14/08/2026
দয়া করে সবাই পড়ুন এবং শেয়ার করে সবাইকে পড়ার সুযোগ করে দিন
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
বরাক ভ্যালি তথা আসামের সকল জাতি-বর্ণ ও ধর্মের মানুষের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ—আপনারা যেভাবে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর মাধ্যমে মনে হচ্ছে, আমাদের সমাজ থেকে ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
যাকে নিয়ে আপনারা কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন, তিনি হলেন বরাক তথা আসামের সর্বশ্রদ্ধেয় ও সর্বজনপরিচিত আলেমে দ্বীন আল্লামা সারিমুল হক লস্কর বাস্ট্যান্ডি সাহেব (দামাত বারাকাতুহুম)। তিনি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এবং দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
তাঁকে নিয়ে আপনারা যেভাবে ট্রল করছেন, বিভিন্ন মন্তব্য করছেন কিংবা তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন, এতে সমাজে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ—ইসলাম, ইসলামী জ্ঞান ও আলেম-উলামাকে নিয়ে কোনো পোস্ট করার আগে বিষয়টি ভালোভাবে জেনে ও যাচাই করে তারপর কথা বলুন। কারণ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো বক্তব্য প্রচার করলে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে যারা হযরত মাওলানা আল্লামা সারিমুল হক লস্কর বাস্ট্যান্ডি সাহেবের বিরুদ্ধে কটূক্তি করছেন কিংবা তাঁর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্নভাবে ভাইরাল করছেন, তাঁদের বলব—এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা মোটেও ভালো কাজ হয়নি।
তিনি যে বক্তব্যে তাবলিগ জামাতকে নিয়ে কথা বলেছেন এবং বলেছেন যে, ভারতের অনেক দুষ্কৃতিকারী তাবলিগ জামাতকে পাকিস্তানি বলে আখ্যা দেয়—এ কথাটি সম্পূর্ণ অমূলক নয়। আমরা বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্র ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের ঘটনা দেখেছি। বাস্তবতা হলো, তাবলিগ জামাতের মানুষ দ্বীনের দাওয়াত ও প্রচারের উদ্দেশ্যে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকা, এবং এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে যান।তবে ইসলামের বিরুদ্ধে যারা বিদ্বেষপূর্ণ ভাব রাখে তাহারা বিভিন্ন ধরনের অপবাদ বা তকমা ব্যবহার করে, তাদের ব্যাপারে অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। তাই হযরত যে কথাটি বলেছেন, সেটিকে তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য বুঝে দেখা দরকার। তিনি কী নিয়তে কথাটি বলেছেন, তা আল্লাহই ভালো জানেন; আমরা তাঁর অন্তরের নিয়ত সম্পর্কে জানি না।
আরেকজন সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তি, যিনি ফিটনেস গুরু বা বডি বিল্ডার হিসেবে পরিচিত—সুরমা সাদ্দাম সাহেব, যিনি বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে কর্মরত—তাঁর একটি পোস্ট দেখে আমি অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছি। তিনি সেখানে যুক্তি দিয়ে দলিল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ভাই, আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে এবং নিজের ক্ষেত্রে একজন পরিচিত মানুষ। কিন্তু আলেম-উলামার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করার আগে ইসলামী জ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।
আপনি একটি বিষয় বলেছেন—তাবলিগ জামাতে গিয়ে আপনি দাড়ি রাখা শিখেছেন এবং নবীজির সুন্নত পালন করছেন। আবার বলেছেন, কর্মরত অবস্থায় জাঙ্গিয়া পরেও জিম করেন, কিন্তু দাড়ি কাটেন না।
দাড়ি রাখা যদি আপনি নবীজির সুন্নত হিসেবে পালন করেন, নিঃসন্দেহে এটি আপনার জন্য ভালো আমল। কোন আমল, কোন সুন্নত কিংবা কোন নেক কাজের কারণে কে জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—সুন্নতের পাশাপাশি ফরজের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। পুরুষের সতর নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত আবৃত রাখা ফরজ। তাই ফরজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পর সুন্নত ও অন্যান্য নফল আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আমি আপনার ব্যক্তিগত আমল নিয়ে বিচার করতে চাই না। তবে একজন আলেমের বক্তব্যের সমালোচনা করতে হলে যথেষ্ট ইসলামী জ্ঞান ও দলিল থাকা প্রয়োজন। আপনি একজন বডি বিল্ডার ও পরিচিত ব্যক্তি; আপনার মুখ থেকে কোনো আলেমের ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর বা কঠোর মন্তব্য করা আপনার মতো একজন পরিচিত মানুষের জন্য শোভনীয় নয়।
তাই আমার অনুরোধ—আপনি আপনার নিজস্ব ক্ষেত্রে যেভাবে আছেন, সেভাবেই থাকুন; কিন্তু আলেম-উলামার সঙ্গে বিতর্কে যাওয়ার আগে বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নিন।
আরেকটি বিষয়—আপনি বলেছেন, হযরত আল্লামা বাস্ট্যান্ডি সাহেব মসজিদের ভিতরে পেঁয়াজ ও রসুন খেয়ে প্রবেশ না করার ব্যাপারে একটি হাদিস পড়েছেন। অথচ আপনি তাঁর সেই হাদিস পাঠকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যেন তিনি কোনো জাদুমন্ত্র বা অন্য কিছু করছেন।
ভাই, হাদিস ও কোরআনের আয়াতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হযরত যে বক্তব্যটি পড়েছেন, সেটি হাদিসের বক্তব্য—কোরআনের আয়াত নয়। আরবি ভাষা ও ইসলামী জ্ঞান সম্পর্কে ভালোভাবে জানা থাকলে বিষয়টি সহজেই বোঝা সম্ভব।
কোরআন শরিফের আয়াত তিলাওয়াতের নির্দিষ্ট আদব ও পদ্ধতি রয়েছে। অন্যদিকে হাদিস পাঠের বিষয়টি আলাদা। তাই কোনো আলেমের হাদিস পাঠের ধরন না বুঝে সেটিকে জাদুমন্ত্র বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা মোটেও সমীচীন নয়।
আপনার এই ধরনের মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় যে, বিষয়টি সম্পর্কে আপনার আরও জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। আপনার যদি এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ইলম থাকত, তাহলে হয়তো এমন মন্তব্য করতেন না।
আমি আপনাকে আবারও বিনীতভাবে বলছি—কাদা ছোড়াছুড়ি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও আলেম-উলামাকে নিয়ে বিদ্রূপ করা থেকে বিরত থাকুন। ভবিষ্যতে কোনো আলেমের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সম্মানজনকভাবে প্রশ্ন করুন, দলিলের মাধ্যমে আলোচনা করুন এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য আলেমদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নিন।
এতে আপনারও ভালো হবে, সমাজেরও ভালো হবে, মুসলমানদেরও ভালো হবে এবং সর্বোপরি আমাদের সমাজে শান্তি ও ঐক্য বজায় থাকবে।
আসুন, আমরা মতভেদকে শত্রুতায় পরিণত না করি।
আলেম-উলামার সম্মান করি, ভুল হলে দলিল দিয়ে সংশোধন করি এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে বিভেদের নয়—ঐক্যের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করি।
এই বলে আমার বক্তব্য শেষ করলাম।
অনুরোধ রইল—আমার এই পোস্টটি সবাই পড়ে, বিষয়টি বুঝে এবং ভালো মনে হলে শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন, সমাজে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করুন। আমিন।