05/07/2023
বাংলা মিডিয়ামের ছেলেমেয়েদের জন্য ইংলিশে কথা বলতে শেখার আগে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটার সম্মুখীন হতে হয় সেটা হচ্ছে "লজ্জা"। যেকোনো ভাষা শেখার দুটো ধাপ থাকে প্রথমটা শোনা, দ্বিতীয়টা বলা। এই দুটো ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই, কারণ গ্রামার শিখে একটা ভাষায় কথা বলায় দক্ষ হওয়া যায় না। বড়জোর ট্রান্সলেশন করা যায়। ইংলিশ শোনার জন্য এখনকার দিনে বহু উপায় রয়েছে। ইউটিউব ভিডিও, সিনেমা, ওয়েব সিরিজ সাবটাইটেল দিয়ে দেখতে দেখতেই শোনায় দক্ষ হয়ে যাবে। কিন্তু বলার সময়? এখানেই আসে সবচেয়ে বড় সমস্যা।
ইংলিশে কথা বলায় পারদর্শী খুব ভালো একজন বন্ধু কিংবা আত্মীয় না থাকলে কারোর সাথে ভুলভাল ইংলিশে কথা বলা ভীষণ সমস্যার। কারণ বাকিদের সাথে ভুলভাল ইংলিশ বললে চরমভাবে অপমান বা ঠাট্টা তো করবেই, এমনকি সামান্য গ্রামাটিক্যাল মিসটেক হলে কিংবা উচ্চারণে সামান্য ভুল হলেও ধরে নেওয়া হবে আপনি অশিক্ষিত। আর এই ভয়েই বেশিরভাগ মানুষের আর ইংলিশে কথা বলা হয় না।
এই ঝামেলাটা কেবলমাত্র ইংলিশেই আছে। আপনি ইংলিশে একটা পোস্ট দিন, তার মধ্যে একটুখানি গ্রাম্যাটিকাল এরর থাকুক বা একটা বানান ভুল হোক, আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা করা হবেই হবে। কিন্তু বাংলায় বানান ভুল করা ভীষণ সাধারণ ব্যাপার। আজকেই একজন বাংলার স্বনামধন্য পরিচালক পাঁচ লাইনের লেখার মধ্যে দুটো বাংলা বানান জঘন্যভাবে ভুল করলেন, ওনাকে সবাই ভুল ধরিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও পাত্তা দিলেন না। অথচ ইংলিশে স্পিচ দেবার সময় উনি একটাও ভুল বলেন না, ইংলিশে পোস্ট লেখার সময় একটাও বানান ভুল লেখেন না। বাঙালি পরিচালক, তাই বোধহয় বাংলাটাই ভুল লেখেন উনি। কারণ জানেন উনি ইংলিশটা ভালোই বলতে পারেন, তাই কেউ ওনাকে অশিক্ষিত বলবেনা অন্তত।
বিষয়টা একটা অদ্ভুত সাইকোলজি, যেটা ইংরেজ আমল থেকে আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি তেলুগু ভাষা শেখা শুরু করেন তাহলে প্রথমদিকে ভুলভাল তেলুগু বলতে একদমই লজ্জা পাবেন না, কিন্তু একবার ভেবে দেখুন কারোর সামনে ভুলভাল ইংলিশে কথা বলতে গেলে আপনার কতটা লজ্জা লাগবে।। বিশেষ করে সে যদি ইংলিশ মিডিয়ামের স্টুডেন্ট হয়। বহু অবাঙালিরা একটু আধটু বাংলা বলার চেষ্টা করলেও প্রচুর ভুল বলে। ভুল বলার পরে নিজেরাই হেসে ফেলে, কারণ বাংলা ভুল বলা স্বাভাবিক বিষয়, কিন্তু ইংলিশ ভুল বলা মানে অশিক্ষিত।
এই ধারণাটাই বদলানো প্রয়োজন। এডুকেশন সিস্টেম কবে বদলাবে জানিনা, কিন্তু বাংলা মিডিয়াম আর ইংলিশ মিডিয়ামের স্টুডেন্টরা যদি একে অপরের সাথে যুদ্ধ না করে একটুখানি কোঅপারেট করে, যদি ভুল ইংলিশ বলাটাকেও নরমালাইজ করা যায়, তাহলে ইংলিশটাও বাকি ভাষার মতো একটা ভাষা মাত্র এবং এটা শেখাও ভীষণ সহজ। কতজন ইংলিশ শিখতেই পারেনি তাদের কথা বলার সঙ্গী নেই বলে, ভুল ইংলিশ বললে মানুষ তাদেরকে জাজ করবে বলে। ইংলিশ ভীষণ প্রয়োজনীয় একটা ভাষা, কিন্তু এই ভাষাটা শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি নয়, এই কথাটা বারেবারে সকলের মাথায় গেঁথে দেওয়া ভীষণ প্রয়োজন।