বৈদিক সনাতন

বৈদিক সনাতন

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বৈদিক সনাতন, Religious school, KOLKATA.

09/10/2023

♦ বেদার্থ কর্তাদের নিজস্ব সম্প্রদায় এবং ঐতিহাসিক পদ খণ্ডন।

যাস্কাচার্য নিরুক্তের নির্মাণ স্বররচিত নিঘণ্টুর ব্যাখ্যার জন্য করেছেন ।

নিরুক্ত ( ৭/২২) " বৈশ্বানর " বিষয়ে নিজ আচার্যের মত প্রদর্শিত করতে গিয়ে যাস্ক বলেছেন - তৎকৌ বৈশ্বানর : মধ্যম ইত্যাচার্যা "।

কিন্তু স্বয়ং যাস্কের মত এর সম্পূর্ণ বিপরীত তথা বৈশ্বানর পৃথিবী স্থানীয় অগ্নির নাম। নিঘন্টু ( ৫/১) তে পৃথিবী স্থানীয় দেবতা পঠিত হয়।

নিরুক্ত (৭/১৩) এতে কিছু আচার্যের সম্বন্ধে লিখেছেন দেবতার নামের মধ্যে তার বিশেষণ কেও সংগ্রহ করে দেওয়া হয়। কিন্তু যাস্ক সেই বিশেষণ বাচক নামকে সংগ্রহ করেন নি। তিনি উল্লেখ করেন —

" যত্তু সংবিজ্ঞানভুতং স্যাত প্রধানস্তুতি:, তৎসমাম্নে "

যেসব এরূপ সঙ্গাবাচক নাম আছে যার প্রধান রূপে স্তুতি করা হয়েছে, আমি সেইসবের সংগ্রহ করে থাকি।

নিঘণ্টুতে সংগ্রহ এমন হয়েছে এরূপ মূখ্য নামের, কোন বিশেষণ বাচক নামের পরিগণন উক্ত সংগ্রহে করা হয় নি।

এসব প্রমাণ দ্বারা স্পষ্ট হয় যে নিঘন্টুও সেই প্রকার যাস্কের রচনা যেরূপ নিরুক্ত। কিন্তু উক্ত গ্রন্থ যাস্ক আচার্য পরম্পরা মাধ্যমে পেয়েছেন। এর অন্তিম সংস্করণ যাস্ক দ্বারা করা হয়েছে। এই সম্পাদনের পাত্র নিঘণ্টু এবং নিরুক্ত উভয়।

কিন্তু নিঘন্টু পঠিত শব্দের নির্বচন করতে গিয়ে আচার্য প্রকরণবসত অন্য সব বিষয়েও আলোকপাত করেছেন। বেদ পাঠ করতে সে সময়ে কতটুকু রূচি তথা উৎসাহ ছিল তা এই কথাতেই স্পষ্ট হয় যে সেই সময় বেদের অর্থ করার জন্য অনেক সম্প্রদায় ছিলেন। যদিও তাদের মধ্যে অনেক বিষয়ের মধ্যে মতভেদও ছিল।

যাস্ক সেই সব মতভেদ কে স্থান অনুযায়ী নির্দেশ করেছেন। উদাহরণ স্বরূপ : নিরুক্তের মতানুসারে সব " নাম " আখ্যান দ্বারা নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ব্যাকরণ দ্বারা প্রমাণিত নয়। ( নিরুক্ত ১/১১ ) এর সম্মতিতে কিছু " নাম " এমনো আছে যার রচনা আখ্যানের মধ্যে পড়ে না তথা স্বতন্ত্র। এই মতভেদের অতিরিক্ত নিরুক্ত থেকে ব্যাকরণের অসহমতি এক মন্ত্রের অর্থের মধ্যেও দেখানো হয়েছে। " চত্বারি বাকপরিমিতা পদানি " ( ঋ০ ১/১৬৪/৪৫) তে " চত্বারি পদানি " অর্থ যেখানে নিরুক্তে ঋক যজু সাম এবং ব্যবহারিক ভাষা করা হয়। সেখানে ব্যাকরণে নাম, আখ্যাত, উপসর্গ এবং নিপাত করে থাকেন ।

" আর্ষ " মত অনুযায়ী এই পদ ওঙ্কার তিন মহাব্যাহতি ( ও ৩ ম্) বোঝায় । যাজ্ঞিক পক্ষের অনুসারে এই পদ মন্ত্র, কল্প, ব্রাহ্মণ তথা ব্যবহারিক ভাষা হয়। আত্ম - প্রবাদ সম্প্রদায়ের মতে পশু, বাদ্য, মৃগ, আত্মা ( মনুষ্যের) বচন বুঝায়। আরো কিছু আচার্যের মতানুসারে — যেসবের সম্পর্ক কোন বিশেষ সম্প্রদায় বিশেষের সাথে দেখা যায় না তা - সাপ, পাখি, এবং ছোট ছোট পশুদের ব্যবহারিক উচ্চারিত শব্দ। ( নিরুক্ত ৯/১৩) এর অতিরিক্ত একটি মত ব্রাহ্মণ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে যা যাস্কের বহু পূর্ব থেকে প্রচলিত ছিল। এখানে তার উল্লেখ করার প্রয়োজনিয়তা তথা আবশ্যকতা নেই বলে মনে করছি।

আরো একটি মন্ত্র অর্থ সম্বন্ধে নিরুক্তের পরিব্রাজক গণ মতবিরোধ দেখিয়েছেন। " বহুপ্রজা নির্ঋতিমাবিবেশ " ( ঋ০ ১/১৬৪/৩২) এর অভিপ্রায় পরিব্রাজকগণের মতানুসারে অধিক সন্তান জন্মানো দুঃখের আরম্ভক হয়ে থাকে এবং নিরুক্তের মতে " নিঋতি " এর অর্থ পৃথিবী হয় যার মধ্যে " বহুপ্রজা " বাদল " আবিবেশ " প্রবিষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ এই বাক্য দ্বারা উনার বিচার অনুসারে বর্ষকর্ম = বৃষ্টি = বিবক্ষিত হয়। ( নিরুক্ত: ২/১)

বাণীদের মধ্যে ভেদের বিষয়ে অনেক পক্ষের উল্লেখ করতে গিয়ে উপরে যাজ্ঞিক সম্প্রদায়ের মত উদ্ধৃত করা হয়েছে। উক্ত পক্ষের আরো কিছু বিচার নিরুক্তে প্রদর্শিত করা হয়েছে। যথা —

" একদা প্রনিধা " ( ঋ০ ৮/৭৭/৪) তে ' সরাংশি ত্রিংশত ' এর অভিপ্রায় যাজ্ঞিকের মতানুসারে ' ত্রিংকশত উকথ - পাত্রাণি '। যেখানে নিরুক্তকার এখানে ' ত্রিংশত অপরপক্ষস্য অহোরাত্রা ; ত্রিংশত পূর্বপক্ষস্য " মানেন। ( নিরুক্ত : ৫/১০)

যে মন্ত্রের দেবতা দেখানো হয় নি, যাজ্ঞিক সেই মন্ত্রের দেবতা যজ্ঞ অথবা যজ্ঞাংগ এর দেবতা মানেন, তথা তার অভাবে প্রজাপতিকে। নিরুক্তের মতে সেই মন্ত্র " নারাশংস " হয়। ( নিরুক্ত : ৭/৪)

নারাশংসের অর্থ হচ্ছে —

" যেন নরা: প্রশস্যন্তে স নারাশংসো মন্ত্র " ( নিরুক্ত : ৯/৯) ।

যে মন্ত্র দ্বারা পুরুষের স্তুতি করা হয় সেই মন্ত্রকে নারাশংসো বলা হয়।

(৩) " অনুপতি " এবং " রাকা " যাজ্ঞিকের মতে পৌর্ণমাসিয়াঁ হয় এবং নিরুক্তের মতে দেবপত্নি ( নিরুক্ত : ১১ / ২৯)

(৪) যদিও " সিনীবালী " এবং " কুহু " যাজ্ঞিকের মতে অমাবস্যা এবং নিরুক্তের পক্ষানুযায়ী দেবপত্নি ( নিরুক্ত : ১১/৩১)

(৫) যাজ্ঞিকের দৃষ্টিতে " গৌ ধর্মধুক " হয়। যেখানে নিরুক্তের অনুসারে মাধ্যমিক বাক্ অর্থাৎ বিদ্যুৎ স্ফোটন মেনে থাকেন। ( নিরুক্ত : ১১/৩৮)

(৬) এরূপ অবস্থা " ধেনু " শব্দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ( নিরুক্ত : ১১/৪০)

যাজ্ঞিকদের মধ্যে একটি অতিরিক্ত বিচার ( ৭) পূর্ব যাজ্ঞিকদের মধ্যে প্রদর্শিত করা হয়েছে। যাস্কের বিচারে বৈশ্বানর পার্থিব অগ্নির একপ্রকার নাম। উক্ত বিচার ধারায় যাস্ক তাঁর নিজ আচার্যদের মতে অসহমত। পূর্বযাজ্ঞিক পক্ষান্তর বৈশ্বানর অর্থে আদিত্য। ( নিরুক্ত : ৭/২২) এবং যাস্কের আচার্যের মতে মধ্যম দেবতা তথা বায়ু বা ইন্দ্র। ( নিরুক্ত : ৭/২২ দ্রষ্টব্য)

তিনি উপরের নির্দেশ অনুযায়ী ৭ ( সাতটি ) সম্প্রদায়ের উল্লেখ করেছেন। যথা - (১) নিরুক্ত ল(২) ব্যাকরণ (৩) আর্ষ (৪) যাজ্ঞিক (৫) আত্ম - প্রবাদ (৬) পরিব্রাজক (৭) পূর্ব যাজ্ঞিক।

