(৮৭)
কবিতা:-কেস দেবেন না প্লিজ।😜
কলমে:-@কুমারকান্ত ভট্টাচার্য্য
------------------------------------
মনীশ বাবু বিরক্ত ভীষণ
খবরের কাগজ পড়ে।
সর্ব পাতায় জ্যোতিষীর অ্যাড
তবু ভাগ্যটা না ঘোরে।
বেশি কিছু তো চাননা তিনি
শুধু কাগজ পড়ার নেশা।
দু চার খানা সুখবর চান
একটাই মনের আশা।
তা না হয়ে পাতায় পাতায়
দলীয় হানাহানি।
খুন ধর্ষণ লেগেই আছে
এটাই জল পানি।
ভাগ্যটাকে বদলে নেবেন
কোথায় এমন সুযোগ।
সুখবর কি আসবে না আর
কতদিন এই দুর্ভোগ?
সুখবর এর আশায় ঘোরেন
জ্যোতিষ দ্বারে দ্বারে
অর্থ ব্যয় তো হলো প্রচুর
হলেন নিঃস্ব একেবারে।
দোকান বাজার করতে গেলেই
অর্থ টানাটানি।
সব কিছুরই মূল্য ভীষণ
মহার্ঘ্য দানাপানি।
বিপদে পড়ে একে ওকে
বলেন চাকরি চাই।
সবাই বলে এই বয়সের
চাকরি কোথাও নাই।
নিরুপায় বসে বসে
ভাবেন কত কি।
এমন সময় সামনে দেখেন
দিব্য পুরুষটি।
তিনি বলেন সামলে বেটা
কুচ হিন্দী ভী শিখ লে।
নৌকরি তব ঝক মারকে
ইয়ে বাত সমঝ লে।
ছোট্ট থেকে বন্ধু ভীষণ
স্মরণলাল মিশ্র।
দৌড়ে গেলেন তারই কাছে
তুললেন সেই জিক্র।
মেধাবী তিনি ছোট্ট থেকেই
শেখেন অল্প দিনে।
এমন রতন টাটা কোম্পানি
সহজেই নেয় চিনে।
সানন্দে তার কর্ম হল
নতুন ঠিকানা।
সারাদিন সে কর্মব্যস্ত
চলে না বাহানা।
সকাল বিকেল কাগজ পড়েন
ইংলিশে হিন্দীতে।
একটাও নেই খারাপ খবর
ভরা শুধু চাকরিতে।
বেশ কিছুদিন চলল এরাম
সাধুকে মনে পড়ে।
কার সাথে যেন মিল ছিল ঠিক
দেখা যেন সমাচারে।
কথাগুলোও চেনা চেনা ঠিক
আগে শোনা মনে হয়।
বর্ণনা করেন বউয়ের কাছে
এক পরিচিত বের হয়।
আরে একেই তো না দিয়ে গালি
খেতেন না উনি ভাত।
এইভাবে উনি ঠকিয়ে দিলেন
এটা কেমন 'বাত'।
মনের থাকা ইচ্ছে গুলো
দিচ্ছে যেন সীস।
শুধু নিজের স্থানে ফিরলে বলেন
কেস দেবেন না প্লিজ।
@হাইলাইট করুন
Swetambari Sanskrita Biswavidyalaya
Sanskrit is an ancient Indo-European classical language
(৮৩)
কবিতা:-জীবন চক্র
কলমে:-@কুমারকান্ত ভট্টাচার্য্য
-------------------------------------------------
(প্রাণময় শৈশব)
জানিনা কোন মুনির বরে
জন্মেছিলেম অবনী পরে।
উন্মত্ত এক ঝঞ্ঝাসম
পল্লী মাঝে দুষ্টু তম।
উচ্ছল এক প্রাণের ঝড়ে
পরিজন তো ভয়েই মরে।।১।।
(মনোময় যৌবন)
সন্ধিক্ষণ আসলো যখন
প্রাণের উপর ভারী হলো মন।
উড়ু উড়ু মনের মাঝে
