Gyaan Peeth - জ্ঞান পীঠ

Gyaan Peeth - জ্ঞান পীঠ

Comments

জ্ঞানপিডিয়ার এবারের দেবী-পক্ষের বিশেষ নিবেদন হিসেবে ছিল 'Durga Pujor Golpo' I এতে ছিল দুর্গাপুজো সম্পর্কিত পাঁচখানা ভিডিও -

১. দুর্গাপুজোর গল্প : পুরাণ থেকে বর্তমান https://www.facebook.com/104557154570985/videos/266476114616969
২. দুর্গার আসা-যাওয়ার বাহন কী কী? https://www.facebook.com/gyaanpedia/videos/1004060056779761
৩. দুর্গার সন্তান লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ? https://www.facebook.com/104557154570985/videos/1049490108836510
৪. দুর্গার রূপ কীভাবে বদলেছে? https://www.facebook.com/104557154570985/videos/2103880416414695
৫. কুমোরটুলির মহিলা শিল্পীরা https://www.facebook.com/gyaanpedia/videos/356070328815657

এইসমস্ত ভিডিওগুলো আপনাদের কেমন লেগেছে, আমাদের জানাবেন I ভবিষ্যতে কোন কোন বিষয়ের ওপর এরকম তথ্যসমৃদ্ধ ভিডিও দেখতে চান, সেটাও আমাদের বলবেন I আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা টিম জ্ঞানপিডিয়াকে আরো ভালো কাজ করার উৎসাহ যোগাবে I
করোনা আবহ কে সঙ্গী করেই হাতে আঁকা ছবিতে ভরিয়ে তুলেছে এবারের পূজো মন্ডপ
মদনপুর নদিয়ার দেবব্রত সেন অঙ্কনশিল্পী
কাল দেখা হচ্ছে..

.
সকলের সাদর আমন্ত্রণ......
Con no... 9064561731.......
সকলকে সাদর আমন্ত্রণ
Ami thakchi prosner dali nie....With team gyaan peeth....11th jan...Tomra ready tho?
Quiz Contest on 5th January
At Hatpukur Subhas Sangha, near Ramrajatala Station
Time: 3.30 PM
No Entry fees
ছয় বলে ছ'টি ছয়!! কে কে এই রেকর্ড করেছেন? জানতে অবশ্যই ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখে নিনঃ
https://youtu.be/E3IFlm4dMew
Come..Fall In Quiz..
♥️♥️Happy Birthday ♥️♥️
🎂🎂🎂🎂
#Gyaan_Peeth
Daily current affairs in #Bengali 6th March 2019

"নেই কোন ভেদাভেদ, চাই সকলের হিত
এসো তবে সবে মিলে, গড়ে তুলি জ্ঞানপীঠ।"

Operating as usual

20/09/2021

শান্তি শব্দের অন্যতম অর্থ - বিঘ্নরহিত উদ্বেগশূন্য আনন্দময় জীবন।

সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই পৃথিবীতে শান্তি দেওয়ার জন্য ঋষিগণ বিভিন্ন মন্ত্র উচ্চারনের মাধ্যমে দেবতাদের তুষ্ট করতেন। এখনও হিন্দুরা এই মন্ত্র উচ্চারনের মাধ্যমে গৃহ শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টা করেন।

ওঁ ভদ্রং কর্ণেভিং শৃণুয়াম দেবাঃ।
ভদ্রং পশ্যেমাক্ষভির্য জত্রাঃ
স্থিরৈঃ অঙ্গৈঃ তুষ্টু বাংসঃ তনুহভিঃ।
ব্যশেম দেবহিতং যৎ আয়ুঃ।
ওঁ স্বস্তি নো ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ।
স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্বদেবাঃ।
স্বস্তি নোস্তার্ক্ষ্যো অরিষ্টনেমিঃ।
স্বস্তি নো বৃহস্পতির্দধাতু
ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ ।।

অর্থাৎ,

হে দেবগণ, আমরা যেন কান দিয়ে কল্যাণবচন শুনি; হে যজনীয় দেবগণ, আমরা চোখ দিয়ে যেন সুন্দর বস্তু দেখি; সুস্থদেহের অধিকারী হয়ে আজীবন আমরা যেন তোমাদের স্তবগান করে দেবকর্মে নিয়োজিত থাকি। বৃদ্ধশ্রবা ইন্দ্র আমাদের মঙ্গল করুন; সকল জ্ঞানের আধার ও জগতের পোষক পূষা আমাদের মঙ্গল করুন; অহিংসার পালক তার্ক্ষ্য (গরুড়) আমাদের মঙ্গল করুন। ওঁ আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক - এই ত্রিবিধ বিঘ্নের বিনাশ হোক।


কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি (ইংরেজি: Peace)বলতে বুঝি কোন প্রকার সংঘর্ষ কিংবা যুদ্ধবিহীন সময়কাল। বৃহৎ পরিসরে শান্তি বলতে রাষ্ট্রের ঐক্য, শান্ত অবস্থা বিরাজমান যা অন্য কোন কিছু বিঘ্নতা সৃষ্টিকারী পরিবেশ দ্বারা আক্রান্ত না হওয়াকে বোঝায়।

অর্থাৎ, শুধুমাত্র নিজগৃহে শান্তি বজায় রাখলে চলবে না আমাদেরকে এই বিশ্বেও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা ভাবতে হবে।
আর এই শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অর্থাৎ একটি যুদ্ধবিহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত নম্বর ৩৬/৬৭ প্রস্তাব অনুসারে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ‘তৃতীয় মঙ্গলবার’ রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পরবর্তীতে, ২০০১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত ৫৫/২৮২ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে ২০০২ সাল থেকে প্রতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

