29/07/2021
ছন্দ : ছন্দ হলো কাব্যের গতি সৌন্দর্য
বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণ
কৌশল।পবিত্র_বেদের মন্ত্রগুলো বিভিন্ন
ছন্দে উচ্চারিত হয়। বেদে ৭ টি মুখ্য
ছন্দ আছে -
১।গায়ত্রী ছন্দ -২৪ অক্ষর বিশিষ্ট।
২।উষ্ণিক্ ছন্দ -২৮ অক্ষর বিশিষ্ট।
৩।অনুষ্টুপ ছন্দ -৩২ অক্ষর বিশিষ্ট।
৪।বৃহতী ছন্দ -৩৬ অক্ষর বিশিষ্ট।
৫।পঙ্কক্তি ছন্দ -৪০ অক্ষর বিশিষ্ট।
৬।ত্রিষ্টুপ ছন্দ -৪৪ অক্ষর বিশিষ্ট।
৭।জগতী ছন্দ -৪৮ অক্ষর বিশিষ্ট।
লক্ষ্য করলে দেখা যায় অসাধারণ গাণিতিক বিন্যাসে বৈদিক ছন্দের উদ্ভব। অর্থাৎ গায়ত্রী থেকে জগতী পর্যন্ত প্রত্যেকটি ছন্দে পর্যায়ক্রমে চারটি করে অক্ষরের বৃদ্ধি ঘটেছে।
গায়ত্রী ছন্দঃ।“গায়ন্তম তারয়েৎ যস্তু স গায়ত্রঃ”। “গায়ত্র” শব্দের স্ত্রীলিঙ্গে গায়ত্রী। যা গাইলে ত্রাণের রাস্তা পাওয়া যায় তাকে বলা হয় গায়ত্রী।গায়ত্রী ছন্দে আটটি শব্দাংশ যুক্ত মোট তিনটি পাদ থাকে। কিন্তু ঋগ্বেদ সংহিতায় উল্লিখিত গায়ত্রী মন্ত্রে একটি শব্দাংশ কম। এই মন্ত্রের প্রথম পাদে সাতটি শব্দাংশ। তাই তিন-শব্দাংশযুক্ত "বরেণ্যং" শব্দের পরিবর্তে "বরেণীয়ং" শব্দটির দ্বারা শব্দাংশের সংখ্যায় সমতা আনা হয়।
অনুষ্টুপ ছন্দঃ
‘অনুষ্টুপ’ আসলে সংস্কৃত ছন্দ।বৈদিক সাহিত্যে এর ব্যাপক প্রয়োগ লক্ষ করা যায়।আদি কবি বাল্মীকির মুখনিসৃত প্রথম শ্লোকটি অনুষ্টুপ ছন্দে নিবদ্ধ। ব্যাখ্যা করার আগে একটু বলে নিই যে ; ‘অক্ষরবৃত্ত’ বলতে যেমন ‘অক্ষর’ অর্থে syllable বা ‘দল’ বা শব্দাংশ বুঝি ,তেমনি ‘মাত্রা’ অর্থে তাঁর উচ্চারণের সময় বা পল কে বুঝতে পারি। “ সরল সংস্কৃত সরণি” এর তৃতীয় সংস্করণের ৩৬ নং পৃষ্ঠায় “অনুষ্টুপ” ছন্দ সম্পর্কে একটা শ্লোক আছে। তা হল এ রকম:- “অনুষ্টুছন্দসি চত্বারঃপাদাঃ ভবন্তি প্রত্যেকপাদে চ অষ্ট অক্ষরাণি। শ্লোকে অষ্টং গুরুর্জ্ঞেয়ং সর্বত্রং লঘু পঞ্চমম্। দ্বিচতুষ্পাদেয়হস্বং সপ্তং দীর্ঘমন্যয়োঃ।।’’ অর্থাৎ, অনুষ্টুপ ছন্দে চারটে করে চরণ থাকবে আর তার প্রতিটি চরণ থাকবে আটটা অক্ষর।প্রত্যেক চরণে ষষ্ঠ অক্ষর গুরু হবে আর পাঁচ নং হবে লঘু। সপ্তম অক্ষর প্রথম এবং তৃতীয় চরণে গুরু হবে আর দ্বিতীয় ও চতুর্থ চরণে হ্রস্ব হবে ।
অনুষ্টুপ ছন্দের প্রতিটি শ্লোক ৩২ অক্ষর বিশিষ্ট।শ্রীমদ্ভগবদ গীতা এই ছন্দে রচিত।
উষ্ণীক ছন্দঃএটি ২৮ টি অক্ষরযুক্ত।উষ্ণিকের প্রত্যেক চরণে সাতটি বর্ণ থাকে।