Garh Bhawanipur R. P. Institution Old Boys' Union Rural Library

Librarian

Operating as usual

[02/13/21]   শুকনো হৃদয়
- রেদোয়ান মাসুদ

নিজেকে আজ বড় অসহায় মনে হচ্ছে
আজ যেন কিসের অভাব
হৃদয়ে নাড়াচাড়া দিয়ে উঠেছে।
কিছুই ভাল লাগছেনা
না কোকিলের সুর,
না সেই মন ভুলানো উত্তাল হাওয়া,
জানালার দিকে তাকিয়ে তাই
আকাশের দিকে মুখ ফিরিয়ে আছি।
কই আকাশে তো আজ সূর্যের দেখা নেই?
দূর থেকে গর্জন শুনছি মেঘের
চারিদিকে তাহলে মেঘেই ঘিরে রেখেছে।
যদি একটু আলো দেখতে পেতাম
মনটা না হয় একটু শান্তি পেত।
এইতো সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত্রি নেমে আসছে
বাগানে হাসনা হেনার গন্ধ
নাকটি যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
যে গন্ধ এক সময় আমার হৃদয়ে
ভালবাসার ছোয়া লাগিয়ে যেত
কিন্তু আজ বিরক্তিকর মাছের কাটা
যেন গলা আটকে রেখেছে।
পৃথিবীটা আজ সরু হয়ে আসছে
দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
বাইরে দূর্বা ঘাসের উপর
শিশিরের বিন্দু পড়তে শুরু করেছে।
যে শিশিরের ছোঁয়ায়
আমার শরীরে শিহরন জাগত
জীবনে যেন নতুন অধ্যায় সূচীত হতো।
কিন্তু আজ আর সেই শিশির বিন্দুতে
পা রাখতে ইচ্ছে করছে না।
কার ভাললাগে একা একা
সেই অন্ধকারে শিশিরে পা ভিজাতে?
পা কর্দমাক্ত হয়ে যদি পিছলে পরে যাই
কে আমাকে হাত ধরে উঠিয়ে দিবে?
যে হাতের স্পর্শে আমি হারিয়ে যেতাম
কোন এক স্বর্গপুরে।
আজ আর কিছুই ভাল লাগছেনা
পড়ার টেবিলেও মন বসছে না।
ডায়রির পাতা খুলে
কিছু লিখতে হাত বাড়ালাম
কিন্তু কলম আর চলছে না।
হাত কাপছে, পা কাপছে
চোখ দু’টি লাল হয়ে গেছে,
আর একটু হলেই অঝোর ধারায়
বৃষ্টি নামবে হৃদয়ের আকাশে।
জানালা দিয়ে হঠাৎ চোখ পড়ল আকাশের দিকে
কি যেন মিটি মিটি করে জলছে,
হয়তো মেঘের ফাকে চাঁদ উকি দিচ্ছে পৃথিবীর দিকে।
হৃদয়ে প্রশান্তির ছোঁয়া
আধো আলো, আধো ছায়ার মত
ফিরে আসতে শুরু করেছে
নতুন কোন আশার আলো।
কিন্তু সবই স্বপ্ন
যে স্বপ্নই বাঁচিয়ে রেখেছে আমায়।
হয়তো সে স্বপ্ন আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাবে
হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণে।
তবুও স্বপ্ন নিয়েই তাকিয়ে আছি
আকাশের দিকে।
কখন চাঁদের দেখা মিলবে ঐ দূর আকাশে
আর মেঘগুলো সব ঝরে পরে
ভিজিয়ে যায় আমার সেই শুকনো হৃদয়টাকে।

10/02/2021

উত্তর পাই নি

আমি মেয়ে
যে দিন জন্মেছিলাম,
ঠাকুমা তুলসী তলায় মাথা ঠুকেছিল,
গতরাতে নিজের হাতে তৈরি নাড়ু
ফেলে দিয়েছিল গরুর ডাবায়।
বাবার মুখ ছিল গম্ভীর
মায়ের মুখে এক পাপবোধ।
প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিল,
পরেরবার, নিশ্চয়ই ঠাকুর মুখ তুলে চাইবে।
বুজেছিলাম, আমি পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসি নি।
আমার বয়স এখন চার,
আজ আমার একটা ভাই হয়েছে।
সারা বাড়ী জুড়ে সে কি আনন্দ!
কেবল নাড়ু নয়, বাবা মিষ্টি বিলি করেছে।
সব্বাই বলছে, ভগবান এতদিন বাদে মুখ তুলে চাইল।
চার বছরের আমি শুধু উত্তর পাই নি,
আমার জন্মের দিনটা কেন অন্যরকম ছিল?

