বক্তব্য ও কিছু কথা

বক্তব্য ও কিছু কথা

Share

মনের কথার বহিঃপ্রকাশ

19/02/2026

দিল্লিতে হওয়া AI সামিট হওয়ার কথা ছিল দেশের আগামী ভবিষ্যতের রোডম্যাপ। হওয়ার কথা ছিল দেশের গর্বের বিষয়। কিন্তু দেখা গেল তা অন্তঃসারশূন্য ঢক্কানিনাদ। সেখানে বড় বড় প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু নূন্যতম ভবিষ্যতের ডিজিট্যাল ভারতের কোনও ব্লু প্রিন্ট নেই।

আপনি হয়তো ভাবছেন ঐ সেই রোবো-ডগ নিয়ে আবার আপনিও পোস্ট করছেন। হ্যাঁ, আবার না। আমি ব্যক্তিগতভাবে খবরে নজর রাখছিলাম ইউটিউবে বিভিন্ন ক্লিপিংসে এই সামিটের ব্যাপারে। ওই একটি ঘটনা হাইলাইটেড হয়েছে বলে সবার চোখে পড়েছে। আর একটু খবর চেপে দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি মানুষকে বোকা বানানোর কৌশল কারো চোখে ধরা পড়েনি।

গালগোটিয়াস ইউনিভার্সিটি চিনের একটি কোম্পানির তৈরি রোবো-ডগকে নিজেদের ইউনিভার্সিটিতে তৈরি বলে চালানোর চেষ্টা করল। সারা বিশ্বের সামনে দেশের নাক কাটা গেল। বিন্দুমাত্র লজ্জা শরম থাকলে একটি ইউনিভার্সিটি এরকম করতে পারে? একটি প্রাইভেট ইনস্টিটিউটে যখন আপনার ছেলেমেয়েকে পড়তে পাঠাবেন, সময় সময় খবর নিয়ে দেখুন সেখানে পড়াশোনা শেখানো হয় নাকি ফাঁকিবাকি লোকঠকানো?

তবেই এই একটি ঘটনা বিচ্ছিন্ন ঘটনা এরকম ভাবলে ভুল হবে। গত কাল বা পরশুই খবরের কাগজে খবরে প্রকাশ, ব্যাঙ্গালোরের একটি স্টার্ট আপ কোম্পানি এই সামিটে স্মার্ট ওয়্যারয়েবল ডিসপ্লে করতে গিয়েছিল। বহু পরিশ্রম করে তাঁরা বানিয়েছিলেন, এই সামিটে প্রথম দেখিয়ে ব্যান্ড প্রোমোশন করতে। প্রধানমন্ত্রী যখন এই সামিটে প্রবেশ করছিলেন, তখন সিকিউরিটির জন্য তাঁদের বাইরে যেতে বলা হয়। পরে যখন তাঁরা ফিরে আসেন, তাঁরা দেখেন তাঁদের স্টলের সবকটি গ্যাজেট চুরি হয়ে গিয়েছে। শুধু খালি প্যাকেটগুলো পড়ে ছিল। সিকিরিটির এমন বহর যে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন একটি প্রদর্শনীর জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে!

আরও আছে। ভারতীয়দের গর্বের দেশীয় IT কোম্পানি TCS. আমরা যাঁরা একটু আধটু শেয়ার মার্কেটের খবর রাখি, তাঁরা জানি ভারতীয় বাজারে IT ইনডেক্স আক্ষরিক অর্থেই 'bleeding'। বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলো মনে করে না যে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলো এমন কোনও ইনোভেশনে ইনভেস্ট করছে, যা দিয়ে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত কোনও বিরাট বিপ্লব আনা সম্ভব! ফলে তাঁরা মোটা বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। সত্যি কি তাই? কিছুটা তো সত্যি! এই সামিটে TCS প্রদর্শনিতে দেখিয়েছে AI-এর সাহায্যে কীভাবে শাড়ি বোনা যায়।