বিশ্ব শান্তি দিবস বা আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস জাতিসংঘ কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত দিন যা এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত বিশ্বের সকল দেশ ও সংগঠন কর্তৃক যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালিত হয়ে থাকে। পৃথিবী থেকে যুদ্ধ, হিংসা, আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগের মতো ঘটনা মুছে ফেলতেই প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।
এ বছর দিবসটি পালনের জন্য নির্ধারিত বিষয় (থিম) হলো—একসঙ্গে শান্তিকে গড়ি। অর্থাৎ আমরা ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র যে দেশেরই মানুষ হই না কেন, আমাদের একত্র হয়ে শান্তি গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

আজ এই বিশেষ দিনে সারা বিশ্বে শান্তি প্রার্থনা করি।।।

শান্তি শব্দের অন্যতম অর্থ - বিঘ্নরহিত উদ্বেগশূন্য আনন্দময় জীবন।

সেই প্রাচীনকাল থেকেই এই পৃথিবীতে শান্তি দেওয়ার জন্য ঋষিগণ বিভিন্ন মন্ত্র উচ্চারনের মাধ্যমে দেবতাদের তুষ্ট করতেন। এখনও হিন্দুরা এই মন্ত্র উচ্চারনের মাধ্যমে গৃহ শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টা করেন।

ওঁ ভদ্রং কর্ণেভিং শৃণুয়াম দেবাঃ।
ভদ্রং পশ্যেমাক্ষভির্য জত্রাঃ
স্থিরৈঃ অঙ্গৈঃ তুষ্টু বাংসঃ তনুহভিঃ।
ব্যশেম দেবহিতং যৎ আয়ুঃ।
ওঁ স্বস্তি নো ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ।
স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্বদেবাঃ।
স্বস্তি নোস্তার্ক্ষ্যো অরিষ্টনেমিঃ।
স্বস্তি নো বৃহস্পতির্দধাতু
ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ ।।

অর্থাৎ,

হে দেবগণ, আমরা যেন কান দিয়ে কল্যাণবচন শুনি; হে যজনীয় দেবগণ, আমরা চোখ দিয়ে যেন সুন্দর বস্তু দেখি; সুস্থদেহের অধিকারী হয়ে আজীবন আমরা যেন তোমাদের স্তবগান করে দেবকর্মে নিয়োজিত থাকি। বৃদ্ধশ্রবা ইন্দ্র আমাদের মঙ্গল করুন; সকল জ্ঞানের আধার ও জগতের পোষক পূষা আমাদের মঙ্গল করুন; অহিংসার পালক তার্ক্ষ্য (গরুড়) আমাদের মঙ্গল করুন। ওঁ আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক - এই ত্রিবিধ বিঘ্নের বিনাশ হোক।


কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি (ইংরেজি: Peace)বলতে বুঝি কোন প্রকার সংঘর্ষ কিংবা যুদ্ধবিহীন সময়কাল। বৃহৎ পরিসরে শান্তি বলতে রাষ্ট্রের ঐক্য, শান্ত অবস্থা বিরাজমান যা অন্য কোন কিছু বিঘ্নতা সৃষ্টিকারী পরিবেশ দ্বারা আক্রান্ত না হওয়াকে বোঝায়।

অর্থাৎ, শুধুমাত্র নিজগৃহে শান্তি বজায় রাখলে চলবে না আমাদেরকে এই বিশ্বেও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা ভাবতে হবে।
আর এই শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অর্থাৎ একটি যুদ্ধবিহীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত নম্বর ৩৬/৬৭ প্রস্তাব অনুসারে প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ‘তৃতীয় মঙ্গলবার’ রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পরবর্তীতে, ২০০১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত ৫৫/২৮২ নম্বর প্রস্তাব অনুসারে ২০০২ সাল থেকে প্রতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

বিশ্ব শান্তি দিবস বা আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস জাতিসংঘ কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত দিন যা এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত বিশ্বের সকল দেশ ও সংগঠন কর্তৃক যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালিত হয়ে থাকে। পৃথিবী থেকে যুদ্ধ, হিংসা, আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগের মতো ঘটনা মুছে ফেলতেই প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।
এ বছর দিবসটি পালনের জন্য নির্ধারিত বিষয় (থিম) হলো—একসঙ্গে শান্তিকে গড়ি। অর্থাৎ আমরা ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র যে দেশেরই মানুষ হই না কেন, আমাদের একত্র হয়ে শান্তি গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

আজ এই বিশেষ দিনে সারা বিশ্বে শান্তি প্রার্থনা করি।।।

20/09/2021

Early Sketch of famous Micky Mouse.

Early Sketch of famous Micky Mouse.

