"বনের সন্তান" ধারাবাহিকটির প্রথম পর্ব আসার পর আর কোনো পর্ব আসেনি।।আসলে লেখা হয়ে ওঠেনি।এরপর থেকে প্রতি রবিবার পরের পর্ব গুলি আসবে।এত দেরি করার জন্য ক্ষমা প্রার্থী।
পুনমের গল্প বাড়ি Poonam's Story House
আমার গল্প বাড়ি।নানান রকমের গল্প সব বয়সী দের জন্য।নিজের মত করে তোমাদের কথা আমাদের কথা গল্পের ছলে বলা।আমার সাথে থেকো।
04/03/2026
🌳 | Save the Forest | Emotional Animated Short Film (No Dialogue) 🌳 এই নীরব সিনেম্যাটিক অ্যানিমেশন গল্পে Alex ও Buddy দেখে কিভাবে বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আগুনে পুড়ছে গাছ, কষ্ট পাচ্ছে প্রা....
23/02/2026
ধারাবাহিকের নাম: বনের সন্তান
পর্ব ১: অন্ধকারের মধ্যে আলো
ভোরের প্রথম আলো তখন ঘন জঙ্গলের পাতার ফাঁক গলে মাটিতে পড়তে শুরু করেছে। শিশিরভেজা পাতার উপর দিয়ে হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে, দূরে কোথাও অচেনা পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। জঙ্গল যেন ধীরে ধীরে ঘুম ভাঙাচ্ছে নিজেকে। এই গভীর বনেরই এক অংশে পাশাপাশি হাঁটছে দুজন—একটি কালো প্যান্থার এবং এক ছোট্ট ছেলে।
প্যান্থারের নাম বালিয়া। আর ছেলেটির নাম মাওলি।
তাদের চলার ভঙ্গি এমন যেন তারা আলাদা নয়—একই পরিবারের, একই জীবনের অংশ।
কিন্তু সবসময় এমন ছিল না।
অনেক বছর আগে, এক ভয়ংকর ঝড়ের রাতে প্রথম দেখা হয়েছিল তাদের।
সেদিন আকাশে বজ্রপাত হচ্ছিল, বৃষ্টি পড়ছিল অবিরাম। বনের প্রাণীরা আশ্রয় খুঁজছিল নিরাপদ গর্ত বা গাছের ফাঁকে। বালিয়া তখনও তরুণী প্যান্থার। নিজের শিকার খুঁজতে বেরিয়েছিল, কারণ দুদিন ধরে সে কিছু খেতে পারেনি।
হঠাৎ ঝড়ের গর্জনের মধ্যে সে এক অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেল।
কান্না।
মানুষের বাচ্চার কান্না।
বালিয়া থেমে গেল। জঙ্গলে মানুষের গন্ধ সে চিনত। মানুষ মানেই বিপদ। কিন্তু সেই কান্নার মধ্যে ছিল ভয়, অসহায়তা আর এক অদ্ভুত টান।
সে ধীরে ধীরে শব্দের দিকে এগিয়ে গেল।
একটা ভাঙা গাছের নিচে, ভিজে মাটির উপর পড়ে আছে ছোট্ট এক শিশু। তার গায়ে কোনো কাপড় নেই, শরীর ঠান্ডায় কাঁপছে, কাদা আর বৃষ্টিতে ভিজে গেছে পুরোটা।
বালিয়া কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
তার চোখে তখন শিকারের ক্ষুধা ছিল না।
ছিল অন্য কিছু।
সে ধীরে ধীরে শিশুটির গায়ে নাক ছুঁইয়ে দেখল। শিশুটি কান্না থামিয়ে বালিয়ার গায়ে হাত রাখল। সেই ছোট্ট উষ্ণ স্পর্শে বালিয়ার ভিতরে যেন কিছু বদলে গেল।
সেই মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল সে।
এটা শিকার নয়।
এটা তার সন্তান।
সেই রাতেই শুরু হয় তাদের গল্প।
বালিয়া শিশুটিকে মুখে আলতো করে তুলে নিয়ে নিজের গুহায় নিয়ে গেল। নিজের শরীরের উষ্ণতায় তাকে জড়িয়ে রাখল। পরদিন কাছের গ্রাম থেকে দুধের গন্ধ পেয়ে সে রাতে চুপিসারে গিয়ে একটা মাটির পাত্র টেনে এনে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখল।
দিন গড়াল।
মাস গড়াল।
