Centre for International Relations Studies & Research,Kharagpur

Centre for International Relations Studies & Research,Kharagpur Centre for International Relations Studies and Research, is an academic and research Institute, cons

Centre for International Relations Studies and Research, is an academic and research Institute, constituted for dissemination of information and knowledge on International Relations, based on political and economical History of the World among the Students, Researchers, Academicians and other interested in this field. All are welcome to offer their views, comments on current political and economic

affairs of the world and share with the co-contributors through the Facebook or Twitter like social media, for research purposes.

আমেরিকার ৪৭ তম রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হবেন ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় যে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল তা বা...
07/11/2024

আমেরিকার ৪৭ তম রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হবেন ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় যে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল তা বাস্তবে মিলে গেছে। রিপাবলিকান পার্টির পদপ্রার্থী এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৭৭টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে নির্বাচনে তার জয় সুনিশ্চিত করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র নেতারা ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্রাম্পের জয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন আগামী দিনে ভারত ও আমেরিকার বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুটি দেশ বিশ্বে শান্তি ও প্রগতি আনতে যৌথ ভাবে সচেষ্ট হবে। ট্রাম্পের জয়ে ভারতীয়দের একটা বড় অংশ উচ্ছসিত হলেও কূটনৈতিক মহল মনে করেন ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা কিন্তু সব সময় নির্ভরযোগ্য নয়। বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মনে করেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতিতে সদর্থক ভূমিকা নেবেন। ভারত -আমেরিকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক এমনিতেই যথেষ্ট দৃঢ়। রাষ্ট্রপতি পদে কে আসবেন তার উপর এই সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করে না। ভারতের সাথে আমেরিকার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ধারা উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী দিনেও অক্ষুন্ন থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
একথা সত্য যে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি পদে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ায় আগামী দিনে ভারত -আমেরিকার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে। তা সে বেআইনি অনুপ্রবেশ হোক বা সন্ত্রাসবাদ হোক বা বানিজ্য সম্পর্কিত বিষয় হোক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ সখ্যতাও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে সহায়ক হবে। দীপাবলি উৎসব উপলক্ষ্যে ট্রাম্প তার শুভেচ্ছা বার্তায় হিন্দু- আমেরিকান সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় তার উদ্যোগী হবার কথা ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয় যে সমস্ত হিন্দু সম্প্রদায় বিরোধী অতিবাম ও ধর্মবিরোধী শক্তি হিন্দু- আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হবেন বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি যে নির্মম অত্যাচার হচ্ছে তার কঠোর নিন্দা করেছেন। এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পেছনে আমেরিকাবাসী ভারতীয়দের মূল্যবান অবদান আছে বলে মনে করা হয়।
বাইডেন প্রশাসনের কার্যকালে ভারত-আমেরিকার সম্পর্কে বহু জটিলতার সৃষ্টি হয়। বাইডেন -হ্যারিস যৌথ নেতৃত্ব ভারতের স্বার্থের ব্যাপারে উদাসীনতা দেখিয়েছেন। আপাতভাবে দুই দেশের সম্পর্কে বাহ্যিক কোন পরিবর্তন না থাকলেও আমেরিকার প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার কার্যকলাপের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের শীতলতা দেখা যায়। যেমন আমেরিকা পান্নুন হত্যা প্রচেষ্টায় ভারতকে জড়িয়ে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করেছে। এছাড়াও ভারত-রাশিয়া ব্যবসায়িক সম্পর্ক, চীন -ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ব্যাপারে আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি সমালোচনামূলক ছিল। আমেরিকার হিউম্যান রাইটস সংগঠনগুলি অযথা ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা চালিয়েছে এবং বিভিন্ন ভাবে ভারতকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছে। বাইডেন প্রশাসনের পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া এধরনের কাজ করা সম্ভব নয়। অনেকে মনে করেন পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পর ভারতেও অস্থিরতা তৈরির একটা চেষ্টা শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। বাইডেন প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ভারতকে নানারকম চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু ভারতের শক্তিশালী গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব সমস্ত ধরনের ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
নমুরা নামের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা তাদের রিপোর্টে বলেছেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি পদে ট্রাম্পের পুনরাভিষেক হলে আমেরিকার সাথে এশিয়া মহাদেশের সম্পর্কে এক ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। তা সে অর্থনৈতিক কারণে হোক বা ভূরাজনৈতিক কারণের জন্য হোক। ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতি সময়কালে আমেরিকার সাথে চীনের বানিজ্য যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। যার রেশ আজও বর্তমান। চীনের আগ্রাসী অর্থনীতি রুখতে ট্রাম্প অনমনীয় মনোভাব নিয়েছিলেন। বর্তমান সময়েও ট্রাম্প চীনকে যথেষ্ট স্বস্তিতে থাকতে দেবে বলে মনে হয়না।
ট্রাম্পের আমলে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রতিরক্ষা এবং বানিজ্যের ক্ষেত্রে গভীর সংযোগ গড়ে ওঠে। বাইডেনের আমলে সেই সম্পর্কের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছিল। আগামী দিনে এই সম্পর্ক পুনরায় গতি প্রাপ্ত হবে বলে মনে করা হয়।
চীনের সামরিক শক্তির ক্রমবর্ধমান বিকাশকে আমেরিকা কোনো দিনই ভালো চোখে দেখেনি। চীনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে আগামী দিনে আমেরিকার সুপার পাওয়ার তকমা অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও চীন আমেরিকার সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। সুতরাং ভারত- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের দাদাগিরি রুখতে ভারতের মতো উদীয়মান একটি স্ট্র্যাটেজিক শক্তির সাথে জোট গড়া আমেরিকার স্বার্থের জন্য জরুরি। ভারতের বিশাল বাজার এবং বিপুল জনসংখ্যা আমেরিকার স্বার্থ পূরণে সক্ষম। ভারতকেও মনে রাখতে হবে বানিজ্য এবং অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমেরিকার সাথে টানা পোড়েন চলতে পারে। কোন কারণেই ট্রাম্প আমেরিকার বানিজ্য স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্য কোনো দেশের সাথে বন্ধুত্ব করতে যাবে না। আমেরিকার অভিবাসন নীতি কঠোর হলে ভারতীয়দের ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকার সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও ভারতের ভূরাজনৈতিক অভিনবত্ব আমেরিকার বৃহত্তর স্বার্থের জন্য জরুরি। সেক্ষেত্রে কে বা কোন দল নির্বাচনে জয়ী হলো তা কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়ায় না। সুতরাং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আমরা আশা করতে পারি ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা এবং নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের বাঁধন আরও দৃঢ় করতে সক্ষম হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধ বন্ধ করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হবে।

আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে লগ্নে এসে পৌঁছেছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর জানা যাবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে ...
04/11/2024

আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে লগ্নে এসে পৌঁছেছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর জানা যাবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি কমলা হ্যারিস । আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এই প্রথম দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। দুই জনের ভাগ্যই সুতোর উপর ঝুলছে। তবে ভোট বিশেষজ্ঞদের ধারণা শেষ পর্যন্ত হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পই শেষ হাসি হাসবেন। ট্রাম্পের জয় শুধু মাত্র সময়ের অপেক্ষা। কমলা হ্যারিস এর জয়ের পথে কাঁটা বিছাতে পারে বাইডেন প্রশাসনের আর্থিক নীতি সমূহ। মার্কিন জনসাধারণ মনে করেন আমেরিকার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাইডেন প্রশাসন আক্ষরিক অর্থে ব্যর্থ। কমলা হ্যারিস বাইডেন ঘরানার শিল্পী। সুতরাং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তিনি কোন নতুন পথ দেখাতে পারবেন না। কিন্তু ট্রাম্প একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এবং দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা আছে। সাধারণ মানুষ মনে করেন ট্রাম্প আমেরিকার অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। তার মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি আছে। এবং তিনি ঝুঁকি নেবার সাহস রাখেন। যদি ট্রাম্প নির্বাচনে জেতেন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে, সোনার দামে উর্দ্ধগতি দেখা যাবে। কাঁচা তেলের মূল্য হ্রাস হবে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের ধারণা ট্রাম্পের জয় আমেরিকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করবে। এর ফলে ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ভারতে বিশাল বাজার বর্তমান। বিপুল দেশীয় চাহিদার কারণে ভারতে মার্কিন লগ্নির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এইসব কারণে ভারতীয়দের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ট্রাম্পকে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি পদে আসীন দেখতে চান।
সি এন এন এর প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। মানুষের মন জয়ে ট্রাম্পের তুরুপের তাস হল তার অভিবাসণ নীতি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্পষ্ট মতামত।এই তিনটি ক্ষেত্রেই তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসকে অনেকটা পেছনে ঠেলে দিয়েছেন। অনেকে মনে করেন কমলা হ্যারিসের নেতৃত্বে আমেরিকার গনতন্ত্র সুরক্ষিত থাকবে। তবে একথার তেমন কোন ভিত্তি নেই। কারণ আমেরিকায় নির্বাচন সব দিন স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকে। আমাদের দেশে যেমন নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কারচুপির অভিযোগ উঠে থাকে, আমেরিকায় এ ধরনের কোন অভিযোগ আমেরিকার অতি বড় শত্রুও করে না।
ট্রাম্পের প্রতি আমেরিকার একটি বড় অংশের মানুষের মোহের কারণ তার চিন্তা ভাবনা এবং কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত সহজ সরল এবং স্পষ্ট। যে কোন জটিল সমস্যার সমাধানে তার তাৎক্ষণিক এবং স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আমেরিকানরা পছন্দ করেন। তা সে অভিবাসন সম্পর্কিত বিষয় হোক বা চীনের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক হোক। এর আগের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে মানুষ তার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা দেখেছেন। ন্যাটোর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তার বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি ন্যাটোর বিস্তারের পরিপন্থী। ট্রাম্প ইউরোপে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে। ট্রাম্পের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল মন্ত্র হলো "আমেরিকা ফার্ষ্ট"। আমেরিকা এবং আমেরিকা বাসীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই নীতি সাধারণ আমেরিকার মানুষের মধ্যে তার প্রতি আস্থা গড়ে তুলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে বৃহত্তর আমেরিকার সমাজ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন আমেরিকায় বেআইনি অনুপ্রবেশকারী সমস্ত বিদেশীদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে হবে। তার ধারনায় এইসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আমেরিকার সমাজ, রাজনীতি , অর্থনীতিকে কলুষিত করছে। পরিসংখ্যানও বলছে আমেরিকায় ঘটা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজকর্মের সাথে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের যোগ রয়েছে। কমলা হ্যারিস গর্ভপাত কে আইনী তকমা দেবার দাবি নিয়ে নির্বাচনে প্রচার করছেন। তিনি দাবি করেছেন ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে গর্ভপাত বেআইনি করা হবে। তবে এ বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে কোন বিশেষ প্রভাব ফেলেনি। আমেরিকার মহিলাদের একটা বড় অংশ ট্রাম্পের জনসভায় ভিড় করছেন। বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে সম্পর্কে হ্যারিসের বক্তব্যে কোন দিশা দেখা যায় নি।
বিগত কয়েক মাস যাবৎ নির্বাচন নিয়ে আমেরিকায় যে সমস্ত বিতর্ক সভা হয়েছে তাতে কমলা হ্যারিসের জনসমর্থন কোথাও কোথাও ট্রাম্পের জনসভাকে ছাড়িয়ে গেলেও, নির্বাচনের ঠিক মুখে ট্রাম্পের জন সমর্থনে নতুন জোয়ার দেখা যাচ্ছে। প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় কমলা হ্যারিস অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও ট্রাম্পের জয় সম্পর্কে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মোটামুটি নিশ্চিত। আর কয়েক ঘণ্টা পর জানা যাবে আমেরিকার পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন।

