Contact 079808 38572)

Want your school to be the top-listed School/college in KOLKATA?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Nivedita Lane, Bagbazar
Kolkata
700003