20/09/2021

Buddhadeb Guha

Buddhadeb Guha

20/09/2021

কলকাতার কাছেই বনেদিয়ানা : আন্দুল-মৌড়ির শারদোৎসব (প্রথম পর্ব)

গঙ্গা-দামোদর-রূপনারায়ণ বিধৌত এক জেলা, নিচু জলাভূমি, নল খাগড়ার জঙ্গলে ভর্তি। কিন্তু সরস্বতীর স্রোতপথ ধরে এই অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে কিছু ছোট-বড় জনপদ। এই জনপদগুলির উপর দিয়েই যেতে হয় নীলাচলের পথে। সরস্বতী নদীর দুই পাড়ে উঁচু মাটির বাঁধ, সেই বাঁধের ওপর দিয়েই পথ।
সেই পথ ধরে এগিয়ে চলেছেন এক অসাধারণ মানুষ। ছয় ফুটের ওপর লম্বা, গৌরবর্ণ, অসাধারণ সুদর্শন, মুখে তাঁর রাধাকৃষ্ণ নাম। শত শত মানুষ লুটিয়ে পড়ছে তাঁর পায়ে, লুটোপুটি খাচ্ছে তাঁর পায়ের ধুলো মেশানো পথের উপর, ঘর ঘর থেকে উঠছে শঙ্খরোল। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, আমি ভগবান চৈতন্যদেবের কথা বলছি। তাঁর এই নীলাচল গমনের পর থেকে এই জনপদগুলির নাম হলো কোনোটির মহিয়াড়ি, কোনোটির আনন্দধূলি, কোনোটির বা শঙ্খরোল। যেগুলির বর্তমান নাম মৌড়ি, আন্দুল, শাঁখরাইল ইত্যাদি।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আর বাকি কয়েকটা দিন। চলুন আজ আপনাদের নিয়ে যাব "কলকাতার কাছেই"। আপনাদের কি প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক গজেন্দ্র কুমার মিত্রের বিখ্যাত উপন্যাসটির কথা মনে পড়ছে। একদম ঠিক ধরেছেন সাহিত্যের সেই পথ ধরেই আপনাদের নিয়ে যাব আন্দুল-মৌড়ির পুজোর আঙিনায়, বনেদিয়ানার ঐতিহ্য এখানে আপন আলোকে ভাস্বর।

রাত তখন নিশুতি, নবাবের রংমহল থেকে ভেসে আসছে বাইজির ঘুঙুরের আওয়াজ। এমন নিশুতি রাতে আঠাশ দাঁড়ির দুইটি বজরায় চুপিচুপি উঠছেন করা? আরে ওঁরা তো রতিকান্ত কুশারী আর সতীকান্ত কুশারী ও তাঁদের পরিবার। বর্ধমানের কুশগ্রাম থেকে এসেছিলেন বলে তাঁদের পদবী কুশারী। গণিত বিদ্যায় অসাধারণ পারদর্শী এই দুই ভাইকে নবাব গো-মাংস খাইয়ে ধর্ম চ্যুত করবেন বলে রাতের অন্ধকারে পরিবার সহ ভেসে চললেন দুই ভাই অজানার পথে। ভাগীরথী পার হয়ে তাঁরা ঢুকলেন সরস্বতী নদী পথে। দুইদিন নৌকোযাত্রার ধকলে বড়ভাই রতিকান্তর আসন্ন প্রসবা স্ত্রীয়ের প্রসব বেদনা উঠল। ছোটভাই সতীকান্ত কে না থেমে এগিয়ে যাওয়ার উপদেশ দিয়ে, রতিকান্ত বজরা ভেড়ালেন সরস্বতী নদীর তীরে ছোট্ট এক জনপদে। সাল-তারিখের নিয়মে সে আজ থেকে প্রায় তিনশ পঞ্চাশ বছর আগেকার ঘটনা। সৌভাগ্য বশত রতিকান্তের এক পরমা সুন্দরী কন্যাসন্তান হয়। পরবর্তী কালে তিনি নিজের বুদ্ধির বলে অনেক অর্থ উপার্জন করেন। আর সতী কান্তের বজরা ভেড়ে গোবিন্দপুর গ্রামের পাথুরিয়া ঘাটাতে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, এরাই হলেন কলকাতার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের পূর্ব পুরুষ। রতিকান্ত যে জনপদে ঘর বেঁধেছিলেন সেই জনপদই আজকের আন্দুল-মৌড়ি। এই রতিকান্ত কুশারীর জামাতাই এনাদের বংশে প্রথম দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন, যা বর্তমানে মৌড়ি রায় বাড়ির পুজো হিসাবে বিখ্যাত। যদিও সঠিক সন তারিখ পাওয়া যায় না, তবুও এই পুজোর বয়স ৩৩০ বছরের অধিক।
এই পুজো নীতি ও নিষ্ঠায় আপন গৌরব গরিমা আজও ধরে রেখেছে। ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবার আজও একান্ন হয় মায়ের ডাকে।
এই পুজোর এক অন্যতম রীতি দশমীতে বাড়ির প্রাঙ্গনে বাঘের রাজা দক্ষিণ রায়ের পূজা। আজ থেকে অন্যূন তিনশ বছর আগে এই অঞ্চল ছিল জলে জঙ্গলে পরিপূর্ণ। কথিত আছে আজ থেকে প্রায় আড়াইশ বছর আগে এক দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় প্রতিমা বাহকদের ওপর বাঘের আক্রমণ হয়। তার হাত থেকে বাঁচার জন্য তদানীন্তন পূর্বপুরুষ এখানে দক্ষিণ রায়ের মন্দির নির্মাণের চেষ্টা করলেও তা বারবার ভেঙ্গে পড়ে। তখন বাড়ির প্রাঙ্গণে বিজয়া দশমীর দিন দক্ষিণ রায়ের পূজা প্রচলিত হয়।এই পূজা দক্ষিণ রায়ের মাথা অঙ্কিত "বারা" অর্থাৎ ধড় বিহীন মুন্ডের দ্বারা সম্পন্ন হতো।
এই পূজার আর এক বনেদিয়ানা হলো মহিয়াড়ি অঞ্চলের যত বারোয়ারি ও বাড়ির দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতো তাঁরা এই বাড়ির প্রাঙ্গণে দশমীর বিজয়ার আগে প্রতিমা নিয়ে উপস্থিত হয়ে তারপর সরস্বতী নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন করেন। এখন সরস্বতী নদীর নাব্যতা অত্যন্ত ক্ষীণ হওয়ার জন্য, প্রতিমা এই পরিবারের প্রতিষ্ঠিত পুকুরে বা অন্য অন্য জায়গায় নিরঞ্জিত হয়। কথিত আছে এটি রায় বংশের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে নজরানা হিসেবে প্রচলিত হয়।
আজ যখন ফ্ল্যাট সংস্কৃতি মানুষের ঐতিহ্য ও বনেদিয়ানা কে জীবন থেকে মুছে ফেলতে চাইছে তখন আজও সমান নিষ্ঠার সাথে এই পূজা হয়ে চলেছে। বনেদিয়ানার লড়াইয়ে এনারা আজও আপন ঐতিহ্যে ভাস্বর।