সেই আমি এখন ষোল বছরের।
ঠাকুমা, বাবার হুকুম হয়েছে
আর স্কুল নয়,
বই, খাতা, রঙ, পেনসিল ছেড়ে
এবার শিখতে হবে সংসারের কাজ।
সময় হয়েছে, এ বাড়ী ছেড়ে
আর এক বাড়ী যাওয়ার।
ভাই স্কুলে যায়,
বাবার ইচ্ছে ও যতদূর পারে পড়ুক।
আমার কেন পড়া হবে না,
না, এর কোন উত্তর পাই নি।

আমার বয়স এখন আঠাশ।
বিয়ে হয়ে গেছে এগারো বছর আগে।
একটি মেয়ে, একটি ছেলে।
মেয়ে হওয়ার পড়, শ্বশুরবাড়ীর কেউ
কয়েকদিন আমার সাথে কথা বলে নি।
কেন? না এরও কোন উত্তর পাই নি।

সেই আমি আজ পঞ্চাশের গোড়ায়
বাপের বাড়ীতে এসেছি।
বাবার আর কয়েক মুহূর্ত,
ভাই চাকরী করে
সময় পায় নি আসার।
শেষ সময়ে আমি দিয়েছিলাম
বাবার মুখে দুফোঁটা জল।
সব্বাই বলেছিল, লোকটার কপাল খারাপ,
শেষ সময়ে ছেলের হাতের জলটুকুও পেল না।
আমার দেওয়া জলে দোষ কোথায়,
না, এরও কোন উত্তর পাই নি।

আমি এখন পঁচাত্তরের বৃদ্ধা
জীবনের শেষকটি ক্ষণ আর বাকি।
আমার ছেলেটি বড় ব্যস্ত।
চারিদিকে ছুটে বেড়াচ্ছে, লোক জোগাড় করছে।
আর, আমার মেয়েটি
চুপচাপ, নীরবে আমার পায়ের সামনে বসে আছে।
ওর যে কোন স্বাধীনতা নেই।
সমাজের সকলের মন জুগিয়ে যে ওকে চলতে হয়।
নীরবে দুচোখের কোণ দিয়ে কেবল
গড়িয়ে পড়ছে ফোঁটা ফোঁটা জল।

মেয়ে ছেলে কেন এত তফাৎ
এর কোন উত্তর পাই নি।
আমি আবার জন্মাতে চাই,
জন্মাতে চাই একজন মেয়ে হয়ে।
পুরুষের চোখে জগৎ দেখব বলে নয়,
জগৎ দেখব একজন মেয়ের চোখে।

(Collected whatsapp...)

03/02/2021

দুই বিঘা জমি
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুধু বিঘে-দুই,ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে ।
বাবু বলিলেন,’ বুঝিছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।‘
কহিলাম আমি,’ তুমি ভূস্বামী’ ভূমির অন্ত নাই।
চেয়ে দেখ মোর আছে বড়জোর মরিবার মতো ঠাই।‘
শুনি রাজা কহে, ‘বাপু, জান হে, করেছি বাগানখান্
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা_
ওটা দিতে হবে।‘ কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সজল চক্ষে, ‘করুন রক্ষে গরিবের ভিটেখানি।
সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ যে মাটি সোনার বাড়া,
দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে এমনি লক্ষ্মীছাড়া!’
আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে,
কহিলেন হেসে ক্রুর হাসি হেস, ‘আচ্ছা, সে দেখা যাবে।‘

পরের মাস-দেড়ে ভিটা মাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে_
করিল ডিক্রি, সকলই বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে।
এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি,
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি।
মনে ভাবিলাম, মরে ভগবান রাখিবেনা মোহ গর্ত্
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে।
সন্নাসিবেসে ফিরি দেশে দেশে হইয়া সাধুর শিষ্য_
কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য।
ভুদরে সাগরে বিজনে নগরে যখন যেখানে ভ্রমি
তবু নিশি দিনে ভুলিতে পারিনে সেই দুই বিঘে জমি।
হাটে মাটে বাটে একমত কাটে বছর পনের-ষোল,
একদিন শেষে ফিরিবার দেশে বড়ই বাসনা হল।।
নমোনমো নম সুন্দরি মম জননী বঙ্গভূমি!
গঙ্গার তীর, স্নিগ্ধ সমীর জীবন জুড়ালে তুমি।
অবারিত মাঠ, গগন ললাট চুমে তব পদধূলি_
ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড় ছোটো ছোটো গ্রামগুলি।
পল্লব ঘন অম্লকানন, রাখালের খেলাগেহ_
স্তব্ধ অতল দিঘি কালজল নিশীথ শীতল স্নেহ।
বুক-ভরা-মধু বঙ্গের বঁধু জল লয়ে যায় ঘরে
মা বলিত প্রান করে আনচান, চোখে আসে জল ভরে।
দুই দিন পরে দ্বিতীয় প্রহরে পবেশিনু নিজ গ্রামে_
কুমোরের বাড়ি দক্ষিণে ছাড়ি, রথতলা করি বাম্
রাখি হাতখোলা নন্দির গোলা, মন্দির করি পাছে
তৃষাতুর শেষে পহুছিনু এসে আমার বাড়ির কাছে।।