শিশুটি বড় হতে লাগল।
বালিয়া তাকে শিখিয়েছে কীভাবে বনের শব্দ শুনতে হয়, কোন গাছের ফল খাওয়া যায়, কোন প্রাণী থেকে দূরে থাকতে হয়। যখন সে হাঁটতে শিখল, বালিয়া তার পাশে পাশে হাঁটত। যখন সে পড়ে যেত, বালিয়া তার গা চেটে দিত।
মাওলি কখনও জানেনি মানুষের পৃথিবী কেমন।
তার পৃথিবী মানেই—বালিয়া আর এই জঙ্গল।
আজ সেই মাওলি প্রায় আট বছরের ছেলে।
তার শরীর পাতলা কিন্তু শক্ত, চোখ দুটো তীক্ষ্ণ আর গভীর। সে জানে কোন পাতার নিচে সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে, কোন পাখির ডাক মানে বিপদ, আর কোন গন্ধ মানে খাবার কাছে আছে।
আজ সকালেও তারা বেরিয়েছে খাবারের খোঁজে।
মাওলি সামনে এগিয়ে গেল, হঠাৎ হাত তুলে থামার ইশারা করল।
বালিয়া থেমে গেল।
মাওলি নিচু হয়ে মাটির দাগ দেখল।
হরিণের পায়ের ছাপ।
সে ফিসফিস করে বলল,
“মা… ওদিকে গেছে।”
কখনও সে বালিয়াকে মা বলে ডাকে।
আবার কখনও বলে, “বাবা।”
কারণ তার কাছে বালিয়াই সব।
দুজন ধীরে ধীরে এগোতে লাগল। বাতাসের বিপরীতে চলল যাতে গন্ধ না পৌঁছায়। কিছু দূরে গিয়ে তারা দেখল—একটি ছোট হরিণ পাতা খাচ্ছে।
মাওলি গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। বালিয়া নিচু হয়ে শরীর মাটির সাথে মিশিয়ে দিল।
এক মুহূর্ত।
দুই মুহূর্ত।
তারপর বজ্রের মতো লাফ।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শিকার শেষ।
মাওলি দৌড়ে গেল। বালিয়ার গলায় জড়িয়ে ধরল।
“তুমি পারলে!”
বালিয়া তার মুখ চেটে দিল।
এভাবেই কাটছিল তাদের জীবন।
কিন্তু সেই দিন দুপুরে কিছু অদ্ভুত ঘটল।
খাবার খেয়ে তারা বিশ্রাম নিচ্ছিল। হঠাৎ বালিয়ার কান খাড়া হয়ে গেল।
মানুষের গন্ধ।
ধোঁয়ার গন্ধ।
আর লোহার শব্দ।
মাওলি বুঝতে পারল কিছু একটা ভুল।
দূর থেকে ভেসে এল মানুষের কথা।
“এদিকে আসো! কালো প্যান্থারটা এই জঙ্গলে আছে।”
“ধরতে পারলে অনেক দাম পাবো।”
মাওলির বুক ধক করে উঠল।
সে বালিয়ার দিকে তাকাল।
“মা… মানুষ।”
বালিয়া নিচু স্বরে গর্জে উঠল। তার চোখে এখন ভয় নেই, আছে সতর্কতা।
মাওলি জানত—মানুষ মানে বিপদ।
বালিয়া তাকে ঠেলে একটা ঘন ঝোপের দিকে নিয়ে গেল।
দুজন নিঃশব্দে লুকিয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর তিনজন শিকারি সেখানে এসে পৌঁছাল।
তাদের হাতে বন্দুক, জাল আর ফাঁদ।
একজন বলল,
“পায়ের ছাপ দেখেছ? কাছেই আছে।”
আরেকজন বলল,
“বাচ্চা মানুষও নাকি আছে সঙ্গে। ওটাকেও ধরতে পারলে সার্কাসে বিক্রি করা যাবে।”
মাওলির হাত কাঁপতে লাগল।
বালিয়া তার শরীর দিয়ে মাওলিকে আড়াল করে রাখল।
শিকারিরা ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।
হঠাৎ তাদের একজন একটা জাল ফেলে দিল কাছেই।
বালিয়া বুঝল—আর লুকিয়ে থাকা যাবে না।
সে মাওলির দিকে তাকাল।
তার চোখে যেন কথা ছিল।
পালাও।
কিন্তু মাওলি মাথা নাড়ল।
“আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না।”
শিকারিরা এগিয়ে আসছে।
আর ঠিক তখনই—
বালিয়া ঝোপ থেকে বেরিয়ে এক বিকট গর্জন করল।
শিকারিরা চমকে উঠল।
“ওই তো! ধরো!”
