18/09/2026
#আত্মঘাতী_মোহ
কতকগুলা সোজা কথা বেশ স্পষ্ট করিয়া বলিবার সময় আসিয়াছে। লোকের মনে' নানা রকমের সন্দেহ জাগিয়াছে বটে, কিন্তু এখনও সেই সন্দেহগুলাকে গলা টিপিয়া মারাই ভদ্রতাসঙ্গত প্রথা। সেই সন্দেহের কথা মুখ ফুটিয়া বাহির করিলেই সবাই মুখ চাপিয়া ধরেন, আর বলেন, "চুপ, চুপ! ওকথা বলিতে নাই। কিন্তু এ পোষাকী লোক-দেখান ভদ্রতা লইয়া আর বেশীদিন ঘর করা চলিবে না। কথাটা এই, "রাজনৈতিক ব্যাপারে এ দেশে মুসলমানদের সহিত হিন্দুদের সম্বন্ধটা কি?” প্রশ্নটা তুলিলেই জনকতক লোক চীৎকার করিয়া বলিয়া উঠেন-"আরে থাম, থাম! এটা কি আবার একটা জিজ্ঞাসা করিবার মত কথা? সবাই ত জানে মুসলমান আমাদের ভাই; আমরা এক মায়ের দুই ছেলে, এক সুন্দরীর দুটি নয়নতারা, এক মাতৃস্তন-প্রশ্রুত দুই ক্ষীরধারা! একথা ত বড় বড় অনেক পূজনীয় নেতাই বলিয়া গিয়াছেন। আজ আবার একথা তুলিবার সার্থকতা কি?”
কথাটা তুলিবার সার্থকতা এই যে আমরা যত জোর করিয়া গায়ে পড়িয়া কবিত্ব-মাখা সম্বন্ধ স্থির করিবার জন্য ব্যস্ত, মুসলমানেরা আদৌ তত ব্যস্ত নয়। কংগ্রেসের গোড়ায় গোড়ায় কংগ্রেসী নেতারা নিজেদের দলে এক আধজন মুসলমানকে পাইলে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাইতেন; কেমন করিয়া ঢাক ঢোল পিটাইয়া তাঁহাদের নেতৃত্বপদ কায়েমী করিবেন সেই চিন্তাতেই বিভোর হইয়া থাকিতেন। কিন্তু তেল সিঁদূর দিয়া ভবীর মন পাওয়া যায় নাই। পাছে কংগ্রেসে মিশিলে তাঁহাদের নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় না থাকে এই ভয়টা তাঁহাদের বরাবরই ছিল। ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সময়েও দুই একজন ভিন্ন কোন মুসলমানই সে আন্দোলনে যোগ দেন নাই। স্বনামধন্য মৌলানা মহম্মদ আলিও তখন স্বদেশী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ছিলেন। বাঙ্গলা দেশ বা বাঙ্গালী জাতির অবস্থা যাই হো'ক, পূর্ব্ববঙ্গে একটা মুসলমান রাজত্ব স্থাপিত হইবে এই আনন্দেই তাঁহারা নাচিয়া উঠিয়াছিলেন। প্রকৃতপক্ষে ১৯২০ সালের পূর্ব্বে খুব অল্পসংখ্যক মুসলমান নেতাই কংগ্রেসে যোগ দিবার আবশ্যকতা অনুভব করিয়াছিলেন।
