23/05/2022
এটি university of Arizona র একটি বিজ্ঞানের প্রজেক্ট, নাম Biosphere 2। এখানে কৃত্রিম উপায়ে প্রকৃতির ডুপ্লিকেট করা হয়েছে, এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য। যাকে বলে controlled environment।
বিভিন্ন ধরণের গাছ পোঁতা হয়েছে এই কৃত্রিম পরিবেশে। সব ছবি দেওয়া সম্ভব না। ধরুন বিশাল বিশাল ফাইবারের ছাউনি দিয়ে যেমন এক্সহিবিশন হল তৈরি করা হয়, সেইরকম ব্যাপার।
বিজ্ঞানীরা দেখলেন যে এর মধ্যে গাছগুলো খুবই দ্রুত বেড়ে উঠছে ঠিকই। কিন্তু matchured হওয়ার আগেই, মানে ঠিকঠাক বড় হয়ে ওঠার আগেই ওগুলো ভেঙে পড়ছিল।
বিজ্ঞানীরা খুবই উৎসুক হলেন এর কারণ জানতে। অনেক পর্যবেক্ষণ করার পরে , তারা এক বিচিত্র কারণ আবিস্কার করলেন। গাছগুলো পড়ে যাচ্ছে বাতাসের জন্য।
কি ভাবছেন? ঝড়ে গাছ পড়ার মত ঘটনা??
কিন্তু biosphere এর মধ্যে তো ঝড় ওঠে না??? কৃত্রিম ভাবে নল দিয়ে ওর মধ্যে বাতাস ঢোকানো হয়। তাহলে???
বিজ্ঞানীরা বলছেন যে বাতাসের "অভাবে" ই গাছগুলো পড়ে যাচ্ছে। খুবই অদ্ভুত। বাতাস থাকার জন্য বা বাতাসের ঝাপটায় না, বাতাসের ঝাপটা না থাকার জন্য।
গাছ যখন প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠে, তখন বাতাসের ঝড় ঝাপটা সহ্য করে লড়াই করে ওরা বেড়ে ওঠে। অংকে সময় ছোট অবস্থায় জোরে বাতাসের নুইয়ে পড়ে, কিন্তু বাতাস কমলেই আবার খাড়া হয়ে যায়।
এই অহরহ লড়াই করার জন্য, গাছ নিজেকে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত করে। কিছু অংশের কাঠ নতুন রূপ নেয়, যাকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন Stress wood। এই অংশের কাঠের স্ট্রাকচার অন্য অংশের থেকে আলাদা, cellulose গুলো অনেক ঘন বুনেট।
আপনারা হয়তো অনেক সময় দেখেছেন রোদ্দুর পাওয়ার জন্য গাছের ওপরের অংশ বেঁকে যায়। ওই অদ্ভুত বেঁকে গিয়েও গাছ দাঁড়িয়ে থাকে। আমি নিজে দেখেছি অনেক গাছ যেগুলো মাটির অনুভূমিক ভাবে বা কোন angle এ বেড়ে উঠেছে।
অর্থাৎ বিজ্ঞানীরা বলছেন ওই নিত্য হাওয়ার সাথে লড়াই করে যে স্ট্রেস সৃষ্টি হয়,সেটাই গাছকে শক্ত পোক্ত করে। খুব শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় না হলে গাছ সাধারণত পড়ে যায় না।
Biosphere এর মধ্যে যে গাছগুলো বেড়ে ওঠে,তাদের এইরকম লড়াই করতে হয় না, কোনোরকম স্ট্রেস এর সম্মুখীন হতে হয় না। ফলে তারা নরম সরম, সুখী গাছ হয়েই বেড়ে ওঠে। কিন্তু একটু বড় হলেই, হাওয়া বা ঝড় তো দূরের কথা, নিজের ভার ই বইতে পারে না। পড়ে যায়।
স্ট্রেস ভালো। স্ট্রেস এর সাথে লড়াই করেই শক্তি অর্জন করা যায়। শারীরিক, মানসিক ভাবে শক্তিশালী হয়ে বড় হওয়া যায়।
আজকাল দেখি অনেক বাবা, মা ই ছেলে মেয়েদের ওই biosphere এর মতই কৃত্রিম পরিবেশে বড় করেন। একটি বা দুটিই সন্তান। সবসময় চেষ্টা করেন ছেলে মেয়েদের সবরকম স্ট্রেস ফুল situation থেকে বাঁচিয়ে বড় করে তুলতে। পারলে খাইয়ে দেন। ছেলে মেয়েরা স্কুলে গেলে, নিজেরাই স্কুলের ব্যাগ বয়ে নিয়ে যান। তাদের প্রজেক্ট করার জন্য নিজেরাই দৌড় দৌড়ি করেন। বন্ধুদের সাথে কোনোরকম ঝগড়া ঝাঁটি হলেই নিজেরাই গিয়ে তাদের হয়ে লড়াই শুরু করে দেন। কোনরকম আঁচ গায়ে লাগতে দেন না তাদের সোনামনির।
"আমার ছেলে টি, খায় যেন এত টি, চলে যেন গণেশ টি,
ওদের ছেলে টা, খায় যেন এত টা, চলে যেন হাতি টা।"
টা আর টি র কি চমৎকার ব্যবহার!!
এর ফলে ছেলে মেয়েরা এত প্রটেক্টেড এনভিরনমেন্ট এ বেড়ে উঠছে, যে বড় হয়ে কোন সমস্যা বা সংকটের সম্মুখীনহীন হয়েই দিশেহারা হয়ে পড়ছে। খুব মর্মান্তিক সব সিদ্ধান্ত নিয়ে নিচ্ছেন।
স্ট্রেস ভালো। স্ট্রেস কে এড়াবেন না। ঢাল হয়ে ওদের সব স্ট্রেস আটকাবেন না।
Collected