এখন শুনে ব্যাপারটা যতটা বৈপ্লবিক মনে হচ্ছে যাঁরা পাঁচ-সাত বছর কাজ করছেন IT ফিল্ডে তাঁরা ভালো মতোই বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা স্রেফ ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিচ্ছু না। কেন? প্রদর্শনীতে ওঁরা দেখালেন, ট্যাবের স্ক্রিনে শাড়ির বিভিন্ন যে কালার প্যালেট আছে তার মধ্যে যে কোনও একটা নির্বাচন করা যাবে। তারপরে বিভিন্ন মোটিভের ডিজাইন থেকে পছন্দ মতো বেছে নেওয়া যাবে। এরপরে শাড়ি বোনার মেশিনের প্যানেলের উপরে কোন রঙের সুতো ব্যবহার করতে হবে, দেখিয়ে দেবে। ফলে যিনি বসে বুনবেন, তাঁকে আর মাথা ঘামাতে হবে না। অবশ্যই এর ফলে একটা পরিশ্রম কমে যাবে। একজন অদক্ষ শ্রমিককে বসে ভাবতে হবে না, কোন রঙের সুতোর পরে কোন রঙের সুতো ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এখানে AI ঠিক কোথায়? মানে গা জোয়ারি করে যদি দুই লাইন আমি ঢুকিয়ে দিতে চাই সেটা অন্য কথা। কিন্তু একটা অ্যাপের প্যানেল থেকে আগে থেকে দেওয়া কালার প্যালেটের মধ্যে থেকে একটি সিলেক্ট করা এবং তারপরে আগে থেকে দেওয়া কিছু মোটিভের মধ্যে একটা সিলেক্ট করা । এখানে AI ঠিক কোথায়? Pre-feed করা ডেটা হিসাব করে ডিসপ্লেতে কালার দেখানো কীভাবে যে AI হল আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে অন্তত আমি বুঝতে পারিনি। AI-এর সঠিক ব্যবহার হত, যদি এটাই এরকম হত যে একজন ইউজার বলবে সে কী ধরণের শাড়ি চাইছে, কী রঙ তাতে থাকবে, কী উৎসব বা অনুষ্ঠানের জন্য একটি শাড়ি ডিজাইন করতে চাইছে। সেই সব ইনপুটের উপর ভিত্তি করে স্ক্রিনে দুটো বা তিনটে শাড়ির ডিজাইন এলো। তার থেকে পছন্দসই একটা বেছে নিতেই সেই শাড়িটি বুনতে কারিগরকে ডিসপ্লেতে যাবতীয় সহয়তা প্রদান করা। কিন্তু তার বদলে একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি সাধারণ মানুষ ও মিডিয়াকে বোকা বানানো বেশি প্রয়োজনীয় মনে করল।

ভারতীয় মানুষজন, মিডিয়া এসব দেখে 'ও হো হো কী মহান টেকনলজি' বলে বাজার গরম করে খবর পরিবেশ করতে পারেন ঠিকই (কারণ আজকাল মিডিয়া হাউসগুলো আর তাবায়েবখানার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই) । কিন্তু এসব করে বিদেশি বিনিয়োগ টানা যায় না। দেশের ভবিষ্যৎও শক্তপোক্ত করা যায় না! তার জন্য দেখনদারির থেকে বেশি দরকার সঠিক ট্যালেন্টে বিনিয়োগ করা। পরিশ্রম করা। স্কিল ডেভলপমেন্টে বড় বড় কোম্পানির মন দেওয়া প্রয়োজন। না হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এভাবেই বারে বারে দেশের মুখ পুড়বে।