১৯২০ সালে যে মুসলমানেরা কংগ্রেসে আসিয়া যোগ দিয়াছিলেন তাহা স্বরাজের খাতিরে নয়, খিলাফতের খাতিরে, খিলাফৎ রক্ষাই মূল উদ্দেশ্য, স্বরাজ লাভ'তার উপায় মাত্র। হিন্দুদের প্রতিষ্ঠান বলিয়া যে কংগ্রেসকে এতদিন তাঁহারা পাশ কাটাইয়া আসিয়াছিলেন সেই কংগ্রেস অসহযোগ আন্দোলনের কারণ নিৰ্দ্দেশ করিবার সময় আগে নাম করিলেন খিলাফতের, কিন্তু তবুও মুসলমানেরা স্বতন্ত্র খিলাফৎ সভা স্থাপন করিতে ছাড়িলেন না। খিলাফৎ নষ্ট হইলে কি যে ভীষণ অনর্থ ঘটিবে তাহা হিন্দুরা বুঝুক না বুঝুক, মুসলমানদিগকে নিজেদের সঙ্গে পাওয়ার আনন্দেই অনেকে কাঁদিয়া অধীর হইয়া উঠিয়াছিল। খিলাফতের জন্ম যাহাদের প্রাণটা অতটা কাঁদিয়া উঠে নাই, তাহারাও কতকটা দেখাদেখি, কতকটা মহাত্মা গান্ধীর ভয়ে দুই একফোঁটা চোখের জল ফেলিয়া কর্তব্য পালন করিয়াছিল। কিন্তু যেদিন কামাল পাশার কল্যাণে খিলাফৎ প্রসঙ্গ সমাপ্ত হইল, সেদিন আর হিন্দুর সহিত মিশিয়া স্বরাজ্যলাভের জন্য বিশেষ একটা আগ্রহ মুসলমানদের মধ্যে দেখা গেল না।
খিলাফৎকে লক্ষ্য করিয়া ছোট বড় মৌলানা মৌলভী মুসলমানদের মধ্যে যে তীব্র স্বাতন্ত্র্যবোধ ও গোঁড়ামি ফুটাইয়া তুলিয়াছিলেন সেইটুকুই দেশের ভাগ্যে রহিয়া গেল। স্বরাজ কথাটা বাঁচিয়া রহিল, কিন্তু মুসলমানদের মনে তাহার অর্থ হইল খিলাফতী স্বরাজ। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমানকে মিলাইবার জন্য যত চেষ্টা হইয়াছে- তিলক মহারাজের লক্ষ্ণৌ প্যাক্ট, মহাত্মাজীর খিলাফতী ক্রন্দন, দেশবন্ধুর বেঙ্গল প্যাক্ট, দিল্লীর ইউনিটী কনফারেন্স-আজ মনে হয় সবই ভস্মে ঘি ঢালা হইয়াছে। ভারতবর্ষের মুসলমানদের মনে দেশাত্মবোধ অপেক্ষা নিজ সমাজের স্বাতন্ত্র্যবোধ এত প্রবল যে এক উদ্দেশ্য ও কৰ্ম্মপন্থা লইয়া হিন্দু ও মুসলমানের পক্ষে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করিতে যাওয়া একরূপ অসম্ভব। খিলাফৎ সভার গত অধিবেশনে মৌলানা মহম্মদ আলি প্রমুখ নেতৃবর্গের মুখে একথা বেশ স্পষ্ট করিয়াই বাহির হইয়াছে। কংগ্রেসী নেতাদের মধ্যে অনেকেই যেন কতকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়িয়াছেন।
মহাত্মা গান্ধীর প্রভাবে একথাটা অনেকেই স্বতঃসিদ্ধবৎ মানিয়া লইয়াছেন যে দেশের স্বাধীনতা লাভে অহিংস পথটাই প্রশস্ত। খাজনা ট্যাক্স বন্ধ করিয়া আমলাতন্ত্রকে অচল করিয়া দেওয়ার হুমকিটা মাঝে মাঝে কোন কোন নেতার মুখে শুনিতে পাওয়া যায় বটে, কিন্তু সেটা সম্ভবপর করিয়া তুলিতে হইলেও, হিন্দু-মুসলমানে একযোগে কাজ করা চাই। সুতরাং ঐ সিভিল ডিসোবিডিয়েন্স কথাটাই যাঁহাদের রাজনৈতিক মূলধন, ঐটাকে ভাঙ্গাইয়াই যাঁহাদের রাজনীতির ব্যবসা চালাইতে হয়, তাঁহারা মনে মনে যাই বুঝুন, বাহিরে হিন্দু-মুসলমানের একতার ভড়ং তাঁহাদের