এর মধ্যে কিছু মাত্র সম্প্রদায় নিরুক্তের সাথে কম-বেশ বিরোধীতা করে। নিরুক্তে সেই সব সম্প্রদায়ের যেখানে যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে সেই সবগুলোকে মাত্র সংকেত করে দেওয়া হয়েছে। যদিও নিরুক্তে উক্ত ৭ সম্প্রদায়ের অপেক্ষা অধিক বিচার (৮) আখ্যান সময় তথা (৯) ঐতিহাসিক দ্বারা করা মন্ত্রের অর্থের উপর বিচার করা হয়েছে। উক্ত দুই পক্ষকে মিলিয়ে মন্ত্রার্থকর্তাদের সর্বমোট ৯ ( নয়) সম্প্রদায় তথা পক্ষ হয়।

" আখ্যান সময় " নিয়ে পৃথক আলোচনা করার আবশ্যকতা আছে। এবিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে। এবং ঐতিহাসিক পক্ষ নিরুক্ত পক্ষের সাথে প্রায় সব নিরুক্তের মধ্যে গভির আলোচনার বস্তু। এই সম্বন্ধে সব স্থলে পরবর্তীতে বিশেষ ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।

নিরুক্ত এর সাথে মিল আছে এমন এক পক্ষ ( ১০) নিদান। এই পক্ষের উল্লেখ নিরুক্তে দুইবার পাওয়া যায় যথা — নিরুক্ত (৬/১০), যেখানে ' স্যাল ' শব্দের ব্যুৎপত্তি নিদান মতানুসারে " আসত্র সংযোগেন "। দ্বিতীয় পাওয়া যায় নিরুক্ত (৭/১২) । যেখানে সাম শব্দের নির্বচন " ঋচাং সমং মেনে নিদানা "। এবিষয়ে আরো বলেন। যদি এই পক্ষ নিরুক্ত পক্ষের ভিন্ন তথা বিপরীত হয় ত বেদার্থ কর্তার সংখ্যা নয় এর জায়গায় দশ হয়ে যাবে ।

যাস্ক তার নিজ পক্ষ তথা বিপক্ষ অনেক আচার্যের ব্যক্তিগত মত উদ্ধৃত করেছেন । এর মধ্যে কিছু কিছু আচার্য নিরুক্তে প্রতিত হয় । যথা - আগ্রায়ণ, ঔপমন্যব, ঔর্ণবাভ, ক্রৌষ্টুকি, গালব, চর্মশিরা, তৈঢীকি, শতবলাক্ষ, শাকপুণি, শাকপুণি পুত্র - স্থৌলাষ্ঠীবি। কিছু এরকম শব্দ আছে যা শাকপুণি অগ্নি অর্থ গ্রহণ করেছেন। কাত্থক্য তা যজ্ঞ তথা যজ্ঞের উপকরণ অর্থে গ্রহণ করেছেন। যাস্ক আরো দুটি শব্দের অর্থ দাব্যাপৃথিবী তথা অহোরাত্র করেছেন । পড়ন্ত কাত্থক্য তা শস্য এবং সমা ( অন্ন এবং বর্ষ) মানেন।

এতে এটা অনেকটাই উপলব্ধ করা যায় যে সম্ভবত কাত্থক্য যাজ্ঞিক ধারার লোক ছিলেন। এছাড়াও ঔদুম্বরায়ণ, গার্গ্য, বার্ষ্যায়ণি তথা পদকার শাকল্যের মন্ত্রকেও যথাস্থানে উদ্ধৃত করা হয়েছে। শাকটায়ন, গার্গ্য তথা শাকল্য ব্যাকরণ সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন।

এই সব সম্প্রদায় সাধারণত বেদ মন্ত্রের শৈলীর বিভিন্ন অর্থ প্রতিস্থাপন করেন। নিরুক্তে আরেকটি পক্ষ কৌৎসের বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি সাধারণত বেদ মন্ত্রের কোন অর্থ স্বীকার করেন না (নিরুক্ত : ১/২৩)। তার মতকে খণ্ডন করতে গিয়ে যাস্ক বলেন —

" স্থাণুরয়ং ভারহার কিলাভুদধীত্য বেদং ন বিজ্ঞানাতি যোऽর্থম "( নিরুক্ত : ১/১৮)

এই হল স্থাণু, এই হল ভারহার। যারা বেদ পড়েও কিন্তু তার অর্থ সম্পর্কে সঠিক ভাবে অবগত নন। এতে প্রতিত হয় যে কৌৎস বেদের বিরোধ নয় বরং বেদের অর্থ করার বিরোধী । তিনি বেদ মন্ত্র পাঠ মাত্রই পুণ্য এরূপ ধারনা রাখতেন। তার মতে " বেদ পড়েও বেদ মন্ত্রের অর্থ না জানা " - যাস্কের উক্ত শব্দের অর্থের ভিন্ন অর্থ স্থাপন করা কোন যুক্তির মধ্যে পড়ে না। কৌৎস তার মতের উপক্রম এবলেই উপস্থাপন করেছেন যে যদি নিরুক্তের উদ্দেশ্য বেদের অর্থের সঠিক জ্ঞান প্রদান করা, তাহলে নিরুক্তের নির্মাণ অনর্থক ( নিরুক্ত : ১/১৩)। এতে এটাও প্রমাণ হয় যে কৌৎস বেদ মন্ত্রের অর্থ স্থাপন করার বিপক্ষে ছিলেন, পুরো বেদের বিরোধী কদাপি ছিলেন না।

03/10/2023

#ব্রহ্মা_সরস্বতীর_পৌরাণিক_অজাচারের_বৈদিক_ব্যাখ্যান।

যখনি আমরা " সরস্বতী " নিয়ে কথা বলতে চাই তখনি আমাদের মাথায় ব্রহ্মার সাথে সরস্বতী সম্পর্কের কথা মনে হয়। পুরাণের লিখিত তথ্য অনুযায়ী ব্রহ্মা সরস্বতীর পুত্রী তথাপি স্ত্রীও বটে। তার সাথে রয়েছে কিছু অশ্লীল গল্পসমগ্র। কিন্তু বৈদিক শাস্ত্রে এনিয়ে রয়েছে ভিন্ন বর্ণন। সেবিষয়ে অত্র লেখনীতে আলোকপাত করা হল।

💢ব্রহ্মা এবং সরস্বতী💢
-------------------------------

সরস্বতী নাম নানান অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে ব্রহ্ম অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। সরস্বতী শব্দের অর্থ নিরুক্ত আদি শাস্ত্রীয় গ্রন্থে সরস্বতী নাম বাণী অর্থে পাওয়া যায় —

শ্লোকঃ । ধারা । ইলা । গৌঃ গৌরী গান্ধবী । গভীরা

গম্ভীরা । মন্ত্রা । মন্দ্ৰাজনী । বাশী । বাণী । বাণীচী বাণঃ । পবিঃ ভারতী ধমনিঃ । নালীঃ মেলিঃ । মেনা সূর্যা । সরস্বতী নিবিৎ । স্বাহা । বন্ধুঃ । উপব্দিঃ । মায়ুঃ কাকুৎ । জিহ্বা । ঘোষঃ । স্বরঃ । শব্দঃ । স্বনঃ । ঋক্‌ । হোত্রা । গীঃ । গাথা । গণঃ । ধেনা । ণ্ণাঃ । বিপা । ননা । কশা । ধিষণা । নৌঃ । অক্ষরম্ । মহী । অদিতিঃ । শচী । বাক্ । অনুষ্টুপ্ ধেনুঃ বন্ধুঃ । গল্‌দা । সরঃ । সুপর্ণী । বেকুরা—ইতি সপ্তপঞ্চাশদ্ বানামানি ৷৷ [ নিঘণ্টু: ১/১১। ]

অর্থাৎ : এখানে ৫৭ টি নাম বাণী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এরমধ্যে সরস্বতী, ইলা, ভারতী আদি নাম উল্লেখ পাওয়া যায়। এটি বৈদিক কোষ নিঘণ্টুর প্রমাণ। এখন আমরা লৌকিক কোষের প্রমাণ দেখব।

ব্রাহ্মী তু ভারতী ভাষা গীর্বাগ বাণী সরস্বতী। ব্যাহার উক্তির্লপিতং ভাষিতং বচনং বংচঃ ∥ [ অমরকোষ : প্রথম কাণ্ড০ ৬/১ ]

বেদে উক্ত সরস্বতী শব্দ নদী এবং বাণী উভয় অর্থে বহুবার উদ্ধৃত হয়েছে। কিন্তু আজকাল তা দেবী ' বীণাপুস্তকধারিণী ' মানা হয়ে থাকে বসন্তপঞ্চমী আদি তিথিতে তাঁর পূজা হয়ে থাকে। তথাপি এরূপ পূজা বৈদিক কালে কোব প্রচলন ছিল না। এরূপ কতিপয় বেদ মন্ত্র উদ্ধৃত করা হল :

পাবকা নঃ সরস্বতী বাজেভির্বাজিনীবতি। যজ্ঞং বষ্টু ধিয়াবসুঃ।

চোদয়িত্রী সূনৃতানাং চেতন্তী সুমতীনাম্। যজ্ঞং দধে সরস্বতী।

মহো অর্ণঃ সরস্বতী প্র চেতয়তি কেতুনা। ধিয়ো বিশ্বা বি রাজতি। [ ১/৩/১০-১২ ]

