12/09/2021
#স্মরণে_বিভূতিভূষণ
★কলমে:পুষ্পল চক্রবর্ত্তী।
★তাং:১২/০৯/২০২১
***********************************************
১৮৯৪ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় উঃ ২৪ পরগণা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপুরে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়, মাতা মৃণালিনী দেবী। ছেলেবেলা থেকেই চরম আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে বিভূতিভূষণকে পড়াশোনা চালাতে হয়। দারিদ্র্যের কারণেই চিরকাল হেঁটেই স্কুলে যেতেন। এই সময় থেকেই পল্লীগ্রামের সৌন্দর্য দু চোখ ভরে উপভোগ করতেন। পথের সৌন্দর্যই তাঁর মনে প্রকৃতি প্রেম জাগিয়ে তোলে। সবসময় প্রকৃতিকে নিরীক্ষণ করতেন। গাছের ডালে বসে আকাশের বদলাতে থাকা রং দেখতেন। গভীর রাতে দেখতেন গভীর কালো আকাশ। তার প্রতিফলন ঘটেছিল তাঁর লেখনিতে।
"উপেক্ষিতা" নামক উপাখ্যান দিয়ে যে সাহিত্যচর্চার শুরু হয়েছিল, সে কলম আর থামে নি। দু'চোখ ভরে জগৎকে দেখেছেন। সংসার জীবনে দারিদ্র্যতা আর একাকিত্বের আগুনে দগ্ধ হয়ে দুনিয়ার পথ বেয়ে এগিয়ে চলেছেন আর সৃষ্টি করেছেন একের পর এক কালজয়ী সাহিত্যকর্ম।
প্রথম স্ত্রী গৌরী দেবীর মৃত্যু তাঁর মনরাজ্যে চরম অন্ধকার সূচিত করলেও তাঁর বাস্তববোধ ও উন্নত জীবনবোধ ম্লান করতে পারে নি। তাই তাঁর জীবনে যখন রমাদেবীর আবির্ভাব ঘটে এবং দুজন, ক্রমে যখন প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন এবং রমাদেবী তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেন তখন লেখক তাঁর উদ্দেশ্যে বলেন, "আমার সাথে তোমার বয়সের অসম্ভব তফাৎ। তুমি না হয় ছেলেমানুষ, বুঝতে পারছ না, কিন্তু আমি একজন বয়স্ক লোক হয়ে, কি করে তোমাকে ডোবাই"? যা কি না, সেই বাস্তববোধ ও উন্নত জীবনবোধেরই পরিচায়ক। তবে তাঁর ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। দিনলিপিতে তিনি লিখেছিলেন, "ভালোবাসা করুণা নয়, ভালোবাসা সহানুভূতি নয় এমনকি বন্ধুত্বও নয়- ভালোবাসা, ভালোবাসা"।
তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাই, তাঁকে প্রকৃতি ও মানুষের মন নিয়ে এত জটিল কাটাছেঁড়া করতে সাহায্য করেছিল। তার লেখনীর মূল বিষয়বস্তু প্রকৃতি ও মানুষ। প্রকৃতির রূপ বর্ণনা আর মানুষ নিয়ে বিভূতিভূষণ ভয়ের কিছু বাস্তবচিত্র এঁকেছিলেন।
এত তীক্ষ্ণ প্রকৃতি প্রেমের কারণেই বোধ হয়, এইচ. এইচ. জনস্টন, রোসিটা ফোবর্স এর মতো কয়েকজন বিখ্যাত পর্যটকের বই পড়েই আফ্রিকার ভূপ্রকৃতির নিখুঁত বর্ণনায় সাজিয়েছিলেন "চাঁদের পাহাড়"। যে প্রকৃতির স্পর্শ আমরা পাই, "আরণ্যক" ও "দেবযান"-এর মতো সাহিত্যকর্মে।
বিভূতিভূষণের অনেক চরিত্রই অভুক্ত, দারিদ্র্য জর্জরিত।
"পথের পাঁচালী" উপন্যাসে পাই, অপু দুর্গার আঁশ শ্যাওড়ার ফল খাওয়ার গল্প। বিভূতিভূষণ লিখেছেন, জন্মে থেকে তারা কোনও ভাল জিনিস খেতে পায়নি।
"তালনবমী" গল্পে সেই ক্ষুধাতুর, যন্ত্রণাক্লীষ্ট উক্তি, "খা খা-খুব খা- আজ-তালনবমী রে--।"
"দৃষ্টিপ্রদীপ" উপন্যাসে জ্যাঠামশাইয়ের বাড়িতে, জিতুর দাদার, বাড়ির ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সমানভাগে খাবার না পাওয়ার আক্ষেপ লক্ষ্যনীয়।
"সই","পুঁইমাচা" বা "অনুবর্তন"-এ বারবার খিদে উঠে এসেছে, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে। বড়ো বেশি দারিদ্র্য দেখেছেন লেখক, তাই সাহিত্যেও তার ছাপ লক্ষ্যনীয়।
আজ তাঁর জন্মদিনে, অমর কথাসাহিত্যিক #বিভূতিভূষণ_বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরণে আমার অন্তরের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলাম।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