24/09/2026
নেতা কাকে বলে দেখিয়ে গেছেন এই লোকটি...!🌻
১৯৮৩ সাল। আফ্রিকান এক চরম দরিদ্র, গৃহযুদ্ধ আর দুর্নীতিতে ডুবে থাকা দেশের ক্ষমতায় আসলেন মাত্র ৩৩ বছরের এক তরুণ সেনা অফিসার, থমাস সানকারা...🫡
থমাস সানকারা ছিলেন আধুনিক আফ্রিকার ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী, সৎ ও বিপ্লবাত্মক রাষ্ট্রনায়ক। তাঁকে প্রায়ই ❝ আফ্রিকার চে গেভারা ❞ বলা হয়ে থাকে। এই তরুণ সেনা কর্মকর্তা ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সাল মাত্র ৪ বছর ২ মাস বুরকিনা ফাসো শাসন করেছিলেন। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত সময়েই তিনি যে সংস্কার ও সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করেছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেই সরকারের সব বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়ি বিক্রি করে দিলেন! পুরো মন্ত্রিসভার জন্য দেশের সবচেয়ে সস্তা গাড়ি 'Renault 5'-তে চড়া বাধ্যতামূলক করলেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশি দামি স্যুট পরা নিষিদ্ধ করে দেশের তাঁতিদের হাতে বোনা সুতি পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করেন, যাতে স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়।
তিনি নিজের ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বিপুল পরিমাণে কমিয়ে দেন। প্রথম শ্রেণীর বিমান টিকিট ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন।
সানকারার নিজের বেতন কমিয়ে করেছিলেন মাত্র ৪৫০ ডলার! আর তাঁর পার্সোনাল প্রপার্টি বলতে ছিলো, একটা ভাঙা গাড়ি, চারটা সাইকেল, তিনটা গিটার আর একটা পুরনো ফ্রিজ। মাঝে মাঝে কোনো সিকিউরিটি ছাড়াই সাইকেল চালিয়ে বা হেঁটে শহরে ঘুরতেন..!🔴
প্রেসিডেন্ট ভবনে এসি চালানো বন্ধ করে দিলেন। কারন হিসেবে বললেন, আমার দেশের সাধারণ মানুষের ঘরে ফ্যানই নাই, আর আমি এসিতে বসে দেশ চালাবো কোন মুখে?
থমাস সানকারা বলতেন, যে আপনাকে খাবার দেয় সে-ই আপনাকে শাসন করে।
তাই, তিনি বিদেশি সাহায্য ও ঋণ নেওয়া বন্ধ করে দেন, কারণ তিনি জানতেন ঋণের টাকাই দুর্নীতির প্রধান উৎস। এর বদলে তিনি দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে মাত্র ৪ বছরে বিপুল পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়।
বিদেশি সাহায্যদাতাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তিনি কৃষকদের জমি বুঝিয়ে দেন। সেচব্যবস্থা ও সার উন্নত করে মাত্র ৩ বছরে গমের উৎপাদন হেক্টর প্রতি ১,৭০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৩,৯০০ কেজিতে নিয়ে যান। বুরকিনা ফাসো খাদ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে..🩷🌿
১৯৮৪ সালে তিনি ফরাসি ঔপনিবেশিক নাম 'আপার ভোল্টা' পরিবর্তন করে দেশের নাম রাখেন 'বুরকিনা ফাসো'। যার অর্থ ❝ সৎ মানুষের দেশ ❞। আর দেশের মানুষদের বলা শুরু হয় 'বুরকিনাবে'। যার অর্থ ❝ সৎ জনগণ ❞।❤️
মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি প্রায় ২৫ লাখ শিশুকে পোলিও, হাম ও মেনিনজাইটিসের প্রতিষেধক টিকা দেন। ইউনেস্কো ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই অভূতপূর্ব গতির প্রশংসা করেছিল।
তিনি গ্রামীণ অঞ্চলে হাজার হাজার স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করেন, যার ফলে শিশুমৃত্যুর হার দ্রুত হ্রাস পায়।
আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী পিতৃতান্ত্রিক সমাজে তিনি নারী অধিকার রক্ষায় কঠোর আইন করেন। বাল্যবিয়ে, বহুবিবাহ এবং মেয়েদের খাৎনা নিষিদ্ধ করেন।
কিনি বলেছিলেন, নারীদের মুক্তি ছাড়া কোনো প্রকৃত সামাজিক বিপ্লব সম্ভব নয়।
তিনি আফ্রিকার ইতিহাসে প্রথম কোনো সরকার গঠন করেন যেখানে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বিপুল সংখ্যক নারী নিয়োগ পান।
পুরুষদের নারীদের জীবনের কষ্ট বোঝাতে তিনি বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে স্বামীদের বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করা ও রান্না করার নির্দেশ দিতেন।
থমাস সানকারা প্রমাণ করে গেছেন যে, সদিচ্ছা ও সততা থাকলে একটি চরম দরিদ্র দেশকে অত্যন্ত অল্প সময়ে কেবল নিজের সম্পদের ওপর ভর করে বদলে দেওয়া সম্ভব।
সানকারার এই চরম সততা, আত্মনির্ভরশীলতা আর সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী অবস্থান সহ্য করতে পারেনি বিদেশি শক্তি আর দেশের কিছু দুর্নীতিবাজ।
১৯৮৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে তাঁরই সবচেয়ে কাছের বন্ধু ব্লেজ কম্পাওরে এক সামরিক বাহিনী ষড়যন্ত্র করে তাঁকে গুলি করে হত্যা করে..💥🔴
থমাস সানকারা একবার বলেছিলেন— ❝ বিপ্লবীদের ব্যক্তিগতভাবে হত্যা করা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু মানুষের ভেতরের চিন্তা বা আদর্শকে কখনো হত্যা করা যায় না।❞✊
আসলেই সত্যি কথা বলেছে। আজকে আমরা যখন নেতাদের বিলাসবহুল গাড়ি আর ভিআইপি প্রটোকল দেখি, তখন মনে পড়ে সানকারার কথা। যে লোকটা দেখিয়ে গেছে, নেতা হতে হলে ভাষণ নয়, আত্মত্যাগ লাগে..!🖤
© এক যে ছিলো নেতা
| ে_ছিলো_নেতা |
📌 Facebook এর পাশাপাশি আমরা পথচলা শুরু করেছি YouTube এও.. আমাদের কাজ ভালো লাগলে আমাদের channel টি Subscribe করে পাশে থাকবেন.. এমনই আরো অজানা সব গল্প জানতে আমাদের like, share ও follow করতে ভুলবেনা..😊