04/05/2026
“মাইক না মরণফাঁদ?”
✔️ গ্রামবাংলায় বিভিন্ন পূজা-পার্বণ বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মাইক ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। অল্প দূরত্বের মধ্যে (মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বের ব্যবধানে ৪০-৫০টি মাইক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাজছে। শব্দের প্রাবল্য প্রায় ১২০ ডেসিবেল) একসাথে অনেকগুলো মাইক বাজানোর ফলে শব্দের মাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যায়, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে, বৃদ্ধদের হার্টের রোগ হয়, এবং অনেকের ক্ষেত্রে বিশ্রাম নষ্ট, মাথাব্যথা, অস্বস্তি বা শ্রবণ সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকলে Noise Induced Hearing Loss এর মতো সমস্যার ঝুঁকিও বাড়ে।
✔️ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক পরিবেশে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকা জরুরি। World Health Organization (WHO) নির্দেশ করে যে, বসবাসযোগ্য পরিবেশে শব্দের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রাখা উচিত, যাতে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে। পূজা বা অনুষ্ঠান আনন্দের জন্য কিন্তু সেই আনন্দ যদি অন্যের অসুবিধার কারণ হয়, তাহলে তা আমাদের সামাজিক দায়িত্ববোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
✔️ তাই সচেতন হওয়া এখনই প্রয়োজন। কম সংখ্যক মাইক ব্যবহার, ভলিউম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় মেনে অনুষ্ঠান পরিচালনা —এই সহজ পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে আমরা সকলেই একটি সুস্থ ও শান্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে পারি। শব্দ নয়, সচেতনতার মাধ্যমেই প্রকৃত আনন্দ নিশ্চিত করা সম্ভব।
✔️ মাইক ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ আপনারা শুধুমাত্র ব্যবসায়িক দিক না দেখে সুস্থ ও স্বাভাবিক বাসযোগ্য সমাজ রক্ষার প্রতি অবদান রাখুন।
✔️ প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে বাংলার সংস্কৃতি রক্ষায় আপনারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন। আপনারা ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়।
✔️ সর্বপরি সকলের প্রতি আবেদন -
“সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন —
কারণ শব্দ নয়, মানবতা বড়!”
✍️ নীলকান্ত রায়