#নাথ_সাহিত্য #বাংলা_xiii
**১. নাথ সাহিত্যের মূল বিষয়বস্তু কী?**
**উত্তর:** নাথ ধর্মসম্প্রদায়ের যোগ-মাহাত্ম্যই এই সাহিত্যের বিষয়। কীভাবে যোগের শক্তিতে দুঃখ-বিপদ অতিক্রম করা যায় এবং মৃত্যুকে জয় করা যায়, নাথ সাহিত্যে তাই বর্ণিত হয়েছে।
**২. নাথ সাহিত্যের প্রধান দুটি ভাগ কী কী?**
**উত্তর:** নাথ সাহিত্যের দুটি ভাগ হলো— (১) গুরু মীননাথকে শিষ্য গোরক্ষনাথের উদ্ধার করার কাহিনী (গোরক্ষবিজয়) এবং (২) রানি ময়নামতী ও তাঁর পুত্র গোবিন্দচন্দ্রের কাহিনী (গোপীচন্দ্রের গান)।
**৩. নাথ সাহিত্যের ভাষা-রীতির বৈশিষ্ট্য কেমন?**
**উত্তর:** নাথ সাহিত্য মূলত গ্রাম্য কবিদের রচনা, তাই এতে পাণ্ডিত্যের আড়ম্বর বা সংস্কৃত অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রভাব নেই। সহজ, সরল ও অনাড়ম্বর ভাষা-রীতিই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
**৪. ‘গোরক্ষবিজয়’ ও ‘ময়নামতীর গান’-এর কয়েকজন উল্লেখযোগ্য কবির নাম লেখো।**
**উত্তর:** ‘গোরক্ষবিজয়’-এর প্রাচীন কবিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ ফয়জুল্লা ও শ্যামদাস সেন। ‘ময়নামতীর গান’-এর উল্লেখযোগ্য কবি হলেন দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও সুকুর মামুদ।
**৫. ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’ কে সংগ্রহ করেন এবং কে সম্পাদনা করেন?**
**উত্তর:** ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’ সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে এবং এটি সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন (১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে)।
**৬. মধ্যযুগের অন্যান্য কাব্যধারা থেকে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ কেন স্বতন্ত্র?**
**উত্তর:** মধ্যযুগের অধিকাংশ কাব্য ছিল ধর্মনির্ভর ও অলৌকিকতা সমৃদ্ধ। কিন্তু ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ আধ্যাত্মিকতা ও অলৌকিকতার স্পর্শরহিত এবং এতে সমাজজীবনের বাস্তব ও মানবিক ছবি ফুটে উঠেছে, তাই এটি স্বতন্ত্র।
**৭. ময়মনসিংহ গীতিকার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পালার নাম লেখো।**
**উত্তর:** উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পালা হলো— ‘মহুয়া’, ‘মলুয়া’, ‘চন্দ্রাবতী’, ‘কঙ্ক ও লীলা’ এবং ‘দস্যু কেনারাম’।
**৮. ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মন্তব্যটি কী ছিল?**
**উত্তর:** রবীন্দ্রনাথের ভাষায়— ‘ময়মনসিংহ গীতিকা বাঙ্গালার পল্লীহৃদয়ের গভীর স্তর থেকে স্বতঃ উচ্ছ্বসিত উৎস, অকৃত্রিম বেদনার স্বচ্ছ ধারা।’
**৯. অষ্টাদশ শতাব্দীতে কার পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতচন্দ্র রায় ও রামপ্রসাদ সেন কাব্যচর্চা করেছিলেন?**
**উত্তর:** নবদ্বীপের মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের (১৭১০-১৭৮৩ খ্রিঃ) পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতচন্দ্র রায় ও রামপ্রসাদ সেন কাব্যরচনা করেছিলেন।
**১০. উনবিংশ শতাব্দীতে ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের ফলে বাংলা সাহিত্যে কী পরিবর্তন আসে?**
**উত্তর:** ইংরেজি শিক্ষার ফলে ধর্মীয় আবেগ ও ভক্তির পরিবর্তে সাহিত্যে যুক্তি, আত্মশক্তি এবং মানবতাবোধ বা মর্ত্যচিন্তা প্রধান হয়ে ওঠে। এতে আধুনিক ও পরিমার্জিত ভাবনার প্রতিফলন ঘটে।
Education for Special Subject
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (কলা বিভাগ)
#বাংলা #আরাকান_রাজসভা #শাক্ত_পদাবলি #বাউল_গান
**১. আরাকান রাজসভার বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার মূলে কাদের অবদান ছিল?**
**উত্তর:** চট্টগ্রাম ও নিম্নবঙ্গ অঞ্চলের শিক্ষিত মুসলিমরা যখন আরাকান রাজসভায় উপস্থিত হন, তাঁদের আগ্রহ ও গৌড় দরবারের অনুকরণেই এই পৃষ্ঠপোষকতার সূত্রপাত হয়।
**২. আরাকান রাজসভার উল্লেখযোগ্য কয়েকজন কবির নাম লেখো।**
**উত্তর:** দৌলত কাজী, সৈয়দ আলাওল, মোহাম্মদ খান, সৈয়দ সুলতান এবং সাবিরিদ খান।
**৩. 'ইসলামি বাংলা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?**
**উত্তর:** ইংরেজ আমল শুরু হলে কলকাতার মজদুর মুসলিমদের পাঠ্যগ্রন্থে যখন আরবি-ফারসির সঙ্গে বাংলা ও হিন্দির নিবিড় মিশ্রণ ঘটল, তখন যে ভাষারূপ তৈরি হলো তাকেই 'ইসলামি বাংলা' বলা হয়।
**৪. আরাকান রাজসভার সাহিত্যকে প্রধানত কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?**
**উত্তর:** চারটি ভাগে (অনুবাদ সাহিত্য, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি, ধর্মগ্রন্থ ও তান্ত্রিক যোগ বিষয়ক নিবন্ধ এবং বিদ্যাসুন্দর কাব্য)।
**৫. শাক্ত পদাবলির পথিকৃৎ বা প্রধান কবি কে?**
**উত্তর:** সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন, যিনি 'কবিরঞ্জন' নামে প্রসিদ্ধ।
**৬. রামপ্রসাদ সেন কার রাজসভায় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন?**
**উত্তর:** নদিয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।
**৭. রামপ্রসাদ সেন রচিত দুটি গ্রন্থের নাম লেখো।**
**উত্তর:** 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্য এবং 'কালীকীর্তন'।
**৮. কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত তান্ত্রিক কবিতা গ্রন্থটির নাম কী?**
**উত্তর:** 'সাধকরঞ্জন'।
**৯. শাক্ত পদাবলির পর্যায়গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পর্যায়ের নাম লেখো।**
**উত্তর:** আগমনী, বিজয়া, ভক্তের আকুতি এবং মাতৃপূজা।
**১০. 