23/08/2026
যাদবপুর ইউনিভার্সিটি কর্মচারী সংসদ
মুখ্যমন্ত্রীর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই।
যাদবপুরে জাতীয় পতাকা ওঠে না, বন্দেমাতরম গাওয়া হয় না, কিংবা যাদবপুর “জেহাদিদের” আখড়া—এই ধরনের মন্তব্য শুধু অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসকে অপমান করারও এক ঘৃণ্য প্রচেষ্টা।
স্বদেশি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় শিক্ষার আদর্শে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা, বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির ধারক। রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ এবং শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর নির্মিত যাদবপুরের প্রতীক এই ঐতিহ্যেরই অংশ। সেই যাদবপুরকে আজ সংকীর্ণ ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের চোখে বিচার করার চেষ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপার্থক্য থাকবে, রাজনৈতিক বিতর্ক থাকবে, আন্দোলন থাকবে—এটাই গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক চরিত্র। কিন্তু মতের বিরোধকে ‘জেহাদি’ তকমা দিয়ে একটি গোটা প্রজন্মের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মীদের দেশবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা আমরা মানি না।
যাদবপুরের প্রতিটি ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধান হোক, অপরাধ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে যাদবপুরকে অপমান, কলঙ্কিত এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
আজ যাদবপুরের ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, শ্রেণিকক্ষ, গবেষণা ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন দরকার। সরকারের কাছে আমাদের দাবি—কুৎসা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে মন দিন। বিভাজনের রাজনীতি নয়, শিক্ষা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করুন। ছাত্র সংসদ নির্বাচন করান, বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলিতে নির্বাচন করান। কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি শুরু করুন।
সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই আছে, থাকবে। সেই লড়াই আরও তীব্র হবে। কিন্তু যাদবপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিকে আঘাত করার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে যাদবপুর ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াবে।
যাদবপুর কোনো ‘জেহাদি আখড়া’ নয়—
যাদবপুর মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের তীর্থভূমি।
যাদবপুরকে অপমানের জবাব যাদবপুরই দেবে।