18/08/2026
#গুমনামিবাবা
Ramchandrapur High School - H S
পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি কোনো একসময় রহস্যময় এক সন্ন্যাসীর আবির্ভাব ঘটে ভারতবর্ষের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের উত্তর পূর্ব অঞ্চলে। সন্ন্যাসীর বিশেষত্ব হোলো তিনি নিজের ঘরের বাইরে কোথাও প্রকাশ্য দিবালোকে বের হন না এমনকি ভক্ত গণ দের সাথে ও মুখোমুখি দেখা করেন না। তবে কথা বলেন এবং তা পর্দার আড়াল থেকে..ক্রমেই জনশ্রুতি ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে এই ❝পরদে ওয়ালা বাবার❞ নামে..❤️🌻
উত্তরপ্রদেশে যেখানে শত শত সন্ন্যাসীর আখড়া সেখানে একজন সন্ন্যাসী কি আর নতুন কথা। কিন্তু এই বাবার রহস্য ময় চরিত্র বড় ই অদ্ভুত। ইনি এক জায়গা বেশি দিন থাকেন না। বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি বদল করে করে থাকেন। এলাকার লোক দেখেন গভীর রাত্রে কারা যেন বড় বড় গাড়ি করে সন্ন্যাসী র সাথে দেখা করতে আসে..সব যেন খুব গোপনে। আরো মজার কথা হোলো যাঁরা প্রকাশ্যে দেখা করতে আসেন তাঁরা মূলত আসেন কলকাতা থেকে ২৩ এ জানুয়ারি আর দুর্গা পুজোর সময়।
পরে আসতে আসতে উঃ প্রদেশ এর বিখ্যাত ডাক্তার আর. পি. মিশ্রা এবং ফাইজবাদ এর বিখ্যাত বাঙালী হোমিওপাথ ডাক্তার টি. সি.ব্যানার্জী র সাথে এই রহস্যময় সন্ন্যাসীর সক্ষতা বেড়ে ওঠে..ওনারা হয়ে ওঠেন ঐ সন্ন্যাসী র ব্যাক্তিগত চিকিৎসক। ক্রমে বোঝা যায় ওই সন্ন্যাসী বাঙালী..
এতদূর পর্যন্ত ঠিকই ছিল। গোল বাঁধে ১৬ই সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫ এ ঐ সন্ন্যাসীর মৃত্যুর পর। ততদিন উনি উঠে এসেছিলেন অযোধ্যা সার্কিট হাউস এর নাকের ডগায় ❝রাম ভবন❞ এ। যার বর্তমান মালিক হলেন শ্রী শক্তি সিং। সন্ন্যাসীর তিরোধান এর পর কলকাতায় খবর পাঠানো হয় তাঁর বাঙালি শিষ্য দের । কিন্তু কেউ এলেন না কলকাতা থেকে..কারণ অজানা।
তারপর ডাঃ আর. পি. মিশ্রা র তত্বাবধান এ অত্যন্ত গোপনীয়তা র সঙ্গে ঐ সন্ন্যাসীর প্রাণহীন দেহ সৎকার করা হয় সম্পূর্ণ এক বেআইনি স্থানে.. ফৈজাবাদের ❝ভারতীয় সেনাবাহিনীর ডোগরা রেজিমেন্ট❞—এর এক্তিয়ারভুক্ত কোম্পানি গার্ডেন এর পাশে সরয়ু নদীর তীরে গুপ্তার ঘাটে ১৮ই সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ .. যা কোনো অবস্থাতেই ক্রিমশন গ্রাউন্ড নয়।
মাত্র তেরো জন লোক এর সামনে অন্তেষ্টি হয়, যাদের নামে লোকাল থানায় ❝এফ আই আর❞ ও দায়ের করা হয়। কিন্তু ঐ পর্যন্ত ই।
এরপর ঐ সন্ন্যাসীর জিনিসপত্র কার তাই নিয়ে বিবাদে তাঁর ঘরে অনেক গুলো তালা লাগানো হয় বিভিন্ন পক্ষ থেকে। ঠিক একমাস পর জেলার জেলাশাসকের উপস্থিতিতে ঐ তালা গুলো খুলে ঐ সন্ন্যাসীর ঘরে প্রবেশ করেন এলাকার কিছু গণ্য-মান্য মানুষ। যাঁর মধ্যে একজন হলেন প্রফেসর বিস্বাম্ভর আরোরা।
রহস্য যেন এবারে গগন চুম্বি হয়। তিনি দেখেন ঘরে নেতাজী সুভাষ চন্দ্রের বাবা মা এর ছবি, ঠিক একমাস আগে মালা দিলে যেমন মালা শুকিয়ে যায় ঠিক তেমনি মালা দেওয়া..১৬ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫ এর নিউজ পেপার এ ইংলিশ, বাংলা, হিন্দি তে কিছু লেখা, সকল এর দৃষ্টি যায় এমন একটা জায়গায় যেখানে একটা ছোট বক্সে রাখা কিছু দাঁত, আর প্রচুর বই খাতা, ট্রাঙ্ক ভর্তি জিনিসপত্র ইত্যাদি রয়েছে।
এর পর শুরু হয় আর একটা রহস্য..💥🔴
নেতাজীর সেজদাদা শ্রী সুরেশ চন্দ্র বসুর মেয়ে ‘শ্রীমতি ললিতা বসু’ এই সব দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন যে এই সব তাঁর রাঙা কাকা বাবুর (নেতাজী) জিনিস। উনি এলাহাবাদ হাই কোর্ট এর লখনউ বেঞ্চে মামলা করেন ঐ সন্ন্যাসীর সঠিক পরিচয় কি তা জানবার জন্য।
এরপর এলাহাবাদ হাইকোর্ট এর লখনউ বেঞ্চের নির্দেশে ঐ সন্ন্যাসীর ❝রাম ভবন❞—এর ঘর থেকে পাওয়া সাতাশটা (২৭) ট্রাঙ্ক সরানো হয় জেলাশাসক এর হেফাজতে এবং ঐ সন্ন্যাসীর ঘর থেকে পাওয়া প্রতিটা জিনিস এর বিজ্ঞান সম্মত লিস্ট (Inventory) বানানো হয়। হাই কোর্ট থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় উত্তরপ্রদেশ সরকার কে এবিষয়ে সঠিক তদন্ত করে সত্য উন্মোচিত করতে।
কিন্তু এর পরে ১৯৯২ সালে ❝রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ বিবাদ❞ এই ফৈজাবাদ যার বর্তমান নাম অযোধ্যা থেকে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। ঐ সন্ন্যাসীর রহস্য থেকে যায় ২৭ খানা ট্রাঙ্কের মধ্যে বন্দি।
এর পরে নেতাজীর অন্তধান রহস্য নিরসন এর জন্য গঠিত তৃতীয় কমিশন এর প্রধান মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট এর বিচারপতি ❝শ্রীযুক্ত মনোজ কুমার মুখার্জী❞ যখন ২০০২/২০০৩ সালে ফাইজাবাদে যান তখন ঐ ২৭ খানা ট্রাঙ্ক খোলা হয়। যার থেকে বেরোনো সব জিনিস শুধু একটাই কথা বলে যে ঐ সন্ন্যাসী হলেন আমাদের প্রাণের প্রিয় নেতা নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু...