আসছে সবাই ফুলের সাজে।
উচ্ছল এক মনের ঝড়ে
বেশ কিছু ফুল পরলো ঝরে।।২।।
(ধনময় তারুণ্য)
যুক্তি এসে পড়লো বাঁধা
দায়িত্বটা সঙ্গে সাধা।
সকাল বিকেল ছুটতে থাকা
মন গভীরে স্বপ্ন মাখা।
উচ্ছল এক ধনের ঝড়ে
মনটাকে মোর কাবু করে।।৩।।
(কর্মময় প্রৌঢ়ত্ব)
জীবন চক্রের হিসেব ছিল
পরিবারও সৃষ্টি হল।
চলল তখন কর্ম সাধন
তার উপরেই মরণ বাঁচন।
উচ্ছল এক কর্ম ঝড়ে
মুনির বরটা মুক্ত করে।।৪।।
(দর্শনময় স্থবিরতা)
মানব ধর্ম ও কর্ম মাঝে
প্রতিক্রিয়ার হিসাব রাজে।
পারের তরী সামনে দেখি
বাকি কাজের হিসেব রাখি।
উচ্ছল এক ধর্ম ঝড়ে
আমায় দিয়ে সৃষ্টি করে।।৫।।
(৮০)
কবিতা:-আড়াই পা
কলমে:-@কুমারকান্ত ভট্টাচার্য্য
-------------------------------
বাঁধিনি গৃহেতে আমি
দূরেতে আসিনি ছেড়ে।
মহার্ঘ্য নয় বটে
খাইয়েছি পাত পেরে।
উদ্বেগে দিন কাটে
আসেনি সে কিছুদিন।
পথ সারমেয় যদি
করে দেয় প্রাণহীন।
তুলিয়া এনেছি যারে
প্রাণ প্রিয় করি।
খুঁজিয়া বেড়াই তারে
কোথা গেল ছাড়ি।
শিশু সে বেড়ালছানা
নর্দমা মাঝে।
কাতড়ায় ডাক ছেড়ে
কারে যেন খোঁজে।
তুলে আনি মমতায়
ধুয়ে দিই তারে।
গালি দিই নির্দয়ে
যে ছাড়িলো এরে।
ধুয়ে দিতে গাত্রটা
রং টুকটুকে।
নিজে খাই তারে দিই
যেমন যা জোটে।
ধীরে ধীরে শক্যতা
বেড়েছিল মোর।
হাসি খেলা সাথী সে
লাগায় যে ঘোর।
পড়শী সে ভিনদেশী
ধনী সে মহান।
দামি দামি ভোজনেতে
করে জলপান।
একদা খেয়াল বসে
মিনি যায় সেথা।
নব রুচি ব্যঞ্জনে
ভোলে প্রাক কথা।
কিছুকাল পরে তিনি
যান চলে দূরে।
মিনি পথ শুঁকে শুঁকে
যায় তার পুরে।
বহু খুঁজে তারপর
পাই যবে তারে।
কোলেতে ধরেছি যেই
দাঁতের কামড়ে।
মনো ব্যাথা নিয়ে ফিরি
জ্বর জ্বর ভাব।
মনেতে দারুন শোক
মিনির অভাব।
দিন যায় রাত যায়
ফেরে না মিনি।
দেখা হলে ভাব তার
চিনে না চিনি।
অপেক্ষায় কাটে দিন
মিনি ফেরে কি বা।
জনগণ ডেকে কয়
বিড়াল আড়াই পা।
(৭৬)
কবিতা:-মুমূর্ষু ভীষ্মের স্বপ্ন
কলমে:-@কুমারকান্ত ভট্টাচার্য্য
----------------------------------------
শ্বেত বস্ত্র বীর বৃদ্ধ শায়িত পালঙ্কে।
দিন শেষে দিনমণি সন্ধ্যাঙ্কে যেমতি।
নিদ্রিত কিন্তু অশান্ত স্বপ্নস্থির দেহে
ক্ষণিক মৃদু কম্পন চলে অহরহ।
সরসি জলে পাতিত ইস্টকতরঙ্গ
যেন। পরিশ্রান্তকায়ে কুরুক্ষেত্র রণে
দ্বিতীয় দিবস শেষে। রণবিধি মেনে