'বাউল' শব্দের উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে হয়েছে বলে মনে করা হয়?**
**উত্তর:** 'বাউল' শব্দের উৎপত্তি সম্ভবত 'বাতুল' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'উন্মাদ' বা 'বায়ুগ্রস্ত'।
**১১. বাউল গানে 'মনের মানুষ' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?**
**উত্তর:** 'ভান্ডে ব্রহ্মাণ্ড' তত্ত্বে বিশ্বাসী বাউলদের মতে মানুষের দেহেই পরম দেবতার বাস, সেই আরাধ্য দেবতাই হলেন 'মনের মানুষ'।
**১২. বাউল গানের প্রধান কয়েকটি বাদ্যযন্ত্রের নাম কী?**
**উত্তর:** একতারা, খঞ্জনি, ডুগি এবং খমক।
**১৩. বাউল গানের প্রসিদ্ধ কয়েকজন সাধক শিল্পীর নাম লেখো।**
**উত্তর:** লালন শাহ ফকির, পদ্মলোচন গোঁসাই, হাসন রাজা (বা টেক্সট অনুযায়ী হাউড়ে গোঁসাই), এবং পাগলা কানাই।
**১৪. আধুনিক কালে কে প্রথম বাউল গান সংগ্রহ করেন?**
**উত্তর:** রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক কালে প্রথম বাউল গান সংগ্রহ করেন।
**১৫. 'মারিফত' শব্দের অর্থ কী এবং এটি কোন ধারার সঙ্গে যুক্ত?**
**উত্তর:** 'মারিফত' শব্দের অর্থ হলো 'পন্থা'; এটি মূলত মুসলিম লোকসমাজে প্রচলিত 'মুর্শিদি' বা 'মারিফতি' সাধন ধারার সঙ্গে যুক্ত।
#বিড়াল
#বঙ্কিমচন্দ্র_চট্টোপাধ্যায়
বিড়াল
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রথম অংশ-
আমি শয়ন গৃহে, চারপায়ীর উপর বসিয়া হুঁকা হাতে, 5. ঝিমাইতেছিলাম। একটু মিট মিট্ করিয়া ক্ষুদ্র আলো জ্বলিতেছে- দেওয়ালের উপর চঞ্চল ছায়া, প্রেতবৎ নাচিতেছে। আহার প্রস্তুত হয় নাই- এ জন্য ঠুকা হাতে, নিমীলিতলোচনে আমি ভাবিতেছিলাম যে, আমি যদি নেপোলিয়ন হইতাম, তবে ওয়াটার্ল জিতিতে পারিতাম কি না। এমত সময়ে একটু ক্ষুদ্র শব্দ হইল, "মেও।"
চাহিয়া দেখিলাম- হঠাৎ কিছু বুঝিতে পারিলাম না। প্রথমে মনে হইল, ওয়েলিংটন হঠাৎ বিড়ালত্ব প্রাপ্ত হইয়া, আমার নিকট আফিঙ্গ ভিক্ষা করিতে আসিয়াছে। প্রথম উদ্যমে, পাষাণবৎ কঠিন হইয়া, বলিব মনে করিলাম যে, ডিউক মহাশয়কে ইতিপূর্বে যথোচিত পুরস্কার দেয়া গিয়াছে, এক্ষণে আর অতিরিক্ত পুরস্কার দেয়া যাইতে পারে না। বিশেষ অপরিমিত লোভ ভালো নহে। ডিউক বলিল, "মেও।"
তখন চক্ষু চাহিয়া ভালো করিয়া দেখিলাম যে, ওয়েলিংটন নহে। একটি ক্ষুদ্র মার্জার; প্রসন্ন আমার জন্য। যে দুগ্ধ রাখিয়া গিয়াছিল, তাহা নিঃশেষ করিয়া উদরসাৎ করিয়াছে, আমি তখন ওয়াটালুর মাঠে ব্যুহ-রচনায়। ব্যস্ত, অত দেখি নাই। এক্ষণে মার্জারসুন্দরী, নির্জল দুগ্ধপানে পরিতৃপ্ত হইয়া আপন মনের সুখ এ জগতে। প্রকটিত করিবার অভিপ্রায়ে, অতি মধুর স্বরে বলিতেছেন, "মেও।” বলিতে পারি না, বুঝি, তাহার ভিতর একটু ব্যঙ্গ ছিল; বুঝি, মার্জার মনে মনে হাসিয়া আমার পানে চাহিয়া ভাবিতেছিল, "কেহ মরে বিল ছেঁচে কেহ খায় কই।" বুঝি সে "মেও" শব্দে একটু মন বুঝিবার অভিপ্রায় ছিল। বুঝি বিড়ালের মনের ভাব, "তোমার দুধ ত খাইয়া বসিয়া আছি- এখন বল কী?"
বলি কী? আমি ত ঠিক করিতে পারিলাম না। দুধ আমার বাপেরও নয়। দুধ মঙ্গলার, দুহিয়াছে প্রসন্ন। অতএব সে দুগ্ধে আমারও যে অধিকার, বিড়ালেরও তাই; সুতরাং রাগ করিতে পারি না। তবে চিরাগত একটি প্রথা আছে যে, বিড়াল দুধ খাইয়া গেলে, তাহাকে তাড়াইয়া মারিতে যাইতে হয়। আমি যে সেই চিরাগত প্রথার অবমাননা করিয়া মনুষ্যকুলে কুলাঙ্গার স্বরূপ পরিচিত হইব, ইহাও বাঞ্ছনীয় নহে। কী জানি, এই মার্জারী যদি স্বজাতিমণ্ডলে কমলাকান্তকে কাপুরুষ বলিয়া উপহাস করে? অতএব পুরুষের ন্যায় আচরণ করাই বিধেয়। ইহা স্থির করিয়া, সকাতরচিত্তে, হস্ত হইতে হুঁকা নামাইয়া, অনেক অনুসন্ধানে এক ভগ্ন যষ্টি আবিষ্কৃত করিয়া সগর্বে মার্জারীর প্রতি ধাবমান হইলাম।
মার্জারী কমলাকান্তকে চিনিত; সে যষ্টি দেখিয়া বিশেষ ভীত হওয়ার কোনো লক্ষণ প্রকাশ করিল না। কেবল আমার মুখপানে চাহিয়া হাই তুলিয়া, একটু সরিয়া বসিল। বলিল, "মেও।" প্রশ্ন বুঝিতে পারিয়াযষ্টি ত্যাগ করিয়া পুনরপি শয্যায় আসিয়া ঠুকা লইলাম। তখন দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হইয়া, মার্জারের বক্তব্যসকল বুঝিতে পারিলাম।
বুঝিলাম যে, বিড়াল বলিতেছে, "মারপিট কেন? স্থির হইয়া, হুঁকা হাতে করিয়া, একটু বিচার করিয়া দেখ দেখি? এ সংসারের ক্ষীর, সর, দুগ্ধ, দধি, মৎস্য, মাংস সকলই তোমরা খাইবে, আমরা কিছু পাইব না কেন? তোমরা মনুষ্য, আমরা বিড়াল, প্রভেদ কী? তোমাদের ক্ষুৎপিপাসা আছে- আমাদের কি নাই? তোমরা খাও, আমাদের আপত্তি নাই; কিন্তু আমরা খাইলে তোমরা কোন্ শাস্ত্রানুসারে ঠেঙ্গা লাঠি লইয়া মারিতে আইস, তাহা আমি বহু অনুসন্ধানে পাইলাম না। তেমরা আমার কাছে কিছু উপদেশ গ্রহণ কর। বিজ্ঞ চতুষ্পদের কাছে শিক্ষালাভ ব্যতীত তোমাদের জ্ঞানোন্নতির উপয়ান্তর দেখি না। তোমাদের বিদ্যালয়সকল দেখিয়া আমার বোধ হয়, তোমরা এত দিনে এ কথাটি বুঝিতে পারিয়াছ।
"দেখ, শয্যাশায়ী মনুষ্য। ধর্ম কী? পরোপকারই পরম ধর্ম। এই দুগ্ধটুকু পান করিয়া আমার পরম উপকার হইয়াছে। তোমার আহরিত দুগ্ধে এই পরোপকার সিদ্ধ হইল- অতএব তুমি সেই পরম ধর্মের ফলভাগী-আমি চুরিই করি, আর যাই করি, আমি তোমার ধর্মসঞ্চয়ের মূলীভূত কারণ। অতএব আমাকে প্রহার না করিয়া, আমার প্রশংসা কর। আমি তোমার ধর্মের সহায়।
"দেখ আমি চোর বটে, কিন্তু আমি কি সাধ করিয়া চোর হইয়াছি? খাইতে পাইলে কে চোর হয়? দেখ, যাঁহারা বড় বড় সাধু, চোরের নামে শিহরিয়া উঠেন, তাহারা অনেকে চোর অপেক্ষাও অধার্মিক। তাঁহাদের চুরি করিবার প্রয়োজন নাই বলিয়াই চুরি করেন না। কিন্তু তাঁহাদের প্রয়োজনাতীত ধন থাকিতেও চোরের প্রতি যে মুখ তুলিয়া চাহেন না, ইহাতেই চোরে চুরি করে। অধর্ম চোরের নহে- চোরে যে চুরি করে, সে অধর্ম কৃপণ ধনীর। চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শত গুণে দোষী। চোরের দন্ড হয়; চুরির মূল যে কৃপণ, তাহার দণ্ড হয় না কেন?"
