26/06/2026
কর্মের ফল। ইহা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আমার দ্বারাই এই দুঃখকষ্ট দূরীভূত হইবে। আমি যাহা সৃষ্টি করিয়াছি, তাহা আমিই ধ্বংস করিতে পারি; অপরে যাহা সৃষ্টি করিয়াছে তাহা কখনও আমি ধ্বংস করিতে সমর্থ হইব না। অতএব উঠ, সাহসী হও, বীর্যবান্ হও। সব দায়িত্ব নিজের উপর গ্রহণ কর-জানিয়া রাখো, তুমিই তোমার অদৃষ্টের সৃষ্টিকর্তা। তুমি যে পরিমাণ শক্তি বা সহায়তা চাও, তাহা তোমার ভিতরেই রহিয়াছে।
অতএব তুমি এখন এই জ্ঞানবলে বলীয়ান্ হইয়া নিজের ভবিষ্যৎ গঠন করিতে থাকো। 'গতস্য শোচনা নাস্তি'-অনন্ত ভবিষ্যৎ তোমার সম্মুখে। সর্বদা মনে রাখিও, তোমার প্রত্যেক চিন্তা প্রত্যেক কার্য'ই সঞ্চিত থাকিবে; ইহাও স্মরণ রাখিবে, যেমন তোমার কৃত প্রত্যেক অসৎ চিন্তা ও অসৎ কার্য তোমার উপর ব্যাঘ্রের মতো লাফাইয়া পড়িতে উদ্যত, তেমনি তোমার সৎচিন্তা ও সৎকার্যগুলি সহস্র দেবতার শক্তি লইয়া সর্বদা তোমাকে রক্ষা করিতে প্রস্তুত।
স্বামী বিবেকানন্দ 🪷
25/06/2026
দুই রকমের সাধক দেখা যায়- যেমন, বাঁদরের ছানা এবং বিল্লির ছানা। বাঁদরের ছানা আগে তার মাকে ধরে, পরে তার মা তাকে সঙ্গে করে যেখানে সেখানে নিয়ে বেড়ায়। বেড়ালের ছানা কেবল এক জায়গায় বসে মিউ মিউ করতে থাকে, তার মা যখন যেখানে ইচ্ছা হয় ঘাড়ে ধরে নিয়ে যায়।
তেমনি জ্ঞানী বা কর্মী সাধক বাঁদরের ছানার ন্যায় পুরুষকার দ্বারা ঈশ্বরলাভ করতে চেষ্টা করে থাকে। আর ভক্ত সাধকেরা ঈশ্বরকে সকলের কর্তা জ্ঞান করে, তাঁর চরণে বিড়ালছানার ন্যায় নির্ভর করে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকে।
জয় ঠাকুর 🪷
24/06/2026
আমি একদিন মাকে বলিয়াছিলাম, "মা, ঠাকুরকে আমি যেদিন প্রথম দর্শন করি, তাঁর দেহ থেকে একটা জ্যোতি বেরুচ্ছিল। কাচের উপর রোদ পড়লে যেমন আভা বেরোয় তেমনি।” ইহা শুনিয়া মা বলিলেন, "মা, তুমি ঠিক দেখেছ। আমি যখন তাঁকে তেল মাখাতুম, মাঝে মাঝে ঐরূপ জ্যোতি দেখতে পেতুম।”
একদিন তাঁহার ভাইঝি নলিনী রাগ করিয়া সমস্ত দিন উপবাসী ছিল। মায়ের অনেক চেষ্টাতে কোন ফল হয় নাই। শেষে মা তাহাকে ডাকিয়া বলিলেন, "আমাকে তোমার পিসিমা মনে করো না। আমি মনে করলে এক্ষুণি এ দেহ ছেড়ে দিতে পারি।”
ঠাকুরের কথাপ্রসঙ্গে মা একদিন নিজের বুকে হাত রাখিয়া ললিতকে (কমলেশ্বরানন্দকে) বলিয়াছিলেন, “আমি যদি ঠাকুরের কাছে যাই তোমরাও নিশ্চয় যাবে।”
শ্রীমতী -----
23/06/2026