আর ৪৮ ঘন্টা পর জানা যাবে আমেরিকার ৪৭ তম রাষ্ট্রপতি পদে কে আসীন হতে চলেছেন। গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে আমেরিকার পরবর্তী রাষ্ট...
03/11/2024

আর ৪৮ ঘন্টা পর জানা যাবে আমেরিকার ৪৭ তম রাষ্ট্রপতি পদে কে আসীন হতে চলেছেন। গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে আমেরিকার পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম জানার অপেক্ষায়। কারণ পৃথিবীর দুই প্রান্তে চলা দুটি ভয়ঙ্কর যুদ্ধের ভবিষ্যত অনেকটাই নির্ভর করছে আমেরিকার পরবর্তী রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের উপর। ভোট যুদ্ধের ময়দানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। একজনের নাম কমলা দেবী হ্যারিস, যিনি আদতে ভারতীয় বংশোদ্ভুত। বর্তমানে আমেরিকার উপরাষ্ট্রপতি এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী। অপর জনের নাম ডোনাল্ড জন ট্রাম্প, আমেরিকার পূর্বতন রাষ্ট্রপতি এবং রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী। যিনি বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকতে ভালোবাসেন। তার প্রথম দফার কার্যকালের মধ্যেই তিনি দুই দুইবার ইমপিচমেন্টের হাত থেকে বেঁচেছেন। ভোটযুদ্ধে জেতার জন্য সব ধরনের ফন্দি ফিকিরে সিদ্ধহস্ত।
শীত যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে সব চাইতে কঠিন সময়ে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। যে বিশেষ কারণের জন্য এই নির্বাচন এতো গুরুত্ব পেয়েছে তা হল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে আচরণ এবং চিন্তাধারায় বিস্তর ব্যবধান বর্তমান। আগামী সপ্তাহে যিনি আমেরিকার পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন তার বিদেশনীতি কিভাবে পরিচালিত হবে তার উপর নির্ভর করছে গোটা বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। রাশিয়া -ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি টানা হবে কিনা অথবা সংঘর্ষ আরও তীব্রতর হবে কিনা তা জানা যাবে। একই ভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ইস্রায়েল-হামাস যুদ্ধ, যা এতদিন আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল ধীরে ধীরে এখন তার বিস্তার ঘটে চলেছে। সেই সংঘর্ষ সংশ্লিষ্ট দুটি দেশ ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও প্রবেশ করছে। প্রায় দুবছর অতিক্রান্ত হতে চলল যুদ্ধ থামার কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। আরব দেশগুলির বেশীরভাগ চাইছে ইহুদী রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করতে। পক্ষান্তরে ইস্রায়েলের উদ্দেশ্য হল জঙ্গী মুক্ত একটি ইহুদী দেশ স্থাপন। ইস্রায়েলের উপর বারবার জঙ্গী হানা ঘটে চলেছে। এর পেছনে রয়েছে হামাস সহ বিভিন্ন জঙ্গী গোষ্ঠীর হাত। ইসরায়েলী হানায় গাজা এবং লেবাননের জঙ্গী গোষ্ঠীগুলি ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়েছে। বহু সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সেই সাথে ওইসব অঞ্চলের বহু নিরীহ মানুষও মারা গিয়েছেন। বহু সম্পত্তির ধ্বংস হয়েছে।
বিশ্বে এখনও সুপার পাওয়ার বলতে বোঝায় আমেরিকাকে । সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী আর কেউ নেই। আর্থিক ক্ষেত্র হোক বা সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে হোক আমেরিকার সমতুল্য আর কোনো শক্তি এখনও গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে সামরিক শক্তিতে বলীয়ান আমেরিকা গোটা বিশ্বে একাধিপত্য কায়েম করেছে। ইদানিং কালে অবশ্য রাশিয়া এবং চীন আমেরিকার দাদাগিরির সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপে ইউক্রেন -রাশিয়ার যুদ্ধ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। দুটি দেশই চরম ক্ষতিগ্রস্ত। কেউ কাউকে রেয়াত করছে না। আমেরিকা এবং পশ্চিমী দেশগুলির সামরিক এবং আর্থিক সাহায্যের উপর নির্ভর করে ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বস্তুতঃ এই লড়াই হল ইউক্রেনের নেপথ্যে ন্যাটো জোটের সাথে রাশিয়ার লড়াই । ন্যাটোর উদ্দেশ্য যুদ্ধের মাধ্যমে রাশিয়াকে হীনবল করা যাতে ভবিষ্যতে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে না পারে। আর রাশিয়ার উদ্দেশ্য রাশিয়ার সীমানা থেকে ন্যাটোকে দূরে সরিয়ে রাখা। যাতে রাশিয়ার নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।
কমলা হ্যারিস রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাইডেন প্রশাসনের নীতির সমর্থক। অর্থাৎ ইউরোপে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে ইউক্রেনকে সাহায্য ও সমর্থন করে যাওয়া। হ্যারিস ইউক্রেন রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মদত দেবার কথা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু ন্যাটোতে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে নিরব থেকেছেন। বাইডেন প্রশাসনও এই মুহূর্তে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়ার পক্ষপাতি নয়।
অপর দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন -রাশিয়ার যুদ্ধে ইউক্রেনকে আমেরিকার সাহায্য দানের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি চান অবিলম্বে ইউরোপে যুদ্ধ বন্ধ হোক। যুদ্ধের তিন বছর অতিক্রান্ত হতে চলল এবং যুদ্ধ যে কোনো সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।যে কোন সময়ে ভয়ঙ্কর অঘটন ঘটে যেতে পারে। ট্রাম্প এই যুদ্ধ থেকে আমেরিকাকে বিচ্ছিন্ন করার কথা জানিয়েছেন। তিনি যুদ্ধরত দুই পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে আনতে চান। তার উদ্দেশ্য চাপ দিয়ে উভয় পক্ষকে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধেও আমেরিকার পরবর্তী রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। ইসরাইলের সেনাবাহিনীর গাজা ও লেবাননের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে আমেরিকার সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখছেন না। যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ আশ্রয়হীন। বোমাবর্ষণের ফলে বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে। হামাস এবং হিজবুল্লাহর জঙ্গী কার্যকলাপের বিরোধীতা করলেও আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পক্ষে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর জন্য উভয় পক্ষকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হল যুদ্ধরত কোন দেশই আমেরিকার শান্তি প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করছে না।
ট্রাম্প এর সাথে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক বরাবরই ভালো। বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রথম রাষ্ট্রপতি সময়কালে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন বাইডেন রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন তখন নেতানিয়াহুর আনুগত্য বাইডেনের প্রতি আকর্ষিত হয়। বিষয়টিকে ট্রাম্প ভালো চোখে দেখেননি। ট্রাম্প যদি আবার ক্ষমতায় চলে আসেন তবে আমেরিকা -ইসরায়েল সম্পর্ক কোন খাতে বইবে তা একমাত্র ভবিষ্যত ই বলতে পারবে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কমলা হ্যারিসের অবস্থান বাইডেন প্রশাসনের অবস্থানকেই সমর্থন করবে সেরকমই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে গাজা ও লেবাননের নিরীহ মানুষদের কষ্ট লাঘবের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় মানবিক উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
একথা অনস্বীকার্য যে ট্রাম্প বা হ্যারিস যিনিই রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হোন না কেন উভয়েই গাজা যুদ্ধের পরিসমাপ্তি চান। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষে ইতি টানতে দুজনেই সমান আগ্রহী। যুদ্ধ যাতে আরও বিস্তার লাভ না করে সেদিকে উভয়েরই নজর থাকবে বলে আশা করা যায়। যুদ্ধের বিস্তৃতি ঘটলে আমেরিকা যে তাতে জড়িয়ে পড়বে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আমেরিকা এবং তার সহযোগী দেশগুলি সামরিক শক্তিতে যতই বলীয়ান হোকনা কেন রাশিয়া- চীন -উত্তর কোরিয়ার নতুন গড়ে ওঠা অক্ষ শক্তিকে অবজ্ঞা করার মতো দুঃসাহস আমেরিকা বা পশ্চিমী দেশগুলির নেই তা বলাই বাহুল্য। যুদ্ধের বিস্তৃতি ঘটলে আমেরিকাকে কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। দুই বা ততোধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সহজ কথা নয় বিশেষ করে রাশিয়া বা চীনের মতো মহাশক্তিধর রাষ্ট্রের যখন সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বের এই কঠিন সন্ধিক্ষণে আমেরিকার পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নির্বাচন হতে চলেছে । রাজমুকুট কার মাথায় পরানো হবে ডোনাল্ড জন ট্রাম্প নাকি কমলা দেবী হ্যারিস তা জানা যাবে আর কয়েক ঘণ্টা পর।

