26/02/2025
❤ উচ্চ মাধ্যমিকের প্রবন্ধ রচনা-
1)১২৫ বছরে আলোকে #কাজী_নজরুল_ইসলাম।
2) 125 বর্ষের আলোকে #জীবনানন্দ_দাশ
3) শতবর্ষে #নীরেন্দ্রনাথ_চক্রবর্তী।
4) 200 বর্ষের আলোকে #মাইকেল_মধুসূদন_দত্ত।
Pdf পেতে whatsApp karun.
096797 55974
।।।
শতবর্ষে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
ভূমিকা: বাংলা সাহিত্যের শিকড়ে অনেক মহৎ কবি তাঁদের রচনায় অসামান্যতা প্রকাশ করেছেন, তাদেরই মধ্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।, তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই উঠে আসে তাঁর সাহিত্য জগতে অসাধারণ অবদান। তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছড়া, এবং বিভিন্ন পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি বাঙালি মননে এক গভীর ছাপ রেখেছেন। তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ এবং সামাজিক বিভিন্ন দিক। তাঁর কবিতার প্রতিটি শব্দে অনুভূতি এবং গভীর জীবনবোধের প্রতিফলন পাওয়া যায়।
জন্ম ও শৈশব
১৯২৪ সালের ১৯শে অক্টোবর বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার চান্দ্রা নামক একটি ছোট্ট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তাঁর পিতা ছিলেন জিতেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, যিনি একজন বিখ্যাত ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক, এবং তাঁর মাতা প্রফুল্ল নন্দিনী দেবী। নীরেন্দ্রনাথের শৈশব কেটেছে গ্রামীণ বাংলার সাদামাটা জীবনযাপনের মধ্যে অর্থাৎ পূর্ববঙ্গে তাঁর ঠাকুরদা ঠাকুরমার স্নেহে। তাঁর ছেলেবেলা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর গল্পের আবেশে ভরপুর ছিল।
শিক্ষাজীবন
প্রাথমিক শিক্ষালাভের জন্য তিনি ফরিদপুরের পাঠশালায় ভর্তি হন। পরে, ঠাকুরদার মৃত্যুর পর ১৯৩০ সালে তিনি স্থায়ীভাবে কলকাতায় চলে আসেন এবং বঙ্গবাসী স্কুলে ভর্তি হন। এরপর মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক এবং বঙ্গবাসী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। পরবর্তীতে, সেন্ট পলস কলেজ থেকে ইতিহাসে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি শ্রীহর্ষ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করে তাঁর সাংবাদিক জীবনের সূচনা করেন।
কর্মজীবন
ছাত্রকালীন সময়েই "শ্রীহর্ষ" প্রত্রিকায় সম্পাদনা করে সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতার প্রতি তার নিবিড় অনুরাগের সৃষ্টি। তবে 'দৈনিক প্রত্যহ' পত্রিকার মাধ্যমেই সাংবাদিকতার জগতে তাঁর হাতেখড়ি এবং 'সত্যযুগ' পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিক জীবনের শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে একে একে 'আনন্দবাজার পত্রিকা', 'আনন্দমেলা পত্রিকা', 'ভারত', 'মাতৃভূমি' এবং আরও বিভিন্ন খ্যাতনামা পত্রিকায় কাজ করা শুরু করেন।
উল্লেখযোগ্য রচনা
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অন্যতম বিখ্যাত কবিতা উলঙ্গ রাজা, যা সামন্ততান্ত্রিক জমিদার শ্রেণীর বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ছিল। তাঁর অন্যান্য কবিতার মধ্যে 'অন্ধকার বারান্দা,' 'নিরক্ত করবি,' এবং 'উলঙ্গ রাজা' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কবিতার মাধ্যমে তিনি একাধারে প্রেম, প্রতিবাদ, এবং মানবতার বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তুলেছেন।
শিশু সাহিত্য ও ছড়া রচনা
ছোটদের জন্যও তিনি অসংখ্য ছড়া ও কবিতা রচনা করেছেন, যার মধ্যে 'বিবি,' 'ভোরের পাখি,' 'খোকনের খাতা,' 'ছেলেবেলা' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সহজ ভাষায় রচিত এইসব ছড়া শিশুদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাঁর এই সাহিত্যকর্মগুলি বাংলা সাহিত্যে শিশুসাহিত্য হিসেবে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সৃষ্ট অন্যতম জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ভাদু মশাই। তাঁর লেখা রহস্য কাহিনীগুলির মধ্যে 'লকারের চাবি,' 'একটি হত্যার অন্তরালে,' 'রাত তখন তিনটে' বিশেষভাবে প্রশংসিত। রহস্যময় ঘটনা আর গোয়েন্দা গল্পের চমৎকার মেলবন্ধন এসব রচনায় পাওয়া যায়।
পুরস্কার ও সম্মাননা
বাংলা সাহিত্যের অবদানের জন্য নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ১৯৭৪ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর লেখা উলঙ্গ রাজা কাব্যগ্রন্থটি এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মাননা লাভ করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়াও একে একে তিনি 'উল্টোরথ', 'তারাশংকর স্মৃতি', 'আনন্দ শিরোমণি' পুরস্কার পান।
উপসংহার: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর লেখনীতে মানবতার প্রতি এক গভীর বিশ্বাস প্রকাশ পায়। তাঁর মতে, মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের বাস, আর এই বিশ্বাস থেকেই তিনি মানবতার প্রেমে মগ্ন থাকতেন। ২০১৮ সালের ২৫শে ডিসেম্বর তিনি ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। "জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কথা কবে" এই অমোঘ বাণীকে সত্য করে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, তবে তাঁর লেখা আমাদের হৃদয়ে চিরজীবন অমর হয়ে থাকবে।
২০২৪ সালে, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জন্মের শতবর্ষ পূর্ণ হল, বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর লেখা আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি, যা যুগের পর যুগ ধরে আমাদের মধ্যে মানবিকতার শিখা প্রজ্বলিত করবে।
125 বর্ষের আলোকে জীবনানন্দ দাশ
ভূমিকা :-
"প্রেম ধীরে ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়, হয় নাকি?"
