Gyaan Peeth - জ্ঞান পীঠ

Gyaan Peeth - জ্ঞান পীঠ

Comments

জ্ঞানপিডিয়ার এবারের দেবী-পক্ষের বিশেষ নিবেদন হিসেবে ছিল 'Durga Pujor Golpo' I এতে ছিল দুর্গাপুজো সম্পর্কিত পাঁচখানা ভিডিও -

১. দুর্গাপুজোর গল্প : পুরাণ থেকে বর্তমান https://www.facebook.com/104557154570985/videos/266476114616969
২. দুর্গার আসা-যাওয়ার বাহন কী কী? https://www.facebook.com/gyaanpedia/videos/1004060056779761
৩. দুর্গার সন্তান লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ? https://www.facebook.com/104557154570985/videos/1049490108836510
৪. দুর্গার রূপ কীভাবে বদলেছে? https://www.facebook.com/104557154570985/videos/2103880416414695
৫. কুমোরটুলির মহিলা শিল্পীরা https://www.facebook.com/gyaanpedia/videos/356070328815657

এইসমস্ত ভিডিওগুলো আপনাদের কেমন লেগেছে, আমাদের জানাবেন I ভবিষ্যতে কোন কোন বিষয়ের ওপর এরকম তথ্যসমৃদ্ধ ভিডিও দেখতে চান, সেটাও আমাদের বলবেন I আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা টিম জ্ঞানপিডিয়াকে আরো ভালো কাজ করার উৎসাহ যোগাবে I
করোনা আবহ কে সঙ্গী করেই হাতে আঁকা ছবিতে ভরিয়ে তুলেছে এবারের পূজো মন্ডপ
মদনপুর নদিয়ার দেবব্রত সেন অঙ্কনশিল্পী
কাল দেখা হচ্ছে..

.
সকলের সাদর আমন্ত্রণ......
Con no... 9064561731.......
সকলকে সাদর আমন্ত্রণ
Ami thakchi prosner dali nie....With team gyaan peeth....11th jan...Tomra ready tho?
Quiz Contest on 5th January
At Hatpukur Subhas Sangha, near Ramrajatala Station
Time: 3.30 PM
No Entry fees
ছয় বলে ছ'টি ছয়!! কে কে এই রেকর্ড করেছেন? জানতে অবশ্যই ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখে নিনঃ
https://youtu.be/E3IFlm4dMew
Come..Fall In Quiz..
♥️♥️Happy Birthday ♥️♥️
🎂🎂🎂🎂
#Gyaan_Peeth
Daily current affairs in #Bengali 6th March 2019

"নেই কোন ভেদাভেদ, চাই সকলের হিত
এসো তবে সবে মিলে, গড়ে তুলি জ্ঞানপীঠ।"

Operating as usual

09/02/2021

সময়টা সত্তরের দশকের মাঝামাঝি। তত দিনে সাহিত্যে এক নতুন স্বরের সংযোজন করেছেন লেখকটি। সেই লেখকই একটি চিঠি পেলেন। চিঠি খুলে দেখলেন, ‘তোমার এই উপন্যাসে কোনও বে-দাগ চরিত্র পেলাম না।’

চিঠি-প্রাপক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। চিঠিটি এসেছে সাহিত্যিক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় তথা বনফুলের কাছ থেকে।

চিঠি দেওয়ার সময়ে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে শীর্ষেন্দুবাবুর কোনও প্রত্যক্ষ পরিচয় ছিল না। কিন্তু শীর্ষেন্দুবাবুর ‘পারাপার’ উপন্যাসটি পড়ে চিঠি দিতে কসুর করেননি বনফুল।

সব সময়েই কি এমন অযাচিত ভাবে আলাপ করেন বনফুল? তা বোধহয় একেবারেই নয়। অন্তত একটি ঘটনা এর প্রমাণ দেয়।

সময়টা খানিক পিছিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

১৯৩৫ সাল। রাজস্থানের জয়পুরের বাসিন্দা রামচন্দ্র শর্মা নামে এক ব্রাহ্মণ মন্দিরে বলি বন্ধ করতে চেয়ে কালীঘাট মন্দিরের কাছে অনশন শুরু করলেন। বেশির ভাগ বাঙালিই রামচন্দ্রের এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে। কিন্তু সমর্থন জানালেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথের এই অবস্থানের বিরোধিতায় খানিকটা ব্যঙ্গের সুরেই ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-র দোল সংখ্যায় একটি কবিতা লিখলেন বনফুল। কবিতা পড়ে রাগ নয়, বরং কবির সঙ্গে আলাপ করতে চাইলেন রবীন্দ্রনাথ।

কিন্তু বনফুল জানালেন, তিনি ব্রাহ্মণ ও ডাক্তার। তাই ‘কল’, অর্থাৎ নিমন্ত্রণ ছাড়া কোথাও যান না। শেষমেশ সপরিবার বনফুলকে নিমন্ত্রণই জানালেন রবীন্দ্রনাথ।

নিমন্ত্রণ পেয়ে পরিবার নিয়ে বনফুল গেলেন শান্তিনিকেতন। আলাপ, খাওয়াদাওয়া সবই চলছে। আচমকা বনফুলের শিশুপুত্র চিরন্তন আধো-আধো গলায় ‘দল’ চেয়ে বসল। জল দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিচারকটি কাছাকাছি নেই তখন। তা দেখে রবীন্দ্রনাথের ‘মুখে কে যেন আবীর মাখিয়ে দিলে’। কেন এমনটা? বনফুলের মনে হল, ওই শিশুকে জল ‘চাইতে হল’, এটাই অভিজাত রবীন্দ্রনাথের কাছে গ্লানির!