বিনা অস্ত্র সজ্জিত পরম স্নেহপৌত্র
বীর ধনঞ্জয় আসি বসে পদাম্বুজ
পার্শ্বে অমিত শ্রদ্ধায়। অকস্মাৎ পশিল
কর্ণে পিতামহ বাণী। কাহার সহিত
চলিতেছে বাক্য বিনিময় হৃদস্পর্শী।
"কহ তাত! কোন অপরাধে মোর মৃত্যু অধিকার আজ অপহৃত। শিশুক্রীড়া
সাথী গুরুগৃহ সাথী সব পরলোকে।
নির্বোধ বালক তখন ইচ্ছামৃত্যুর
বরে অন্তরালে অনুভবি বিধাতার
অধিক বলীয়ান আমি। গগন চুম্বি
সেই দর্প মোর আজ ভুলুণ্ঠিত যেন।
পলে পলে মৃত্যু চাই শনৈঃশনৈঃ আসে
কাছে। তবু হয় না। চোখের সম্মুখস্থ
পুত্রতুল্য ভাতৃদ্বয় মোর চিত্রাঙ্গদ
বিচিত্রবীর্য গেল স্বর্গবাসে। নিষ্কর্মা
ভ্রাতৃশোকে বিহ্বল আমি করি পান
মহা হলাহল। অকস্মাৎ স্মরি বিমাতা
বিধবা সত্যবতী। একাকিনী সাম্রাজ্যে
তার অন্ধ পাংশু উত্তরাধিকারদ্বয়।
ভুলে যাই বিষজ্বালা মৃত্যু প্রতিহত।
কর্তব্য অনলে গরল বিকল। ফিরে
আসি পুনঃ জীবনসমূদ্রে। ইচ্ছামৃত্যু
হয়ে ওঠে বিশল্যকরণী। পুনরায়
কর্তব্য সাগরের নিমজ্জ সন্তরণে।
সেই দিন অসফল নাই হলে আজি
আত্মপ্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র নিথরবদন
পান্ডুরে দেখিয়াও জীবিত আজ আমি
মরণবঞ্চিত। তখনো তো উদ্বন্ধনে
দুলায়মান মনেতে আমার পান্ডব
শিশু। কর্তব্যচেতনায় ছিন্ন বন্ধন
পুনর্জীবিত আমি। পাণ্ডব ভীমসেনে
গরল পরশিল জ্যেষ্ঠ গান্ধারীসূত।
নিরুপায় প্রতিবাদ হীন আমি দেহ
না রাখিতে উল্লম্ফিনু গিরিরাজ হতে।
অত্যুচ্চ হতে প্রায় ভূস্পর্শকালে হায়
স্মরণে আসিল কুন্তীবিহ্বল বদন।
শক্তঊষর প্রস্তর হয় বালুপূর্ণ।
দক্ষিণরাজ আজও দাক্ষীণ্যরোহিত।
বৃদ্ধ বদনে হায় কত যে সহিবারে
স্বয়ং ইচ্ছামৃত্যু কবচে আবৃত হয়ে
আপন বংশ ধ্বংস করিবারে জীবিত।
বল তাত! তোমার আশীর্বাদ কঠোর
অতীব অভিশাপ হতে। কোন পুরুষ
আজ ভূভারতে আছে মৃত্যুকালে নাহি
চায় বাঁচিবারে। তবে শুধু কেন মোর
ইচ্ছাপূরে বারে বারে। মাতা গঙ্গা মোর,
পিতা হস্তীনাপুরাধিপতি। মুমূর্ষুক
আমি সদা বঞ্চিত ক্ষণিক জিজীবিষা
কৃতে। ফিরাইয়া লও তাত! আশীর্বাদ
তব। মরণ কালে পরিজন জীবিত
দেখিতে চাই তাদের শবদেহ নহে।
(৬৫)
কবিতা:-আমি নিশ্চিত হলাম যে তুমি আমায় ভালোবাসো।
কলমে:-@কুমারকান্ত ভট্টাচার্য্য
----------------------------------------
আমি জানি, যে তুমি আমায় ভালোবাসো।
কারণ তোমার আচরণ সে কথা বলে।