ভারতের মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার প্রবণতা বেড়ে চলেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও ...
01/11/2024

ভারতের মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার প্রবণতা বেড়ে চলেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ আছে। স্তন ক্যান্সার ভারতে কি রকম ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে তা একটা ছোট্ট পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বুঝতে পারা যাবে । প্রতি বছর ভারতে প্রায় দুই লক্ষ মহিলা নতুন করে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। তার মধ্যে একলক্ষ মহিলার মৃত্যু ঘটছে। অর্থাৎ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রতি দুইজন মহিলার মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটছে। সুতরাং স্তন ক্যান্সারকে কখনোই হাল্কা ভাবে দেখা উচিত নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সার সম্পর্কে অজ্ঞতা, সামাজিক কলঙ্কের ভয়, জড়তা ইত্যাদি কারণে মহিলারা রোগটিকে গোপন করে যান। যখন তারা ডাক্তারের কাছে আসেন তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। রোগটি তখন তৃতীয় বা চতুর্থ স্তরে উন্নীত হয়ে যায়। রোগাক্রান্ত জায়গা ছেড়ে ক্যান্সার তখন রক্তবাহ এবং লসিকাবাহের মাধ্যমে গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং বিভাগীয় প্রধান, বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ সৈকত শীট স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে আলোচনা করার সময় বলেন শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঘটনা বেশি দেখা যায়। স্তনে কোন অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে অর্থাৎ স্তনের কোন অংশে লাম্প বা টিউমার তৈরি হলে(শক্ত গুটলি আকার অনুভব হলে) বা স্তনবৃন্ত থেকে বিজাতীয় তরল নিঃসরণ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই লক্ষনগুলি অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
যেকোনো বয়সের মহিলা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু বেশি বয়সের মহিলাদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঘটনা বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে পারিবারিক ইতিহাসের সংযোগ আমরা দেখতে পাই। চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাদের অন্ততঃ বছরে একবার ম্যামোগ্রাম পরীক্ষা করাটা খুবই জরুরি। ম্যামোগ্রাম হল এক ধরনের এক্স রে, যা স্তনের কলা কোষের গঠন এবং সেই কলা কোষের ভেতরে কোন রকম অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটছে কিনা তা দেখা হয়। যদি রিপোর্টে কোন সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা আক্রান্ত স্থানের কলা কোষের বায়োপ্সি করার নির্দেশ দেন।
ডাঃ সৈকত শীট স্তন ক্যান্সারের বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন যে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসার অনেক উপায় উদ্ভাবিত হয়েছে। যত দ্রুত রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হবে তত দ্রুত আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা। চিকিৎসা কি রকম হবে তা নির্ভর করবে রোগের ধরণ এবং রোগটি কোন পর্যায়ে আছে তার উপর । প্রধানতঃ পাঁচটি প্রক্রিয়ায় ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা হয়ে থাকে। যথা রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং সার্জারি। সার্জারির ক্ষেত্রে ল্যামপেকটমি পদ্ধতিতে শুধুমাত্র আক্রান্ত লাম্প বা টিউমার কেটে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু রোগ যদি বেশি জটিল আকার ধারণ করে তবে গোটা স্তন কেটে বাদ দিতে হতে পারে। এই পদ্ধতিটি ম্যাসটেকটমি পদ্ধতি নামে পরিচিত।
আমাদের দেশে চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কতকগুলি বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া আবশ্যিক। ডাঃ শীট বলেন সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্যান্সার সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। জীবনযাত্রার মানে যাতে কোন রকম প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় যেমন পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাদ্য থাকা দরকার । তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মদ্যপান নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করাটা খুবই জরুরি।
ক্যান্সারের সাথে লড়াই করতে হলে সবার প্রথমে দরকার রোগটি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক কিছু নজরে এলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। রোগটির রিস্ক ফ্যাক্টর সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এটাও লক্ষ্য রাখা দরকার যেন অহেতুক ক্যান্সারভীতি আমাদের গ্রাস না করে। রোগ যদি চিন্হিত হয় তবে কালবিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
ক্যান্সার মারণ রোগ হলেও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে তা এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। সুতরাং স্তন ক্যান্সার নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবার কারণ নেই। অন্য দশটি রোগের মতো এই রোগটির ও নিরাময় সম্ভব।

