15/08/2026
৮০তম স্বাধীনতা দিবস — স্বাধীনতার অমৃত চেতনায় 🇮🇳
শ্রদ্ধেয় শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী, শিক্ষাকর্মীবৃন্দ, প্রিয় অভিভাবক-অভিভাবিকাগণ এবং আমার স্নেহের ছাত্রছাত্রীরা—
আজ এক মহান ঐতিহাসিক দিন। আজ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ভারতবর্ষের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। এই পবিত্র দিনে জাতীয় পতাকার ত্রিবর্ণের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই সকল অমর শহিদ ও বীর বিপ্লবীদের, যাঁদের আত্মত্যাগ, সাহস, ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার অমূল্য অধিকার।
হে বীর বিপ্লবী, তোমাদের চরণে জানাই শতকোটি প্রণাম।
তোমাদের রক্তে লেখা ইতিহাসই আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি।
ক্ষুদিরাম বসু, বাঘা যতীন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ভগৎ সিং, মহাত্মা গান্ধী, সরোজিনী নাইডু, মাতঙ্গিনী হাজরা—অসংখ্য পরিচিত ও অজ্ঞাতনামা দেশপ্রেমিক তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন দেশের জন্য। তাঁদের স্বপ্ন ছিল এমন এক ভারত, যেখানে মানুষ হবে স্বাধীন, মর্যাদাশীল, শিক্ষিত, ঐক্যবদ্ধ এবং মানবিক।
এই প্রসঙ্গে আমাদের প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাও স্মরণ করতে হয়। তাঁর কলমে দেশপ্রেম কখনও সংকীর্ণ ছিল না; তাঁর দেশপ্রেম ছিল মানবতা, আত্মমর্যাদা ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসায় পূর্ণ।
তিনি লিখেছিলেন—
“ও আমার দেশের মাটি,
তোমার ’পরে ঠেকাই মাথা।”
এই মাটিই আমাদের পরিচয়, এই মাটিই আমাদের অহংকার। আবার তাঁর “আমার সোনার বাংলা” গান আমাদের মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার এক অমর প্রতীক।
১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইটহুড উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। তাঁর সেই প্রতিবাদ আমাদের শেখায়—অন্যায়ের সামনে মাথা নত করা নয়, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোই প্রকৃত দেশপ্রেম।
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা,
স্বাধীনতা শুধু একটি তারিখ নয়। স্বাধীনতা শুধু পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত বা শোভাযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ হলো দায়িত্ব।
আজ আমাদের হাতে বন্দুক নেই, যুদ্ধ করতে হয় না; কিন্তু আমাদের লড়াই করতে হবে অশিক্ষা, কুসংস্কার, নেশা, দুর্নীতি, অসহিষ্ণুতা, পরিবেশ দূষণ, নারী-পুরুষ বৈষম্য এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে।
তোমরা যারা আজ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছ, তোমরাই আগামী দিনের ভারত। তোমাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ। তাই ভালো করে পড়াশোনা করো, বিজ্ঞানমনস্ক হও, প্রকৃতিকে ভালোবাসো, অন্যকে সম্মান করো এবং সর্বোপরি একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হয়ে ওঠো।
মনে রেখো—
দেশকে ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ শুধু মুখে “ভারত মাতা কি জয়” বলা নয়; নিজের কাজটি সততার সঙ্গে করা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং দেশের সম্পদ ও পরিবেশকে রক্ষা করাও দেশপ্রেম।
আজকের এই পবিত্র দিনে আমরা শপথ নিই—
আমরা দেশের সংবিধানকে সম্মান করব।
জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করব।
ধর্ম, ভাষা, জাতি ও বর্ণের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকব।
বিদ্যালয়কে ভালোবাসব, শিক্ষাকে সম্মান করব।
নেশা ও সকল অসামাজিক কাজ থেকে দূরে থাকব।
এবং নিজেদের যোগ্য করে তুলে একটি উন্নত, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলব।
শেষে রবীন্দ্রনাথের সেই অমর প্রার্থনার সুরে বলতে চাই—
“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত…”
সেই ভারত গড়ার দায়িত্ব আজ আমাদের সকলের।
আসুন, স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে শহিদদের আত্মত্যাগকে হৃদয়ে ধারণ করে আমরা প্রত্যেকে বলি—
ভারত আমার দেশ, ভারত আমার গর্ব।
আমরা ভারতবাসী—এটাই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়।
জয় হিন্দ।
বন্দে মাতরম্। 🇮🇳
সবাইকে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।