আমি জানি,যে তুমি আমায় ভালোবাসো।
কারণ তুমি নিজের মুখে বল যে
তুমি আমাকেই ভালোবাসো।
তবুও আমি সংশয়ে রয়ে যাই।
আমি জানি যে তুমি আমায় ভালোবাসো ।
কারণ তুমি খানিকটা সময় আমার জন্য ব্যয় করেছ।
আমি জানি যে তুমি আমায় ভালোবাসো।
কারণ তুমি কিছুদিন আমার জন্য নষ্ট করেছ।
আমি জানি যে তুমি আমায় ভালবাসো।
কারণ তোমার চোখের জল আমার জন্য নষ্ট হয়েছে।
তবুও আমি সংশয়ে রয়ে যাই।
কিন্তু যখন তুমি আমায় প্রত্যাখ্যান করলে
আমার সমস্ত সংশয় নিমেষে মুছে গেল।
আমি নিশ্চিত হলাম যে তুমি আমায় অবশ্যই ভালবাসতে।
10/10/2024
এই কবিতাটা দুর্নিবার শারদীয়া পত্রিকায় ছাপলো।
09/10/2024
(৬৩)
কবিতা:-আজকের ব্রাহ্মণ
কলমে:-@কুমারকান্ত ভট্টাচার্য্য
----------------------------------------
ব্রাহ্মণের বহু তেজ ছিল
ব্রাহ্মণ আজ তেজপাতা।
বিদ্যা বুদ্ধি মাথায় ছিল
আজ উল্টায় বই পাতা।
বৃক্ষ খেয়ে তেজ হতো তার
সূর্য থেকে নিত টেনে।
মুরগি ছাগল খেয়ে খেয়ে
বোধ বুদ্ধি গেছে হাইড্রেনে।
বিনা অস্ত্রেই কাঁপিয়ে দিত
মহা সম্রাট হত নতশির।
লোভে আজ তারা আত্মমগ্ন
যবনেরা চড়ে উচ্চশির।
আত্মরক্ষা প্রবণ তারা
ভুলে গেছে সব আগ্রাসন।
পয়সা পেলেই বেচে দেয় মান
তাইতো টলেছে উচ্চাসন।
অর্থ ক্ষমতা পায়েতে দলত
পর্ণ কুটিরে আসত রাজা।
রাজদরবার সেখানে বসত
রাজার তখন ভিখারি সাজা।
চন্দ্রগুপ্ত পড়েছে পায়েতে
চাণক্য ধরেনি ধার।
গণ্ডদেবের ভিক্ষা ঝুলিতে
ধরে শিবাজীর মহাভার।
লাভের অঙ্কে লোভের আবেশে
ব্রাহ্মণের মাথা নিচু।
গিয়েছে মহিমা সঙ্গে গরিমা
গালি দেয় লোকে পিছু।
জাগো ব্রাহ্মণ গীতার জ্ঞানে
ত্যাগের মন্ত্রে জাগো।
নিজ ভগবানে ডাকো প্রাণপণে
আত্মশক্তিকে মাগো।
04/10/2024
(৬০)
ছোটবেলায় প্রথম অঞ্জলী দেবী সরস্বতী কে। পড়াশোনার মধ্যবর্তী সময় ভীষণ খারাপ মুহূর্তে পুজো শিখে প্রথম পূজা দেবী সরস্বতীকে ১৯৯৪ সালে এবং তারপর প্রায় ভোজবাজির মত জীবনে অনেক কিছু প্রাপ্তির স্বাদ পেয়ে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ছিলাম দেবী সরস্বতীর কাছে। ২০০৮ সালে আমার ছাত্র সুমন পাল আমার কাছে যখন কথ্য সংস্কৃত শিখবে বলল সঙ্গে আরো কয়েকজন যোগ দিল তখন এই স্তোত্রটা রচনা করে কাজ আরম্ভ করি। যতদিন গেছে কৃতজ্ঞই হয়েছি জানিন কিছুমাত্র
তাঁর আদর্শ সন্তান হয়ে উঠলাম কিনা?