লেখায় সুপ্রতিক দা। 🙏

কলকাতার কাছেই বনেদিয়ানা : আন্দুল-মৌড়ির শারদোৎসব (প্রথম পর্ব)

গঙ্গা-দামোদর-রূপনারায়ণ বিধৌত এক জেলা, নিচু জলাভূমি, নল খাগড়ার জঙ্গলে ভর্তি। কিন্তু সরস্বতীর স্রোতপথ ধরে এই অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে কিছু ছোট-বড় জনপদ। এই জনপদগুলির উপর দিয়েই যেতে হয় নীলাচলের পথে। সরস্বতী নদীর দুই পাড়ে উঁচু মাটির বাঁধ, সেই বাঁধের ওপর দিয়েই পথ।
সেই পথ ধরে এগিয়ে চলেছেন এক অসাধারণ মানুষ। ছয় ফুটের ওপর লম্বা, গৌরবর্ণ, অসাধারণ সুদর্শন, মুখে তাঁর রাধাকৃষ্ণ নাম। শত শত মানুষ লুটিয়ে পড়ছে তাঁর পায়ে, লুটোপুটি খাচ্ছে তাঁর পায়ের ধুলো মেশানো পথের উপর, ঘর ঘর থেকে উঠছে শঙ্খরোল। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, আমি ভগবান চৈতন্যদেবের কথা বলছি। তাঁর এই নীলাচল গমনের পর থেকে এই জনপদগুলির নাম হলো কোনোটির মহিয়াড়ি, কোনোটির আনন্দধূলি, কোনোটির বা শঙ্খরোল। যেগুলির বর্তমান নাম মৌড়ি, আন্দুল, শাঁখরাইল ইত্যাদি।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আর বাকি কয়েকটা দিন। চলুন আজ আপনাদের নিয়ে যাব "কলকাতার কাছেই"। আপনাদের কি প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক গজেন্দ্র কুমার মিত্রের বিখ্যাত উপন্যাসটির কথা মনে পড়ছে। একদম ঠিক ধরেছেন সাহিত্যের সেই পথ ধরেই আপনাদের নিয়ে যাব আন্দুল-মৌড়ির পুজোর আঙিনায়, বনেদিয়ানার ঐতিহ্য এখানে আপন আলোকে ভাস্বর।