অর্থাৎ : (বাজেভিঃ) গানের বিবিধ প্রকারের যেসব গ্রাম - মূর্ছনা আদি ক্রিয়াস্বরূপ গতি আছে, তাকে বাঁজ বলে থাকে। সেই গতির সাথে ( সরস্বতী) সরস বাণী, অর্থাৎ পরম পবিত্র বেদবাণী এবং তৎসদৃশ্য অন্য বাণী (নঃ) সেইখানের লোকের অন্তঃকরণকে (পাবকা) পবিত্র করতে থাকে । এরূপ কোন ব্যক্তি আপনি ( বাজিনীবতী) যেসব সাধারণ প্রশস্ত বিবিধ তান, স্বর আদি গতি দ্বারা যুক্ত হয়ে পুনঃ (ধিয়াবসুঃ) যে শীঘ্র বুদ্ধিতে বাস করে থাকে। এরূপ বাণী সমূহ (যজ্ঞম্) যজনীয় পরমাত্মা অথবা যজ্ঞের (বষ্টু) কামনা করে থাকেন।

(সূনৃতানাম্) সত্য প্রিয় বাক্যকে (চোদয়িত্রী) প্রেরণা করে থাকা (সুমতীনাম্) সেই শুভ বুদ্ধি যুক্ত পুরুষ (চেতন্তী) চেতনাযুক্ত (সরস্বতী) বাণী, সেই (যজ্ঞম্) যজনীয় পরমাত্মাকে অথবা বিবিধ যজ্ঞকে (দধে) ধারণ করে থাকেন।

(সরস্বতী) পূর্বোক্ত গুণ বিশিষ্ট বাণী (কেতুনা) নিজ কর্ম দ্বারা (মহঃ) বহু (অর্ণঃ) আনন্দময় রসকে জগতে (প্রচেতয়তি) উৎপন্ন করে থাকে। অর্থা সেই পবিত্র বাণী দ্বারা কেবল মাত্র নিজের উপকার হয় না বরং জগতে সর্বত্র আনন্দ লাভ হয় এবং সেই বাণী তখন (বিশ্বা) নিখিল (ধিয়ঃ) কর্মকে (বিরাজতি) প্রভাবিত করে থাকে। যথা বাণী শুদ্ধ হয় তখন নিখিল কর্মও শুদ্ধ হয়ে থাকে।

ইলা সরস্বতী মহী তিস্ত্রো দেবীর্ময়োভুবঃ। বর্হিঃ সীদন্ত্বস্ত্রিধঃ। [ ঋ০ ১/১৩/৮ ]

অর্থাৎ : (ইলা + সরস্বতী + মহী) ইলা সরস্বতী এবং মহী - তা তিন প্রকারের বাণীর নাম হয়ে থাকে। উক্ত প্রকারভেদ সঙ্গীতশাস্ত্রে প্রতীত হয়ে থাকে । সেই (তিস্ত্র+দেবীঃ) তিন প্রকারের দেদীপ্যমান বাণী (ময়োভুবঃ) সুখ উৎপন্ন করে থাকে এবং (অস্ত্রিধঃ) সরস হয়। উক্ত তিন প্রকারের বাণী (বর্হি) আমার হৃদয় স্বরূপ আসনে ( সীদন্তু) বিরাজমান হোন।

💢সরস্বতী এবং তিন দেবী💢
--------------------------------------

শুচির্দেবেষ্বর্পিতা হোত্রা মরুৎসু ভারতী। ইলা সরস্বতী মহী বর্হিঃ সীদন্তু যজ্ঞিয়াঃ। ∥ [ ঋ০ ১/১৪২/৭ ]

অর্থাৎ : (মরুৎসু + দেবেষু) অনেক প্রকারের বায়ু দেবের মধ্য দিয়ে (অর্পিতা) সমর্পিত হও। এখানে মরুৎ শব্দ বিবিধ প্রকারের গানের ষডজ, ঋষভ, গান্ধার, মধ্যম, পংচম, ধৈবত, নিষাদ্ — উক্ত সাত স্বর এবং গ্রাম, মূর্চ্ছনা আদি গতিকে গ্রহণ করো। যখন বাণী সেই স্বর রূপ দেবতার মধ্যে অর্পিত হোন তখন (শুচিঃ) পবিত্র এবং (হোত্রা) হোম নিষ্পাদক অর্থাৎ যজ্ঞ সম্পাদন যোগ্য হয়ে থাকেন। উক্ত প্রকারে (ভারতী+ইলা+সরস্বতী) ভরতী ইলা সরস্বতী তিন প্রকারের (মহী) বাণী (বর্হিঃ) হৃদয়রূপ আসনে (সীদন্তু) বসেন। সেই তিন (যজ্ঞিয়াঃ) ঈশ্বর সম্বন্ধী বা যজ্ঞ সম্বন্ধীয় হয়ে থাকেন।

দ্রষ্টব্য — এ বিষয়ে সায়ণাচার্য দ্যুস্থান বাণীর নাম ভারতী, পার্থিব বাণীর নাম ইলা, মাধ্যমিক বাণীর নাম সরস্বতী বলে উল্লেখ করেন। এখানে মহী শব্দ তিনি বিশেষণ মেনেছেন।

ভারতীলে সরস্বতী বঃ সর্বা উপব্রুবে। তা নশ্চোদয়ত শ্রিয়ে ∥ [ ঋ০ ১/১৮৮/৮ ]

অর্থাৎ : (ভারতী + ইলে + সরস্বতী) হে ভারতী , হে ইলা, হে সরস্বতী, (য়া ব সর্বা) আমরা যারা আপনাদের সবাইকে (উপব্রুবে) ভোগ করে থাকি, (তাঃ) আপনি (নঃ) সেই আমাদের (শ্রিয়ে) কল্যাণের জন্য (চোদয়ত) প্রেরণা করেন অর্থাৎ আমাদের শুভ কর্মে প্রেরণাদান করেন।

আদিত্যৈর্নো ভারতী বষ্টু যজ্ঞ সরস্বতী সহ রুদ্রৈর্ন আবীত। ইডোপহুতা বসুভিঃ সজোষা যজ্ঞং নো দেবীরমৃতেষু ধত্ত ∥ [ যজু০ ২৯/৮ ]

অর্থাৎ : (ভারতী) ভারতী বাণী (আদিত্যৈঃ) আদিত্যের সাথে (নঃ + যজ্ঞম) আমাদের যজ্ঞকে (বষ্টু) কামনা করে থাকে । (সরস্বতী) সরস্বতী বাণী (রুদ্রৈঃ) রুদ্রের সাথে (নঃ) আমাদের যজ্ঞকে (আবীত) রক্ষা করো। (উপহুতা) সম্যকভাবে (ইডা) ইলা বাণী ( বসুভিঃ) বসুর সাথে (সজোষাঃ) প্রীতি দ্বারা যুক্ত হও। (ন+যজ্ঞম) আমাদের যজ্ঞকে (অমৃতেষু) বায়ু আদি অমর দেবের মধ্যে (ধত্ত) স্থাপিত করো।

হোতা যক্ষত্ তিস্ত্রো দেবীর্ণ ভেষজং ত্রয়স্ত্রিধাতবোऽ পস ইডা সরস্বতী ভারতী মহীঃ। ইন্দ্রপত্নীর্হবিষ্মতীর্ব্যন্ত্বাজ্যস্য হোতর্যজ ∥ [ যজু০ ২৮/৮ ]

যথা : উক্ত মন্ত্রের ভাব পূর্বক্রম। এখানে ইডা সরস্বতী ভারতীকে ' ইন্দ্রপত্নী ' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইন্দ্রিয়ের পালন করেন যে তাকে ইন্দ্রপতি বলা হয়। মহিধর বলেন " ইন্দ্রপত্নী ইন্দ্রস্য পত্ন্যঃ পালয়িত্র‍্যঃ " পত্নী শব্দের অর্থ পালয়িত্রী হয়।

পাবমানীর্যো অধ্যেত্যৃষিভিঃ সংভৃতং রসম্। তস্মৈ সরস্বতী দুহে ক্ষীরং সর্পির্মধুদকম্ ∥ [ ঋ০ ৯/৬৭/৩২ ]

অর্থাৎ : যে বানীর মধ্যে (ঋষিভিঃ) ঋষি গণ (রসম্) পরমাত্মা সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানরূপ রসকে (সংভৃতম্) পূর্ণ করেন , তাকে (পাবমানীঃ) অন্তঃকরণে পবিত্র করা বাণী (যঃ) যে জ্ঞানী জন (অধ্যেতি) পড়েন তথা বিচার করেন (তস্মৈ) সেই অধ্যেতাদের মধ্যে (সরস্বতী) বাণী (ক্ষীরম্) এবং (সর্পিঃ) ঘৃত ও (মধুদকম্) মধুরস (দুহে) দিয়ে থাকে।

প্র ক্ষোদসা ধায়সা সস্ত্র এষা সরস্বতী ধরুণমায়সী পুঃ। প্র বাবধানা রথ্যেব য়াতি বিশ্বা অপো মহিনা সিন্ধুস্ন্যাঃ ∥ [ ঋ০ ৭/৯৫/১ ]

অর্থাৎ : (এষা) এই (সরস্বতী) সরস্বতী নদী (ধায়সা) তীক্ষ্ণ (ক্ষোদসা) জলপ্রবাহের সাথে (প্র+সস্ত্রে) ক্ষিপ্রতার সহিত চলমান (আয়সী+পূঃ) লৌহ নির্মিত নগরীর সমান (ধরুণম্) আমাদের রক্ষাকারী। (সিন্ধুঃ) প্রবল বেগে প্রবাহিত সরস্বতী (মহিনা) নিজ মহিমায় অর্থাৎ তীক্ষ্ণ ধারার দ্বারা (অন্যাঃ+অপঃ) অন্যান্য নদীকে (বাবধানা) বাধিত করে থাকে (রথ্যা+ইব) সারথির মত (প্রয়াতি)যেয়ে থাকে।