----------------------------------------
ভারতী স্তোত্রম্:-
কলমে:-@কুমারকান্ত ভট্টাচার্য্য
----------------------------------------শ্বেতাম্বরী সুরেশ্বরী
বাঙ্ময়ী সুচারুদেহী।
পুলকোদ্গমা জ্ঞানেশ্বরী
নমামস্তাং তমানাশী।।১।।
(বাংলা অর্থ:-আমি তাঁকে প্রণাম করি যিনি শ্বেতশুভ্র বস্ত্রধারিণী, যিনি দেবতাদের শ্রেষ্ঠা, যিনি বাকের অধিষ্ঠাত্রীদেবী, সুন্দর গঠনযুক্তা, যাঁর দেওয়া জ্ঞান মনে পুলক জাগায়। যিনি তমা বা অন্ধকারনাশ করেন।)
ত্বং ভারতী ত্বং সারদা
ত্বং ব্রহ্মাণী ত্বং জ্ঞানদা।
হে বাণীরূপে হে বারিরূপে
নমামস্ত্বাং হে বীণাধরে।।২।।
(বাংলা অর্থ:-হে বীণাধরা দেবী তোমাকে পুনঃ নমস্কার কারণ তুমিই ভারতী তুমিই সারোদা তুমিই ব্রহ্মাণী তুমিই জ্ঞানদা তুমিই বাণী রূপে কন্ঠে কন্ঠে জলরূপে নদীতে প্রবাহমানা।)
ত্বং শিক্ষায়াঃ সুচারুতা
ত্বং বিদ্যায়াঃ সুকুমারতা।
জ্ঞানস্য ত্বং হি বুদ্ধিমত্তা
নমামস্ত্বাং সচ্চিদানন্দা।।৩।।
(বাংলা অর্থ:-তুমি শিক্ষার সুচারুতা অর্থাৎ দক্ষতা, তুমি বিদ্যার সুকুমারতা অর্থাৎ সৃষ্টিশীলতা, জ্ঞানের তুমিই হও বুদ্ধিমত্তা, তুমি সৎ চিৎ ও আনন্দের পরাকাষ্ঠা স্বরূপা তোমাকে আমার বারবার আন্তরিক নমস্কার।)
03/10/2024
সবই তোর বাহন রে মা
তাই রে তুই শববাহনা।
তোর পতি যে সর্বেশ্বর
গেলে আত্মা কিছু থাকেনা।।
জ্ঞানী তো শবে সবই দেখে
অজ্ঞানীরা কিছু বোঝেনা।
শবেতেই পাঁচ ভুত লুকিয়ে
ভূতনাথের একি মহিমা।।
আত্মনাথ দিন ভিখারি
সবকিছু তার তবু চায় মা।
যা কিছু আছে সবই তোদের
কি দেব তা ভেবে পাইনা।।
মরা দেহে আত্মা ভরে
ঘোরাস রে তুই দোরে দোরে।
হাঁটি চলি শক্তিটা তোর
পাঁচভূতেতে দেহটা ধরে।।
শক্তি ছাড়া দেহ চলেনা
আত্মকথা কেউ বোঝেনা।
একের বিনা অন্যে বেকার
দুজনেই শববাহনা।।
শব বিনা আত্মাই ভূত
কালকালীর হয় নারে জুত ।
শক্তি ছাড়া চলবে কেমন
আত্মা ছাড়া কি প্রয়োজন।।
24/09/2024
কবিতা সংখ্যা:-৪৯
-------------------------------
আজকে যে কবিতাটা লিখছি সেটা একটা অদ্ভুত প্রচেষ্টা মাত্র। কবিতাটির প্রতিটি পংক্তিতে ১৪ টি করে বর্ণ রাখা আছে। অমিত্রাক্ষর ছন্দে করবার চেষ্টা হয়েছে। জানিনা তা সফলতা পাবে কিনা। তবে যেহেতু কঠিন কিছু পদ প্রয়োগ করা হয়েছে সেগুলির অর্থটা বোধযোগ্য করার জন্য গল্পটা আগেই বলে রাখি। বিষয়বস্তু মহাভারত থেকে চয়নিত এবং মাইকেল মধুসূদনের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে চেষ্টা। মহাভারতের থেকে বিষয়বস্তু গ্রহণ করা হলেও এটি একটি প্রতিবাদ মূলক কবিতা। এবং বিষয়বস্তুর অন্তিমাংশে অধিকাংশই আমার নিজকল্পিত। যা মূল মহাভারতে বা অন্য কোথাও আজ পর্যন্ত দেখিনি। এখানে একটি নারীর প্রতি অর্জুনের সম্মান যেমন প্রস্ফুটিত তেমনি নিজের স্বজাতি অর্থাৎ পুরুষদের প্রতি যে এক বিচিত্র বঞ্চনা চলছে তার প্রতিবাদ অর্জুন মুখে করা হয়েছে।