"দেখ আমি প্রাচীরে প্রাচীরে মেও মেও করিয়া বেড়াই, কেহ আমাকে মাছের কাঁটাখানাও ফেলিয়া দেয় না। মাছের কাঁটা, পাতের ভাত নরদামায় ফেলিয়া দেয়, জলে ফেলিয়া দেয়, তথাপি আমাকে ডাকিয়া দেয়না। তোমাদের পেট ভরা, আমার পেটের ক্ষুধা কী প্রকারে জানিবে। হায়। দরিদ্রের জন্য ব্যথিত হইলে, তোমাদের কি কিছু অগৌরব আছে? আমার মতো দরিদ্রের ব্যথায় ব্যথিত হওয়া, লজ্জার কথা সন্দেহ নাই। যে কখন অন্ধকে মুষ্টি-ভিক্ষা দেয় না, সেও একটা বড় রাজা ফাঁপরে পড়িলে রাত্রে ঘুমায় না- সকলেই পরের ব্যথায় ব্যথিত হইতে রাজি। তবে ছোটলোকের দুঃখে কাতর। ছি। কে হইবে?"
"দেখ যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন, তবে তুমি কি তাঁহাকে ঠেঙ্গা লইয়া মারিতে আসিতে? বরং জোড়হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব? তবে আমার বেলা লাঠি কেন? তুমি বলিবে, তাঁহারা অতি পন্ডিত, বড় মান্য লোক। পণ্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষা তাঁহাদের ক্ষুধা বেশি? তা ত নয়- তেলা মাথায় তেল দেয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর- আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহ্বানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর- ছি! ছি!"
১. **‘বিড়াল’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত?**
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ নামক রসরচনা গ্রন্থ থেকে।
২. **লেখক কোথায় বসে হুঁকা হাতে ঝিমাইতেছিলেন?**
উত্তর: শয়নগৃহে চারপায়ীর উপর বসে।
৩. **লেখক ঝিমাইতে ঝিমাইতে নিজেকে কী ভাবিতেছিলেন?**
উত্তর: নিজেকে নেপোলিয়ন ভাবিতেছিলেন।
৪. **লেখক মনে মনে কোন যুদ্ধে জয়লাভের কথা ভাবছিলেন?**
উত্তর: ওয়াটার্লুর যুদ্ধে।
৫. **হঠাৎ কী শব্দ শুনে লেখকের দিবাস্বপ্ন ভেঙে গেল?**
উত্তর: বিড়ালের ‘মেও’ শব্দ শুনে।
৬. **লেখক প্রথমে বিড়ালটিকে কী মনে করেছিলেন?**
উত্তর: ডিউক অব ওয়েলিংটন।
৭. **প্রসন্ন লেখকের জন্য কী রেখে গিয়েছিল?**
উত্তর: দুধ।
৮. **দুধটুকু কে নিঃশেষ করে খেয়েছিল?**
উত্তর: বিড়ালটি (মার্জার)।
৯. **লেখক বিড়ালটিকে মারার জন্য কী খুঁজে বের করলেন?**
উত্তর: একটি ভগ্ন যষ্টি (ভাঙা লাঠি)।
১০. **লাঠি দেখে বিড়ালের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?**
উত্তর: বিড়ালটি ভয় না পেয়ে হাই তুলে একটু সরে বসল।
১১. **বিড়ালের মতে ‘পরম ধর্ম’ কী?**
উত্তর: পরোপকারই পরম ধর্ম।
১২. **বিড়াল কেন লেখককে ‘পরম ধর্মের ফলভাগী’ বলেছে?**
উত্তর: কারণ বিড়াল লেখকের দুধ খেয়ে লেখকের পরোপকার সিদ্ধ করেছে।
১৩. **বিড়ালের মতে চোর হওয়ার মূল কারণ কী?**
উত্তর: ক্ষুধায় খাইতে না পাওয়া।
১৪. **“অধম্ম চোরের নহে—চোরে যে চুরি করে, সে অধম্ম কৃপণ ধনীর।”— উক্তিটি কার?**
উত্তর: বিড়ালের।
১৫. **বিড়ালের মতে আসল দোষী কে?**
উত্তর: কৃপণ ধনী ব্যক্তি।
১৬. **বিড়ালের মতে চোরের দণ্ড হয় কিন্তু কার দণ্ড হয় না?**
উত্তর: কৃপণ ধনীর দণ্ড হয় না।
১৭. **মানুষ মাছের কাঁটা বা পাতের ভাত কোথায় ফেলে দেয়?**
উত্তর: নর্দমায় বা জলে ফেলে দেয়, তবু বিড়ালকে ডাকে না।
১৮. **“তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ”— এর অর্থ কী?**
উত্তর: যাদের সব আছে তাদেরই আরও বেশি দেওয়া, আর যারা অভাবী তাদের অবজ্ঞা করা।
১৯. **বিড়াল কোন পণ্ডিতদের উদাহরণ টেনে মানুষের পক্ষপাতিত্ব বুঝিয়েছে?**
উত্তর: শিরোমণি বা ন্যায়ালঙ্কার।
২০. **বিড়ালের মতে সমাজের বড় বড় সাধুরা চোর অপেক্ষা অধার্মিক কেন?**
উত্তর: কারণ তাঁরা অভাবী চোরের দুঃখ বোঝেন না এবং কৃপণদের শাসন করেন না।
২১. **বিড়ালের মতে বিদ্যা শিক্ষা কোথায় ব্যর্থ হচ্ছে?**
উত্তর: বিড়ালের যুক্তি অনুযায়ী, মানুষের বিদ্যালয়গুলো বিড়ালের দেওয়া সাধারণ এই সত্যগুলো বুঝতে শিখিয়েছে বলে মনে হয় না।
২২. **বিড়াল নিজেকে ‘চোর’ কেন স্বীকার করেছে?**
উত্তর: কারণ সে অভাবের তাড়নায় অন্যের খাবার গ্রহণ করে।
২৩. **বিড়াল লেখককে কী উপদেশ দিতে চেয়েছে?**
উত্তর: বিড়াল তাকে বিজ্ঞ চতুষ্পদের কাছে শিক্ষা লাভ করার পরামর্শ দিয়েছে।
২৪. **প্রবন্ধে ‘মার্জারসুন্দরী’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?**
উত্তর: আগত বিড়ালটিকে।
২৫. **দুধ কার অধিকারে ছিল বলে লেখক মনে করেন?**
উত্তর: মঙ্গলা গাভীর দেওয়া দুধে লেখক এবং বিড়াল উভয়েরই অধিকার সমান।
২৬. **লেখক কেন বিড়ালটিকে মারতে চেয়েছিলেন?**
উত্তর: সামাজিক প্রথা বজায় রাখতে এবং পাছে লোকে তাকে কাপুরুষ না বলে।
২৭. **“কেহ মরে বিল ছেঁচে কেহ খায় কই”— এখানে বিল ছেঁচা ও কই খাওয়া বলতে কী বোঝানো হয়েছে?**
উত্তর: কষ্ট করে খাবার জোগাড় করা (দুধ রাখা) এবং বিনা পরিশ্রমে তা ভোগ করা।
২৮. **বিড়ালের মতে বড় মানুষরা দরিদ্রের ব্যথায় ব্যথিত হয় কখন?**
উত্তর: যখন তারা নিজেরা কোনও বিপদে পড়ে বা ফাপরে পড়ে।
২৯. **বিড়াল কোন অবস্থায় লেখককে লাঠি নিয়ে মারতে নিষেধ করেছে?**
উত্তর: বিচার না করে বা স্থির না হয়ে মারতে নিষেধ করেছে।
৩০. **শেষ পর্যন্ত কমলাকান্ত বিড়ালের কথা শুনে কী করলেন?**
উত্তর: লেখক যষ্টি ত্যাগ করে পুনরায় হুঁকা হাতে নিলেন এবং বিড়ালের বক্তব্যের গূঢ় অর্থ বুঝতে পারলেন।
❤ উচ্চ মাধ্যমিকের প্রবন্ধ রচনা-
1)১২৫ বছরে আলোকে #কাজী_নজরুল_ইসলাম।
2) 125 বর্ষের আলোকে #জীবনানন্দ_দাশ
3) শতবর্ষে #নীরেন্দ্রনাথ_চক্রবর্তী।