এই শুরু রবীন্দ্র-সান্নিধ্যের। পরে সে আলাপ গড়াল ঘনিষ্ঠতায়। সেই ঘনিষ্ঠ-সান্নিধ্য পর্বে রবীন্দ্রনাথকেও এক বার বেশ বিড়ম্বনায় ফেললেন বনফুল।

ঘটনাটা এ রকম। বনফুলের ‘মানুষের মন’ গল্পটি পড়ে ভারী খুশি হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। চাইলেন, অনুজ লেখককে কিছু একটা উপহার দিতে। বনফুলের আবদার, উপহার হিসেবে গুরুদেবের গায়ে দেওয়া একটি পুরনো জামা। রবীন্দ্রনাথ কিছুতেই দেবেন না। বনফুলও নাছোড়। শেষমেশ এক দিকে দামি পশম, অন্য দিকে রেশম দেওয়া একটি প্রকাণ্ড জোব্বা উপহার মিলল।

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে মতান্তরও ঘটেছে। বনফুলের ‘তৃণখণ্ড’-য় কিছু কবিতা রয়েছে। সেগুলি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের মতামত, ‘ডাক্তারের ক্লিনিকে ওরা ভান করা সৌখিন রোগী’। বনফুলের ‘শ্রীমধুসূদন’ নাটকের কিছু অংশও রবীন্দ্রনাথের পছন্দ হয়নি। বদলানোর পরামর্শ দিলেও, বনফুল তা করেননি।
বনফুলের জন্ম ১৯ জুলাই, ১৮৯৯। বাবা সত্যচরণ মুখোপাধ্যায়। মা মৃণালিনীদেবী। বনফুলের জন্মের সময়ে ঘোর বৃষ্টি। গঙ্গা আর কোশীতে জল বেড়েছে। চিকিৎসক সত্যচরণের কর্মস্থল, নিবাস বিহারের মণিহারীর বাড়িটির অবস্থান তখন দ্বীপের মতো।

বনফুলের জন্ম-সংবাদ পেয়ে সত্যচরণের বন্ধু প্রমথনাথ মুখোপাধ্যায় বাড়িতে এসেছেন। দেখলেন, মৃণালিনীদেবীর একটু জ্বর এসেছে। মুহূর্তে নিদান, চা খেতে হবে। তখন বাড়িতে চায়ের চল ছিল না। শেষমেশ ঘাটের এক রেস্তরাঁ থেকে চা পাতা এনে ঘটিতে ভিজিয়ে গ্লাসে করে চা পরিবেশন হল।

জন্মের পরে অজান্তেই প্রকৃতির এমন বিপর্যয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়ে গেল বনফুলের।পূর্বপুরুষ সূত্রেও ‘বন’-এর সঙ্গে যোগ রয়েছে বনফুলের। তাঁর পূর্বপুরুষের আদি বাড়ি হুগলির শিয়াখালা গ্রাম। বাস্তুভিটের কাছে কাঁটাবন থাকায় এই পরিবার ‘কাঁটাবুনে মুখুজ্জ্যে’ নামে পরিচিত ছিল।
ডাক্তারি-পাঠ পর্বেই নানা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে এলেন বনফুল। তেমনই এক জনের কথা।

দিনটা রবিবার। বনফুল গিয়েছেন এক জনের বাড়ি। বাড়িতে ঢুকতে না ঢুকতেই প্রশ্ন, দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধ কবে হয়েছিল? নিরুত্তর বনফুল। তা দেখে সেই গৃহকর্তা বললেন, ‘বিজ্ঞানের ছাত্র বলে দেশের ইতিহাস জানবে না!’ শেষমেশ ওই বাড়ির গ্রন্থাগারে বসেই ঈশানচন্দ্র ঘোষের লেখা ইতিহাসের বই পড়া শেষ করে তবে মিলল মুক্তি।

যাঁর সঙ্গে বনফুলের এই অভিজ্ঞতা, তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।

এই সময়পর্বেই আলাপ শিশির ভাদুড়ীর সঙ্গেও। তিনি বনফুলকে আরব্য উপন্যাস বা কোনও সামাজিক বিষয়ে নাটক লেখার পরামর্শ দেন। পরবর্তী সময়ে বনফুলের ‘শ্রীমধুসূদন’ প্রকাশের পরে শিশিরবাবু স্বয়ং ভোরের ট্রেনে ভাগলপুর এসে জানান, ‘আপনার শ্রীমধুসূদন অভিনয় করব।’ যদিও তা হয়ে ওঠেনি।

ডাক্তারি পড়ার একেবারে শেষ বছরে বনফুলকে চলে যেতে হয় পটনায়। সেখানে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হওয়ায় এই চলে যাওয়া। কিন্তু ম্যাটার্নিটি ওয়ার্ডে প্রশিক্ষণ ঠিক মতো হয়নি বলে তিনি গেলেন বেঙ্গালুরুতে। সেখানে বিস্তৃত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হল।