জীবনে যদি কোনো সঙ্কট আসে আমাকে স্মরণ কোরো। নিজেকে কয়েক দিনের জন্য অপর লোকদের থেকে আলাদা রেখে খুব করে জপধ্যান ও প্রার্থনা কোরো এবং আমার কাছে জিজ্ঞাসা করবে, 'মা, কী করব?' ঐ সময় অল্প খাবে; নিজের দেহ-মন পবিত্র রাখবে; যতটুকু না হলে নয়, ততটুকুই অপরের সঙ্গে কথা বলবে। অপরকে জানতে দেবে না তুমি কী করছ। একমনে এভাবে প্রার্থনা ও সাধনা করে যাবে। কখনো ধৈর্য হারাবে না। যদি দেখ আমার আদেশ পেতে বা আমার উত্তর পেতে দেরি হচ্ছে তাতেও ধৈর্য হারাবে না। যদি দেখ কোনো উত্তর আসছে না, তবে জানবে তোমার মন এখনো সেই স্তরে আসেনি যাতে তুমি আমার আদেশ পাও। ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাকুল হয়ে ডেকে গেলে আমার কাছ থেকে উত্তর পাবে।
-শ্রীশ্রীমা🪷
https://youtu.be/hUmGCnfxNW4?si=RIATwPt8E4oyQEHo
22/06/2026
বিদ্যা, বুদ্ধি, ধন, শাস্ত্রজ্ঞান, তর্ক, বিচার, দান, পুণ্য, যাগ-যজ্ঞ, যোগ তপস্যা-কিছুতেই ভগবানকে পাওয়া যায় না, তিনি ধরা দেন না। তাঁকে ধরবার, বশ করবার একমাত্র ব্রহ্মাস্ত্র-প্রেম, ভক্তি। “তিনি অনির্বচনীয় প্রেমস্বরূপ।” সেইখানে আঘাত করলে তাঁর স্বরূপ প্রকাশ পায়, তিনি নিজেকে আর লুকিয়ে রাখতে পারেন না। যেমন দুধল গাইয়ের বাঁটে বাছুর ঢুঁ মারলে সে হুড়-হুড় করে দুধ ছেড়ে দেয়।
স্বামী বিরজানন্দ 🪷
https://youtu.be/xGGrl-C0WiU?si=jnGgtsBTBQTTrQoy
20/06/2026
খাঁটি' শব্দটির ওপর ঠাকুর জোর দিতেন। তাঁর একটি কথা ধর্মের জগতে প্রথম ও শেষ কথা, 'মন মুখ এক করো'। সমালোচকরা এই ভাবেরই একটি কথা শ্লেষাত্মক করে বলে থাকেন, 'মুখে বলি হরি, কাজে অন্য করি।' ঠাকুরও মজা করে ভক্তদের এই ভাবেরই একটি গল্প বলতেন। গৃহী ভক্তদেরই বলতেন, তাঁর 'স্যাফ্রন ব্রিগেডের' তরুণদের জন্যে একই উপদেশ অন্যভাবে, অন্য মাত্রায়। হাসতে, হাসতে বলছেন, 'একটা গল্প বলি শোনো। এক জায়গায় একটি স্যাকরার দোকান। তারা পরম বৈষ্ণব, গলায় মালা, তিলক সেবা, প্রায় হাতে হরিনামের ঝুলি আর মুখে সর্বদাই হরিনাম। সাধু বললেই হয়, তবে পেটের জন্যে স্যাকরার কর্ম করা; মাগ ছেলেদের তো খাওয়াতে হবে। পরম বৈষ্ণব, এই কথা শুনে অনেক খরিদ্দার তাদেরই দোকানে আসে; কেন না, তারা জানে যে, এদের দোকানে সোনা-রূপা গোলমাল হবে না। খরিদ্দার দোকানে গিয়ে দেখে যে, মুখে হরিনাম করছে, আর বসে বসে কাজকর্ম করছে। খরিদ্দার যেই গিয়ে বসল, একজন বলে উঠল, 'কেশব! কেশব! কেশব!' খানিকক্ষণ পরে আর একজন বলে উঠল, 'গোপাল! গোপাল! গোপাল!' আবার একটু কথাবার্তা হতে না হতেই আর একজন বলে উঠল- 'হর! হর! হর!' কাজে কাজেই এত ভক্তি প্রেম দেখে তারা স্যাকরাদের কাছে টাকাকড়ি দিয়ে নিশ্চিন্ত হল; জানে যে এরা কখনও ঠকবে না।'