4) 200 বর্ষের আলোকে #মাইকেল_মধুসূদন_দত্ত।
Pdf পেতে whatsApp karun.
096797 55974
।।।
শতবর্ষে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
ভূমিকা: বাংলা সাহিত্যের শিকড়ে অনেক মহৎ কবি তাঁদের রচনায় অসামান্যতা প্রকাশ করেছেন, তাদেরই মধ্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।, তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই উঠে আসে তাঁর সাহিত্য জগতে অসাধারণ অবদান। তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছড়া, এবং বিভিন্ন পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি বাঙালি মননে এক গভীর ছাপ রেখেছেন। তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ এবং সামাজিক বিভিন্ন দিক। তাঁর কবিতার প্রতিটি শব্দে অনুভূতি এবং গভীর জীবনবোধের প্রতিফলন পাওয়া যায়।
জন্ম ও শৈশব
১৯২৪ সালের ১৯শে অক্টোবর বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার চান্দ্রা নামক একটি ছোট্ট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তাঁর পিতা ছিলেন জিতেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, যিনি একজন বিখ্যাত ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক, এবং তাঁর মাতা প্রফুল্ল নন্দিনী দেবী। নীরেন্দ্রনাথের শৈশব কেটেছে গ্রামীণ বাংলার সাদামাটা জীবনযাপনের মধ্যে অর্থাৎ পূর্ববঙ্গে তাঁর ঠাকুরদা ঠাকুরমার স্নেহে। তাঁর ছেলেবেলা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর গল্পের আবেশে ভরপুর ছিল।
শিক্ষাজীবন
প্রাথমিক শিক্ষালাভের জন্য তিনি ফরিদপুরের পাঠশালায় ভর্তি হন। পরে, ঠাকুরদার মৃত্যুর পর ১৯৩০ সালে তিনি স্থায়ীভাবে কলকাতায় চলে আসেন এবং বঙ্গবাসী স্কুলে ভর্তি হন। এরপর মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক এবং বঙ্গবাসী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। পরবর্তীতে, সেন্ট পলস কলেজ থেকে ইতিহাসে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি শ্রীহর্ষ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করে তাঁর সাংবাদিক জীবনের সূচনা করেন।
কর্মজীবন
ছাত্রকালীন সময়েই "শ্রীহর্ষ" প্রত্রিকায় সম্পাদনা করে সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতার প্রতি তার নিবিড় অনুরাগের সৃষ্টি। তবে 'দৈনিক প্রত্যহ' পত্রিকার মাধ্যমেই সাংবাদিকতার জগতে তাঁর হাতেখড়ি এবং 'সত্যযুগ' পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিক জীবনের শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে একে একে 'আনন্দবাজার পত্রিকা', 'আনন্দমেলা পত্রিকা', 'ভারত', 'মাতৃভূমি' এবং আরও বিভিন্ন খ্যাতনামা পত্রিকায় কাজ করা শুরু করেন।
উল্লেখযোগ্য রচনা
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অন্যতম বিখ্যাত কবিতা উলঙ্গ রাজা, যা সামন্ততান্ত্রিক জমিদার শ্রেণীর বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ছিল। তাঁর অন্যান্য কবিতার মধ্যে 'অন্ধকার বারান্দা,' 'নিরক্ত করবি,' এবং 'উলঙ্গ রাজা' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কবিতার মাধ্যমে তিনি একাধারে প্রেম, প্রতিবাদ, এবং মানবতার বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তুলেছেন।
শিশু সাহিত্য ও ছড়া রচনা
ছোটদের জন্যও তিনি অসংখ্য ছড়া ও কবিতা রচনা করেছেন, যার মধ্যে 'বিবি,' 'ভোরের পাখি,' 'খোকনের খাতা,' 'ছেলেবেলা' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সহজ ভাষায় রচিত এইসব ছড়া শিশুদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাঁর এই সাহিত্যকর্মগুলি বাংলা সাহিত্যে শিশুসাহিত্য হিসেবে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সৃষ্ট অন্যতম জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ভাদু মশাই। তাঁর লেখা রহস্য কাহিনীগুলির মধ্যে 'লকারের চাবি,' 'একটি হত্যার অন্তরালে,' 'রাত তখন তিনটে' বিশেষভাবে প্রশংসিত। রহস্যময় ঘটনা আর গোয়েন্দা গল্পের চমৎকার মেলবন্ধন এসব রচনায় পাওয়া যায়।
পুরস্কার ও সম্মাননা
বাংলা সাহিত্যের অবদানের জন্য নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ১৯৭৪ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর লেখা উলঙ্গ রাজা কাব্যগ্রন্থটি এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মাননা লাভ করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়াও একে একে তিনি 'উল্টোরথ', 'তারাশংকর স্মৃতি', 'আনন্দ শিরোমণি' পুরস্কার পান।
উপসংহার: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লেখনীতে মানবতার প্রতি এক গভীর বিশ্বাস প্রকাশ পায়। তাঁর মতে, মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের বাস, আর এই বিশ্বাস থেকেই তিনি মানবতার প্রেমে মগ্ন থাকতেন। ২০১৮ সালের ২৫শে ডিসেম্বর তিনি ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। "জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কথা কবে" এই অমোঘ বাণীকে সত্য করে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, তবে তাঁর লেখা আমাদের হৃদয়ে চিরজীবন অমর হয়ে থাকবে।
২০২৪ সালে, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জন্মের শতবর্ষ পূর্ণ হল, বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর লেখা আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি, যা যুগের পর যুগ ধরে আমাদের মধ্যে মানবিকতার শিখা প্রজ্বলিত করবে।
125 বর্ষের আলোকে জীবনানন্দ দাশ
ভূমিকা :-
"প্রেম ধীরে ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়, হয় নাকি?"