রাত তখন নিশুতি, নবাবের রংমহল থেকে ভেসে আসছে বাইজির ঘুঙুরের আওয়াজ। এমন নিশুতি রাতে আঠাশ দাঁড়ির দুইটি বজরায় চুপিচুপি উঠছেন করা? আরে ওঁরা তো রতিকান্ত কুশারী আর সতীকান্ত কুশারী ও তাঁদের পরিবার। বর্ধমানের কুশগ্রাম থেকে এসেছিলেন বলে তাঁদের পদবী কুশারী। গণিত বিদ্যায় অসাধারণ পারদর্শী এই দুই ভাইকে নবাব গো-মাংস খাইয়ে ধর্ম চ্যুত করবেন বলে রাতের অন্ধকারে পরিবার সহ ভেসে চললেন দুই ভাই অজানার পথে। ভাগীরথী পার হয়ে তাঁরা ঢুকলেন সরস্বতী নদী পথে। দুইদিন নৌকোযাত্রার ধকলে বড়ভাই রতিকান্তর আসন্ন প্রসবা স্ত্রীয়ের প্রসব বেদনা উঠল। ছোটভাই সতীকান্ত কে না থেমে এগিয়ে যাওয়ার উপদেশ দিয়ে, রতিকান্ত বজরা ভেড়ালেন সরস্বতী নদীর তীরে ছোট্ট এক জনপদে। সাল-তারিখের নিয়মে সে আজ থেকে প্রায় তিনশ পঞ্চাশ বছর আগেকার ঘটনা। সৌভাগ্য বশত রতিকান্তের এক পরমা সুন্দরী কন্যাসন্তান হয়। পরবর্তী কালে তিনি নিজের বুদ্ধির বলে অনেক অর্থ উপার্জন করেন। আর সতী কান্তের বজরা ভেড়ে গোবিন্দপুর গ্রামের পাথুরিয়া ঘাটাতে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, এরাই হলেন কলকাতার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের পূর্ব পুরুষ। রতিকান্ত যে জনপদে ঘর বেঁধেছিলেন সেই জনপদই আজকের আন্দুল-মৌড়ি। এই রতিকান্ত কুশারীর জামাতাই এনাদের বংশে প্রথম দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন, যা বর্তমানে মৌড়ি রায় বাড়ির পুজো হিসাবে বিখ্যাত। যদিও সঠিক সন তারিখ পাওয়া যায় না, তবুও এই পুজোর বয়স ৩৩০ বছরের অধিক।
এই পুজো নীতি ও নিষ্ঠায় আপন গৌরব গরিমা আজও ধরে রেখেছে। ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবার আজও একান্ন হয় মায়ের ডাকে।
এই পুজোর এক অন্যতম রীতি দশমীতে বাড়ির প্রাঙ্গনে বাঘের রাজা দক্ষিণ রায়ের পূজা। আজ থেকে অন্যূন তিনশ বছর আগে এই অঞ্চল ছিল জলে জঙ্গলে পরিপূর্ণ। কথিত আছে আজ থেকে প্রায় আড়াইশ বছর আগে এক দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় প্রতিমা বাহকদের ওপর বাঘের আক্রমণ হয়। তার হাত থেকে বাঁচার জন্য তদানীন্তন পূর্বপুরুষ এখানে দক্ষিণ রায়ের মন্দির নির্মাণের চেষ্টা করলেও তা বারবার ভেঙ্গে পড়ে। তখন বাড়ির প্রাঙ্গণে বিজয়া দশমীর দিন দক্ষিণ রায়ের পূজা প্রচলিত হয়।এই পূজা দক্ষিণ রায়ের মাথা অঙ্কিত "বারা" অর্থাৎ ধড় বিহীন মুন্ডের দ্বারা সম্পন্ন হতো।
এই পূজার আর এক বনেদিয়ানা হলো মহিয়াড়ি অঞ্চলের যত বারোয়ারি ও বাড়ির দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতো তাঁরা এই বাড়ির প্রাঙ্গণে দশমীর বিজয়ার আগে প্রতিমা নিয়ে উপস্থিত হয়ে তারপর সরস্বতী নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন করেন। এখন সরস্বতী নদীর নাব্যতা অত্যন্ত ক্ষীণ হওয়ার জন্য, প্রতিমা এই পরিবারের প্রতিষ্ঠিত পুকুরে বা অন্য অন্য জায়গায় নিরঞ্জিত হয়। কথিত আছে এটি রায় বংশের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে নজরানা হিসেবে প্রচলিত হয়।
আজ যখন ফ্ল্যাট সংস্কৃতি মানুষের ঐতিহ্য ও বনেদিয়ানা কে জীবন থেকে মুছে ফেলতে চাইছে তখন আজও সমান নিষ্ঠার সাথে এই পূজা হয়ে চলেছে। বনেদিয়ানার লড়াইয়ে এনারা আজও আপন ঐতিহ্যে ভাস্বর।

লেখায় সুপ্রতিক দা। 🙏

20/09/2021

Construction of Eiffel Tower 1880

Construction of Eiffel Tower 1880

20/09/2021
19/09/2021

Rare photo of Ma Sarada

Rare photo of Ma Sarada

19/09/2021
19/09/2021
19/09/2021

১৯৫২, ‘দেশ’-এ চাকরি পাওয়ার অল্প কয়েক দিন পরে প্রকাশিত হল তাঁর গল্প ‘আত্মজা’। বাবা, মা ও তাদের এক মাত্র কন্যাকে ঘিরে গল্প। যেখানে বাবা-মেয়ের স্নেহের সম্পর্ককে বিকৃত করতে পিছপা হয়নি মা। পঞ্চাশের দশকে এই মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার গল্প অধিকাংশ পাঠক মেনে নিতে পারেননি। ‘আত্মজা’ প্রসঙ্গে ‘শনিবারের চিঠি’ লিখেছিল, ‘নির্মল করো বিমল করে, মলিন মর্ম মুছায়ে।’ তরুণ লেখকের সাহসী কলম কিছু প্রশংসা পেলেও তা নিন্দার ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল।

‘দেশ’-এর তৎকালীন সম্পাদক সাগরময় ঘোষকে এক জন বলেছিলেন, ‘‘তুমি এ সব কী ছেপেছ?’’ উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘‘বেশ করেছি ছেপেছি। আমার ভাল লেগেছে তাই ছেপেছি।’’ এর পরে বিমল করকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি।
বিমলের দাদু দুর্গাদাস করের ছিল বিস্তর জমিজমা। কিন্তু সে সব ছেড়ে স্ত্রী শরৎকুমারীকে নিয়ে তিনি উত্তর চব্বিশ পরগনা ছেড়ে চলে যান মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে। কয়েক দিন পরে সেখান থেকে ইলাহাবাদে। শুরু করলেন ব্যবসা। জমে ওঠার আগেই মারা যান দুর্গাদাস। স্বামীর শোকে ভেঙে না পড়ে শরৎকুমারী শক্ত হাতে সংসারের হাল ধরেন। বিমলের জ্যাঠা সতীশচন্দ্র, বাবা জ্যোতিষচন্দ্র এবং সেজকাকা নগেন্দ্রনাথ রেলে চাকরি করতেন। ছোটকাকা হরিচরণ কাজ করতেন কোলিয়ারিতে। তাই বিমলের শৈশব কেটেছে ধানবাদ, আসানসোল, কুলটি, হাজারিবাগ... বঙ্গ বিহারের রেল শহর কোলিয়ারিকে কেন্দ্র করে। হয়তো এই জন্য তাঁর সাহিত্যেও বারবার ঘুরেফিরে এসেছে এই প্রবাসের কথা। বিমলের জ্যাঠা বা বাবা নন, কর-বাড়ির কর্তা ছিলেন তাঁর সেজকাকা! যে যেখানেই থাকুন না কেন, কর-পরিবারের কোনও কাজ হত না শরৎকুমারী আর নগেন্দ্রনাথের অনুমতি ছাড়া। একান্নবর্তী কর-পরিবারে বন্ধন ছিল সুদৃঢ়। কলকাতায় এসে থিতু হওয়ার পরেও পুজোর ছুটিতে পরিবার নিয়ে বিমল চলে যেতেন হাজারিবাগে। সেখানে সকলের সঙ্গে নিখাদ আড্ডা, পিকনিকের ছবি তুলে ধরেছিলেন তাঁর ‘জীবনায়ন’ উপন্যাসে।

