18/01/2026
কারক-বিভক্তি থেকে SAQ প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ দ্বাদশ শ্রেণীর SEMESTER - 4 প্রতিটি প্রশ্নের মান 2 অনুসারে বিস্তারিতভাবে সিলেবাস অনুসারে আলোচিত হল। যাদের কঠিন মনে হবে, তারা কোটেশনে থাকা সংস্কৃত সূত্রটি বাদ দিয়ে দেবে।
1) কারক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- 'ক্রিয়ান্বয়ি কারকম্' অর্থাৎ কার্যসাধন ব্যাপারে ক্রিয়ার সঙ্গে যার মুখ্য বা গৌণ অন্বয় বা সম্বন্ধ আছে, তাকে কারক বলে। যেমন— রাজা দরিদ্রায় বস্ত্রং যচ্ছতি।
2) কারক কয় প্রকার? কি কি?
উত্তর :- কারক ছয় প্রকার। যথা— কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান ও অধিকরণ।
3) বিভক্তি কাকে বলে?
উত্তর :- 'সংখ্যাকারকাদিবোধয়িত্ৰী বিভক্তিঃ' অর্থাৎ যার দ্বারা প্রাতিপদিকের সংখ্যা, কারক ও সম্বন্ধ প্রভৃতি বিশেষ বিশেষ অর্থ জানা যায়, তাহকে বিভক্তি বলে।
4) বিভক্তি কয় প্রকার? কি কি?
উত্তর :- বিভক্তি সাত প্রকার। যথা— প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী।
5) উপপদ বিভক্তি কাকে বলে? উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর :- ধিক্, নিকষা, বিনা, নানা, প্রতি, নমস্, আরাৎ, ইতর, ঋতে প্রভৃতি শব্দ যোগে যে বিভক্তি হয় তাকে শব্দ বিভক্তি বা উপপদ বিভক্তি বলে। যেমন— ধনাৎ ঋতে ন সুখম্।
6) কারক বিভক্তি ও উপপদ বিভক্তি একই সঙ্গে হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে কোনটি হবে? উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর :- কারক বিভক্তি ও উপপদ বিভক্তি একই সঙ্গে হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে কারক বিভক্তিই হবে। যেমন— 'মাতা শিবং নমস্করোতি'— এই বাক্যে 'নমস্' শব্দ যোগে চতুর্থী না হয়ে কৃ ধাতুর কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।
7) সম্প্রদান কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- পাণিনি সম্প্রদানের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন— "কর্মণা যমভিপ্রৈতি স সম্প্রদানম্" অর্থাৎ কর্তা দানার্থক ধাতুর কর্ম দ্বারা যাকে সম্বন্ধ করতে ইচ্ছা করে, তাকে সম্প্রদান কারক বলে। সম্প্রদান বলতে বোঝায়, নিজ স্বত্ব বিনাশ করে পরস্বত্ব উৎপন্ন করা। যেমন— যজমানঃ ব্রাহ্মণায় গাং দদাতি।
8) রুচ্ বা রুচ্যর্থক ধাতুর প্রয়োগে কোন্ কারক হয়? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- "রুচ্যর্থানাং প্রীয়মাণঃ" অর্থাৎ রুচ্ বা রুচ্যর্থক ধাতুর প্রয়োগে প্রীয়মাণ অর্থাৎ যে প্রীতি অনুভব করে সে সম্প্রদান কারক হয়। যেমন— শিশবে রোচতে মোদকঃ।
9) ধারি ধাতুর প্রয়োগে কোন্ কারক হয়? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- "ধারেরুত্তমর্ণঃ" অর্থাৎ ধারি (ধার কর) ধাতুর প্রয়োগে উত্তমর্ণ অর্থাৎ ঋণদাতা সম্প্রদান কারক হয়। যেমন— অহং তুভ্যং শতং ধারয়ামি।
10) স্পৃহ্ ধাতুর প্রয়োগে কোন্ কারক হয়? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- "স্পৃহেরীপ্সিতঃ" অর্থাৎ চুরাদি স্পৃহ্ ধাতুর প্রয়োগে কর্তার ঈপ্সিত বস্তু সম্প্রদান কারক হয়। যেমন— বালিকা পুষ্পেভ্যঃ স্পৃহয়তি।
11) নমস্, স্বস্তি ছাড়া আর কোন্ কোন্ শব্দের যোগে চতুর্থী বিভক্তি হয় ? সুত্র লিখে উদাহরণ দাও।
উত্তর :- নমস্, স্বস্তি ছাড়া স্বাহা, স্বধা, অলম্ এবং বষট্ শব্দের যোগে চতুর্থী বিভক্তি হয়। সুত্র- "নমঃস্বস্তিস্বাহাস্বধালংবষড্ যোগাচ্চ"। যেমন— গণেশায় নমঃ। অগ্নয়ে স্বাহা।
12) ধারি ধাতুর প্রয়োগে হয় কোন্ কারক হয়? সুত্র লিখে উদাহরণ দাও।
উত্তর :- ধারি (ধার কর) ধাতুর প্রয়োগে উত্তমর্ণ অর্থাৎ ঋণদাতা সম্প্রদান কারক হয়। সুত্র— "ধারেরুত্তমর্ণঃ"। যেমন— স মহ্যং শতং ধারয়তি।
13) কোন্ প্রত্যয়ান্ত ক্রিয়পদ উহ্য থাকলে কর্মে চতুর্থী হয়? সুত্র উল্লেখ করে উদাহরণ দাও।