বাংলা সাহিত্যের সুজ্জ্বল তারা হিসেবে জ্বলজ্বলে আলো জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃৎদের মধ্যে অন্যতম। তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মেলে। তাঁর জীবন এবং সাহিত্যের মধ্যে এক অদ্ভুত সম্পর্ক ছিল, যা তাঁর কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
জন্ম ও বংশ পরিচয়:-১৮৯৯ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ দাশ ।তার একটি ডাক নাম ছিল মিলু। তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন একজন শিক্ষক এবং 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার সম্পাদক। তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দেবী-ও ছিলেন মহিলা কবি (কুসুমকুমারী দেবী রচিত একটি বিখ্যাত কবি "আদর্শ ছেলে", যার প্রথম চরণ "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে")। জীবনানন্দের পূর্বপুরুষগণ ঢাকার বিক্রমপুর অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পরিবারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ছিল।
শিক্ষাজীবন :-জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে জীবনানন্দ বরিশালের ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে একেবারে পঞ্চম শ্রেণেী ভর্তি হন। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯১৯ খ্রী. ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ পাস করে জীবনানন্দ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতি হন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে এখান থেকেই ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে তিনি স্নাতক ডিগ্রি (এমএ) অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন থেকেই তাঁর মধ্যে সাহিত্যচর্চার প্রতি গভীর আগ্রহ দেখা যায়।
কর্মজীবন :-স্নাতকোত্তরের পরের বছরই ১৯২২ খ্রী. কলকাতার সিটি কলেজে অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত হন। কিন্তু এই চাকরি তার দীর্ঘস্থায়ী হননি। এরপর খুলনায় বাগেরহাট কলেজে এবং পরে দিল্লির রামমজ কলেজে অধ্যাপনা করেন তিনি। তারপর তিনি কিছুদিন কর্মহীন হয়ে থাকেন এবং পড়ে বরিশালে সহজমোহন কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগদান করেন। এরপর কয়েক দশকের মধ্যে তিনি সপরিবার নিয়ে কলকাতা আসার উদ্যোগ নেয়। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে তিনি খড়াপুর কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগদেন। এবং পড়ে বরিষা কলেজে এবং সেখান থেকে হাওড়ার গার্লস কলেজে অধ্যাপনার কাজে দীর্ঘস্থায়ীভাবে যোগ দেন।
সাহিত্য কর্ম:-ছাত্রজীবন থেকেই জীবনানন্দ দাশ লেখালিখি শুরু করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ আবাহন' সত্যানন্দ সম্পাদিত 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯২৪-২৫ সাল থেকে তিনি নিয়মিত লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ঝরা পালক' ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' (১৯৩৬), 'বনলতা সেন' (১৯৪২), 'মহাপৃথিবী' (১৯৪৪), 'সাতটি তারার তিমির' (১৯৪৮), 'রূপসী বাংলা' (১৯৫৭) ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। জীবনানন্দ দাশ কবিতার পাশাপাশি বহু গল্প-উপন্যাস রচনা করেনা, কিন্তু সেগুলি লোকচক্ষুর আড়ালেই রয়ে গেছে। এখন সেগুলি প্রকাশিত হওয়ার ফলে তাঁর সম্পর্কে নতুন চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। তাঁর উপন্যাসগুলি হল- “জলপাইহাটি”, “সুতীর্থ”, "কারুবাসনা" ইত্যাদি। তাঁর লেখা অনেক ছোটগল্প আছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গল্পটি হল 'কবিতার কথা'।
অন্তিম পরিণায়:-কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু হয় ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর। তিনি কলকাতার একটি ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা যান। কবি যখন রাস্তা পার হচ্ছিলেন, তখন একটি ট্রাম তাকে ধাক্কা দেয়। এই দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। আট দিনের অসুস্থতার পর তিনি মারা যান।
পুরস্কার :-১৯৫২ সালে তাঁর কাব্যগ্রন্থ "বনলতা সেন” নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনের পুরস্কার পায়। এবং ১৯৫৫ সালে তাঁর মৃত্যুর পর, "জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা” (১৯৫৪) গ্রন্থটি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করে। এই পুরস্কারটি ভারত সরকারের সর্বোচ্চ সাহিত্যিক সম্মান।
উপসংহার :-জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক মহান কবি, এছাড়াও তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক, একজন চিন্তক। তাঁর কবিতা জীবনের গভীর অনুভূতি, অস্তিত্বের সংকট, প্রেম ও বিরহের এক গভীরতম সত্যকে উন্মোচন করে। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন। আজও তাঁর কবিতা আমাদেরকে জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
১২৫ বছরে আলোকে কাজী নজরুল ইসলাম
ভূমিকা
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন বিদ্রোহী কবি, সংগীতস্রষ্টা, লেখক ও সমাজসংস্কারক। তাঁর লেখা মানুষকে জাগ্রত করেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি যুগিয়েছে। আজ, ১২৫ বছর পরেও তিনি আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
জন্ম ও বংশ পরিচয়
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কাজী ফকির আহমদ এবং মা জাহেদা খাতুন। শৈশবেই পিতৃহারা হয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন তিনি। জীবনযুদ্ধে লড়াই করেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
কর্মজীবন
নজরুলের কর্মজীবন শুরু হয় সৈনিক হিসেবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং সেখানে থেকেই সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যান। ১৯২২ সালে প্রকাশিত বিদ্রোহী কবিতার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তাঁর লেখা কবিতা, গান ও প্রবন্ধ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার এবং ঔপন্যাসিক।
সাহিত্য কর্ম:-