খালিস্তান আন্দোলনের সমর্থক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে ভারত ও কানাডার মধ্যে সম্পর...
20/10/2024

খালিস্তান আন্দোলনের সমর্থক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে ভারত ও কানাডার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও জটিল হয়ে পড়েছে। কানাডা প্রথম থেকেই একতরফা ভারত বিরোধী অবস্থান নিলেও ভারত প্রতিক্রিয়া জানাতে যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছিল। গত একবছর ধরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের সাথে ভারতের যুক্ত থাকার অভিযোগ করে আসছেন। ভারত অভিযোগের সমর্থনে তথ্য প্রমাণ দেবার জন্য কানাডাকে অনুরোধ জানায়। ভারতের বিদেশ দপ্তর একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে কানাডা এখনও পর্যন্ত তাদের অভিযোগের সমর্থনে কোন প্রমাণ ভারত সরকারকে দেয়নি। অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত আছে। অহেতুক ভারত বিরোধী অবস্থান নেবার জন্য নিজের দলের মধ্যেও ট্রুডো সমস্যায় রয়েছেন। চাপের মুখে ট্রুডো তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। এখন তিনি বলছেন খুনের ঘটনায় ভারতীয় কূটনীতিকদের যুক্ত থাকার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে আছে। কিন্তু কোন পোক্ত প্রমাণ তাদের হাতে নেই। ট্রুডোর এই স্বীকারোক্তিকে ভারত হাতিয়ার করে ট্রুডোর সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে ট্রুডোর অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্য ও অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিক্ততার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং এর জন্য ট্রুডো নিজে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী। শিখ ভোটব্যাঙ্ক এর স্বার্থ রক্ষার তাগিদে ট্রুডো বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে ক্রমাগত প্রশ্রয় দিয়ে এসেছেন। কানাডা গত একবছর ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে অনৈতিক অভিযোগ করে আসছে। কানাডা হাইকমিশন দপ্তরে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের নাম এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জুড়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতে খালিস্তানী আন্দোলনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সমর্থকদের কানাডায় আশ্রয় দিয়ে কানাডাকে ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের একটি অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ভারত এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতে গুরুতর অপরাধের সাথে যুক্ত বেশ কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা এবং সাধারণ অপরাধী কানাডায় অবস্থান করছে। ভারত ওই সমস্ত অপরাধীদের ভারতে প্রত্যার্পণের দাবি জানালেও কানাডা সরকার সে বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি ।
ভারতকে আন্তর্জাতিক মহলে হেয় করতে ট্রুডো অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। "ফাইভ আইস" নামক একটি সংস্থার সদস্য হিসেবে কানাডা নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ওই সংস্থার অন্যান্য সদস্য দেশগুলি যথা আমেরিকা , অষ্ট্রেলিয়া, ব্রিটেনকে ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমেরিকা কানাডার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ষ্ট্র্যাটেজিক পার্টনার। কিছুদিন আগে আমেরিকার নাগরিক গুরপতায়ন্ত সিং পান্নুর ওপর একটি প্রাণঘাতী হামলা হয়। পান্নু প্রাণে বেঁচে যান। আমেরিকা এই ঘটনার পেছনে ভারতের এজেন্টের হাত থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছে। এখন আমেরিকা এবং কানাডা উভয়েই ভারতকে এই সব ঘটনার তদন্তে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে। ভারত তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে তবে সেই সাথে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ পেশ করার কথাও জানিয়েছে। "ফাইভ আইস" সংগঠনের দেশগুলিতে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের জনসংখ্যা যথেষ্ট বেশী এবং ওইসব দেশের রাজনীতিতেও তাদের যথেষ্ট প্রভাব বিদ্যমান। সুতরাং ট্রুডো নিজের দেশের শিখ ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করতে ভারত বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে এবং তার মিত্র দেশগুলিকেও ভারতকে চাপে রাখতে তাদের প্ররোচিত করছে।
ট্রুডোর এই ভারত বিরোধিতা নতুন কিছু নয়। ২০১৮ সালে ভারত সফর কালেও ভারতে বসে খালিস্তানী আন্দোলনের নেতাদের সাথে যোগাযোগ গড়ার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। খালিস্তানী আন্দোলন ভারতে নিষিদ্ধ। এসব জানা সত্ত্বেও তার এই আচরণকে ভারত ভালো চোখে দেখেনি। এরপর ২০২০ সালে যখন ভারতে কৃষি আন্দোলনের নামে অরাজকতার সৃষ্টি হয়েছিল সে সময়েও তিনি কৃষি আন্দোলনের সমর্থনে বক্তব্য রেখে ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। ভারত সেই সময়েও প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পশ্চিমী দেশগুলির সাথে কানাডার খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাই কানাডার এই বেপরোয়া আচরণকে তারা সংযত করার চেষ্টা তো করেনই নি বরং ভারতকে চাপে রাখতে প্রচ্ছন্নভাবে উৎসাহিত করেছে।
ভারতের প্রতি কানাডার এই বিরুপ আচরনের নেপথ্যে রয়েছে কানাডার রাজনীতিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির প্রভাব। কানাডার রাজনীতিতে শিখ জনগোষ্ঠীর প্রভাব বর্তমান। আর কানাডার শিখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ওই বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এইসব বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি কানাডার অভ্যন্তরে ভারত বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত। কানাডার অর্থনৈতিক উন্নয়নে যেমন শিখদের অবদান আছে তেমনি ওই দেশের রাজনীতিতেও শিখ জনগোষ্ঠীর প্রভাব বিদ্যমান। এই শিখ জনগোষ্ঠীর ভোট ট্রুডোকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রভুত সাহায্য করেছে। এইসব কারণে ট্রুডোর সরকার শিখদের স্বার্থের প্রতি অতি মাত্রায় যত্নশীল।
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ট্রুডোকে তার ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে এই শিখ জনগোষ্ঠীর নিরঙ্কুশ সমর্থন দরকার। ইতিমধ্যে টানা দুটি পর্যায়ে ক্ষমতায় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া জোরদার হয়েছে। বহুক্ষেত্রে তার প্রশাসনিক ব্যর্থতা দেশের অভ্যন্তরে তার জনপ্রিয়তাকে ঘাটতির দিকে নিয়ে গেছে। আর এক বছর বাদে কানাডায় সাধারণ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে তার লিবারেল পার্টি ক্ষমতায় আসবে কিনা সে বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার দলের সংসদ সদস্যরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তাকে পদত্যাগের জন্য চাপ দিতে শুরু করেছে। তার সরকারের জোটসঙ্গী খালিস্তানী আন্দোলনের সমর্থক নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি সম্প্রতি ট্রুডো সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নিলেও পরে ট্রুডো সরকারের ভারতবিরোধী অবস্থানকে সমর্থন করে তার সরকারের পতন রোধ করে। বর্তমানে কানাডার হাউস অব কমন্সে ৩৩৮ আসনের মধ্যে ট্রুডোর লিবারেল পার্টির সদস্য সংখ্যা মাত্র ১৫৪, যা খুবই হতাশাজনক। সামনের নভেম্বর/ডিসেম্বরে ট্রুডো কে আবার একবার আস্থা ভোটের সম্মুখীন হতে হবে। তখন বোঝা যাবে ট্রুডোর ভোটব্যাঙ্ক পলিটিক্স তাকে কতটা সাফল্য এনে দিতে পারবে।