নিঃশব্দতা ভেঙে বীর অর্জুন ঈশ্বাস অর্থাৎ ধনুক বাঁ হাতে তুললেন। যেমন রঘুবীর রামচন্দ্র জানকী সীতার স্বয়মম্বরে কন্যা দায়গ্রস্ত পিতার সংকটমোচন করেছিলেন। ধ্রুপদেরও দ্রৌপদী স্বয়ংবরে একই অবস্থা হওয়ায় যে চাপমুক্ত অবস্থা হয় তাতে তাঁর মুখে একটা দামিনী বা বিদ্যুৎ চমক স্মিত হাসির মধ্যে দিয়ে খেলে গেল। রাগে কেঁপে উঠলেন সবাই উপস্থিত গান্ধারী নন্দন অর্থাৎ দুর্যোধন। পুত্রান্ধ পিতা অম্বিকা নন্দন ধৃতরাষ্ট্র পুত্র-কষ্ট অনুভব করলেন হস্তিনাপুরে থেকেও। নিজের অন্ধত্ব কারণে সিংহাসন বঞ্চিত হওয়া, প্রভৃতি সব কারণে মুহুর্মুহু বিধাতাকে শাপশাপান্ত করতে থাকলেন প্রচন্ড রাগে। যেন সাপ মিথুনের
একটিকে হারিয়ে অপর সাপ মাটিতে দংশন করে সেইরূপ। যাইহোক যজ্ঞ থেকে জাত দ্রৌপদী বরমাল্য কিরিটী অর্জুনের কন্ঠে পরিয়ে দিলেন। আকস্মিক অর্জুন উঠে দাঁড়িয়ে বরমাল্য ছিন্ন করে রূপককে প্রশ্ন করলেন যে মহারাজ এই বরমালা আমি গ্রহণ করতে পারছি না। কারণ যেটা আমার বাহুবলে বুদ্ধি বলে হস্তগত বা কন্ঠগত তা তো হৃদয় নয়। শর্তপাশে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা দিয়ে যে জিনিস জেতা হয় সে তো সহজ বিনিময়যোগ্য
পণ্য। আপনি তো আপনার মেয়ের জীবনভর তুলে দিচ্ছেন আমার উপর। বিনিময়ে কি না আমার পুত্র কন্যা রক্ষা করা অন্নবস্ত্রের বিনিময়। আপনি কি নিজে কন্যাকে বিনিময়যোগ্য পণ্য করতে চান? প্রেম সেতো হৃদয়ের দান। দিনের সূর্যালোক রাত্রের চন্দ্রিমা অর্থবিনিময়ে বা বাহুবলে জয় করা যায়? প্রেম তো নিঃশর্ত। সন্তান পালনের জন্য যে মায়ের দুধ আসে কিন্তু তার আগে আসে তার হৃদয় নিঃসৃত প্রেম। পরীক্ষাগারে জাত ও যে প্রেম সে তো ইন্দু বিম্ব বা চাঁদের প্রতিফলন অম্বু মাঝে বা জলের উপর সবসময় কম্পমান যেন চন্দ্র অস্ত গেলে সেটারও কোন অস্তিত্ব থাকবে না। তবে কি আমার সামর্থ্য ফুরিয়ে গেলে তোমার কন্যাকে ফিরিয়ে দিয়ে যেতে হবে। তাহলে আমি এখনই নিঃশর্ত ফিরিয়ে দিচ্ছি তোমার কন্যাকে তোমার কাছে।
----------------------------------------
কবিতা:-দ্রৌপদী স্বয়ম্বরে অর্জুন
কলমে:-@কুমারকান্ত ভট্টাচার্য্য
----------------------------------------
নৈশব্দ ভেঙ্গে বীর উঠাইলা ঈশ্বাস
বামহস্তে কৌন্তেয়। যথা সে সূর্যবীর