পঞ্চ নদ্যঃ সরস্বতীমপি যন্তি সস্ত্রোতসঃ। সরস্বতী তু পঞ্চধা সো দেশোऽভবন্ সরিত্। [ যজু০ ৩৪/১১ ]

অর্থাৎ : (সস্ত্রোতসঃ) সমান স্তুতিকারী (পঞ্চ + নদ্যঃ) পাঁচ নদী (সরস্বতীম্+অপি যন্তি) সরস্বতীর মধ্যে মিলে থাকে। (তু) নিশ্চয় (সা+উ+সরস্বতী) সেই সরস্বতী (পঞ্চধা) পাঁচে মিলে (দেশে) দেশের মধ্যে (সরিত+অভবত্) নদী হয়ে থাকে।

দ্রষ্টব্য : এখানে পঞ্চ শব্দ উপলক্ষণ মাত্র। যখন একাধিক নদী একটি নদিতে এসে মিশে যায় তখন সেই নদী এক মহানদীতে পরিণত হয়। এখানে উক্ত ঋক বাণী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের এক ইন্দ্রিয়ে মিশে মহানদী হয়ে যাওয়া বুঝিয়েছে।

💢 সরস্বতী এবং অমরকোষ আদি💢
--------------------------------------------

যেখানে অমরকোষে শিব এর সাথে পার্বতী তথা বিষ্ণুর সাথে লক্ষ্মীর বর্ণন করা হয়েছে। সেখানে অমরসিংহ তার এই নব্য শব্দার্থ গ্রন্থে সরস্বতীকে ব্রহ্মার শক্তিরূপ মানেন নি। যার ফলে প্রতীত হয় যে সেই সময়েও সরস্বতী ব্রহ্মার অজাচার সম্পর্কে তেমন প্রচারিত হয় নি। পুরাণের মধ্যে কোথাও কোথাও সরস্বতী বিষ্ণু পত্নী বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়াও নানা সম্পর্কের কথা শুনা যায়, যাতে এবিষয়ে ভ্রান্তি আরো দৃড় হয় বটে।

লক্ষ্মী সরস্বতী গঙ্গা তিস্ত্রো ভার্যা হরেরপি। প্রেম্ণা সমাস্তাস্তিষ্ঠন্তি সততং হরিসত্রিধৌ ∥ [ দে:ভা০ ৯/৬/১৭ ]

দেবীভাগবতে সাবিত্রী ব্রহ্মার প্রিয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পবিত্ররূপা সাবিত্রী গায়ত্রী ব্রহ্মণঃ প্রিয়া। [ দে : ভা০ ৯/১/৪০ ]

মনু সংহিতায় সরস্বতী নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়। মনুজি লিখেন —

সরস্বতী দৃষদ্বত্যোর্দেবনদ্যোর্যদন্তরম্। তং দেবনির্মিতং দেশং ব্রহ্মাবর্ত প্রচক্ষতে ∥ [ মনু০ ২/১৭ ]

এছাড়াও ব্রাহ্মণগ্রন্থে সরস্বতী নদীর কূলের বর্ণন অধিক মাত্রায় পাওয়া যায়। সেই নদীর কূলের ধারে ঋষিগণ প্রায়ঃ নিবাস করে থাকতেন। ঈশ্বরের করুণ দশায় আজ সেই সরস্বতী নদীর অস্তিত্ব খুজে পাওয়া দুষ্কর। এনিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে সরস্বতী নদী ঋষিগণের অতি পবিত্র স্থান ছিল।

💢ব্রহ্মা তথা তাঁর আবাস্থল💢
----------------------------------------

যেরূপ বিষ্ণু মহাদেব আদিদের নির্দিষ্ট বাসস্থান এর উল্লেখ পাওয়া যায়, কিন্তু ব্রহ্মার ক্ষেত্রে তেমন কিছু পাওয়া যায় না। তবে পুরাণে ব্রহ্মার পদ্ম /কমল ফুলে আবাসের উল্লেখ পাওয়া যায়, কিন্তু সে সম্বন্ধেও নানান মতানৈক্য রয়েছে। অমরকোষে কমলের নানান অর্থ পাওয়া যায়। যথা —

বিসপ্রসুনরাজীবঃ পুষ্করাংথোরুহাণি চ। [ অমর০ প্রথম কাণ্ডম্ ১০/৪১ ]

অর্থাৎ : বিস, প্রসুন্, রাজীব, পুষ্কর এবং অম্ভোরুহ আদি অনেক নাম অর্থ কমল হয়ে থাকে।

তাছাড়া পুষ্কর শব্দের নাম আকাশ=অন্তরিক্ষের হয়ে থাকে। যথাঃ

অম্বরম্। বিয়ত্। ব্যোম্। বর্হিঃ। ধন্ব। অন্তরিক্ষম্। আকাশম্। আপ্। পৃথিবী। ভূঃ। স্বয়ম্ভু। অধ্বা। পুষ্করম্। সাগরঃ। সমুদ্রঃ। অধ্বরম্। ইতি ষোডশান্তরিক্ষনামানি ∥ [ নি০ ১/৩ ]।

এছাড়াও বেদমন্ত্রে পুষ্কর শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়। —

উতাসি মৈত্রাবরুণো বসিষ্ঠোর্বশ্যা ব্রহ্মণ্ মনসোধি জাতঃ। দ্রপ্সং স্কত্রং ব্রহ্মণা দৈব্যেন বিশ্বেদেবা পুস্করে ত্বাদদন্তঃ ∥ [ ঋ০ ৭/৩৩/১১ ]।

উক্ত মন্ত্রের ব্যাখ্যায় যাস্কাচার্য " পুস্করমন্তরিক্ষং পোষতি ভূতানি " পুস্কর শব্দের অর্থ অন্তরিক্ষ করেন। তাই এখানে ব্রহ্মার আবাস্থল পুষ্কর অর্থাৎ বায়ু হয়। বায়ুতে তথা অন্তরিক্ষে ব্রহ্মার আবাস্থল।

💢ব্রহ্মা নামক ঋষি 💢
----------------------------

তদ্ধৈতদ্ ব্রহ্মা প্রজাপত্য উবাচ। প্রজাপতির্মনবে। মনুঃ প্রজাভ্যঃ [ ছা০ উ০ ৩/১১/৪ ]

তুর কাবষেয়ঃ। প্রজাপতির্ব্রহ্মণঃ। [ বৃ০ উ০ ৬/৫/৫ ]

ব্রহ্মা উক্ত জ্ঞান প্রজাপতিকে দেন। প্রজাপতি মনুকে। মনু প্রজাকে। এর দ্বারা প্রতীত হয় যে ব্রহ্মা নিশ্চয় কোন মনুষ্য রূপ প্রসিদ্ধ ঋষি।

ব্রহ্মা দেবানাং প্রথমঃ সম্বভূব কর্ত্তা ভুবনস্য গোসা। স ব্রহ্মবিদ্যাং সর্ববিদ্যাপ্রতিষ্ঠামথর্বায় জ্যেষ্ঠপুত্রায় প্রাহ। [ মুণ্ডুক উপ০ ১/১/১ ]।

এখানে বিদ্বান ব্রহ্মা ঋষির প্রশংসা মাত্র আছে । নিঃসন্দেহে বিদ্বান লোক নিজ বিদ্যা দ্বারা পুরো জগতের কর্তা তথা অভ্যন্তরীণে পরিপূর্ণ থাকেন। এছাড়া উপনিষদে আরো উল্লেখ পাওয়া যায়।

যো ব্রহ্মাণং বিদধাতি পূর্ব যো বৈ বেদাংশ্চ প্রহিণোতি তস্মৈ। তং হ দেবমাত্মবুদ্ধিপ্রকাশং মুমুক্ষুবৈ শরণমহং প্রপদ্যে। [ শ্বেতা০ ৬/১৮ ]

অর্থাৎ : এখানে ব্রহ্মজ্ঞানী ঋষি সম্পর্কে বলা হয়েছে। কারণ সৃষ্টির আদিতে যেসব শুদ্ধ পবিত্র আত্মা থাকেন, তাদেরকেও ভগবান বেদের জ্ঞান প্রদান করেন।

উপসংহার : এর দ্বারা এটাই প্রতীত হয় যে সরস্বতী সাথে ব্রহ্মার যে পৌরাণিক কাহিনী পাওয়া যায় তা সমূলে মিথ্যা। এছাড়াও বৈদিক শব্দভাণ্ডার সহ পৌরাণিক উভয় ক্ষেত্রে শব্দার্থের ভিন্নতা লক্ষিত হয়। তাই ব্রহ্মা সরস্বতী অজাচারের রূচক কাহিনী যে কতবড় নোংরা মিথ্যাচার তা দিনের আলোর মত পরিষ্কার।

ও৩ম্ কৃণ্বন্তো বিশ্বমার্যম

বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক।

03/10/2023

♂ বৃত্র, বিশ্বকর্মা, সরণ্যু, মিত্রবরুণ বশিষ্ঠ তথা উর্বশী পদের ঐতিহাসিক আক্ষেপ নিবারণ ।