ধিক্ ধিক্ ওরে শত ধিক্ তোরে নিলাজ কুলটা ভূমি,
যখনি যাহার তখনি তাহার_ এই কি জননী তুমি!
সে কি মনে হবে একদিন যাবে ছিলে দরিদ্রমাতা
আঁচল ভরিয়া রাখিতে ধরিয়া ফল মুল শাক পাতা!
আজ কোন রীতে কারে ভুলাইতে ধরেছে বিলাসবেশ_
পাছ রঙ্গা পাতা অঞ্চলে গাঁথা, পুষ্পে খচিত কেশ!
আমি তোর লাগি ফিরেছি বিবাগি গৃহহারা সুখ হীন,
তুই হেথা বসি ওরে রাক্ষসী, হাসিয়া কাটাস দিন!
ধনীর আদরে গরব না ধরে! এতই হয়েছে ভিন্ন_
কোনো খানে লেস নাহি অবশেষ সে দিনের কোনো চিহ্ন!
কল্যাণ ময়ি ছিলে তুমি অয়ি, ক্ষুধা হারা সুধা রাশি।
যত হাস আজ, তত করো সাজ, ছিলে দেবী_ হলে দাসী।
বিদীর্ণ হিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারিদিকে চেয়ে দেখি_
প্রাচীরের কাছে এখন যে আছে সেই আমগাছ একি!
বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যাথা,
একে একে উদিল স্মরণে বাল্যকালের কথা।
সেই মনে পরে, জৈষ্ঠের ঝরে রাত্রে নাইকো ঘুম,
অতি ভরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম।
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাটশালা-পলায়ন_
ভাবিলাম হায়, আর কি কোথায় ফিরে পাবো সে জীবন।
সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে,
দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।
ভাবিলাম মনে, বুঝি এত খনে আমারে চিনিল মাতা।
স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা।।

হেনকালে হায় যমদূত প্রায় কথা হতে এলো মালী।
ঝুটি বাঁধা উরে সপ্তম সুরে পাতিতে লাগিল গালি।
কহিলাম তবে, ‘আমি তো নীরবে দিয়েছি আমার সব_
দুটি ফল তার করি অধিকার, এত তারি কলরব।‘
চিনিলনা মোরে, নিয়ে গেল ধরে কাঁধে তুলে লাঠি গাছ;
বাবু ছিপ হাতে পরিষদ সাথে ধরিতেছিলেন মাছ_
শুনে বিবারন ক্রোধে তিনি কন, ‘মারিয়া করিব খুন।‘
বাবু যত বলে পরিষদ দলে বলে তার শতগুণ।
আমি কহিলাম, ‘সুধু দুটি আম ভিখ মাগি মহাশয়!’
বাবু কয় হেসে, ‘বেটা সাধু বেশে পাকা চোর অতিশয়!’
আমি শুনে হাসি, আঁখি জলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে¬¬_
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে।।

10/01/2021
27/12/2020

যাব আমি তোমার দেশে

পল্লী-দুলাল, যাব আমি-যাব আমি তোমার দেশে,
আকাশ যাহার বনের শীষে দিক-হারা মাঠ চরণ ঘেঁষে।
দূর দেশীয়া মেঘ-কনেরা মাথায় লয়ে জলের ঝারি,
দাঁড়ায় যাহার কোলটি ঘেঁষে বিজলী-পেড়ে আঁচল নাড়ি।
বেতস কেয়ার মাথায় যেথায় ডাহুক ডাকে বনের ছায়ায়,
পল্লী-দুলাল ভাইগো আমার, যাব আমি যাব সেথায়।

তোমার দেশে যাব আমি, দিঘল বাঁকা পন্থখানি,
ধান কাউনের খেতের ভেতর সরু সূতোর আঁচল টানি;
গিয়াছে হে হাবা মেয়ের এলোমাথার সিঁথীর মত
কোথাও সিধে, কোথায় বাঁকা, গরুর পায়ের রেখায় ক্ষত;
গাজনতলির মাঠ পেরিয়ে, শিমূলতলীর বনের বাঁয়ে,
কোথাও গায়ে রোদ মাখিয়া, ঘুম-ঘুমায়ে গাছের ছায়ে।
তাহার পরে মুঠি মুঠি ছড়িয়ে দিয়ে কদম-কলি,
কোথাও মেলে বনের লতা গ্রাম্য মেয়ে যায় যে চলি;
সে পথ দিয়ে যাব আমি পল্লী-দুলাল তোমার দেশে,
নাম-না জানা ফুলের সুবাস বাতাসেতে আসবে ভেসে।

তোমার দেশে যাব আমি, পাড়ার যত দস্যি ছেলে,
তাদের সাথে দল বাঁধিয়া হেথায় সেথায় ফিরব খেলে।
থল-দীঘিতে সাঁতার কেটে আনব তুলে রক্ত-কমল,
শাপলা লতায় জড়িয়ে চরণ ঢেউ এর সাথে খাব যে দোল।
হিজল ঝরা জলের সাথে গায়ের বরণ রঙিন হবে,
দীঘির জলে খেলবে লহর মোদের লীলাকালোসবে।

তোমার দেশে যাব আমি পল্লী-দুলাল ভাইগো সোনার,
সেথায় পথে ফেলতে চরণ লাগবে পরশ এই মাটি-মার!
ডাকব সেথা পাখির ডাকে, ভাব করিব শাখীর সনে,
অজান ফুলের রূপ দেখিয়া মানব তারে বিয়ের কনে;
চলতে পথে ময়না কাঁটায় উত্তরীয় জড়িয়ে যাবে,
অঢেল মাটির হোঁচট লেগে আঁচল হতে ফুল ছড়াবে।

পল্লী-দুলাল, যাব আমি-যাব আমি তোমার দেশে,
তোমার কাঁধে হাত রাখিয়া-ফিরবো মোরা উদাস বেশে।
বনের পাতার ফাঁকে ফাঁকে দেখব মোরা সাঁঝ বাগানে,
ফুল ফুটেছে হাজার রঙের মেঘ তুলিকার নিখুঁত টানে।
গাছের শাখা দুলিয়ে আমি পাড়ব সে ফুল মনের আশে,
উত্তরীয় ছড়িয়ে তুমি দাঁড়িয়ে থেকো বনের পাশে।