তারিলা জনকে উগ্র সঙ্কটে জানকী
করিতে বিদায়। ঈষদ দামিনী যেন
লাগিল দ্রুপদে স্মিত বিহ্বল বদনে।
দিকপাল সব স্মরিলা অভিষ্টে। কিন্তু
বীর মীনাক্ষী করিলা ভেদ, জয় জয়
রবে কাঁপিলা চৌদিক। কাঁপিলা গান্ধারী
নন্দন, প্রমাদিলা অম্বিকেয় আপন বিধাতারে শাপিলা মুহুর্মূহঃ অসীম
আক্রোশে। যথা সঙ্গীহীন ফণী রূষিয়া
দংশী মেদিনীরে। যজ্ঞজা সয়মম্বরে
দানিলা বরমাল্য কিরিটী কণ্ঠ্যপরে।
উঠিলা বিরমণি বরমাল্য স্বহস্তে।
পুছিলা দ্রুপদে বীর ধীর প্রশ্নবাণে
চমকিত পূর্ণসভা মাঝে! মহারাজ
বরমাল্য আজি গ্রহণ করিতে নারি।
বুদ্ধিবলে বাহুবলে যাহা কণ্ঠ্যগত
তা নয় হৃদয়। এ বীর চয়ন মাত্র
শর্তপাশে বাঁধী হৃদে জীবনসঙ্গীকে
দানিলা জীবনভার প্রেম নয় তাহা।
কভু কিবা শর্তপাশে অর্থ বাহুবলে
হয় কি বিক্রিত সে যে হৃদয় নির্গত।
হৃদ শূন্য সংসার দানিলা জীবনভার
বাঁধিলা অন্নবস্ত্র সপাকপুত্রজন্ম
নিশ্চয় বিনিময়ে। কদা পাঞ্চালেশ্বর
তাহে প্রেম করে। প্রভাত কিরণ কদা
রাত্রিচন্দ্রালোক বা মেঙেছে বিনিময়।
যথা মাতৃদুগ্ধ আসে পুত্র পালিবারে
হৃদয় নিঃসৃত প্রেম আসে পূর্বে তার।
পরীক্ষাগারে জাত যে প্রেম হিন্দুবিম্ব
অম্বুমাঝে সে তো সদাকম্পিত। নিঃসার
স্বার্থ স্রোতে বহমান যাহা তাহা পণ্য।
আপন কন্যারে পণ্য করিয়া স্বয়ম্বরে
করিছ হস্তান্তরযোগ্য। অথবা তাহা
ফুরাইলে শর্তপাশ অর্থ বাহুবল
পুনঃ কি ফিরাইতে হবে আদেশ নৃপ?
যদি না হয় তাহা ফিরাইতেছি পণ্য
তব বিনা বিনিময়ে চিরকাল তরে।
কবিতা সংখ্যা: -৪০
আজকে যে কবিতাটা বলবো তা এক ঘটনা প্রেক্ষিতে অনুভূত সত্য দর্শন। ভারতীয় দর্শনে বলা হয়ে থাকে যে পিতা তার সন্তানের মধ্যে দিয়েই পুনর্জন্ম লাভ করে। এর বিভিন্ন বাদ- অনুবাদ-প্রতিবাদ-বিবাদ সবই আছে। কিন্তু কিছু অনুভূতি যেন অদ্ভুত মন ছুয়ে যায়। আজকে বলবো একটা ছোট্ট শিশুর পিতা হয়ে ওঠার কাহিনী। কবিতাটি আমি বঙ্গ লিপিতেই লিখছি কিন্তু ভাষাটি হিন্দী।
কারণ কবিতাটির মাঝে দুটি লাইন হঠাৎ করে আমার মনের উদয় হয়েছিল হিন্দী ভাষাতেই। তাই ওই দুটি লাইনকে পরিবর্তন করা মানে প্রাণকে থেকে বাদ দেওয়া। তাই সেটাকে বাদ দিতে পারলাম না আবার আমার অধিকাংশ পাঠকই বঙ্গলিপিতে অভ্যস্ত কিন্তু হিন্দী ভাষার সঙ্গে সম্যক পরিচিত। দেবনাগরী লিপি তাদের পক্ষে কাঠিন্যের কারণ হতে পারে তখন রসবোধে বাধার সৃষ্টি হবে এই মনে হচ্ছে।
----------------------------------------
কবিতা:- বাচ্চা কব পাপা বন গয়া।
কলমে:-@কুমারকান্ত ভট্টাচার্য্য
----------------------------------------
পাপা নে মুঝে চলনা শিখায়া
গোদ মে লেকর খিলায়া থা।