পুনশ্চ(edit): অনেকেই লেখাটিকে রাজনৈতিক রঙিন চশমার দৃষ্টিকোণে দেখছেন। আমার লেখার মুখ্য উদ্দেশ্য একেবারেই অরাজনৈতিক। আমার কাছে প্রশ্নটা দেশের সম্মানের। আমরা যাঁরা ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ তাঁদের কাছে সুযোগ ছিল বিশ্বের সামনে এমন কিছু করে দেখানোর যাতে যে বিদেশি উদ্যোগপতিরাও এই প্রদর্শনীতে এসেছিলেন তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করার। আমরা সেই সুযোগটা হারাচ্ছি স্রেফ নিজেদের ঠকবাজি আর জুয়াচুরি করার স্বভাবের জন্য। AI এখনও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিনোদন আর বাচ্চাদের খেলার উপকরণের মতোই হয়ে রয়েছে। বাস্তব জীবনের কী কী বাণিজ্যিক প্রয়োগ হতে পারে তাই নিয়েই বিশ্বময় এত কাজ, এত ধরনের প্রায়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এটা দেখতে গেলে, Once in thousand years oppertunity যেখানে আজকের AI সংক্রান্ত ধারণা ও প্রয়োগ আগামী হাজার বছরের ভবিষ্যত নির্মাণ করবে। আমার কাছে সেইটা বড় নৈরাশ্যজনক যে আমরা ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় বড় সংস্থাগুলো সেই সুযোগটা হেলায় হারাচ্ছি।

19/02/2026

এবং তার পরেও এরা আশা করে তৃণমূল কে হারিয়ে এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে |
একজন বাস্তববাদী মানুষ হিসেবে ভেবে দেখলে ব্যাপারখানা হাস্যকর মনে হবেই |
বড় বড় নেতারা মুখে যাই বলুন, সবাই লাভের গুড়ের ভাগ পেতে চায় | 🤣🤣

24/01/2026

সরস্বতি মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোঽস্তু তে॥

শুভ সরস্বতী পুজো 🪷🙏

22/01/2026

এমন বিয়েতে কেউ আমায় কেন ডাকে না??😫😫

21/01/2026

নেলসন ম্যান্ডেলা কি ১৯৮০ দশকে জেলে মারা গিয়েছিলেন? লক্ষ লক্ষ মানুষ তার শেষকৃত্য টিভিতে দেখেছে, তার বিধবা স্ত্রীর কান্না দেখেছে। অথচ তিনি মারা গেছেন ২০১৩ সালে! তাহলে ওই স্মৃতিটা এল কোত্থেকে?

এবার চলুন আপনাকে আরেকটা সিম্পল প্রশ্ন করি।

এবার ছোটবেলার সেই কার্টুন ক্যারেক্টার 'পিকাচু'-র কথা ভাবুন।

তার হলুদ লেজটার একদম আগায় কি কালো রঙের কোনো দাগ আছে?

আপনার ব্রেইন চিৎকার করে বলছে, "হ্যাঁ ভাই, অবশ্যই আছে! আমি তো টিভিতে দেখেছি, গেম খেলেছি!"
কিন্তু এখানেই গল্পের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় শক!

পিকাচুর লেজে কখনো কোনো কালো দাগ ছিল না। ওটা আগাগোড়া হলুদ। আপনি এখনই গুগলে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন।

কি? মাথাটা চক্কর দিল তো? মনে হচ্ছে না ছোটবেলার স্মৃতিটা মিথ্যে হয়ে গেল?

ওয়েলকাম টু "দ্য ম্যান্ডেলা ইফেক্ট"।

এমন এক সাইকোলজিক্যাল রহস্য, যা জানলে মনে হবে আমরা হয়তো ভুল কোনো ডাইমেনশনে বা প্যারালাল ইউনিভার্সে বাস করছি!

গল্পটা শুরু হয় ২০০৯ সালে।

ফিওনা ব্রুম নামের এক প্যারানরমাল গবেষক একটা কনফারেন্সে গিয়ে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন। কথার প্রসঙ্গে নেলসন ম্যান্ডেলার কথা উঠল। ফিওনা খুব কনফিডেন্সের সাথে বললেন, "আহা রে! ভদ্রলোক তো সেই ৮০র দশকেই দক্ষিণ আফ্রিকার জেলে মারা গেলেন। আমি টিভিতে তার ফিউনারেল দেখেছি, তার স্ত্রীর আবেগঘন বক্তৃতা শুনেছি।"

কিন্তু তার কথা শুনে বাকিরা হা হয়ে গেল। তারা বলল, "ম্যাম, আপনি কী বলছেন? নেলসন ম্যান্ডেলা তো জীবিত! তিনি তো জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এবং এই মুহূর্তে (২০০৯ সালে) তিনি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছেন!"