'কিন্তু কথা কি জানো? খরিদ্দার আসবার পর যে বলেছিল 'কেশব! 'কেশব!' তার মানে এই, এরা সব কে? অর্থাৎ যে খরিদ্দারেরা এলো এরা সব কে? যে বললে, 'গোপাল! গোপাল!' তার মানে এই, এরা দেখছি গোরুর পাল, গোরুর পাল। যে বললে, 'হরি! হরি!' তার মানে এই, যে কালে দেখছি গোরুর পাল, সে স্থলে তবে 'হরি' অর্থাৎ হরণ করি। আর যে বললে, 'হর! হর!' তার মানে এই যে কালে গোরুর পাল দেখছো সেকালে সর্বস্ব হরণ কর।' এই তারা পরমভক্ত সাধু।'
জয় ঠাকুর 🪷
https://youtu.be/xGGrl-C0WiU?si=63bDJgOiZVFn2eTM
19/06/2026
🪷 স্বামী বিবেকানন্দ শুধু একজন সন্ন্যাসী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক ভারতের একজন অন্যতম পথপ্রদর্শক। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, একটি দেশের উন্নতির জন্য শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস, চরিত্র-গঠন ও মানব-কল্যান একান্ত প্রযোজন। তাঁর মতে, যুবসমাজ দেশের আসল শক্তি, তিনি মূলত যুবকদের জাগ্রত হতে বলেছিলেন সঙ্গে এও বলেছিলেন নিজের ভিতরের অন্তর্নিহিত শক্তির জাগরণ ঘটাতে । আমাদেরকে সেই কাজে নিয়েজিত করা একান্ত দরকার।
আজকের ভারতবর্ষ বলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি উন্নতি হলে মানব সমাজের উন্নতি হবে। অর্থনীতির উন্নতি হলেও মানবিক মূল্যবোধ, ঐক্য ও নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বামীজীর আদর্শ আমাদের সেই পথই দেখায়। জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর এই বানী আমাদের চলার পথের পাথেয় করে তুলতে হবে।
সমকালীন ভারতবর্ষে স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর আদর্শ আমাদের আজও অনুপ্রাণিত করে চলছে।
জয়তু স্বামীজী 🪷
🖊️ পিয়ালী দেবনাথ ☀️
https://youtu.be/zqIVe9VFraU?si=WgjXAg9DOiqkNcs1
18/06/2026
জয়মা
জয়রামবাটী
৩রা ফাল্গুন
কল্যাণবরেষু,
তোমার পত্রখানা পাইয়া সমস্ত জ্ঞাত হইলাম। তুমি আমার আশীর্ব্বাদ জানিবে। আর ধ্যান সম্বন্ধে তুমি যাহা লিখিয়াছ তাহা শুনিয়াছি। ধ্যান কাহারও সহজে হয় না। যখন মনে [মনের] সকল বৃত্রি [বৃত্তি] লয় হয় তখন মানুষের মন স্থির হয় এবং সেই সময় ধ্যান হয়। এখন তুমি যাহা পাইয়াছ তাহা জপ কর, ক্রমে তোমার মন স্থির হইবে ও ধ্যান হইবে। কিন্তু ইহাতে পূর্ণ বিশ্বাস রাখিবে। আমার শরীর ভাল আছে।
আশীর্ব্বাদীকা
তোমার মা