বজায় রাখিতেই হয়। যাঁহারা মনে মনে বুঝিয়া রাখিয়াছেন যে ইংরেজকে কাবু করিবার জন্য আমাদের চীৎকার মাত্রই সম্বল, তাঁহারা নিজেদের সুরের সঙ্গে মুসলমানের সুর মিলাইতে পারিলেই কৃতার্থ হন; কাজেই মুসলমানদের পিঠে হাত চাপড়াইয়া, অত্যাচার দেখিলে চোঁখ বুজিয়া, ভাল ভাল ফাঁকা কথায় হিন্দু-মুসলমানের মিলন প্রচার করিয়া তাঁহাদের দুই কুড়ি সাতের খেলা বজায় রাখিতে হয়। সত্যকথা বলিতে গেলে বলিতে হয় আজকালকার কংগ্রেসী নেতাদের অধিকাংশই এই দলে।
হিন্দু মুসলমানের দাঙ্গা বাধিলে আমরা হয় মুসলমানদের গালি পাড়ি, না হয় মিলনের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে গোটাকতক সদুপদেশ দিয়া নিশ্চিন্ত হই, কিন্তু কেন যে মিলন হয় না, এ কথাটা তলাইয়া বুঝিবার চেষ্টা করিনা। আমি ধরিয়া লই যে যাহারা মারামারি করে' তাহারা গুণ্ডা, যাহারা ভেদ প্রচার করে তাহারা হয় পাজি, নয় ইংরেজের খয়েরখাঁ। তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে প্রচার করিতে লাগিয়া যাই যে ঐ ইংরেজ বেটারাই হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ভেদ সৃষ্টি করিয়া দিতেছে। ইংরেজ রাজত্বের প্রভাবে যে হিন্দু-মুসলমানের একটা পাকা বোঝাপড়ার দেরী হইয়া যাইতেছে সে বিষয়ে সন্দেহ নাই, আর হিন্দু-মুসলমানের ভেদের সহিত ইংরেজের শাসননীতির যে কোন সম্বন্ধ নাই, একথাও বলা চলে না। কিন্তু সব দোষটা ইংরেজের ঘাড়ে চাপাইলে যে সত্যের মর্য্যাদা রক্ষা হয়, তাহাও মনে হয় না।
শুধু ইংরেজের খয়েরখাঁ গুলিই যদি হিন্দু-মুসলমানের মিলনের পথে অন্তরায় হইয়া দাঁড়াইত তাহা হইলে ওকথা বলা চলিত; কিন্তু খিলাফতের যাঁহারা বড় বড় পাণ্ডা, ইংরেজকে তাড়াইয়া দেশকে স্বাধীন করিতে যাঁহারা দৃঢ়সঙ্কল্প, তাঁহারাও ইসলামী প্রাধান্য স্থাপন করিতে না পারিলে হিন্দুর সহিত, মিলিয়া রাজনৈতিক আন্দোলন চালাইতে পরাম্মুখ। সুতরাং হিন্দু-মুসলমানের মিলন কেন হয় না একথা বুঝিতে গেলে শুধু ইংরেজের ভেদনীতির উপর দোষ চাপাইয়া নিশ্চিন্ত হইলে চলিবে না। গোড়ার কথাটা বলিতে গেলে বোধ হয় মুসলমান ধৰ্ম্ম লইয়াই টানাটানি করিতে হয়।