খেলকুদ মে আগে বঢ়ায়া
পঢ়াঈ ভী করায়া থা।
জিন্দেগী কা জিতনা আনন্দ
সবকুছ উন্হোনে দিলায়া থা।
রাত রাত জাগকর উন্হোনে
চ্যায়েন কে নিন্দ সুলায়া থা।
কভী পেটভর কভী তনিক সী
খাকর উসনে খুশ হুয়ে।
মুঝকো পেট ভরকর খিলায়া
তব ভী উনকী চ্যায়েন না আয়ে।
দিন গুজরা রাত গুজরী
ম্যায় আপমে মগন রহে।
খুদ কো উন্হোনে ন্যৌছাবর করকে
পাপা স্বর্গ সিধার গয়েঁ।।
ঘর কী জিম্মেদারী মুঝপর আঈ
সর পে শমন নাচ নচাএঁ।
সমঝ চুকা ম্যায় গলতী ক্যা থী
দিমাগ কা তব ঠিকানা আএঁ।।
কল কে ইস কাল ফেরে মে
মেরী ভী তব শাদী হুঈ।
কুছ কাল বাদ আপনা ভী এক
বাচ্চা কী জিম্মেদারী আঈ।
এক দিন মেরে ঘর মে
নন্হা সা দীপক জ্বল উঠা।
লেকিন মেরে চারোঁ ওর সে
করোড়ো হীরক চমক উঠা।
খুশী কে মারে ক্যা ম্যায় করূঁ
সব সমঝ কে বাহর গয়ে।
তব সমঝা পাপা কা কাল
ক্যায়সে ক্যায়সে চিপক গয়ে।
বচ্চা মেরে গোদ মে উঠকর
হাথ প্যায়ের খুব চলাএঁ।
খাকর লাথ মানকর প্রসাদ
ভগবন পর খুব গিড়গিড়াএঁ।
রোনে লগা হঁসনে লগা
ইয়ে সিলসিলা চলতা রহা।
সুবহ শাম ঘর মে কহীঁ সে
খুলতা কমল খিলতা রহা।
বচ্চা মেরা বড়া হুয়া
খুদ সে জিম্মেদারী উঠা লিয়া।
দেখ লাঞ্ছন লগে মুঝ পর
ভগবান শিক্ষণ শিখা দিয়া।
জিসকো ম্যায় দিয়া লাড় প্যার
থা স্নেহ কা ভাগীদারী ওয়ে
অচানক ইতনা বড়া বনা
শ্রদ্ধা ভী অব লে গয়ে।।
স্নেহ সে জিসকো সিঁচা থা ম্যায়
শ্রদ্ধা সে ওয়হ খিঁচ রহে।
বচ্চা কব বড়া হো চুকা
বচ্চা পাপা বন গয়ে।।
(এখানে বক্তব্য যতটা সম্ভব পেরেছি
দেবনাগরীতে হিন্দী ভাষা লিখলে
যে বানানটা হয় সেটাই রাখার। ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলার বানানের সঙ্গে তারতম্য রইলো। মানে আমি ইচ্ছে করেই রাখলাম। কারণ তাতে সেই ভাষার কাব্যরসটা কিছুটা হলেও অটুট থাকবে। এই আশা রেখে পাঠটগণের কাছে একটা কমেন্টের আবদার করে রাখলাম।)
08/09/2024
ঘন ঘরে হুহুংকারে
নাচে দেবী ভৈরবী।
প্রলোয়েরই তালে তালে
বাজায় কেবা দুন্দুভি।।
ক্রোধেরই আগুনে জ্বলে
শিশু থেকে বৃদ্ধরা।
কান পেতে শোন
আসছে যে রব
জেগেছে ঐ সিদ্ধরা।।
নরেরা আজ ভৈরবই যে
নারীরাও ভৈরবী।
নটরাজের বিষাণে আজ
দেখি তারই জলছবি।।
প্রতি পায়ের প্রতি তালে
বঙ্গ আজি বেসামাল।
কত তোর ক্ষমতা আছে
রুখবি একে কর কামাল।।
অভয়ারই কষ্টের ক্লিষ্ট
জেগেছে যত দেবদেবী।
চামুণ্ডার ওই খড়্গহাতে
চণ্ডমুণ্ড কোথায় যাবি??
ঘন ঘোরে হুহুঙ্কারে
নাচে দেবী ভৈরবী।
প্রলয়েরই তালে তালে
বাজায় কেবা দুন্দুভি।।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Bhatpara
Kolkata
743123