এর পরে বিখ্যাত হস্তলেখা বিদ বি. লাল নির্দ্বিধায় বলেন যে ঐ সন্ন্যাসী র বাংলা, ইংরেজি হাতের লেখা নেতাজীর প্রামান্য হাতের লেখার লেখক একজনই। দুর্ভাগ্য সরকারি হস্তলেখাবিদ কোনো কারণ ছাড়াই তা খন্ডন করেন। প্রাপ্ত দাঁতের DNA টেস্ট রিপোর্ট এ হায়দ্রাবাদ লাব কিছু বলতে পারে না। কলকাতা কোনো সাপোটিভ ডকুমেন্ট ছাড়াই দায়সারা রিপোর্ট দেয় যে DNA রিপোর্ট এ নেতাজীর তত্ত্ব প্রতিষ্টা পাচ্ছে না।
🔴 কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় ——
1. কেন বিপ্লবী লীলা রায়, আই এন এ সিক্রেট সার্ভিস এর ড. পবিত্র মোহন রায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এর রসায়ন এর অধ্যাপক, মাননীয় মেম্বার অফ পার্লামেন্ট শ্রী সমর গুহ, শ্রী সন্তোষ ভট্টাচাৰ্য, প্রফেসর অতুল সেন (যিনি এবিষয় এ প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জহর লাল নেহেরুকে চিঠি লেখেন), বিপ্লবী সুনীল গুপ্ত এই সব বিখ্যাত মানুষ জন ঐ সন্ন্যাসী র সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন? (যদিও শ্রী অতুল সেন এর যোগাযোগ পরবর্তী তে ছিল না)।
2. বিখ্যাত হস্তলেখাবিদ বি. লাল এর রিপোর্ট কেন সরকারি হস্তলেখাবিদ কোনো কারণ ছাড়াই আগ্রাহ্য করলেন?
3. কেন কলকাতার ল্যাব DNA টেস্ট এর যন্ত্র এর রিডিং টা রিপোর্ট এর সাথে জুড়ে দিলো না?
4. কেন মাননীয় বিচারপতি শ্রী মনোজ কুমার মুখার্জী কে, শ্রী অম্লান কুসুম ঘোষ এর তথ্য চিত্র ❝ব্ল্যাক বক্স অফ ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি❞ তে বলতে শোনা গেল যে — ❝ তিনি একশো শতাংশ নিশ্চিত যে ফৈজাবাদের ঐ সন্ন্যাসীই হলেন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ❞..?
5. কেন এক অজ্ঞাত সন্ন্যাসীর জিনিসপত্র অযোধ্যার ❝রাম কথা সংগ্রালয়❞এ সাজিয়ে রেখেও সংগ্রাহালয় মিউজিয়াম এখনো সাধারন মানুষের জন্য খোলা হচ্ছে না?
6.কেন একজন অজ্ঞাত পরিচয় সন্ন্যাসীর নশ্বর দেহ আর্মি ক্যান্টনমেন্ট এ লুকিয়ে সৎকার করা হলো, যা কোনো অবস্থায় ক্রিমশন গ্রাউন্ড নয়?
7. উত্তরপ্রদেশ সরকার দ্বারা নিয়োজিত ❝ জাস্টিস সহায় কমিটির রিপোর্ট ❞ ঐ সন্ন্যাসীকে বাঙালি বলে চিহ্নত করলেও ঐ সন্ন্যাসীর প্রকৃত পরিচয় জানাতে ব্যার্থ হলেন কেন?
[ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই সন্যাসী (গুমনামী বাবা) যে আদেও মৃত কিনা এবিষয়ে ১৯৮৫ র পর অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়, কিন্তু তাঁর কোনো প্রকার হদিশ এর পর পাওয়া যায়নি..]
🇮🇳 জয়হিন্দ 🇮🇳
✊জয় নেতাজী✊
কলমে ✒️ স্বপ্নাশিষ দেবনাথ
♦️তথ্যসূত্রঃ গবেষনা পত্র, বিভিন্ন বইপত্র ও মুখার্জী কমিশনের report
© এক যে ছিলো নেতা
| ে_ছিলো_নেতা |