মুসলমানেরা অপর ধর্মাবলম্বীকে, বিশেষতঃ মূর্তিপূজক হিন্দুকে একেবারে কা*র বলিয়াই ঠিক করিয়া রাখিয়াছে। তাহাদের মতে পারলৌকিক সদগতির পথ হিন্দুর কাছে একেবারেই রুদ্ধ। সমস্ত জগৎই যে এককালে মুসলমান ধৰ্ম্ম গ্রহণ করিবে, আর বিধর্মীকে এই মুসলমান ধর্ম্মে দীক্ষিত করিতে পারিলে যে পরম পুণ্য সঞ্চয় হয়, এ বিশ্বাস অধিকাংশ মুসলমানের মনেই বর্তমান। তাহার উপর মুসলমান ধৰ্ম্মটা এদেশের জিনিষ নয়; বিদেশ হইতে বিজেতাকর্তৃক আনীত। পাঠান মোগলেরা এদেশ জয় করিয়াছিল বলিয়া মোগল পাঠানের বংশধরেরা, এমন কি যাহারা নিজেদের ধর্ম ছাড়িয়া মোগলপাঠানের নিকট হইতে মুসলমান ধৰ্ম্ম গ্রহণ করিয়াছিল তাহারাও, ধৰ্ম্মবিষয়ে ও পরাক্রমে হিন্দুদিগকে আপনাদের অপেক্ষা হীন বলিয়া মনে করে।
পাঠান ও মোগল রাজত্বকালে মুসলমানেরা যে প্রাধান্য ও প্রতিপত্তি ভোগ করিত, ইংরেজ রাজত্বকালেও সে প্রাধান্য ভোগ করিবার ইচ্ছা মুসলমানদের মন হইতে যায় নাই। কাজেকাজেই পূর্ব্ব গৌরবের দোহাই দিয়াই হোক, আর নিজেদের বিশেষত্ব বজায় রাখিবার দোহাই দিয়াই হোক, তাহারা অপর সকলের অপেক্ষা কিছু বেশী বেশী অধিকার পাইবার আব্দার প্রায়ই করিয়া থাকে। যেখানে মুসলমানের সংখ্যাধিক্য সেখানে ব্যবস্থাপক ও স্থানীয় সভায় সংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধি ও রাজসরকারে চাকরী দেওয়া হোক; যেখানে মুসলমানেরা সংখ্যায় কম সেখানে আর সংখ্যার অনুপাতের কথা তোলা হয় না; সেখানে বলা হয়, প্রতিনিধির সংখ্যা এমন হোক মুসলমানেরা যেন নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখিতে পারে। এরূপ ব্যবস্থা করিলে অন্য ধর্মাবলম্বী লোকেদের উপর যে অবিচার করা হয় তাহা ভাবিয়া দেখিবার মত মনোভাব মুসলমানের নয়। সব' বিষয়ে এরূপ একটা বাঁধাধরা ভাগাভাগি থাকিলে যে কস্মিনকালে এদেশে জাতীয়তা গড়িয়া উঠিবে না, সেদিকেও তাহাদের লক্ষ্য নাই। অপরের যাই হোক, মুসলমানের প্রাধান্য বজায় থাকা চাই-ই চাই।
এরূপ মনোভাবের আরও একটা প্রচ্ছন্ন কারণ আছে। দেশে হিন্দুর সংখ্যা যে পরিমাণে বাড়িতেছে, মুসলমানের সংখ্যা বাড়িতেছে তাহার বেশী পরিমাণে। সেইজন্য মুসলমানদের মনে আশা আছে যে একদিন না একদিন এদেশ মুসলমানপ্রধান হইয়া উঠিবে। তাহার উপর তাহারা মনে করে যে যদি একটু জোর করিয়া উঠিয়া পড়িয়া প্রচার কার্য্যটা চালান যায় তাহা হইলে হয়ত অল্পদিনের মধ্যেই হিন্দুস্থানকে মুসলমানের দেশ করিয়া তোলা যাইতে পারে। এ কল্পনাটা যে অসম্ভব নয় তাহা পঞ্জাব, বাংলা, সিন্ধু, আফগানিস্থান প্রভৃতি দেশের দিকে চাহিলেই বুঝা, যায়। ওসব দেশেই এককালে হিন্দুর সংখ্যা বেশী ছিল। কেমন করিয়া হিন্দুর সংখ্যা কমিয়া গেল বা লোপ পাইল তাহা পাবনার দিকে চাহিলেই বুঝিতে বিলম্ব হয় না।