একজন বন্দুক তুলতেই বালিয়া তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
বন্দুক পড়ে গেল।
অন্যরা জাল ছুড়ল।
মাওলি দৌড়ে বেরিয়ে এসে জাল টেনে ছিঁড়তে লাগল।
“আমার মাকে ছাড়ো!”
শিকারিরা অবাক হয়ে গেল।
“এটা তো সত্যিই জঙ্গলের ছেলে!”
একজন মাওলির দিকে এগিয়ে এল।
ঠিক তখনই বালিয়া মুক্ত হয়ে এমন গর্জন করল যে চারদিক কেঁপে উঠল।
সে এক লাফে সামনে এসে দাঁড়াল মাওলির সামনে।
তার চোখে ছিল একটাই কথা—
আমার সন্তানকে কেউ ছুঁতে পারবে না।
শিকারিরা পিছিয়ে গেল।
“এটা বিপজ্জনক… চল, পরে আসব।”
তারা ধীরে ধীরে সরে গেল।
জঙ্গল আবার শান্ত হয়ে গেল।
মাওলি হাঁপাতে হাঁপাতে বালিয়াকে জড়িয়ে ধরল।
“তুমি আছ তো… আমি ভয় পাই না।”
বালিয়া তার মাথা চেটে দিল।
সূর্য তখন পশ্চিমে হেলে পড়েছে।
আকাশে সোনালি আলো।
জঙ্গলের পথে আবার পাশাপাশি হাঁটতে লাগল তারা।
কিন্তু আজ থেকে তাদের জীবন আর আগের মতো থাকবে না।
মানুষ জেনে গেছে।
এখন থেকে বিপদ আরও বাড়বে।
মাওলি আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল—
“মা… যদি সবাই তোমাকে নিতে চায়?”
বালিয়া থামল।
তারপর ধীরে মাওলির গায়ে মাথা ঠেকাল।
মাওলি হাসল।
“তাহলে আমরা একসাথে লড়ব।”
ঘন জঙ্গলের মধ্যে অন্ধকার নেমে এলো।
আর সেই অন্ধকারের মধ্যেই শুরু হলো নতুন এক লড়াইয়ের গল্প।
চলবে…
#বাংলাগল্প
17/02/2026
https://youtube.com/shorts/M-CQtgNiONY?si=7ltRpcvUVbwTt3De
A***n & Zara Episode 1 | হারিয়ে যাওয়া আলোর রাজ্য | Magical Kids Adventure Cartoon Welcome to the magical world of A***n & Zara!In Episode 1, A***n accidentally enters a mysterious kingdom called Aloria, where he meets Princess Zara. But th...
17/02/2026
https://youtube.com/shorts/JDDvfHqbut4?feature=shared
A***n Zara series 1.. #viral #fantasy #kidscartoon #animation A***n & Zara Save a Baby Bird 🐦✨ | Aloria AdventureIn the magical land of Aloria,A***n & Zara find a helpless baby bird in danger.With kindness, care, and b...
17/02/2026
https://youtube.com/shorts/WCso6PJWb84?si=tA1RM3WCgh-NCGNy
মানবতাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম#religion #humanity #mankind #adameva মানবতাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম ❤️ধর্ম, জাতি, ভেদাভেদ সবকিছুর ঊর্ধ্বেমানবতা-ই আমাদের আসল পরিচয়।Adam & Eva-র এই ছোট গল্পে আছেভালো.....
