History Point Jhargram

History Point Jhargram

Share

VII - XII শ্রেণি পর্যন্ত ইতিহাস যত্ন সহকার পড়ানো হয় ।

16/08/2022
Photos from History Point Jhargram's post 16/12/2020

এক বিস্মিত নেত্রী : রানি শিরোমণি

ইতিহাস তাঁকে প্রাপ্ত মর্যাদা দেয় নি । অবহেলিত তাঁর আত্ম বলিদান । তিনি পরিচিত হয়েছেন অন্যের ছত্রছায়ায় । তিনি ছিলেন একাধারে রানী, প্রজাদরদি আর সকলের মা । অত্যাচারিত ও শোষিত প্রজা সন্তানদের কাতর প্রার্থনাতে সাড়া না দিয়ে থাকতে পারেন নি । হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র । অসীম শক্তি অধিকারী শত্রুকে চোখে চোখ রেখে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সন্তানের জন্য তিনি রণচন্ডী হতে পারেন । তিনি অচ্ছুত চূয়াড় বিদ্রোহের অখ্যাত নেত্রী । তিনি কর্নগড়ে রানী শিরোমণি ।

আধুনিক মেদিনীপুর শহরের অনতি দূরে তাঁর ধূলিসাৎ দূর্গ । মাটি থেকে সামান্য কিছু পাথর বেরিয়ে থেকে নিজের ক্ষীণ অস্তিত্ব প্রমাণ দিচ্ছে মাত্র । অথচ এখান থেকেই প্রথম উপজাতি বিদ্রোহ " চূয়াড় বিদ্রোহ" র এক নতুন সূচনা হয়েছিল ।

আদিবাসী চূয়াড় বা চোয়াড় জনগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গের অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার উত্তর- পশ্চিমাংশ ও বাঁকুড়া জেলার দক্ষিণ- পশ্চিমাংশে বসবাস করতো । চূয়াড়রা কৃষিকাজ ও পশুশিকারের পাশাপাশি স্থানীয় জমিদারদের অধীনে পাইক বা সৈনিকের কাজ করতো যার বিনিময়ে তারা কিছু নিষ্কর জমি ভোগ করতো । আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে কৃষক ও জমিদার একত্রিত হয়ে ইংরেজদের অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ।

সময়টা ছিলো 1798 - 99 র পর্ব । রাজা অজিত সিং দেহ রেখেছেন আগেই । তাঁর দুই পত্নী রানী ভবানী আর রানী শিরোমণি । অপুত্রক অবস্থায় রাজার মৃত্যু হয় । কিন্তু এর জন্য ক্ষোভ ছিল না রানি শিরোমণির । কৃষক প্রজাকে নিজ সন্তানের ভালোবাসা দিয়েছিলেন ।

গোটা বাংলার মতো কর্নগড়েও চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত (1793 ) বলবৎ হয়েছিল । আবাদি অনাবাদি সকল জমির উপর ধার্য হয়েছে চড়া রাজস্ব । বাদ যায় নি বাপ ঠাকুরদা আমল থেকে ভোগ করে আসা নিষ্কর পাইকান জমি । লাল বাঁদর ইংরেজগুলো তার উপরে কর বসিয়েছিল ।
কর্নগড় সহ আসে পাশের প্রজাদের অধিকাংশেরই পাইক বা লেঠেল গিরি ছিল পেশা । বেতন বাবদ নিষ্কর জমি আছে কিছুটা । সেখানে বছরভর যা চাষ হয় তা দিয়ে দিন চলে যায় কোনক্রমে ।
কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হলে রাজস্বের হার পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যায় । যা সরকারকে প্রদান করা অসম্ভব হয়ে উঠে জমিদার ও কৃষক উভয়ের কাছে ।
অথচ সরকার কড়ায় গন্ডায় সব আদায় করতে মরিয়া হয়ে উঠে । অনাদায়ে নির্মম অত্যাচার শুরু । রানি শিরোমণি তা মেনে নিতে পারেনি প্রথম থেকেই ।

স্থানীয় রাজারা পেয়েছিলেন জমিদারী বা কর আদায়ের স্বত্বাধিকার । ইংরেজদের চোখে তারা জমিদার হলেও প্রজাদের কাছে তারাই ছিলেন রাজা বা রক্ষাকর্তা । মা হয়ে রানি শিরোমণি প্রজার বুক চিরে শেষ রক্তবিন্দু শুষে নিতে পারেনি ।
প্রথম দিকে রানি আড়ালে থেকে প্রজাদের সমর্থন জানান । সাহায্য করতে থাকেন । ক্রমেই জঙ্গলমহলে বিদ্রোহ প্রসারিত হতে থাকে ।
ইতিপূর্বে জগন্নাথ ধলের নেতৃত্ব ধলভূমগড়ে জ্বলে ওঠেছিল প্রথম পর্বের বিদ্রোহ (1767 ) । অপরদিকে ইংরেজরাও কঠোর হাতে বিদ্রোহ দমন করতে থাকে । প্রকাশ্যে শত শত বিদ্রোহীকে ফাঁসি দিয়ে গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেয় ।

