05/06/2022
ছাত্র-ছাত্রীরা কি ভিলেন!
কথায় আছে, "শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড" –কিন্তু দুর্বল মেরুদন্ড নিয়ে জাতি কি পূর্ণদমে এগিয়ে যেতে পারবে! বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জমায়েত হয়ে দাবি জানাচ্ছে, অনলাইন পরীক্ষার জন্য। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষেরা ছাত্রসমাজকে প্রশ্ন করছে, কেন এই দাবি? করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসরুমে ফিরেছে। তারা প্রায় ১.৫-২.৫ মাস (কলেজ ভিত্তিক) অফলাইন ক্লাস করেছে। কোনো কোনো কলেজে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ছাত্র-ছাত্রীদের। পূর্বে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে হঠাৎ তাদের জানিয়ে দেওয়া হল, 'তোমাদের অফলাইন এক্সাম!'। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পরীক্ষায় যা পাঠ্যসূচি থাকে তা শেষ করার নির্ধারিত সময় ছয় মাস। স্বাভাবিকভাবেই ছয় মাসের পাঠ্যসূচি দুই মাসে সম্পন্ন করা অসম্ভব। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন প্র্যাকটিক্যাল অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। ছোটবেলায় এক শিক্ষক বলেছিলেন, "শিক্ষার মাহাত্ম্য তখনই প্রকাশ পাবে, যখন তুমি সেটি আত্ম উপলব্ধি করতে পারবে" ; উপলব্ধি তো দূরে থাক, দুই মাসে তা মগজে প্রবেশ করানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। তবে রোবটের এসব বালাই নেই; রোবট প্রদত্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারে, তার মধ্যে ভাবনার উদয় ঘটে না। দীর্ঘ দুই বছর কলেজ পড়ুয়ারা অনলাইন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে। সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার সাথে তারাও ফের কলেজমুখী হয়। মোবাইল-গ্যাজেট থেকে বেরিয়ে, তারাও চায় শিক্ষাকক্ষ থেকে শিক্ষার প্রকৃত আনন্দ গ্রহণ করতে। কিন্তু পূর্বে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেন অফলাইন পরীক্ষা হবে। একটি গাছের পরিবেশ পরিবর্তন করলে, সেই গাছটি'ও মারা যায়। গাছটির সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। এরপরেও সমাজের কিছু স্তরের মানুষ ছাত্র-ছাত্রীদের বলবে, পড়াশোনা শিকিয়ে তুলে এসে ছাত্ররা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে! তারা অনলাইন পরীক্ষা দিয়ে মজা পেয়ে গেছে! 'সমাজে ছাত্র-ছাত্রীরা ভিলেন'– একটি ঘরে কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের দের ঢুকিয়ে, ঘরটি অন্ধকার করে দেওয়া হল। তারপর বলা হলো, "তোমরা হাঁটো!" ; হাঁটতে গিয়ে বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীরা হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। কিছু মানুষ ঘোষণা করে দিল, সেই ছাত্র-ছাত্রীরা হাঁটতে পারে না। ছাত্র-ছাত্রীরা অশিক্ষিত নয়। তারা নিজ নিজ যোগ্যতায় জীবন সংগ্রামের পথ অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। তারা অফলাইন পরীক্ষার বিরোধী নয়। তাদের দাবি, উপযুক্ত সময়। তাদের দাবী ন্যায্য । কিন্তু, আজ সেই দাবিতে তারা অপরাধী।
–Bishan