সাহিত্য ও সঙ্গীতের সেবায় নজরুল নিজেকে উৎসর্গ করলেন, তিনি যুক্ত হলেন 'মোহম্মদী', 'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সঙ্গে।তাঁর 'বিদ্রোহী' কবিতার প্রথম প্রকাশ 'মোসলেম ভারতে'। তিনি লিখলেন কাব্যগ্রন্থ-অগ্নিবীণা (১৯২২), দোলনচাঁপা (১৯১৯), বিষের বাঁশী (১৯২৪), ভাঙার গান (১৯২৪), প্রলয়শিখা (১৯২৪), ছায়ানট (১৯২৫), পূর্বের হাওয়া (১৯২৫), সাম্যবাদী (১৯২৫), চিত্তনামা (১৯২৫), সর্বহারা (১৯২৬), ফণিমনসা (১৯২৭), সিন্ধু-হিন্দোল (১৯২৭), ঝিঙেফুল (১৯২৮), সাতভাই চম্পা (১৯২৮), জিঞ্জীর (১৯২৮), চক্রবাক্ (১৯২৯), সন্ধ্যা (১৯২৯), নতুন চাঁদ (১৯৪৫), মরুভাস্কর (১৯৫০), শেষ সওপাত (১৯৫৮), গুলবাগিচা, ফুলফিকার, কাব্য আম্পারা, বুলবুল, ঝড়।
সম্মাননা : কাজী নজরুল ইসলাম ভারত ও বাংলাদেশের প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছেন। বাংলাদেশের তিনি জাতীয় কবি। এদেশে চরুলিয়ায় নজরুল চর্চা কেন্দ্র 'নজরুল একাডেমি', ২০১২ সালে আসানসোলে স্থাপিত হয়েছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। এ দেশে বহু সড়ক সরণি তাঁরই নামাঙ্কিত। ১৯৪৫ খ্রি. তিনি জগত্তারিণী, ১৯৬০ খ্রি. পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৭৫ খ্রি. শহীদ দিবসে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে 'একুশে পদক' দিয়ে সম্মানিত করে। তবে নজরুলের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান বা পুরস্কার বোধহয় রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক নজরুলকে উৎসর্গীকৃত 'বসন্ত' নাটক।
প্রয়াণ : ১৯৪২ খ্রি. পক্ষাঘাতে আক্রান্ত কবি বোধশক্তিহীন ও নির্বাক হয়ে যান। শেষে ২৯ শে আগষ্ট ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় কবির জীবন দীপ নির্বাপিত হয়।
উপসংহার: হানাহানি, বিদ্বেষ, শোষন, অপশাসন, সাম্প্রদায়িকতা, মনুষ্যত্বহীনতার পুঁতিগন্ধ আজও এ সমাজে বর্তমান। তাই এখনো আপোষহীন বিদ্রোহী কবি নজরুল সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতো জ্বলন্ত অগ্নি শলাকা প্রতিবাদী মানুষের বুকে চলমান।
রাজনীতির ভাগের চুরি বাংলার ভূমিকে দ্বিখণ্ডিত করতে পারলেও, বাঙালির আত্মাকে করতে পারেনি। সেই কবে এই সারকথা জানিয়ে দিয়েছিলেন কবি অন্নদাশঙ্কর রায় -
'ভুল হয়ে গেছে বিলকুল
আর সব কিছু ভাগ হয়ে গেছে
ভাগ হয়নি কো নজরুল'।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৪
We live in India and work for India. But we should not forget that we belong to the larger family of the world. The people living in other countries are after all our cousins. It would be such an excellent thing if all the people in the world were happy and contend.
আমরা ভারতে থাকি এবং ভারতের জন্য কাজ করি। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে আমরা বিশ্বের বৃহত্তর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। অন্য দেশে বসবাসকারী লোকেরা আমাদের চাচাতো ভাই। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ যদি খুশি হয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তবে এটি একটি দুর্দান্ত জিনিস হবে।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৩
It is very difficult to get rid of bad habits. So, we should be very careful that we do not get into bad habits in our childhood. Idleness is one such bad habit. Every boy and girl should be diligent.
উত্তর – কুঅভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই কঠিন। সুতরাং আমাদের খুব সতর্ক হওয়া উচিৎ যে আমরা যাতে কুঅভ্যাসে অভ্যস্থ না হয়ে পড়ি। অলসতা এমনই একটি কুঅভ্যাস। প্রত্যেক বালক এবং বালিকার পরিশ্রমী হওয়া উচিৎ।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২২
Newspaper reading has become an essential part of our life. As we get up in the morning, we wait eagerly for a daily paper. Twentieth Century was an age of newspaper. Through newspapers we gather information about different countries of the world.
উত্তর- খবরের কাগজ পড়া আমাদের জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা আগ্রহের সঙ্গে দৈনিক খবরের কাগজের জন্য অপেক্ষা করি। বিংশ শতাব্দী ছিল সংবাদপত্রের যুগ। খবরের কাগজের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংবাদ সংগ্রহ করি।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২০
Home is the first school where the child learns his first lesson. He sees, hears and begins to learn at home. In a good home honest and healthy men are made. Bad influence at home spoils a child.
উত্তর- গৃহই হল প্রথম বিদ্যালয় যেখানে শিশু তার প্রথম পাঠ গ্রহণ করে। সে দেখে, শুনে এবং গৃহেই শিখতে শুরু করে। উত্তম গৃহে সৎ এবং স্বাস্থ্যবান মানুষ তৈরি হয়। গৃহের কুপ্রভাব একটি শিশুকে নষ্ট করে দেয়।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০১৯
One day a fox was going beside the vine yard. He saw the ripe grapes hanging from a vine. He jumped but did not reach it. Because they were beyond his reach.
উত্তর- একদিন একটি শিয়াল আঙ্গুর বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে দেখল একটি আঙ্গুরলতা থেকে পাকা আঙ্গুর ঝুলছে। সে লাফ দিল কিন্তু পৌছাতে পারল না। কারণ তারা তার নাগালের বাইরে ছিল।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০১৮
The teachers are regarded as the backbone of the society. They build the future citizens of country. They love students as their children. The teachers always encourage and inspire us to be good and great in life.
উত্তর- শিক্ষকদেরকে সমাজের মেরুদণ্ড হিসাবে গণ্য করা হয়। তারা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের গড়ে তোলেন। তারা ছাত্রদের নিজের সন্তানের মতো ভালবাসেন। শিক্ষকরা সর্বদাই আমাদের উত্তম ও মহৎ হতে উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত করেন।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০১৭
One day a dog stole a piece of meat from a butcher shop. He was crossing over a bridge. Suddenly, he saw his own shadow in the water. He thought that there was another dog and he had a bigger piece of meat.