16/02/2026
Poonam Rani_Bangla Vlog_Film & Animation Ami amar moto...আমি আমার মত।।।।।।🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️
কুকি টুকি ব্যাঙ পেলো।
কুকি-টুকি:প্রথম পর্ব
09/01/2026
তার ডাকনাম ছিল লালু। ভাল নাম অবশ্য একটা ছিলই, কিন্তু মনে নেই। জানো বোধ হয়, হিন্দীতে ‘লাল’ শব্দটার অর্থ হচ্ছে—প্রিয়। এ-নাম কে তারে দিয়েছিল জানিনে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে নামের এমন সঙ্গতি কদাচিৎ মেলে। সে ছিল সকলের প্রিয়।
ইস্কুল ছেড়ে আমরা গিয়ে কলেজে ভর্তি হলাম, লালু বললে, সে ব্যবসা করবে। মায়ের কাছে দশ টাকা চেয়ে নিয়ে সে ঠিকেদারি শুরু করে দিলে। আমরা বললাম, লালু, তোমার পুঁজি ত দশ টাকা। সে হেসে বললে, আর কত চাই, এই ত ঢের।
সবাই তাকে ভালবাসতো, তার কাজ জুটে গেল। তার পরে কলেজের পথে প্রায়ই দেখতে পেতাম, লালু ছাতি মাথায় জনকয়েক কুলি-মজুর নিয়ে রাস্তার ছোটখাটো মেরামতির কাজে লেগেছে। আমাদের দেখে হেসে তামাশা করে বলতো,—যা যা দৌড়ো—পারসেন্টেজের খাতায় এখুনি ঢ্যারা পড়ে যাবে।
আরও ছোটকালে যখন আমরা বাংলা ইস্কুলে পড়তাম, তখন সে ছিল সকলের মিস্ত্রী। তার বইয়ের থলির মধ্যে সর্বদাই মজুত থাকত একটা হামানদিস্তার ডাঁটি, একটা নরুণ, একটা ভাঙ্গা ছুরি, ফুটো করবার একটা পুরোনো তুরপুনের ফলা, একটা ঘোড়ার নাল,—কি জানি কোথা থেকে সে এ-সব সংগ্রহ করেছিল, কিন্তু এ দিয়ে পারতো না সে এমন কাজ নেই। ইস্কুল-সুদ্ধ সকলের ভাঙ্গা ছাতি সারানো, শ্লেটের ফ্রেম আঁটা, খেলতে ছিঁড়ে গেলে তখনি জামা-কাপড় সেলাই করে দেওয়া—এমন কত কি। কোন কাজে কখনো না বলতো না। আর করতোও চমৎকার। একবার ‘ছট্’ পরবের দিনে কয়েক পয়সার রঙ্গিন কাগজ আর শোলা কিনে কি একটা নতুন তৈরি করে সে গঙ্গার ঘাটে বসে প্রায় আড়াই টাকার খেলনা বিক্রি করে ফেললে। তার থেকে আমাদের পেটভরে চিনেবাদাম-ভাজা খাইয়ে দিলে।বছরের পরে বছর যায়, সকলে বড় হয়ে উঠলাম। জিমনাস্টিকের আখড়ায় লালুর সমকক্ষ কেউ ছিল না। তার গায়ে জোর ছিল যেমন অসাধারণ, সাহস ছিল তেমনি অপরিসীম। ভয় কারে কয় সে বোধ করি জানতো না। সকলের ডাকেই সে প্রস্তুত, সবার বিপদেই সে সকলের আগে এসে উপস্থিত।
কেবল তার একটা মারাত্মক দোষ ছিল, কাউকে ভয় দেখাবার সুযোগ পেলে সে কিছুতে নিজেকে সামলাতে পারতো না। এতে ছেলে-বুড়ো-গুরুজন সবাই তার কাছে সমান। আমরা কেউ ভেবে পেতাম না, ভয় দেখাবার এমন সব অদ্ভুত ফন্দি তার মাথায় একনিমিষে কোথা থেকে আসে! দু’-একটা ঘটনা বলি। পাড়ার মনোহর চাটুজ্জের বাড়ি কালীপূজো। দুপুর-রাতে বলির ক্ষণ বয়ে যায়, কিন্তু কামার অনুপস্থিত। লোক ছুটলো ধরে আনতে, কিন্তু গিয়ে দেখে সে পেটের ব্যথায় অচেতন। ফিরে এসে সংবাদ দিতে সবাই মাথায় হাত দিয়ে বসলো,—উপায়? এত রাত্রে ঘাতক মিলবে কোথায়? দেবীর পূজো পণ্ড হয়ে যায় যে! কে একজন বললে, পাঁঠা কাটতে পারে লালু। এমন অনেক সে কেটেছে। লোক দৌড়ল তার কাছে, লালু ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসলো, বললে—না।।না কি গো? দেবীর পূজোয় ব্যাঘাত ঘটলে সর্বনাশ হবে যে!