যে ঘাটেতে ভরবে কলস গাঁয়ের বিভোল পল্লীবালা,
সেই ঘাটেরি এক ধারেতে আসবো রেখে ফুলের মালা;
দীঘির জলে ঘট বুড়াতে পথে পাওয়া মালাখানি,
কুড়িয়ে নিয়ে ভাববে ইহা রাখিয়া গেছে কেউ না জানি।
চেনে না তার হাতের মালা হয়তবা সে পরবে গলে,
আমরা দুজন থাকব বসে ঢেউ দোলা সেই দীঘির কোলে।
চার পাশেতে বনের সারি এলিয়ে শাখার কুন্তল-ভার,
দীঘির জলে ঢেউ গণিবে ফুল শুঁকিবে পদ্ম-পাতার।
বনের মাঝে ডাকবে ডাহুক, ফিরবে ঘুঘু আপন বাসে,
দিনের পিদিম ঢুলবে ঘুমে রাত-জাগা কোন্ ফুলের বাসে।
চার ধারেতে বন জুড়িয়া রাতের আঁধার বাঁধবে বেড়া,
সেই কুহেলীর কালো কারায় দীঘির জলও পড়বে ঘেরা।
সেই আঁধারে পাখায় ধরে চামচিকারা উচ্চে উঠি,
দিকে দিকে দিগনে-রে ছড়িয়ে দেবে মুঠি মুঠি।
তখন সেথা থাকবে না কেউ, সুদূর বনের গহন কোণে,
কানাকুয়া ডাকবে শুধু পহরের পর পহর গণে।
সেই নিরালার বুকটি চিরে পল্লী দুলাল আমরা দুজন,
পল্লীমায়ের রূপটি যে কি, করব মোরা তার অন্বেষণ।

- জসীম উদ্দীন।

25/12/2020

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,

ছোট গাঁওখানি- ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া,
কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া;
ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী
পারের খবর টানাটানি করি;
বিনাসুতি মালা গাথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;
বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তটের হিয়া।

তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে, ছোট সে কাজল গাঁয়,
গলাগলি ধরি কলা বন; যেন ঘিরিয়া রয়েছে তায়।
সরু পথ খানি সুতায় বাঁধিয়া
দূর পথিকেরে আনিছে টানিয়া,
বনের হাওয়ায়, গাছের ছায়ায়, ধরিয়া রাখিবে তায়,
বুকখানি তার ভরে দেবে বুঝি, মায়া আর মমতায়!

তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে – নরম ঘাসের পাতে
চম্বন রাখি অধরখানিতে মেজে লয়ো নিরালাতে।
তেলাকুচা – লতা গলায় পরিয়া
মেঠো ফুলে নিও আঁচল ভরিয়া,
হেথায় সেথায় ভাব করো তুমি বুনো পাখিদের সাথে,
তোমার গায়ের রংখানি তুমি দেখিবে তাদের পাতে।

তুমি যদি যাও আমাদের গাঁয়ে, তোমারে সঙ্গে করি
নদীর ওপারে চলে যাই তবে লইয়া ঘাটের তরী।
মাঠের যত না রাখাল ডাকিয়া
তোর সনে দেই মিতালী করিয়া
ঢেলা কুড়িইয়া গড়ি ইমারত সারা দিনমান ধরি,
সত্যিকারের নগর ভুলিয়া নকল নগর গড়ি।

তুমি যদি যাও – দেখিবে সেখানে মটর লতার সনে,
সীম আর সীম – হাত বাড়াইলে মুঠি ভরে সেই খানে।
তুমি যদি যাও সে – সব কুড়ায়ে
নাড়ার আগুনে পোড়ায়ে পোড়ায়ে,
খাব আর যত গেঁঢো – চাষীদের ডাকিয়া নিমন্ত্রণে,
হাসিয়া হাসিয়া মুঠি মুঠি তাহা বিলাইব দুইজনে।

তুমি যদি যাও – শালুক কুড়ায়ে, খুব – খুব বড় করে,
এমন একটি গাঁথিব মালা যা দেখনি কাহারো করে,
কারেও দেব না, তুমি যদি চাও
আচ্ছা না হয় দিয়ে দেব তাও,
মালাটিরে তুমি রাখিও কিন্তু শক্ত করিয়া ধরে,
ও পাড়াব সব দুষ্ট ছেলেরা নিতে পারে জোর করে;

সন্ধ্যা হইলে ঘরে ফিরে যাব, মা যদি বকিতে চায়,
মতলব কিছু আঁটির যাহাতে খুশী তারে করা যায়!
লাল আলোয়ানে ঘুঁটে কুড়াইয়া
বেঁধে নিয়ে যাব মাথায় করিয়া
এত ঘুষ পেয়ে যদি বা তাহার মন না উঠিতে চায়,
বলিব – কালিকে মটরের শাক এনে দেব বহু তায়।

খুব ভোর ক’রে উঠিতে হইবে, সূয্যি উঠারও আগে,
কারেও ক’বি না, দেখিস্ পায়ের শব্দে কেহ না জাগে
রেল সড়কের ছোট খাদ ভরে
ডানকিনে মাছ কিলবিল করে;
কাদার বাঁধন গাঁথি মাঝামাঝি জল সেঁচে আগে ভাগে
সব মাছগুলো কুড়ায়ে আনিব কাহারো জানার আগে।

