26/07/2026
৬৫ তম" সুব্রত কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬"
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রানার্স-আপ রামকৃষ্ণ মিশন বয়েজ হোম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রহড়া
ভারতের স্কুল-স্তরের ফুটবলের ইতিহাসে *সুব্রত মুখার্জি কাপ আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা* এক গৌরবময় নাম। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের অসংখ্য প্রতিভাবান ফুটবলারকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গে lপশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ** এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতা সুবিন্যস্তভাবে আয়োজিত হয়।
প্রতিযোগিতাটি চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়— **সাব-ডিভিশন, জেলা, রাজ্য এবং অল ইন্ডিয়া পর্যায়**। রাজ্য পর্যায়ে সফল দলগুলি দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সেরা স্কুল দলের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ লাভ করে। জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব ঐতিহ্যগতভাবে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়।
এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে *৬৫তম সুব্রত মুখার্জি কাপ* যেখানে *অনূর্ধ্ব-১৫ (জুনিয়র)* এবং *অনূর্ধ্ব-১৭ (সিনিয়র)*—এই দুটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রতিযোগিতা
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল জেলা **উত্তর ২৪ পরগনা**। এই জেলার প্রতিযোগিতা পাঁচটি সাব-ডিভিশনে অনুষ্ঠিত হয়—
* ব্যারাকপুর
* বারাসাত
* বসিরহাট
* বনগাঁ
* বিধাননগর
প্রতিটি সাব-ডিভিশনের অসংখ্য বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে নিজেদের সেরার প্রমাণ দিতে মাঠে নামে। কয়েক দফা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে প্রতিটি সাব-ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন দল জেলা পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
ব্যারাকপুর সাব-ডিভিশনে রামকৃষ্ণ মিশন রহড়ার দুর্দান্ত সাফল্য
এবার ব্যারাকপুর সাব-ডিভিশনে—
*সিনিয়র বিভাগে ২৭টি বিদ্যালয়*
*জুনিয়র বিভাগে ১৭টি বিদ্যালয়*
অংশগ্রহণ করে।
এই কঠিন প্রতিযোগিতায় অসাধারণ দলগত সমন্বয়, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং মনোমুগ্ধকর ফুটবল নৈপুণ্য প্রদর্শন করে **রামকৃষ্ণ মিশন বয়েজ হোম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রহড়া**।
গর্বের বিষয়, **জুনিয়র ও সিনিয়র—উভয় বিভাগেই আমাদের বিদ্যালয় ব্যারাকপুর সাব-ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করে** এবং জেলা পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা লাভ করে।
জেলা পর্যায়ে বানীপুরে লড়াই
জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় **বানীপুর ড. বি. আর. আম্বেদকর স্পোর্টস স্কুল** প্রাঙ্গণে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পাঁচটি সাব-ডিভিশনের সেরা দলগুলি সেখানে অংশগ্রহণ করে।
পুরো প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক পর্যায়ে—
*জুনিয়র বিভাগে ১০০-রও বেশি বিদ্যালয়*
*সিনিয়র বিভাগে ১২০-রও বেশি বিদ্যালয়*
অংশগ্রহণ করেছিল। এত বিপুল সংখ্যক বিদ্যালয়ের মধ্যে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে জেলা পর্যায়ের ফাইনালে পৌঁছানো নিঃসন্দেহে এক অসাধারণ কৃতিত্ব।
প্রথম অংশগ্রহণেই ইতিহাস
আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য এ বছরের সুব্রত মুখার্জি কাপ ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। **প্রথমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেই** রামকৃষ্ণ মিশন বয়েজ হোম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রহড়া এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
* 🥈 **অনূর্ধ্ব-১৫ (জুনিয়র) বিভাগে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রানার্স-আপ**
* 🥈 **অনূর্ধ্ব-১৭ (সিনিয়র) বিভাগে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রানার্স-আপ**
অর্থাৎ একই বছরে জুনিয়র ও সিনিয়র—উভয় বিভাগেই জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বিদ্যালয় এক বিরল সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে।
এই অর্জন কেবল একটি ট্রফি বা পদকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিরলস পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, দলগত ঐক্য এবং খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার উজ্জ্বল প্রতিফলন।
এই সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, ক্রীড়া শিক্ষক, প্রশিক্ষক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিরন্তর উৎসাহ ও সহযোগিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও ছাত্রদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আজ এই গৌরবময় সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
আজকের এই সাফল্য আগামী দিনের আরও বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। আমাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে রামকৃষ্ণ মিশন বয়েজ হোম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রহড়া শুধু জেলা বা রাজ্য নয়, **অল ইন্ডিয়া স্তরেও** নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবে।
সমস্ত খেলোয়াড়, ক্রীড়া প্রশিক্ষক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।