09/05/2026
বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল সুধীজনকে জানানো হচ্ছে "শুভ ২৫শে বৈশাখ " 🙏
This Institution is age old. Built in 1937 this institution caters the best education to her pupils. All the teachers are efficient and honest here.
This institution had been the pioneer in the field of SPREADING BEST CULTURE & EDUCATION AMONG PEOPLE.
09/05/2026
বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল সুধীজনকে জানানো হচ্ছে "শুভ ২৫শে বৈশাখ " 🙏
27/04/2026
সকল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কে Ramchandrapur High School - H S এর পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে আগাম শুভেচ্ছা। আমাদের বিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি পক্রিয়া শুরু হচ্ছে ৮ ই মে, ২০২৬ থেকে।
15/04/2026
সকলকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে শুভ বাংলা নববর্ষের সাদর অভিনন্দন। মঙ্গলময় হয়ে উঠুক ১৪৩৩ সন।
30/03/2026
১৯১২ সাল। ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ এক রাজকীয় শোভাযাত্রা করে দিল্লির চাঁদনি চক দিয়ে প্রবেশ করছেন। হাতির পিঠে বসে আছেন ভাইসরয়, চারদিকে কড়া নিরাপত্তা। হঠাৎ একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পুরো এলাকা। হাতির হাওদা চুরমার হয়ে গেল, লর্ড হার্ডিঞ্জ রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের হৃৎপিণ্ডে এই আঘাত যিনি পরিকল্পনা করেছিলেন, তিনি তখন ঘটনাস্থল থেকে বহুদূরে দেরাদুনে বনবিভাগের এক শান্তশিষ্ট কেরানি হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর নাম রাসবিহারী বসু।
রাসবিহারী বসু ছিলেন বিপ্লবীদের মধ্যে এক অনন্য চরিত্র। তিনি সম্মুখ সমরের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করতেন নিখুঁত পরিকল্পনায়। দিল্লির ঘটনার পর ব্রিটিশ পুলিশ পাগলের মতো খুঁজতে শুরু করল তাঁকে। কিন্তু রাসবিহারী ছিলেন ছদ্মবেশের ওস্তাদ। তিনি অনর্গল হিন্দি, পাঞ্জাবি, ইংরেজি ও বাংলা বলতে পারতেন। কখনো তিনি পাঞ্জাবি বাবুর্চি সেজে পুলিশের সামনে দিয়ে হেঁটে যেতেন, কখনো বা সরকারি অফিসার সেজে নিজেরই খোঁজে বেরোনো পুলিশের সাথে কথা বলতেন। ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান চার্লস টেগার্ট স্বীকার করেছিলেন যে, রাসবিহারী বসু ছিলেন তাঁদের দেখা সবচেয়ে চতুর বিপ্লবী।
১৯১৫ সাল। গদর বিপ্লব ব্যর্থ হওয়ার পর রাসবিহারী বুঝলেন, ভারতে থাকা আর নিরাপদ নয়। ব্রিটিশরা তাঁর ফাঁসি নিশ্চিত করতে মরিয়া। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন জাপানে পালানোর। কিন্তু কলকাতা বন্দরে তখন কড়া পাহারা। রাসবিহারী নিলেন এক অবিশ্বাস্য ঝুঁকি। তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয় সেজে একটি নকল পাসপোর্ট তৈরি করলেন। নাম নিলেন ‘পি.এন. ঠাকুর’ (প্রিয়নাথ ঠাকুর)। বন্দরে ব্রিটিশ অফিসাররা যখন যাত্রীদের তন্নতন্ন করে তল্লাশি করছে, তখন এক অভিজাত বাঙালি ভদ্রলোকের বেশে, চোখে সোনার চশমা আর হাতে দামি ছড়ি নিয়ে রাসবিহারী গটগট করে জাপানি জাহাজ ‘সানুকি মারু’-তে উঠে পড়লেন। জাহাজ যখন মাঝসমুদ্রে, তখন ব্রিটিশরা জানতে পারল তাদের শিকার পাখি উড়ে গেছে।