ভর দুপুরেতে এক রাশ কাঁদা আর এক রাশ মাছ,
কাপড়ে জড়ায়ে ফিরিয়া আসিব আপন বাড়ির কাছ।
ওরে মুখ – পোড়া ওরে রে বাঁদর।
গালি – ভরা মার অমনি আদর,
কতদিন আমি শুনি নারে ভাই আমার মায়ের পাছ;
যাবি তুই ভাই, আমাদের গাঁয়ে যেথা ঘন কালো গাছ।

যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়।
ঘন কালো বন – মায়া মমতায় বেঁধেছে বনের বায়।
গাছের ছায়ায় বনের লতায়
মোর শিশুকাল লুকায়েছে হায়!
আজি সে – সব সরায়ে সরায়ে খুজিয়া লইব তায়,
যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গায়।

তোরে নিয়ে যাব আমাদের গাঁয়ে ঘন-পল্লব তলে
লুকায়ে থাকিস্, খুজে যেন কেহ পায় না কোনই বলে।
মেঠো কোন ফুল কুড়াইতে যেয়ে,
হারাইয়া যাস্ পথ নাহি পেয়ে;
অলস দেহটি মাটিতে বিছায়ে ঘুমাস সন্ধ্যা হলে,
সারা গাঁও আমি খুজিয়া ফিরিব তোরি নাম বলে বলে।

- নিমন্ত্রণ(জসীম উদ্দীন)

[12/13/20]   বিদায়
_ জসীম উদ্দিন।

কিছুদিন বাদে আদিল কহিল, “গান ত হইল শেষ,
সোনার বরণী সকিনা আমার চল আজ নিজ দেশ।
তোমার জীবনে আমার জীবনে দুখের কাহিনী যত,
শাখায় লতায় বিস্তার লভি এখন হয়েছে গত।
চল, ফিরে যাই আপনার ঘরে শূন্য শয্যা তথা,
শুষ্ক ফুলেরা ছাড়িছে নিশ্বাস স্মরিয়া তোমার কথা।”

শুনিয়া সকিনা ফ্যাল ফ্যাল করি চাহিল স্বামীর পাানে,
সে যেন আরেক দেশের মানুষ বোঝে না ইহার মানে।
আদিল কহিল“সেথায় তোমার হলুদের পাটাখানি,
সে শুভ দিনের রঙ মেখে গায় ডাকিছে তোমারে রাণী,
উদাস বাতাস প্রবেশ করিয়া শূূনো কলসীর বুকে,
তোমার জন্যে কাঁদিছে কন্যে শত বিরহের দুখে।
মাটির চুলা যে দুরন্ত বায়ে উড়ায়ে ভস্মরাশ,
ফাটলে ফাটরে চৌচির হয়ে ছাড়িছে বিরহ শ্বাস।
কন্যা-সাজানী সীমলতা সেথা রোপেছিলে নিজ হাতে।
রৌদ্রে-দাহনে মলিন আজিকে কেবা জল দিবে তাতে।
চল, ফিরে যাই আপনার ঘরে, সেথায় সুখের মায়া।
পাখির কুজনে ঝুমিছে সদাই গাছের শীতল ছায়া।


ক্ষণেক নীরব রহিয়া সকিনা শুধাল স্বামীরে তার,
“কোথা সেই ঘর আশ্রয়-ছায়া মিলিবে জীবনে আর ?
অভাগিনী আমি প্রতি তিলে তিলে নিজেরে করিয়া দান,
কত না দুঃখের দাহনে কিরনু সে ঘরের সন্ধান।
সে ঘর আমার জনমের মত পুড়িয়া হয়েছে ছাই,
আমার সমুখে শুষ্ক মরু যে ছাড়ে আগুনের হাই।”

আদিল কহিল, “সে মরুতে আজি বহিছে মেঘের ধারা,
তুমি সেথা চল নকসা করিয়া রচিবে তৃণের চারা।
সেথা অনাগত শিশু কাকলীর ফুটিবে মধুর বোল,
নাচিবে দখিন বসন্ত বায় দোলায়ে সুখের দোল।”

“মিথ্যা লইয়া কতকাল পতি প্রবোধিব আপনায় ?”
ম্লান হাসি হেসে শুধায় সকিনা, “দুঃখের দাহনায়
অনেক সহিয়া শিখেছি বন্ধু, মিছার বেসাতি করি,
ভবের নদীতে ফিরিছে কতই ভাগ্যবানের তরী।
সেথায় আমার হলনাক ঠাঁই, দুঃখ নাহি যে তায়,
সান্ত্বনা রবে, অসত্য লয়ে ঠকাইনি আপনায়।
কোন ঘরে মোরে নিয়ে যাবে পতি?যেথায় সমাজনীতি,
প্রতি তিলে তিলে শাসনে পিষিয়া মরিছে জীবন নিতি।
না ফুটিতে যেথা প্রেমের কুসুম মরিছে নিদাঘ দাহে,
না ফুটিতে কথা অধরে শুকায় বিভেদের কাঁটা রাহে।
সাদ্দাদ সেথা নকল ভেস্ত গড়িয়া মোহের জালে,
দম্ভে ফিরেছে টানিছে ছিঁড়িছে আজিকার এই কালে।
সে দেশের মোহ হইতে যে আজি মুক্ত হয়েছি আমি,
স্বার্থক যেন লাগিছে যে দুখ সয়েছি জীবনে, স্বামী।
কোন ঘরে তুমি নিয়ে যাবে পতি, কুলটার দুর্নাম,
যেথায় জ্বলিছে শত শিখা মেলি অফুরান অবিরাম।
যেথায় আমার অপাপ-বিদ্ধ শিশু সন্তান তরে,
দিনে দিনে শুধু রচে অপমান নানান কাহিনী করে।
যেথায় থাপড়ে নিবিছে নিমেষে বাসরের শুভ বাতি.
মিলন মালিকা শুকায় যেখানে শেষ না হইতে রাতি।
যেথায় মিথ্যা সম্মান অর খ্যাতি আর কুলমান,
প্রেম-ভালবাসা স্নেহ-মায়া পরে হানিছে বিষের বাণ।
সেথায় আমার ঘর কোথা পতি ? মোরে ছায়া দিতে হায়,
নাই হেন ঠাঁই রীতি নীতি ঘেরা তোমাদের দুনিয়ায়।
এ জীবনে আমি ঘরই চেয়েছিনু সে ঘরের মোহ দিয়ে,
কেউ নিল হাসি, কেউ নিল দেহ কেউ গেল মন নিয়ে।
ঘর ত কেহই দিল না আমারে, মিথ্যা ছলনাজাল,
পাতিয়া জীবনে নিজেরে ভুলায়ে রাখি আর কতকাল।”