ক্যান্সার একটি প্রাণঘাতী রোগ। ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ক্যান্সার রোগের বিস...
20/10/2024

ক্যান্সার একটি প্রাণঘাতী রোগ। ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ক্যান্সার রোগের বিস্তার এত দ্রুততার সাথে হয়ে চলেছে যে 2025 সাল নাগাদ বিশ্বের প্রতি দশ জন মানুষের মধ্যে অন্তত তিন জনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকবে। ক্যান্সার নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রবল ভীতির সঞ্চার হয়েছে। একটা ধারণা গড়ে উঠেছে যে ক্যান্সার হওয়া মানেই মৃত্যু। কিন্তু বাস্তবে তার নয়। সময়মতো যদি রোগটি ধরা পড়ে তবে আর দশটা রোগেরও মত এই রোগের নিরাময় সম্ভব।
ক্যান্সার সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গত ১৯শে অক্টোবর তারিখে মেদিনীপুর শহরের শহীদ প্রদ্যোৎ স্মৃতি ভবনে " দিশা ফর ক্যান্সার" নামের একটি সংস্থা ক্যান্সারের উপর একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভার বিষয়বস্তু ছিল "Cancer has answer". অর্থাৎ ক্যান্সার হলে ভয় পাবার কারণ নেই। আর দশটা রোগের মতো এই রোগটিও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় হওয়া সম্ভব। আলোচনা সভার মূল বক্তা ছিলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং বিভাগীয় প্রধান ডাঃ সৈকত শীট মহাশয়। ডাঃ শীট জেলার একজন খ্যাতনামা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সুন্দর প্রাঞ্জল ভাষায় তিনি ক্যান্সার রোগের প্রধান লক্ষণ এবং রোগের হাত থেকে রেহাই পেতে করণীয় বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেন। ডাঃ শীট বলেন আমাদের গড় আয়ু বেড়ে গেছে, জীবন শৈলী ধারায় পরিবর্তন এসেছে, ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, এইসব কারণে ক্যান্সারের মত দূরারোগ্য রোগও আমদের শরীরে বাসা বাঁধছে। সুতরাং এই সমস্ত অভ্যাস এবং কারনগুলি থেকে আমাদের যথাসম্ভব দূরে থাকা দরকার। তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ না করা, অতিরিক্ত মদ্যপান না করা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা ইত্যাদি বিষয়গুলিকে প্রাধান্য দেবার কথা বলেন। তিনি আরো বলেন যে প্রাথমিক পর্যায়ে যে হেতু রোগটি উপসর্গবিহীন হয় সেই হেতু শরীরে কোনো অস্বাভাবিকত্ব বা লক্ষন দেখা যায় না। যদি কখনও অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ দেখা যায় তবে অনতিবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে যে অবহেলার কারণে যদি সময় নষ্ট করা হয় তবে তার জন্য জীবন সংকট ঘটতে পারে। আর একটি বড়ো সমস্যা হলো ক্যান্সার চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি। ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ গুলি যেমন অনেক দামি তেমনি এটি সহজলভ্য ও নয়। এই কারণে শরীরে রোগটি বাসা বাঁধার আগেই তাকে নির্মূল করা দরকার। ডাঃ শীটের বক্তব্য খুবই হৃদয়গ্রাহী হয়েছিল।
আলোচনা সভায় মুখ্য অতিথি ছিলেন জেলার মুখ্য সাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্য শঙ্কর সারেঙ্গী। উপস্থিত ছিলেন শহরের খ্যাতনামা শল্যচিকিৎসক ডাঃ টি কে বিশ্বাস, ছিলেন ডাঃ অনুরাধা বিশ্বাস এবং ডাঃ এস এন ত্রিপাঠী। এনারা ছাড়াও শহরের আরও বিশিষ্ট গুনীজন আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের সকলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্যান্সার সচেতনতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্যান্সার জয়ী বেশ কয়েকজন রোগী। তাদের সকলকে সংস্থার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ঘোষনা করা হয় আগামী দিনেও তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন যাতে মানুষ ক্যান্সার নিয়ে অযথা ভীত সন্ত্রস্ত না হয়ে পড়েন এবং ক্যান্সার প্রতিরোধের যাবতীয় কর্মসূচি পালন করেন।