লালু বললে, হয় হোক গে। ছোটবেলায় ও-কাজ করেছি, কিন্তু এখন আর করব না।
যারা ডাকতে এসেছিল তারা মাথা কুটতে লাগলো, আর দশ-পনরো মিনিট মাত্র সময়, তার পরে সব নষ্ট, সব শেষ। তখন মহাকালীর কোপে কেউ বাঁচবে না। লালুর বাবা এসে আদেশ দিলেন যেতে। বললেন, ওঁরা নিরুপায় হয়েই এসেছেন,—না গেলে অন্যায় হবে। তুমি যাও। সে আদেশ অমান্য করার সাধ্য লালুর নেই।
লালুকে দেখে চাটুজ্জে মশায়ের ভাবনা ঘুচলো। সময় নেই,—তাড়াতাড়ি পাঁঠা উৎসর্গিত হয়ে কপালে সিঁদুর, গলায় জবার মালা পরে হাড়িকাঠে পড়লো, বাড়িসুদ্ধ সকলের ‘মা’ ‘মা’ রবের প্রচণ্ড চিৎকারে নিরুপায় নিরীহ জীবের শেষ আর্তকণ্ঠ কোথায় ডুবে গেল, লালুর হাতের খড়গ নিমিষে ঊর্ধ্বোত্থিত হয়েই সজোরে নামলো, তার পরে বলির ছিন্নকণ্ঠ থেকে রক্তের ফোয়ারা কালো মাটি রাঙ্গা করে দিলে। লালু ক্ষণকাল চোখ বুজে রইল। ক্রমশঃ ঢাক ঢোল কাঁসির সংমিশ্রণে বলির বিরাট বাজনা থেমে এলো। যে পাঁঠাটা অদূরে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল আবার তার কপালে চড়লো সিঁদুর, গলায় দুললো রাঙ্গা মালা, আবার সেই হাড়িকাঠ, সেই ভয়ঙ্কর অন্তিম আবেদন, সেই বহুকণ্ঠের সম্মিলিত ‘মা’ ‘মা’ ধ্বনি। আবার লালুর রক্তমাখা খাঁড়া উপরে উঠে চক্ষের পলকে নীচে নেমে এলো,—পশুর দ্বিখণ্ডিত দেহটা ভূমিতলে বার-কয়েক হাত-পা আছড়ে কি জানি কাকে শেষ নালিশ জানিয়ে স্থির হ’লো; তার কাটা-গলার রক্তধারা রাঙ্গামাটি আরও খানিকটা রাঙ্গিয়ে দিলে।।ঢুলিরা উন্মাদের মতো ঢোল বাজাচ্ছে, উঠানে ভিড় করে দাঁড়িয়ে বহু লোকের বহু প্রকারের কোলাহল; সুমুখের বারান্দায় কার্পেটের আসনে বসে মনোহর চাটুজ্জে মুদ্রিতনেত্রে ইষ্টনাম জপে রত, অকস্মাৎ লালু ভয়ঙ্কর একটা হুঙ্কার দিয়ে উঠলো। সমস্ত শব্দ-সাড়া গেল থেমে—সবাই বিস্ময়ে স্তব্ধ—এ আবার কি! লালুর অসম্ভব বিস্ফারিত চোখের তারা দুটো যেন ঘুরছে, চেঁচিয়ে বললে, আর পাঁঠা কৈ?