উত্তর- একদিন একটি কুকুর একটি কসাইখানা থেকে একটুকরো মাংস চুরি করল। সে একটি সেতু পার হচ্ছিল। হঠাৎ সে জলে তার নিজের ছায়া দেখতে পেল। সে ভাবল ওটা আরেকটা কুকুর এবং তার কাছে আরো বড় মাংসের টুকরো রয়েছে।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০১৬
Once there was a beautiful princess. When her mother died the king married another lady who had a magic mirror. The mirror said, 'Queen! you are beautiful but the princess is more beautiful than you.
উত্তর- একদা এক সুন্দর রাজকন্যা ছিল। যখন তার মা মারা গেলেন তখন রাজা আরও এক ভদ্রমহিলাকে বিয়ে করলেন, যার যাদু আয়না ছিল। আয়না বলল, 'রানী! আপনি সুন্দর তবে রাজকন্যা আপনার চেয়েও বেশি সুন্দর।'
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০১৫
Once two women were quarrelling about the claim of a child. They went to the judge for justice. The judge called the executioner and ordered, "Cut the child into two halves and give one half to each of the women." One of the women when she heard the order, remained silent! but the other woman began to weep.
উত্তর- একদা দু'জন মহিলা একটি শিশুর ওপর অধিকারের দাবিতে ঝগড়া করতে করতে ন্যায়বিচারের জন্য একজন বিচারকের কাছে গেল। বিচারক ঘাতককে ডেকে আদেশ দিলেন, "শিশুটাকে দুখণ্ড করে কেটে ফেল এবং প্রত্যেককে একটি করে খণ্ড দিয়ে দাও।” তাদের মধ্যে একজন এই আদেশ শুনে চুপ করে থাকল; কিন্তু অপর মহিলার্টি কাঁদতে শুরু করল।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০১৪
There was a shepherd boy. Everyday he would go up the hill to graze the sheep herd. One day, just to have fun he shouted, 'Wolf! Help! Wolf! Help!" Down the hill, the farmers were working in their field. They heard his cry to help and at once rushed to the boy.
উত্তর- এক যে ছিল রাখাল বালক। প্রতিদিন সে পাহাড়ের উপরে ভেড়ার পালকে চরাতে যেত। একদিন সে, নেহাতই মজা পাওয়ার জন্য, চিৎকার করে উঠল, "নেকড়ে! বাঁচাও! নেকড়ে! বাঁচাও।” পাহাড়ের নীচে চাষিরা মাঠে কাজ করছিল। তারা তার সাহায্যের আর্তি শুনল এবং সঙ্গে সঙ্গে সেই বালকের কাছে ছুটে এল।
মাধ্যমিক পরীক্ষা-২০১৩
There were once two friends a lion and a bear. One day they went out in search of food. They were very lucky to find out a dead deer lying in the forest. They were selfish friends. So each of them demanded full share of the dead animal. They could not reach any settlement. Then, there was a fight between the two.
উত্তর- কোনো এক সময় একটি সিংহ এবং একটি ভালুক – দুজনে বন্ধু ছিল। একদিন তারা খাদ্যের সন্ধানে বের হল। তারা খুব ভাগ্যবান ছিল, বনের মধ্যে একটা মৃত হরিণকে (তারা) পড়ে থাকতে দেখল। তারা ছিল স্বার্থপর বন্ধু। সেইজন্য তারা দু'জনেই মৃত পশুটির সম্পূর্ণ অংশ দাবি করল। তারা কোনো মীমাংসায় পৌছাতে পারল না। তখন তাদের দু'জনের মধ্যে লড়াই শুরু হয়ে গেল।
মাধ্যমিক পরীক্ষা-২০১০
We should try to prosper in life. But we should not give up our sense of morality. If we compromise with dishonesty, it would be difficult for us to respect ourselves. So it is important to choose the right way. No person can be happy without having sincere friends.
উত্তর- আমাদের জীবনে উন্নতির জন্য চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু আমাদের নৈতিকতা বোধ ত্যাগ করা উচিত নয়। আমরা যদি অসততার সঙ্গে আপোষ করি, তাহলে আমাদের নিজেদেরকে সম্মান করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। সুতরাং সঠিক পথ নির্বাচন করাটা জরুরি। অন্তরঙ্গ বন্ধু ছাড়া কোনো মানুষ সুখী হতে পারে না।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০০৯
Man is a social animal. He cannot live alone. No person can be happy without having sincere friends. But selfish persons fail to make real friendship. Because to get love you must give love in return.
উত্তর- মানুষ একটি সামাজিক প্রাণী। সে একা থাকতে পারে না। আন্তরিক বন্ধু ছাড়া কোনও ব্যক্তি সুখী হতে পারে না। কিন্তু স্বার্থপর ব্যক্তিরা প্রকৃত বন্ধুত্ব তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। কারণ ভালোবাসা পেতে হলে তোমাকেও বিনিময়ে ভালোবাসা দিতে হবে।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০০৮
Once two friends started on a travel. Their way lay through a forest. As they came half way through the forest, a bear was seen approaching slowly towards them. One of them climbed up a tree. The other did not know how to climb up a tree and lay flat on his face without breathing.
উত্তর- একদা দুই বন্ধু ভ্রমণে বের হল। তাদের পথটি ছিল এক জঙ্গলের ভেতর দিয়ে। যখন তারা জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অর্ধেক পথ এসেছে, তখন একটা ভালুককে তাদের দিকে ধীরগতিতে এগিয়ে আসতে দেখা গেল। তাদের মধ্যে একজন একটা গাছে উঠে পড়ল। অন্যজন গাছে উঠতে জানত না, তাই সে নিঃশ্বাস বন্ধ করে উপুড় হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ল।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০০৭
One day Sir Isaac Newton went out of his room leaving on the table a heap of papers containing his long research on the theory of light. There was on the floor of the room lying his pet dog, Diamond. No sooner had he gone than the dog jumped upon the table and upturned the lighted candle and the papers immediately caught fire. Returning after a few minutes Newton found that all his hard labour of twenty years had been reduced to ashes.But the great scientist patted the dog on the head exclaiming, "Oh, Diamond, you don't know what you have done!"
উত্তর- একদিন স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর টেবিলের ওপর আলোকতত্ত্ব সম্পর্কিত দীর্ঘ গবেষণার প্রচুর কাগজ রেখে ঘরের বাইরে যান। ঘরের মেঝেতে তাঁর পোষা কুকুর ডায়মণ্ড শুয়েছিল। তাঁর যাওয়া মাত্রই কুকুরটি লাফ দিয়ে টেবিলের ওপর উঠল এবং জ্বলন্ত মোমবাতিটি উল্টে দিল এবং সঙ্গে সঙ্গে কাগজ গুলিতে আগুন লেগে গেল। কয়েক মিনিট পরে ফিরে এসে নিউটন দেখেন যে তাঁর কুড়ি বছরের কঠিন পরিশ্রমের সমস্ত কিছু ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। কিন্তু মহান বিজ্ঞানী কুকুরটির মাথায় হাত দিয়ে আদর করে বিস্ময়ের সুরে বললেন, 'ডায়মণ্ড তুমি জান না, তুমি কী করেছ।'
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০০৬
Once a soldier was made a prisoner of war. After a few years the war ended and he was released. One day while he was walking near a market he saw a bird-seller with a cage full of birds for sale. The soldier bought the cage and then set all the birds free one by one.