বৃত্রের ইতিহাস
----------------------------

নিরুক্তের প্রসিদ্ধ " তৎকো বৃত্রঃ " স্থলে যেখানে ঐতিহাসিক পক্ষের সাথে নিরুক্ত পক্ষের স্পষ্ট বিরোধ দেখা যায়। এছাড়াও নিরুক্তকার ঐতিহাসিক পক্ষের উদ্ভব নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ভাবপ্রকাশ করা প্রতীত হয়। এবিষয়ে নিরুক্তকার বলেন। —

" তৎকো বৃত্রঃ ? মেঘ ইতি নিরুক্তাঃ, ত্বাষ্টোऽসুর ইত্যৈতিহাসিকাঃ । অপাং চ জ্যোতিষশ্চ মিশ্রীভাবকর্মণো বর্ষকর্ম জায়তে তত্রোপমার্থেন যুদ্ধবর্ণা ভবন্তি। অহিবত্তু খলু মন্ত্রবর্ণা ব্রাহ্মণবাদাশ্চ। বিবৃদ্ধয়া শরীরস্য নিবারয়াঞ্চকার। তস্মিন্ হতে প্রসস্যন্দির আপঃ। "(২/১৬)

বৃত্র কে ? নিরুক্তের মতে মেঘ। ঐতিহাসিকদের মতে ত্বষ্টার পুত্র অসুর বিশেষ।

নিরুক্ত এবং ঐতিহাসিকদের দৃষ্টিকোণের মধ্যে যে মতভেদ আছে তা একটি উদাহরণ দ্বারাই সুস্পষ্ট হয়ে গেল। যা ঐতিহাসিকের মতে কোন ব্যক্তির নাম, সেটা নিরুক্তের মতে সামান্য সংজ্ঞা । যার এখনো বিদ্যমান আছে এবং ভবিষ্যৎ এও থাকবে। নিরুক্তের দৃষ্টিতে মন্ত্র নিত্য হয়। সেখানে অনিত্য ঘটনার বর্ণন থাকা অসম্ভব। ঐতিহাসিক পক্ষ কি করে বিকশিত হয় এ বিষয়ে নিরুক্তকার বলেন —

জল (মেঘ) তথা জ্যোতি (বজ্র) এর সংঘাতে বর্ষা হয়। ( এখানে সংঘর্ষ তথা গর্জন আদি ক্রিয়াও হয়)। এর বর্ণন আলঙ্কারিক ভাষায় যুদ্ধের কাহিনী মত বর্ণন করা হয়েছে। মন্ত্রের বর্ণন তথা ব্রাহ্মণের অর্থবাদের প্রকরণে ' অহি ' শব্দ পাওয়া যায়।

" অহি " শব্দ নিঘণ্টুতে মেঘ নামে পঠিত হয়। এছাড়া এর দ্বিতীয় অর্থ সাপ হয় । এবিষয়ে যাস্ক বলেন —

" তদভিবাদিন্যেষর্গ ভবতি "। ২/১৭

" দাসপত্নীরহিগোপা অতিষ্ঠন্নিরুদ্ধা আপঃ পণিনেব গাবঃ। অপাং বিলমপিহিতং যদাসীদ বৃত্রং জঘন্বাঁ অপ তদুবার।। " ১ ( ঋ০ ১/৩২/১১)

দাসপত্নীঃ দাসাধিপত্ন্য। দাসো দস্যতেঃ। উপদাসয়তি কর্মাণি। অহিগোপা আতিষ্টত্নাহিতা গুসাঃ। অহিঃ অয়নাত্, এতি অন্তরিক্ষে। অয়মপীতরোऽহিরেতস্নাদেব। নির্হ্নসিতোপসর্গঃ। আহন্তীতি। নিরুদ্ধা আপঃ পণিনেব গাবঃ। পণির্বণিগ ভবতি। পণিঃ পণনাত্। বণিক পণ্যং নেনেক্তিং অপাং বিলমপিহিতং যদাসীত্। বিলং ভরং ভবতি বিভর্তেঃ। বৃত্রং জঘ্নিবান অপববার তত্। বৃত্রো বৃণোতের্বা, বর্ততের্বা, বর্ধতের্বা। যদবৃণোত তদ্ বৃত্রস্য বৃত্রত্বমিতি বিজ্ঞায়তে। যদবর্ত্তত তদ্ বৃত্রস্য বৃত্রত্বমিতি বিজ্ঞায়তে। যদবর্ধত তদ বৃত্রস্য বৃত্রত্বমিতি বিজ্ঞায়তে "।

অর্থাৎ - জলধারা কর্মনাশক অহির আধিপত্যের মধ্যে এসে আটকে ছিল। (ইন্দ্র) বৃত্রকে মেরে জলধারার আটকে যাওয়া রাস্তা খুলে দেন।

দাসঃ কর্মকরঃ শ্রান্ত উপক্ষীণশক্তিঃ, তং বীতশ্রমব্যাবৃত্তি - করণেন পালয়ন্তীতি দাসপত্ন্যঃ। অথবা দাসো মেঘঃ, তস্য পালয়িত্ন্যঃ, তাভিহিং মেঘো ভবতি, তৎকৃতং তস্য মেঘত্বমিত্যর্থঃ। অহিগোপাঃ - অহিমেঘো গোপায়িতা যাসাং তাঃ। অতিষ্টন তিষ্টন্তি, তেন নিরুদ্ধা আপঃ পণিনেব বণিজেব বিক্রয়ার্থে বীথ্যাদৌ গাবঃ, তাসামপাং নির্গমবিলমপিহিতং ঘট্টিতং যদাসীত্, বৃত্রং মেঘং জঘন্বান্, অপ তদুবার অপাবৃতবান্ তদিন্দ্রঃ। ( স্কন্দস্বামী )

অর্থাৎ - দাসপত্নী = দাস অথবা কাজ করেন যে, পরিশ্রান্ত তথা যার শক্তি ক্ষীণ হয়ে গেছে। তার সব দূর্বলতা দূর করে পালনকারী পরমেশ্বর।। অথবা দাস নাম মেঘ অর্থে হয় এবং তার রক্ষাকারী ( জল)। তাঁর থেকেই ত মেঘ তৌরি হয় তথা তাঁর থেকেই মেঘের মেঘত্ব আসে। অহিগোপাঃ = অহি মেঘের নাম হয়। সে যার রক্ষক এরূপ জল মেঘ দ্বারা আটকে থাকে, যেরূপ গোরু বিক্রেতা বাজারে গোরুকে বিক্রি করার জন্য গোরুকে বেধে রাখে। সেই জলের নির্গম স্থল বন্ধ হয়ে ছিল। ইন্দ্র বৃত্রকে মেরে সেই বাধা স্থানের রাস্তা খুলে দেন।

উক্ত রসময় ঘটনা বেদে আলঙ্কারিক ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। এরূপ বর্ণন শৈলীর নাম, আমরা পূর্বে দেখেছি তাহল আখ্যান। আখ্যানে " অহি " শব্দ পাওয়া যায়। ঋষিদের প্রীতির জন্য এখানে শব্দে অতিতকাল ব্যবহার করে প্রাকৃতিক ঘটনাকে ব্যক্তিবাচক কথান্তরে রূপ দেওয়া হয়েছে। বেদের উক্ত শৈলীকে ব্রাহ্মণ গ্রন্থ আরো বিস্তারিত করেছে। তথা বেদে মূল বর্ণন করা হয়েছে এবং ব্রাহ্মণ গ্রন্থে পরবর্তীতে অর্থবাদ করা হয়েছে। সেখানে বৃত্রের বিষয়ে বলা হয়েছে — যদবৃণোত, যদবর্ত্তত, যদবর্ধত = সে ঢুকল ; এটা বর্তমান পদ হয়। সে বড় হয়, " তদ্ বৃত্রস্য বৃত্রত্বম " এভাবেই সে বৃত্র হয়েছে। এসব নির্বচন ভূতবাচক হয়। ঐতিহাসিক পক্ষগণ এর থেকেও আরো একধাপ উপড়ে যায়। তারা এই বর্ণনকে " উপমার্থ " তথা আলঙ্কারিক না মেনে বাস্তবিক অর্থে শব্দার্থ করে। মন্ত্রে তথা ব্রাহ্মণ গ্রন্থে অহি বলতে আলঙ্কারিক অর্থই প্রকাশ পেত। ইতিহাস আদিতে তা অসুর বিশেষ হয়ে যায়। ঐতিহাসিক পক্ষগণের উদ্ভবের ইতিহাস এরূপ ভাবেই উল্লেখিত পাওয়া যায়। নিরুক্তকার ব্রাহ্মণের ভূতকালবাচক অর্থ ত্যাগ করেন। ব্রাহ্মণ গ্রন্থে বলা হয়েছে —

" যদবৃণোত্ তদ্ বৃত্রস্য বৃত্রস্বমিতি, যদবর্ত্তত তদ বৃত্রস্য বৃত্রত্বমিতি, যদবর্ধত তদ্ বৃত্রস্য বৃত্রত্বমিতি। "

নিরুক্তকার যাস্ক বলেছেন —

" বৃত্রো বৃণোতেবা বর্ত্ততের্বা, বর্ধতের্বা। "

আদিকাল থেকেই ইতিহাসের সৃষ্টি হয়। সে থেকে নিত্য মন্ত্রে অনিত্য ঘটনার প্রবেশ ঘটে। নিরুক্তকার তাই নির্বচন করেছেন, এবং মন্ত্রের অর্থের আশয় বদলে পুনরায় ত্রিকালস্থ নিত্য করেছেন।