১৯২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরে বিমলের জন্ম তাঁর মামার বাড়ি টাকিতে। তখন জ্যোতিষচন্দ্র চাকরি করতেন ধানবাদে। এখানে ছোট্ট বিমলের স্কুলের চেয়ে ভাল লাগত রেলওয়ে ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরি। যেখানে তিনি মজে থাকতেন ‘ঠাকু’মার ঝুলি’, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ‘রামায়ণ’, ‘মহাভারত’, টুনটুনির গল্প আর সুকুমার রায়ে।

নিয়ম করে বাড়িতে আসত ‘ভারতবর্ষ’, ‘প্রবাসী’, ‘বসুমতী’, ‘নবশক্তি’, ‘প্রবর্তক’ ইত্যাদি পত্রিকা। অজান্তেই সেজকাকার বাড়ি হয়ে উঠেছিল বিমলের সাহিত্যচর্চার আঁতুড়ঘর।

স্কুলের পাট শেষ হতে বাড়ির ইচ্ছেয় বিমল কলকাতায় আসেন ডাক্তারি পড়তে। তখন মফস্‌সলের ছেলেটির স্বাধীন জীবন। তাঁকে টানছে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর টকি শো হাউসের পর্দায় গ্রেটা গার্বো, ক্লদেত কোলবার্ট, এরোল ফ্রিন। ভাল লাগছে প্রমথেশ বড়ুয়া, অহীন্দ্র চৌধুরী, ছবি বিশ্বাস, কাননবালা, যমুনা দেবীর অভিনয়। বঙ্কিম-শরতের গণ্ডি পেরিয়ে বিমলের ভাল লাগছে বুদ্ধদেব বসু, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, জীবনানন্দ দাশ, আনাতোল ফ্রাঁস, লরেন্স... এই ধরনের পড়াশোনায় উৎসাহ পেয়েছিলেন এক দূর সম্পর্কের দাদার কাছ থেকে। বিমল তাঁকে ডাকতেন ‘দাদামণি’ নামে। যাঁর উৎসাহে হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে কিনতেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত ‘পরিচয়’, বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা’ পত্রিকা।

১৯৫১ সাল। বিমলের জীবন তখন অস্থায়ী শিবিরের মতো। প্রবল আর্থিক টানাটানি। এমনই এক দুপুরে বাসে যেতে যেতে বিমলকে জিজ্ঞেস করেছিলেন গৌরকিশোর, ‘‘বিয়ে করবি? আমার একটা গরিব বোন আছে। কোচবিহারে থাকে। একটু কালো। স্কুলে চাকরি করে।’’ কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তরে বিমল বলেছিলেন, ‘‘করব।’’ আর তাতেই গৌরকিশোরের আনন্দোচ্ছ্বাস!

৫ জুন কফি হাউসে হবু স্ত্রী গীতার সঙ্গে প্রথম আলাপ হয় বিমলের। পাঁচ দিন পরে ১০ জুন তাঁরা বিয়ে করেন! অভিভাবকদের মতামতের তোয়াক্কা করেননি বিমল। হাজারিবাগের বাড়িতে স্রেফ একটা চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, ‘অমুক দিন বৌভাতের আয়োজন কোরো।’ এতে কিন্তু তাঁর বাবা-জ্যাঠা বা পরিবারের কেউ ক্ষুণ্ণ হননি। বিমলের স্ত্রীকে তাঁরা গ্রহণ করেছিলেন সাদরে।

একাধিক সম্মান পেয়েছেন বিমল কর। ১৯৬৭ এবং ১৯৯২, দু’বার আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন। দ্বিতীয় বার ছোট গল্পের সংকলন ‘উপাখ্যানমালা’র জন্য। ১৯৭৫ সালে ‘অসময়’-এর জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। ১৯৮১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার। এবং পরের বছর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছিলেন নরসিংহ দাস পুরস্কার। কিন্তু এত প্রাপ্তির পরেও নিজের লেখা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছিলেন ‘আজ থেকে ১০-১৫ বছর পরে কোনও পাঠক আমার লেখা পড়বেন এমন অবিশ্বাস্য কল্পনা আমি করি না। সে চিন্তায় আমি বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নই। কাল, মহাকাল, যুগ— এ সব পোশাকী কথার কোনও অর্থ আমার কাছে নেই।’