এখানেই আলাপ এক স্কটিশ নার্সের সঙ্গে। কবি ও স্বদেশি জামাকাপড় পরিহিত ‘স্টুডেন্ট মুখার্জি’–কে বেশ পছন্দই করেন নার্স। আলাপ গড়াতেই আবদার, একটি ইংরেজি কবিতা লিখে দিতে হবে। বেঙ্গালুরু থেকে আসার আগে বনফুল লিখেও দিলেন কবিতাটি। পরে যা ‘ডানা’ উপন্যাসে ব্যবহার করবেন বনফুল। পটনার প্রিন্স অফ ওয়েলস মেডিক্যাল কলেজে বনফুল ফেরার পরে সেই নার্স একটি চিঠি দিলেন বনফুলকে।

তার পরে আর আলাপ অবশ্য গড়াল না। ডাক্তারির ফাইনাল পরীক্ষার আগেই বিয়ে। ইতিমধ্যে রমরমিয়ে ‘প্রবাসী, ‘ভারতী’, কল্লোল’ পত্রিকায় লেখাও ছাপা হচ্ছে। পাত্রী লীলাবতী বন্দ্যোপাধ্যায়। নিবেদিতার প্রতিষ্ঠিত স্কুলে স্বয়ং মা সারদার তত্ত্বাবধানে বড় হয়েছেন লীলাবতী। বিয়ের পরে পড়াশোনা শেষ করার জন্য লীলাবতীদেবী বেথুন হস্টেলে থাকেন। আর নববধূকে উদ্দেশ্য করে নানা চিঠি, কবিতা লিখলেন বনফুল। চিঠির কয়েকটি নিয়ে ‘কষ্টিপাথর’ উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ প্রয়াণ বনফুলের। তার আগে লেখা শেষ উপন্যাস ‘হরিশচন্দ্র’-তে হয়তো তাই আপন ‘মর্জিমহল’-এর বাসিন্দা বনফুল বাঙালিকে বলে গিয়েছেন, ‘আমি আর ফিরব না। তোমরা যন্ত্র সভ্যতার বিলাসে সুখে থাক।’

09/02/2021

১৯৪৮ থেকে ১৯৫৯ পর্যন্ত খেলা ৪৬টি টেস্ট ম্যাচে তাঁর শিকার ২১.২৪ গড়ে ১৯৩ উইকেট। টেস্টে কমপক্ষে ১৫০ উইকেট পেয়েছেন এমন স্পিনারদের মধ্যে সেরা বোলিং গড়ের রেকর্ডটি (২১.২৪) জিম লেকারের দখলে।

টেস্টের মত তাঁর প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারটাও বেশ উজ্জ্বল। কাউন্টি দল এসেক্স ও সারের হয়ে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেছেন টানা ১৮ বছর।

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মাত্র ১৮.৪ গড়ে নিয়েছেন ১৯৪৪ উইকেট! এক মৌসুমে ১০০ এর বেশি উইকেট নিয়েছেন ১১ বার। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৮ পর্যন্ত টানা ৭ বার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছেন সারের হয়ে।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে লেকারের অতিমানবীয় কীর্তির কথা তো প্রায় সবারই জানা। কিন্তু তিনি যে এর আগেও একবার ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন সেটা হয়ত অনেকের কাছেই অজানা।

কাকতালীয় হলেও সত্যি, ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই সিরিজের একটি প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন লেকার, তবে সেটা ইংল্যান্ডের হয়ে নয়; কাউন্টি দল সারের হয়ে। ওভালে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে লেকারের বোলিং ফিগার ছিল ৮৮/১০।
জিম লেকারের টেস্ট ক্যারিয়ারকে দুটো প্রধান অধ্যায়ে ভাগ করা যেতে পারে। ১৯৫৬ অ্যাশেজের আগের ৮ বছরকে প্রথম অধ্যায় এবং ১৯৫৬ অ্যাশেজ পরবর্তী সময়কালকে দ্বিতীয় অধ্যায়। প্রথম অধ্যায়ের তুলনায় দ্বিতীয় অধ্যায়ের পরিসংখ্যানও অনেক বেশি সমৃদ্ধ।

১৯৫৬ অ্যাশেজ পূর্ববর্তী: ২৪ ম্যাচে ৮৬ উইকেট, বোলিং গড় ২৭.৮৬, ইনিংসে ৫ উইকেট ৩ বার
১৯৫৬ অ্যাশেজ পরবর্তী: ২২ ম্যাচে ১০৭ উইকেট, বোলিং গড় ১৫.৯৩, ইনিংসে ৫ উইকেট ৬ বার।
জিম লেকারের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ১৯৪৮ সালে বারবাডোজের কেনসিংটন ওভালে। অভিষেক ইনিংসেই ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। যার মধ্যে ৬টা উইকেটই এসেছিল এক স্পেলে, দ্বিতীয় দিন সকালের সেশনে মাত্র ২৫ রানের বিনিময়ে।

লেকারের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণও মিলেছিল পরবর্তীকালে। ১৯৪৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ট্রেন্টব্রিজ টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৭৪ রানে ৮ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ১০ নম্বরে নেমে লেকার খেলেছিলেন ১০১ বলে ৬৩ রানের দারুণ একটি ইনিংস। স্যার অ্যালেক বেডসারকে সাথে নিয়ে ৯ম উইকেট জুটিতে যোগ করেছিলেন ৮৯ রান।

