20/08/2020
জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়
1. সংবেদনশীলতা কাকে বলে?
উঃ উদ্দীপকের প্রভাবে জীবদের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলে।
2. উদ্দীপক কাকে বলে?
উঃ যেসব পরিবর্তন শনাক্ত হয় এবং সাড়া প্রদানে সাহায্য করে, তাকে উদ্দীপক বলে। তাপ, আলো, বাতাস ইত্যাদি হল বাহ্যিক উদ্দীপক এবং হরমোন হল অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক।
3. চলন কাকে বলে?
উঃ যে প্রক্রিয়ায় জীব বাইরের উদ্দীপকের প্রভাবে কিংবা নিজের চেষ্টায় স্বতঃফূর্তভাবে জৈবিক প্রয়োজনের তাগিদে, দেহের কোন অংশ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে তাকে চলন বা মুভমেণ্ট বলে।
4. গমন কাকে বলে?
উঃ খাদ্য-সংগ্রহ, আত্মরক্ষা, বাসস্থান খোঁজা ও প্রজননের জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার দ্বারা নিজের চেষ্টায় সমগ্র জীবদেহের একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়া বা নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য কোন দূরত্ব অতিক্রম করাকেই গমন বা লোকোমোশান বলে।
5. গমনে সক্ষম দুটি উদ্ভিদের নাম লেখ।
উঃ ক্ল্যামাইডোমোনাস ও ভলভক্স।
6. গমনে অক্ষম কয়েকটি প্রাণীর নাম লেখ।
উঃ স্পঞ্জ ও প্রবাল।
7. চলন ও গমনের মধ্যে পার্থক্যগুলি উল্লেখ করো।
উঃ ১। স্থানত্যাগ না করে জীবদেহের অংশ-বিশেষ কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করাকেই চলন বলে।
আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার দ্বারা সমগ্র জীবদেহের একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়া বা নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য কোন দূরত্ব অতিক্রম করাকেই গমন বলে।
২। কোন নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ থেকে চলন সম্ভব।
আর কোন নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ থেকে গমন সম্ভব নয়।
৩। চলন হলেই গমন হবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই।
আর গমন হলে অবশ্যই চলন হবে।
৫। কেবলমাত্র ভলভক্স, ক্ল্যামাইডোমোনাস ইত্যাদি কয়েকটি নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে গমন দেখতে পাওয়া যায়।
স্পঞ্জ, প্রবাল ইত্যাদি কয়েকটি প্রাণী গমনে অক্ষম।
8. চলন ও গমনের উদ্দেশ্য বা তাৎপর্যগুলি উল্লেখ করো।
উঃ ১। পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানো বা অভিযোজন।
২। শত্রুর হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো বা আত্মরক্ষা।
৩। খাদ্য প্রস্তুতে অক্ষম জীবের, বিশেষত প্রাণের, খাদ্য-সংগ্রহ বা খাদ্যান্বেষণ।
৪। প্রাণী গমনের মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে।
৫। প্রজননের জন্যও উদ্ভিদ এবং প্রাণীর চলন ও গমন প্রয়োজন।
9. উদ্ভিদের চলন কয় প্রকার ও কী কী?
উঃ উদ্ভিদের চলন দুই প্রকার। যথা সামগ্রিক চলন (Movement of Location) ও বক্র চলন (Movement of Curvature)।
10. ট্যাকটিক চলন কাকে বলে?
উঃ যখন আলো, তাপমাত্রা, রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক শক্তি যেকোন বহিঃস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ কিংবা উদ্ভিদ-অঙ্গে স্থান পরিবর্তন ঘটে তখন তাকে প্রবৃত্ত বা আবিষ্ট সামগ্রিক চলন বা ট্যাকটিক চলন বা অভিমুখ্য চলন বলে।
11. ফোটোট্যাকটিক চলন কাকে বলে?
উঃ বহিঃস্থ উদ্দীপক আলোকের প্রভাবে যে ট্যাকটিক চলন দেখা যায় তাকে ফটোট্যাকটিক চলন বলে।
12. ট্রপিক চলন কাকে বলে?
উঃ উদ্দীপকের উৎসের দিকে বা উদ্দীপকের গতিপথের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে ট্রপিক চলন বা দিক্নির্ণীত চলন বলে।
13. ফোটোট্রপিক চলন কাকে বলে?
উঃ উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন আলোক উৎসের গতিপথ অনুসারে হয় তখন তাকে আলোকবৃত্তি বা আলোকবর্তী চলন বা ফোটোট্রপিক চলন বলে।
14. হাইড্রোট্রপিক চলন কাকে বলে?
উঃ উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন জলের উৎসের গতিপথ অনুসারে হয় তখন তাকে জলবৃত্তি বা জলবর্তী বা হাইড্রোট্রপিক চলন বলে।
15. জিওট্রপিক চলন কাকে বলে?
উঃ উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে অভিকর্ষের গতিপথ অনুসারে হয় তখন তাকে অভিকর্ষবৃত্তি বা অভিকর্ষবর্তী বা জিওট্রপিক চলন বলে।
16. ন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?
উঃ উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে নিয়ন্ত্রিত না হয়ে উদ্দীপকের তীব্রতা উপর নির্ভর করে নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন সেই প্রকার চলনকে ন্যাস্টিক চলন বা ব্যাপ্তি চলন বলে।
17. ফোটোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?
উঃ উদ্ভিদ অঙ্গের সঞ্চালন যখন আলোকের তীব্রতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে ফোটোন্যাস্টিক বা আলোক ব্যাপ্তি চলন বলে। যেমন – পদ্ম, সূর্যমুখী প্রভৃতি ফুল আলোর তীব্রতায় ফোটে আবার কম আলোকে মুদে যায়।
18. থার্মোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?
উঃ উদ্ভিদ অঙ্গের সঞ্চালন বা চলন যখন উষ্ণতার তীব্রতার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন তাকে থার্মোন্যাস্টিক বা তাপব্যাপ্তি চলন বলে। যেমন – টিউলিপ ফুলের পাপড়ি অধিক তাপে খোলে, আবার কম তাপে মুদে যায়।
19. সিসমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?
উঃ স্পর্শ, ঘর্ষণ, আঘাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উদ্দীপকের তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলন হয়, তাকে সিসমোন্যাস্টিক বা স্পর্শব্যাপ্তি চলন বলে। যেমন – লজ্জাবতী লতার পাতা স্পর্শ করা মাত্র পাতার পত্রগুলি নুয়ে পড়ে। কারণ পত্রগুলি উত্তেজিত হলে তাদের স্ফীতবৃন্ত বা পালভিনাস থেকে জল অন্য কোষে চলে গেলে রসস্ফীতির চাপ কমে যায় ফলে পত্রগুলি নুয়ে পড়ে।