The Nobel prize for Economics for 2024 has been awarded to Daron Acemoglu, Simon Johnson and James Robinson for research...
18/10/2024

The Nobel prize for Economics for 2024 has been awarded to Daron Acemoglu, Simon Johnson and James Robinson for research into differences in prosperity between nations. The significance of their work is understanding why some countries are wealthy while others remain poor. The economists tried to explain how different institutional structures influenced and played for decisive roles in making prosperity. Their studies have helped us to understand differences in prosperity between nations. We occasionally face these questions: Why are some nations rich and others poor? Why do some nations fail while others succeed in achieving prosperity? We are puzzled with these questions for decades.
According to them, a good administration and set of rules control the behaviour of individuals in a society or a country. Societies with poor rules of law and institutions exploit the population, do not generate growth or change for the better. Therefore, societal institutions have a big role for a country 's prosperity.
The economists demonstrated how institutions shape economic outcomes. Strong institutions can lead to better economic performance. Conversely, weak institutions may result in stagnation or decline. They suggest that political stability and effective governance are key to development. These factors can create an environment where businesses thrive and citizens prosper.
Nobel Laureates stated that there are two types of institutions, inclusive and extractive. They are the opposite in nature. An inclusive institutional framework refers to the existence of democracy, law and order etc. On the other hand, an extractive institutional framework refers to a lack of rules of law, power is concentrated in the hands of a few persons, i.e.autocrats, dictators. These two opposite types of institutional frameworks cause different results for people in a society. By focusing on governance and institutional quality nations can foster sustainable growth. This approach offers a roadmap to prosperity for many developing countries.
Their insights regarding how institutions influence prosperity demonstrate that work to support democracy and inclusive institutions is an important criterion for the promotion of economic development.
Support for democracy is at an all time low, because democracy failed to deliver the basic requirement of the society - jobs, stability and public services. Dictators are created here because of a failed democratic system that endangers institutions. When institutions fail democracy has to be faltered.
The three economists have demonstrated the importance of societal institutions for a country 's prosperity. This is highly relevant for India also.

ভারত এবং কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবচাইতে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে চলছে। কানাডার মাটিতে শিখ সম্প্রদায়ের একজন ব...
16/10/2024