জাপানে পৌঁছেও শান্তি ছিল না। ব্রিটিশ সরকার জাপানকে চাপ দিতে থাকল রাসবিহারীকে ফেরত দেওয়ার জন্য। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন জাপানের এক প্রভাবশালী প্যান-এশিয়ান নেতা তোয়ামা মিতসুরু। তিনি রাসবিহারীকে টোকিওর বিখ্যাত ‘নাকামুরায়া’ বেকারির মালিক আইজো সোমার বাড়িতে লুকিয়ে রাখলেন। দিনের পর দিন সেই বেকারির অন্ধকার বেসমেন্টে কাটাতে হয়েছে ভারতের এই মহান নেতাকে। ব্রিটিশদের হাত থেকে বাঁচতে এবং জাপানি নাগরিকত্ব পেতে তিনি সোমা পরিবারের মেয়ে তোশিকো সোমাকে বিয়ে করেন। এই তোশিকোই তাঁকে জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি শিখিয়েছিলেন এবং আমৃত্যু তাঁর ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। (মজার তথ্য: টোকিওতে আজও নাকামুরায়া বেকারির ‘ইন্ডিয়ান কারি’ খুব বিখ্যাত, যা রাসবিহারী বসু শিখিয়েছিলেন)।
জাপানে বসে রাসবিহারী বসু চুপ করে ছিলেন না। তিনি জাপানি ভাষায় বই লিখে ভারতের স্বাধীনতার স্বপক্ষে জনমত তৈরি করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি বুঝলেন, এটাই সুযোগ। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ভারতীয়দের একত্রিত করলেন এবং গঠন করলেন ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ’। জাপানি সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নিয়ে তিনি সিঙ্গাপুরে গড়ে তুললেন প্রথম ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ (INA)।
কিন্তু রাসবিহারী জানতেন, তাঁর বয়স হয়েছে এবং শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ রোগ যক্ষ্মা। এই বিশাল বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজন এক তরুণ ও তেজস্বী নেতার। ১৯৪৩ সালে যখন সুভাষচন্দ্র বসু জার্মানি থেকে জাপানে পৌঁছালেন, তখন টোকিওর এক বিশাল জনসভায় রাসবিহারী বসু আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্ব নেতাজির হাতে তুলে দিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমার কাজ শেষ। আমি মঞ্চ তৈরি করেছি, এবার আসল নায়ক এসেছেন।”
১৯৪৫ সালের ২১শে জানুয়ারি। ভারতের স্বাধীনতার সূর্য ওঠার আগেই জাপানের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহান বিপ্লবী। জাপান সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান ‘অর্ডার অফ দ্য রাইজিং সান’-এ ভূষিত করেছিল। রাসবিহারী বসু ছিলেন সেই বিরল বিপ্লবী, যিনি কেবল দেশের মাটিতে নয়, বিদেশের মাটিতেও ভারতের স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন। তাঁর জীবন কোনো সিনেমার চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়—এক পলাতক বিপ্লবী থেকে আন্তর্জাতিক নেতা হয়ে ওঠার এক অবিশ্বাস্য সফর।
SOURCES:
১. Wikipedia : "Rash Behari Bose"
30/03/2026
১৯০৫ সালে শ্রী পুলিনবিহারী দাশ দ্বারা ঢাকা অনুশীলন সমিতির স্থাপনা ও তাতে তাঁর প্রতি অনুরক্ত শত শত যুবকের যোগদান এক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। শ্রী দাশ একজন অসামান্য অস্ত্র বিশারদ, লাঠিয়াল ছিলেন; তাঁর দ্বারা প্রশিক্ষিত দুর্দমনীয় যুবকেরা ক্রমেই ব্রিটিশ প্রশাসনের এক চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে। সাম্প্রদায়িক সঙ্ঘর্ষে হিন্দুদের বাড়ন্ত ভয়ঙ্কর প্রত্যাঘাত অবস্থাকে অত্যন্ত জটিল করে তোলে। প্রতিবেশী ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ব্রিটিশ প্রশাসনের মধ্যে এক ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে।