বিশ্বকর্মা
--------------------

" বিশ্বকর্মা " শব্দের অর্থ নিরুক্ত ১০/২৫ সূর্য = আত্মা করে পরবর্তীতে লিখেন—

" তত্রেতিহাসমাচক্ষতে। বিশ্বকর্মা ভৌবনঃ সর্বমেধে সর্বাণি ভুতানি জুহবাঞ্চকার। তদভিবাদিন্যেষর্গ ভবতি"

" য হমা বিশ্বা ভুবনানি জুহ্বদৃষ্টির্হোতা ন্যসীদত পিতা নঃ। স আশিষা দ্রবিণমিচ্ছমানঃ প্রথমচ্ছদবরাঁ আ বিবেশ " ১ । ( ঋ০ ১০/৮১/১)।

স্কন্দস্বামী উক্ত মন্ত্রের আধিদৈবিক অর্থ এই প্রকারে করেন —

" য ইমা বিশ্বা। যো বিশ্বকর্মা মধ্যম ইমানি সর্বাণি ভূবনানি। ভূবনমিত্যুদকনাম উসকাণু বৃষ্টিলক্ষণানি জুহ্বত প্রক্ষিপত। ঋষিদ্রষ্টা লোকপালত্বাত্ কৃতাকৃতস্য লক্ষণঃ। হোতা আহ্বাতা মেঘানাম। আহ্বাতব্যো বা। ন্যসীদত নিষণ্ণোऽতরিক্ষে। পিতা পিতৃস্থানীয়ঃ পালয়িতা বা নোऽস্মাকম্। স আশিষা জনস্য প্রার্থনপ্যা দ্রবিণং সস্যলক্ষণং ধনমিচ্ছন্। প্রথমচ্ছত্ উৎকৃষ্টং ছাদয়িত্বা মেঘৈরন্তরিক্ষস্যৌদকৈর্বা ভুমেঃ। অবরান্ বৃষ্টিস্থানাদর্বাগ্বর্তিনঃ প্রদেশানন্তরিক্ষদেশাংশ্চ। আবিবেশ বৃষ্ট্যা ব্যাসবানিত্যর্থঃ।

সেই পালক, দ্রষ্টা তথা মেঘের আহ্বান কর্তা, অন্তরিক্ষে স্থিত বিদ্যুৎ জলকে অর্থাৎ বৃষ্টিকে বর্ষণ করেন। সেই সব লোকের প্রার্থনা দ্বারা প্রেরিত হয়ে আকাশকে মেঘ তথা জলের দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে তিনি পৃথিবী এবং আকাশকে বর্ষণ দ্বারা পরিপূর্ণ করেন।
আধ্যাত্মিক পক্ষ এরূপ প্রকার হয় —

" যো বিশ্বকর্মা ক্ষেত্রজঃ প্রলয়কালে ইমানি সর্বাণি ভুতজাতানি প্রক্ষিপন। কব্ ? আত্মনি। কুত এতন ? " ব্রহ্ম বৈ স্বয়ম্ভু তপোऽতব্যত তদৈক্ষত ন বৈ তপস্যান্ত্যমস্তি ( নান্যমস্মি) হন্তাহং ভুতেষ্বাত্মানং জুহবানি ভুতানি চাত্মনি " ইতি শ্রুবেঃ সর্বভুতান্যাত্মনি প্রলয়ং নয়ত্রিত্যর্থঃ। ঋষিদ্রষ্টা বিশ্বস্য। হোতা চাত্মনি সর্বভুতানি। ন্যসীদত্ নিষণ্ণঃ প্রলীন আত্মনাপি প্রাণিন কারণাত্মনাবস্থিত ইত্যর্থঃ । পিতা উৎপাদয়িতা নোऽস্মাকম্। স আশিষা আশীঃ শব্দেনাত্রাশীঃ ফলত্বাদতীতায়াং সৃষ্টৌ যৎকৃতং কর্মানুপভুক্তফলং তদুচ্যতে। হেতৌ তৃতীয়া। তেন হেতুনা। ফলভোগার্থমিত্যর্থঃ। দ্রবিণং ধনং পুনঃ সৃষ্টিরূপমিচ্ছন্। উৎকৃষ্ট ছাদয়িতা সর্বস্য। বিকারৈরবরান্ অর্বাগ্বর্তিনঃ। বর্তমানাং সৃষ্টৌ যেऽপিহিতাস্তানিত্যর্থঃ। আবিবেশ স্বত উৎপাদনেন ব্যাসবানিত্যর্থঃ।

তিনি আমাদের পিতা, সর্বদ্রষ্টা, প্রলয় কালের সময় সর্বভূতকে নিজের মধ্যে ধারণকারী পরমেশ্বর। তিনি সর্বচ্ছাদক ( প্রাণীদের মধ্যে) পূর্বজন্মের কৃত কর্মের ফলের ফলদাতা তথা সৃষ্টিকৃত ধনের কামনা করি এবং সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকে জীবাত্মায় অবস্থিত সেই সয়ম্ভু।

এবিষয়ে ঐতিহাসিকগণ বলেন — ভূবনের পূত্র বিশ্বকর্মা যর্বমেধ যজ্ঞ সব বস্তুকে আহুতি দেওয়া হয়েছে। এতে অন্তত নিজেকেও আহুতি দেয়। এই কথান্তর বলার জন্য এই ঋচা —

যে তত্ত্বদ্রষ্টা যজমান হয়ে এই সমস্ত ভুতজাতকে ( যজ্ঞে) আহুতি দিয়ে থাকে। সে আমাদের পিতা ( আমাদের হৃদমাঝে) বিরাজিত থাকে। সেই বিরাট আত্মা আমাদের শুভ সংকল্প দ্বারা ( অন্যদের জন্য) ধনধান্য কামনা করে নিজের থেকে ছোট বস্তুতেও প্রবেশ করে থাকেন।

" তস্যোত্তরা ভুয়সে নির্বচম্লল্ললনায় " —

একে আরো স্পষ্ট করার জন্য এখানে আরো কিছু মন্ত্র উদ্ধৃতি করা হবে" —

" বিশ্বকর্মন হবিষা বাবৃধানঃ স্বয়ং যজস্ব পৃথিবীমূত দ্যাম্। মুদ্মন্ত্বন্যে অভিতো জনাস ইহাস্মাক মধবা সুরিরস্তু।। " ১ ( ঋ০ ১০/৮১/৬) ।

হে যজমান ! পৃথিবী তথা দ্যুলোক উভয়কে নিজ ভোগ এবং তার আকাঙ্ক্ষা কে যজ্ঞে হবি হিসেবে প্রদান কর। দ্বিতীয়ত, এটা দেখে অন্যান্যরাও যেন মুগ্ধ হয়ে যায়। এই যজ্ঞের দ্বারা যেন আমাদের আত্মা সচেতন হয়।

উক্ত মন্ত্রে ' বিশ্বকর্মা ' পদের অর্থ আত্মা এবং পরমাত্মা উভয় পক্ষেই হয়ে থাকে। বিশ্বকর্মা অর্থাৎ সেই আত্মা হয় যে সম্পূর্ণ যজ্ঞের কাজ করে থাকে। তার শরীরের প্রতিটি অণু যেন যজ্ঞে অর্পণ করে। তাকেই ঋষি বলে থাকে। অনেকের জন্য তিনিই বাস্তবে পিতা স্বরূপ। তাঁর হৃদয় থেকে সর্বদা সর্বভূতের জন্য আশীর্বাদ নির্গত হয়। সে সর্বদা সবার মঙ্গলকামনা কারী। সে তাঁর থেকেও ছোট ব্যক্তিদের সম মর্যাদায় আচরণ করে। সে তাঁর নিজের জন্য কিছুই করার ইচ্ছুক নয়। অন্যের সাধন করাই তার জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়। যদিও ঈশ্বর দ্বারা এহেন বৃত্তি স্বাভাবিক মানা হয় ; সর্বকর্তার কর্মশক্তির সাধন শক্তি রূপে সেই পরমেশ্বর স্বয়ং সব কার্যের কর্মনাশক হোন। এই ব্রহ্মাণ্ড তাঁর ঐ কর্মযজ্ঞের ফল। দ্যুলোক এবং এই পৃথিবী উভয় সেই যজ্ঞের সামগ্রী। আত্মার হবির কারণে এই যজ্ঞ চেতন যজ্ঞ হয়ে থাকে । এখন সেই আত্মা জীব বিশেষের হোক বা পরমেশ্বর নিজেই। সেই আত্মার উত্তম কর্মের মধ্যেই এই যজ্ঞের যশ লুকিয়ে আছে। এমন উত্তম আত্মত্যাগ দ্বারা কৃত যজ্ঞের ফলে স্বয়ং বিরোধীরাও প্রশংসা করতে বাধ্য হয়। আর যারা প্রতিপক্ষ নয় তাদের বিষয়ে ত প্রশ্নই উঠে না। সাধারণ মনুষ্য নিজেকে পরমেশ্বর কিংবা ঋষির সম মর্যাদাশালী দাবী করতে চায়। ঋষি বলেন — আমি সর্বদা প্রভুর প্রতি সমর্পিত থাকি। সুতরাং ঋষি এই বিশ্বকর্ম সূক্ত সাক্ষাৎকার করেন মাত্র। সেখানে আগত ভুবনের " আহুতি " পদ নিয়েই যত সমস্যা। ঋষি তার নাম উক্ত সূক্তে মাধ্যমে " বিশ্বকর্মা ভৌবন " রেখে দেন। ইতিহাসকারক গণ তা কোন পুরুষ বিশেষ ভৌতিক অগ্নিতে প্রবেশ করা মনে করে থাকেন । যা তাদের অজ্ঞানতার প্রতিফলন ছিল। " সর্বমেঘ " – সর্বস্ব ত্যাগ করা বোঝায়। আত্মার আহুতি দ্বারা সমস্ত জীবনকে অন্যের হিতের জন্য করে দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।