ওনার জন্ম শতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই আমরা।

ঋণ: বিমল কর: সময় অসময়ের উপাখ্যানমালা।

১৯৫২, ‘দেশ’-এ চাকরি পাওয়ার অল্প কয়েক দিন পরে প্রকাশিত হল তাঁর গল্প ‘আত্মজা’। বাবা, মা ও তাদের এক মাত্র কন্যাকে ঘিরে গল্প। যেখানে বাবা-মেয়ের স্নেহের সম্পর্ককে বিকৃত করতে পিছপা হয়নি মা। পঞ্চাশের দশকে এই মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার গল্প অধিকাংশ পাঠক মেনে নিতে পারেননি। ‘আত্মজা’ প্রসঙ্গে ‘শনিবারের চিঠি’ লিখেছিল, ‘নির্মল করো বিমল করে, মলিন মর্ম মুছায়ে।’ তরুণ লেখকের সাহসী কলম কিছু প্রশংসা পেলেও তা নিন্দার ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল।

‘দেশ’-এর তৎকালীন সম্পাদক সাগরময় ঘোষকে এক জন বলেছিলেন, ‘‘তুমি এ সব কী ছেপেছ?’’ উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘‘বেশ করেছি ছেপেছি। আমার ভাল লেগেছে তাই ছেপেছি।’’ এর পরে বিমল করকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি।
বিমলের দাদু দুর্গাদাস করের ছিল বিস্তর জমিজমা। কিন্তু সে সব ছেড়ে স্ত্রী শরৎকুমারীকে নিয়ে তিনি উত্তর চব্বিশ পরগনা ছেড়ে চলে যান মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে। কয়েক দিন পরে সেখান থেকে ইলাহাবাদে। শুরু করলেন ব্যবসা। জমে ওঠার আগেই মারা যান দুর্গাদাস। স্বামীর শোকে ভেঙে না পড়ে শরৎকুমারী শক্ত হাতে সংসারের হাল ধরেন। বিমলের জ্যাঠা সতীশচন্দ্র, বাবা জ্যোতিষচন্দ্র এবং সেজকাকা নগেন্দ্রনাথ রেলে চাকরি করতেন। ছোটকাকা হরিচরণ কাজ করতেন কোলিয়ারিতে। তাই বিমলের শৈশব কেটেছে ধানবাদ, আসানসোল, কুলটি, হাজারিবাগ... বঙ্গ বিহারের রেল শহর কোলিয়ারিকে কেন্দ্র করে। হয়তো এই জন্য তাঁর সাহিত্যেও বারবার ঘুরেফিরে এসেছে এই প্রবাসের কথা। বিমলের জ্যাঠা বা বাবা নন, কর-বাড়ির কর্তা ছিলেন তাঁর সেজকাকা! যে যেখানেই থাকুন না কেন, কর-পরিবারের কোনও কাজ হত না শরৎকুমারী আর নগেন্দ্রনাথের অনুমতি ছাড়া। একান্নবর্তী কর-পরিবারে বন্ধন ছিল সুদৃঢ়। কলকাতায় এসে থিতু হওয়ার পরেও পুজোর ছুটিতে পরিবার নিয়ে বিমল চলে যেতেন হাজারিবাগে। সেখানে সকলের সঙ্গে নিখাদ আড্ডা, পিকনিকের ছবি তুলে ধরেছিলেন তাঁর ‘জীবনায়ন’ উপন্যাসে।

১৯২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরে বিমলের জন্ম তাঁর মামার বাড়ি টাকিতে। তখন জ্যোতিষচন্দ্র চাকরি করতেন ধানবাদে। এখানে ছোট্ট বিমলের স্কুলের চেয়ে ভাল লাগত রেলওয়ে ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরি। যেখানে তিনি মজে থাকতেন ‘ঠাকু’মার ঝুলি’, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ‘রামায়ণ’, ‘মহাভারত’, টুনটুনির গল্প আর সুকুমার রায়ে।

নিয়ম করে বাড়িতে আসত ‘ভারতবর্ষ’, ‘প্রবাসী’, ‘বসুমতী’, ‘নবশক্তি’, ‘প্রবর্তক’ ইত্যাদি পত্রিকা। অজান্তেই সেজকাকার বাড়ি হয়ে উঠেছিল বিমলের সাহিত্যচর্চার আঁতুড়ঘর।

স্কুলের পাট শেষ হতে বাড়ির ইচ্ছেয় বিমল কলকাতায় আসেন ডাক্তারি পড়তে। তখন মফস্‌সলের ছেলেটির স্বাধীন জীবন। তাঁকে টানছে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর টকি শো হাউসের পর্দায় গ্রেটা গার্বো, ক্লদেত কোলবার্ট, এরোল ফ্রিন। ভাল লাগছে প্রমথেশ বড়ুয়া, অহীন্দ্র চৌধুরী, ছবি বিশ্বাস, কাননবালা, যমুনা দেবীর অভিনয়। বঙ্কিম-শরতের গণ্ডি পেরিয়ে বিমলের ভাল লাগছে বুদ্ধদেব বসু, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, জীবনানন্দ দাশ, আনাতোল ফ্রাঁস, লরেন্স... এই ধরনের পড়াশোনায় উৎসাহ পেয়েছিলেন এক দূর সম্পর্কের দাদার কাছ থেকে। বিমল তাঁকে ডাকতেন ‘দাদামণি’ নামে। যাঁর উৎসাহে হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে কিনতেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত ‘পরিচয়’, বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা’ পত্রিকা।

১৯৫১ সাল। বিমলের জীবন তখন অস্থায়ী শিবিরের মতো। প্রবল আর্থিক টানাটানি। এমনই এক দুপুরে বাসে যেতে যেতে বিমলকে জিজ্ঞেস করেছিলেন গৌরকিশোর, ‘‘বিয়ে করবি? আমার একটা গরিব বোন আছে। কোচবিহারে থাকে। একটু কালো। স্কুলে চাকরি করে।’’ কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তরে বিমল বলেছিলেন, ‘‘করব।’’ আর তাতেই গৌরকিশোরের আনন্দোচ্ছ্বাস!