জিম লেকারের ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’ ছিল অস্ট্রেলিয়া। ‘ক্যাঙ্গারু’দের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট পরিসংখ্যানটাও দুর্দান্ত। মাত্র ১৮.২৭ গড়ে ৭৯ উইকেট। টেস্ট ও ফার্স্ট ক্লাস মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দু’বার নিয়েছেন ইনিংসে ১০ উইকেট।

অ্যাশেজে এক সিরিজে সবচেয়ে বেশি উইকেট লাভের কীর্তিটাও জিম লেকারের দখলে। ১৯৫৬ সালের অ্যাশেজে ৫ ম্যাচে নিয়েছিলেন রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪৬ টি উইকেট। এমনকি ১৯৫৮-৫৯ সালের অ্যাশেজ, যেবার ইংলিশরা বিধ্বস্ত হয়েছিল ৪-০ ব্যবধানে, সেবারও মাত্র ২১.২০ গড়ে ১৫ উইকেট নিয়ে বল হাতে ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছিলেন লেকার।

১৯৫১ সালে ওভালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে (৪/৫৪ ও ৬/৫৫) লেকার নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। লেকারের অনবদ্য বোলিং নৈপুণ্যের সুবাদেই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সেবার সিরিজ জিততে সমর্থ হয়েছিল ইংল্যান্ড।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া লিগ প্লাংকেট শিল্ডে খেলতে যান অকল্যান্ডের হয়ে। মাত্র ১৫.৭৯ গড়ে ২৪ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন সেবারের মৌসুমে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।

ইংলিশ বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রানে ৮ উইকেট প্রাপ্তির রেকর্ডটিও (১৪-১২-২-৮) নিজের দখলে রেখেছেন লেকার। ১৯৫০ সালে ব্র্যাডফোর্ডে অনুষ্ঠিত একটি চারদিনের ট্রায়াল ম্যাচে, ইংল্যান্ডের হয়ে অবশিষ্ট ইংল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে এ কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘when you batted against Jim Laker, you could hear the ball fizz as he spun it.’

১৯৫২ সালে উইজডেন মনোনীত বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন জিম লেকার। ১৯৫৬ সালে ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বিবিসি স্পোর্টস পারসোনালিটি অফ দ্য ইয়ার পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে আইসিসি হল অফ ফেমের গর্বিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাঁকে।

08/02/2021

পুরো নাম গ্লেন ডোনাল্ড ম্যাকগ্রা। জন্মেছিলেন ১৯৭০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, নিউ সাউথ ওয়েলসের ডাবো নামক এলাকায়। তাঁর বেড়ে ওঠা, ক্রিকেটের প্রথম পাঠ সবকিছুই সেখানে। ছেলেবেলায় ম্যাকগ্রার ভেতরে প্রথম বোলিং প্রতিভার সন্ধান পেয়েছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলসের কোচ ও সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার ডগ ওয়াল্টার্স।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে জন্মভূমি নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক। মাত্র ৮ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯৩ সালে পার্থে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক; মার্ভ হিউজের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে। অভিষেক টেস্টে ম্যাকগ্রার শিকার ছিল ৩ উইকেট।

ম্যাকগ্রার ডাক নাম ‘পিজিয়ন’ মানে পায়রা। সাদা পায়রার মতই ছোট্ট ছোট্ট পায়ে হেলে দুলে বল করতেন তিনি। এই নামটা তাঁকে দিয়েছিলেন সাবেক কোচ ব্র‍্যাড ম্যাকনামারা। তিনি বলতেন, ‘You’ve stolen a pigeon’s legs, Mcgrath.’

১৯৯৫ সালে ক্যারিবিয়ান সফরে ৩-২ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ওই সিরিজ হারটাকে দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা ক্যারিবীয় সাম্রাজ্যের পতন হিসেবে দেখেন অনেকে। ১৭ উইকেট নিয়ে তাতে বড় অবদান ছিল ২৫ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার ম্যাকগ্রার।

১৯৯৫, ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০১ ও ২০০৫ – টেস্টে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৫০ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন ৫ বার। ১৯৯৯ সালে ইতিহাসের ‘প্রথম’ ও ‘একমাত্র’ বোলার হিসেবে টেস্ট এবং ওয়ানডে উভয় ফরম্যাটেই ৫০টির বেশি উইকেট লাভের অনন্য কীর্তি গড়েন ম্যাকগ্রা।

২০০০ সালে প্রথমবারের মত কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন ম্যাকগ্রা। উস্টারশায়ারের হয়ে সেবারের ফার্স্ট ক্লাস মৌসুমে ১৪টি ম্যাচ খেলেন তিনি। উইকেট পেয়েছিলেন ৮০টা, গড় মাত্র ১৩.২১!

১২৪ টেস্টে ২১.৬৪ গড়ে ৫৬৩ উইকেট। টেস্টে কমপক্ষে ৪০০ উইকেট পেয়েছেন এমন বোলারদের মধ্যে বোলিং গড়ে (২১.৬৪) ম্যাকগ্রার চাইতে এগিয়ে আছেন কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গ্রেট স্যার কার্টলি অ্যাম্ব্রোস (২০.৯৯)।

ব্যাট হাতে ম্যাকগ্রা ছিলেন রীতিমতো ‘হাসির পাত্র’। টেস্ট এবং ওয়ানডে – দু’বারের অভিষেকেই উপহার পেয়েছেন ‘গোল্ডেন ডাক’! অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে টেস্টে সর্বাধিক ৩৫টা ডাকের রেকর্ডটাও ম্যাকগ্রার কৃতিত্ব। নিজে বারবার ০ রানে আউট হতেন বলে সেই ঝালটা তিনি মিটিয়েছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ওপর। টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ‘১০৪ বার’ প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের ০ রানে আউট করেছেন ম্যাকগ্রা!

