01/08/2026
ইসলাম গ্রহণের পূর্বে এক ব্যক্তি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অমিয় বাণী শুনে অন্তরে এক অপূর্ব প্রশান্তি অনুভব করতেন। অবশেষে তিনি ইসলামের সত্যতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁর আসল পরীক্ষা শুরু হলো ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই।
তাঁর পিতা-মাতা ছিলেন মূর্তিপূজারী। এত আদরে লালন-পালন করা সন্তান অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছে—এ কথা তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। সন্তানকে নিজেদের ধর্মে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে তাঁরা প্রথমে তাঁর সাথে কথাবার্তা বলা একপ্রকার বন্ধ করে দিলেন। কিন্তু যখন দেখলেন কোনো কিছুতেই সন্তানের ঈমান ও মন পরিবর্তন করা যাচ্ছে না, তখন তাঁরা নবীজী (সা.)-কে দোষারোপ করতে শুরু করলেন। তাঁরা বিলাপ করে বলতে লাগলেন যে, তাঁদের প্রাণপ্রিয় সন্তানকে তাঁদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ কথা শুনে নবীজী (সা.) সেই নবমুসলিম সাহাবীকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, "বলো, তুমি কি কখনো তোমার পিতা-মাতার অসম্মান করেছ? তুমি কি তাঁদের সেবা-যত্ন ও দেখভাল করোনি?"
উত্তরে সেই সাহাবী বিনীতভাবে আরজ করলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কখনোই আমার পিতা-মাতার অনাদর বা অসম্মান করিনি। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আমি সাধ্যমতো তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি ও সাহায্য করেছি। কারণ আপনিই তো শিখিয়েছেন—'যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা কিংবা স্বামীর অবাধ্য হয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।'"
সন্তানের মুখ থেকে ইসলাম ও নবীজীর প্রতি এমন গভীর শ্রদ্ধা এবং পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের এই অকৃত্রিম দায়িত্ববোধ দেখে পিতা-মাতার হৃদয় মুহূর্তের মধ্যেই গলে গেল। তাঁরা বুঝতে পারলেন, ইসলাম কোনো পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে না, বরং মা-বাবার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সেই দিন, সেই মুহূর্তেই সাহাবীর পিতা-মাতা সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করলেন।