৫ জুন কফি হাউসে হবু স্ত্রী গীতার সঙ্গে প্রথম আলাপ হয় বিমলের। পাঁচ দিন পরে ১০ জুন তাঁরা বিয়ে করেন! অভিভাবকদের মতামতের তোয়াক্কা করেননি বিমল। হাজারিবাগের বাড়িতে স্রেফ একটা চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, ‘অমুক দিন বৌভাতের আয়োজন কোরো।’ এতে কিন্তু তাঁর বাবা-জ্যাঠা বা পরিবারের কেউ ক্ষুণ্ণ হননি। বিমলের স্ত্রীকে তাঁরা গ্রহণ করেছিলেন সাদরে।

একাধিক সম্মান পেয়েছেন বিমল কর। ১৯৬৭ এবং ১৯৯২, দু’বার আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন। দ্বিতীয় বার ছোট গল্পের সংকলন ‘উপাখ্যানমালা’র জন্য। ১৯৭৫ সালে ‘অসময়’-এর জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। ১৯৮১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার। এবং পরের বছর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছিলেন নরসিংহ দাস পুরস্কার। কিন্তু এত প্রাপ্তির পরেও নিজের লেখা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছিলেন ‘আজ থেকে ১০-১৫ বছর পরে কোনও পাঠক আমার লেখা পড়বেন এমন অবিশ্বাস্য কল্পনা আমি করি না। সে চিন্তায় আমি বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নই। কাল, মহাকাল, যুগ— এ সব পোশাকী কথার কোনও অর্থ আমার কাছে নেই।’

ওনার জন্ম শতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই আমরা।

ঋণ: বিমল কর: সময় অসময়ের উপাখ্যানমালা।

Videos (show all)

Buddhadeb Guha
Happy birthday Captain Vikram Batra
গৌরী ঘোষ এর প্রয়াণে আমরা সমবেদনা জানাই ওনার পরিবারকে।
Courtesy Angel Digital
রাখি পূর্ণিমার শুভেচ্ছা
Happy raksha bandhan
On the occasion of India's Independence Day, #TeamIndia members came together to hoist the flag  🇮🇳 🙌
Shami and bumrah efforts
১৫ই আগস্ট
শুভ জন্মদিন
স্মরণে 'রবি ঠাকুর'
রবি ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি

Location

Category

Products

Quiz

Telephone

Address


Andul, Mahiari, West Bengal 711302
Howrah
711302
Other Education in Howrah (show all)
Arena Animation Howrah Arena Animation Howrah
45/3 G.T.ROAD
Howrah, 711101

Arena Animation Howrah is the Best Placement Center Of West Bengal

@ducare @ducare
Surya Sporting Club CHETLA
Howrah, 700027

Sankrail Central Sri Ramakrishna Vivekananda Sangha Sankrail Central Sri Ramakrishna Vivekananda Sangha
Sankrail
Howrah, 711313

সাঁকরাইল সেন্ট্রাল শ্রীরামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সঙ্ঘ সাঁকরাইল, হাওড়া - 711313

Mathur Sir Classes Mathur Sir Classes
72, G.T. Road, Near Oriyapara
Howrah, 711106

Teaches Accountancy, Cost Accounting, Financial Management, E-Commerce, Business Communication, Business Studies and Economics.

Technobridz Technobridz
68, Shibpur Road, Mondirtala
Howrah, 711102

After a long study, we identify that after gating IT Training from any reputed institute there is a huge gap between a trained & a professional. Because maximum courses available in the market are not designed with project base-requirement. So we decided

Target Points Target Points
ANDUL ROAD
Howrah, 711302

Home delivery grocery item.Howrah and kolkata.

IReady Private Coaching IReady Private Coaching
Bharat Co-Operative Housing Society
Howrah, 711313

Oracle PL/SQL Private Coaching By Industry Expert

Ica Howrah Ica Howrah
20, Dobson Road, Near A.C. Market, Howrah
Howrah, 711101

Welcome to the Official Page of The Institute Of Computer Accountants,Howrah.

Institute of indian Taxation and practice Institute of indian Taxation and practice
96.salkia School Road
Howrah

All type of Taxation like, Income Tax,Vat,Central Exise,Custum, Service Tax,Proffessional Tax etc.

Sw****ka Educom Sw****ka Educom
Howrah, 711204

SW****KA EDUCOM 'Follow the light with all your might'

Ramakrishna Mission Vidyamandira Ramakrishna Mission Vidyamandira
Ramakrishna Mission Vidyamandira RO. Belur Math, Dist. Howrah, West Bengal, Pin Code: 711 202
Howrah, 711202

Ramakrishna Mission Vidyamandira is an autonomous degree college affiliated with the CU.

Geetashree Cultural Institution Geetashree Cultural Institution
Kona Tetul Tala, Kona High School
Howrah, 711-114