08/06/2026
“একটি ঘড়ি দিয়ে জমি মাপা যায় না, আর একটি ফিতা দিয়ে সময় দেখা যায় না; প্রত্যেক জিনিসের কাজ আলাদা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও তাই।
শিক্ষার মান কেবল পেশা দিয়ে মাপা যায় না যদি প্রশ্ন করা হয়, “মাদ্রাসা থেকে কতজন ডাক্তার বা IPS হয়েছে?”, তাহলে একইভাবে প্রশ্ন করা যায়—
১) স্কুল থেকে কতজন বড় আলেম, মুফতি, ধর্মতাত্ত্বিক বা নৈতিক নেতা হয়েছে?
২) মঠ বা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কতজন বিজ্ঞানী, ডাক্তার বা IPS হয়েছে?
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে।
হাসপাতাল থেকে আলেম না বের হওয়ায় যেমন হাসপাতালের ব্যর্থতা প্রমাণ হয় না, তেমনি মাদ্রাসা থেকে ডাক্তার কম বের হওয়ায় মাদ্রাসার ব্যর্থতা প্রমাণ হয় না।
যে প্রতিষ্ঠান যে লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠে, তার সাফল্যও সেই লক্ষ্য দিয়েই মাপতে হয়; ধানক্ষেতে আম না ফললে ধানক্ষেত ব্যর্থ হয় না।”
“ডাক্তার মানুষের শরীর বাঁচান, আর আলেম মানুষের ঈমান ও নৈতিকতা রক্ষা করেন; সমাজের জন্য উভয়ই অপরিহার্য।”
মাদ্রাসার মূল উদ্দেশ্য মাদ্রাসার প্রধান কাজ হলো কুরআন, হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা ও ইসলামী জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া। যেমন মেডিক্যাল কলেজের কাজ ডাক্তার তৈরি করা, তেমনি মাদ্রাসার কাজ আলেম তৈরি করা। তাই মাদ্রাসাকে শুধুমাত্র ডাক্তার বা IPS তৈরির মানদণ্ডে বিচার করা পুরোপুরি ন্যায্য নয়।
৩. বাস্তবতাও ভিন্ন আজ অনেক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষা নিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গবেষকও হচ্ছেন। বিশেষ করে আধুনিক ও সরকারি স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলোতে সাধারণ শিক্ষাও পড়ানো হয়।
৪. সমাজে সবার প্রয়োজন আছে একটি সমাজে ডাক্তার যেমন দরকার, তেমনি শিক্ষক, বিচারক, বিজ্ঞানী, আলেম, ধর্মীয় নেতা—সবারই প্রয়োজন। কোনো একটি পেশাকে একমাত্র সফলতার মাপকাঠি বানানো যুক্তিসঙ্গত নয়।
মেডিক্যাল কলেজের কাজ ডাক্তার তৈরি করা, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কাজ ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা, আর মাদ্রাসার কাজ আলেম তৈরি করা। তাই প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে তার নিজস্ব লক্ষ্য অনুযায়ী মূল্যায়ন করা উচিত; অন্যের মানদণ্ড দিয়ে নয়।
“যে বীজ বপন করা হয়, সেই ফলই জন্মায়; আমের বীজে কাঁঠাল খোঁজা যুক্তির কথা নয়।”
“নৌকা নদী পার করে, বিমান আকাশে উড়ে; কাজ আলাদা বলে কোনোটি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায় না।”
আগে মাথার ভেতর থেকে বিদ্বেষ কে দূর করুন। তারপর মূর্খামিকে দূর করুন তাহলে দেশ বা রাজ্য এগিয়ে যাবে।