মেয়ে চুরি, হিন্দু স্ত্রীলোকের প্রতি অত্যাচার, গুণ্ডার দাঙ্গা প্রভৃতি যে সমস্ত জিনিষ আমরা রোজ রোজ খবরের কাগজে পড়ি সে সবই হিন্দুস্থানকে মুসলমানের দেশে পরিণত করিবার একএকটি উপায়। নারী-নির্যাতনই বলুন, আর গুণ্ডার অত্যাচারই বলুন কোন জিনিষটাকে কখনও মুসলমান নেতারা প্রকাশ্যভাবে নিন্দাবাদ করিয়া দমন করিবার চেষ্টা করেন না। একটা না একটা অজুহাতে তাঁহারা প্রমাণ করিবার চেষ্টা করেন যে মুসলমানদের খুব বেশী দোষ নাই --হিন্দুরা এমন একটা কিছু করিয়াছিল যাহার ফলে মুসলমানেরা ক্রুদ্ধ হইয়া অপকর্মটা করিয়া ফেলিয়াছে। মুসলমান নেতাদের এটা একেবারে বাঁধাধরা পলিসি। এ ব্যাপারটা হিন্দু নেতাদের কাঁহারও 'কাহারও চোখে পড়িয়াছে। সেইজন্য তাঁহারা হিন্দু সংগঠন ও শুদ্ধির উপর জোর দিয়াছেন।
সংগঠনের অর্থ হিন্দু সমাজের অবান্তরভেদ দূর করিয়া সমাজটাকে সবল ও আত্মরক্ষাসমর্থ করিয়া গড়িয়া তোলা; আর শুদ্ধির অর্থ যাহারা হিন্দুসমাজ ও হিন্দুধৰ্ম্ম ছাড়িয়া ধর্মান্তর গ্রহণ করিয়াছে পুনরায় তাহাদের হিন্দুসমাজভুক্ত করিয়া লওয়া। একবার যাহাদের যেন-তেন-প্রকারেণ মুসলমান করিয়া লওয়া হইয়াছে তাহাদের যদি আবার হিন্দু সমাজে ফিরিয়া লইবার ব্যবস্থা হয়, তাহা হইলে মুসলমানদের বড় আশায় ছাই পড়ে। সেইজন্য তাঁহারা শুদ্ধিব্যাপারটার উপর একেবারে হাড়ে হাড়ে চটা। মারধোর করিয়া ভয় দেখাইয়া যদি শুদ্ধি ব্যাপারটাকে থামাইয়া দেওয়া যায় তাহা হইলে ভবিষ্যতের পথ খোলা থাকে। মৌলানা মহম্মদ আলি-ই বল, আর ডাঃ কিচলু-ই বল, সকলকারই মনের ভাব এইরূপ।
খোঁজ করিয়া দেখিলে বেশ বুঝা যায় যে আজমীর হইতে আরম্ভ করিয়া পাবনা পর্যন্ত যে সমস্ত দাঙ্গাহাঙ্গামা বাধিয়াছে তাহার মূলে, ঐ এক চেষ্টা। এখন প্রশ্ন এই-মুসলমানেরা যদি মনে করেন যে ভারতবর্ষের বাহিরের মুসলমানেরা এদেশের হিন্দুর চেয়ে তাঁহাদের বেশী আত্মীয়, ভারতবর্ষে মুসলমান-প্রাধান্য স্থাপন করিবার জন্য তাঁহারা 'হিন্দুদের অপেক্ষা বেশী রাজনৈতিক অধিকার না পাইলে যদি সন্তুষ্ট না হন আর সেই প্রাধান্য বজায় রাখিবার জন্য তাঁহারা দল পাকাইয়া মারামারির জন্য প্রস্তুত হইতে থাকেন, তাহা হইলে হিন্দুদের কর্তব্য কি? শুদ্ধি ও সংঘঠন দ্বারা আত্মরক্ষা ও আত্মপ্রসার, না একতার নামে আত্মঘাতী গোঁজামিল?
- শ্রী উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (বঙ্গবাণী, শ্রাবণ; ১৩৩৩)
তথ্যসূত্র:- বঙ্গবাণী পত্রিকা, ১৯২৬
তথ্যসূত্রের স্ক্রিনশট পিন কমেন্টে দেওয়া রইলো।