অতি শীঘ্রই পুলিনবাবুর কর্মকুশলতা, যোগ্য নেতৃত্বে ঢাকা অনুশীলন সমিতির ৬০০টি শাখা গড়ে ওঠে এবং এক্ষেত্রে বিক্রমপুর ও বরিশাল জেলার সাফল্য হিতৈষী ও বৈরী দুপক্ষকেই স্তম্ভিত করে। ১৯১০ সালে গঠিত ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলা ও তার সাথে সমিতির কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির সম্বন্ধ সমিতির ভবিষ্যতের সম্মুখে এক প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করায়। অনুশীলন সমিতির দ্রুত বৃদ্ধি ব্রিটিশ প্রশাসন কে শঙ্কিত করে ও এর রোধে এক কমিশন সৃষ্টি করা হয়। কমিশনের কর্তব্য ছিল বৈপ্লবিক সংগ্রামের প্রভাবের বৃদ্ধির কারণ, বাঙালী হিন্দুর জাতিগত স্বার্থের সাথে তার সংযোগ অন্বেষণ করা ও এটিকে ধ্বংস করার এক নির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করা। ১৯১৮ সালে এই সিডিশন কমিটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজত্ব উচ্ছেদ হেতু অনুশীলন সমিতির মহা-পরিকল্পনা, ইতিহাসে খ্যাত হিন্দু-জার্মান ষড়যন্ত্র হিসেবে, এবং তার ব্যর্থতা ব্রিটিশ সরকারকে সমিতির প্রতি ক্রমশ প্রতিশোধপরায়ণ করে তোলে। ভয়ঙ্করতম নিষ্পেষণের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ প্রশাসন অনুশীলন সমিতি, তার ভিত্তি, ব্যাপ্তি ও বিচারধারাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সর্বোত্তম প্রয়াস করে। শত শত যুবক গ্রেপ্তার হয়, নির্যাতিত হয়, ফাঁসিকাষ্ঠে নিজেকে উৎসর্গ করে – সমিতির বহু শাখা বন্ধ হয়ে যায়। নিঃসন্দেহে, এই বিশাল ক্ষতি অনুশীলন সমিতির কার্যপ্রবাহে নিদারুণ সমস্যা সৃষ্টি করে। বাঙালী হিন্দু জাতির ওপর তার সক্রিয় প্রভাব হ্রাসও হয় যথেষ্ট পরিমাণে। ফলতঃ এক শূন্যতার সৃষ্টি হয় সমাজের মধ্যে যা পূর্ণ করার লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে আসে জাতীয় কংগ্র্রস ও কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯৩০ সালের মধ্যে সরকারী নিষ্পেষণ, নতুন বিচারাধারার প্রভাবে সমিতির সদস্যসংখ্যায় দ্রুত ধস নামে। সমাজতন্ত্র ও সোভিয়েত বিপ্লবের প্রতি অখণ্ড বিশ্বাসে সমিতির বহু নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি অন্যান্য গণসংগঠনে যোগদান করেন। অবশ্যই উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রমও ছিল। শ্রী পুলিনবিহারী দাশের মত বেশ কয়েকজন প্রণম্য বিপ্লবী চিরদিনই অনুশীলন সমিতির মূল আদর্শের, যা মূলত বাঙালী হিন্দুর শিরদাঁড়া হিসেবে প্রখ্যাত ইতিহাসে, প্রতি অনুরক্ত থেকে যান। ‘৪৬ র মহাসমর ও তদপরবর্তী ‘৪৭ র দেশভাগে তাঁদের সিংহসদৃশ পরাক্রম পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে হিন্দু জাত্যাভিমানকে।
তবুও এটি আশ্চর্যের বিষয় যে স্বাধীন ভারতের সরকার এই প্রকৃত অর্থে মহাত্মাদের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে। ১৯৪৭ সালে, জাতীয় স্বাধীনতার অনতিপরেই, প্রধানমন্ত্রী শ্রী জওহরলাল নেহেরু বহু প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সম্বলিত এক ইতিহাস কমিশন গঠন করেন দেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস রচনার জন্য। ডঃ তারাচাঁদকে সেই কমিশনের সভাপতি নিযুক্ত করা হয়; পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেই কমিশনের দুজন সদস্য ছিলেন – বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার ও ডঃ সুরেন্দ্রনাথ সেন। কিন্তু নেহেরু ও কংগ্রেসর