আদিল কহিল, “আমিও জীবনে অনেক দুঃখ সয়ে,
নতুন অর্থ খুঁজিয়া পেয়েছি তোমার কাহিনী লয়ে।
আর কোন খ্যাতি, কোন গৌরব, কোন যশ কুলমান,
আমাদের মাঝে আনিতে নারিবে এতটুকু ব্যবধান।
বিরহ দাহনে যশ কুলমান পোড়ায় করেছি ছাই,
তোমার জীবন স্বর্ণ হইয়া উজলিছে সেথা তাই।
চল ঘরে যাই, নতুন করিয়া গড়িব সমাজনীতি,
আমাদের ভালবাসী দিয়ে সেথা রচিব নতুন প্রীতি,

সে ঘর বন্ধু, এখনো রচিত হয় নাই কোনখানে,
সে প্রীতি ফুটিবে আমারি মতন কোটি কোটি প্রাণদানে।
তুমি ফিরে যাও আপনার ঘরে, রহিও প্রতীক্ষায়.
হয়ত জীবনে আবার মিলন হইবে তোমা-আমায়।’

“কারে সাথে করে ফিরে যাব ঘরে ? শূন্য বাতাস তথা,
ফুঁদিয়ে এ বুকে আগুন জ্বালাবে ইন্ধনি মোর ব্যথা।”
“একা কেন যাবে ?”সকিনা যে কহে, “এই যে তোমার ছেলে,
এরে সাথে করে লইও সেথায় নতুন জীবন মেলে।
দিনে দিনে তারে ভুলে যেতে দিও জনম দুখিনী মায়,
শিখাইও তারে, মরিয়াছে মাতা জীবনের ঝোড়ো বায়।
কহিও, দারুণ বনের বাঘে যে খায়নি তাহারে ধরে,
মনের বাঘের দংশনে সে যে মরিয়াছে পথে পড়ে।
এতদিন পতি, তোমার আশায় ছিনু আমি পথ চেয়ে,
আঁচলের ধন সঁপিলাম পায় আজিকে তোমারে পেয়ে।
কতেকদিন সে কাঁদিবে হয়ত অভাগী মায়ের তবে,
সে কাঁদব তুমি সহ্য করিও আর এক শুভ স্মরে।
মোর জীবনের বিগত কাহিনী মোর সাথে সাথে ধায়,
তাহারা আঘাত হানিবে না সেই অপাপ জীনটায়।
বড় আদরের মোর তোতামণি তারে যাও সাথে নিয়ে,
আমারি মতন পালিও তাহারে বুকের আদর দিয়ে।”
এই কথা বলি অভাগী সকিনা ছেলেরে স্বামীর হাতে,
সঁপিয়া যে দিতে নয়নের জল লুকাইল নিরালাতে।


তোতামণি কয়, “মাগো, মা আমার লক্ষী আমার মা,
তোমারে ছাড়িয়া কোথাও যে মোর পরাণ টিকিবে না।
কোন বনবাসে আমারে মা তুমি আজিকে সঁপিয়া দিয়া,
কি করিয়া তুমি জীবন কাটাবে একেলা পরাণ নিয়া।”
“বাছারে! সে সব শুধাসনে মোরে, এটুকু জানিস সার,
ছেলের শুভের লাগিয়া সহিতে বহু দুখ হয় মার।
রজনী প্রভাতে মা বোল বলিয়া আর না জুড়াবি বুক,
শতেক দুখের দাহন জুড়াতে হেরিব না চাঁদ মুখ।
তবু বাছা তোরে ছাড়িতে হইবে, জনম দুখিনী মার,
সাধ্য হল না বক্ষে রাখিতে আপন ছেলেরে তার।”