টেস্টে সবচেয়ে কম রান খরচায় ম্যাচে ১০ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি গ্লেন ম্যাকগ্রার। ২০০৪ সালে পার্থে পাকিস্তানের বিপক্ষে দু’ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ২৭ রানে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন ম্যাকগ্রা। অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল ৪৯১ রানের বিশাল ব্যবধানে।

ওই ম্যাচেরই প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৪ রানে ৮ উইকেট পেয়েছিলেন ম্যাকগ্রা; যা টেস্ট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার।

২০০৪-০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাকগ্রা পেয়েছিলেন ক্যারিয়ারের একমাত্র টেস্ট ফিফটি। তাঁর ৬১ রানের ইনিংসটা টেস্ট ইতিহাসে ১১ নম্বরে নামা ব্যাটসম্যানের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর।

‘এগারো নম্বর’ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটাও একসময় ছিল ম্যাকগ্রার দখলে। ৬০৩ রানের রেকর্ডটা পরে ভেঙে দেন শ্রীলংকার মুত্তিয়া মুরালিধরন (৬২৩)।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ম্যাকগ্রার শিকার ৯৭৯ উইকেট যা ফাস্ট বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। টেস্টে ৫৬৩ উইকেট নিয়েছেন।

২০০০ সালের ১লা ডিসেম্বর, ম্যাকগ্রা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের একমাত্র হ্যাটট্রিকটা পেয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, পার্থের ওয়াকায়। পরপর ৩ বলে ম্যাকগ্রার শিকার হওয়া তিন ব্যাটসম্যান ছিলেন যথাক্রমে শেরউইন ক্যাম্পবেল, ব্রায়ান লারা ও জিমি অ্যাডামস।

মজার ব্যাপার হল, ব্রায়ান লারার উইকেটটা ছিল ম্যাকগ্রার ৩০০ তম টেস্ট শিকার। এবং সেটা তিনি নিয়েছিলেন রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে।

টেস্টে ম্যাকগ্রার ‘বানি’ ছিলেন মাইক আথারটন। সাবেক এই বাঁহাতি ইংলিশ ওপেনারকে মোট ১৯ বার আউট করেছেন ম্যাকগ্রা। নির্দিষ্ট কোন ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে টেস্টে কোন বোলারের এটাই সর্বোচ্চ সাফল্যের রেকর্ড।

যেকোন অজি কিংবা ইংলিশ ক্রিকেটারের গ্রেটনেসের মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় অ্যাশেজকে। গ্লেন ম্যাকগ্রা সেখানেও রেখেছেন তাঁর দৃপ্ত পদচারণা। ক্যারিয়ারে মোট ২৯ বার ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করেছেন তিনি; যার ১০ বারই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

১৯৯৭ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলেন ম্যাকগ্রা। প্রথম ম্যাচেই ৩৮ রানে ৮ উইকেট নিয়ে নাম ওঠান লর্ডসের অনার্স বোর্ডে।
লর্ডসের মাটিতে ম্যাকগ্রার ৫০০ তম শিকারে পরিণত হয়েছিলেন সাবেক ইংলিশ ওপেনার মার্কাস ট্রেসকোথিক।

২০০৫ সালের অক্টোবরে ‘আইসিসি সুপার সিরিজে’ অবশিষ্ট বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে কোর্টনি ওয়ালশকে (৫১৯ উইকেট) টপকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের কীর্তি গড়েন ম্য্যকগ্রা। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫২০ তম শিকার হিসেবে ম্যাকগ্রার আরও একটি মাইলফলকের অংশীদার হয়েছিলেন ব্রায়ান লারা।

২০০৬-০৭ সালের ফিরতি অ্যাশেজেই ইংলিশদের ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে ‘মধুর প্রতিশোধ’ নেয় অস্ট্রেলিয়া। তাতে বড় অবদান ছিল ম্যাকগ্রারও, মাত্র ২৩.৯০ গড়ে নিয়েছিলেন ২১ উইকেট। ব্রিসবেনের গ্যাবায় অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচটা ছিল ম্যাকগ্রার ‘কামব্যাক’ টেস্ট। ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য প্রায় আটটি মাস ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি দূরে ছিলেন ম্যাকগ্রা। ফিরেই দুর্দান্ত বোলিং করে নেন ৬ উইকেট।

২০০৭ সালের ২-৫ জানুয়ারি, সিডনিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটা খেলেছিলেন ম্যাকগ্রা। ওই ম্যাচের মধ্য দিয়েই টেস্ট ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ বলটিতেও উইকেট নিয়েছিলেন ম্যাকগ্রা।

ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলারদের তালিকায় ম্যাকগ্রার অবস্থান ৭ম। ২৫০টি ওয়ানডে খেলে মাত্র ২২.০২ গড়ে তাঁর অর্জন ৩৮১ উইকেট। ম্যাচে ৫ উইকেট দখল করেছেন ৭ বার, ৪ উইকেট ৯ বার।

বিশ্বকাপের সবচাইতে সফল বোলার কে? এই প্রশ্নের কেবল একটাই উত্তর হতে পারে গ্লেন ম্যাকগ্রা! ওয়ানডেতে যে ১৫ বার ম্যাচসেরা হয়েছেন, তার ৬ বারই বিশ্বকাপে!