ফিওনা থ হয়ে গেলেন। তিনি কি পাগল হয়ে যাচ্ছেন? কিন্তু টুইস্টটা এখানে—তিনি যখন ইন্টারনেটে এটা নিয়ে কথা বললেন, দেখা গেল শুধু তিনি একা নন, পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ হুবহু একই স্মৃতি মনে রেখেছে!

তারা সবাই নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যু ৮০র দশকেই দেখেছে বলে দাবি করছে। অথচ বাস্তবে তিনি মারা গেছেন ২০১৩ সালে।

তাহলে কি লক্ষ লক্ষ মানুষের স্মৃতি ভুল? নাকি পৃথিবীটাই শিফট হয়ে গেছে?

এরপর একে একে বের হতে লাগল আরও সব অদ্ভুত উদাহরণ।

স্টার ওয়ার্স মুভিটা দেখেছেন? সেই আইকনিক সিন, যেখানে ডার্থ ভেইডার লুক স্কাইওয়াকারকে বলছে, "লুক, আই অ্যাম ইউর ফাদার।"

সবাই এই ডায়লগটাই জানে। টিশার্টে লেখা থাকে, মিম শেয়ার হয়।

কিন্তু মুভিটা চালিয়ে দেখুন বস। ডার্থ ভেইডার আসলে বলছে, "নো, আই অ্যাম ইউর ফাদার।"

'লুক' শব্দটা সে বলেইনি! অথচ সারা দুনিয়া ভুলটাকেই সত্যি বলে জানে।

কিংবা সেই স্নো হোয়াইট কার্টুন? রানীর ডায়লগটা মনে আছে? "মিরর মিরর অন দ্য ওয়াল..."

ভুল! আসল ডায়লগ হলো—"ম্যাজিক মিরর অন দ্য ওয়াল"।

এমনকি আপনি যে কিটক্যাট (KitKat) চকলেট খান, সেটার লোগোটা মনে করুন তো। কিট আর ক্যাট-এর মাঝখানে কি একটা ড্যাশ (-) আছে? আপনার মেমোরি বলবে "আছে"। কিন্তু দোকানে গিয়ে দেখুন, কোনো ড্যাশ নেই!

এখন প্রশ্ন হলো, এটা কেন হয়?

বিজ্ঞানীরা একে বলেন "ফলস মেমোরি" বা "কনফ্যাবুলেশন"। আমাদের ব্রেইন হলো একটা অলস হার্ড ড্রাইভের মতো। সে যখন কোনো স্মৃতির গ্যাপ পায়, তখন নিজে নিজে একটা লজিক্যাল তথ্য দিয়ে সেটা ভরাট করে দেয়।

পিকাচুর কানের আগা কালো, তাই ব্রেইন ভাবে লেজটাও কালো হবে। এটা একটা গ্লিচ।

কিন্তু বস, গল্পের আসল সাসপেন্স বা টুইস্টটা আসে ফিজিক্সের জগত থেকে।

কিছু কন্সপিরেসি থিওরি বলে, এটা শুধু ব্রেইনের ভুল না। এটা আসলে "অল্টারনেট রিয়েলিটি" বা সমান্তরাল মহাবিশ্বের খেলা।

অনেকে আঙুল তোলে ইউরোপের মাটির নিচে থাকা বিশাল মেশিন LHC বা লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার-এর দিকে। তাদের দাবি, বিজ্ঞানীরা যখন ওখানে গড পার্টিকল নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করছিল, তখন হয়তো অজান্তেই আমাদের রিয়েলিটি শিফট হয়ে গেছে।

মানে, হয়তো অন্য এক ইউনিভার্সে নেলসন ম্যান্ডেলা সত্যিই ৮০র দশকে মারা গিয়েছিলেন, আর পিকাচুর লেজে কালো দাগ ছিল। আমরা কোনোভাবে সেই ইউনিভার্সের মেমোরি নিয়ে এই ইউনিভার্সে চলে এসেছি।

চিন্তা করুন তো ব্যাপারটা! আপনি যেটাকে সত্য বলে জানেন, সেটা হয়তো অন্য কোনো দুনিয়ার সত্য, এই দুনিয়ার না।