বাংলা সাহিত্যের সুজ্জ্বল তারা হিসেবে জ্বলজ্বলে আলো জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃৎদের মধ্যে অন্যতম। তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মেলে। তাঁর জীবন এবং সাহিত্যের মধ্যে এক অদ্ভুত সম্পর্ক ছিল, যা তাঁর কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
জন্ম ও বংশ পরিচয়:-১৮৯৯ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ দাশ ।তার একটি ডাক নাম ছিল মিলু। তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন একজন শিক্ষক এবং 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার সম্পাদক। তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দেবী-ও ছিলেন মহিলা কবি (কুসুমকুমারী দেবী রচিত একটি বিখ্যাত কবি "আদর্শ ছেলে", যার প্রথম চরণ "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে")। জীবনানন্দের পূর্বপুরুষগণ ঢাকার বিক্রমপুর অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পরিবারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ছিল।
শিক্ষাজীবন :-জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে জীবনানন্দ বরিশালের ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে একেবারে পঞ্চম শ্রেণেী ভর্তি হন। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯১৯ খ্রী. ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ পাস করে জীবনানন্দ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতি হন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে এখান থেকেই ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে তিনি স্নাতক ডিগ্রি (এমএ) অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন থেকেই তাঁর মধ্যে সাহিত্যচর্চার প্রতি গভীর আগ্রহ দেখা যায়।
কর্মজীবন :-স্নাতকোত্তরের পরের বছরই ১৯২২ খ্রী. কলকাতার সিটি কলেজে অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত হন। কিন্তু এই চাকরি তার দীর্ঘস্থায়ী হননি। এরপর খুলনায় বাগেরহাট কলেজে এবং পরে দিল্লির রামমজ কলেজে অধ্যাপনা করেন তিনি। তারপর তিনি কিছুদিন কর্মহীন হয়ে থাকেন এবং পড়ে বরিশালে সহজমোহন কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগদান করেন। এরপর কয়েক দশকের মধ্যে তিনি সপরিবার নিয়ে কলকাতা আসার উদ্যোগ নেয়। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে তিনি খড়াপুর কলেজে অধ্যাপনার কাজে যোগদেন। এবং পড়ে বরিষা কলেজে এবং সেখান থেকে হাওড়ার গার্লস কলেজে অধ্যাপনার কাজে দীর্ঘস্থায়ীভাবে যোগ দেন।
সাহিত্য কর্ম:-ছাত্রজীবন থেকেই জীবনানন্দ দাশ লেখালিখি শুরু করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ আবাহন' সত্যানন্দ সম্পাদিত 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯২৪-২৫ সাল থেকে তিনি নিয়মিত লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ঝরা পালক' ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' (১৯৩৬), 'বনলতা সেন' (১৯৪২), 'মহাপৃথিবী' (১৯৪৪), 'সাতটি তারার তিমির' (১৯৪৮), 'রূপসী বাংলা' (১৯৫৭) ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। জীবনানন্দ দাশ কবিতার পাশাপাশি বহু গল্প-উপন্যাস রচনা করেনা, কিন্তু সেগুলি লোকচক্ষুর আড়ালেই রয়ে গেছে। এখন সেগুলি প্রকাশিত হওয়ার ফলে তাঁর সম্পর্কে নতুন চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। তাঁর উপন্যাসগুলি হল- “জলপাইহাটি”, “সুতীর্থ”, "কারুবাসনা" ইত্যাদি। তাঁর লেখা অনেক ছোটগল্প আছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গল্পটি হল 'কবিতার কথা'।
অন্তিম পরিণায়:-কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু হয় ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর। তিনি কলকাতার একটি ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা যান। কবি যখন রাস্তা পার হচ্ছিলেন, তখন একটি ট্রাম তাকে ধাক্কা দেয়। এই দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। আট দিনের অসুস্থতার পর তিনি মারা যান।