১৯৯৬ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ৪টি বিশ্বকাপ খেলেন ম্যাকগ্রা। ৪ বারই ফাইনালে উঠেছিল অস্ট্রেলিয়া এবং একমাত্র ‘৯৬ বিশ্বকাপ বাদে ৩ বারই হয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপটাই ছিল তাঁর শেষ টুর্নামেন্ট। ২৬ উইকেট নিয়ে ম্যাকগ্রা হয়েছিলেন ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’, অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল টানা তৃতীয় শিরোপা।

বিশ্বকাপ শেষে দেখা গেল, ম্যাকগ্রা হচ্ছেন বোলিংয়ের ‘শচীন টেন্ডুলকার’! বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে বোলিং রেকর্ডের প্রায় সবই ম্যাকগ্রার দখলে!

বিশ্বকাপের সব আসর মিলিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট – ৭১টি
বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট – ২৬টি, ২০০৭ বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সেরা বোলিং ফিগার – ১৫ রানে ৭ উইকেট, নামিবিয়ার বিপক্ষে, ২০০৩ বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপের সর্বাধিক মেডেন ওভার – ৪২টি।

08/02/2021

থেমে থাকলে দাঁড়ি, হাঁটলে চিমটে।’ ইডেন হিন্দু হস্টেলে এ রকমই ছিল তাঁর পরিচয়। কারণ? ‘আমি শুধু রোগা নই; বেমানান ঢ্যাঙা। …তিরতিরে সোজা।’ ‘মান্ধাতার বাবার আমল’-এ কারণটাও বর্ণনা করে গিয়েছেন যুবনাশ্ব ওরফে মণীশ ঘটক। তবে ‘ছ ফুটের বেশি লম্বা, প্রস্থে কিছুটা দুঃস্থ হলেও’ তাঁর চেহারায় ছিল ‘বলশালিতার দীপ্তি’। আর শুধু কি চেহারা? ‘কল্লোলে আত্মপ্রকাশ করে সে যুবনাশ্বের ছদ্মনাম নিয়ে। সে দিন যুবনাশ্বের অর্থ যদি কেউ করত ‘জোয়ান ঘোড়া’, তা হলে খুব ভুল করত না, তার লেখায় ছিল সেই উদ্দীপ্ত সরলতা।’ লিখেছেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত তাঁর ‘কল্লোল যুগ’ গ্রন্থে।

মণীশ ঘটক মানেই কল্লোল যুগের প্রথম সারির মুখ। ‘বলতে গেলে মণীশই কল্লোলের প্রথম মশালচী’ (‘কল্লোল যুগ’)। সাহিত্যের নিত্যক্ষেত্রে সে দিন তিনি এমন সব অভাজনকে ডেকে এনেছিলেন যা ছিল একেবারে অভূতপূর্ব।

এ নিয়ে বিস্তারিত যুবনাশ্ব নিজেই লিখে গিয়েছেন তাঁর ‘মান্ধাতার বাবার আমল’ বইয়ে। পাবনায় জন্মগ্রহণ করে বাবার ও নিজের চাকরিসূত্রে বাংলাদেশ ও এ দেশের নানা শহর, মফস্‌সল ঘুরে অবশেষে বহরমপুরের পাকাপাকি বাসিন্দা হওয়া কবি ও কথাকার মণীশ ঘটকের লেখালেখির সূচনা হয় সমাজের তথাকথিত অবহেলিত ও অপরাধীদের নিয়েই। কলেজের ছাত্র তিনি তখন। এ সময় ‘কল্লোলে’র সংস্পর্শে এলেন হঠাৎ করেই।

‘কল্লোলে’র সংস্পর্শে আসার আগে অবধি তিনি ছিলেন মূলত সর্বভূক পাঠক এবং টেনিস খেলোয়াড়। হাতে হকিস্টিক নিয়ে কবিবন্ধু বিজয়ের সঙ্গে এক দিন হাজির হয়েছিলেন কল্লোলের অফিসে। সম্পাদক গোকুল নাগ এবং দীনেশরঞ্জনের অমায়িক, খোলামেলা ব্যবহার সে দিন তাঁর মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। আসার সময় গোকুল নাগ তাঁর কানের কাছে ফিসফিস করে বলেছিলেন, ‘কিছু লিখেছ-টিকেছ?

ঘাড় নেড়ে মণীশ ঘটক জানিয়েছিলেন, ‘না।’ গোকুল নাগ বলেছিলেন, ‘লেখ, মনে যা দাগ কাটে, কথায় তাকে ফোটাও। লেখা যেন কথা কয়।’ লিখতে হবে, ‘মনে যা দাগ কাটে।’ লেখালেখির শর্তও তো তাই। তবুও গোকুল নাগের কথার একটা অনুরণন মনের মধ্যে মাঝে মাঝেই টের পেতে লাগলেন তিনি। এ সময় ঘটনাচক্রে পকেটমার ফজলের সঙ্গে গড়ে উঠল একটা সখ্যতার সম্পর্ক। তার হাত ধরে তিনি পৌঁছে গেলেন চোর-ছ্যাঁচর-পকেটমারদের দুনিয়ায়, যা এ যাবৎকাল অব্দি তাঁর ও বাংলাসাহিত্যের পাঠকদেরও অচেনা।