গোপন নির্দেশে বঙ্গের গৌরবময় সশস্ত্র বৈপ্লবিক সংগ্রামের ইতিহাসকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করা হয় এবং মুছে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন ও বলেন, “একজন ঐতিহাসিক হিসেবে আমি কি করে একটি প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসকে অস্বীকার করি?” এর প্রতিবাদে তিনি রচনা করেন “ভারতের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস”, সেই গ্রন্থে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ উচ্ছেদের সংকল্পে বঙ্গের মরণপণ বিপ্লবী সংগ্রাম ও অনুশীলন সমিতির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা শ্রদ্ধার সাথে রক্ষিত আছে।
Ramchandrapur High School - H S
27/03/2026
আমাদের বিদ্যালয়ে ক্রেতা সুরক্ষা সম্পর্কিত
সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠানের কিছু মুহূর্তের স্থির চিত্র :
Ramchandrapur High School - H S
22/03/2026
Ramchandrapur High School - H S
ব্রিটিশ প্রশাসন তিন জন ভারতীয় বিপ্লবীকে যমের চেয়ে বেশি ভয় করত। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, #মাস্টারদা সূর্য সেন এবং বাঘা যতীন। ব্রিটিশ প্রশাসনের মাস্টারদাকে নিয়ে মাথাব্যথা এতই ভয়ঙ্কর ছিল , তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছিল!ফাঁসির আগে কারাগারের কয়েক জন ব্রিটিশ পুলিশ মাস্টারদার উপর প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। চিৎকার শুনে পাশের কুঠুরিতে মাস্টারদার বিপ্লবী সহযোদ্ধা ফাঁসির দণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত তারকেশ্বর দস্তিদার প্রবল প্রতিবাদ করলে তাঁর উপরেও নেমে আসে নির্যাতনের কঠোর শাস্তি। মাস্টারদার প্রায় সমস্ত দাঁতই উপরে ফেলা হয়। শেষে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ফাঁসি দেওয়া হয় এই দুই মহান বিপ্লবীকে। কিন্তু তাঁদের মৃতদেহের পরিণতির বিষয়ে সঠিক কিছু জানা যায় না।
যখন তিনি কারাগারে সঙ্গী মহাভারত। পড়তেন রবীন্দ্রনাথের একের পর এক কবিতা। চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক অস্ত্রাগার আক্রমণের নায়ক ফাঁসির আগে চিঠিতে লিখছেন, ভবিষ্যতের ভারতের কাছে তিনি রেখে যাচ্ছেন স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন।
মাস্টারদা সূর্যসেনের মৃতদেহের সৎকারের বিষয়ে ব্রিটিশ প্রশাসনের নীরবতার কারণে তাঁর শেষ পরিণতি বিষয়ে কয়েক জন প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণের উপর নির্ভর করতে হয়। মাস্টারদার সহযোগী যোদ্ধা আনন্দ প্রসাদ গুপ্ত তাঁর গ্রন্থে (‘চট্টগ্রাম বিদ্রোহের নায়ক সূর্য সেন’) এই বিবরণ দিয়েছেন ।
আসুন মাস্টারদা সূর্যসেনের জীবনের একটু অন্যরকম কাহিনি শুনি। এসব সবাই কম- বেশি জানেন তবুও বাবরার শুনতে ইচ্ছে করে। সেবার
মাস্টারদা যে বাড়িতে আছেন ব্রিটিশের পুলিশ বিপ্লবীদের খোঁজে গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলেছে৷ সেদিন ছিল ১০নভেম্বর,১৯২৬। বছর দুয়েক আগেও একবার পুলিশ তাঁকে ধরার চেষ্টা করে কিন্তু সাফল্য পায়নি। সেবার তিনি বাড়ির খাটা পায়খানার ফাঁক দিয়ে নিঃশব্দে পেছনের ঘন জঙ্গলে ঢুকে গভীর অন্ধকারে মিলিয়ে গিয়েছিলেন৷
কিন্তু এবার কী হবে! পালাবার যে কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না! কিন্তু মানুষটার নাম সূর্য সেন তাঁকে ধরা কী অত সহজ!