বাড়ির কে একজন ভয়ে ভয়ে জবাব দিলে, আর ত পাঁঠা নেই। আমাদের শুধু দু’টো করেই বলি হয়।
লালু তার হাতের রক্তমাখা খাঁড়াটা মাথার উপরে বার-দুই ঘুরিয়ে ভীষণ কর্কশকণ্ঠে গর্জন করে উঠলো—নেই পাঁঠা? সে হবে না। আমার খুন চেপে গেছে—দাও পাঁঠা, নইলে আজ আমি যাকে পাবো ধরে নরবলি দেব—মা মা—জয়-কালী! বলেই একটা মস্ত লাফ দিয়ে সে হাড়িকাঠের এদিক থেকে ওদিক গিয়ে পড়লো, তার হাড়ের খাঁড়া তখন বনবন করে ঘুরচে। তখন যে কাণ্ড ঘটলো ভাষায় বর্ণনা করে যায় না। সবাই একসঙ্গে ছুটলো সদর দরজার দিকে, পাছে লালু ধরে ফেলে। পালাবার চেষ্টায় বিষম ঠেলাঠেলি হুড়োমুড়িতে সেখানে যেন দক্ষযজ্ঞ ব্যাপার বেধে গেল। কেউ পড়েছে গড়িয়ে, কেউ হামাগুড়ি দিয়ে কারও পায়ের ফাঁকের মধ্যে মাথা গলিয়ে বেরোবার চেষ্টা করচে, কারও গলা কারও বগলের চাপের মধ্যে পড়ে দম আটকাবার মত হয়েছে, একজন আর একজনের ঘাড়ের উপর দিয়ে পালাবার চেষ্টায় ভিড়ের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছে,—কিন্তু এ-সব মাত্র মুহূর্তের জন্যে। তার পরেই সমস্ত ফাঁকা।।লালু গর্জে উঠলো—মনোহর চাটুজ্জে কৈ? পুরুত গেল কোথায়?
পুরুত রোগা লোক, সে গণ্ডগোলের সুযোগে আগেই গিয়ে লুকিয়েছে প্রতিমার আড়ালে। গুরুদেব কুশাসনে বসে চণ্ডীপাঠ করছিলেন, তাড়াতাড়ি উঠে ঠাকুর-দালানের একটা মোটা থামের পিছনে গা-ঢাকা দিয়েচেন। কিন্তু, বিপুলায়তন দেহ নিয়ে মনোহরের পক্ষে ছুটাছুটি করা কঠিন। লালু এগিয়ে গিয়ে বাঁ হাতে তাঁর একটা হাত চেপে ধরলে, বললে, চলো হাড়িকাঠে গিয়ে গলা দেবে।
একে তার বজ্রমুষ্টি, তাতে ডান হাতে খাঁড়া, ভয়ে চাটুজ্জের প্রাণ উড়ে গেল। কাঁদো-কাঁদো গলায় মিনতি করতে লাগলেন, লালু! স্থির হয়ে চেয়ে দেখ—আমি পাঁঠা নই, মানুষ। আমি সম্পর্কে তোমার জ্যাঠামশাই হই বাবা, তোমার বাবা আমার ছোট ভাইয়ের মত।
সে জানিনে। আমার খুন চেপেছে—চলো তোমাকে বলি দেব! মায়ের আদেশ!
চাটুজ্জে ডুকরে কেঁদে উঠলেন—না বাবা, মায়ের আদেশ নয়, কখ্খনো নয়—মা যে জগজ্জননী!
লালু বললে—জগজ্জননী! সে জ্ঞান আছে তোমার? আর দেবে পাঁঠা-বলি? ডেকে পাঠাবে আমাকে পাঁঠা কাটতে? বলো।
চাটুজ্জে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, কোনদিন নয় বাবা, আর কোনদিন নয়, মায়ের সুমুখে তিন সত্যি করচি, আজ থেকে আমার বাড়িতে বলি বন্ধ।।
ঠিক ত?