কিন্তু এদের নিয়ে লিখলেই তো হল না, অন্যায়-অবিচার-অসাধুতাকে সাহিত্যের উপজীব্য করা যায় কি না তা নিয়ে ছিল রীতিমতো সংশয়। সংশয়টা এক দিন জানালেন সাহিত্যিক বন্ধু বিজয়কেই। বিজয় বললেন, ‘মান্ধাতার আমল থেকে যা চলে আসছে শেষপর্যন্ত তাই চায় পাঠকেরা।’ মান্ধাতার আমল! কথাটা মাথায় পাক খেল। তা হলে তো লিখতেই হবে। ভাবলেন, ‘মান্ধাতার আমল দেখায় সবাই, মান্ধাতার বাবার আমলের নামে ভড়কাবে। সেই নাম, মানে যুবনাশ্ব। ছদ্মনাম নিয়ে লিখব।’

যুবনাশ্ব ছদ্মনামে লেখা হল পটলডাঙার বৃত্তান্ত। নড়েচড়ে বসল বাংলাসাহিত্যের পাঠক। সজনীকান্ত রবীন্দ্রনাথের দ্বারস্থ হলেন সাহিত্যের অশ্লীলতা নিয়ে। বাংলা সাহিত্য কিন্তু পেয়ে গেল এক বলিষ্ঠ কথাকারকে যাঁর লেখায় প্রথম কথা বলে উঠল ফজলের মতো সমাজের চোখে অপরাধী এবং অপাঙ্‌ক্তেয় মানুষজন।

মণীশ ঘটক জন্মেছিলেন ১৯০২ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি পূর্ববঙ্গের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। পিতা সুরেশচন্দ্র ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। সুরেশচন্দ্রের পরিবারে ছিল শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনুকূল পরিমণ্ডল। তাই সুরেশচন্দ্র ও ইন্দুবালার ন’সন্তানের প্রায় সকলেই স্বকীয়তার ছাপ রেখেছিলেন সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রে। এঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ মণীশ আর সর্বকনিষ্ঠ ঋত্বিকের বিদ্যুৎদীপ্তি ছড়িয়ে পড়েছিল সাহিত্য ও চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে। মণীশ ঘটক কিন্তু শুধু পটলডাঙার পাঁচালিকার ছিলেন না। সে আমলে তিনি ছিলেন ক্ষমতাবান এক কবিও। তাঁর ‘শিলালিপি’ কাব্যগ্রন্থের অনেক কবিতা সে সময় সাহিত্যের উৎসাহী পাঠকদের কণ্ঠস্থ ছিল। বহরমপুরে বসবাস কালে তাঁদের লালদিঘির পাড়ের ঘটকবাড়ি হয়ে উঠেছিল এই মফস্‌সল শহরের সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকর্মের অক্ষবিন্দু। এই বহরমপুর থেকেই মণীশ ঘটক আমৃত্যু সম্পাদনা করে গিয়েছেন ‘বর্তিকা’ নামের ভিন্ন ধরনের এক পত্রিকা।

কর্মজীবনে প্রবেশের হাতছানি এসেছিল স্নাতক হওয়ার পরে পরেই। প্রবেশনার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে ব্যাঙ্কের চাকরির ইন্টারভিউ উতরেছিলেন অনেক কষ্টে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। আটকে গিয়েছিলেন মেডিক্যাল পরীক্ষায়। উচ্চতার অনুপাতে ওজন কম। ওজন বাড়াবার জন্য ব্যাঙ্ক দু’মাস সময় দিয়েছিল। চটজলদি সমাধানে এক সাহেবের পরামর্শে দার্জিলিং গিয়ে ভালমন্দ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনে প্রথম প্রবেশ করেছিলেন সুরায়। ওজন বাড়েনি, ফলত হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল চাকরি। অন্য খারাপ যা হয়েছিল সেটা পাকাপাকি পানাভ্যাসের কবলে পড়া। মোটা মাইনের চাকরি সে বার হাতছাড়া হলেও পরে আয়কর বিভাগে চাকরি পেয়ে আয়কর উপদেষ্টা হিসাবে সুনাম ও অর্থ দুই-ই পেয়েছিলেন।

সমসাময়িক সাহিত্যিক মহলে মণীশ ঘটক ছিলেন এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। তবে সবাই যে তাঁর উপর প্রসন্ন ছিলেন তা নয়। সজনীকান্ত ‘কল্লোল’ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে লিখেছেন, ‘আসল কর্ণধার গোকুলচন্দ্র নাগ… ‘তরুণ’ কবি ও শিল্পী হইলেও ভদ্ররুচি সম্পন্ন সংযত মানুষ ছিলেন, কোনওদিক দিয়া শালীনতা ক্ষুণ্ণ হইতে দিতেন না। মূর্তিমান বিদ্রোহের মতো মাঝে মাঝে পটলডাঙার পাঁচালিকার যুবনাশ্বের (মণীশ ঘটক) আবির্ভাব ঘটিলেও ‘কল্লোলে’র মোটামুটি আবহাওয়া ছিল শান্ত ও সুন্দর।’ মণীশ ঘটক সম্পর্কে এই অপ্রসন্নতা পরে সজনীকান্তের কেটে যায়। লেখেন, ‘মণীশ শক্ত জোরালো মানুষ, ঢাকঢাক গুড়গুড়ের দলে নয়।’