যেমন ৯০ দশকে "শাজাম" (Shazaam) নামে একটা মুভি ছিল বলে সবাই দাবি করে, যেখানে কমেডিয়ান সিনবাদ এক জিনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। মানুষ সেই মুভির পোস্টারও মনে করতে পারে।

কিন্তু বাস্তবে? এমন কোনো মুভি কখনো তৈরিই হয়নি! মানুষ সম্ভবত অন্য একটা মুভি (Kazaam) এর সাথে গুলিয়ে ফেলেছে।

কিন্তু হাজার হাজার মানুষ কেন একই ভুল করবে?

এই ম্যান্ডেলা ইফেক্ট আমাদের একটা বড় লেসন দেয়।

আপনি সোশাল মিডিয়ায় যা দেখেন, বা নিজের মেমোরিতে যা সত্য বলে ভাবেন- সেটা সবসময় পরম সত্য না-ও হতে পারে। আমাদের ব্রেইন এডিট করা যায়, ম্যানিপুলেট করা যায়।

হয়তো আমরা সবাই মিলে একটা কালেক্টিভ হ্যালুসিনেশনের মধ্যে আছি।

কিংবা কে জানে, হয়তো আমরা সত্যিই অন্য কোনো ডাইমেনশনে শিফট হয়ে গেছি, যেখানে কিটক্যাটের মাঝখানে কোনো ড্যাশ নেই!

ফোনটা রেখে এবার একটু ভাবুন। আপনার ছোটবেলার এমন কোনো স্মৃতি কি আছে, যেটা নিয়ে আপনি ১০০% শিওর, কিন্তু বন্ধুরা বলছে সেটা ঘটেনি?

একটু চেক করে দেখুন। কে জানে, হয়তো আপনিও এই ইউনিভার্সের বাসিন্দা নন!

রহস্যটা কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং, তাই না? ❤️

লেখাটি ফেসবুক থেকে পাওয়া 🙏🏻

20/01/2026

ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে......
মানুষের কাছে না হোক... AI এর কাছে আমি ভালো user.
ছবি খানাও বেশ cute ই বানিয়েছে | কি মনে হয় তোমাদের??

Photos from বক্তব্য ও কিছু কথা's post 11/01/2026

সুরুুল জমিদার বাড়ি
এই জমিদার পরিবারের পত্তন ঘটেছিল অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে। এই পরিবারের আদিপুরুষ ভরতচন্দ্র ঘোষ বর্ধমানের বাঁকা নদীর তীরে ছোট নীলপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জাতিতে কোঁড়ার সদগোপ এবং অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে তিনি তাঁর স্ত্রী বিমলাকে নিয়ে কাশি যাওয়ার পূর্বে সুরুল গ্রামে তাঁদের কুল গুরুদেব বাসুদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন এবং গুরুদেবের আদেশে কিছুদিন সুরুলে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এই দম্পতি শ্যামসুন্দরের নিত্য পুজো-আরাধনা করেন এবং তাঁরা একটি পুত্র সন্তান লাভ করেন, নাম রাখেন কৃষ্ণহরি। কৃষ্ণহরির জন্ম গ্রহণের পর তাঁরা স্থায়ী ভাবে সুরুল গ্রামে বসবাস শুরু করেন।

কৃষ্ণহরি বর্তমান এই মন্দিরের উত্তরে অবস্থিত টেরাকোটার পঞ্চরত্ন (লক্ষ্মী জনার্দন) মন্দির স্থাপন করেছিলেন। কৃষ্ণহরি সরকার এবং তার পুত্ররা ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি সাধন করেন। সেইসময়ে বিপুল প্রতিপত্তি বিস্তারের কারণে এই পরিবার ইংরেজদের কাছ থেকে 'সরকার' পদবী পায় এবং ঘোষ পদবী লোপ পায়।

