19/04/2021
ধরা যাক একটা ট্রেন। যেটা হুশ করে নিয়ে চলে যায় আমাদের ছোটবেলায়। ছোটবেলায় সেই লোহার গেট খুলে ঢুকে গুটি গুটি পায়ে ঢুকে পড়া হয় একতলার বা দোতলার ক্লাসরুমে। সিঁড়ির মুখে ওঠার সময় বাঁ দিকে টুক করে চোখ পড়ে যায় ব্ল্যাকবোর্ড টায়, যেখানে আজকের খবর লেখা। তারপর সকালবেলার প্রার্থনা শুরু হয়, বানীপাঠ হয়। এই সব কিছুর তত্বাবধানে থাকেন একজনই। সেই রাশভারী চেহারার মানুষটা। সেই মানুষটা যিনি এরপর ক্লাসে আসবেন, বাংলা বা ইংলিশ বই হাতে তুলে নিয়ে গুরুগম্ভীর এবং সুস্পষ্ট উচ্চারণে শিখিয়ে চলবেন আমাদের ছোটবেলার অ আ ক খ। সেই মানুষটা, যার ভয়ে ক্লাসের আদ্ধেক ছেলেপুলে তটস্থ থাকবে, আবার আদ্ধেক ছেলেপুলে জানবে মানুষটা আসলে খুবই স্নেহবৎসল। কিভাবে প্রতিটা ছাত্রকে নিজের সন্তানতুল্য ভাবে মানুষ করা যায় তিনি জানবেন। ফুটবলের বাঁশি হাতে ছুটে চলবেন তিনিই। ইস্টবেঙ্গলের লীগ জেতার স্বপ্ন দেখাবেন তিনিই। স্কুলের সেরা ছাত্র হওয়ার উৎসাহ জোগাবেন তিনিই। ছাত্রদের মানুষ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবেন তিনিই।
এরপর হঠাৎ করে সেই ছোটবেলার ট্রেন টার সামনে সেই মানুষটা কি করে যেন হাজির হয়ে গেলেন জানিনা। স্কেল হাতে পড়াতে শুরু করলেন পাঠ। ট্রেনের উচিত ছিল বাধ্য ছেলের মত ছোট বেঞ্চ টায় বসে পাঠ গুলো নেওয়ার। কিন্তু অবাধ্য ছাত্র কি আর এত সহজে বশ মানে? বদলে সে করলো কি.. অসম্ভব স্পর্ধা দেখিয়ে ওনাকেও নিয়ে চলল সাথে.. আর সঙ্গে সঙ্গে, আমাদের ছোটবেলার সেই ট্রেন টার সঙ্গে, আমাদের ছোটবেলার সঙ্গে, আমাদের ছোটবেলার মত করেই তিনিও কেমন করে জানি পাড়ি দিলেন সেই না ফিরে আসার দেশে.. যেখান থেকে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না আমাদের ছোটবেলা, আর কোনোদিন ফিরে আসবে না আমাদের সেই প্রিয় মানুষটা, সেই প্রিয় শিক্ষক.. যিনি আজ আমাদের ছোটবেলার মতোই শুধু স্মৃতিতে বিরাজ করবেন।
ভাল থাকবেন স্যার। পরের জন্মে ঠিক আবার আপনার ছাত্র হয়ে জন্ম নেব দেখে নেবেন।
#বিশ্বজিৎ স্যার