ষাটের দশকে কৃষ্ণনাগরিক লেখক সুধীর চক্রবর্তী মণীশ ঘটকের সংস্পর্শে আসেন। তাঁর মূল্যায়নেও যেন সজনীকান্তের প্রীতিপ্রসন্ন মন্তব্যেরই অনুরণন, ‘এত স্পষ্টভাষী, ঋজু শরীরের নির্মেদ মানুষ আর স্বভাবকোমল ব্যক্তিত্ব আর তো দেখলাম না।’

আয়কর বিভাগের বড়কর্তার কাজে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে সপ্তাহে তখন তিন দিন মণীশবাবু আয়কর দফতরে নানা কাজে আইনি পরামর্শ দিতে যেতেন কৃষ্ণনগরে। থাকতেন ‘বাসশ্রী’ হোটেলে। এ সময় কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজে অধ্যাপনার কাজে সদ্য যোগ দেওয়া সুধীরবাবু মাঝেমাঝেই যুবনাশ্বের সঙ্গে জুটে যেতেন। চলত সাহিত্যালাপ। বহরমপুরে তাঁর পরিবার অসংখ্য কৃতির সৌরভে তখন সম্পন্ন। বলতে ভালবাসতেন তাঁদের কথাও। কখনও ভাই ভবা (ঋত্বিক ঘটক), কখনও কন্যা মহাশ্বেতা, কখনও বা পুত্রবধূ গীতা ঘটক। আর থাকত আকুতি। সময় ও একাগ্রতার অভাবে ভাল কিছু লিখতে না পারার আকুতি।

এই আকুতি থেকে গিয়েছিল মৃত্যুকাল অব্দি। ১৯৭৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর অল্প কিছুদিন আগে সুধীরবাবু তাঁকে দেখতে এসেছিলেন বহরমপুরে। দীর্ঘদেহী ঋজু স্বভাবের মানুষটি ব্যাধিকবলিত হয়ে তখন তাঁর কবিতা ভাষাতেই ‘মহীরূহ হয়েছে অঙ্গার’। তবু ‘বর্তিকা’র শেষ শারদ সংখ্যার সম্পাদকীয় পড়ে শুনিয়েছিলেন অনুজ লেখককে। সে সম্পাদকীয়তে হয়তো সেই লিখতে না পারার আকুতি থেকেই জানিয়েছিলেন, ‘আমার শেষ প্রার্থনা এই যে যাঁর লিখবার কিছু ক্ষমতা আছে তিনি অন্তত দিনে তিন ঘণ্টা আপনমনে লিখে যাবেন, রাতারাতি বড়োলোক হবার আশা ত্যাগ করে’।

Videos (show all)

India vs Australia 4th test
Hero Cup
Harbhajan Singh's hat trick
Anil Kumble 10 wickets record  Download
রাকেশ শর্মা ও ইন্দিরা গান্ধীর কথোপকথন।
Song by soumitra chatterjee
❤️🙏
Jai Hind....
Happy Independence Day
#HappyBirthday #Legend #SatyajitRay
#Stayhome_staysafe

Location

Category

Telephone

Address


Andul, Mahiari, West Bengal 711302
Howrah
711302
Other Education in Howrah (show all)
Bangla Tech Jagat Bangla Tech Jagat
Bagnan Station Road
Howrah, 711303

ESTD-03/03/2017 Hello friends, Welcome to "Bangla Tech Jagat", my motive behind creating this channel is to make easy to understand, Tech Videos in Bengali,Hindi,English, and I want each and every individual whoever is in

Institute of indian Taxation and practice Institute of indian Taxation and practice
96.salkia School Road
Howrah

All type of Taxation like, Income Tax,Vat,Central Exise,Custum, Service Tax,Proffessional Tax etc.

Bengali Bengali
101 Deshpran Sashmal Road 203B
Howrah, 711101

Culture

Mathur Sir Classes Mathur Sir Classes
72, G.T. Road, Near Oriyapara
Howrah, 711106

Teaches Accountancy, Cost Accounting, Financial Management, E-Commerce, Business Communication, Business Studies and Economics.

NOBEL Academy for competitive examination NOBEL Academy for competitive examination
Ranihati,howrah,near Hakola.u.c.high School
Howrah

It is a special WBCS study academy

Swastika Educom Swastika Educom
Howrah, 711204

SWASTIKA EDUCOM 'Follow the light with all your might'

Codes Classes Codes Classes
14, Watkins Lane, Gokul Apts, Block B, 1st Floor( Near Howrah A.C. Market)
Howrah, 711101

Codes classes is a trusted platform for kids to learn coding with 1:1 online interactions. If you'd like to get in touch with us, please visit codesclasses.com

AMC Institute AMC Institute
Howrah

We are a dedicated center for continuing the education of people every where. We are here to help and want to make sure that you succeed.

Al-Quran Islamic Institute Al-Quran Islamic Institute
Pilkhana 3rd By Lane
Howrah, 711101

Aloha Learning Centre Uttarpara,Hooghly Aloha Learning Centre Uttarpara,Hooghly
96/2 B.N.ROAD UTTARPARA HOOGHLY
Howrah, 712258

ALOHA LEARNING CENTRE

Hult Prize at IIEST Hult Prize at IIEST
Howrah

"The Nobel prize for students"

WTS Academy WTS Academy
Howrah, 711101

WTS Academy is a Howrah based PHP training Academy offering young students who have passed out their college or in college to choose their career path in the field of web development and programming.