আধিদৈবিক অর্থে তা সূর্যের গতি বোঝায়। সে এই বিশ্বযজ্ঞে পৃথিবী তথা অন্য গ্রহ উপগ্রহকে আহুতি দিয়েও সন্তুষ্ট হতে পাড়তেছে না। বিরোধীরা নিজের সর্বত্র বিশাল অগ্নি কুণ্ডে ' স্বাহা ' বলে আহুতি দিচ্ছে ।

সরণ্যু
-----------

ঐতিহাসিক পক্ষের আরো একটি জনপ্রিয় ইতিহাস হল বেদের " সরণ্যু " সম্পর্কে। এবিষয়ে যাস্ক তার নিরুক্তের এবিষয়ে ১২/১০ এ লিখেন —

" তেত্রেতিহাসমাচক্ষতে — ত্বাষ্টী মরণ্যৃর্বিবস্বত আদিত্যাদ যমৌ মিথুনৌ জনয়াঞ্চকার । সা সবর্ণামন্যাং প্রতিনিধাযাশ্বং রূপং কৃত্বা প্রদুদ্রাব। স বিবস্বানাদিত্য আশ্বমেব রূপং কৃত্বা তামনুসৃত্য সম্বভুব। ততোऽশ্বিনৌ জজ্ঞাতে, সবর্ণায়াং মনুঃ। "

এবিষয়ে ইতিহাসকারগণ বলেন — ত্বষ্টার পুত্রী সরণ্যু বিবম্বান্ আদিত্য থেকে দুই যমজ সন্তান - যম এবং যমী জন্ম দেন। সে তার স্ত্রী সবর্ণা, আরেক স্ত্রীকে নিজ স্থানে রেখে তথা ঘোড়ার রূপ ধারণ করে দৌড়ে চলে যায়। বিবস্বন আদিত্যও ঘোড়ার রূপ ধারণ করে তার অনুসরণ করেন এবং সংগম করে। এরদ্বারা সবর্ণা দ্বারা অশ্বী তথা মনুর জন্ম হয়।

" তদবিভাদিন্যেষর্গ ভবতি "

এবিষয়ে কথা উক্ত ঋকে পাওয়া যায় —

" ত্বষ্টা দুহিত্রে বহতুং কৃণোতীতীদং বিশ্বং ভুবনং সমেতি। যমস্য মাতা পর্যুহ্মমানা মহো জায়া বিবস্বতো ননাশ "। ( ঋ০ ১০/১৭/১)

ত্বষ্টা পুত্রীকে বিবাহ করেন — এটা শুনে সম্পূর্ণ ভূতজাতী একত্রিত হয়ে যায়। যমের মাতা মহান বিবস্বানের স্ত্রী বিবাহ হইতে না হইতে মারা জান।

নিরুক্তকার মন্ত্রের উক্ত ঐতিহাসিক অর্থ করে পরবর্তীতে নিজের মত পোষণ করেন।

" রাত্রিরাদিত্যস্য (জায়া) আদিত্যোদয়েऽন্তর্ধীযতে "

আদিত্যের স্ত্রী রাত্রি আদিত্যের উদয় হতে না হতে অদৃশ্য হয়ে যায়। এতে জানা যায় যে নিরুক্তকারের মতে সরণ্যু রাত্রির অপরনাম হয়। উপরে বলা হয়েছে : সরণ্যু = সরণাত। সরণ্যু = গতিশীল ( রাত্রি) । বেদোক্ত আখ্যান কেবল রূপক কাহিনী বর্ণন করে। রাত্রি ত্বষ্টার পুত্রী হয় । ত্বষ্টা অগ্নি হয়, যে রাতের দেবতা। সে তার কন্যার বিবাহ উদীয়মান ( বিবস্বান) সূর্যের সাথে দিতেছে। এই সমাচারে সারা বিশ্বে খুশির আলোড়ন বয়ে যায়।

নৈরুক্তপক্ষে ত্বস্যামৃচি ত্বষ্টা মধ্যমস্তমোভাগস্তস্য দুহিতাঃ উষাঃ । তেন রাত্রিরূপেণ স্বৈরুদয়ে ( সূর্যোদয়ে) জন্যমানত্বাত্তস্যা বহনং প্রাপণমনুপ্রবেশ আদিত্যে তং স মধ্যমস্ত্বষ্টা রাত্রিরুপ আত্মাপগমনেন করোতি। এতেন কারণেনেদং সর্ব ভুতজাতং সমেতি সংগচ্ছতে স্বৈঃ কর্মভিঃ সম্বধ্যতে। ডদিতায়াং হ্মুপসি অপৈতীদানীং তপ উদেত্যাদিত্য ইত্যেবং মন্যমানাঃ সর্বপ্রাণিন স্বকর্মাণি কর্ত্তু প্রারভন্ত ইত্যর্থঃ। সাপি,যম আদিত্যস্তস্য মাতা সাহচর্যাদ্রহরণাদ্বা মাতৃভুতাঃ। তং প্রতি পর্যুহ্মমানা চ ন কেবলং মাতৃতুতা। কিম্ নহি ? মহো মহতো বিবস্বতোऽভিগমনসামান্যাজায়াভুতা। বিশ্বরূপেণ ননাশ নশ্যতি। ওদ্যত্যাদিত্যে ত্নীয়তে তদাত্মকৈবেত্যর্থঃ। অভিসমাগচ্ছতীতি স্বৈঃ কর্মভিরিতি বাক্যশেষঃ রাত্রিরা - দিত্যস্যেতি চ রাত্রিশব্দেন রাত্রেরেকদেশত্বাদুষাঃ এবোচ্যতে সম্বন্ধত্বাত্। সা চ দেবধর্মেণাদিত্যস্য মাতা। ( স্কন্দস্বামী : ১২/১১) ।

নিরুক্ত পক্ষে উক্ত ঋকের ' ত্বষ্টা ' মধ্য লোকের তপো ভাগের নাম হয়। উষা তার মেয়ে হয়। সূর্যের উদয় হতেই উষা রাত্রি রূপ ত্বষ্টা দ্বারা উৎপন্ন হয়। ত্বষ্টা তার বোন এর অনুপ্রবেশ আদিত্যে করে দেয়। এরদ্বারা সর্ব প্রাণীজগত নিজ নিজ কার্য করতে শুরু করে।……. যমও আদিত্য অর্থে হয়। সে তার মা হয় — সহচর্যের এই রস হরণের কারণ। সে কেবল মা ই নয়, স্ত্রীও হয়।…… নষ্ট হয়ে যাওয়ার অর্থ হল, তার সাথে একীভূত হয়ে তাতেই লীন হয়ে যাওয়া।……. রাত্রির অভিপ্রায় রাত্রির একটি অংশ উষা হয়। সে দেব - ধর্ম আদিত্যের মাতা।


মিত্রবরুণ বশিষ্ঠ তথা উর্বশী
---------------------------------------------

নিরুক্ত ৫/১৩ তে উর্বশী শব্দের ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। এবিষয়ে নিরুক্তকার বলেন —

" তস্যা দর্শানান্মিত্রাবরুণয়ো রেতশ্চস্কন্দ। তদভিবাদিন্যেষর্গ ভবতি "

" উতাসি মৈত্রাবরুণো বসিষ্ঠোর্বশ্যা ব্রহ্মন মনসোऽধি জাতঃ। দ্রপ্সং স্কন্মং ব্রহ্মণা দৈব্যেন বিশ্বে দেবাঃ পুষ্করে ত্বাদদন্ত ∥ " ( ঋ০ ৭/৩৩/১১ )

অর্থাৎ তাঁর ( উর্বশী) দর্শন দ্বারা মিত্র এবং বরুণের বীর্য স্থলিত হয়ে যায়। এখানে উক্ত ঋকের ইতিহাস বাচক অর্থ সম্বন্ধে বলা হয়েছে

আচার্য যাস্ক উক্ত মন্ত্রের দুই/তিন শব্দের অর্থ নিম্নরূপ করেছেন।

" উত= অপি। দ্রপ্স = সম্ভৃতঃ, প্সানীয়ো ভবতি। বিশ্বে = সর্বে। পুষ্করম্ = অন্তরিক্ষম, ( হৃদয়কমলম্)। "

উর্বশী শব্দের অর্থ দূর্গাচার্য এবং স্কন্দস্বামী উভয় বিদ্যুৎ করেছেন। পূর্বের মন্ত্রেও বিদ্যুৎ শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়।

" বিদ্যুতো জ্যোতিঃ পরি সঞ্জিহানং মিত্রাবরুণা যদপশ্যতাং ত্বা। তত্তে জন্মোতৈকং বসিষ্ঠাগস্ত্যো যত্ত্বা বিশা আজভার। "