ছেলেরে আঁচলে জড়ায়ে সকিনা কাঁদিল অনেকক্ষণ,
তারপর কোন দৃঢতায় যেন বাঁধিয়া লইল মন।
উসাদ কন্ঠে কহিল স্বামীকে, “ফিরে যাও, নিজ ঘরে,
মোদের মিলন বাহিরে হল না রহিল হৃদয় ভরে।
আমার লাগিয়া উদাসী হইয়া ফিরিয়াছ গাঁয় গাঁয়,
এই সান্ত্বনা রহিল আমার সমুখ জীবনটায়।
যাহার লাগিয়া এমন করিয়া অমন পরাণ করে,
আজি জানিলাম, তাহারো পরাণ আমারো লাগিয়া ঝরে।
এ সুখ আমার দুখ-জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার,
সারাটি জনম তপস্যা করি শোধ নাহি হবে তার।
এই স্মরণের শক্তি আমারে চালাবে সমুখ পানে,
যে অজানা সুর মোহ বিস্তারি নিশিদিন মোর টানে।”

“প্রাণের সকিনা ?” আদিল শুধায়, “সে তব জীবনটায়,
আমার তরেতে এতটুকু ঠাই নাহি কোন তরুছায় ?”
“আছে, আছে পতি, “সকিনা যে কহে, “হায়রে যাহারে পাই,
তাহারে আবার হারাইতে সখা, বড় যে আরাম তাই।
ফুলেরে ডাকিয়া পুছিনু সেদিন, “ফুল ! তুমি বল কার ?
ফুলে কহে, যারে কিছু না দিলাম আমি যে সবটা তার।
শুধালাম পুন; বল বল ফুল ! সব তুমি দিলে যারে,
সেকি আজ হাসে বরণে সুবাসে তোমার দানের ভাবে ?
“সে আমার কাছে কিছু পায় নাই। ফুল কহে ম্লান হাসি,
‘পদ্মের বনে ফিরিছে সারসী কুড়ায়ে শামুক রাশি।
পুছিলাম পুন ফুল !তুমি বল কোথায় সবতি তব ?
ফুল কহে, যারে কিছু দেই নাই সেথা মোর চিরভব।
এ জীবনে মোর এই অভিশাপ যারে কিছু দিতে যাই,
কর্পুর সম উবে যায় তাহা, হাতে না লইতে তাই।
যে আমারে চাহে যতটা করিয়া আমি হই তত তার,
ইচ্ছা করিয়া আমি যে জীবনে কিছু নারি হতে কার।
যে আমারে পায় তাহার নিশীথে চির অনিদ্রা জাগে,
ফুলশয্যা যে কন্টকক্ষত তাহার জীবনে লাগে।
সাপের মাথায় চরণ রাখিয়া চলে সে আঁধার রাতে,
দুখের মুকুট মাথায় পরিয়া বিষের ভান্ড হাতে।
নিকটে করিয়া যে আমারে চাহে আমি তার বহুদূর,
দূরের বাঁশীতে বেজে ওঠে নিতি প্রীতি মিলনের সুর।


ফুলের কাহিনী স্মরিযা পতি গো, অনেক শিখেছি আজ,
স্বেচ্ছায় তাই হাসিয়া নিলাম বিরহ মেঘের বাজ।
নিকটে তোমারে পেতে চেয়েছিনু, সাধ হল না তাই,
দূরের বাঁশীরে দূরে রেখে দেখি বুকে তারে যদি পাই।
গলে না লইতে শুকাল মালিকা, মিলন রাতের মোহে,
চিরশূণ্যতা ভরেছি এ বুকে দোঁহে আকড়িয়া দোঁহে।
আজ তাই পতি, বড় আশা করে তোমারে পাঠাই দূরে,
সেই শূন্যতা ভরে যদি ওঠে আমার বুকের সুরে।

আদিল কহিল, প্রাণের সকিনা, সারাটি জনম ভরে,
দুখের সাগরে সাঁতার কেটেছ কেবলি আমার তরে।
আজকে তোমার কোন সাধ হতে তোমারে না দিব বাধা,
স্বেচ্ছায় আমি বরিয়া নিলাম এই বিরহের কাঁদা।
বিদায়ের কালে বল অভাগিনী, কোথায় বাঁধিবে ঘর,
কোন ছায়াতরু শীতলিত সেই সুদূর তেপান্তর?

ম্লান হাসি হেসে কহিল সকিনা, আমার মতন হায়,
অনেক সহিয়া ঘুমায়েছে সারা জীবনে ঝড়িয়ায়;
কবর খুঁড়িয়া বাহির করিয়া তাদের কাহিনী মালা,
বক্ষে পরিয়া প্রতি পলে পলে বুঝিব তাদের জ্বালা।
যত ভাঙা ঘর শুষ্ক কুসুম, দলিত তৃষিত মন,
সেথায় আমার যোগ সাধনের রচিব যে ধানাসন।
সেইখানে পতি বরষ বরষ রহিব তপস্যায়,
খুঁজিব নতুন কথা যা শুনিলে সব দুখ দূরে যায়।
জানি না সে কোন কথা-অমৃত, কোন সে মধুর ভাষা,
তবু আজ মোর নিশিদিশি ভরি জাগিতেছে মনে আশা;
সে কথার আমি পাব সন্ধান, দুঃখ দাহন মাঝে,
হয়ত বেদন-নাশন কখন গোপনে সেখা রোজে।
একান্ত মনে বসি ধ্যানাসনে একটি একটি ধরি,
মোর ব্যথাগুলি সবার ব্যথার সঙ্গে মিশাল করি;
পরতে পরতে খুলিয়া খুলিয়া দিনের পরেতে দিন,
খুঁজিয়া দেখিব কোথা আছে সেই কথামৃতের চিন।
যদি কোন কোন সন্ধান মেলে, সে মধুর সুর নিয়া,
নতুন করিয়া গড়িব আবার আমাদের এ দুনিয়া।
সেইদিন পতি ফিরিয়া যাইব আবার তোমার ঘরে,
অভাগীরে যদি ভালবাস সখা, থেকো প্রতীক্ষা করে।