পরবর্তীতে কৃষ্ণহরি সরকারের প্র-পৌত্র শ্রীনিবাস সরকার তাঁর পূর্বপুরুষদের তৈরি মৃন্ময় মন্দির ভেঙে বর্তমান এই চতুষ্কোণ দালান বিশিষ্ট নাট মন্দিরটি ১৮০০০ টাকা মূল্যে তৈরি করেছিলেন। শ্রীনিবাস সরকার এবং তাঁর ভাইয়েরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইংরেজদের মাধ্যমে নীল এবং গড়া কাপড় রপ্তানির বাণিজ্য শুরু করেন। মূলত জলপথে রপ্তানির বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী কোপাই, কুঁয়ে এবং অজয় নদী হয়ে কলকাতায় পৌঁছাতো। এছাড়াও এই পরিবার লাক্ষা, চাল, চিনি প্রভৃতি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ভারতের ব্রিটিশ শাসনকালে এই সুরুল ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি কৌশল গত কেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক আবাসস্থল হিসাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিল। ব্যবসা বাণিজ্যে উন্নতির সাথে সাথে ১২০৪ বঙ্গাব্দে বীরভূমের মহারাজা জমা খাঁ এবং ১২২৪ বঙ্গাব্দে বর্ধমানের মহারাজা প্রতাপ চন্দ্রের কাছ থেকে বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকার জমিদারি ক্রয় করেন। শ্রীনিবাস সরকার তৎকালীন সদগোপ স্বজাতির (বৈশ্য সমাজের) নেতা হিসাবে পরিগণিত হন। ১২৪০ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৮৩৩ সাল) এই পরিবারের সফলতম পুরুষ শ্রীনিবাস সরকারের মৃত্যু হয়।

সুরুল সরকার পরিবারের সমৃদ্ধি এবং প্রভাব এই এলাকাকে অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করে তুলেছিল। গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যমান টেরাকোটার মন্দির এই সরকার পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি। বর্তমান এই মন্দিরটিতে যে দুর্গা পুজো হয়ে থাকে তা প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো। এই পুজো এবং অন্যান্য সকল পুজো ইত্যাদি বর্তমানে সুরুল বড় বাড়ি দেবোত্তর ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত।

এই পরিবারের দুর্গাপুজো বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বনেদি পরিবারের পুজো হিসেবে আজ সমাদৃত। সনাতন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই পরিবার দুর্গাপূজোর পাশাপাশি, লক্ষ্মী জনার্দন, কালী (শ্রীনিকেতনের কালিসায়ের মন্দির), ধর্মরাজ এবং বেশ কিছু শিব মন্দিরের নিত্য সেবা এবং বিশেষ তিথিতে এইসব দেবদেবীর বিশেষ পূজা আড়ম্বরের সাথে করে থাকে। এছাড়াও রামনবমী, শিবরাত্রি এবং জন্মাষ্টমী এখানে মহা ধুমধাম এর সঙ্গে পালন করা হয়।

শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার সূত্রে এবং বিশ্বভারতীর শ্রীবৃদ্ধি তথা কর্মপরিসর বৃদ্ধি জন্য এই পরিবারের উল্লেখযোগ্য ও অপরিসীম অবদান ছিল। এছাড়াও বোলপুর হাই স্কুল, বাঁধগোড়া হাই স্কুল প্রতিষ্ঠাতে এই পরিবারের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী মন্দির প্রাঙ্গণটিতে বহু বাংলা এবং হিন্দি চলচ্চিত্র এবং সিরিয়ালের শুটিং হয়েছে। আসুন সকলে মিলে এই মন্দির চত্বরের পরিচ্ছন্নতা এবং পবিত্রতা রক্ষা করি।

সৌজন্যে সুরুল বড়বাড়ি দেবোত্তর ট্রাস্ট সুরুল, বীরভূম, পঃ বঃ

09/01/2026

হতে পারে - সবুজ ফাইলে ঘুগনি তৈরীর রেসিপি আর সিক্রেট মশলার লিস্ট ছিলো ! 🙄🙂

09/11/2025

Nowadays people have no Civic Sense. They drink cola and throw their cups in the metro.
How shameful behaviour...🤢
This photograph is taken in Green line metro, Kolkata.


Want your school to be the top-listed School/college in KOLKATA?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Newtown
Kolkata
700156