আধিদৈবিক পক্ষে স্কন্দ স্বামী নিম্নপ্রকার অর্থ করেছেন।

নিত্যপক্ষে তু উর্বশী বিদ্যুদ্ বশিষ্ঠোऽপ্যাচ্ছাদিত উদকসঙ্ঘাতঃ। বসুনিমিত্তত্বাদ্বা বসুমত্তমঃ। মিত্রাবরুণাবপি বায্বাদিত্যৌ বিশ্বে দেবা রশ্ময়ঃ। একবাক্যতায়ৈ চ যত্তচ্ছব্দাধ্যাহারঃ কর্তব্যঃ। তেনায়মর্থঃ। যত্ পূর্ব তাবত্ পৃথিব্যাং ভবঃ পার্থিব। উত অপ্যসি মৈত্রাবরুণো মিত্রাবরুণাভ্যাং বায্বাদিত্যাভ্যামাকৃষ্টঃ সন্ তৎসম্বন্ধান্মৈত্রাবরুণো মিত্রাবরুণসম্বন্ধীত্যর্থঃ। হে বসিষ্ঠ আচ্ছাদয়িতৃতম বসুনিমিত্তত্বাদ্বা বসুমত্তম উদকসঙ্ঘাত উর্বশ্যা উর্বন্তরিক্ষব্যাপিন্যা বিদ্যুৎঃ। অধি ধাত্বর্থত্বানুবাদী জাত উৎপন্নঃ । হে ব্রহ্মন্ পরিবৃদ্ধ উপচারাদ্বা ব্রহ্মণোऽন্যস্য হেতুভূত ! মনসঃ নিমিত্তলক্ষণা চৈষা পঞ্চমী মনসোবসম্বন্ধাত্ সঙ্কল্পো লক্ষ্যতে। স মিত্রাবরুণবপ্রাণাং সঙ্কল্পনিমিত্তত্বাদিত্যর্থঃ। দ্রপ্সং সংমিতং ভক্ষয়িতব্যম্ চোদকসঙ্ঘাত স্কত্রং মুক্তং ব্রহ্মণা দৈব্যেত দিবি ভবেনাদিত্যেন বিশ্বে দেবা রশ্ময়ো মধ্যমায়া……. প্রাবৃষি পুষ্করেऽন্তরিক্ষে ত্বাং ধারিতবন্ত।

নিত্যপক্ষে উর্বশী শব্দের অর্থ বিদ্যুৎ হয়। বসিষ্ঠ এর অর্থ জল সমূহ হয়ে থাকে। ধন ধনাদি তথা ঐশ্বর্যের কারণ হওয়ার দরুন জল সমূহ কে বসিষ্ঠ বলা হয়। মিত্র এবং বরুণের দ্বারা অভিপ্রায় বায়ু তথা আদিত্যের হয়ে থাকে, এবং " বিশ্বেদেবাঃ " সূর্যের কিরণকে বলে। যত্ এবং তত্ এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমরা এই অর্থ পাই — " প্রথমে পৃথিবীতে থাকা কালীন পার্থিব জল মিত্র এবং বরুণ অর্থাৎ বায়ু এবং আদিত্য এক হয়ে যাওয়ার দরুন মিত্রাবরুণ বলা বলা হয়ে থাকে " । অর্থাৎ হে বসিষ্ঠ ! অর্থাৎ পূর্ণ আচ্ছাদন কারী ( বস + আচ্ছাদনে) ধান্যাদ্যৈশ্বর্য এর কারণে ' বসুমত্তম ' বলা বিদ্যুৎ দ্বারা উৎপন্ন মহান জল সমূহ। আকাশে স্থিত সূর্যের রশ্মি দ্বারা পশ্চিম আকাশে তুমার উপর জল স্বরূপ বৃষ্টি বর্ষিত করে সে বর্ষাঋতু ধারণ করে।

সেই বিদ্যুৎ এর আলো কে চারদিকে ছড়িয়ে যেতে মিত্র এবং বরুণ উভয় যা দেখেছেন। হে বসিষ্ঠ ! এটাও তোমার এক জন্মেরি রূপ ছিল যা অগস্ত্য তুমাকে প্রজাদের কাছে নিয়ে যায়।

এর পূর্বে " বহি উতাপি….. " ইত্যাদি মন্ত্র উল্লেখ পাওয়া যায়। যার শব্দার্থ নিম্নপ্রকারঃ —

হে ব্রহ্মবেত্তা বসিষ্ঠ ! তুমি উর্বশীর মন থেকে উৎপত্তি হয়েছ এবং মিত্রাবরুণ এর থেকেও সেরূপ । সেই দিব্য ব্রহ্ম দ্বারা পরিত্যাগ করা ছোট খাটো অংশকেও সব দেবতাগণ হৃদয় সহিত গ্রহণ করেন।

শতপথ ব্রাহ্মণ ১২/৮/২/২৩ এতে " মনো মিত্রাবরুণঃ " = মন মৈত্রাবরুণ হয়। কৌষীতকি ১৮/১৩ " গোসংস্তবৌ বৈ মিত্রাবরুণৈ " অর্থাৎ বাণী এবং স্তুতি, মিত্র এবং বরুণ হয়। শতপথ ব্রাহ্মণে ১৪/৪/৩/১৩ এখানে " মনোऽন্তরিক্ষলোকঃ " এই পাঠ পাওয়া যায়। তাণ্ড্য ব্রাহ্মণ ১৯/৩/৮ " বসিষ্ঠস্য জনিত্রে ( সামনী) ভবতঃ = বসিষ্ঠকে জন্মদানকারী দুই সন্ধিবিশেষ দ্বারা হয়। শতপথ ১৪/৯/২/২ " বাগ্বৈ বসিষ্ঠা = বসিষ্ঠ অর্থ বাণী হয় "। এবং ঐতেরেয় ব্রাহ্মণ ৫/২৩ " বাক বৈ মনশ্চ দেবানাং মিথুনম্ " = বাণী এবং মন উভয় দেবতার অঙ্গ।

উক্ত ব্রাহ্মণ গ্রন্থের আধারে আমরা বসিষ্ঠ কে মন, মিত্র বরুণকে ক্রমশঃ বাণী এবং জ্ঞান, স্তুতি অর্থ ভক্তি অর্থ নির্ধারণ করে থাকে। মনকে উর্বশীর পুত্র তার চঞ্চলতার জন্য বলে থাকে। প্রথমে তাকে বিদ্যুৎ জ্যোতি : অর্থাৎ বজ্রের আলোড়ন বলা হত, অতঃপর উর্বশীর মন থেকে সৃষ্টি - তাও বলা হয়। এছাড়াও প্রথমে বজ্রের তেজ তথা তার মনের অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ বলা হত। মিত্র এবং বরুণের সাহচর্য অন্য শব্দ দ্বারা তার জ্ঞান এবং ভক্তির প্রদান যা অগস্ত্য ( গুরু) এবং কুম্ভের ( গর্ভ) মধ্যে হয়েছিল। এটাও ত তার আরো একটি জন্ম স্বরূপ । দেবতারা তাকে পুষ্কর অর্থাৎ হৃদয়ে ( কমল) রেখেছেন। এবিষয়ে বলা হয়েছে আছে —

" ততো জাতমৃষিমাহুর্বসিষ্ঠম্। "

এই জন্মের পশ্চাৎ বসিষ্ঠকে ঋষি বলতে থাকেন।

মিত্র এবং বরুণ অর্থাৎ জ্ঞান এবং ভক্তি দ্বারা মনে করে রেতঃ = তেজকে ধারণকরে বসিষ্ঠ মান = মাপ - তুলা পূর্ণ পুরুষকে হয়েছেন। এবিষয়ে স্বয়ং বেদে উল্লেখ আছে —

" উকথভৃতং সামভৃত বিভর্তি গ্রাবাণং বিভ্রৎপ্র বদাত্যগ্রে। " ( ঋ০ ৭/৩৩/১৪)।

বাণী দ্বারা তথা সাম দ্বারা সংগৃহীত তেজকে ধারণ করা ( বসিষ্ঠ) পড়ে গিয়ে জ্ঞান উপদেশ করেন।

পূর্ণ শিক্ষা তাকেই বলে যেখানে বুদ্ধি এবং ভাবনাকে উভয়কে একসাথে বিকাশ হয়ে থাকে।

এছাড়াও বসিষ্ঠ শব্দের অর্থ সংস্কারবিমুখ মন অর্থেও বুঝায়। হৃদয় অর্থে তার অন্তরিক্ষ বা আকাশ হয়। আর সেখানেই দেবতাদের মন থাকে। এছাড়াও সে উর্বশী হৃদয়ের তরঙ্গ হয়। আচার্যের কৃপায় তার দ্বিতীয় জন্ম লাভ করে। যাতে বেদে " উত " = অপি = এবিষয়ে বারংবার বিস্তারিত ভাবে স্পষ্ট করা হয়। মিত্র এবং বরুণের তেজ, জ্ঞান তথা শ্রদ্ধা দ্বারা প্রাপ্ত শক্তি হয়। বেদে মিত্র এবং বরুণ বিদ্যুৎ এর প্রকাশলে বলে থাকে, কিন্তু সেখানে " জ্যোতি " " ত্বা " বিশেষণ হয়, অর্থাৎ স্বয়ং বসিষ্ঠের চঞ্চলতার কারণকে বজ্রের চমকানো বলা হয়েছে। এর পূর্বে উক্থ তথা সাম্ — ব্রাহ্মণের গ্রন্থের দ্বারা গরু তথা স্তব — আজকালকার ভাষায় জ্ঞান তথা ভক্তি তথা মিত্র বরুণ স্বরূপ রেতসঃ অর্থাৎ শিক্ষা রূপি যজ্ঞ [ রেতো বা অত্র যজ্ঞঃ শ০ ৭/৩/২/৯ ] দ্বারা তার দ্বিতীয় জন্ম হয়। ইতিহাসকার গণের মতে উর্বশী দর্শনমাত্র বরুণের বীর্য দ্বারা বসিষ্ঠের জন্ম হয়। যা তাদের ইচ্ছা/অনিচ্ছাকৃত ভুল।

ও৩ম্ কৃণ্বন্তো বিশ্বমার্যম্

Want your school to be the top-listed School/college in KOLKATA?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Kolkata
700107