16/07/2026
“ফুটবল ইতিহাসের অনেক সেরা খেলোয়াড়ের বিপক্ষে কোচিং করিয়েছি। কিন্তু আজকের মতো রাতই মনে করিয়ে দেয়, কেন লিওনেল মেসি আলাদা। আমরা পুরো সপ্তাহ ধরে শুধু ওকে থামানোর পরিকল্পনা করেছি। কৌশল ছিল, নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে ওর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, নানা নির্দেশনাও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই কাজে লাগল না। মেসি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাত্র দুটি মুহূর্তেই আমাদের শাস্তি দিয়েছে।
আপনি হয়তো ৮৫ মিনিট মেসিকে আটকে রাখতে পারবেন। কিন্তু সবকিছু ভেঙে দিতে ওর লাগে মাত্র পাঁচ সেকেন্ড। আজ ঠিক সেটাই হয়েছে। দুটি অ্যাসিস্ট, কোনো তাড়াহুড়ো নেই, অপ্রয়োজনীয় কোনো নড়াচড়া নেই—শুধু নিখাদ ফুটবল বুদ্ধিমত্তা। মেসি কখনও জোর করে খেলা নিজের দিকে টেনে নেয় না। সে অপেক্ষা করে। আর আপনি একবার ভুল করলেই, খেলা শেষ।
আমি সাইডলাইন থেকে বারবার চিৎকার করছিলাম, কারণ জানতাম বলটা যখনই মেসির পায়ে যাবে, বিপদ তৈরি হবেই। আমার খেলোয়াড়েরাও সেটা জানত। কিন্তু মেসি কী করতে পারে, সেটা জানা আর তাকে সত্যিই থামানো—এই দুই জিনিস এক নয়। সে এমন সব পাস দেখতে পায়, যেগুলো বিশ্বের অন্য কোনো ফুটবলার কল্পনাও করতে পারে না।
অনেকে গতি আর শারীরিক শক্তির কথা বলে। মেসির সেগুলোর প্রয়োজনই হয় না। মাঠের সব ডিফেন্ডারের চেয়ে তার মস্তিষ্ক অনেক দ্রুত কাজ করে। সে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফাঁকা জায়গা তৈরি করে এবং কোনো বাড়তি চেষ্টা করছে বলেও মনে না করিয়ে পুরো দলকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। এটাই প্রকৃত মহত্ত্বের পরিচয়।
ইংল্যান্ডের জন্য এই হার যতই কষ্টের হোক, আমি সত্যিটা অস্বীকার করব না। আমরা এমন একজন ফুটবলারের কাছে হেরেছি, যিনি ৩৯ বছর বয়সেও ফুটবলের সংজ্ঞা নতুন করে লিখে চলেছেন। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুটি অ্যাসিস্ট করে নিজের দেশকে আরেকটি ফাইনালে তুলে দেওয়া—এটা স্বাভাবিক কিছু নয়। এটা ইতিহাসকে আমাদের চোখের সামনে তৈরি হতে দেখা।
কখনও কখনও একজন কোচ হিসেবে কঠিন সত্য মেনে নিতেই হয়। আমরা শুধু আর্জেন্টিনার কাছে হারিনি, আমরা হেরেছি লিওনেল মেসির কাছে। আর যদি ফাইনালেও সে আজকের মতোই খেলতে পারে, তাহলে বিশ্বের বাকি সব দলের সত্যিই চিন্তায় পড়া উচিত।”-
থমাচ তুচেল( ইংল্যান্ড কোচ)
collected