উত্তর :- যদি তুমুন্ প্রত্যয়ান্ত পদের পরিবর্তে ভাববাচ্য নিষ্পন্ন কৃদন্ত পদের প্রয়োগ হয়, তাহলে ভাববাচক অর্থাৎ ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যপদে চতুর্থী বিভক্তি হয়। সুত্র- "তুমর্থাচ্চ ভাববচনাৎ"। যেমন— ব্রাক্ষ্মণঃ যাগায় যাতি।
14) অপাদান কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- পাণিনি অপাদানের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন— "ধ্রুবমপায়েহপাদানম্" অর্থাৎ অপায় শব্দের অর্থ সংযোগ পূর্বক বিশ্লেষ। আর ধ্রুব শব্দের অর্থ স্থির, নিশ্চল। অপায় বা কোনো কিছু থেকে অন্যটি বিশ্লিষ্ট হলে বা দূরে সরে গেলে যেটি ধ্রুব, তা অপাদান কারক হয়। যেমন— বৃক্ষাৎ পত্রং পততি।
15) অধিকরণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- পাণিনি অধিকরণের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন— "আধারোঽধিকরণম্" অর্থাৎ ক্রিয়ার আধার বা আশ্রয়কে অধিকরণ কারক বলে। যেমন— মুনিঃ বনে বসতি।
16) অধিকরণ কারকে কোন্ বিভক্তি হয়? বিভক্তি বিধায়ক সূত্রটি লেখ।
উত্তর :- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি হয়। বিভক্তি বিধায়ক সূত্রটি হল "সপ্তম্যধিকরণে চ" অর্থাৎ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি হয়।
17) সম্বন্ধ পদ কারক নয় কেন? উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর :- 'বারাণস্যাঃ নৃপঃ বস্ত্রং দদাতি'— এই বাক্যের 'দদাতি' ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'বারাণস্যাঃ' পদের কোনরূপ মুখ্য বা গৌণ অন্বয় বা সম্বন্ধ নেই তাই সম্বন্ধ পদ কারক নয়।
18) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— গণেশায় মোদকঃ রোচতে। মূষিকঃ মার্জারাৎ বিভেতি।
উত্তর :- গণেশায় মোদকঃ রোচতে— রুচ্ ধাতুর যোগে সম্প্রদানে চতুর্থী। মূষিকঃ মার্জারাৎ বিভেতি— ভী ধাতুর যোগে অপাদানে পঞ্চমী।
19) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— ধনাৎ বিদ্যা গরীয়সী। ফলেভ্যঃ উদ্যানং যাতি।
উত্তর :- ধনাৎ বিদ্যা গরীয়সী— অপেক্ষার্থে পঞ্চমী। ফলেভ্যঃ উদ্যানং যাতি— তুমুন্ প্রত্যয়ান্ত ক্রিয়াপদ উহ্য থাকায় কর্মে চতুর্থী।
20) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— শিবায় নমঃ। বিদ্বান্ সর্বেষাং পূজিতঃ।
উত্তর :- শিবায় নমঃ— নমস্ শব্দযোগে চতুর্থী। বিদ্বান্ সর্বেষাং পূজিতঃ— বর্তমানকালে বিহিত ক্ত প্রত্যয়যোগে কর্তায় ষষ্ঠী।
21) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— হরয়ে রোচতে ভক্তিঃ। ব্যাঘ্রাৎ বিভেতি নরঃ।
উত্তর :- হরয়ে রোচতে ভক্তিঃ— রুচ্ ধাতুর যোগে সম্প্রদানে চতুর্থী। ব্যাঘ্রাৎ বিভেতি নরঃ— ভী ধাতুর যোগে অপাদানে পঞ্চমী।
22) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— কুন্ডলায় হিরণ্যম্। ইদং জগৎ কৃষ্ণস্য কৃতিঃ।
উত্তর :- কুন্ডলায় হিরণ্যম্— তাদর্থ্যে চতুর্থী। ইদং জগৎ কৃষ্ণস্য কৃতিঃ— কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দের যোগে কর্তায় ষষ্ঠী।
23) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— অন্নাৎ কাকং নির্বারয়তি। আগতে বসন্তে কোকিলাঃ কূজন্তি।
উত্তর :- অন্নাৎ কাকং নির্বারয়তি— বারণার্থক ধাতুর প্রয়োগে অপাদানে পঞ্চমী। আগতে বসন্তে কোকিলাঃ কূজন্তি— ভাবে সপ্তমী।
24) সম্প্রদান কারক বিধায়ক পাণিনির সূত্রটি লেখ। সূত্রটির অর্থ লেখ।
উত্তর :- সম্প্রদান কারক বিধায়ক পাণিনির সূত্রটি হলো "কর্মণা যমভিপ্রৈতি স সম্প্রদানম্"। কর্তা দানার্থক ধাতুর কর্ম দ্বারা যাকে সম্বন্ধ করতে ইচ্ছা করে, তাই সম্প্রদান।
25) চতুর্থী বিভক্তি বিধায়ক পাণিনির সূত্রটি লেখ। সূত্রটির অর্থ লেখ।
উত্তর :- "চতুর্থী সম্প্রদানে" অর্থাৎ সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি হয়। সম্প্রদান কারকের ক্ষেত্রেই এই একটিমাত্র বিভক্তি বিধায়ক সূত্রেই সম্প্রদানে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন— রাজা দরিদ্রায় বস্ত্রং যচ্ছতি।