রানি শিরোমণি প্রথম থেকেই পরিকল্পিত ভাবে বিদ্রোহ নেতৃত্ব দেন । তিনি ইংরেজদের বাধা দিতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেন । এ বিষয় তার ডান হাত হয়ে উঠে বিশ্বস্ত কর্মচারী চুনিলাল ও নর নারায়ন বক্সী ।
শিরোমণি প্রথমে সেনা দলকে গেরিলা যুদ্ধে প্রশিক্ষিত করে তোলেন । স্থানীয় হাতিয়ার লাঠি সড়কি তির ধনুক, টাঙ্গি, বর্শা এমনি কী গুলতি ছিল তাদের অস্ত্র । সেনারা আদতে ছিল রানির পাইক । রানি শিরোমণির আদেশ তাদের কাছে ছিল স্বয়ং মহামায়ার হুকুম । রানির জন্য তারা হাসতে হাসতে প্রান দিতে প্রস্তুত । যাইহোক রানির নির্দেশে তারা বীর বিক্রমে ইংরেজদের বাধা দিতে থাকে । জঙ্গল ছিল তাদের কাছে হাতের তালুর মতো চেনা । ফলে জঙ্গলে প্রতি পদে পদে ইংরেজরা দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে । প্রজারা রানির নির্দেশে ইংরেজ বাহিনীকে বিন্দুমাত্র সাহায্য দেয়নি । জল খাবার না পেয়ে সরকারি বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে ।

এ সময় শিরোমণি যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণ করেন । শিরোমণির দুটি দুর্গ ছিল । প্রধান কর্নগড় এবং দ্বিতীয় আবাসগড় । আবাসগড় বর্তমান মেদিনীপুর শহরের কাছেই অবস্থিত ছিল । এখন আর কোন অস্তিত্ব নেই । রানি শিরোমণি আবাসগড় থেকে চুনিলালের সাহায্য যুদ্ধ চালাতে থাকেন । ফলে ইংরেজরা প্রথমে আবাসগড় দখলের পরিকল্পনা নেয় । নাছোড়বান্দা সরকার কলকাতা থেকে আরো সেনা নিয়ে আসে । আসলে শিক্ষিত ও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন লড়াই করা অসম্ভব ছিল বিদ্রোহীদের । তাই ক্রমেই তাদের প্রতিরোধ ভেঙে যায় । চুনিলাল ব্রিটিশদের হাতে বন্দী হন । ফলে শিরোমণির পরাজয় নিশ্চিত হয়ে উঠে । কিন্তু রানি ছিলেন মা মহামায়া, তিনি প্রজার জন্য প্রান দিতে প্রস্তুত ছিলেন ।
মরন কামড় দিতে রানি এবার এক সাহসী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন । তিনি প্রথমে ইংরেজ বাহিনীকে নিজ অঞ্চলে প্রবেশ করতে দিয়ে চারপাশ থেকে আক্রমণ চালিয়ে ব্রিটিশ সেনাকে ধ্বংসের পরিকল্পনা নেন । কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক জনৈক বিশ্বাসঘাতকের ( বিশ্বাসঘাতক নাম মনে রাখতে নেই । না তারাও বিখ্যাত হয়ে উঠে ) রানির সমস্ত পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায় । কর্নগড় দুর্গ ইংরেজ সেনা দখল করে । উপান্তর রানি গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন । কিন্তু ব্রিটিশদের হাতে ধরা পড়েন ( 1799 )।

এর পরের কাহিনী দুরকম । অধিক প্রচলিত যে, অতঃপর রানি শিরোমণিকে বিচারের জন্য কলকাতা নিয়ে যাওয়ার কথা ঠিক হয় । কিন্তু নাড়াজলের রাজা তথা জমিদার আনন্দলাল খান রানি মাফ করে দেওয়ার আবেদন জানান । তিনি অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে ইংরেজদের রাজি করতে পেরেছিলেন । রানি শিরোমণি চিরগৃহ বন্দী হন । রানি আবাসগড়ে বন্দী হন । এখানে তাঁর মৃত্যু হয় ।

আবার অনেক বলেন, পুনঃ প্রজা বিদ্রোহের আশঙ্কায় ইংরেজরা রানিকে হত্যা করে ।

তবে সব শেষে বলবো, রানি শিরোমণি তার যোগ্য সম্মান পান নি । ইতিহাসে গবেষকদের অবহেলায় তিনি অচ্ছুত থেকে গেছেন । তার আত্ম বলিদান ও বীরত্ব অপেক্ষা তিনি শুধু চূয়াড়দের নেত্রী এই পরিচয় টুকু পেয়েছেন ।
তিনি বর্তমানে ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ' র ছত্রছায়ায় পরিচিত । তার নিজ পরিচয় জলছবি হয়ে গিয়েছে । রানি শিরোমণি এখন শুধু নিছক " মেদিনীপুরের লক্ষ্মীবাঈ" । বাকি সব অর্থহীন হয়ে গিয়েছে ।

এই লেখাটি যদি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করুন ।

Want your school to be the top-listed School/college in Jhargram?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Jhargram
721504

Opening Hours

Monday 8am - 10pm
Tuesday 8am - 10pm
Wednesday 8am - 10pm
Thursday 8am - 10pm
Friday 8am - 10pm
Saturday 8am - 10pm
Sunday 10am - 8pm