24/10/2024
রেডিও সম্পর্কে তো সকলেই জানি, কিন্তু হ্যাম রেডিও সম্পর্কে কি জানা আছে ?
হ্যাম রেডিও কি - হ্যাম রেডিও যার অপর নাম অ্যামেচার রেডিও এটি হচ্ছে এক বিশ্বব্যাপী কমিউনিটি যার মাধ্যমে সারা বিশ্বের প্রায় তিন মিলিয়ান ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ওয়াকিটকির ন্যায় দেখতে এই রেডিও একটি তারবিহীন যন্ত্রাংশ। এটি একটি রিয়েল-টাইম যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, যার কাজ সাধারণ বেতারের মতনই কিন্তু অনেক দ্রুত ও স্বচ্ছ। এই প্রকার রেডিওর নিজস্ব বেতার তরঙ্গ আছে, যা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা যোগাযোগ বা জ্ঞাপন সম্পন্ন করে থাকেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন তথ্য আদান-প্রদান, বিনোদন, গবেষণা, অবাণিজ্যিক তথ্যের লেনদেন, ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ ও বিপর্যয়কর জরুরি অবস্থায় ব্যবহৃত একটি অন্যতম টেলিযোগাযোগ পরিষেবা।
ইতিহাস - ১৯০৮ সালে কয়েকজন রেডিও অপারেটররা তার ছাড়াই সংকেত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠাতে সক্ষম হয়। মূলত সেখান থেকেই হ্যাম রেডিওর পথ চলা শুরু। সেই রেডিও ক্লাবটির নাম দেওয়া হয় হার্ভাড রেডিও ক্লাব, সম্ভবত এটাই বিশ্বের প্রথম হ্যাম রেডিও ক্লাব হিসাবে পরিচিত। আজকের দিনেও হ্যাম রেডিওর অস্তিত্ব বজায় থাকার অন্যতম কারণই হল এটি পাবলিক সার্ভিস প্রদান করে থাকে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতন সংঘর্ষের সময় হ্যাম রেডিও সামরিক বাহিনীদের অনেক কাজে এসেছিল। এছাড়াও শান্তিকালীন অবস্থায় গোটা বিশ্বজুড়ে নানা শুভেচ্ছা বার্তা সরবারহ করেছে ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে মৈত্রীমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। পূর্বের তুলনায় এখন হ্যাম রেডিওর প্রযুক্তিতে অত্যাধুনিক উন্নতি ঘটিয়েছে হ্যাম বিশেষজ্ঞরা, যা যোগাযোগের নতুন উপায়ের পথপ্রদর্শক করেছে এবং সরকার দ্বারা গৃহীত হয়েছে।
পৃথিবীর প্রায় সমস্ত এলাকাতেই এই হ্যাম রেডিওর সিগন্যাল পাওয়া যায়। এই রেডিও কিন্তু শুধু কথা বলার জন্য ব্যবহৃত হয়না, এর পাশাপাশি অ্যামেচার স্যাটেলাইট, অ্যামেচার টেলিভিশন, স্লো স্ক্যান টিভি, ফাস্ট স্ক্যান টিভি, ডাটা ট্রান্সমিশন ইত্যাদি নানা ধরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এছাড়াও দৈব দুর্বিপাক, জরুরি অবস্থায়, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় যখন প্রচলিত সমস্ত যোগাযোগ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয় তখন একমাত্র যোগাযোগের হাতিয়ার হিসেবে উঠে আসে এই হ্যাম রেডিও। আমরা খবরে শুনি একের পর এক দুর্যোগের দাপটে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখা যায় বা ওভারলোড হয়ে যেতে পারে। তখন জুরুরিকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় অংশগ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানগুলি একে অন্যের সাথে কানেক্ট করতে পারে না। ফলত যা একটি বিরাট সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু এইসব প্রতিকূলতাকে ভেঙ্গে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় এই রেডিও পরিষেবা।
উদাহরণস্বরূপ হিসাবে ৯/১১ এর ট্র্যাজেডির কথা আমরা বলতে পারি। জঙ্গিহানায় নিউ ইয়র্ক সিটির সমস্ত কমান্ড সেন্টার ধ্বংস হয়ে যাবার পরে এই হ্যাম রেডিওর দরুনই দেশের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কমিউনিকেশন বজায় রাখা সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৩ সালে হ্যারিকেন ও কলোরাডো নদীতে বিধ্বংসী বন্যার সময় উদ্ধারকার্যে এই হ্যাম রেডিও এগিয়ে এসেছিল।
11/07/2022