ভারত এবং কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবচাইতে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে চলছে। কানাডার মাটিতে শিখ সম্প্রদায়ের একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার খুন হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুদেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারতের হাত রয়েছে বলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ঘোষণা করেছেন। কানাডার পুলিশ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারতীয় এজেন্টরা এই ঘটনার সাথে যুক্ত। ভারতীয় এজেন্টরা খালিস্থানপন্থী আন্দোলনের সমর্থকদের টার্গেট করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজ করছেন। খালিস্থানপন্থী আন্দোলনকারীদের মূল উদ্দেশ্য হল পাঞ্জাব এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য একটি পৃথক বাসভূমি গড়ে তোলা। ইহুদীদের জন্য যেমন ইসরাইল নামক দেশ গড়ে তোলা হয়েছে তেমনি শিখদের নিয়ে খালিস্থান নামে একটি নতুন দেশ গড়ে তোলার দাবি তোলা হয়েছে। ভারত এই ধরনের পৃথক খালিস্থানী রাষ্ট্র গঠনকে সমর্থন করেনা। প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো কানাডায় বসবাসকারী বিশাল সংখ্যক শিখ সম্প্রদায়ের মানুষদের আবেগ নিয়ে রাজনীতি করছেন। ট্রুডোর দল বর্তমানে কানাডার আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যথেষ্ট কোনঠাসা অবস্থায় আছে। সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে এবং দেশের শিখ জনগোষ্ঠীর সমর্থন লাভের জন্য একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছেন।
ভারত কানাডার প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগকে হাস্যকর এবং সারবত্তাহীন বলে অভিহিত করেছে। কানাডাকে তাদের দাবির সমর্থনে উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করার অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু কানাডা সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো বলিষ্ঠ প্রমাণ সামনে আনতে পারেনি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো কানাডার সংসদে প্রকাশ্যে নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের সাথে ভারতীয় এজেন্টদের যুক্ত থাকার কথা ঘোষণা করেছেন। ট্রুডো জানিয়েছেন নিজ্জর একজন কানাডাবাসী এবং কানাডার মাটিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সুতরাং এই ঘটনার মাধ্যমে কানাডার সমপ্রভুতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে।
হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ঘোষণা করেছেন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে ভারতের হাইকমিশনার এবং ওই দপ্তরের অন্যান্য কূটনীতিকরাও যুক্ত। বিষয়টিকে ভারত ভালো ভাবে নেয়নি। প্রতিবাদ স্বরূপ কানাডায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার এবং অন্যান্য উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের দেশে ফিরে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । এমনকি কানাডায় ভিসা সংক্রান্ত সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় দিল্লীতে অবস্থিত কানাডার তত্বাবধায়ক হাইকমিশনার এবং অন্যান্য কূটনীতিকদের অবিলম্বে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের নেতা এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সাথে যুক্ত ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি দেশের সম্পর্কের অবনমনে সারা বিশ্ব হতচকিত। এই ঘটনা দুটি দেশের মধ্যে ঘটে চলা আরও অনেকগুলি সুপ্ত সমস্যাকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
হরদীপ সিং নিজ্জর খালিস্তানী আন্দোলনের একজন কট্টর সমর্থক এবং ভারতে খালিস্তান রাষ্ট্র গঠনের একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি নিজে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা। জন্মসূত্রে তিনি ভারতীয় কিন্তু পরবর্তীতে কানাডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। খালিস্তানী আন্দোলন এবং ভারতে শিখদের জন্য পৃথক বাসভূমি গঠনের বিষয়টি ভারত সমর্থন করে না। এই আন্দোলনকে এবং আন্দোলনের সাথে যুক্ত সমস্ত সংগঠন গুলিকে ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বছর জুন মাসে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় শিখ গুরুদ্বারের সামনে কয়েক জন দুষ্কৃতী নিজ্জরকে গুলি করে হত্যা করে। কানাডার পুলিশ এই ঘটনার সাথে ভারতীয় এজেন্টদের যুক্ত থাকার কথা বলেছেন। শুধু তাই নয় ভারতীয় হাইকমিশনার ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় মদত দেবার অভিযোগ আনা হয়েছে।
যেকোনো হত্যাকাণ্ড নিন্দনীয়। কিন্তু ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে নিয়ে কানাডার ট্রুডো সরকার অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে ভারত বিরোধী বক্তব্য পেশ করেছেন।২০২০ সালে যখন ভারত কৃষি আন্দোলন নিয়ে জেরবার তখনও ট্রুডো কৃষি আন্দোলনের সপক্ষে মত প্রকাশ করে ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। ভারত সরকার তার তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সাথে কানাডার শিখ জনগোষ্ঠীর এতো ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠলো কেন। মূল কারন হলো আগামী ২০২৫ সালে কানাডায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রুডোর অবস্থা ভালো নয়। এই মুহূর্তে মাত্র ৩১ শতাংশ মানুষের সমর্থন তার সাথে আছে। আগামী নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসতে হলে শিখ জনগোষ্ঠীকে তার ভীষণ ভাবে প্রয়োজন।
ভারতে খালিস্থানী আন্দোলন একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। পৃথিবীর কোন দেশই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সমর্থন করে না। সব দেশই কম বেশি এই সমস্যায় ভুগছে। সেক্ষেত্রে ট্রুডোর এই বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে ভারত ভালো ভাবে নেয়নি। অবশ্য এব্যাপারে ট্রুডোর অঙ্ক আলাদা। শিখ জনগোষ্ঠীর সমর্থন তাকে আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে সাহায্য করবে। জনসংখ্যার দিক দিয়ে ভারতের পরে কানাডাতে সব চাইতে বেশী সংখ্যক শিখ জনগোষ্ঠীর মানুষদের বসবাস। বর্তমানে কানাডায় শিখ জনগোষ্ঠীর মানুষদের সংখ্যা প্রায় আট লক্ষ। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশ। কানাডার রাজনীতিতে শিখদের প্রভাব যথেষ্ট বেশী। কানাডার হাউস অব কমন্সে ১৫ জন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব আছে। শিখ জনগোষ্ঠীর সমর্থনের কারণেই তিনি সম্প্রতি তার প্রধানমন্ত্রীত্বের সঙ্কট হতে উদ্ধার পেয়েছেন। সুতরাং শিখ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ না দেখলে তার প্রধানমন্ত্রীত্বে আবারও সঙ্কট দেখা দিতে পারে। এই কারণেই তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি এবং ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির পাশে দাঁড়িয়েছেন। শিখ জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করতে গিয়ে তিনি ভারত বিরোধিতার রাস্তায় নেমেছেন। কানাডায় শুধু শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে না। প্রায় সম সংখ্যক অশিখ জনগোষ্ঠীর মানুষও কানাডার নাগরিক। শিখদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করার কারণে ওই জনগোষ্ঠীর মানুষদের সমর্থন হারাবার ঝুঁকি থেকে যায়। ট্রুডো আরও একটি বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছেন তাহলে ভারত-কানাডা বানিজ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি করা। গত কয়েক বছর ধরে ভারত ও কানাডার মধ্যে বানিজ্যে উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল। এবং তাতে উভয় দেশই লাভবান হচ্ছিল। কিন্তু নিজ্জর হত্যাকাণ্ড এই বানিজ্য সম্ভাবনার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
একটি হত্যাকান্ড দুদেশের মধ্যে ইগোর লড়াই বাঁধিয়ে দিয়েছে। শিখ জনগোষ্ঠী ট্রুডোর ভোটব্যাঙ্ক। সুতরাং ক্ষমতার মসনদটি পাকা করতে হলে ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে হবে। সেখানে যেমন কোন ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। তেমনি ট্রুডোকে এটাও বুঝতে হবে যে কোন দেশই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে রেয়াত করবে না। ভারত ও ঠিক এই কাজটি করেছে। অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন গড়ে তোলার যে কোন প্রয়াস ভারত মেনে নিতে পারেনি। কানাডার সরকারকে ভারত বহু বার অনুরোধ জানিয়েছে যাতে তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন গুলিকে প্রশ্রয় না দেয়। কিন্তু কানাডার ট্রুডো সরকার ভারতের কোন অনুরোধ-উপরোধের তোয়াক্কা করেনি। সুতরাং কানাডার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।

Address

Kharagpur
721301

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Centre for International Relations Studies & Research,Kharagpur posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Centre for International Relations Studies & Research,Kharagpur:

Shortcuts

Share