05/06/2020
#বিশ্ব_পরিবেশ_দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ ৫ই জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। প্রথমেই আমরা জেনে নেই পরিবেশ কি? পরিবেশ হলো_আমাদের চারপাশের ভৌত অবস্থা, জলবায়ু ও প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য জীব ও জৈব উপাদান ইত্যাদির সামষ্টিক রূপ। আর এই পরিবেশের প্রতিটা উপাদানের সুসমন্বিত রূপই হলো সুস্থ পরিবেশ। বিশ্বনন্দিত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘প্রাণ’ কবিতায় বলেছেন___ মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
কিন্তু সুন্দর ভুবনকে আমরা কি সুন্দর রেখেছি! আজ যেন তা হয়ে দাঁড়িয়েছে অসুন্দরের এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি। মানবসভ্যতার শত্রু বিষাক্ত নাগিনীদের বিষাক্ত নিঃশ্বাসে, তাদের অদূরদর্শিতার কর্মকাণ্ডের ফলে আজ পৃথিবীকে ক্রমশ করে তুলেছে মনুষ্যবাসের অযোগ্য এক দুর্বিষহ বন্দীশালায়।
তাই জাতিসংঘের সাধারণ সভার আওতায় ১৯৭২ সালের ৫ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ওই কনফারেন্সের সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রতিবছর পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি প্রথম পালিত হয় ১৯৭৩ সালে। দিবসটি পালনে প্রতিটি দেশ পরিবেশকেন্দ্রিক নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু তুলে ধরে প্রতিপাদ্য ঠিক করে থাকে। পরিবেশ দূষণের কারনঃ অধিক হারে কুকর্ম বৃদ্ধি পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। কুকর্ম বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ জল, মাটি, বায়ুর ওপর পড়েছে প্রচণ্ড চাপ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উদ্ভিদ জগৎ ও প্রাণী জগৎ। ক্রমবর্ধমান হারে শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে নির্গত হয় মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ-দূষক নানা রাসায়নিক দ্রব্য। এতে বায়ু-জল-খাদ্যদ্রব্য মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। বায়ু দূষণ পরিবেশ দূষণের আরেকটি অন্যতম কারণ। আমাদের এখানে বায়ু দূষণে পিছনে প্রধানত দুইটি কারণ রয়েছে। প্রথমত-কলকারখানার ধোঁয়া এবং দ্বিতীয়ত-যানবাহনের ধোঁয়া। সার কারখানা, চিনি, কাগজ, পাট এবং টেক্সটাইল মিল, টেনারীজ, গার্মেন্টস, কেমিক্যাল ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে প্রচুর পরিমাণ ধোঁয়া নির্গত হয়। বেবি ট্যাক্সি, টেম্পু, মটর সাইকেল, ট্রলি প্রভৃতি টু-স্ট্রোক যাননবাহন থেকে অধিক ধোঁয়া নির্গত হয়। যা পরিবেশকে দূষিত করে।
#পরিবেশ_দূষন_রোধে_করণীয়ঃ আমাদের আবাসের এই পৃথিবীকে আমাদেরই সুন্দর রাখতে হবে, তাই পরিবেশ সংরক্ষণে এবং দূষণ রোধে আমরা যা যা করতে পারিঃ
০১। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সাথে সাথে উন্নয়নের ও বৃদ্ধি প্রয়োজন।
০২। শব্দ দূষন রোধে শব্দ নিয়ন্ত্রন এবং নাগরিক জনসচেতনা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
০৩। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ নীতি প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
০৪। ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচী প্রনয়ন করা দরকার।
০৫। পরিবেশ দূষণের সম্ভাবনা রয়েছে এরূপ প্রতিটি শিল্প-কারখানা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
০৬। জ্বালানী হিসেবে কাঠের উদ্ভাবন এবং ব্যবহার করা।
০৭। শিল্পবর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
#বিশ্ব_পরিবেশ_দিবস_ও_ইসলামের_নির্দেশনাঃ দিনকে দিন বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বদলে যাচ্ছে জলবায়ু, যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। পরিবেশের এ ভয়ঙ্কর পরিবর্তনে বিজ্ঞানীরা চিন্তিত ও আতঙ্কিত। ইসলামে কোন একটি নির্ধারিত দিনে পরিবেশ দিবস পালন করতে হবে এমনটি নেই, কিন্তু ইসলামে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) সাহাবীদের কোনো গাছ কাটা, গাছ পুড়িয়ে ফেলা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি কোনো গাছ রোপন করে তবে এটি তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে। (মুসলিম) আরেক হাদীসে তিনি তাগিদ দিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, তোমরা কোনো গাছের ছায়ায় কিংবা রাস্তাঘাটে মলত্যাগ করবে না। সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ পবিত্র এবং পরিচ্ছন্ন, তিনি পবিত্রতা এবং পরিচ্ছন্নতা ভালবাসেন, তিনি দয়াবান, দয়া করাকে তিনি ভালবাসেন, তিনি দানশীল, দান করাকে তিনি পছন্দ করেন। তাই তোমরা তোমাদের ঘরবাড়ির আঙ্গিনাকে পরিষ্কার করে রাখো। (তিরমিযী শরীফ) এ সুজলা সুফলা সবুজ পরিবেশ আল্লাহ পাকের দান। সুতরাং পরিবেশের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং অন্যকে সচেতন করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ পাকের দানের শুকরিয়া আদায় করতে পারি।
পরিশেষে বলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে যেকোনো মূল্যে পরিবেশ দূষণ রোধ করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আসুন আমরা নিজেদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নির্মল, সবুজ ও আলোকিত পৃথিবী গড়ার জন্য আমাদের এ আবাসভূমিকে দূষণ মুক্ত রাখার অঙ্গিকার করি।
ইতি
সাহিদ আহমেদ খান
কালাইন,কাছাড়।