বিদায়ের আগে ও চরণে শেষ ছালাম জানায়ে যাই,
দোয়া করো মোরে, এই সাধনায় সিদ্ধি যেন গো পাই।
আর যদি কভু ফিরে নাহি আসি, ব্যথার দাহনানলে,
জানিও, অভাগী মরিয়াছে সেথা নিরাশায় জ্বলে জ্বলে।
আজি এ জীবন বিষে বিষায়িত, প্রেম, ভালবাসা, মায়া,
বেড়িয়া নাচিছে গোর কুজঝট কদাকার প্রেত ছায়া।
জ্বলিছে বহ্নি দিকে দিগনে-, তীব্র লেলিহা তার,
খোদার আরশ কুরছির পরে মূর্চ্ছিছে বারবার।
দিন রজনীর দুইটি ভান্ড পোরা যে তীব্র বিষে,
মাটির পেয়ালা পূর্ণ করিয়া উঠেছে গগন দিশে।
তারকা-চন্দ্রে জ্বলিছে তাহার তীব্র যে হুতাশন,
তারি জ্বালা হতে নিস্তার মোর না হইল কোনক্ষণ।
সন্ধ্যা সকাল তারি শিখা লয়ে আকাশের দুই কোলে,
মারণ মন্ত্র ফুকারি ফুকারি যুগল চিতা যে জ্বলে।
তাই এ জীবন সরায়ে লইনু তোমার জীবন হতে,
আমারে ভাসিতে দাও পতি, সেই কালিয়-দহের স্রোতে।
***
***
বাপের সঙ্গে চলিয়াছে ছেলে, ফিরে চায় বারে বারে,
পারিত সে যদি দুটি চোখ বরি টেনে নিয়ে যেত মারে।
পাথরের মত দাঁড়ায়ে সকিনা, স্তব্ধ যে মহাকাল,
খুঁজিয়া না পায় অভাগিনী তরে সান্ত্বনা ভাষাজাল।
চরণ হইতে চলার চক্র খসিয়া খসিয়া পড়ে,
নয়ন হইতে অশ্রুর ধারা নিশির শিশিরে ঝরে।
তিনু ফকিরের সারিন্দা বাজে, আয়রে দুষ্কু আয়,
পাতাল ফুঁড়িয়া দুনিয়া ঘুরিয়া আকাশের নিরালায়।
আয়রে দুস্কু, কবরের ঘরে হাজার বছর ঘুরে,
ছিলি অচেতন আজকে আয়রে আমার গানের সুরে।

Videos (show all)

Happy Diwali to all.
কবি প্রণাম
রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন

Location

Category

Telephone

Address


Garh Bhawanipur
Howrah
711412
Other Education in Howrah (show all)
Lablife Lablife
Bagnan
Howrah, 711303

Lablife is a full service consultancy whose focus is based upon improving quality of research, QC and Independent Laboratory Groups.

कसम - कला साहित्य मंच कसम - कला साहित्य मंच
44 Dobson Road
Howrah, 711101

कला - साहित्य के सृजन और संवाद के लिए प्रतिबद्‌ध

Geetashree Cultural Institution Geetashree Cultural Institution
Kona Tetul Tala, Kona High School
Howrah, 711-114

Technobridz Technobridz
68, Shibpur Road, Mondirtala
Howrah, 711102

After a long study, we identify that after gating IT Training from any reputed institute there is a huge gap between a trained & a professional. Because maximum courses available in the market are not designed with project base-requirement. So we decided

Vivekananda Bodhodoy School Vivekananda Bodhodoy School
Howrah Amta Road
Howrah, 711114

Starting from Pre-Nursery, Nursery,K.G., Class-I to Class-IV ( Hindi is 1st Language and English is @nd Language and Bengali is 3rd Language

Sankrail Central Sri Ramakrishna Vivekananda Sangha Sankrail Central Sri Ramakrishna Vivekananda Sangha
Sankrail
Howrah, 711313

সাঁকরাইল সেন্ট্রাল শ্রীরামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সঙ্ঘ সাঁকরাইল, হাওড়া - 711313

Learning Park Learning Park
48, Dobson Road
Howrah, 711101

Learning Park

Gyanarjan Gyanarjan
19/1/A, Mohan Lal Bahalwala Road, Belur Station (West),
Howrah, 711201

Gyanarjan a brand name under Gyanarjan Education Pvt. Ltd. We offer one-to-one learning solutions for students and professionals. All of our services are live, offline and online. We provide tutoring, peer coaching, professional development.

Career Guidence Career Guidence
Naskarpur
Howrah, 711414

CARRER GUIDENCE plays a vital role in the field of competitive examination.

Tunnel of Talent Tunnel of Talent
Salkia
Howrah, 711106

Multi Activity Center Our Activities :- Dance,Aerobics,Skating,Karate,Yoga,Abacus,Acting & Modeling, etc.

Success Campus Success Campus
Howrah Santragachi
Howrah, 711112

A Real Way To Bright Future

Suryotoran activity centre Suryotoran activity centre
ANDUL ROAD
Howrah, 711109

we teach dance of all types,drawing,yoga, musics,and running a coaching