11/08/2026
১৯৩৯ সালের এক সকালে ইউসি বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের ছাত্র জর্জ ডানটজিগ (George Dantzig) ক্লাসে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি করে ফেলেছিলেন। তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে দুটি গণিতের সমস্যা লেখা দেখতে পান। শিক্ষক তখনও ক্লাসে পৌঁছাননি, তাই জর্জ ধরে নেন যে এগুলো হয়তো আজকের হোমওয়ার্ক।
তিনি দ্রুত খাতায় অঙ্ক দুটি টুকে নেন এবং বাড়ি ফিরে সমাধান করতে বসেন। কিন্তু সমস্যা দুটি সমাধান করা বেশ কঠিন মনে হচ্ছিল। সাধারণ হোমওয়ার্কের চেয়ে অনেক বেশি সময় ও চিন্তাভাবনা লেগেছিল তার। কয়েক দিন দিনরাত পরিশ্রম করে তিনি অবশেষে দুটি অঙ্কেরই নিখুঁত সমাধান বের করেন এবং শিক্ষক জের্সি নেইম্যানের (Jerzy Neyman) অফিসে গিয়ে খাতাটি জমা দিয়ে আসেন।
এর কিছুদিন পর, এক রবিবার সকালে দরজায় সজোরে ধাক্কার শব্দে জর্জের ঘুম ভেঙে যায়। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার অধ্যাপক জের্সি নেইম্যান, যার চোখে-মুখে ছিল চরম উত্তেজনার ছাপ।
অধ্যাপক আবেগপ্লুত হয়ে বলে উঠলেন, "তুমি কি জানো তুমি কী করেছ?!"
জর্জ কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ভাবলেন, হয়তো দেরি করে জমা দেওয়ার জন্য অধ্যাপক রেগে গেছেন। তিনি ক্ষমা চাইতে গেলে অধ্যাপক তাকে থামিয়ে দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা সেই দুটি অঙ্কের আসল পরিচয় জানান।
ব্ল্যাকবোর্ডের সমস্যা দুটি আসলে কোনো সাধারণ হোমওয়ার্ক ছিল না; সেগুলো ছিল পরিসংখ্যান ও গণিত শাস্ত্রের দুটি বিখ্যাত অমীমাংসিত সমস্যা (Unsolved Problems), যা বিশ্বের বাঘা বাঘা গণিতবিদরা বছরের পর বছর চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারেননি! ক্লাসের শুরুতে অধ্যাপক ছাত্রদের গণিতের জটিলতা বোঝাতে কেবল উদাহরণ হিসেবে বোর্ডে সমস্যা দুটি লিখে রেখেছিলেন।
জর্জ যেহেতু জানতেনই না যে এগুলো সমাধান করা "অসম্ভব", তাই তিনি মন থেকে কোনো মানসিক বাধা পাননি। তিনি সেগুলোকে সাধারণ হোমওয়ার্ক ভেবেই নিজের সবটুকু মেধা উজাড় করে সমাধান করে ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে এই সমাধান দুটিই জর্জ ডানটজিগের ডক্টরেট (PhD) থিসিস হিসেবে গৃহীত হয়।
গণিত ও মনোবিজ্ঞানের ইতিহাসে এই ঘটনাটি আজও এক অনন্য বার্তা দেয়—কখনও কখনও কোন কাজ কতটা কঠিন তা না জানাটাই সেটি অর্জন করার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।