When the people around asked him about his strange behaviour he replied "I know the agony of captivity":
উত্তর- একদা এক সৈনিক যুদ্ধবন্দি হয়েছিলেন। কয়েক বছর পরে যুদ্ধ শেষ হল এবং তিনি ছাড়া পেলেন। একদিন যখন তিনি একটা বাজারের কাছ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন বিক্রির জন্য খাঁচাভরা পাখিসহ একজন পাখিবিক্রেতাকে তিনি দেখতে পেলেন। সৈনিক খাঁচাটি কিনে নিলেন এবং তারপর একে একে সব পাখিকে মুক্ত করে দিলেন। যখন তার চারপাশের লোকজন তার এই অদ্ভুত আচরণের ব্যাপারে জানতে চাইল, তখন তিনি উত্তর দিলেন, "বন্দিদশার যন্ত্রণা আমি জানি।"
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০০৫
Once on a summer day a poor cap-seller was going to a fair for selling caps. Being tired he sat under the shade of a tree leaving behind him his basket containing caps. The gentle breeze made him drowsy and soon he fell asleep. After a while he suddenly woke up and was surprised to find that there was not a single cap left in the basket. Then he began to cry.
উত্তর- একদা এক গ্রীষ্মের দিনে একজন গরিব টুপি-বিক্রেতা টুপি বিক্রি করবার জন্য মেলায় যাচ্ছিল। ক্লান্ত হয়ে, টুপি ভর্তি ঝুড়িটি পেছনে রেখে সে একটা গাছের ছায়ায় বসল। মৃদুমন্দ বাতাস তাকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করল এবং শীঘ্রই সে ঘুমিয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পরে সে হঠাৎ জেগে উঠল এবং অবাক হয়ে দেখল যে তার ঝুড়িতে একটিও টুপি নেই। তখন সে কাঁদতে লাগল।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০০৪
One morning a monk went out to beg for food. He met a farmer and asked for some alms. But the farmer refused to help him saying, "I plough my field, sow the seeds and gather grain. Thus it is only by working hard that I get my livelihood. But how can you obtain yours, since you neither plough nor sow?"
উত্তর- একদিন সকালে এক সন্ন্যাসী খাবার ভিক্ষা করতে বেরিয়েছিলেন। তার সঙ্গে এক কৃষকের দেখা হল এবং তিনি তার কাছ থেকে কিছু ভিক্ষা চাইলেন। কিন্তু কৃষক তাকে এই বলে সাহায্য করতে অস্বীকার করল "আমি আমার জমি চাষ করি, বীজ বপন করি এবং শস্য সংগ্রহ করি। এইভাবে একমাত্র কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমি আমার জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু যেহেতু আপনি চাষও করেন না, বীজও বপন করেন না, আপনি কীভাবে আপনার জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন?"
মাধ্যমিক পরীক্ষা-২০০৩
Last saturday was a memorable day in my life. I went to the river for taking my bath as usual. The bathing ghat was not crowded then. Only two boys were bathing in the river at the time. Suddenly one of them fell in deep water and he cried out for help. Hearing that I was puzzled for a few seconds. Then I tried to help him.
উত্তর- গত শনিবারটি ছিল আমার জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। যথারীতি আমি নদীতে স্নান করতে গিয়েছিলাম। তখন স্নানের ঘাটে ভিড় ছিল না। কেবলমাত্র দুটি ছেলে সেই সময় নদীতে স্নান করছিল। হঠাৎ তাদের মধ্যে একজন গভীর জলে পড়ে গেল এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করে উঠল। তা শুনে আমি কয়েক সেকেন্ডের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলাম। তারপর আমি তাকে সাহায্য করতে চেষ্টা করলাম।
মাধ্যমিক পরীক্ষা-২০০২
There were once two friends- a lion and a bear. One day they went out in search of food. They were very lucky to find out a dead deer lying in the forest. They were selfish friends. So each of them demanded full share of the dead animal. They could not reach any settlement. Then, there was a fight between the two.
উত্তর- কোনো এক সময় একটি সিংহ এবং একটি ভালুক- দুজনে বন্ধু ছিল। একদিন তারা খাদ্যের সন্ধানে বের হল। তারা খুব ভাগ্যবান ছিল, বনের মধ্যে একটা মৃত হরিণকে (তারা) পড়ে থাকতে দেখল। তারা ছিল স্বার্থপর বন্ধু। সেইজন্য তারা দু'জনেই মৃত পশুটির সম্পূর্ণ অংশ দাবি করল। তারা কোনো মীমাংসায় পৌছাতে পারল না। তখন তাদের দু'জনের মধ্যে লড়াই শুরু হয়ে গেল।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০০১
Once two women, quarrelling about the claim of a child, went to the judge for justice. The judge called the executioner and ordered. 'Cut the child into halves and give one half to each of the women.' One of the women, when she heard the order, remained silent; but the other woman began to weep.
উত্তর- একদা দু'জন মহিলা একটি শিশুর ওপর অধিকারের দাবিতে ঝগড়া করতে করতে ন্যায়বিচারের জন্য একজন বিচারকের কাছে গেল। বিচারক ঘাতককে ডেকে আদেশ দিলেন, "শিশুটাকে দুখণ্ড করে কেটে ফেল এবং প্রত্যেককে একটি করে খণ্ড দিয়ে দাও"। তাদের মধ্যে একজন এই আদেশ শুনে চুপ করে থাকল; কিন্তু অপর মহিলাটি কাঁদতে শুরু করল।
মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০০০
Once a wolf was much pained by a bone that stuck into his throat. He requested everyone to take off the bone and promised a handsome reward. But none ventured to take the risk. At last a crane came and drew out the bone. But when he demanded the reward the wolf remarked, "You had your beak into a wolf's mouth and could take it out safely. Is it not a best reward for you?"
উত্তর- একদা গলায় একটা হাড় বিঁধে যাওয়ায় একটা নেকড়ে বেশ কষ্ট পাচ্ছিল। সে প্রত্যেককেই হাড়টি বের করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করল এবং একটি উৎকৃষ্ট পুরস্কার দেবার অঙ্গীকারও করল। কিন্তু কেউই ঝুঁকি নিতে সাহস পেলনা। শেষে এক সারস পাখি এল এবং হাড়খানি বার করে দিল। কিন্তু সে যখন পুরস্কারটির দাবি করল, তখন নেকড়েটি মস্তব্য করল, "তুমি একটা নেকড়ের মুখে তোমার ঠোঁট ঢুকিয়ে তা নিরাপদে বের করে নিতে পারলে। এটাই কি তোমার কাছে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার নয়?"
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Address
Kolkata