পুরস্কার :-১৯৫২ সালে তাঁর কাব্যগ্রন্থ "বনলতা সেন” নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনের পুরস্কার পায়। এবং ১৯৫৫ সালে তাঁর মৃত্যুর পর, "জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা” (১৯৫৪) গ্রন্থটি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করে। এই পুরস্কারটি ভারত সরকারের সর্বোচ্চ সাহিত্যিক সম্মান।
উপসংহার :-জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক মহান কবি, এছাড়াও তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক, একজন চিন্তক। তাঁর কবিতা জীবনের গভীর অনুভূতি, অস্তিত্বের সংকট, প্রেম ও বিরহের এক গভীরতম সত্যকে উন্মোচন করে। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন। আজও তাঁর কবিতা আমাদেরকে জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
১২৫ বছরে আলোকে কাজী নজরুল ইসলাম
ভূমিকা
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন বিদ্রোহী কবি, সংগীতস্রষ্টা, লেখক ও সমাজসংস্কারক। তাঁর লেখা মানুষকে জাগ্রত করেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি যুগিয়েছে। আজ, ১২৫ বছর পরেও তিনি আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
জন্ম ও বংশ পরিচয়
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কাজী ফকির আহমদ এবং মা জাহেদা খাতুন। শৈশবেই পিতৃহারা হয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন তিনি। জীবনযুদ্ধে লড়াই করেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
কর্মজীবন
নজরুলের কর্মজীবন শুরু হয় সৈনিক হিসেবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং সেখানে থেকেই সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যান। ১৯২২ সালে প্রকাশিত বিদ্রোহী কবিতার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তাঁর লেখা কবিতা, গান ও প্রবন্ধ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার এবং ঔপন্যাসিক।
সাহিত্য কর্ম:-
সাহিত্য ও সঙ্গীতের সেবায় নজরুল নিজেকে উৎসর্গ করলেন, তিনি যুক্ত হলেন 'মোহম্মদী', 'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সঙ্গে।তাঁর 'বিদ্রোহী' কবিতার প্রথম প্রকাশ 'মোসলেম ভারতে'। তিনি লিখলেন কাব্যগ্রন্থ-অগ্নিবীণা (১৯২২), দোলনচাঁপা (১৯১৯), বিষের বাঁশী (১৯২৪), ভাঙার গান (১৯২৪), প্রলয়শিখা (১৯২৪), ছায়ানট (১৯২৫), পূর্বের হাওয়া (১৯২৫), সাম্যবাদী (১৯২৫), চিত্তনামা (১৯২৫), সর্বহারা (১৯২৬), ফণিমনসা (১৯২৭), সিন্ধু-হিন্দোল (১৯২৭), ঝিঙেফুল (১৯২৮), সাতভাই চম্পা (১৯২৮), জিঞ্জীর (১৯২৮), চক্রবাক্ (১৯২৯), সন্ধ্যা (১৯২৯), নতুন চাঁদ (১৯৪৫), মরুভাস্কর (১৯৫০), শেষ সওপাত (১৯৫৮), গুলবাগিচা, ফুলফিকার, কাব্য আম্পারা, বুলবুল, ঝড়।
সম্মাননা : কাজী নজরুল ইসলাম ভারত ও বাংলাদেশের প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছেন। বাংলাদেশের তিনি জাতীয় কবি। এদেশে চরুলিয়ায় নজরুল চর্চা কেন্দ্র 'নজরুল একাডেমি', ২০১২ সালে আসানসোলে স্থাপিত হয়েছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। এ দেশে বহু সড়ক সরণি তাঁরই নামাঙ্কিত। ১৯৪৫ খ্রি. তিনি জগত্তারিণী, ১৯৬০ খ্রি. পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হন। ১৯৭৫ খ্রি. শহীদ দিবসে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে 'একুশে পদক' দিয়ে সম্মানিত করে। তবে নজরুলের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান বা পুরস্কার বোধহয় রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক নজরুলকে উৎসর্গীকৃত 'বসন্ত' নাটক।
প্রয়াণ : ১৯৪২ খ্রি. পক্ষাঘাতে আক্রান্ত কবি বোধশক্তিহীন ও নির্বাক হয়ে যান। শেষে ২৯ শে আগষ্ট ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় কবির জীবন দীপ নির্বাপিত হয়।
উপসংহার: হানাহানি, বিদ্বেষ, শোষন, অপশাসন, সাম্প্রদায়িকতা, মনুষ্যত্বহীনতার পুঁতিগন্ধ আজও এ সমাজে বর্তমান। তাই এখনো আপোষহীন বিদ্রোহী কবি নজরুল সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতো জ্বলন্ত অগ্নি শলাকা প্রতিবাদী মানুষের বুকে চলমান।
রাজনীতির ভাগের চুরি বাংলার ভূমিকে দ্বিখণ্ডিত করতে পারলেও, বাঙালির আত্মাকে করতে পারেনি। সেই কবে এই সারকথা জানিয়ে দিয়েছিলেন কবি অন্নদাশঙ্কর রায় -
'ভুল হয়ে গেছে বিলকুল
আর সব কিছু ভাগ হয়ে গেছে
ভাগ হয়নি কো নজরুল'।