ঠিক বাবা ঠিক। আর কখনো না। আমার হাতটা ছেড়ে দাও বাবা, একবার পায়খানায় যাব।
লালু হাত ছেড়ে দিয়ে বললে—আচ্ছা যাও, তোমাকে ছেড়ে দিলাম। কিন্তু পুরুত পালালো কোথা দিয়ে? গুরুদেব? সে কৈ? এই বলে সে পুনশ্চ একটা হুঙ্কার দিয়ে লাফ মেরে ঠাকুরদালানের দিকে অগ্রসর হতেই প্রতিমার পিছন ও থামের আড়াল হতে দুই বিভিন্ন গলার ভয়ার্ত ক্রন্দন উঠলো। সরু ও মোটায় মিলিয়ে সে শব্দ এমন অদ্ভুত ও হাস্যকর যে, লালু নিজেকে আর সামলাতে পারলে না। হাঃ হাঃ হাঃ—করে হেসে উঠে দুম্ করে মাটিতে খাঁড়াটা ফেলে দিয়ে এক দৌড়ে বাড়ি ছেড়ে পালালো।
তখন কারো বুঝতে বাকী রইল না খুন-চাপা-টাপা সব মিথ্যে, সব তার চালাকি। লালু শয়তানি করে এতক্ষণ সবাইকে ভয় দেখাচ্ছিল। মিনিট-পাঁচেকের মধ্যে যে যেখানে পালিয়েছিল ফিরে এসে জুটলো। ঠাকুরের পূজো তখনো বাকী, তাতে যথেষ্ট বিঘ্ন ঘটেছে এবং মহা হৈচৈ কলরবের মধ্যে চাটুজ্জে মশাই সকলের সম্মুখে বার বার প্রতিজ্ঞা করতে লাগলেন—ঐ বজ্জাত ছোঁড়াটাকে যদি না কাল সকালেই ওর বাপকে দিয়ে পঞ্চাশ ঘা জুতো খাওয়াই ত আমার নামই মনোহর চাটুজ্জে নয়।
কিন্তু জুতো তাকে খেতে হয়নি। ভোরে উঠেই সে যে কোথায় পালালো, সাত-আটদিন কেউ তার খোঁজ পেলে না। দিন-সাতেক পরে একদিন অন্ধকারে লুকিয়ে মনোহর চাটুজ্জের বাড়িতে ঢুকে তাঁর ক্ষমা এবং পায়ের ধুলো নিয়ে সে-যাত্রা বাপের ক্রোধ থেকে নিস্তার পেলে। কিন্তু সে যাই হোক, দেবতার সামনে সত্য করেছিলেন বলে চাটুজ্জেবাড়ির কালীপূজায় তখন থেকে পাঁঠাবলি উঠে গেল।।
#বাংলাগল্প #কিশোরগল্প
07/01/2026
আমাজন অরণ্য পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বনভূমি। এখানে অসংখ্য প্রাণী বাস করে, যাদের অনেকেই পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। নিচে কিছু বিখ্যাত প্রাণীর তালিকা ও তাদের সংক্ষিপ্ত বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো:
১. জাগুয়ার (Jaguar)
আমাজনের শীর্ষ শিকারি।
শক্তিশালী চোয়াল দিয়ে শিকারকে এক আঘাতে মেরে ফেলতে পারে।
জলে সাঁতার কাটতে ভালোবাসে।
২. স্লথ (Sloth)
খুব ধীরগতির প্রাণী, গাছে উল্টো ঝুলে থাকে।
দিনে ১৫–২০ ঘণ্টা ঘুমায়।
পাতাই প্রধান খাদ্য।
৩. অ্যানাকোন্ডা (Anaconda)
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাপগুলোর একটি।
জলে বাস করে এবং শিকারকে পেঁচিয়ে মেরে ফেলে।
৪. টুকান (Toucan)
বড় ও রঙিন ঠোঁটের জন্য বিখ্যাত।
ফল খায় এবং বীজ ছড়িয়ে বন পুনর্জন্মে সাহায্য করে।
৫. ম্যাকাও (Macaw)
উজ্জ্বল রঙের তোতা পাখি।
জোড়ায় বা দলে উড়ে বেড়ায়।
মানুষের ভাষা অনুকরণ করতে পারে।
৬. পিরানহা (Piranha)
ছোট কিন্তু ভয়ংকর মাছ।
ধারালো দাঁত দিয়ে দ্রুত শিকার ছিঁড়ে খায়।
৭. পয়জন ডার্ট ফ্রগ (Poison Dart Frog)
ছোট, উজ্জ্বল রঙের ব্যাঙ।
ত্বক থেকে বিষ নিঃসৃত হয় যা শিকারিদের দূরে রাখে।
৮. ক্যাপিবারা (Capybara)
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইঁদুরজাতীয় প্রাণী।
জলের ধারে থাকে এবং দলে চলাফেরা করে।
৯. আমাজন রিভার ডলফিন (Amazon River Dolphin)
গোলাপি রঙের ডলফিন, নদীতে বাস করে।
বুদ্ধিমান ও সামাজিক প্রাণী।
১০. হার্পি ঈগল (Harpy Eagle)
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঈগলগুলোর একটি।
বানর ও স্লথ শিকার করে।
এই প্রাণীগুলো আমাজন অরণ্যের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Contact the school
Website
Address
88 Carry Road. Post-Santragachi. PS-AJC Bose Botanic Garden
Howrah
711104