10/06/2020
🛑 ব্রহ্মার চাকতি তে পৃথিবীর বিনাশ!
একটি প্রচলিত গল্প আছে যে, বেনারাসের এক গম্বুজের নীচে, যেটা নাকি আবার পৃথিবীর মধ্যিখানও বটে! আছে এক ব্রহ্মার মূর্তি এবং তার সামনে রাখা আছে পিতলের প্লেট, তাতে আটকানো তিনটে হীরের তৈরী লম্বা দণ্ড। কথিত আছে, এরমধ্যে একটি দণ্ডতে সৃষ্টির সময় ব্রহ্মা 64 টি গোলাকার চাকতি রাখেন, কিন্তু প্রত্যকটি চাকতির ব্যাসার্ধ আবার আলাদা। এমন ভাবে রাখা যে, সবচেয়ে বেশি ব্যাসার্ধের চাকতিটি সবচেয়ে নীচে এবং ক্রমহ্রাসমান ব্যাসার্ধ অনুযায়ী একটির উপর একটি চাকতি পর পর সাজানো, এভাবেই সবচেয়ে ছোট ব্যাসার্ধের চাকতিটি সবচেয়ে উপরে থাকবে (দেখতে খানিকটা শঙ্কুর মতই লাগবে)।
এবার কাজটা হলো এই পুরো গঠনটাকে অন্য দণ্ডতে স্থানান্তরিত করা, কিন্তু ব্রহ্মা এতেও আবার বিশেষ বিধান দিয়ে গেছেন :
▶️ একবারে একটা চাকতিকেই সরানো যাবে।
▶️ এই সরানোর সময় কখনোই যেন তুলনামূলক ছোট ব্যাসার্ধের চাকতি, তার চেয়ে বড়ো চাকতির নীচে চলে না আসে।
এইভাবে সমস্ত 64 টি চাকতিই যখন অন্য একটি দন্ডের মধ্যে সাজিয়ে দেওয়া যাবে, তখনই নাকি সবকিছু ধূলোয় পরিণত হবে, আকাশে দেখা দেবে বিদ্যুতের ঝলক এবং সাথে সাথেই ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবী! বোঝো কান্ড!
গল্প তো গল্পই! কিন্তু এর ভেতরে একটা সুন্দর অঙ্ক লুকিয়ে আছে। বাঁচা-মড়ার যখন ব্যাপার, তখন প্রশ্ন তো আসবেই, চাকতি গুলো তাহলে কতবার সরাতে হবে? আর কত সময় পরেই বা পৃথিবীর ধ্বংস হবে?
চাকতি গুলো নিয়মানুযায়ী সরাতে শুরু করলেই একটা জিনিস লক্ষ্য করা যাবে, সেটা হচ্ছে, প্রত্যেকটি চাকতি সরাতে তার ঠিক আগের চাকতির জন্য যতবার সরাতে হয়েছে, তার চেয়ে দ্বিগুন বার সরাতে হচ্ছে। অঙ্কের ভাষায় একেই বলে গুণোত্তর প্রগতি (Geometric Progression), এক্ষেত্রে পরের সংখ্যা আগের সংখ্যার দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এই সূত্রানুযায়ী, গল্পের চাকতি গুলো কে যতবার সরাতে হবে তা হলো : 18,446,744,073,703,551,615 ।
(বিস্তারিত হিসাব কমেন্টে আছে)
এখন ধরি কোনো অতিমানবও যদি কোনো বিশ্রাম না নিয়ে, একটুকুও সময় নষ্ট না করে দিনরাত খাটে এবং একটা চাকতি সরাতে 1 সেকেন্ড সময় নেয়, তাহলেও সমস্ত কাজটা করতে সময় লাগবে, পাঁচশো আশি হাজার কোটি বছর ! (এক বছরে 31,558,000 সেকেন্ড)
এত বড় বড় সংখ্যা দেখে তো মাথা ঘুরে যাবার জোগাড়।কিন্তু সূর্যের জ্বালানির হিসাব বলছে, সম্ভাব্য তা আরো দেড়শো কোটি বছর চলতে পারে। কী আর করা যাবে! ব্রহ্মা আমাদের অনেকটা সময় দিলেও, তার অনেক আগেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। হাতে যে সময় বড্ড কম!