20/01/2026
এক সভাঘরে তরুণ এক বিজ্ঞানী দাঁড়িয়ে আছেন, হাতে কঠোর গণিতের হিসাব। সামনে বসে তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্যার আর্থার স্ট্যানলি এডিংটন। তরুণের দাবি—একটি নক্ষত্র নির্দিষ্ট ভরের বেশি হলে ধসে পড়বে। এডিংটনের উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত ও কঠোর: প্রকৃতি এমন অদ্ভুত পরিণতি মেনে নেবে না। সেই তরুণই ছিলেন সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর।
১৯৩০-এর দশকে এই প্রকাশ্য বিরোধ বিজ্ঞানমহলে তীব্র আলোড়ন তোলে। চন্দ্রশেখর গণিতের মাধ্যমে দেখান, একটি মৃত নক্ষত্র বা হোয়াইট ডোয়ার্ফ যদি সূর্যের প্রায় ১.৪ গুণের বেশি ভরের হয়, তবে সেটি আর স্থিতিশীল থাকতে পারে না। এই সীমাই পরে পরিচিত হয় ‘চন্দ্রশেখর সীমা’ নামে। কিন্তু এডিংটনের বিরোধিতার কারণে এই তত্ত্ব বহু বছর অবহেলিত থেকে যায়।
১৯১০ সালের ১৯ অক্টোবর লাহোরে জন্ম নেওয়া চন্দ্রশেখর পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণায় যুক্ত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ একের পর এক তাঁর পক্ষেই কথা বলে। সুপারনোভা বিস্ফোরণ, নিউট্রন তারা এবং ব্ল্যাক হোল সংক্রান্ত গবেষণা প্রমাণ করে—চন্দ্রশেখরের গণনাই ছিল সঠিক।
অবশেষে ১৯৮৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়ে স্বীকৃতি পান তিনি। আজ আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রায় প্রতিটি শাখায় তাঁর কাজ অপরিহার্য।
চন্দ্রশেখরের জীবন মনে করিয়ে দেয়—বিজ্ঞানে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় ক্ষমতা বা খ্যাতিতে নয়, প্রমাণ ও সময়ের বিচারে। ইতিহাসে ভুল প্রমাণিত হয়েছিলেন এডিংটন, আর অমর হয়ে রইলেন চন্দ্রশেখর।