বিচক্ষণ সূর্য সেন মুহূর্তে গায়ের জামা,গেঞ্জি সব খুলে নিজের পায়ের জুতো ফেলে দিলেন৷ পাশে ঝোলানো কোনও একজনের একটা অত্যন্ত অপরিস্কার,ময়লা,তেল চিটচিটে গামছা কাঁধে ফেলে মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে দিলেন৷
হাতে একটি চায়ের কেটলি নিয়ে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে এসেছেন বাড়ির বাইরের দরজায়। বিকেল বেলা,হাতে একটি চায়ের কেটলি নিয়ে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসছে বাড়ির ভৃত্য৷ তাঁকে বেশ জোরে ধমক দিল হিন্দুস্থানী সেপাই,-'কিধার য়াগেগা? অন্দর যাও'৷ দু'পা পিছিয়ে পুলিশকে দিলেন এক সেলাম ঠুকে, ঢোক গিলে বললেন 'উপরের বাবু লোক চা খেতে চাইছেন;পয়সা দিয়েছেন:তিন পেয়ালা চা আনতে হবে'৷
ডান হাতের মুঠ খুলে পয়সাও দেখালেন৷
পুলিশের কনস্টেবল অবশ্য নিজের দায়িত্ব পালন করছে, পরিস্কার বলে দিল-'নেহী আনতে হোবে;যাও অন্দর'৷ মাস্টারদা একটু ইতঃস্তত করলেন৷ পাশে দাড়িয়ে ছিল এক দারোগা তিনি অবশ্য বাঙালি৷ বাড়ির ভৃত্যের আপাদমস্তক পুলিশের চোখ দিয়ে ভাল করে দেখে বললেন 'সেপাই,ছেড়ে দাও,ও বাড়ির চাকর'৷ সঙ্গে-সঙ্গে দারোগাকে একটি সেলাম দিয়ে কনস্টেবলের দিকে দুবার সেলাম করে গুটি গুটি পায়ে চা আনতে বেরিয়ে গেলেন,সেই যে বের হলেন আর ওই বাড়িতে ঢুকলেন না৷
হ্যাঁ সেই মাস্টারদা যাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ। মাস্টারদা সাফল্য পেয়েছেন বিপ্লবে সমমর্যাদা দিয়েছেন নারী-পুরুষকে। তিনি সময়ের থেকেও এগিয়ে থাকা মানুষ ব্রিটিশ প্রশাসনের প্রতি আঘাত হানতে বিপ্লবী নারীর হাতে আক্রমনের নেতৃত্বে তুলে দিয়েছেন। নিজে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে থাকতে চেয়েছেন। এখানেই তাঁর মহত্ব। বাঘাযতীন তাঁর কাছে বিশেষ শ্রদ্ধেয়। বাঘাযতীন লড়েছেন বুড়িবালামের তীরে, মাস্টারদা জালালাবাদ পাহাড়ে,দীনেশ গুপ্তরা রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। মানুষ মাস্টারদা চেহারায় একটু শীর্ণ,রুগ্ন সহযোদ্ধারা রসিকতা করে বলতেন পুলিশ এলে আপনাকে খপ করে ধরবে আর নিয়ে যাবে,মাস্টারদা স্বয়ং হেসে বলতেন দেখা যাবে। চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক অস্ত্রাগার আক্রমণের নায়ক ফাঁসির আগে চিঠিতে লিখছেন, ভবিষ্যতের ভারতের কাছে তিনি রেখে যাচ্ছেন স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন। তিনি আজও স্বাধীন ভারতের নাগরিকদের কাছে একজন আদর্শ, তিনি একজন আইকন। আজ মাস্টারদা সূর্য সেনের জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। মাস্টারদা আপনি আছেন আমাদের হৃদয়ে, আবেগে, শ্রদ্ধায়,ভালবাসায়।
জয় হিন্দ,বন্দে- মাতরম।।
গ্রন্থঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার,বিপ্লবী সূর্য সেন,গণেশ ঘোষ, সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন,চিন্ময় চৌধুরী
দেহ দু’টিকে পৃথক ভাবে লোহার দড়ি দিয়ে বেঁধে ছুড়ে ফেলা হয় বঙ্গোপসাগরের অতলে। আনন্দবাজার, সম্পাদক সমীপেষু,রাহুল বড়ুয়া
বিদ্যালয়ে আয়োজিত ক্রেতা সুরক্ষা সম্পর্কিত এক অনুষ্ঠানে আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের অভিনীত নাটিকা : "জাগো গ্রাহক জাগো " মঞ্চস্থ হয়েছে।
পরিচালনায় : শ্রী শ্রীমন্ত চ্যাটার্জী,
শ্রী বনমালী পড়্যা,
শ্রী অর্ণব চক্রবর্তী।
ব্যবস্থাপনায় : সকল শিক্ষক শিক্ষিকাগণ।
Ramchandrapur High School - H S
Ramchandrapur High School - H S এর অফিসিয়াল পেজ এ "follow " তে click করে
পেজ এর সকল খবরের সাথে যুক্ত থাকো / থাকুন। 🙏
Ramchandrapur High School - H S এর ফুটবল অনুশীলন চলছে :
| Monday | 11am - 4pm |
| Tuesday | 11am - 4pm |
| Wednesday | 11am - 4pm |
| Thursday | 11am - 4pm |
| Friday | 11am - 4pm |
| Saturday | 11am - 1pm |